BD Jobs 52

BD Jobs 52 Jobs in Bangladesh: government and private job circulars, application guides, career updates and previous question solution.

BD Jobs 52 is an independent job and career information platform for job seekers in Bangladesh. We publish government job circulars, private job circulars, company job updates, application information, recruitment notices, career guidance, educational updates and other useful resources to help people find reliable employment information more easily. Our goal is to present job information in a clear, simple and useful format. Whenever possible, important recruitment information is based on or linked to the relevant official notice, employer website or authorized recruitment source. BD Jobs 52 does not act as an employer or recruitment agency unless clearly stated. Job seekers should always verify eligibility requirements, application deadlines, fees and other important details from the official recruitment notice or the respective organization's official website before submitting an application.

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব...
23/08/2026

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

​আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

​আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

​আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। ​লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

​আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। ​চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

​আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। ​পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

​"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
​আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

​এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

​আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

​আমি চুপ করে গেলাম।

​কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

​আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

​আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

​আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

​একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

​আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

​সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

​"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

​আমি চুপ করে থাকলাম।

​সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

​তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

​"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

​আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

​রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

​তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

​"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

​আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

​সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

​সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

​অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

​আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

​সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

​আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

​ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

​আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

​বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

​ফোন কেটে গেল।

​আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

​পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

​অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

​আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!

লেখক: Sohel R Rana

ইদানীং দেখা যাচ্ছে, কোনো ভিডিও ভাইরাল হলেই কিছু মহল খুব সহজে সেটিকে AI-generated অথবা Real video বলে মতামত দিয়ে দিচ্ছেন।...
02/08/2026

ইদানীং দেখা যাচ্ছে, কোনো ভিডিও ভাইরাল হলেই কিছু মহল খুব সহজে সেটিকে AI-generated অথবা Real video বলে মতামত দিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া মোটেও এত সহজ নয় এবং শুধু চোখে দেখে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া একাডেমিক বা পেশাদার পদ্ধতি নয়।

একটি ভিডিও AI দিয়ে তৈরি, AI-এর মাধ্যমে পরিবর্তিত, সম্পাদিত অথবা সম্পূর্ণ বাস্তব কি না তা নির্ধারণ করতে Metadata Analysis, Frame-by-Frame Examination, Audio Forensics, Deepfake Detection, Compression Analysis, Source Verification, Device Evidence, Platform Log এবং Chain of Custodyসহ একাধিক ধাপ অনুসরণ করতে হয়। এতসব বিশ্লেষণের পরও অনেক ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হয় না।

কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত বক্তব্য স্পর্শকাতর বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনি জটিলতারও কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞ মতামত অনুমাননির্ভর নয়, বরং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, গ্রহণযোগ্য আলামত এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।

-তানভীর হাসান জোহা

26/07/2026

অফিস পলিটিক্স: ৩টি অভিজ্ঞতা, কিছু পরামর্শ
বাদল সৈয়দ

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন পড়াতাম। সে সূত্রে সে আমার ছাত্র। ভালো একটি কর্পোরেট চাকরি করত। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক প্রধানও হয়েছিল।

হঠাৎ একদিন তার মেসেজ পেলাম। সে লিখেছে- ‘স্যার, অফিস পলিটিক্সের শিকার হয়ে আমার চাকরি চলে গেছে। এখন ছোটখাট ব্যবসা করার চেষ্টা করছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।‘

প্রায় প্রত্যেক চাকরিজীবীকে অফিস পলিটিক্সের শিকার হতে হয়। তাই ভাবলাম এ ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু লিখি।

অফিস পলিটিক্স অনেক ধরনের হতে পারে। প্রথমে দুটো সত্য ঘটনা বলি।

১ ) আমার চাকরিজীবনের প্রথম দিকের ঘটনা। একজন কমিশনার একটি ভুল করলে তাঁকে সচিব মহোদয় ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ঢাকায় ডেকে পাঠালেন। কমিশনার সাহেব অবলীলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বললেন, ‘স্যার, সিদ্ধান্তটি আমার নয়, আমার এক অতি উৎসাহী ডেপুটি কমিশনারের। আমি সেটা আপনার কাছে অনুমোদনের জন্য ফরোয়ার্ড করেছি মাত্র।'

সে হতভাগ্য ডেপুটি কমিশনার ছিল আমার এক ব্যাচমেট। কাজটিতে তার কোনো ভূমিকাই ছিল না। কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল আঞ্চলিক অফিসের চিঠিপত্র হেড অফিসে পাঠানো। সে শুধু সেটাই করেছিল।

কমিশনার সাহেবের কথা শুনে সচিব মহোদয় বললেন- 'তুমি যদি তোমার ছোকরা ডেপুটি কমিশনারের কথায় চলো, তাহলে তো সবার আগে তোমাকে স্যাক করা উচিত।‘

সে সচিবের নাম ছিল, আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।

চাকরিজীবনে এ রকম বলির পাঁঠা হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের হয়। কিন্তু মুয়ীদ চৌধুরী স্যারের মতো সুবিবেচক সর্বোচ্চ বস সবার ভাগ্যে জোটে না।

(সে সময় সেখানে উপস্থিত ঢাকার একজন কমিশনার পরে আমাদের ঘটনাটি জানিয়েছিলেন)

২ ) আমার এক তরুণ আত্মীয় খুব নামকরা মাল্টিন্যাশনালে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। সে একবার তার বসের সাথে চমৎকার একটি আইডিয়া শেয়ার করল। বস খুব নির্লিপ্ত ভাব করলেন। তাঁর আচরণ দেখে আমার আত্মীয় ব্যাপারটি নিয়ে আর এগোলো না। ভাবল, আইডিয়াটি কাজের না। কিন্তু পরের টিম মিটিংয়ে সে খুব বিস্ময়ের সাথে দেখল, বস তার আইডিয়াটিকে নিজের আইডিয়া বলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে উপস্থাপন করছেন!

অফিস পলিটিক্সের দুটো উদাহরণ দিলাম। এছাড়াও এ পলিটিক্স আরো অনেক রকম হতে পারে।
যেমন-

ক) বসের কানভারি করা হয়।

খ) ইচ্ছে করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয় বা সরবরাহ করা হয় না।যাতে সহকর্মী ঠিকভাবে কাজটি করতে না পারেন।

গ) মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সুনাম নষ্ট করা হয়।

ঘ) অনেক সময় অফিসে কয়েকটি গ্রুপ থাকে, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে থাকে।

ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, ইমেইল থেকে দূরে রাখা হয়, যাতে সহকর্মী অফিসিয়াল ব্যাপারে আপ টু ডেট না থাকেন।

কীভাবে মোকাবেলা করবেন?

১) নিজস্ব আইডিয়া একান্তে শেয়ার না করে মিটিংয়ে উপস্থাপন করুন।

২) কোনো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য না পেলে তা জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সহকর্মীকে মেইল করুন এবং তার রেকর্ড রাখুন। প্রয়োজনে ব্যাপারটি বসকেও জানিয়ে রাখুন।

৩) মিথ্যা গুজব ছড়ালে তা যদি গুরুতর না হয় নির্লিপ্ত থাকুন। এটাই হলো বদনামকারীদের মুখে সবচেয়ে কঠিন চপেটাঘাত। তবে তা যদি খুব ক্ষতিকর হয় তবে সে ব্যাপারে নিজেই বসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ জানান। এতে আপনার সৎ সাহস প্রমাণিত হবে।

৪) অফিস গ্রুপিংয়ে কোনো পক্ষই অবলম্বন করবেন না।

৫) কেউ জানাবে, তার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই অফিসের ব্যাপারে আপ টু ডেট থাকুন।

৬) মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। অফিস পলিটিক্সে মাথা গরম করলে হেরে যাবেন। ঠাণ্ডা মাথার পায়ের নিচে পৃথিবী গড়াগড়ি দেয়, আর গরম মাথার মানুষ মাটিতে গড়াগড়ি খায়।

৭) সহকর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত দুর্বলতা শেয়ার করবেন না। তা পরে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। ( খুব বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত হলে ব্যতিক্রম হতে পারে )

৮) আপনার রিপোর্টিং অথরিটিই আপনার ইমিডিয়েট বস। তাঁর মাধ্যমেই টপ ম্যানেজমেন্ট আপনার মূল্যায়ন করবেন। তাই তাঁর সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখুন। তাঁকে কাজের অগ্রগতি ও ব্যর্থতা নিজেই জানান। তা হলে তাঁর কান ভারী করা সহজ হবে না।

৯) সবার সাথে সৌজন্য বজায় রাখুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শুভাকাঙ্ক্ষী সিনিয়র কারো পরামর্শ নিন।

১০ ) নিজ ব্যক্তিত্ব ধরে রাখুন। কারণ, সমুদ্রের ঢেউ যেমন শক্তভাবে বাঁধাই করা তীরে বাড়ি খেয়ে সমুদ্রেই ফিরে যায়, ঠিক তেমনি ব্যক্তিত্বের উচ্চতার সাথে ধাক্কা খেয়ে চক্রান্তও ফিরে যায়।

অফিস এক ধরনের দাবার বোর্ড। আপনি না চাইলেও এখানে কেউ কেউ আপনার বিরুদ্ধে চাল দিতে পারে। সেটা ঠেকাতে হলে আপনাকেও পাল্টা চাল দিতে হবে।

তবে মনে রাখবেন-
'One careless move can cost the king.'

'একটা ভুল চাল আপনার রাজাকে রাজ্যহারা করবে।'

আরেকটি কথা, দয়া করে অফিস পলিটিক্সের প্রথম চাল আপনি দেবেন না। শুধু প্রয়োজনে আত্মরক্ষায় পাল্টা চাল দেবেন।

অফিস পলিটিক্সের প্রথম চাল দেয় নোংরা লোকেরা।

Collected

20/07/2026

বিশ্বকাপের সেরা মজা এখানে 😃😂

FIFA World Cup 2026 at a Glance PC: Daily Star
20/07/2026

FIFA World Cup 2026 at a Glance

PC: Daily Star

আপনি বলতে পারবেন?
19/07/2026

আপনি বলতে পারবেন?

Try...
19/07/2026

Try...

সমাজসেবা অধিদপ্তরে মোট আবেদন করেছে ২১ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৭ জন। পরীক্ষা হবে জেলা ভিত্তিক এবং বিভাগ ভিত্তিক।
14/07/2026

সমাজসেবা অধিদপ্তরে মোট আবেদন করেছে ২১ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৭ জন। পরীক্ষা হবে জেলা ভিত্তিক এবং বিভাগ ভিত্তিক।

Address

Mirpur
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BD Jobs 52 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share