24/03/2026
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম কর্তৃক খলিফা মনোনীত না করার কারণ :বাযযার রহমাতুল্লাহি আলাই তার মুসনাদ গ্রন্থে হযরত হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর বরাত দিয়ে বলেছেন, সাহাবাগণ আরজ করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম! আপনি আমাদের জন্য কাউকে খলিফা মনোনীত করছেন না কেন? তিনি বললেন, আমি যদি কাউকে তোমাদের জন্য খলিফা মনোনীত করি, আর তোমরা আমার খলিফার অবাধ্য হও তবে তোমাদের উপর আল্লাহর আজাব অবতীর্ণ হবে। এটি হাকেম মুস্তাদরাক গ্রন্থে রেওয়ায়েত করেছেন। কিন্তু এ হাদীসটি দুর্বল। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাই এবং ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহ আলাই একটি হাদিস বয়ান করেছেন, হযরত ওমর রাঃ এর ঘাতক যখন বর্ষা দ্বারা আঘাত করে তখন লোকেরা আরজ করল, আপনি কাউকে খলিফা মনোনীত করে যান। তিনি উত্তর দিলেন , যিনি আমার চেয়ে মহান, অর্থাৎ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু, তিনি খলিফা মনোনীত করেছেন। তবে আমি তোমাদের খলিফা মনোনীত না করেই চলে যাচ্ছি, কারণ তিনি এভাবেই চলে গেছেন যিনি আমার চেয়ে মহান, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। দালাইলুন নবুওয়াত গ্রন্থে আমর বিন সুফিয়ানের বরাত দিয়ে বাইহাকীএবং ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি বর্ণনা করেন, হযরত আলী রাঃ জামাল যুদ্ধ জয়ের পর ভাষণ দেন। এতে তিনি বলেন, হে জনতা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম খিলাফতের ব্যাপারে আমাদের থেকে কোন প্রতিশ্রুতি নেন নি, বরং আমরা নিজেরাই হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ কে খলিফা মনোনীত করেছিলাম। তিনি খুব ভালোভাবেই খেলাফতের কাজ করেছেন এবং নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। অতঃপর নিজের কাছে মঙ্গল এবং সঙ্গত মনে করে হযরত ওমর রাঃ কে এ কাজের জন্য মনোনীত করে যান। তিনিও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দ্বীন ইসলামের ভিত্তিকে শক্ত স্থানে স্থাপন করেছেন। অতঃপর অনেকেই দুনিয়ার মোহে পড়ার প্রেক্ষিতে আল্লাহতালা যা চান তাই ফয়সালা করেছেন। হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাই মোস্তাদরাক গ্রন্থে এবং বায়হাকী দালাইল গ্রন্থে এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, লোকেরা হযরত আলী রাঃ কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কাউকে খলিফা মনোনীত করবেন কী? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম যখন খলিফা মনোনীত করে যাননি, তখন আমি কিভাবে তা করব! আমার পর তোমরা খলিফা নির্বাচিত করে নিবে,যেমন নবী সাঃ এর পর খলিফা মনোনীত হয়েছিল। ইমাম যাহাবী বলেন, শিয়াদের মধ্যে একথা প্রসিদ্ধ যে, রাসুলে খোদা সাঃ হযরত আলী রাঃ এর খেলাফতের জন্য প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, অর্থাৎ গাদিরে খুম হাদীসটি। কারণ হাজিল বিন শারজিল বলেন, এটা কি করে সম্ভব যে, রাসুলে আকরাম সাঃ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর খেলাফতের জন্য প্রতিশ্রুতি নিবেন আর হযরত আবু বকর রাঃ খলিফা হবেন! হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু চেয়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম যদি কারো জন্য খেলাফতের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন, তবে তিনি তার অধীনস্থ হবেন (বায় হাকী)।ইবনে সাদ রহমাতুল্লাহ আলাই তিনি হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আলী রাঃ বলেন, নবি আকরাম সাঃ এর মৃত্যুর পর আমরা চিন্তা করে বের করলাম যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম তার অনুপস্থিতিতে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে ইমাম বানিয়েছেন। সুতরাং নবীজি সাঃ যাকে আমাদের দ্বীনের জন্য গ্রহণ করেছেন, তিনি দুনিয়ার জন্য যথেষ্ট। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে সাফিনা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এর এ রেওয়ায়াত লিখেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হযরত আবু বকর রাঃ হযরত ওমর রাঃ এবং হযরত ওসমান রাঃ এর ব্যাপারে বলেছেন আমার পর এরা খলিফা হবেন। ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন এই হাদিসটি বিশুদ্ধ নয়। কারণ বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, হযরত ওমর রাঃ, হযরত আলী রাঃ, এবং হযরত উসমান রাঃ নিজেরাই বলেছেন, নবী আকরাম সাঃ কাউকে খলিফা মনোনীত করেননি।