10/03/2026
*রমাদানের শেষ দশ রাত (লাইলাতুল কদরের আমলসমূহ)*
আয়িশা (রঃ) হতে বর্ণিত, 'যখন রমাদানের শেষ দশক আসত, তখন রসূলুল্লাহ (স.) ইবাদতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন (তাঁর লুঙ্গি কষে নিতের অথবা শক্তভাবে কোমর বাঁধতেন), রাত্রি জাগরণ করতেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জাগিয়ে তুলতেন। (বুখারী ২০২৪, মুসলিম ১১৭৪, আবু দাউদ ১৩৭৬, তিরমিজী ৭৯৫)
সম্মানীত ভাই/বোনেরা, আসুন রমাদানের শেষ দশটি রাতকে মূল্যায়ন করি। এই রাতগুলো না ঘুমিয়ে, সমস্ত রাত ইবাদতের পরিকল্পনা করি। হতে পারে এটাই আমাদের জীবনের শেষ রমাদ্বান। সলাত, তিলাওয়াত, বিশুদ্ধ আযকার, ইস্তিগফার, দু'আ, দান-সাদাকা, দ্বীন শিক্ষার মাধ্যমে রাতগুলো কাটাই।
*লাইলাতুল কদরের রাতগুলোর আমলের গাইডলাইনঃ*
১) লাইলাতুল কুদরকে নিশ্চিতভাবে পেতে ১০টি রাতকেই ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত করুন।
২) মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত করুন। কারণ এই রাতগুলোর প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।
৩) অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, গীবত করা, অপবাদ দেয়া ও খোটা দেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
৪) ফেইসবুক, ইউটিউব, টিভি ইত্যাদি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখুন।
৫) বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআন অধ্যায়ন করুন।
৬) সাধ্যমত দুই দুই রাক'আত করে নফল সলাত আদায় করুন। দীর্ঘ রুকু ও সিজদা করুন। সিজদায় দু'আ করুন।
রাতের সলাত ১১ রাক'আত হওয়া উত্তম। আয়িশাহ (র.) হতে বর্ণিত, 'রসূল (স.) রমাদান ও রমাদান ছাড়া ১১ রাক'আতের বেশি রাতের সলাত পড়তেন না।' বুখারী ১১৪৭, মুসলিম ৭৩৮
তবে ১১ রাক'আতের অধিক পড়া বৈধ। ইবনু উমর (র.) হতে বর্ণিত, 'রসূল (স.) বলেছেন, 'রাতের সলাত দুই দুই রাক'আত করে। এরপর যখন তোমাদের কেউ ফজর হওয়ার আশঙ্কা করে, তখন সে এক রাক'আত পড়ে নিবে, যা তার পূর্বের সলাতকে বিতর করে দিবে।' বুখারী ৯৯০, ৯৯২, মুসলিম ৭৪৯
রাতের সলাত হবে দীর্ঘ ও ধীর-স্থির। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (র.) হতে বলেন, 'এক রাতে নবী (স.)-এর সাথে সলাত পড়লাম। তিনি সূরা বাকারাহ দিয়ে শুরু করলেন। আমি মনে করলাম তিনি ১০০ আয়াতে রুকু করবেন, কিন্তু তিনি চালিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম তিনি হয়ত পুরো সূরাই এক রাক'আতে পড়বেন। তারপর তিনি সূরা নিসা পড়লেন। এরপর সূরা আলি ইমরান শুরু করে পড়লেন। তিনি ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করছিলেন। যখন তসবীহের আয়াত আসত, তিনি তাসবীহ পড়তেন। যখন কোন কিছু চাওয়ার আয়াত আসত, তিনি আল্লাহর কাছে চাইতেন। যখন আশ্রয় চাওয়ার আয়াত আসত, তিনি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন।' মুসলিম ৭৭২
৭) প্রতি রাতে কিছু সাদাকাহ করুন।
৮) মাগরিবের পর থেকে কাজ ও অন্যান্য আমলের পাশাপাশি তাসবিহ্ পাঠ অব্যাহত রাখুন।
ক) রসুলুল্লহ (সঃ) আয়িশা (রঃ) কে নিচের দু'আটি ক্বদরের রাতে বেশী বেশী পড়তে বলেছিলেন। (তিরমিজি-২৭৮৯)
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي / عَنَّا
খ) নিচের দু'আটি ১০০ বার পড়লে ১০জন দাস মুক্ত করার ছওয়াব, ১০০ নেকী, ১০০ পাপ মোচন, ঐ দিন শয়তানের হাত হতে রক্ষা এবং ঐ দিন তার চেয়ে বেশী ছওয়াব কেউ অর্জন করতে পারে না। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত-২৩০২)
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
গ) নিচের দু'আটি পাঠ করলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়।
اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيْرًا سُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلَ.
ঘ) নিচের দু'আটি ১০০ বার পাঠ করলে সাগরের ফেনা পরিমান পাপও ক্ষমা করা হবে। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত - ২২৯৫)
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ
ঙ) দু'টি কালিমা উচ্চারণে হালকা, মীযানে অত্যন্ত ভারী এবং আল্লাহর নিকট অতীব প্রিয়। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত - ২২৯৮)
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ .
চ) ১০০ বার পাঠ করলে ঐ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশী নেকীর অধিকারী হবে। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত - ২২৯৭)
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
৯। বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করুন এবং নিজের, পরিবারের ও উম্মার জন্য দু'আ করুন।
ক) ইস্তিগফারের সবচেয়ে ছোট দু'আ। (মুসলিম ২৭০২)
أَسْتَغْفِرُ اللهَ
খ) ইস্তিগফারের আরেকটি দু'আ। (বুখারী ৬৩০৭, মুসলিম ২৭০২, তিরমিযী ৩৫৩৩)
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
গ) ইস্তিগফারের আরেকটি দু'আ। (আবু দাউদ ১৫১৬)
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
ঘ) যে ব্যক্তি এই দু'আটি পাঠ করবে তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (আবু দাউদ ১৫১৭)
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
ঙ) সাইয়াদুল ইস্তগফারঃ যে ব্যক্তি সকালবেলা অথবা সন্ধাবেলা এটি (সায়্যিদুল ইস্তিগফার) অর্থ বুঝে বিশ্বাস সহকারে পড়বে, সে ঐ দিন রাতে বা দিনে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (বুখারী ৬৩০৬)
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ.
১০। অন্য ভাই-বোনদের মাঝে লাইলাতুল ক্বদরের দাওয়াতি কাজ করে নিজের সওয়াবকে অনেকগুন বাড়িয়ে নিন।
22/02/2026
22/01/2026
17/01/2026