Straight Path To Allāh

Straight Path To Allāh

Share

Guide Us To The Straight Way.

31/05/2026

রিজিক ও পেরেশানি দূর করতে সূরা ইয়াসিনের ১০টি প্রভাববিস্তারী আয়াত🌸🌸

​আপনি কি কখনো অনুভব করেছেন জীবনটা যেন এক জায়গায় আটকে গেছে? রিজিকের সংকট, মনের ভেতরে এক অদ্ভুত অশান্তি, আর চারপাশ থেকে চেপে ধরা হতাশা—কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না?
​সূরা ইয়াসিনকে বলা হয় 'কুরআনের হৃদয়'। এই সূরায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন। আসুন, সঠিক উচ্চারণ ও অর্থসহ এই ১০টি আয়াতের আলোয় জীবনের পেরেশানি দূর করার উপায়গুলো খুঁজে নিই।

​🧠 বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্ব কী বলছে?
​আধুনিক গবেষণা বলছে, মানুষের মানসিক পেরেশানির সবচেয়ে বড় কারণ হলো "অনিশ্চয়তার ভয়" (Fear of Uncertainty)। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যারা জীবনে একটি উচ্চতর উদ্দেশ্য বা ঐশ্বরিক বিশ্বাসের আশ্রয় নেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মাঝেও অনেক বেশি মানসিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অনুভব করেন। (Park, C.L., 2005, Psychological Bulletin)
কুরআন আজ থেকে চৌদ্দশো বছর আগেই মানুষের অন্তরে সেই বিশ্বাসের মজবুত ভিত্তি গেঁথে দিয়েছে।

​📖 সূরা ইয়াসিনের ১০টি জীবনবদলানো আয়াত:
​১. সরল পথ ও মানসিক স্থিরতার নিশ্চয়তা
​আরবি: وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ ۝ إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ۝ عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
উচ্চারণ: ওয়াল কুরআনিল হাকীম। ইন্নাকা লামিনাল মুরসালীনা। ‘আলা সিরাাতিম মুস্তাকীম।
অর্থ: "প্রজ্ঞাময় কুরআনের শপথ। নিশ্চয়ই তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত। সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ২-৪

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: পেরেশানির সবচেয়ে বড় কারণ হলো দিকহীনতা। আমি কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি—এই উত্তর না জানলে জীবন অর্থহীন মনে হয়। আল্লাহ শপথ করে বলছেন, এই কুরআন আপনাকে সরল পথ দেখাবে।

​২. মৃতকে জীবিত করার ক্ষমতা ও রিজিকের নিশ্চয়তা
​আরবি: إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ۚ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُّبِينٍ
উচ্চারণ: ইন্নাা নাহনু নুহয়িল মাওতা ওয়া নাকতুবু মা ক্বাদ্দামূ ওয়া আাছা রাহুম; ওয়া কুল্লা শাইয়িন আহসাইনাহু ফী ইমাামিম মুবীন।
অর্থ: "নিশ্চয়ই আমি মৃতকে জীবিত করি এবং তারা যা আগে পাঠিয়েছে ও যা পেছনে রেখে গেছে তা লিখে রাখি। আর প্রতিটি জিনিস আমি সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করে রেখেছি।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ১২

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: যিনি মৃত ও শুষ্ক অস্তিত্বে প্রাণ দিতে পারেন, আপনার থমকে যাওয়া জীবনে বরকত ও রিজিকের ব্যবস্থা করা কি তাঁর জন্য কঠিন? আপনার প্রতিটি ভালো কাজ ও কষ্ট আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে।

​৩. বন্ধ দুয়ার খোলার এক জীবন্ত নিদর্শন
​আরবি: وَآيَةٌ لَّهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ
উচ্চারণ: ওয়া আয়াতুল লাহুমুল আরদুল মাইতাতু, আহইয়াইনাহাা ওয়া আখরাজনাহু মিনহাা হাব্বান ফামিনহু ইয়া’কুলূন।
অর্থ: "আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো মৃত জমিন। আমি তাকে জীবিত করি এবং তা থেকে শস্য বের করি। তা থেকেই তারা আহার করে।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৩

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: মরুময় বা মৃত জমিন থেকে আল্লাহ যদি সবুজ শস্য ফলাতে পারেন, তবে আপনার জীবনের বন্ধ হয়ে যাওয়া উপার্জনের পথগুলোকেও তিনি নতুন করে সজীব করে তুলতে পারেন।

​৪. অফুরন্ত নেয়ামত ও কৃতজ্ঞতার তাগিদ
​আরবি: وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فهَا مِنَ الْعُيُونِ ۝ لِيَأْكُلُوا مِن ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ ۖ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
উচ্চারণ: ওয়া জা’আলনা ফীহা জান্নাতিম মিন নাখীলিওঁ ওয়া আ’নাবিওঁ ওয়া ফাজ্জারনাা ফীহা মিনাল ‘উয়ূন। লিইয়া’কুলূ মিন ছামারিহী ওয়া মা ‘আমিলাতহু আইদীহিম; আফালা ইয়াশকুরূন।
অর্থ: "আর আমি সেখানে খেজুর ও আঙুরের বাগান তৈরি করেছি এবং তাতে ঝরনা প্রবাহিত করেছি। যাতে তারা তার ফল খেতে পারে, অথচ তা তাদের হাত তৈরি করেনি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৪-৩৫

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: রিজিকের পেরেশানি কমানোর প্রথম শর্ত হলো 'শুকরিয়া' বা কৃতজ্ঞতা। যা পাননি তা নিয়ে না ভেবে, যা আছে তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলুন। কৃতজ্ঞতাই নিয়ামত বাড়িয়ে দেয়।

​৫. আল্লাহর দয়া ও আমাদের উদাসীনতা
​আরবি: وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ
উচ্চারণ: ওয়া মা তা’তীয়িম মিন আয়াতিম মিন আয়াতী রাব্বিহিম ইল্লাা কানূ ‘আনহা মু’রিদ্বীন।
অর্থ: "আর তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর মধ্য থেকে এমন কোনো নিদর্শন তাদের কাছে আসে না, যা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় না।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৪৬

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: জীবনের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি আসলে আল্লাহর দিকে ফেরার এক একটি সংকেত বা নিদর্শন। সংকটে বিচলিত না হয়ে আমাদের উচিত আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং নিজেদের শুধরে নেওয়া।

​৬. মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খলতা ও আপনার নির্ধারিত রিজিক
​আরবি: وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
উচ্চারণ: ওয়াশ শামসু তাজরী লিমুস্তাক্বাররিল লাহা যালিকা তাক্বদীরুল ‘আযীযিল ‘আলীম।
অর্থ: "আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে চলছে। এটি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর সুনির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৩৮

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: কোটি কোটি বছর ধরে সূর্য যদি এক চুলও এদিক-ওদিক না হয়ে আল্লাহর নিয়মে চলতে পারে, তবে আপনার জন্য নির্ধারিত রিজিকও সঠিক সময়ে আপনার কাছে পৌঁছাবে। আল্লাহর সুনিপুণ পরিকল্পনায় ভরসা রাখুন।

​৭. অসম্ভবকে সম্ভব করার অসীম ক্ষমতা (কুন-ফায়াকুন)
​আরবি: إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ
উচ্চারণ: ইন্নামা আমরুহূউ ইযা আরাদ্দা শাইয়ান আই ইয়াক্বূলা লাহূ কুন ফাইয়াকুন।
অর্থ: "তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর আদেশ কেবল এই যে, তিনি বলেন ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৮২

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: আপনার কাছে যা পাহাড়সম সমস্যা, আল্লাহর কাছে তা কেবল একটি শব্দের ব্যাপার—'কুন' (হও)। তাই মানুষের কাছে হাত না পেতে, অসম্ভবকে সম্ভবকারী আল্লাহর কাছে চান।

​৮. নিঃসঙ্গতা ও কষ্টের একমাত্র সাক্ষী
​আরবি: فَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ ۘ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
উচ্চারণ: ফালা ইয়াহযুনকা ক্বওলুহুম; ইন্না না’লামু মা ইউসিররুনা ওয়া মা ইউ’লিনূন।
অর্থ: "সুতরাং তাদের কথা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। নিশ্চয়ই আমি জানি যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৭৬

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: সংকটের সময় মানুষের সমালোচনা বা অবহেলা আমাদের অনেক বেশি কষ্ট দেয়। আল্লাহ সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, তিনি আপনার ভেতরের কান্না ও বাইরের পরিস্থিতি সব জানেন। আপনি একা নন!

​৯. সংকটের মহাসমুদ্রে নিরাপদে পারাপারের ব্যবস্থা
​আরবি: وَآيَةٌ لَّهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ ۝ وَخَلَقْنَا لَهُم مِّن مِّثْلِهِ مَا يَرْكَبُونَ
উচ্চারণ: ওয়া আয়াতুল লাহুম আন্না হামালনা যুররিয়্যাতাহুম ফিল ফুলকিল মাশহূন। ওয়া খালাক্বনা লাহুম মিম মিছলিহী মা ইয়ারকাবূন।
অর্থ: "আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তানদের বোঝাই নৌযানে আরোহণ করিয়েছি। এবং তাদের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৪১-৪২

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: উত্তাল সমুদ্রের বুক চিরে আল্লাহ যেভাবে মানুষকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, ঠিক তেমনি আপনার জীবনের সমস্যার মহাসমুদ্র পার করার দায়িত্বও তাঁর।

​১০. চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব ও ভরসার শেষ আশ্রয়
​আরবি: فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
উচ্চারণ: ফাসুবহানাল্লাযী বিয়াদিহী মালাকূতু কুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া ইলাইহি তুরজা’ঊন।
অর্থ: "অতএব পবিত্র ও মহান তিনি, যাঁর হাতে প্রতিটি বিষয়ের সার্বভৌম কর্তৃত্ব আর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।"
📖 রেফারেন্স: সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৮৩

​💡 জীবনবদলানো বার্তা: সূরার শেষ আয়াতের মূল শিক্ষা—সবকিছুর চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত আল্লাহর হাতে। যখন পুরো দুনিয়া আপনার বিপক্ষে যাবে, তখনো এই বিশ্বাস রাখুন যে, চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক আপনার রব।

​💬 হাদিসের আলো:
​রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সূরা ইয়াসিন কুরআনের হৃদয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রেখে এটি পাঠ করবে, তার অতীত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২০৩৬৩; দারেমী)
(নোট: হাদিসটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মাঝে কিছু পর্যালোচনা থাকলেও فضائل الأعمال বা আমলের ফজিলতের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সমাদৃত।)

​🎯 আজকের দিনের মূল শিক্ষা:
​সূরা ইয়াসিন শুধু সুর করে পড়ার জন্য নয়, এটি অন্তরে অনুধাবন করার জন্য। জীবনের গতি থমকে গেলে, পকেট শূন্য হলে কিংবা মন বিষণ্ণতায় ভরে উঠলে এই আয়াতগুলোর ওপর গভীর 'তাওয়াক্কুল' বা ভরসা রাখুন। আল্লাহ আমাদের জীবনের সব পেরেশানি দূর করে দিন এবং হালাল রিজিকের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিন। আমীন।

​📌 আপনার পরিচিত কেউ কি বর্তমানে ক্যারিয়ার, রিজিক বা মানসিক অশান্তি নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন? পোস্টটি আপনার ওয়ালে শেয়ার করে বা তাকে মেনশন করে পৌঁছে দিন এই আসমানী সান্ত্বনা। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কারো নিভে যাওয়া আশার প্রদীপ আবার জ্বালিয়ে দিতে পারে।

​ #সূরা_ইয়াসিন #রিজিকের_পেরেশানি #কুরআনের_আলো #আল্লাহর_উপর_ভরসা #ইসলামিক_পোস্ট #মানসিক_প্রশান্তি #বরকত

26/04/2026

সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত — ৫টা দোয়া, ৫টা বোঝা থেকে মুক্তি

মাত্র ২টা আয়াত।

কিন্তু নবীজি ﷺ বলেছেন — "যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়বে, এটাই তার জন্য যথেষ্ট।" (সহীহ বুখারী: ৫০০৯)

"কাফাতাহু" — যথেষ্ট। সব বিপদ থেকে, সব শয়তানি থেকে, সব অনিষ্ট থেকে — যথেষ্ট।

২টা আয়াত — আর সারারাতের সুরক্ষা।

কিন্তু আমরা কি জানি — এই ২ আয়াতে ৫টা আলাদা দোয়া লুকিয়ে আছে? ৫টা ভিন্ন বোঝা থেকে মুক্তির আকুতি? ৫টা ভিন্ন সমস্যার সমাধান?

আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয়? এই ২ আয়াত আল্লাহ সরাসরি আরশের নিচের ভান্ডার থেকে দিয়েছেন — কোনো ফেরেশতার মাধ্যমে না।

নবীজি ﷺ বলেছেন — "আমাকে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত আরশের নিচের ভান্ডার থেকে দেওয়া হয়েছে। আমার আগে কোনো নবীকে এটা দেওয়া হয়নি।" (মুসনাদে আহমাদ: ১৭৩৪০)

আরশের নিচের ভান্ডার! এত মর্যাদা এই ২ আয়াতের!

আজ এই ২ আয়াতের ভেতরের ৫টা দোয়া আলাদা করে দেখবো — আর বুঝবো, কোন দোয়া কোন বোঝা থেকে মুক্তি দেয়।

---

দোয়া ১: আমরা শুনলাম ও মানলাম — যখন দ্বীন মানতে কষ্ট হয়

প্রথম আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের ঘোষণা তুলে ধরেছেন —

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا

উচ্চারণ: আমানার রাসুলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মুমিনুন, কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া কালু সামিনা ওয়া আতানা।

"রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনরাও। সবাই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূলদের ওপর ঈমান এনেছে — আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে — আমরা শুনলাম ও মানলাম।"
(সূরা বাকারা: ২৮৫)

"সামিনা ওয়া আতানা" — শুনলাম আর মানলাম।

এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ আগের উম্মতরা বলেছিল — "সামিনা ওয়া আসাইনা" — শুনলাম কিন্তু মানবো না। (সূরা বাকারা: ৯৩)

আমাদের উম্মত বলে — "শুনলাম আর মানলাম।" বুঝি বা না বুঝি, সহজ হোক বা কঠিন হোক — আল্লাহ বলেছেন মানে মেনে নিলাম।

এই ঘোষণা কী শেখায়?

দ্বীনের কোনো বিষয়ে যখন কষ্ট হয় — হিজাব কঠিন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কঠিন, হালাল রিজিক কঠিন, সুদ ছাড়া কঠিন — তখন বলুন "সামিনা ওয়া আতানা।" বোঝার আগেই মেনে নিন। কারণ আল্লাহর হুকুম মানতে "বোঝা" শর্ত না — "ঈমান" শর্ত।

---

দোয়া ২: সাধ্যের বেশি বোঝা দেবেন না — যখন জীবনের চাপ সহ্য হচ্ছে না

দ্বিতীয় আয়াতে ৫টা দোয়ার প্রথমটা —

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا

উচ্চারণ: লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা।

"আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বেশি বোঝা চাপান না।"
(সূরা বাকারা: ২৮৬)

এটা দোয়া না — এটা আল্লাহর ঘোষণা। আর এই ঘোষণাই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।

আপনি এখন যে কষ্টে আছেন — চাকরি হারানো, সংসারের চাপ, ঋণের বোঝা, রোগের যন্ত্রণা, সম্পর্কের ভাঙন — আল্লাহ বলছেন, এটা আপনার সাধ্যের মধ্যেই। আপনি পারবেন। আল্লাহ এমন কিছু দেননি যা আপনি সহ্য করতে পারবেন না।

মনে হচ্ছে "আর পারি না"? আল্লাহ বলছেন — "পারবে। কারণ আমি তোমার সাধ্যের বেশি দিইনি।"

তারপর দোয়া শুরু হয় —

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

উচ্চারণ: রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসীনা আও আখতানা।

"হে আমাদের রব, ভুলে গেলে বা ত্রুটি হলে আমাদের ধরবেন না।"

---

দোয়া ৩: ভুলে গেলে বা ত্রুটি হলে ধরবেন না — যখন অনিচ্ছায় ভুল হয়ে যায়

আমরা পারফেক্ট না। ভুল হয়। ভুলে যাই। অনিচ্ছায় গুনাহ হয়ে যায়।

নামাজে ভুল হয়ে যায়। রোজায় ভুলে পানি খেয়ে ফেলি। রাগের মাথায় কিছু বলে ফেলি। কারো হক নষ্ট করে ফেলি — বুঝতেও পারি না।

এই দোয়া বলছে — "ইয়া আল্লাহ, আমি ভুলে গেলে বা অনিচ্ছায় ভুল করলে — আমাকে ধরবেন না।"

আর আল্লাহ কী বললেন? নবীজি ﷺ বলেছেন — যখন মুমিনরা এই দোয়া করলো, আল্লাহ বললেন — "কাদ ফাআলতু" — "করলাম।" (সহীহ মুসলিম: ১২৬)

আল্লাহ নিজে বললেন — "করলাম।" মানে মঞ্জুর। ভুলে গেলে ধরবো না। অনিচ্ছায় ত্রুটি হলে শাস্তি দেবো না।

কী অসাধারণ রহমত! আমরা দোয়া করছি — আর আল্লাহ সাথে সাথে বলছেন — "কবুল।"

---

দোয়া ৪: আগের উম্মতের মতো কঠিন বোঝা দেবেন না — যখন দ্বীন ভারী লাগে

رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا

উচ্চারণ: রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা।

"হে আমাদের রব, আমাদের ওপর সেই বোঝা চাপাবেন না যা আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়েছিলেন।"

আগের উম্মতদের ওপর কেমন বোঝা ছিল? তাওবা করতে হলে নিজেকে হত্যা করতে হতো। কাপড়ে নাপাকি লাগলে কেটে ফেলতে হতো। গুনাহ করলে দরজায় লিখে দেওয়া হতো। শনিবার কাজ করা নিষেধ ছিল।

কিন্তু আমাদের? তাওবা করতে শুধু "আসতাগফিরুল্লাহ" বলতে হয়। কাপড় ধুয়ে ফেললেই পবিত্র। পুরো পৃথিবী মসজিদ। যেখানে ইচ্ছা নামাজ পড়া যায়।

আর আল্লাহ কী বললেন? "কাদ ফাআলতু" — "করলাম।" (সহীহ মুসলিম: ১২৬)

দ্বীন সহজ করে দিয়েছেন। কঠিন করেননি।

এই দোয়া কী শেখায়?

যখন মনে হয় "দ্বীন কঠিন" — মনে করুন, আগের উম্মতের কতটা কঠিন ছিল। আমাদের দ্বীন সহজ — কারণ এই দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন।

---

দোয়া ৫: আমাদের ক্ষমা করুন, দয়া করুন, আর শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন

رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

উচ্চারণ: রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহ, ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা, আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরীন।

"হে আমাদের রব, আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপাবেন না যা বহন করার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমাদের মাফ করুন, ক্ষমা করুন, দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক — কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।"
(সূরা বাকারা: ২৮৬)

এই শেষ অংশে ৪টা চাওয়া একসাথে —

"ওয়াফু আন্না" — মাফ করুন (ছোট ভুল মুছে দিন)
"ওয়াগফিরলানা" — ক্ষমা করুন (বড় গুনাহ ঢেকে দিন)
"ওয়ারহামনা" — দয়া করুন (রহমত ঢেলে দিন)
"ফানসুরনা" — সাহায্য করুন (শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় দিন)

আর "আনতা মাওলানা" — আপনিই আমাদের মাওলা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের সবকিছু। এটা পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

আল্লাহ কী বললেন? "কাদ ফাআলতু" — "করলাম।"

৫টা দোয়া। ৫ বার আল্লাহ বলেছেন — "করলাম।" কোনো "হয়তো" নেই। কোনো "দেখি" নেই। সরাসরি — "করলাম।"

---

৫টা দোয়া — এক নজরে

দোয়া ১ — দ্বীন মানতে কষ্ট হয়?
"সামিনা ওয়া আতানা" — শুনলাম ও মানলাম।

দোয়া ২ — জীবনের চাপ সহ্য হচ্ছে না?
"লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা" — সাধ্যের বেশি দেননি।

দোয়া ৩ — অনিচ্ছায় ভুল হয়ে যায়?
"রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসীনা আও আখতানা" — আল্লাহ বললেন "করলাম।"

দোয়া ৪ — দ্বীন ভারী লাগে?
"রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান" — আল্লাহ বললেন "করলাম।"

দোয়া ৫ — ক্ষমা, দয়া ও সাহায্য চান?
"ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা ফানসুরনা" — আল্লাহ বললেন "করলাম।"

প্রতিটা দোয়ায় আল্লাহর একই উত্তর — "কাদ ফাআলতু" — করলাম। কুরআনে আর কোথাও এমন নেই যে দোয়ার সাথে সাথে আল্লাহ "করলাম" বলেছেন। এটা এই ২ আয়াতের বিশেষ মর্যাদা।

শুধু এই ২ আয়াত না — কুরআনের পাতায় পাতায় এরকম শত শত দোয়া ছড়িয়ে আছে। রিজিকের দোয়া, শিফার দোয়া, সন্তানের দোয়া, ক্ষমার দোয়া, জান্নাতের দোয়া — প্রতিটা সমস্যার জন্য আল্লাহ নিজেই শিখিয়ে দিয়েছেন কী বলতে হবে। কোন নবী কোন মুহূর্তে কী দোয়া করেছিলেন, কীভাবে আমল করবেন — এসব আরও বিস্তারিতভাবে, গুছিয়ে, হাতে রাখার মতোভাবে জানতে চাইলে "কুরআনের বরকতময় দোয়া" বইটি আপনার উপকারে আসতে পারে। সেখানে ১২৭টিরও বেশি কুরআনি দোয়া আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ সাজানো আছে।

মনে রাখবেন!

২টা আয়াত। আরশের নিচের ভান্ডার থেকে দেওয়া। আগে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। আর এই ২ আয়াতের প্রতিটা দোয়ায় আল্লাহ বলেছেন — "কাদ ফাআলতু" — করলাম।

আর নবীজি ﷺ বলেছেন — রাতে এই ২ আয়াত পড়লে "যথেষ্ট।"

তাহলে আজ রাতে ঘুমানোর আগে কি পড়বেন?

মাত্র ১ মিনিট। ২টা আয়াত। কিন্তু আল্লাহর ৫ বার "করলাম" এর গ্যারান্টি।

জীবনের চাপ সহ্য হচ্ছে না? "লা ইউকাল্লিফ" পড়ুন — সাধ্যের বেশি দেননি।
ভুল হয়ে গেছে? "লা তুআখিযনা" পড়ুন — আল্লাহ বলেছেন "করলাম।"
ক্ষমা চান? "ওয়াফু আন্না" পড়ুন — আল্লাহ বলেছেন "করলাম।"

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত প্রতি রাতে পড়ার তাওফিক দিন। জীবনের বোঝা হালকা করুন। ভুলে ক্ষমা করুন। দয়া করুন। আর শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন। আমিন।

আপনি কি প্রতি রাতে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়েন?
কমেন্টে বলুন — "আজ রাত থেকে শুরু করবো"

রেফারেন্স:
— সূরা বাকারা: ২৮৫-২৮৬
— সহীহ বুখারী: ৫০০৯
— সহীহ মুসলিম: ১২৬
— মুসনাদে আহমাদ: ১৭৩৪০

__ সংগৃহীত

👉 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে ইসলামের আলোচনা কে ফলো দিয়ে রাখুন!

19/04/2026

আল্লাহর একটি নাম হলো আল-ওয়াদুদ। এটি সূরা বুরুজে এসেছে। "ওয়া হুয়াল গাফুরুল ওয়াদুদ।" তিনি হলেন গাফুর এবং ওয়াদুদ। গাফুর অর্থ— অত্যন্ত ক্ষমাশীল। আর ওয়াদুদের বাংলা অনুবাদ করা হয়— প্রেমময়। তাহলে আয়াতটির অর্থ হলো, "আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, প্রেমময়।"

আল-ওয়াদুদ নামটি নির্গত হয়েছে ক্রিয়াপদ 'ওদ্দা' থেকে। 'ওদ্দা' ক্রিয়াপদের অর্থ, ভালোবাসা। কিন্তু, এটা যে কোনো ধরণের ভালোবাসার নাম নয়। আমরা সবাই জানি, আরবিতে ভালোবাসা প্রকাশে প্রধান শব্দ হলো মাহাব্বা এবং হুব।
আমাদের স্কলাররা বলেছেন, আরবি শব্দ 'হুব' বা 'মাহাব্বা' যে কোনো ধরনের ভালোবাসার জন্য ব্যবহার করা যাবে। এটি ভালোবাসার জন্য ব্যবহৃত সবচে সাধারণ শব্দ। কিন্তু 'উদ' (ওয়াদুদের মূল শব্দ) শব্দটি খুবই নির্দিষ্ট ধরণের কিছু ভালোবাসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 'উদ' হলো বিশেষ ধরণের ভালোবাসা।

'উদ' এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, যার জন্য আপনার এই ভালোবাসা রয়েছে আপনি তার উপকার করতে চাইবেন। এছাড়াও এটি হলো সযত্নে লালন করতে চাওয়ার ভালোবাসা। এ জন্যই শব্দটি দিয়ে সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়। এটি একটি মমতাময়ী ভালোবাসা।

অধিকন্তু, এই শব্দটির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো— ওদ্দা, ইয়াঅদ্দু, মাওয়াদ্দা ক্রিয়াপদ দ্বারা কখনো রোমান্টিক এবং ইন্দ্রিয়গত ভালোবাসার প্রতি ইঙ্গিত করা হয় না। অন্যদিকে 'মাহাব্বা' শব্দটির রোমান্টিক অর্থ থাকার কথা সবাই জানে। কিন্তু, 'মাওয়াদ্দা' শব্দটির কোনো রোমান্টিক অর্থ নেই। এটি একটি পবিত্র ভালোবাসা। এটি এমন ভালোবাসা যা থাকলে আপনি ভালোবাসার মানুষটির উপকার করতে চাইবেন।

এছাড়াও আমাদের কিছু কিছু ভাষাবিদ বলেছেন, মাওয়াদ্দা শব্দটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, আপনি ভালোবাসার মানুষটির সাথে থাকতে চাইবেন। আপনার আকাঙ্ক্ষা বা ব্যাকুলতা রয়েছে ঐ মানুষটির সাথে থাকার; হয় তার কথা সবসময় মনে করবেন নতুবা তার কাছাকাছি থাকবেন।

'উদ' এবং 'মাহাব্বা' এর মাঝে আরেকটি পার্থক্য হলো, আমাদের স্কলাররা বলেছেন, 'মাহাব্বা' থাকে অন্তরে। কিন্তু, ভালোবাসা যখন কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তখন তার নাম হলো 'উদ'। তো, আল্লাহর ভালোবাসা আমাদের প্রতি দয়া করার মাধ্যমে স্পষ্টরূপে প্রমাণিত; এটা শুধু বিমূর্ত ধারণা নয়। অন্যদিকে, মাহাব্বা হয়তো কারো অন্তরে থাকে, কিন্তু কখনো এর প্রকাশ ঘটে না। তাহলে 'উদ'—যেখান থেকে ওয়াদুদ নামটি এসেছে— হলো এমন বিশেষ ধরণের ভালোবাসা যা আল্লাহ্‌ আমাদের প্রতি করুণা করার মাধ্যমে প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে, কোনো কাজের মাধ্যমে মাহাব্বার প্রকাশ নাও ঘটতে পারে।

ওয়াদুদ নামটি যখন আল্লাহর জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন এর দুইটি অর্থ আছে। এক নাম্বার, যিনি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান। দুই নাম্বার, যার প্রতি ভালোবাসা দেখানো হয়।

তাহলে এক নাম্বার— যিনি ভালোবাসা দেখান। আর দুই নাম্বার— যাকে ভালোবাসা হয়। আল্লাহ্‌ হলেন ওয়াদুদ এই অর্থে যে, তিনি সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা দেখান। আবার আল্লাহ্‌ হলেন ওয়াদুদ এই অর্থেও যে, সৃষ্টি বা অন্ততপক্ষে ধার্মিক সৃষ্টি তাঁকে ভালোবাসে।

এটা একটা ইন্টারেস্টিং নাম এ কারণেও যে, দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু অমুসলিমদের মাঝে একটা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, কুরআনের গড ভালোবাসার গড নয়। তোমাদের প্রভু, মুসলমানদের প্রভু ভালোবাসার প্রভু নয়। আর এ কথা একেবারেই অসত্য। কারণ, আল্লাহর একটা নামই হলো 'ভালোবাসা'। আল্লাহর ৯৯ টি গৌরবময় নামের একটির অর্থই হলো, ভালোবাসা। যিনি ভালবাসেন এবং যাকে ভালোবাসা হয়। আল-ওয়াদুদ, যিনি ভালোবাসা দেখান এবং আল-ওয়াদুদ, যাকে ভালোবাসা হয়।

তাহলে, প্রথম অর্থ, যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি ভালোবাসা দেখান। এর মানে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের ভালো চান। ইবনে কাইয়েম মন্তব্য করেছেন, দাসরা তাদের মনিবকে ভালবাসবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কোনো সৃষ্টির তার প্রভুকে— যিনি তাদের সবকিছুর যত্ন নিয়ে থাকেন— ভালোবাসাটা অদ্ভুত কিছু নয়। কারণ, মনিব তাদের সকল প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। বা কোনো মালিক তার প্রাণীর যত্ন নিচ্ছেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হলো, যখন সৃষ্টিকর্তা— যার কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই— তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও সৃষ্টি সৃষ্টিকর্তার কোনো উপকার করতে সক্ষম নয়। এটাই আল-ওয়াদুদের অর্থ।

আল্লাহ্‌ সৃষ্টিকে ভালবাসেন যদিও এই ভালোবাসার জন্য কোনো স্বার্থপর কারণ নেই। আমরা ভালোবাসি কারণ, সবসময় আমরা কিছু না কিছু পাবোই। আমরা টাকা ভালোবাসি। আমরা আরাম ভালোবাসি। আমরা পানি ভালোবাসি। আমরা খাদ্য ভালোবাসি। আমরা আমাদের বাচ্চাদের ভালোবাসি। আমরা ভালোবাসি...আমরা ভালবাসি...আমরা ভালোবাসি।

আমরা জিনিসগুলো ভালোবাসি কারণ এগুলো আমাদের উপকার করে। প্রতিটি ভালোবাসার ক্ষেত্রে স্বার্থপর কারণ রয়েছে। কিন্তু, আল্লাহর ভালোবাসা স্বার্থহীন। কারণ, আমাদেরকে আল্লাহর প্রয়োজন নেই। তাঁকে আমাদের প্রয়োজন। আল্লাহ্‌ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে আমাদের প্রয়োজন। তাঁর আমাদেরকে একটুও প্রয়োজন নেই।

আল্লাহ্‌ আজ্জা ওয়া জাল্লা কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এই ভালোবাসা এবং করুণা প্রদর্শনের জন্য। এটি একটি কুরআনীয় ধারণা। আল্লাহ্‌ কুরআনে বলেছেন, اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ رَبُّکَ ؕ وَ لِذٰلِکَ خَلَقَهُمۡ - "তবে যাদেরকে তোমার রব দয়া করেছেন, তারা ছাড়া। আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।" (১১:১১৯)

অতএব, আল্লাহ্‌ সৃষ্টি জগতকে সৃষ্টি করেছেন...ডিফল্ট নিয়ম হলো, আল্লাহ্‌ সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখাবেন। কিন্তু, কিছু কিছু সৃষ্টি সেই দয়া প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু কিছু সৃষ্টি আল্লাহকে অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু কিছু সৃষ্টি পাপের মাঝে ডুবে থেকে জীবন অতিবাহিত করতে চায়। আর তাদের কাজ অনুযায়ী তাদের সাথে আচরণ করা হবে।

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা কখনই আমাদের ক্ষতি করবে না। ইবনে তাইমিয়া (র) বলেন: কোন সৃষ্টিগত বস্তুর প্রতি এমন কোন ভালোবাসা নেই যে ভালোবাসা অবশেষে আপনাকে কষ্ট না দিয়ে ছাড়বে না। ( সৃষ্টির প্রতি যে কোন ভালোবাসাই একদিন কষ্ট দিয়ে বসে।)

এখানে একটু থামুন। এটা অতি সত্য একটি কথা। ইবনে তাইমিয়া একজন অসাধারণ সাইকোলজিস্ট ছিলেন। চিন্তা করে দেখুন একবার। কোন জিনিসটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়? আপনার সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার জিনিসটি, যখন এটি নিয়ে যাওয়া হয় বা কখনো কখনো সেই জিনিসটি নিজেই আপনাকে কষ্ট দিয়ে বসে।

বাস্তবতা হল, সবচেয়ে কষ্টদায়ক সমস্যাগুলো আসে পরিবার থেকে। দাম্পত্য কলহ, ছেলে-মেয়ের সমস্যা, পিতা-মাতার সমস্যা। কেন? কারণ আপনি তাদের ভালবাসেন।
ইবনে তাইমিয়া এ কথাই বলছেন ... পার্থিব এমন কোন ভালোবাসা নেই, যে ভালোবাসা অবশেষে আপনাকে দংশন না করে ছাড়বে না।
কিন্তু এমন একটি ভালোবাসা আছে যা কখনো কোনদিন আপনাকে দংশন করবে না, সেই ভালোবাসা হলো আল্লাহর ভালোবাসা।

— ড. ইয়াসির কাদির আলোচনা থেকে

16/04/2026

৬ জিনিস আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাইবেন!!

আল্লাহ তাআলারর দয়া অসীম। তিনি তাঁর সৃষ্টিকূলের প্রতি বড়ই মেহেরবান। চাইলেও তিনি দেন, না চাইলেও দেন, মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে দিয়ে তিনি ধন্য করেন। তবে, মুমিনদের জন্য শোভনীয় হলো- আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়া; যেকোনো বিষয়ে তাঁর শরণাপন্ন হওয়া। এটিই অনুগত বান্দার আদব ও বৈশিষ্ট্য। কারণ, তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কেউ কিছু অর্জন করতে পারে না, আবার তাঁর কাছে চাওয়ার জন্য তিনি আদেশ করেছেন। এতে তিনি দিতেই থাকেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (‘সুরা মুমিন: ৬০)

কোরআন-হাদিসের আলোকে আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়ার মতো ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো।

১. শারীরিক সুস্থতা—
শারীরিক সুস্থতা মহান আল্লাহর অপার নেয়ামত। আবার সুস্থ শরীর আল্লাহর দেওয়া আমানতও বটে। এই নেয়ামত ও আমানতের যথার্থ রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য। প্রিয়নবী (স.) বলেন, ‘দুইটি নেয়ামত এমন আছে, যে দুইটিতে (অবহেলার কারণে) অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর তা হলো, সুস্থতা আর অবসর সময়।’ (বুখারি: ৬৪১২)

স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে অবহেলা করা বা স্বেচ্ছায় শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। উবাদা বিন সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) ফায়সালা দেন অনুমোদিত নয় নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অন্যকেও।’ (ইবনে মাজাহ: ২৩৪০) শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো, পরিমিত আহার, শরীরচর্চা, হাসিখুশি থাকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার নির্দেশনা রয়েছে হাদিসে। (বুখারি: ৫০৮১, ৫৪৩১; আত-তারগিব: ২৬১৬; তিরমিজি: ১৩৮১; সুরা আনফাল: ৬০; মুসলিম: ২৬৬৪; তিরমিজি: ৩৬৪৮)

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি। হাদিসে বর্ণিত এরকম একটি দোয়া
হলোা- اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’ আবু দাউদ: ৫০৯০)

২. হালাল রিজিক—
ইসলামে হালাল উপার্জন জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানবজাতি। পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা হতে তোমরা খাও ও শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রু।’ (সুরা বাকারা: ১৬৮)

ইবাদত কবুল হওয়ার জন্যও হালাল উপার্জন গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে কোনও পেশাকে ছোট করা হয়নি। প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রসুল (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও পক্ষে এক বোঝা লাকড়ি সংগ্রহ করে পিঠে বহন করে নেওয়া কারো কাছে চাওয়ার চেয়ে উত্তম। কেউ দিতেও পারে, না-ও দিতে পারে।’ (বুখারি: ২০৭৪)

পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত হালাল রিজিকের একটি দোয়া হলো- اللهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ،وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু লাতিফুম বি-ইদিহি ইয়ারজুকু মাই ইয়াশায়ু ওয়া হুয়াল ক্ববিউল আজিজ।

অর্থ: আল্লাহ নিজ বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহপরায়ণ, যাকে ইচ্ছা তিনি রিজিক দেন, তিনি শক্তিশালী, পরাক্রান্ত । (সুরা আশশুরা: ১৯)

এ সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত আরেকটি দোয়া হলো- اَللّهُمَّ اكْفِنِى بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَاغْنِنِى بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম মাকফিনি-বিহালালিকা ‘আন হারামিকা ওয়াগনিনী- বিফাদ্বলিকা ‘আম্মান ওয়াকা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! হালাল কামাই যেন আমার জন্যে যথেষ্ট হয় । হারামের যেন দরকারই না হয়। আর তোমার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে অভাবমুক্ত কর, যাতে অন্য কারও মুখাপেক্ষী হতে না হয়।’ (তিরমিজি: ৩৫৬৩; মুসনাদে আহমদ: ১৩২১)

৩. নিরাপদ বাসস্থান—
নিরাপত্তা মানুষের অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। সুন্দর-স্বাধীনভাবে ইবাদত বন্দেগী করার জন্য, নিরাপদ রিজিকের জন্য, ঈমান হেফাজতের জন্য এবং বিভিন্ন রকম জুলুম থেকে বাঁচার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের বিকল্প নেই। ইবরাহিম (আ.) শিশুসন্তান ও স্ত্রীকে মরুভূমিতে রেখে যাওয়ার সময় আল্লাহর কাছে দু’হাত ‍তুলে এ দোয়া করেছিলেন- رَبَّنَا لِیُـقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ فَاجۡعَلۡ اَفۡئِدَۃً مِّنَ النَّاسِ تَهۡوِیۡۤ اِلَیۡهِمۡ وَارۡ زُقۡهُمۡ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّهُمۡ یَشۡكُرُوۡنَ

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করালাম অনুর্বর উপত্যকায় আপনার পবিত্র ঘরের কাছে; হে আমাদের প্রতিপালক! এজন্য যে তারা যেন নামাজ কায়েম করে। অতএব কিছু লোকের অন্তর তাদের অনুরাগী করে দিন এবং ফল দ্বারা তাদের জীবিকা দান করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’ (সুরা ইবরাহিম: ৩৭)

এ সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়া হলো- اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، عَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَأَنْتَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، ‌مَا ‌شَاءَ ‌اللهُ ‌كَانَ، ‌وَمَا ‌لَمْ ‌يَشَأْ ‌لَمْ ‌يَكُنْ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ، أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا، إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা আলাইকা তাওয়াক্কালতু ও আনতা রাব্বুল আরশিল আজিম, মাশাআল্লাহু কা’না, ওয়ামা লাম ইয়াশা’লাম ইয়াকুন ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যি আজিম, আলামু আন্নাল্লাহা আলা কুল্লি শাই ইন ক্বাদীর ও আন্নাল্লাহা ক্বাদ আহাতা বিকুল্লি শাই ইন ইলমা, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি নাফসি ওয়ামিন শাররি কুল্লি দাব্বাতিন; আনতা আখিজুম বিনাসিয়াতিহা ইন্না রাব্বি’আলা সিরাতিম মুস্তাকিম।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ্‌ ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া অন্যকোনো ইলাহ্‌ নাই, আপনার ওপর ভরসা করলাম, আপনি সম্মানিত আরশের মালিক। আল্লাহ তাআলা যা ইচ্ছা করেন, তাই হয়; আর তিনি যা ইচ্ছা করেন না তা হয় না, আল্লাহ তাআলার শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়া অন্যকোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই, জেনে রেখো যে আল্লাহ তাআলা সমস্ত জিনিসের উপর শক্তিশালী, ক্ষমতাবান এবং তার জ্ঞান সমস্ত জিনিসব্যাপ্ত। হে আল্লাহ! আমার নফসের মন্দ হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই এবং প্রত্যেক প্রাণীর মন্দ হতে যার ঝুঁটি আপনি ধরে রেখেছেন; নিশ্চয়ই আমার প্রভু সরল পথে অধিষ্ঠিত আছেন।’ (ইবনুস সুন্নি: ৫৭, তাবারানি, মুজামে কাবির: ৩৪৩)

৪. নেককার স্বামী-স্ত্রী—
নেককার স্বামী-স্ত্রী পৃথিবীর মহামূল্যবান সম্পদ। স্বামী বা স্ত্রী খারাপ হলে জীবনটাই নরক হয়ে যায়। এজন্য আল্লাহ তাআলার কাছে নেককার জীবনসঙ্গী চেয়ে দোয়া করার শিক্ষা রয়েছে ইসলামে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ সংক্রান্ত আরেকটি সুন্দর দোয়া হলো- ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻟِﻤَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﺖَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮٍ ﻓَﻘِﻴﺮٌ

উচ্চারণ: ‘রাব্বি ইন্নি লিমা- আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।

অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস: ২৪)

৫. নেক সন্তান—
নেক সন্তান অনেক বড় নেয়ামত। নেক সন্তান চেয়ে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত একটি দোয়া হলো- رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: ‘রব্বানা হাব্লানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুর্রিয়াতিনা কুর্রাতা আইয়ুনিও ওয়াঝআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন। যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে (পুরুষদেরকে) মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে দিন।’ (সুরা ফুরকান: ৭৪) আরেকটি সুন্দর দোয়া আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে নেক সন্তানের জন্য করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর দোয়া কবুল করেন। দোয়াটি ছিল এ রকম—‘রাব্বি হাবলি মিনাস সলিহিন।’ অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এক সুপুত্র দান করুন।’ (সুরা সাফফাত: ১০০)

৬. ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু—
একজন মুমিনের জন্য ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু সবচেয়ে বড় পাওয়া। সারাজীবন নেকআমল করে যদি কেউ ঈমানহীন হয়ে মারা যায়, তাহলে তার চেয়ে হতভাগা কেউ হতে পারে না। সেজন্য আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি ঈমানি মৃত্যু চেয়ে দোয়া করা উচিত। ঈমানি মৃত্যু চেয়ে অনেক দোয়া করা যায়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ সংক্রান্ত একটি দোয়া হলো- رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমিন।

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের ধৈর্যদান করুন এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন।’ (সুরা আরাফ: ১২৬)

09/04/2026
06/04/2026
04/04/2026

বড়িতে প্রবেশ করার সময় স্বজনদের সালাম দেয়ার হুকুম-

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Dhaka
1205