Ummah institute—উম্মাহ ইনস্টিটিউট

Ummah institute—উম্মাহ ইনস্টিটিউট

Share

অনলাইন ক্লাস

05/05/2026
19/04/2026

বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সকল হাজী সাহেবের জন্য রইল দোয়া। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল হজ করার তৌফিক সকলকে দান করুক।

02/04/2026

সফল হয়ে বিয়ে নয় বরং বিয়ে করলে দ্রুত সফলতা আসে। যে সমস্ত নারীরা অল্প সময় বিবাহ করেছেন। এই তালিকা অনেক লম্বা হবে ইতিহাস ঘাটলে। আমরা মাত্র তিনজনের তালিকা দিলাম।

Cleopatra vll প্রাচীন মিশরের নারী। যার বিবাহ হয়েছে ১৫ বছর বয়সে। মিশরের ইতিহাসের এক শক্তিশালী শাসকের নাম। এবং ইতিহাসে একজন প্রভাবশালী নারী ও বটে।

Queen nzinga তিনি ও আফ্রিকার শক্তিশালী এক শাসক। মাত্র কয়েক বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গেছে। আফ্রিকার ইতিহাসে উপনিবেশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এক অনন্য নারী নেতৃত্ব ছিলেন তিনি।

Rani Lakshmibai।ইতিহাস বলে তার চোদ্দ বছর বয়সে বিবাহ হয়েছে। তিনিও একজন শক্তিশালী নেতৃত্ব ছিলেন। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লড়াই করেন এবং পরবর্তীতে বীর নারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

02/04/2026

প্রশ্নঃ হুজুর আমি কিছুদিন পূর্বে করে গিয়ে স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। এখন আমার আত্মীয়-স্বজন এবং সমাজের লোকজন জমজমাট করে একই স্ত্রীর সাথে বিবাহ দিতে চায়। আমার জানার বিষয় হল আমার স্ত্রীকে আবার বিবাহ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন অসুবিধা আছে কিনা??

উত্তরঃ একবার বিবাহ হওয়ার পর আবার বিবাহ করা একটি অনর্থক কাজ। এরপরেও যদি সামাজিকভাবে জানান দেওয়ার জন্য অথবা অন্য কোন বিশেষ প্রয়োজনে পুনরায় বিবাহ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়—তাহলে সে ক্ষেত্রে জায়েজ আছে।

সত্যায়নে।
বান্দা সাইফ বিন রেজা সাইফী

(درمختار مع الشامی: ۴/۳۱۵، ط: زکریا) ۔

تواضعا في السر علی مہر ثم تعاقدا فی العلانیة بأکثر والجنس واحد فإن اتفقا علی المواضعة فالمہر مہر السر وإلا فالمسمی فی العقد مالم یبرہن الزوج علی أن الزیادة سمعة الخ

(الدرالمختار مع رد المحتار: ۴/ ۲۴۷کتاب النکاح، مطلب: فی أحکام المتعة ط: زکریا)

20/03/2026

ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম।

20/03/2026

عيد مبارك

19/03/2026

ঈদ মানে খুশি।
ঈদ মানে আনন্দ।
ঈদের এই খুশি ছড়িয়ে যাক দিক দিগন্তে।

23/02/2026

৫ম তারাবীহ।।
তারাবির নামাজে কোরআনের পয়গাম।

ঘটনাবলি
আজেকর তারাবীহর প্রথম আয়াতেই একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে। মক্কা থেকে নিপীড়িত মুসলিমদের হাবশায় হিজরতের পর বাদশাহ নাজাশী ধর্মযাজকদের একটি প্রতিনিধি দল মদীনায় পাঠান। তারা নবীজির কেছে কুরআন তিলাওয়াত শুনে আপ্লুত হন। আবেগে তাদের চোখ অশ্রুসজল হয়ে পড়ে এবং সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। সত্য কবুলের সিদ্ধছা ও নিষ্ঠার কারণে আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। ৫/৮৩-৮৫

ইহুদীরা আল্লাহর নবী ঈসা (আ.)-এর নিকট অলৌকিকতার নিদর্শন হিসেবে আকাশ থেকে খাবার ভর্তি খাঞ্চা নাযিলের দাবি করে। মহান আল্লাহ তাদের সেই চাওয়া পূরণ করেন। তবুও তারা অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সূরা মায়িদার নামকরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মায়িদা মানে খাঞ্চা। ৫/১১২-১১৫

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মজলিশ ছিল সাম্যের প্রতীক। তার কাছে অসহায়, দরিদ্র ও ক্রীতদাস সাহাবীদেরও সমান গুরুত্ব এবং অবস্থান ছিল। মক্কার নেতৃস্থানীয় কাফিররা আবদার করল, আমরাও নবীজির কাছে যেতে চাই, কিন্তু তার চারপাশে অবস্থান করা এইসব দরিদ্র, ক্রীতদাসদের কারণে আমরা যেতে পারি না। মুহাম্মদ (সা.) যদি তাদেরকে সরিয়ে দেন তবে আমরা তার মজলিশে বসতে পারি। কাফিরদের অবান্তর এই চাওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে মহান আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন। তিনি ধনী ও প্রভাবশালীদের মেনাতুষ্টির জন্য অভাবী সাহাবীদের মজলিশ থেকে তাড়িয়ে দিতে নিষেধ করেন। ৬/৫২

পিতা ও সুপূর্বের প্রতিমা পূজা ও শিরক থেকে বিরত রাখতে ইবরাহীম (আ.) অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। প্রতিমাদের অসারতা প্রমাণে তিনি লোকদের সামনে ক্ষুরধার যুক্তি উপস্থাপন করেন। চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্রের ক্ষণপ্রভাতিত থেকে তিনি বুঝেছিলেন এগুলো উপাস্য হতে পারে না। এইসব যুক্তি ও দলিল, ধংসশীল। আর যা ধংসশীল তা কখনো উপাস্য হতে পারে না। ইবরাহীম (আ.)-এর অসাধারণ যুক্তিনির্ভর প্রমাণ তিনি জাতির সামনে পেশ করেছেন। সেই উপস্থাপনার বিবরণ রয়েছে সূরা আনআমে। ৬/৭৪-৮১

ঈমান-আকীদা

পৃথিবীর কোনো মানুষ গায়েব জানে না; এমনকি রাসূলও (সা.) গায়েব জানতেন না। বিষয়টি সূরা আনআমের দুই জায়গায় স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। ৬/৫০, ৫৯
আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মানত করা শিরক। উৎপাদিত শস্য ও গবাদি পশু দুইভাগ করে এক অংশ আল্লাহর জন্য এবং অপর অংশ দেব-দেবীর জন্য মানত করত মক্কার মুশরিকরা। এছাড়াও কন্যা সন্তান হওয়ার মতো ভয়াবহ কুসংস্কারের আচ্ছন্ন ছিল তারা। আবার কিছু গবাদি পশুর গর্ভে থাকা প্রাণীকে তারা নারীদের জন্য হারাম মেনে করত আর পুরুষের জন্য মেনে করত হালাল। মুশরিকদের এইসব ভ্রান্ত বিশ্বাস তুলে ধরে তা খণ্ডন করা হয়েছে সূরা আনআমে। ৬/১৩৬-১৪০

পৃথিবীতে মানুষ একা এসেছে। কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছেও মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে উপস্থিত হবে। এমনকি পার্থিব জীবনের কোনো সম্পদ বা অর্জন সেদিন মানুষের সঙ্গে থাকবে না। সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর সম্মুখে দাঁড়াতে হবে। ৬/৯৪
প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মফল ভোগ করবে। কারো পাপের বোঝা অন্য কেউ বহন করবে না। ৬/১৬৪

আদেশ

আল্লাহকে ভয় করা। ৫/৮৮
শপথ রক্ষা করা। ৫/৮৯
আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুসরণ করা। ৫/৯২
সালাত আদায় করা। ৬/৭২
নেককারদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা। ৬/৯০
আল্লাহর ইবাদত করা। ৬/১০২
ওহীর অনুসরণ করা। ৬/১০৬
মুশরিকদের অগ্রাহ্য করা। ৬/১০৬
প্রকাশ্য-গোপন সব ধরনের পাপ বর্জন করা। ৬/১২০

নিষেধ

সীমালঙ্ঘন না করা। ৫/৮৭
আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম না করা। ৫/৮৭
ইহরাম অবস্থায় শিকার না করা। ৫/৯৫
অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন না করা। ৫/১০১
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের গালমন্দ না করা। ৬/১০৮
সংশয়গ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া। ৬/১১৪
অপচয় না করা। ৬/১৪১
শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ না করা। ৬/১৪২
অবিশ্বাসীদের প্রবৃত্তির অনুসরণ না করা। ৬/১৫০

বিধি-বিধান

শপথ ভেঙার কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ হেলা, ক্রীতদাসমুক্তি অথবা দশজন মিসকীনকে খাদ্য বা পোশাক দান কিংবা তিনটি রোযা। ৫/৮৯
ফসলের যাকাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৬/১৪১-১৪৪

হালাল-হারাম

মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদী ও জুয়ার তির হারাম। ৫/৯০, ৯১
ইহরামরত অবস্থায় সামুদ্রিক মাছ শিকার ও খাওয়া হালাল। ৫/৯৬
মৃত প্রাণী, প্রবহমান রক্ত, শূকরের মাংস, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাইকৃত পশু ভক্ষণ হারাম। ৬/১৪৫

দৃষ্টান্ত

সূরা আনআমে মহান আল্লাহ মুমিন ও কাফিরকে জীবিত ও মৃতের সাথে এবং ঈমান ও কুফুরকে আলো ও অন্ধকারের সাথে তুলনা করেছেন। ঈমানদার ঈমানের আলো দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলে সে জীবন্ত মানুষের মতো। পক্ষান্তরে কাফির বিশ্বাসহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত। ফলে সে প্রাণহীন মানুষের মতো। ৬/১২২
আল্লাহ যাদেরকে ভালোবাসেন
আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালোবাসেন। ৫/৯৩
আল্লাহ যাদেরকে পছন্দ করেন না
আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না। ৫/৮৭
আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। ৬/১৪১
এক সূরায় আঠারো জন নবীর কথা
নবী-রাসূলের সংখ্যা অগণিত হলেও কুরআনে পঁচিশজন নবীর নাম আলোচিত হয়েছে। এর মধ্যে সূরা আনআমের চারটি আয়াতে আঠারো জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে আর কোনো সূরায় একসাথে এত সংখ্যক নবীর নাম উল্লেখ হয়নি। ৬/৮৩-৮৬

দুটি আয়াতে দশটি নির্দেশনা

(এক) আল্লাহর সাথে শিরক না করা। (দুই) পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা। (তিন) অভাবের ভয়ে সন্তান হত্যা না করা। (চার) অশ্লীল ও মন্দ কাজের কাছেও না যাওয়া। (পাঁচ) অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা। (ছয়) এতিমের সম্পদ ব্যয়ে ন্যায়ের পথ অবলম্বন করা। (সাত) ন্যায়ানুভাবে পরিমাপ ও ওজন পরিপূর্ণ করা। (আট) কথা বলার সময় ন্যায্যতা রক্ষা করা; যদিও তা কাছের কারো বিষয়ে হয়। (নয়) আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদাগুলো পূর্ণ করা। (দশ) সীরাতে মুস্তাকিমের ওপর অবিচল থাকা। ৬/১৫১, ১৫৩

সুসংবাদ ও সতর্কতা

ভালো কাজের প্রতিদান মহান আল্লাহ দশগুণ বাড়িয়ে দেন। পক্ষান্তরে প্রতিটি মন্দ কাজের বিনিময় মন্দ কাজের সংখ্যা অনুপাতে হয়ে থাকে। ৬/১৬০
শত্রুতা নিয়ে হতাশার কিছু নেই। বিশেষ করে সত্যের পথে আহ্বানকারীদের পেছনে শত্রু আরো বেশি থাকে। মহান আল্লাহ প্রত্যেক নবী-রাসূলকেই শত্রুর মুখোমুখি করেছেন। ৬/১১২
সংখ্যাধিক্য সত্যের মাপকাঠি নয়। অধিকাংশ লোকের পথ অনুসরণ করলে আপনাকে পথহারা হতে হবে। ৬/১১৬

পরকালে অস্বীকারকারীদেরকে যখন জাহান্নামের পাড়ে দাঁড় করানো হবে, তারা আক্ষেপ করে বলবে, হায় যদি দুনিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতাম, তাহলে আল্লাহর নির্দেশনসমূহ অস্বীকার করতাম না এবং ঈমান গ্রহণ করতাম। ৬/২৭
পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ছাড়া কিছু নয়। মুত্তাকীদের আখিরাতের জীবন হবে উৎকৃষ্টতর। ৬/৩২

আজেকর শিক্ষা

বনী ইসরাইল ঈমান আনতে এবং আল্লাহর নির্দেশ মানতে সর্বদা সংশয় ও হঠকারিতা করত। পক্ষান্তরে নাজাশীর কাছে সত্য প্রতিভাত হওয়ার পর নিঃসংকোচে তা গ্রহণ করেছেন। বনী ইসরাইলের পরিণতি এবং নাজাশীর বিনিময় উভয়টিই আমাদের জন্য শিক্ষা। ৫/৮২-৮৬
সালাত, কুরবানী, জীবন, মরণ সবকিছুই আল্লাহর উদ্দেশে নিবেদিত। এই নিবেদনকারীরাই পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করেছে ধরা হবে। ৬/১৬২

23/02/2026

৪র্থ তারাবীহ।।
তারাবির নামাজে কুরআনের পয়গাম।
Ummah institute—উম্মাহ ইনস্টিটিউট

চতুর্থ তারাবীহতে সূরা মায়িদার শেষাংশ এবং সূরা আন‘আমের সূচনা অংশ তিলাওয়াত করা হয়। এ অংশে হালাল-হারাম, বিধি-বিধান, আকীদা, শিরক থেকে বাঁচা এবং ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।

ঘটনাবলি

বনী ইসরাঈলের অবাধ্যতার বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা, নবীদের বিরোধিতা করা এবং অবাধ্যতার কারণে তাদের শাস্তির বিবরণ এসেছে।
হাবিল ও কাবিলের ঘটনা উল্লেখ করে হত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে।
আল্লাহর হুকুম অমান্য করলে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতির কথা বলা হয়েছে।

আদেশ

সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা।
সালাত আদায় করা।
আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও সত্য সাক্ষ্য দেওয়া।
চুক্তি পূরণ করা।
কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করা।
আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করা।

হালাল–হারাম

হালাল খাদ্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হারাম জিনিস যেমন মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের গোশত ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহর নাম ব্যতীত জবাই করা প্রাণী খাওয়া হারাম।
পাপ ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ।
শিরকের শাস্তি
শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ।
আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করলে তা ক্ষমার অযোগ্য (তাওবা ব্যতীত)।
শিরক করলে জান্নাত হারাম হয়ে যায়—এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।

কয়েকটি সতর্কীকরণ

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু—তার অনুসরণ না করার নির্দেশ।
ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করা।
সত্যকে গোপন না করা।

নিষেধ

কাফিরদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা।
সীমালঙ্ঘন ও পাপে সহযোগিতা না করা।
অন্যায় হত্যা না করা।
আল্লাহর আয়াত নিয়ে উপহাস না করা।

বিধি-বিধান

হত্যা, চুরি ইত্যাদির শাস্তির বিধান উল্লেখ আছে।
কিসাসের বিধান আলোচনা করা হয়েছে।
সম্পদের সঠিক বণ্টন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
এতিম ও দুর্বলদের অধিকার রক্ষা করার নির্দেশ।
আল্লাহর প্রিয়–অপ্রিয়
আল্লাহ ভালোবাসেন—
মুত্তাকী ও ন্যায়পরায়ণদের।
সৎকর্মশীলদের।
তাওবাকারীদের।
আল্লাহ অপছন্দ করেন—
সীমালঙ্ঘনকারীদের।
ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের।
অহংকারীদের।

আজকের শিক্ষা

আল্লাহর আনুগত্যেই সম্মান।
শিরক থেকে বেঁচে বিশুদ্ধ ঈমান ধারণ করা জরুরি।
হালাল-হারাম মেনে চলা ঈমানের অংশ।
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা মুসলিমের দায়িত্ব।

20/02/2026

৩য় তারাবীহ
তারাবির নামাজে কোরআনের পয়গাম

কাবাঘর। সেই ঘরকে মহান আল্লাহ মানুষের ইবাদতের জন্য তৈরি করা হয়েছে, সেটি হলো মক্কার পথপ্রদর্শনের এবং মানবজাতির জন্য বরকতময়। পৃথিবীর প্রথম ঘর, যেটি মানুষের ইবাদতের জন্য একদিন নবীদের মতো অন্যান্য নবীদের মতো তিনিও মৃত্যুসংবাদ গুজব হলেও অনেক আলোকপাত করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন।
রাসূল (সা.) নিহত হওয়ার ঘটনা। এ যুদ্ধে বলেন, রাসূলের (সা.) পরাজয়ের পালাবদল ঘটনা। এ যুদ্ধে প্রকৃত মুমিন হলে তোমরাই সভাভাবে বিজয়ী হবে না, চিন্তিত হবে না, প্রকৃত মুমিন হলে তোমরাই।
অর্থ: তোমরা হীনমনা হবে না, চিন্তিত হবে না, প্রকৃত মুমিন হলে তোমরাই সভাভাবে বিজয়ী হবে। আর মহান আল্লাহ জয়-পরাজয়ের পালাবদল ঘটান। এ যুদ্ধে রাসূলের (সা.) নিহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন।
এই যুদ্ধে মুসলিমরা প্রথমদিকে সাফল্য পেলেও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি নির্দেশ থেকে কারণে বিপর্যয়ের শিকার হন। এতে সূর্য নবীজির বেশ কিছু উপদেশ ও সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন।
বদর ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ঐতিহাসিক বড় যুদ্ধ। এই যুদ্ধে কাফিরদের তুলনায় মুসলমানরা সংখ্যায় ও সরঞ্জামে পিছিয়ে ছিল। আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে অলৌকিকভাবে মুসলমানদের সাহায্য করেন।
উভয় যুদ্ধে মুসলিমরা প্রথমদিকে সাফল্য পেলেও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি নির্দেশ থেকে সরে যাওয়ার কারণে বিপর্যয়ের শিকার হন। এতে অনেক মুসলমানসহ অনেকজন সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ মুসলমানদেরকে বেশ কিছু উপদেশ ও সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন।
তৃতীয় তারাবীতে পঠিতব্য কুরআনের চতুর্থ পারা ও পঞ্চম পারার প্রথমাংশ। অর্থাৎ, সূরা আলে ইমরানের শেষাংশ ও সূরা নিসার প্রথমার্ধ।
সূরা নিসা অর্থ নারীদের সূরা। এই সূরার শুরুতে নারী-পুরুষের সৃষ্টি রহস্য, আলোচনা করা হয়েছে। নারী-অধিকার, নারী-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান, আলোচনা করা হয়েছে। এই সূরা জুড়ে নারী-অধিকার, নারী-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান, আল্লাহর বন্দন নিতামালা এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আহকাম জুড়ে এসেছে।
আদেশ:
আল্লাহর রাস্তায় তিন বস্তু ব্যয় করা। একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীম (আ.)-এর ধর্মের আদর্শ অনুসরণ করা। আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করা। সবাই মিলে একাবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা। আল্লাহ ও তার অনুগত্যতা করা। আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি আনুগত্যের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া। আল্লাহর মাগফিরাত কামনা করা, অন্যের আগে কাজের পরামর্শ করা, কাজের আগে অন্যের মতামত আনা। আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশ ও জান্নাত লাভের ক্ষমা চাওয়া। আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করা। ধর্য ধারণ করা, যুদ্ধে অবিচল থাকা ও সীমান্ত পাহারা দেওয়া। এতিমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়া। পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকীন, প্রতিবেশী ও পথচারীর সাথে সদ্ব্যবহার করা। আমানতসমূহ প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ন্যায়বিচার করা। আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও সিদ্ধান্তের মালিকদের আনুগত্য করা।
নিষেধ:
পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ না করা। মুসলমানরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হওয়া। পরস্পর বিভেদ সৃষ্টি না করা। মুমিন কর্তৃক অনাদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ না খাওয়া। শয়তানের দোসরদের ভয় না করা। এতিমের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে ভক্ষণ না করা। একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস না করা এবং অন্যায়ভাবে হত্যা ও আত্মহত্যা না করা। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করা।
বিধি-বিধান:
সামর্থ্যবানদের ওপর বাইতুল্লাহর হজ করা ফরয। ইনসাফ ও সমতা রক্ষা করার শর্তে একজন পুরুষের জন্য সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্ত বিয়ে করা জায়েজ। আর একাধিক স্ত্রীর মাঝে সমতা রক্ষা করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশনা এসেছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করতে হবে। তবে স্ত্রী সন্তুষ্টিচিত্তে কিছুটা শিথিল করলে সেটা বৈধ। মৃতের পরিত্যক্ত সম্পদ নিয়ে ওয়ারিসদের মাঝে যেন বিবাদ সৃষ্টি না হয় সেজন্য আল্লাহ পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টনের নীতিমালা ও ওয়ারিসদের হিস্যা বর্ণনা করেছেন। এটা রক্ষা করা ফরয। ব্যভিচারের শাস্তি বিচারিকভাবে প্রয়োগ করতে চারজন চাক্ষুস সাক্ষী আবশ্যক। ওজু করতে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করা যাবে।
হালাল-হারাম:
নারী-পুরুষের মাহরামের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতে নারী-পুরুষের মাহরামের কথা বর্ণিত হয়েছে, যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম। তেরো জন নারীর মাহরামের বিধানও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া মাদক হারামের বিধানও এসেছে।
শিষ্টাচার:
সালাম ইসলামী সমাজের অনুপম সৌন্দর্য। সালামের চেয়ে অর্থবহ অভিবাদন আরেকটি খুঁজে পাওয়া কঠিন। কেউ সালাম (শান্তির দোয়া) দিলে তাকে আরো উত্তম ভাষায় জবাব দিতে হবে। সালাম দেওয়া সুন্নাহ হলেও এই নির্দেশের আলোকে সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব।
দৃষ্টান্ত:
কাফিরদের সৎকর্মের বিনিময় দুনিয়াতেই দেওয়া হয়। কুফুরীর কারণে আখিরাতে তারা কোনো সওয়াব পাবে না। বিষয়টিকে শস্যক্ষেতে হিমশীতল ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের ভালো কাজকে শস্যক্ষেত্র এবং কুফুরীর কারণে সেসবের বিনিময় নষ্ট হওয়াকে হিমশীতল ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করেছেন বলার সুযোগ নেই। কারণ, কুফুরীর মাধ্যমে তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মফল নষ্ট করেছে।
মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য এবং বুদ্ধিমানের পরিচয়:
মহান আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করেছেন মুত্তাকীদের জন্য। সমগ্র কুরআন জুড়ে মুত্তাকীদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। সূরা নিসার দুটি আয়াতে মুত্তাকীদের চারটি বৈশিষ্ট্য উঠে এসেছে।
এক. তারা সচ্ছল অসচ্ছল সকল অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে। দুই. তারা ক্রোধ সংবরণ করে। তিন. তারা মানুষকে ক্ষমা করে। চার. তারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ কিংবা নিজের প্রতি জুলুম (গুনাহ) করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টি এবং রাত-দিনের পালাবদলে বুদ্ধিমানের জন্য রয়েছে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন। যারা সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সৃষ্টির নিগূঢ় তত্ত্ব ও রহস্য উদঘাটন করতে পারে।
মৃত্যু, জান্নাত-জাহান্নাম ও প্রকৃত সফলকাম:
মৃত্যু অনিবার্য বাস্তবতা। মানুষ যেখানেই থাক না কেন, অবশ্যই মৃত্যু তাদের নাগাল পাবে, যদিও তারা সুরক্ষিত দুর্গের ভেতর থাকে।
তিনি আরো বলেন, সকল প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে এবং কিয়ামতের দিন সবার প্রাপ্য কর্মফল বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সেদিন যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে, সে-ই হলো প্রকৃত ও চূড়ান্ত সফল। একই কথা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ হয়েছে।
মুত্তাকীদের জন্য জান্নাত ও কাফিরদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করা হয়েছে।
রাসূল (সা.)-এর মৌলিক কাজ:
নবীজি (সা.) ছিলেন আমাদের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ। তার মৌলিক কাজ তিনটি। তিনি মানুষের মাঝে আল্লাহর আয়াত পাঠ করে শোনাতেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করতেন এবং কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দিতেন।
দাম্পত্য কলহ নিরসনের পদ্ধতি:
দাম্পত্য কলহ নিরসনের ধারাবাহিক চারটি ধাপ রয়েছে। স্ত্রী অবাধ্য হলে প্রথমে তাকে উপদেশের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। এতে কাজ না হলে অভিমান করে বিছানা পৃথক করবে। তাতেও কাজ না হলে শরীয়াসম্মতভাবে শাসন করতে হবে। এতেও সংশোধন না হলে এবং কলহ সৃষ্টি ও বিচ্ছেদের আশঙ্কা হলে উভয়পক্ষের একজন করে সালিস নিযুক্ত করে মীমাংসার চেষ্টা করতে হবে।
আজকের শিক্ষা:
আল্লাহ তাআলা প্রিয় বস্তু দান করাকে পুণ্য ও পরিপূর্ণ কল্যাণ অর্জনের মাধ্যম আখ্যায়িত করেছেন। এ বিষয়ক আয়াত নাজিল হওয়ার পর বহু সাহাবি নিজেদের প্রিয় বস্তু দান করে দিয়েছেন। এখান থেকে আমরা আল্লাহর রাহে প্রিয় বস্তু দান করার শিক্ষা নিতে পারি।
নিজের কষ্টকে অন্যের সুখের সাথে তুলনা করলে মানুষ কখনো সুখী হয় না। উহুদ যুদ্ধে মহান আল্লাহ নিজেদের কষ্টের সময় অন্যের কষ্টের দিকে তাকানোর শিক্ষা দিয়েছেন। তাতে ধৈর্য ধারণ সহজ হয়।
আল্লাহ তাআলার নিকট প্রকৃত সফলকাম ঐ ব্যক্তি, যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেল এবং জান্নাতে প্রবেশ করল। আর জান্নাতের বিপরীতে পার্থিব জীবন তো কেবল ধোঁকা।
আজকের দোয়া:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَ اِسْرَافَنَا فِىْ اَمْرِنَا وَ ثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكٰفِرِيْنَ
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের গুনাহসমূহ এবং আমাদের কার্যাবলিতে ঘটে যাওয়া আমাদের সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের ওপর আমাদেরকে বিজয় দান করুন।
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَيِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ ۞ رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلٰى رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيٰمَةِ اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ ۞
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে সে-ই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনো প্রতিশ্রুতির বিপরীত করবেন না।

19/02/2026

২য় তারাবী।।
তারাবির নামাজে কোরআনের পয়গাম।

পঠিতব্য অংশ
দ্বিতীয় তারাবীহর পঠিতব্য অংশ হলো কুরআনের দ্বিতীয় পারার শেষার্ধ ও পুরো তৃতীয় পারা। আজকের তিলাওয়াতে থাকবে সূরা বাকারার শেষাংশ ও সূরা আলে ইমরানের প্রথমাংশ।

ঘটনাবলিঃ

বনী ইসরাইলের কিছু লোক অত্যাচারী জালুতের জুলুম থেকে মুক্তির আশায় সে সময়ের নবীর কাছে একজন শাসক কামনা করে, যেন তার নেতৃত্বে তারা যুদ্ধ করতে পারে। আল্লাহ তালুতকে তাদের নেতা মনোনীত করে তার নেতৃত্বে যুদ্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত অধিকাংশই যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে। মহান আল্লাহ দৃঢ়পদ, ধৈর্যশীল এবং অনুগতদের জালুতের বিরুদ্ধে বিজয় দান করেন। ২/২৪৬-২৫১

জীবন-মৃত্যুর সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। মৃত্যুর পর তিনি সবাইকে পুনরায় জীবিত করবেন। যিনি শূন্য থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, মৃত্যু-পরবর্তী পুনরুখান তার জন্য কঠিন কিছু নয়। আজকের তারাবীহতে চারটি ঘটনার মাধ্যমে সেটি তুলে ধরা হয়েছে।

এক. যুদ্ধ কিংবা মহামারীতে মৃত্যুর ভয়ে পলায়ন করা নিষেধ। বনী ইসরাইলের কয়েক হাজার লোক মৃত্যুভয়ে আবাসভূমি ত্যাগ করেছিল। এই কৃতকর্মের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে মৃত্যু দিয়ে পুনরায় জীবিত করেন এবং স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ দেন; যেন তারা তাওবা ও শিক্ষা অর্জন করতে পারে। ২/২৪৩

দুই. অহংকারী নমরুদ নিজেকে স্রষ্টা এবং জীবন-মৃত্যুর মালিক দাবি করে শিশুসুলভ যুক্তি পেশ করায় ইবরাহীম (আ.) পাল্টা যুক্তি দিয়ে তাকে নিরুত্তর ও হতভম্ব করে দেন। ২/২৫৮

তিন. উযায়ের (আ.) আল্লাহর কাছে জানতে চান, কীভাবে তিনি মানুষকে মৃত্যুর পর জীবিত করবেন। আল্লাহ চাক্ষুস প্রমাণের জন্য তাকে মৃত্যু দিয়ে একশ বছর পর পুনরায় জীবিত করেন। ২/২৫৯

চার. পূর্ণ ঈমানের পরও শুধু কৌতূহলবশত একই প্রশ্ন করেছিলেন ইবরাহীম (আ.)। আল্লাহ তাকে চারটি পাখি টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন পাহাড়ে রেখে আসতে বলেন। এরপর আল্লাহ পাখিগুলোকে জীবিত করেন। ২/২৬০

সূরা আলে ইমরান

আলে ইমরান মানে ইমরানের বংশধর। ইমরান ঈসা (আ.)-এর নানা। এই সূরায় ঈসা (আ.)-এর অলৌকিকভাবে জন্ম, তার মুজিযা, মা মারিয়ামের সচ্চরিত্র, মারিয়াম গর্ভে থাকাকালীন তার মায়ের (ঈসার নানি) মানত ও তৎপরবর্তী ঘটনাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, সেজন্য এই সূরার নাম আলে ইমরান।
পাশাপাশি বার্ধক্যে যাকারিয়া (আ.)-এর সন্তান প্রার্থনা এবং সেই প্রেক্ষিতে সন্তান হিসেবে ইয়াহইয়াকে দান করার ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে। ৩/৩৮-৪১

আদেশ

ইসলামে পরিপূর্ণ প্রবেশ করা। ২/২০৮
ঋতু অবস্থায় স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। ২/২২২
আল্লাহকে ভয় করা। ২/২২৩
আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করা। ২/২৩১
সালাতসমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়া; বিশেষ করে আসরের সালাত। ২/২৩৮
আল্লাহর সামনে অর্থাৎ সালাতে বিনয়ের সাথে দাঁড়ানো। ২/২৩৮
আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা। ২/২৪৪
আল্লাহর জন্য ব্যয় করা। ২/২৫৪
আল্লাহর পথে উৎকৃষ্ট বস্তু দান করা। ২/২৬৭
সুদভিত্তিক লেনদেন পরিহার করা। ২/২৭৮
সেদিনকে ভয় করা যেদিন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে এবং প্রত্যেকে কর্মফল বুঝে পাবে। ২/২৮১
ঋণ আদান-প্রদানের সময় লিপিবদ্ধ করা এবং দুজন সাক্ষী রাখা। ২/২৮২
আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করা। ৩/৩২
আল্লাহকে অধিক স্মরণ করা এবং সকাল-সন্ধ্যায় তার মহিমা ঘোষণা করা। ৩/৪১
আল্লাহর ইবাদত করা। ৩/৫১
আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করা এবং সুদ থেকে বিরত থাকা। ৩/১৩০-১৩২
দ্রুত মাগফিরাত প্রার্থনা করা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাওয়া। ৩/১৩৩

নিষেধ

মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফিরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা। ৩/২৮
সুদ গ্রহণ না করা। ২/২৭৫
যুদ্ধ থেকে পলায়ন না করা। ২/২৪৩

সুসংবাদ ও সতর্কবার্তা
সুসংবাদ:

১. মুমিনদের সুসংবাদ দিতে বলা হয়েছে। ২/২২৩, ৩/২১
২. ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিয়ে বলা হয়েছে, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। ২/১৫৫, ২/১৫৩
৩. শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু ঘোষণা করা হয়েছে। ২/১৬৮
৪. ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম। এছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণযোগ্য হবে না। ৩/৮৫
৫. আল্লাহ আমাদের সব কিছুই দেখেন। ২/২৩৩, ২৩৭, ২৬৫ ৩/১৫, ২০
আল্লাহর প্রিয়-অপ্রিয়:
১. আল্লাহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন। ২/২২২
২. আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালোবাসেন। ৩/৭৬
৩. তিনি কাফির ও জালিমদের ভালোবাসেন না। ৩/৩২, ৩/৫৭
৪. তিনি দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না। ২/২০৫

বিশেষ ফজীলতপূর্ণ আয়াত

আজকের তিলাওয়াতের অংশে রয়েছে আয়াতুল কুরসি। আল্লাহর মহান সত্তা এই আয়াতের আলোচনাবিষয়। সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পড়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর এটি পড়লে মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে যাওয়ার আর কোনো বাধা থাকে না। রাতে ঘুমানোর পূর্বেও এটি পাঠ্য। ২/২৫৫

বাকারার শেষ দুটি আয়াতও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। হাদীসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি এই আয়াতগুলো রাতে পড়বে, এগুলো তার জন্য যথেষ্ট হবে।' এই দুই আয়াত নবীজিকে মেরাজের রাতে বিশেষভাবে দান করা হয়েছে এবং কোনো নবীকে এই আয়াতগুলোর মতো মর্যাদাবান বাণী দেওয়া হয়নি। ২/২৮৫,২৮৬

আজকের শিক্ষা

আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করলে রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবে। ৩/৩১
আল্লাহর নবী ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (সা.) সবার ধর্মই ছিল একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, শিরক থেকে মুক্ত। সুতরাং তাদের প্রকৃত অনুসারী হতে হলে একত্ববাদে বিশ্বাস করতে হবে।
ইহুদীদের মধ্যেও এমন লোক আছে যার কাছে সম্পদ আমানত রাখলে সে রক্ষা করে। সুতরাং শত্রুর কোনো ভালো গুণ থাকলে স্বীকার করতে হবে। ২/১৩৩, ৩/৬৭, ৭৫

জীবন ও মৃত্যু মানুষের হাতে নয়। বরং আল্লাহর হাতে। আল্লাহ চাইলে ঘরেও মৃত্যু হতে পারে। আর আল্লাহ না চাইলে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলেও মৃত্যু হবে না। অতএব জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বিধান প্রযোজ্য হলে মৃত্যু ভয়ে পিছপা হওয়া যাবে না। ২/২৪৩

জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। তিনি চাইলে স্বল্পসংখ্যক মানুষকে অধিক সংখ্যক মানুষের ওপর জয়ী করতে পারেন। তালুতের ঘটনায় এমনটাই ঘটেছে। এজন্য কোনো সংখ্যার স্বল্পতার কারণে হীনমান্যা হওয়া যাবে না, বরং সংখ্যায় কম হলেও আল্লাহর ওপর ভরসা করে দীনের পথে এগিয়ে চলতে হবে। ২/২৪৯-২৫১

নারী, সন্তান, সোনা-রুপা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসমূহকে মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে। এগুলো ক্ষণস্থায়ী, পার্থিব জীবনের ভোগসামগ্রী মাত্র। আল্লাহর কাছে রয়েছে সর্বোত্তম অবস্থান। ৩/১৪

আজকের দোয়া

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَّ ثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكٰفِرِيْنَ
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা স্থির রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। ২/২৫০
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِيْنَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِيْنَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি। হে আমাদের রব, আমাদের ওপর ভারি বোঝা চাপাবেন না, যেমন চাপিয়েছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। হে আমাদের রব, আমাদের ওপর এমন দায়িত্বভার অর্পণ করবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের (ভুলসমূহ) মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। ২/২৮৬
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। ৩/৮
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ৩/১৬
আল্লাহ আমাদের সকলকে কুরআন বোঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

কোরআনের বার্তা থেকে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Dhaka