18/01/2026
এমন নয় যে আমার বাচ্চার সঙ্গে সারাদিন হাসি দিয়ে কথা বলতে হবে। যদি ও আমার মন খারাপ। আমি তো কোনো রোবট নই। আমিও মানুষ। আমার ও মন খারাপ হয়, কান্না পায়, রাগ হয়, অভিমান হয়, বুকের ভেতর ভেঙেচুড়ে যায়। এসব যদি বাচ্চাকে না বুঝাই বাচ্চা কি বুঝতে পারবে কখনো? আমার মায়ের ও মন খারাপ হয়! আমার মা সারাদিন হাসিখুশি কাজ করে যাওয়া রোবট নয়। হ্যাঁ সবকিছুর একটা ব্যালেন্স রাখা উচিত। আমি এতোটাও রেগে যাব না যে নিজের বাচ্চার ক্ষতি করি। এতোটাও মন খারাপ করে থাকব না যে আমার বাচ্চাটাও সারাদিন হাসতে পারবে না আমার জন্য। ওকে বুঝানো উচিত ,মায়ের আজ মন খারাপ। আজকে মাকে কিছুক্ষন স্পেস দাও। এটাই হলো বাউন্ডারি সেট করা। আমার বাচ্চা যখন দেখবে মা নিজেকে কিভাবে শান্ত করে। মা কিভাবে নিজের রাগ জেদ নিয়ন্ত্রণ করে তখন বাচ্চাও আমার দেখে শিখবে নিজেকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তাই আমার মনে হয় আজ যে আমার মন খারাপ , আজ যে আমার মন ভালো নেই সেটা আমার সন্তান জানুক। আমার কোলে চুপটি করে বসে গালে হাত দিয়ে বলুক, মন খারাপ করো না মা আল্লাহ আছেন আমাদের। হে আল্লাহ আমার মায়ের মন খারাপ ভালো করে দিন। আমীন। ঠিকই আমারই মতন। তবেই তো সার্থকতা। আপনার চোখে পানি আসবে আর আপনি আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করবেন। আলহামদুলিল্লাহ ইয়া রব্বী আমাকে একজন নেককার সন্তান দান করার জন্য। ইয়া রহমানুর রহীম, আরশে আযীমের মালিক আপনার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া পৃথিবীতে এত সুন্দর একটা সন্তান দান করার জন্য। আপনি মহান, আপনি অসীম আর আপনিই আমার রব।
~Tarbiyah with Amma
15/01/2026
মাঝেমধ্যে মায়েদের ভীষণ ক্লান্ত লাগে।
এই ক্লান্তি শুধু শরীরের না—
এটা জমে থাকা অনুভূতির, না বলা কষ্টের,
দিনের পর দিন নিজের প্রয়োজন ভুলে থাকার ক্লান্তি।
সারাদিন সবাইকে আগলে রাখা,
কার কখন কী দরকার সেটা আগে বুঝে ফেলা,
একই প্রশ্নের শতবার উত্তর দেওয়া,
অকারণে রাগ, কান্না আর জেদ সামলানো—
এসবের মাঝে নিজের মনটা যেন কোথাও হারিয়ে যায়।
কেউ দেখে না,
মা হওয়ার পর কতটা একা লাগতে পারে।
চারপাশে মানুষ থাকে, তবু মনটা শুন্য লাগে।
হতাশা আসে, নিজেকে অযোগ্য মনে হয়,
মনে হয়— “আমি কি ঠিক পারছি?”
কিছু দিন এমনও আসে
যেদিন হাসিটা জোর করে রাখতে হয়,
চোখের জল বালিশে মিশে যায়,
আর মনে মনে শুধু দোয়া করি—
“হে আল্লাহ, আরেকটু ধৈর্য দাও।”
তবুও পরদিন সকালে আবার উঠি।
কারণ কারও হাত ধরে হাঁটতে শেখাতে হবে,
কারও খাবার খাওয়াতে হবে,
কারও নিরাপদ আশ্রয় হতে হবে।
যদি আজ তোমার মনটাও ভারী লাগে,
জেনে রেখো—
তুমি একা নও।
এই অনুভূতিগুলো অস্বাভাবিক না।
তুমি দুর্বল নও।
তুমি একজন মা।
আর মা হওয়া মানেই
অপার শক্তির সাথে
নীরব ক্লান্তি বয়ে বেড়ানো 🤍
নিজেকে একটু সময় দাও।
নিজের জন্য একটু দোয়া করো।
এই সময়টাও পেরিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
14/01/2026
গতকাল ছিলো আমাদের কাউন্টিং শেখার দিন। আলহামদুলিল্লাহ আমরা শিখতে পারছি খুব সুন্দর করে। এই পপসিকেলস গুলো অনেক খুঁজে পেয়েছি। ছোটো বেলা আমরা গননা শিখতাম বাশের ররঙিন কাঠি দিয়ে। এগুলো দেখে বারবার পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এগুলো নিয়েছি নতুন কুঁড়ি থেকে।
আপনি তাকে শেখানো মানে শুধু বই খাতা নিয়ে বসেই শেখানো না। তাকে খেলতে খেলতে শেখান। খাবার খেতে খেতে ও শেখানো যায়। বলবেন কয় লোকমা খেলে? কয়টা আঙুল দিয়ে খাচ্ছো তুমি? আরও মজার মজার প্রশ্ন আছে। এভাবেই আপনি আনন্দের সাথে তাকে শেখাতে পারেন। কিন্তু প্রথমেই চাপ দিলে সে শিখবে হয়তো কিন্তু পড়াশোনাকে আতংকের বিষয় হিসেবে ধরে নেবে। তাই শুরুটা হোক ছোটো ভাবে এবং আনন্দের সাথে।
13/01/2026
কখনো কখনো সুখ খুব বড় কিছু হয় না—
একটা নরম স্পঞ্জ,
মাঝখানে মিষ্টি ক্রিম,
আর উপরে ভালোবাসার একটু সাজ।
ব্যস্ত দিনের শেষে
এই ছোট্ট পেস্ট্রিটাই মনটাকে হালকা করে দেয়,
হাসিটাকে আবার ফিরিয়ে আনে।
নিজের জন্য হোক,
না হয় প্রিয় কারো জন্য—
পেস্ট্রি মানেই একটু বাড়তি আনন্দ।
13/01/2026
বাচ্চার জন্য হেলদি একটা মাফিন আপনি খুব সহজে বাসাতেই বানিয়ে দিতে পারেন। খুব অল্প সময়ে। এখানে আমি একটা কলা, ডিম, সেদ্ধ মিষ্টি আলু, রাগী গুড়ো দিয়েছি। আমি মূলত রাগী গুড়ো নিয়েছিলাম রুটি বানানোর জন্য। কিন্তু আমার মেয়ে খেতে চায় না রুটি। এজন্য বুদ্ধি করে এভাবেই দেই। আলহামদুলিল্লাহ। এই রাগী গুড়ো আমি নিয়েছিলাম দুই একমাস আগে Masalih থেকে। আরও অনেক কিছু নিয়েছিলাম। বারকাল্লাহু। মেয়ে অর্ধেক খেয়েছি। মাশাল্লাহ অনেক মজা হয়েছে।
13/01/2026
বাচ্চারা বানিয়ে কথা বলে—এটা কি স্বাভাবিক? কিভাবে ঠিক করব?
ছোট বাচ্চাদের বানিয়ে কথা বলা অনেক সময়ই স্বাভাবিক।
৩–৬ বছর বয়সে বাচ্চাদের কল্পনাশক্তি খুব বেশি থাকে। তারা গল্প বানায়, চরিত্র তৈরি করে—এটা তাদের মানসিক বিকাশের একটি অংশ।
তবে ধীরে ধীরে আমাদের দায়িত্ব হলো বাচ্চাকে কল্পনা আর সত্যের পার্থক্য বোঝানো।
কিভাবে সুন্দরভাবে ঠিক করবেন:
রাগ করবেন না
মিথ্যা বলার জন্য ভয় দেখালে বাচ্চা সত্য লুকাতে শেখে।
লেবেল লাগাবেন না
“তুমি মিথ্যুক” না বলে বলুন—
“তুমি কি এটা বানিয়ে বলছ, নাকি সত্যি বলছ?”
সত্য বললে প্রশংসা করুন
সত্য বললে শান্তভাবে প্রশংসা করুন, যাতে বাচ্চা বুঝতে পারে সত্য বলা নিরাপদ।
গল্প আর বাস্তব আলাদা করে বোঝান
বলুন—
“গল্প বানানো খেলায় ঠিক আছে, কিন্তু আম্মুকে সত্য কথাই বলতে হয়।”
নিজে উদাহরণ হোন
আমরা যদি ছোট ছোট বিষয়েও সত্য বলি, বাচ্চারাও সেটাই শিখে।
মনে রাখবেন,
এটা কোনো খারাপ স্বভাব নয়—এটা শেখার একটি ধাপ।
ভালোবাসা, ধৈর্য আর নিয়মিত গাইডেন্সেই ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।
12/01/2026
সন্তানকে বাইরের খাবার না দিয়ে বাসার খাবার দেওয়ার উপকারিতা
আজকের সময়ে বাইরের খাবার খুব সহজেই শিশুদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু সন্তানের সুস্থতা ও সঠিক বেড়ে ওঠার জন্য বাসার খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাসার খাবারে পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে এবং এতে অতিরিক্ত তেল, লবণ ও চিনি থাকে না। ফলে শিশুর হজম শক্তি ভালো থাকে, শরীর সুস্থ থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বাইরের খাবার শিশুর শরীরে নানা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে, যা ধীরে ধীরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিয়মিত বাসার খাবার খেলে শিশুর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। সে বুঝতে শেখে কোন খাবার তার শরীরের জন্য ভালো। পাশাপাশি পরিবারের সাথে একসাথে খাওয়ার মাধ্যমে শিশুর মানসিক বন্ধনও দৃঢ় হয়।
ভাত, ডাল, সবজি, মাছ বা ডিম—এই সাধারণ খাবারগুলোর মধ্যেই রয়েছে সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি। আজ সচেতন হলে, আগামীর প্রজন্ম হবে আরও শক্ত ও সুস্থ।
12/01/2026
আমার নানী আমাকে মোরগ ঝুঁটি করে দিত।
অনেক অনেক তেল দিয়ে।
চুল চকচক করত, মাথা ভারী লাগত,
আর নানী বলত—
“এভাবে রাখলে চুল ভালো হয়।”
কখনো আবার সময় নিয়ে
সুন্দর করে বিনুনি করে দিত।
আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে চুল গেঁথে,
শেষে টান দিয়ে বলত,
“এইবার ঠিক হয়েছে।”
মোরগ ঝুঁটি ছিল ছোটবেলার তাড়াহুড়ো,
বিনুনি ছিল যত্নের সময়।
দুটোর মাঝখানেই ছিল নানীর ভালোবাসা—
নিঃশব্দ, তেলেভেজা, গভীর।
আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজের বা মেয়ের চুল আঁচড়াতে গিয়ে
হঠাৎ নানীর কথা মনে পড়ে।
মোরগ ঝুঁটি নেই,
বিনুনিও বদলে গেছে।
কিন্তু নানীর হাতের সেই যত্ন
এখনো মনে শক্ত করে বাঁধা।
11/01/2026
একটা আপুর পোস্ট দেখলাম উনার বাচ্চা বাবা-মা কাউকে হতাশ করতে চায় না এজন্য আম্বা বলে ডাকে। হাহা। তো এই পোস্ট দেখে আমার ও একটা কথা মনে পড়ে গেলো। আমার মেয়েটা তখন অনেক ছোটো। আমি ওকে ডাকতাম মাবা। মায়ের মা আর বাবার বা। আবার ডাকতাম আমব্বু। আম্মুর আম আব্বুর ব্বু। কি সুন্দর। সবাই শুনে হাসতো। আমি বলতাম ওই আমার সব এইজন্য এভাবে ডাকি। হাসলেও কিছু যায় আসে না।