12/03/2026
❄️ টীম অদম্য অভিযান ❄️
🌀🌀 পর্ব - ০১🌀🌀
--------------------------------------------------------------------------
টীম অদম্য। সদস্য তিন জন অর্ক,জীম এবং লাবন্য। তিন জন সদ্য কলেজ শেষ করে ভার্সিটি পড়ুয়া।অর্ক রসায়ন,জীম মাইক্রোসফট এবং লাবন্য গণিত নিয়ে পড়ছে। তিন ডিপার্টমেন্ট হলে ও বন্ধুত্ব সমান্তরাল ভাবে চলছে।অর্কের আগ্রহের কারণে টীম অদম্য গঠন করা হয়েছে। অন্যরা ও উৎসাহী তবে নিজেদের মেধা নিয়ে সামান্য কনফিউজড ছিল। তাদের প্রথম অভিযান সুন্দরবন। বিষয়টি খুব গতানুগতিক ধারার নয়।প্রাণী অথবা উদ্ভিদ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে আগ্রহী ছিল না কেউ। তাদের মাথায় কিছু একটা চলছে। টীম অদম্য মিঃ অর্কের নেতৃত্বে খুলনা পোঁছে গেল। বাগেরহাটে একটা রিপোর্ট রাজদর্শন ওখানেই তাদের বসতি গড়ে তোলা হলো। রাতে ভালো ঘুম হয়েছে খুব ভোরে উঠেই আগে থেকে ভাড়া করা নৌকা নিয়ে সোজা হিরন পয়েন্ট। সেখান থেকে কাঁদা মাটির পথ ধরে এগিয়ে চলা। উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের মাঝখানে একটা লোকেশন। গতকাল মৌয়ালরা তাদের ওই লোকেশন বুঝিয়ে দিয়েছে। লাবন্য খুব সাহসী তার কাছে দোলনা বন্ধুক আছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত সাথে অর্ক তার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ যেখানে হাজারো গবেষণা করার যন্ত্র। খাবার ও পানীয় জলের ব্যাগ জীমের কাঁধ অনঙ্করন করেছে।অর্ক চট করে ছোট্ট কাগজে আঁকা লোকেশন ম্যাপ বের সামনে ইঙ্গিত করে টীমের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ঘন্টা তিনেক হাঁটা পথ ধরে সামনে সেই লোকেশন পাওয়া গেছে যেখান থেকে মৌয়ালরা অদ্ভুত কিছু দেখে ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।ঘণ জঙ্গলে এক ফুট সামনে কিছু দেখার উপায় নেই। হোগলা পাতার জঙ্গল ক্রমেই ঘণ হয়ে আসছে মাঝে মাঝে বিশাল বিশাল সুন্দরী ও গড়ান অথবা কেওড়া গাছ লতা গুল্ম মোড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। অদ্ভূত সব পশু পাখির চিৎকার মনে করিয়ে দিচ্ছে টীম অদম্য এখানে অযাচিত অনুপ্রবেশ করেছে। ধীরে ধীরে দিনের আলো ফুরিয়ে গিয়ে ঘণ অন্ধকার আর নানা রকম জীব জন্তুর চিৎকার হৃদয়ে ভয়ের আবহ তৈরি করে চলেছে। ছোট চার্জ লাইটের আলোয় লতা গুল্ম আর হোগলা মাড়িয়ে কাঁদা মাটির পথে তাদের এগিয়ে চলা। হঠাৎ জঙ্গলের মধ্যে টিম টিম করে জ্বলে ওঠে আলোর ঝলকানি। একবার জ্বলে একবার নিভে ঠিক গাড়ির সিগনাল লাইটের মতো। ঝোপের আড়ালে থেকে বুঝার চেষ্টা চলছে আসলে এটা কি জিনিস। বিশাল নয় তবে মাইক্রো গাড়ির আয়তনের বৃত্তাকার যাণ। এটা দেখেই মৌয়ালরা ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।পা টিপে টিপে তিনজন এগিয়ে যাচ্ছে। ভয়ে বুক ধড়ফড় করছে। নিজের হার্টবিট নিজের কানে শুনতে পাচ্ছিলো। যন্ত্র থেকে গাঢ় নীল রঙের আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। ভিতরে দুই জন অদ্ভুত জীব বসে আছে। হালকা কাঁচের জানালা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তাদের গায়ের রং নীল। লম্বা নাক অনেক বড় বড় দুটো কান গাঢ় বেঁয়ে বেগুনী রঙের কাঁটা লতার মতো চুল। লম্বা আট থেকে নয় ফুট দেহ চোখ গুলো টর্চ লাইটের মতো জ্বলছে। নিজের মধ্যে অদ্ভুত আওয়াজ করে কিছু একটা বলাবলি করছে। হঠাৎ তাদের দিকে লক্ষ করে একটা গোল মতো যন্ত্র উঁচিয়ে ধরল। ওরা জ্ঞান হারালো না কিন্তু নড়াচড়া করতে পারছিলো না।তারা শুনতে পাচ্ছিলো তাদের উদ্দেশ্য করে জীবগুলো কিছু বলার চেষ্টা করছে। তাঁরা কিছুই বুঝতে পারছিলো না। একটা যন্ত্র তাদের দিকে তাক করানো হলো তাদের হাত ও পাগুলো সরু আলোকিত লতার মতো কিছু একটা দিয়ে বাঁধা পড়ে গেলো। ওরা অসহায় হয়ে শুধু তাকিয়ে আছে মুখ দিয়ে শব্দ বেরুচ্ছে না। ওদেরকে গোলাকার যানের ভিতরে ঢুকিয়ে নিলো। যানের ভিতরে ল্যাপটপ জাতীয় একটা যন্ত্র দেখতে পেলো। যন্ত্রটি থেকে অদ্ভুত ধরনের আওয়াজ আসছে কিন্তু তারা আওয়াজ শুনে কিছুই বুঝতে পারছে না। একজন এসে অর্ক কে তার মাথায় অদ্ভুত একটা যন্ত্র লাগিয়ে দেওয়ার পর অর্ক শব্দ গুলো আরও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলো। অর্ক কে ল্যাপটপ জাতীয় যন্ত্রের সামনে বসানো হলো।অর্ক এবার শুনতে পাচ্ছিলো তাদের যন্ত্র থেকে বের হওয়া শব্দ গুলো অনুবাদ হয়ে আসছে। শব্দ গুলো ছিল" ইয়ং চং পি মং চি তাজং ইন্তি হাঁচি টা পা কংচং যাবাত্তা" অনুবাদ হয়ে শোনা যাচ্ছে আমরা তোমাদের গ্রহের জীব না আমরা পৃথিবী থেকে ৮০০ আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত তাজং নামক গ্রহের জীব। এরপর অনর্গল শব্দ অনুবাদ হয়ে আসছিল। আমরা গবেষণা করার জন্য এই গ্রহে এসেছি কিন্তু আমাদের সিগনাল সমস্যা হয়ে আমরা এই জঙ্গলে আটকে পড়েছি আমাদের সসার যান কাজ করছে না। আমাদের যন্ত্রের সামান্য সমস্যা হচ্ছে। আমরা আমাদের গ্রহে সিগনাল পাঠানোর চেষ্টা করছি দ্রুত আমরা সফল হয়ে আমাদের গ্রহে ফেরত যাবো। তোমরা আমাদের কাছে এখন বন্ধী। আমরা এই গ্রহের নমুনা হিসেবে তোমাদের আমাদের গ্রহে নিয়ে যাবো যাতে আমরা তোমাদের গ্রহ সম্পর্কে গবেষণা করতে পারি।তাই তোমরা কোন চালাকি না করে চুপচাপ এখানে থাকো।আর চালাকি করে ও কোন লাভ হবে না আমরা তোমাদের পুরো শরীর অবশ করে দিয়েছি এই যন্ত্র দিয়ে। তোমরা সব কিছু দেখতে পাবে শুনতে পাবে কিন্তু কিছু বলতে পারবেনা এবং চলাফেরা ও করতে পারবে না।
চলবে....................