10/05/2026
ব্যাংক, বিসিএস ও অন্যান্য প্রস্তুতির শ্রেণীবিভাগ ও এতদ্ববিষয়ক অস্বস্তি!
আমার পুরো প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি যে কনফিউশান আমি দ্রুত এড়াতে পেরেছি বলে আমার জন্য ভালো হয়েছে তা হলো "বিসিএস প্রস্তুতি নাকি ব্যাংক প্রস্তুতি" সংক্রান্ত সৃষ্ট কনফিউশান। বিশ্বাস করেন এরকম প্রিপারেশন বলে কিছু নাই। প্রস্তুতি হবে প্রস্তুতির মতো এমন প্রস্তুতি যা ব্যাংক হোক, বিসিএস হোক কিংবা নন ক্যাডার এর জব হোক সব যেন কাভার হয়। আমার আশেপাশে অনেক উদাহরণ দেখেছি যারা যেমন একাধারে ব্যাংকে চাকরি পেয়েছে, তেমনি বিসিএস ক্যাডার হয়েছে আবার অন্যান্য নন ক্যাডার নবম গ্রেডের চাকরিও পেয়েছে। কিন্তু কখনো শুনিনি এটার জন্য আলাদা, ওইটার জন্য আলাদা প্রিপারেশন নিতে। আমি নিজেও বিসিএস ছাড়া একাধিক নন ক্যাডার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নবম গ্রেডের চাকরি পেয়েছি। ২০২২ সাল ভিত্তিক ব্যাংকের ভাইবায় অংশগ্রহণ করিনি। কিন্তু আলাদা করে প্রিপারেশন নেইনি। প্রস্তুতি নিয়েছি হলিস্টিকভাবে যার মাধ্যমে সব কাভার হয়েছে, যেকোন চাকরির পরীক্ষার জন্য সাফিশিয়েন্ট হয়েছে।
এতে কি হয়েছে? বিসিএস প্রস্তুতিতে একদিকে ফোকাসড ছিলাম, বাই প্রোডাক্ট হিসেবে অন্য চাকরিগুলো হয়েছে, ব্যাংকে যাব নাকি বিসিএস দিব এসব কনফিউশানে পড়তে হয়নি, প্রতিটা সার্কুলারের পর রিসেন্ট জব সলিউশন কিনতে দৌড়ানো লাগেনি, আর সর্বোপরি এক ঢিলে কম সময়ে অনেক পাখি মারা হয়েছে যার ফলে প্রস্তুতি সহজ ছিল।
এবার আসি কিভাবে হলিস্টিক প্রিপারেশন নিবেন?
আপনি জব ভিত্তিক প্রিপারেশন না নিয়ে সাব্জেক্ট ভিত্তিক প্রিপারেশন নিবেন। যে সাব্জেক্ট পড়বেন খুব ভালোভাবে পড়বেন। একটা সহজ সমীকরণ দেই-
চাকরির বাজারে যতই প্রশ্ন প্যাটার্ন কিংবা সিলেবাস চেঞ্জ হোক না কেন, মনে রাখবেন ৩ টি মৌলিক বিষয় কখনো চেঞ্জ হবেনা।
১। বাংলা
২। ইংরেজি
৩। গণিত
আপনি নিজেকে এই ৩ বিষয়ে মাস্টার করে ফেলুন। দেখবেন যেকোন চাকরিতে কোয়ালিফাই করার মতো সাহস আপনার হয়ে গেছে। স্ট্রং জোন বানিয়ে নিন। আর পিছনে ফেরা লাগবেনা।
বাকি যে সাধারণ জ্ঞান আছে তা সময়ে সময়ে সিলেবাস চেঞ্জ হয়, কখনো কখনো আসেইনা যেমন সসম্প্রতি ব্যাংকের এক্সামে বাদ দিয়েছে। আবার নন ক্যাডারে একবারেই পরীক্ষা হলে লিখিত জিকে আসে, আবার কোথাও প্রিলিতে জিকে দেয়। এই জায়গাটাতে ভ্যারিয়েশন হয়। সুতরাং সারাদিন জিকের পিছনে না ছুটে এইটাকে বিসিএস অংশে প্রস্তুতির সময় একদম ভালো করে প্রস্তুতি নিলে অন্যান্য এক্সামেও কাভার হয়ে যায়।
☞☞☞☞যেটা করবেন তা হলো?
- আগেই বলেছি বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিবেন। যেমন ধরুন বাংলা। বিসিএস এ গ্রামার ও সাহিত্য বেশি ফোকাস করা হয়। আবার আইবিএ যখন নেয় তখন মুখস্ত অংশ যেমন এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, সমার্থক শব্দ এসব আসে। আবার বিসিএস লিখিত তে গ্রামার অংশের সাথে মুখস্ত কিছু আসে। বিসিএস প্রিলিতে কারক আসেনা, কিন্তু ব্যাংক ও অন্যান্য এক্সামে আসেই। আবার ব্যাংকের প্রিলিতে গ্রামারের মুখস্ত অংশ যেমম বানান, উপসর্গ, প্রত্যয় এসব থেকে আসে।
সুতরাং, আপনি একবার কয়দিন বিসিএস এর জন্য গ্রামার পড়লেন, কয়দিন আইবিএর জন্য মুখস্ত অংসজ পড়লেন এভাবে না পড়ে বাংলা পড়ার সময় সব আইটেম ভালো করে শেষ করুন একবারে। ব্যস হয়ে গেল। আপনার এবার বিসিএস এ কোথেকে আসে, এফবিএস নিলে কেমন আসবে, আইবিএ কিংবা কলা ফ্যাকাল্টি নিলে কেমন আসবে তা ভাবা লাগবেনা। সব আইটেম ই আপনার পড়া আছে। এক্সামে বসবেন আর পাসজ করবেন।।আমি জীবনেও ফ্যাকাল্টি হিসাব বুজিনাই, আর সে অনুযায়ী পড়িওনাই। এত মাথা নষ্ট করার সময় কই ভাই?
☞এবার আসি ইংরেজিতে। বিসিএস এ গ্রামার থেকে বেশি আছে, ব্যাংক ও আইবিএ নিলে মুখস্ত পার্ট যেমন সিনোনিম, এন্টোনিম, ইডিওম ও ফ্রেইজ, প্রিপোজিশান এসব থেকে আসে। তাহলে আপনি কেন একটা আইটেম বাদ দিয়ে কিংবা আলাদা আলাদা প্রেপ নেয়ার চিন্তা মাথায় আনবেন? বিসিএস প্রস্তুতির সময় ভোকাবুলারি + গ্রামার দুইটাই ভালো করে স্ট্রং জোন বানান। এরপর কোথেকে প্রশ্ন করুক আপনার কোন চিন্তা নাই তো।এক্সামে বসবেন আর পাশ করবেন। আর এমন না যে ভোকাবুলারি শিখলে শুধু আইবিএ নিলেই কাজে লাগবে। বিসিএস সহ যেকোন লিখিত পরীক্ষায় এই ভোকাবুলারি স্টক ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং এ কাজে দিবে।।
☞ম্যাথের ক্ষেত্রে আইবিএ অলটাইম সম্পূর্ণভাবে পাটিগণিত থেকে করে।অথচ বিসিএস প্রিলি কিংবা অন্য জবের প্রিলিতে বীজগণিতের ব্যাসিক অংশ যেমন বীজগাণিতিক রাশি, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, অনুপাত, সূচক ও লগারিদম এসব থেকে আসে। আবার বিসিএস লিখিততে একটু কঠিন বীজগণিত যেমন স্থানাংক জ্যামিতি, সম্ভাবনা ও বিন্যাস, ত্রিকোণমিতি কিংবা বহুপদী সমীকরণ থেকে আসে। সুতরাং আপনি একদিক হিসেব করে প্রস্তুতি নিলে অন্যদিকে ঘাটতি রয়ে যাবে আর ধরা খেয়ে যাবেন।
☞ আপনি যখন বাংলাদেশ বিষয়াবলি পড়বেন সেটা যেমন বাংলাদেশ বিষয়াবলি তে কাজে লাগবে লিখিততে তেমনি ব্যাংক ও অন্যান্য জবের লিখিততে ফোকাস রাইটিং এ কাজে লাগবে। আমি নিজেই বিসিএস লিখিততে বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য যে নোট আর বই থেকে পড়ছি তা দিয়ে সব জবের ফোকাস চালিয়ে দিছি, আলাদা করে ফোকাস রাইটিং এর বই কিনিনি। দরকার কি প্রতিটা সার্কুলার দেয়ার সাথে সাথে ফোকাস এর টপিক আর বই খুজতে বের হওয়ার। বই কম কিনেন, পড়া স্ট্র্যাটেজিক্যালি পড়েন।।
☞আপনি বাংলা রচনা পড়ছেন, সেই তথ্য গুলো ইংরেজি রচনাতেও দিবেন আবার বাংলাদেশ বিষয়াবলি তেও দিবেন, আবার অন্য জবের ফোকাসেও দিবেন। পড়ার সময় প্রতি সার্কুলারে নোট বানালে বেকার খাটুনি হবে।।একবার পড়বেন।আমি আমার বিসিএস লিখিত প্রিপারেশন নিয়েই রচনা, ফোকাস একবারেই কাজ সেরেছি। আলাদা খাটনি করতে হয়নি প্রতিটি এক্সামের আগে।
কথায় আছে, যে চুল বাঁধতে জানে সে রাঁধতেও জানে। সুতরাং, কয়দিন পর পর এই ওই গ্রুপে হন্য হয়ে কপি পেস্ট নোটের পিছনে না ঘুরে বাসায় মৌলিক বই এর উপর জোর দিন। স্ট্র্যাটেজিক্যালি পড়ুন। একবারেই প্রস্তুতি নিন। তাহলে দ্রুত সময়ে প্রস্তুতি ও শেষ হবে এবং সহজেই প্রস্তুতি নিতে পারবেন। আর যত খাপছাড়া প্রিপারেশন নিবেন তত দেরি হবে, তত গ্যাপ থেকে যাবে প্রস্তুতিতে। আপনার শুরুর প্রস্তুতিতে ভুল হলে।এই ভুলের মাশুল গড়াবে। প্রস্তুতি হলো কাঁচা মাটির দলার মতো, কাঁচা থাকতে আকার না দিলে শক্ত হয়ে গেলে আকার দেয়া কঠিন। তখন খাদ থেকে যায়। আর দয়া করে রিজিকের চিন্তা করবেন না, ওটা সৃষ্টিকর্তার চিন্তা। আপনার কাজ পরিশ্রম, তা করে যান। আমার পেইজ লিংকঃ https://www.facebook.com/share/1J2m7TzPyR/
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ নুরের সাফা
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সুপারিশপ্রাপ্ত)
বিসিএস প্রশাসন, ৪৫তম বিসিএস
03/05/2026
২০১৮ সালের এমন এক দিনে টিএসসিতে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ। আজ ৮ বছর পর এমন দিনে ঢাবিয়ান ক্যাডার হিসেবে সংবর্ধণা গ্রহণ। জীবনে সেরা সময়গুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটিয়েছি। এই প্রাঙ্গণ আমাকে দু হাত ভরে দিয়েছে সব। কথায় আছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ সাবেক হয়না। আজ এসেছি, আরও বহুবার আসবো, হয়তো অতিথি হিসেবে মঞ্চে।
হে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়....গ্রহণ করেছ যত, ঋণী করেছ তত আমায়।
25/04/2026
#স্মৃতিচারণ
সময় ২০১৮ সাল। আমি তখন উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্র। সেই সময়ে করে ফেললাম এক বিশাল কান্ড। বাংলাদেশের বাজারে তখন সবেমাত্র আগারওয়াল এর Quantitative Aptitude অর্থাৎ সোজা বাংলায় ম্যাথের বইটা আলোচিত হচ্ছিল। আইবিএর বিবিএ, এমবিএ হতে শুরু করে ব্যাংক জবের ইংরেজি ম্যাথ গুলো হুবহু তুলে দেয়া হতো আগারওয়াল এর সেই ম্যাথ বই থেকে। এখনো তাই চলে বলেই এই বইয়ের জনপ্রিয়তা জব মার্কেটে প্রচুর। কিন্তু সমস্যা হলো আগারওয়ালের মূল বইতে ম্যাথ ছিল অগণিত। প্রায় ৫০০০+। এত বেশি ম্যাথ শেষ করা সময়সাধ্য ছিল। তার চেয়েও বেশি সমস্যা ছিল ইংরেজি ভাষায় ম্যাথ অনেক প্রার্থীর কাছে দুর্বোধ্য ছিল। কিন্তু বাজারে প্রচলিত সাইফুর্স ম্যাথ ছাড়া ইংরেজি টু বাংলা অনুবাদের কোন ম্যাথ বই ছিল না। তাই এই এডভান্স লেভের ম্যাথ বই সলভ করা অনেকের কাছেই কঠিন বাধা হয়ে ছিল তখনকার সময়ে।
আমার গুরু সুমন সেন (Achillice Barnad) এর পরামর্শে ১ম বর্ষের সেই আমি শুরু করে দিলাম আগারওয়াল থেকে বাছাইকৃত ম্যাথের বাংলা সহজ সমাধান বের করার। অসীম সাহস নিয়ে জব মার্কেটে প্রথম কোন পদচিহ্ন ছিল আমার এই বই। গুরুত্বপূর্ণ ১৫০০ ম্যাথ বাছাই করে আমি সহজ বাংলায় বিস্তারিত সমাধান দেয়ার চেষ্টা করেছি।এবং প্রতিটি ম্যাথ প্রুফরিডিং ও প্রয়োজনীয় সংযোজন করতো সুমন দাদা। টানা ৬ মাস পর আমরা বের করলাম এই বই।
২০১৮-২০১৯ সালে বাজারে আগারওয়াল এর বাংলা সমাধান এর কোন বই ছিল না আমার জানামতে। কালক্রমে পরবর্তীতে ডিসেম্বর ২০১৯ সালে Khairul's Advance Math বইটির প্রথম প্রকাশ হয়, যা আগারওয়াল এরই বাছাইকৃত ম্যাথের সংকলন বলে আপনারা জানেন। কিন্তু, তারও আগে আগারওয়াল এর বাংলা বই বের করেছিলাম আমরাই।
দাদার আরেকটি ম্যাথ বই বের করার দরুণ পরবর্তীতে বইটির আর একটি সংস্করণ বের করা হয়েছিল মার্কেটে। তাই বর্তমানে এই বই মার্কেটে স্টক আউট। কিন্তু, প্রথম বর্ষের সেই ছেলেটির স্মৃতিতে তা অম্লান।
আপনি যখন Nobody থেকে Somebody হওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ফেলেন তখন আর আপনাকে কেউ আটকাতে পারবেনা। আমার টার্নিং পয়েন্ট ছিল ইন্টারে যখন একরকম জেদের বসে আইবিএর প্রিপারেশন নিয়েছিলাম। আজকালকার আলোচিত GRE Big Book, Barron's SAT, GMAT Review, Nova GRE Math Bible, Pearson, Barron's TOEFL, Agarwal, Indiabix এসব আমার পড়া শেষ হয়ে গিয়েছিল উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়।
একরকম নিজের প্রতি জেদের বসেই😉😉
23/04/2026
#বিসিএস_প্রিলি_লিখিত_সমন্বিত_প্রস্তুতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা উক্তি আছে এমন, " আমরা আরম্ভ করি, শেষ করিনা; আড়ম্বর করি, কাজ করিনা; যাহা অনুষ্ঠান করি তাহা বিশ্বাস করিনা, যাহা বিশ্বাস করি তাহা পালন করিনা....."
৫০তম বিসিএস লিখিত শেষের পথে। গত এক বছর খুব ঘনঘন বিসিএস পরীক্ষা হয়েছে৷ ৪৬ লিখিত, ৪৭ প্রিলি লিখিত, ৪৮, ৪৯, ৫০ প্রিলি+লিখিত। মোটামুটি বিসিএস প্রার্থীদের একটা ক্লান্তিকর জার্নি ছিল।জটগুলো খুলেছে৷ এখন থেকে এক বছরে এক বিসিএস হবে। অর্থাৎ ৫১ এর প্রিলি পেতে এক বছর অপেক্ষা করা লাগবে। এভাবে প্রতিবছর একবার প্রিলি, একবার লিখিত,একবার ভাইভা।
সুতরাং, যারা নতুন করে শুরু করবেন ভাবছেন,কিংবা আগে দিয়েছেন কিন্তু ঘন ঘন কয়েকটি বিসিএস হওয়ায় একই গতিতে সফল হতে পারেননি, তারা নড়ে চড়ে বসুন। আমাদের একটা অভাব হলো Consistency এর অভাব।আমরা লং টার্ম প্রস্তুতি নিতে চাইনা। চাই ৩০ দিনে ইংরেজি শেখা বা ২ মাসে প্রিলি পাশের টেকনিক। অথচ, এখন থেকে যে পর্যান্ত ১০ মাস আছে প্রিলির আগে এবং লিখিতের জন্য ১ বছর আছে সেই সময়ে আজকে থেকে অল্প করে শুরু করলেও আপনি এগিয়ে থাকার কথা।
কিন্তু অনেক মানুষ আছে এখনো চিন্তা করবে, গড়িমসি করবে, শুরু করবে করবে বলে হেলা করবে। এভাবেই এক বছর নষ্ট করে ২ মাস আগে এদিক সেদিক, অমুক তমুকের কাছে ধর্না দিবেন প্রিলি পাশের টেকনিক বাতানোর জন্য। এখন যেই লেভেলের প্রশ্ন হচ্ছে আপনার এতে হবেনা। তাই, টিকে থাকতে হলে ভিত্তি মজবুত করতে হবে, আর মজবুত করতে হলে লাগবে সময়। আর সময়টা এখনই।
এখন থেকে সিলেবাস এবং সময় ভাগ করে প্রিলি ও লিখিত প্রস্তুতি নিতে হবে।অল্প অল্প করে করলেও এগিয়ে থাকবেন। আমার গাইডলাইন ব্যাচ-১ এ ২ মাস ধরে নিউজপেপার ওয়ার্ক হচ্ছে। শুরুতে কষ্ট হলেও আজ ২ মাসে ৩০ দিনে ৬০ আর্টিকেল, ৬০ টি অনুবাদ হয়ে গেলো, অন্তত ৬০ পেইজ সামারি লেখা হয়ে গেলো। বাংলা সাহিত্য+ গ্রামার দুইটাই শেষ হলো। এভাবে রুটিন অনুযায়ী পড়লে দেখবেন আপনার অজান্তেই আপনার পড়া এগিয়ে গেছে।আর সময়ক্ষেপণ করবেন তো আস্তে আস্তে প্রতিদিন পিছিয়ে পড়বেন।
সুতরাং শুরু করে দিন। আর যদি নিজে নিজে রুটিন ফলো করে বেশিদিন Consistency ধরে রাখতে না পারেন তাহলে আমার গাইডলাইন কোর্সের সাথে যুক্ত হতে পারেন। কিছু মানুষকে এখানে আমি-
১। সাব্জেক ভিত্তিক সময় অনুযায়ী রুটিন করে দিচ্ছি
২। সাপ্তাহিক পড়া ও নোট করার কাজ দিচ্ছি
৩। খাতাগুলো দেখে ইম্প্রুভ করার নির্দেশনা দিচ্ছি
৪।অল্প অল্প করে রিডিং,রাইটিং ও অনুবাদ দিচ্ছি প্রতিদিন
৫। আমার যাবতীয় নোট এবং আমার কাছে থাকা অন্যান্য ম্যাটারিয়ালস দিচ্ছি।এছাড়া অন্যান্য ওপেন সোর্স থেকে কালেক্ট করা ম্যাটারিয়ালসও দিব সামনে
৬।সর্বোপরি সার্বক্ষণিক পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোন সমস্যায় পরামর্শ, নির্দেশনা বা উপদেশ দিচ্ছি যা এই প্রস্তুতির সময়ে প্রার্থীদের খুব দরকার।
১ম ব্যাচে ভর্তি ক্লোজ। ২য় ব্যাচে ভর্তি চলছে। আর কিছুদিন পর অফ করে দিব। যারা থাকবে তাদের নিয়েই আগামী দিনগুলোতে সর্বোচ্চ এফোর্ট দিব ৫১তম বিসিএস কে টার্গেট রেখে।
যারা আরো জানতে চান, কোর্সের ডিটেইলস লিংকঃ https://www.facebook.com/share/p/1BQUeSqwwE/
শুভেচ্ছান্তে,
মোঃ নুরের সাফা
সহকারী কমিশনার (সুপারিশপ্রাপ্ত)
বিসিএস প্রশাসন, ৪৫ তম বিসিএস
21/04/2026
Aerial View of 45th BCS Administration!💞
20/04/2026
☞কখন থেকে শুরু করবো?
চাকরি-প্রার্থী ভাই-বোনদের কমন একটি প্রশ্ন।যদিও আমার মত যারা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দুয়েক বছর পর চাকরির চিন্তা অমূলক কিছু নয়, বরং স্বাভাবিক।তবে এখানে একটা "কিন্তু" আছে।
১ম বর্ষ থেকে ৩য় বর্ষ পর্যন্ত আমি মনে করি একাডেমিক নলেজের উপর জোর দেয়া উচিত। এটাও চাকরি পাওয়ার একটা পার্ট হতে পারে আপনার। আমার দেয়া অধিকাংশ ভাইভার একটা বড় অংশ ছিল নিজ পঠিত বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা। বিসিএস ভাইভার ৯৯.৯% হয়েছে নিজ পঠিত বিষয় নিয়ে। অথচ অনেকে এই সময়টা হেলায় কাটিয়ে টের পায় ভাইভার সময়।সুতরাং, এই ৩ বছর ডিপার্টমেন্ট এর পড়া মানে এক অর্থে এগিয়ে থাকবেন।এর বাইরেও যদি একান্তই ইচ্ছা থাকে বিসিএস এর প্রস্তুতি নেয়ার তাহলে দুই-তিনটি বিষয় পাশাপাশি পড়তে পারেন-
১। গণিত চর্চা (৮ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত)
২। ইংরেজি রিডিং স্কিল বাড়ানো (নিউজপেপার পড়া)
৩। ইংরেজি রাইটিং স্কিল বাড়ানো
৪। টুকটাক ভোকাবুলারি আর
৫।একটা বাংলা দৈনিকের মতামত কলাম।
এই কয়েকটি বিষয় আপনার চিন্তার পরিধি বাড়াবে, যেকোন বিষয় নিয়ে লেখার চিন্তার খোরাক বাড়াবে। গত দুদিন আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলির লিখিত প্রশ্ন দেখলেই বুঝবেন।এছাড়া গণিত ও ইংরেজি একটা দীর্ঘ সময় ধরে মজবুত করতে পারবেন।
এই সময়ে ভুলেও এমপিথ্রি কিনে বাংলা, ইংরেজি, জিকে মুখস্ত করতে যাবেন না।কারণ, এসব বিষয় যতই পড়বেন রিভিশন না দিলে ভুলবেন।আর এতবার রিভিশন দেয়া সম্ভব না।আর এভাবে একটা সময় ফ্রেশ আগ্রহটা বোরিং কাজ হয়ে দাঁড়াবে আসল প্রিলির আগে।
৪র্থ বর্ষে উঠার পর যদি স্থির করেই ফেলেন যে সরকারি চাকরির দিকে ক্যারিয়ার গড়বেন তাহলে আস্তে আস্তে প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন।লিখিতের কিছু ব্যসিক ও কমন বিষয় সাথে এগিয়ে নিতে হবে। এতে দুইটি কাজ হবে-
১। দীর্ঘ সময় পাবেন, মোটামুটি এক বছর।।এক মাস করে পড়লেও এক বছরে ফুল প্রিলি প্রস্তুতি শেষ হবে।
২। শুরুর দিকে প্রিলি পাশ করতে পারলে কনফিডেন্স পাবেন, রিটেনের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।অন্যথায় শুরুতেই নড়বড়ে হলে প্রিলিতেই আটকে থাকবে আপনার জার্নি। তাই যত আর্লি প্রিলি উতরানো যায় প্রতিটি পরীক্ষার সেই প্রস্তুতি নিবেন
ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টঃ আমি ৪র্থ বর্ষের শুরুতে প্রিপারেশন শুরু করেছিলাম। এক বছর পড়েছি। মাস্টার্সের ১ম সেমিস্টারের আগে প্রিলি দিয়েছিলাম। আর মাস্টার্সের ২য় অর্থাৎ ফাইনাল সেমিস্টারের আগে রিটেনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এবং সেমিস্টারের ২ মাস পর রিটেন দিয়েছিলাম। অর্থাৎ ৪র্থ বর্ষ ও মাস্টার্স এই দু বছর একাডেমিকের পাশাপাশি আমার বিসিএস প্রস্ততি এবং বিসিএস এর প্রিলি+লিখিত দুইটা পার্টের এক্সাম দেয়া শেষ।এবং প্রস্তুতি নিখুঁত হওয়ায় মাস্টার্সের পরপরই চাকরি পেতে শুরু করলাম।
কিন্তু সবাই পড়তে বলে কিন্তু এমন অনেক স্টুডেন্ট আছে যাদের নিজ ব্যয়ভার বহন করে একাডেমিক+ চাকরির প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন তা বুঝতে পারেন না।বলে রাখি, আমি ১ম বর্ষ থেকেই আমার সব খরচ আমি নিজেই বহন করেছি। সুতরাং, প্রস্তুতির সময়টাতেও আমাকে ব্যালেন্স করতে হয়েছে এটা।
এক্ষেত্রে আমি বলবো যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজ আছেন তারা এই দু বছর সময়টাকে কাজে লাগাবেন।হলে যেহেতু আছেন থাকার খরচ নেই। খাবার খরচও বেশি লাগেনা হলে। তাই বেশি টিউশন করে বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই। যেটাতে আপনার খরচ উঠে আসে ওই পর্যন্ত লিমিটেড রাখেন। এরপর পুরোটা পড়াশোনায় সময় দিন।
আমি এভাবে চিন্তা করেছিলাম, হলে যতদিন আছে আমার শুধু খাবারের খরচ লাগছে।।থাকার খরচ নেই।তাই টাকাটা অল্প।এই সময়ে খাবারের জন্য আর হাত খরচের জন্য যেটা না হলে নয় সেটুকু আমি ম্যানেজ করে বাকি ফুল সময়টা পড়তাম।আমি বিদেশের স্টুডেন্ট দের এসাইনমেন্ট করতাম। আমার যারা বন্ধুরা আছে তাদের মাসে ইনকাম হতো ৩০-৫০ হাজার এই এসাইনমেন্ট করে।কিন্তু আমি ৭/১০ হাজারের বেশি টাকার কাজ করতাম না।লোভ সামলিয়েছি।
টার্গেট ছিল হলে থাকতেই এই সময়ে প্রস্তুতি না নিলে পরে হল ছাড়লে ঢাকা শহরের মেসে থাকা+খাওয়ার টাকা জোগাড় করতেই টিউশন করা লাগবে বেশি।ওই সময়টায় পড়বো নাকি ওই অর্থসংস্থানের চিন্তা করবো৷ তাই আগেই মোটামুটি পড়া গুছিয়ে রাখলে পরে হল ছাড়লে অর্থসংস্থানের পিছনে সময় বেশি গেলেও প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে না।
এভাবে চিন্তা করেছি আর কাজে লেগেছে এবং মাস্টার্সে থাকতেই ১ম বিসিএস এর প্রস্তুতি হলে থেকেই শেষ করেছি।তাই সময়টা কাজে লাগান।আর যাদের টিউশন অনেক,কিংবা জমা টাকা আছে,কিংবা পরিবার স্বচ্ছল তাদের হিসেব আলাদা। আমি যেহেতু সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাব্জেক্টে পড়েছি তাই টিউশন স্কোপ কম ছিল, তাই এভাবে হেটেছি। অন্য সবার সাথেই ১ম বিসিএস এ পেরেছি। কথায় আছে, যস্মিন দেশে যদাচার। এক পথ বন্ধ তো কি হয়েছে আরো পথ আছে।নিজের সীমাবদ্ধতাকে কখনো দূর্বলতা ভাববেন না। তাহলেই হবে।
ছবিটি ১৩তম জাতীয় সংসদের ১ম অধিবেশন ভিজিটে তোলা। আল্লাহর কাছে এমন অভিজ্ঞতার জন্য শুকরিয়া।
যারা আমার গাইডলাইন কোর্স সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, বিস্তারিত লিংকঃ https://www.facebook.com/share/p/18ZvaFhKGy/
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ নুরের সাফা
সহকারী পরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
সহকারী কমিশনার (সুপারিশপ্রাপ্ত)
বিসিএস প্রশাসন, ৪৫তম বিসিএস
18/04/2026
৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারদের প্রথম গেট টুগেদার
15/04/2026
যারা এখনো কামব্যাক করার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য। একনজরে আমার একাডেমিক রেজাল্ট-
JSC 3.86
SSC-4.56
HSC-4.83
একটা সময় মনে হতো মানুষ এ+ কিভাবে পায়? জীবনে কখনো কোন একাডেমিক রেজাল্টের দিন এ+ পাওয়ার স্বাদ পাওয়া হয়নি। জেনারেল কারিকুলাম বাদ দিয়ে মাধ্যমিকের পর পলিটেকনিক্যালে ভর্তির সিদ্ধান্ত মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ইচ্ছা ছিল তাড়াতাড়ি ডিপ্লোমা শেষ করে যেকোন একটা চাকরি করে পরিবারের হাল ধরার। কিন্তু মাঝে মাঝে আপনার ইচ্ছা, ভালো কিছু করার জেদ আপনার ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করে। কলেজে পড়াকালীন একসময় নিজেকে সবচেয়ে অসহায় লাগতো নিজের বিগত দিনের ব্যর্থতার কারণে। একে তো পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে টিউশন পড়ার অক্ষমতা, তার উপর নিজের ভিতরে পরিশ্রম করার জেদ কখনো সেই অর্থে ছিলনা।ফলাফল একাডেমিক জীবনে যাচ্ছেতাই ভাবে দিন পার করা হলো। উচ্চমাধ্যমিকে উঠার পর শহরের পড়াশোনার কম্পিটিশন দেখে নিজের ভিতর ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা চলে আসে। পরিচিত যাদের সাথেই কথা বলি তাদের মুখে একটাই শুনতাম এ+ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া কঠিন। যেহেতু রেজাল্টের উপর নাম্বার থাকে। সেই চরম সময়ে একদিন জেদ আসলো নিজের উপর। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমার বিগত দিনে যা হয়েছে সব ভুলে, বর্তমান শূন্য থেকে শুরু করবো। এইযে এত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়, এত এত ভালো রেজাল্ট।কিভাবে করে মানুষ সেটাই দেখবো? কি আছে এইসব সাদাকালো বইয়ের ভিতর। সেই থেকে শুরু হলো আমার পরিবর্তন। কলেজে থাকতেই একাডেমিকের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি শেষ করেছি প্রায়। ফলাফল, উচ্চমাধ্যমিকে এক বিষয়ের জন্য এ+ মিস আবার! কিন্তু এবার টার্নিং ছিল অন্যরকম-
☞প্রথমেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ তে চান্স, বিবিএ তে ৭ম হয়ে কনফিডেন্স ছিল তুঙ্গে।
☞এরপর ঢাবিতে হয়েছিলাম ৫৫তম। অথচ রেজাল্টের উপর ৮০ মার্কের মধ্যে আমার ৩+ নাম্বার কম ছিল।
এরপরের জীবনে কখনো নিজের সীমাবদ্ধতাকে ব্যর্থতার অজুহাত হিসেবে দাড় করাইনি। নিজের যা আছে সেটার উপর ভর করে বাকিটা শারিরীক ও মানসিক পরিশ্রমের দ্বারাই সম্পন্ন করেছি। কথায় আছে, "হয় ধারে কাটো, না হয় ভারে কাটো!"
যেহেতু আমার ধার ছিল না, অর্থাৎ মেধা কম ছিল, সেহেতু আমি পরিশ্রম অর্থ্যাৎ ভারে কেটেছি সবসময়।
কলেজ লাইফের সেই উপলব্ধি আমাকে আজ এখানে এনে দাড় করিয়েছে। ঢাবিতে যেমন ৫৫ তম হয়েছিলাম, বিসিএস এ তেমন প্রশাসনে ৬৬তম হয়েছি। কিন্তু কখনো একটাবারের জন্য ভাবিনি আমি নন সাইন্স/সোশ্যাল সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের, ম্যাথ পারবোনা, ১ম বিসিএস এমনিতে দিয়ে দিব, বুয়েটে ঢামেক, ঢাবি সহ সেরা ক্যান্ডিডেটদের সাথে পাল্লা দিয়ে পারবো কিনা। চাকরির প্রস্তুতির শুরুতেই কয়েকটা ৯ম গ্রেডের চাকরি পেয়েছি কিন্তু এক্সাম হলে কখনো ভাবিনি আমি কারো অংশে কম। ক্ষণিকের ব্যর্থতা ছিল, আবার পরিশ্রমের দ্বারা উঠে দাড়িয়েছি। সাথে ছিলো ভাগ্যের উপর অগাধ বিশ্বাস।
আর একাডেমিক রেজাল্ট? সেটাতেও আক্ষেপ ঘুচলো। ঢাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে-
স্নাতকে- 3.67 out of 04
স্নাতকোত্তর - 3.61 out of 04
যেখানে কোনদিন একাডেমিক রেজাল্ট এর জন্য সরকারি বৃত্তি পাইনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্টে পেয়েছি সেটা।
যেকোন চাকরি একটা চাকরি বৈকি আর কিছু নয়। পৃথিবীতে আজীবন মানুষের মনে রাখার মতো কোন ঘটনা নয়। তাই এটাকে সার্বজনীন সফলতা হয়তো বলা যাবেনা। কিন্তু আমার মতো যাদের অনেক ব্যাকফুটে থেকেও আর্থিক স্বচ্ছলতা জীবিকা নির্বাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাদের জন্য আমার এই পোস্ট। দয়া করে এই প্রস্তুতিকালে কিছু কথা ভুলেও মাথায় আনবেন না-
আপনার রেজাল্ট, কেমন স্টুডেন্ট আগে ছিলেন, পারবেন কিনা অন্যদের সাথে?, আপনার কোথায় কম আছে, প্রতিযোগিতায় টিকবেন কিনা এসব। বরং, ভাববেন আমাকে এই যাত্রায় যেকোন ভাবে সফল হতে হবে। মেধা না থাকলে পরিশ্রম করুন। এই দুনিয়াটা বড় নিষ্ঠুর ভাই।মানুষ সফলদের কথাই শুনে, আপনার আগের ব্যর্থতায় সমবেদনা কেউ জানাতে আসবেনা। এখানে Survival of the fittest এর খেলা চলে। তাই, নাচতে যেহেতু হবে, ঘোমটা রেখে লাভ নেই।আজই নেমে পড়ুন, দেখে নেন এর শেষ কোথায়, কেন আপনি পারছেন না, সবাই পারছে। পরিশ্রম করুন।।আর একটা কথা জেনে রাখুন, আল্লাহ নিজেই বলেছেন
"নিশ্চয়ই তিনি পরিশ্রমীদের সাথেই আছেন।" আপনার ভাগ্য আপনার পরিশ্রমের উপর নির্ভর করবে।
আমার এই যাত্রায় যেটা বড় সীমাবদ্ধতা ছিল তা হলো ছোট থেকেই গাইডলাইনের অভাব, সেটা একাডেমিক কিংবা জীবনকেন্দ্রিক।উচ্চমাধ্যমিকে এক গুরু পেয়েছিলাম যিনি আমাকে এই প্রস্তুতিতে এবং জীবনবোধের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটাকে পুজি করে এগিয়েছি। তাই, চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতির সময়ে হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে একটা দিকনির্দেশনামূলক/গাইডলাইন কোর্স খুলেছি। চাইলে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন। ব্যর্থতা থেকে উঠে দাড়ানোর কষ্ট যে কি, তার অভিজ্ঞতা আমার ভালোই হয়েছে। কোর্সের লিংক দেয়া হলো- https://www.facebook.com/share/p/17ZJTBXVyj/
(১ম ছবিটি ৪৫তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার শেষ দিনের বিধবস্ত ছবি, ২য় ছবিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগদানের ছবি)
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ নুরের সাফা
সহকারী কমিশনার (সুপারিশপ্রাপ্ত)
বিসিএস প্রশাসন, ৪৫তম বিসিএস
11/04/2026
কথায় আছে, শুধু পরিশ্রম করলেই যদি সফল হওয়া যেত, তাহলে গাধাই হতো বনের রাজা। হামেশাই আমরা শুনি যে অমুক অল্প পড়েই আউটকাম পেয়েছে। ৬ মাস পড়েই প্রিলি পাশ করেছে, ২ মাস পড়েই রিটেন দিয়ে ক্যাডার।অথচ অনেকে বছরের পর পর প্রিলি ফেইল, রিটেন ফেইল, অথবা নন-ক্যাডারের জালে আটকে আছে।
এর কারণ হলো পরিশ্রম করছেন ঠিকই কিন্তু কিভাবে করতে হয়, কোথায় ফোকাস করতে হয়, কিভাবে প্রয়োগ করতে হয় এসব না জানার কারণে কলুর বলদের মত পরিশ্রমই করে যাচ্ছেন কিন্তু সফলতা আর ধরা দিচ্ছেন না। ইনবক্সে হাজার হাজার ম্যাসেজ আসে যে ভাই এতটা প্রিলি ফেইল, রিটেন ফেইল, কিভাবে কি করবো বুঝতে পারছিনা। সুতরাং, এ থেকে বুঝা যায় পরিশ্রমের সাথে সঠিক গাইডলাইন দরকার আপনার এই কষ্টকে রাইট ওয়েতে শেইপ দেয়ার জন্য।
দেখুন, আপনি চাইলেই বাজারে হাজার হাজার বই আছে কিনে পড়া শুরু করে দিতে পারেন, অফলাইন-অফলাইন কোচিং আছে ভর্তি হয়ে ক্লাসের পর ক্লাস করতে পারেন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নিউজপেপার,তথ্য, সাম্প্রতিক ডাটা সবই হাতের মুঠোয়। তবু কেন হাজার হাজার মানুষ Master, অগ্রদূত কিংবা এমপিথ্রি কিনলেও সবার চাকরি হয়না? ভেবে দেখেছেন? কারণ, একদিক থেকে শুধু পড়লেই হবেনা। সবাই সেইম বই-ই কিনে কিন্তু সবার কেন চাকরি না হয়ে গুটি কয়েকের হয়? কারণ, পদের তুলনায় কম্পিটিশন অনেক বেশি, এই কম্পিটিশনে টিকে থাকতে হলে আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে হবে, কৌশলের দিক থেকে।
ছোট করে আরেকটা গল্প বলি, একবার ফোর্ড কোম্পানির একটা গাড়ির যান্ত্রিক কিছু ত্রুটি ছিল যেটা কোন ইঞ্জিনিয়ার সমাধান করতে পারছেনা। এমন সময় এক লোক আবেদন করলো যে তিনি পারবেন।আসলো, কিছুদিন শুধু অবজারভেশন করলো, এরপর শেষ দিন ৫ মিনিটেই সমাধান করে দিল। কিন্তু যখন পেমেন্টের বেলায় আসলো তখন ওই লোক অনেক চার্জ করলো। তখন জিজ্ঞেস করায় বললো, ধরুন ১০০ টাকা চার্জ করলে ৫ টাকা হয়তো আমার ৫ মিনিট কায়িক পরিশ্রমের মূল্য। কিন্তু হাতুড়ির দিয়ে কোথায় মারতে হবে সেটাই আমার জ্ঞান,অভিজ্ঞতা।এই অভিজ্ঞতার মূল্য ৯৫ টাকা।
চাকরির প্রস্তুতি আমার জার্নিটা সংক্ষিপ্ত ছিল কারণ, আমি যে কয়টা পরীক্ষা দিয়েছি ১ টা ছাড়া সবগুলোতে সফল হয়েছি।পেয়েছি অনেকগুলো ৯ম গ্রেডের চাকরি।
সাধারণ বিমা, সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম)
বিসিআইসি, সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম)
এনএসআই, সহকারী পরিচালক (৯ম)
পেট্রোবাংলা, সহকারী পরিচালক (প্যানেল) (৯ম)
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
এনটিআরসিএ, লেকচারার
সবগুলোই ১ম শ্রেণির চাকরি,আমি আমার ১ম সার্কুলারেই পেয়েছি। এছাড়া
☞১ম বিসিএস এ প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
☞৪৬ বিসিএস লিখিত পাশ(ভাইভা দেইনি)
☞সুতরাং, এই স্বল্প সময়ের জার্নির অভিজ্ঞতাকে পুজি করে আপনাকে সঠিক গাইডলাইন দেয়ার জন্য আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস হলো ৫১তম বিসিএস এর সমন্বিত প্রস্তুতির গাইডলাইন।যেখানে নামমাত্র ফি তে (১০২০/-) লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত অর্থাৎ ১.৫ বছর পর্যন্ত আপনাকে গাইডলাইন দিয়ে যেতে ইচ্ছুক।
☞আমার এই কোর্সের বিস্তারিত নিচের লিংকে দেয়া আছে- https://www.facebook.com/share/p/1EVU4A4FBw/
☞ছবিতে আমার কোর্সের রুটিনের স্যাম্পল দেয়া আছে।
আগ্রহী হলে ইনবক্স করতে পারেন।
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ নুরের সাফা
সহকারী কমিশনার (সুপারিশপ্রাপ্ত)
বিসিএস প্রশাসন, ৪৫তম বিসিএস
08/04/2026
গত কয়েকমাস আগে আমার এক সুপারিশপ্রাপ্ত কলিগ উনার বিসিএস প্রস্তুতির সময়ের সংগ্রামের কথা ফেসবুকে লেখার দরুন প্রচুর সাইবার বুলিং এর শিকার হয়েছে। সেই পোস্ট দেখে ইচ্ছা হয়নি কখনো কিছু লিখার। তাই লেখালেখি শুধু প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ রেখেছি। কিন্তু, কিছু ছবি, সময় আমাদের নস্টালজিক করে দেয়। কিছু ছবি সুঃখের দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, কিছু আবার কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। আজকাল ইনবক্সে প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচুর হতাশার ম্যাসেজ পাই। তাই, এই বিষয়ে লিখতে নিজেকে নিভৃত করতে পারলাম না।
প্রথম ছবিটিতে একটা ব্যাক পিলো (Back Pillow) এর ছবি রয়েছে। ২০১৮ সালে একটা অপারেশন হওয়ার পর থেকে এনেস্থিসিয়ার কারণে অনেকক্ষণ বসে থাকতে পারতাম না কোমরের ব্যাথার কারণে। চতুর্থ বর্ষে যখন প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম তখন আমার দুই অবস্থা ছিল। এক, আমি নন সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের ছিলাম। দুই, অনার্স প্রথম বর্ষ থেকেই আমাকে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেকে চালাতে হতো। একে তো প্রতি মাসে নিজের খাওয়া দাওয়ার টাকা ব্যবস্থা করার চাপ, অন্যদিকে অনার্সের পরে হল ছাড়লে ঢাকায় সারভাইব করতে পারবো কিনা সেই দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে নন-সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রথম বারেই বিসিএস ক্র্যাক করবো এই আশা নিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝলাম এই পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ। মাথায় একটাই জেদ, অনার্সের পর আমার পক্ষে বেকার থাকা যাবেনা। আর বিসিএস প্রস্তুতি নিলে এমনভাবে নিব যাতে প্রথমবারেই যেকোন একটা জেনারেল ক্যাডার পাই। সেই থেকে শুরু হলো কঠোর পরিশ্রম।
টিউশন বাদ দিয়ে অনলাইনে এসাইনমেন্ট করার কাজ হাতে নিলাম। সারা সপ্তাহ ভোর ৬ টা থেকে রাত ০১ টা পর্যন্ত চলতো একটানা টেবিলে অমানুষিক পরিশ্রম। আবার সপ্তাহের প্রতি শুক্র শনিবার সারাদিন সেই চেয়ারে বসেই এসাইনমেন্ট এর কাজ করতাম পেট চালানোর জন্য। অর্থাৎ, টেবিল-চেয়ারে বসে থাকাই ছিল আমার দিন রাতের রুটিন। টানা বসে থাকায় কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা কমাতে চেয়ারে পিছনে এই পিলো ইউজ করতাম। ২০২২ ও ২০২৩ সালে শুধু দুই ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়েছিল। বাকি সময়টাতে দু বছর আমার নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল এই বালিশটি। ঘষা খেতে খেতে এমন হয়েছে যে কাপড় ছিড়ে তুলো বের হয়ে গিয়েছে বহু আগেই। সেই তুলোকে ম্যানেজ করেই প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে শুরু হতো আমার দিন। মাঝে টেবিলে একটু চোখ অফ করার জন্য বালিশটি মাথার নিচে দিয়ে টেবিলে ঘুমিয়ে নিতাম। এরপর আবার কোমরের পিছনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল যেদিন ছাড়লাম সেদিন এই জরাজীর্ণ বালিশটির শেষ ছবি তুলে নিয়ে আসলাম স্মৃতি হিসেবে। টানা ৪ বছর সময় লাগলো এই ছবিটি শেয়ার করার জন্য। সেই আমি নন-সাইন্সের ছেলে প্রথম বারেই প্রশাসন ক্যাডারে ৬৬তম হয়েছি।
অন্য ৮-১০ টা চাকরির মতোই হয়তো অনেকের কাছে বিসিএস একটা চাকরি। এটাকে গ্লোরিফাই করতে গেলে আবার নানা জনের নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলবো, ভাই বলতে দিন অন্তত। আপনি জানেন না যারা এই পথ পাড়ি দিয়েছে তারা কতকিছুর সম্মুখীন হতে হয়েছে।কত রাতের ঘুম, আড্ডা, ভালো একটি মুভি, দুদিন ছুটি, ট্যুর কতকিছু উপেক্ষা করতে হয়েছে। মনের সেই খেদ মুখ ফুটে বলার সুযোগটা দিন। আপনার জন্য হয়তো একটা চাকরি, কিন্তু যেই ছেলেটা হলে দিনের পর দিন নিরামিষ খেয়ে কেটেছে, যে ছেলেটা সমস্ত পারিবারিক চাপ মাথায় নিয়ে দিন গুজার করেছে, যে ছেলেটা পরের মাসে কিভাবে চলবে সেই চিন্তায় খাটে কুকড়ে থাকতো তার জন্য আপনাদের এই তথাকথিত বিসিএস কিংবা একটা ভালো জব, দুমুটো ভাত, একটু নির্ভার ঘুম, দুশ্চিন্তাহীন রাত অনেক অনেক কিছু। সুতরাং, হামেশাই জিহবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগে নিজেকে একবার অন্যের জায়গায় ভেবে দেখুন। বুঝতে পারবেন "Only the wearer knows where the shoe pinches"