04/02/2026
Epstein ঘটনাগুলো দেখলে বারবার রাসুল (সা.)–এর একটি হাদিস মনে পড়ে।
আল্লাহু আকবার।
হযরত আদি ইবনে হাতিম (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন
“অচিরেই এমন সময় আসবে, যখন একজন নারী সানা থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত একা সফর করবে, আর আল্লাহ ছাড়া আর কারও কোনো ভয় তার থাকবে না।”
উল্লেখ্য, সে সময় সানা থেকে হাদরামাউত অঞ্চল ছিল জাহেলি আরবের অন্যতম সবচেয়ে অনিরাপদ এলাকা।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই ভবিষ্যদ্বাণী হযরত আদি ইবনে হাতিম (রা.) নিজ চোখে দেখেছিলেন, হযরত উমর (রা.)–এর খেলাফতকালে। ইসলাম কয়েক বছরের মধ্যেই এমন এক সমাজ গড়ে তুলেছিল, যেখানে একজন নারী সম্পূর্ণ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারত।
এখন প্রশ্ন হলো এই হাদিসের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টিনের ঘটনার সম্পর্ক কী?
আজ আমরা দাবি করি, আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক, সবচেয়ে সভ্য ও সবচেয়ে নিরাপদ সময়ে বাস করছি। আমাদের হাতে স্মার্টফোন, চারপাশে সিসিটিভি, শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা, এবং মানবাধিকার নিয়ে বড় বড় কথা।
নারী অধিকার, শিশু অধিকার, মানবাধিকার এসব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিরন্তর আলোচনা চলছে।
কিন্তু বাস্তবতা কী বলছে?
যারা আমাদের মানবাধিকার শেখায়, সভ্যতার লেকচার দেয় তারাই আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীতে পরিণত হয়েছে। নারী ও শিশুদের রক্ষা তো দূরের কথা, তাদেরই ভয়াবহভাবে শোষণ করা হচ্ছে।
শুধু যৌন নির্যাতন নয় মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগও সামনে আসছে, যা ভাষায় প্রকাশ করাই কঠিন।
আজ আমরা এমন এক জাহেলিয়াতের সাক্ষী হচ্ছি, যা আরবের প্রাচীন জাহেলিয়াতের চেয়েও ভয়াবহ।
একদিকে, ১৪০০ বছর আগে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন মরু অঞ্চলে ইসলাম প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল।
অন্যদিকে, আজ আধুনিক প্রযুক্তি, আইন, পাহারা ও নজরদারির সর্বোচ্চ ব্যবস্থার মাঝেও নারী, শিশু এমনকি পুরুষ কেউই নিরাপদ নয়।
আপনার মেয়ে, আপনার বোন, আপনার সন্তান—যে কেউ যেকোনো সময় ক্ষমতাবানদের ভোগের বস্তু হয়ে যেতে পারে।
এটা কল্পনাও করা যায়?
সবচেয়ে ভয়াবহ সত্য হলো
যারা নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারাই আজ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় অনিরাপত্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই যদি দুনিয়াবাসী সত্যিকার অর্থে নিরাপত্তা চায়, তাহলে কেবল স্লোগান, প্রযুক্তি বা কাগুজে আইন নয়
ফিরে যেতে হবে সেই ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির শাসনব্যবস্থার দিকে।
ইতিহাস সাক্ষী
ইসলামের ন্যায়বিচারই মানুষকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে।