26/05/2026
আরাফার সিয়াম
আবু কাতাদাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন—
“আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি, তা বিগত এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।”
— মুসলিম: ১১৬২, মিশকাত: ২০৪৪
দুই বছরের গুনাহ মাফ হবে, ইনশা আল্লাহ
18/05/2026
আজ জানবো — “তাকওয়া কার্ড” এর অফারসমূহ!
আমরা অনেক ধরনের কার্ডের অফার সম্পর্কে জানি—
ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ডিসকাউন্ট কার্ড…
কিন্তু দুনিয়া ও আখিরাতের সবচেয়ে মূল্যবান “কার্ড” হলো — তাকওয়া কার্ড।
এই কার্ডের কোনো ব্যাংক চার্জ নেই,
কোনো লিমিট নেই,
কোনো মেয়াদও নেই।
বরং এর প্রতিটি অফার সরাসরি এসেছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে।
“তাকওয়া কার্ড” এর বিশেষ অফারসমূহ
✔ ১. সমস্যার সমাধান ও অপ্রত্যাশিত রিযিক
আল্লাহ বলেন—
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।
এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
— (সূরা আত-তালাক: ২–৩)
☞ তাকওয়া মানুষের জন্য বন্ধ দরজাও খুলে দেয়।
✔ ২. কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়
আল্লাহ বলেন—
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।”
— (সূরা আত-তালাক: ৪)
☞ যেখানে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়, তাকওয়া সেখানে রাস্তা তৈরি করে।
✔ ৩. গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি
আল্লাহ বলেন—
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপসমূহ মোচন করেন এবং তাকে মহান প্রতিদান দেন।”
— (সূরা আত-তালাক: ৫)
✔ ৪. আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত হওয়ার সুযোগ
আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।” — (সূরা হুজুরাত: ১৩)
☞ দুনিয়ার পদ-পদবি নয়, তাকওয়াই আসল সম্মান।
✔ ৫. জান্নাত ও অফুরন্ত নেয়ামতের নিশ্চয়তা
আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে জান্নাত ও নেয়ামত।”
— (সূরা আত-তূর: ১৭)
✔৬. আসমান-জমিনের বরকত লাভ
আল্লাহ বলেন—
“যদি জনপদের মানুষ ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকত খুলে দিতাম।”
— (সূরা আল-আ’রাফ: ৯৬)
☞ তাকওয়া শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সমাজকে বদলে দেয়।
✪তাকওয়া আসলে কী?
তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়—
বরং এমনভাবে জীবন পরিচালনা করা,
যেখানে মানুষ গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে স্মরণ করে,
গুনাহ থেকে বাঁচে,
এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।
◑ একটু ভাবুন…
আজ মানুষ দুনিয়ার অফারের পিছনে ছুটছে—
কিন্তু “তাকওয়া কার্ড” এমন একটি অফার,
যা দুনিয়ায় শান্তি,
কবরে নূর,
আর আখিরাতে জান্নাত এনে দেয়।
হে আল্লাহ!
আমাদের সবাইকে প্রকৃত তাকওয়াবান বানিয়ে দিন,
গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনাকে ভয় করে চলার তাওফিক দিন,
এবং আমাদের জীবনকে বরকতময় করে দিন।
আমীন।
17/05/2026
জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনগুলোতে যেসব আমল করা মুস্তাহাব
১. তাওবা: তাওবা অর্থ ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। আল্লাহ তা‘আলার নাফরমানি থেকে ফিরে আসা, আল্লাহর হুকুমের পাবন্দি করার উপর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা এবং অতীতের কৃত কর্মের উপর অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে তা ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো আল্লাহর নাফরমানি না করা ও তার হুকুমের অবাধ্য না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা। এ দিন গুলোতে তাওবা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوۡبَةٗ نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمۡ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمۡ سَئَِّاتِكُمۡ وَيُدۡخِلَكُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ يَوۡمَ لَا يُخۡزِي ٱللَّهُ ٱلنَّبِيَّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥۖ نُورُهُمۡ يَسۡعَىٰ بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَبِأَيۡمَٰنِهِمۡ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَتۡمِمۡ لَنَا نُورَنَا وَٱغۡفِرۡ لَنَآۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ ٨ ﴾ ﴾ [التحريم: ٨]
‘হে মোমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর—বিশুদ্ধ তওবা; সম্ভবত তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সে দিন আল্লাহ লজ্জা দেবেন না নবীকে এবং তার মোমিন সঙ্গীদেরকে, তাদের জ্যোতি তাদের সম্মুখে ও দক্ষিণ পার্শ্বে ধাবিত হবে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণতা দান কর এবং আমাদেরকে ক্ষমা কর, নিশ্চয় তুমি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’[1]
২. ফরয ও নফল সালাতগুলো গুরুত্বের সাথে আদায় করা: অর্থাৎ ফরয ও ওয়াজিবসমূহ সময়-মত সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে আদায় করা, যেভাবে আদায় করেছেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সকল ইবাদতসমূহ তার সুন্নত, মুস্তাহাব ও আদব সহকারে আদায় করা। ফরয সালাতগুলো সময় মত সম্পাদন করা, বেশি বেশি করে নফল সালাত আদায় করা। যেহেতু এগুলোই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার সর্বোত্তম মাধ্যম। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তুমি বেশি বেশি সেজদা কর, কারণ তুমি এমন যে কোনো সেজদাই কর না কেন তার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করবেন। [মুসলিম] এটা সব সময়রে জন্য প্রযোজ্য। নিয়মিত ফরয ও ওয়াজিবসমূহ আদায়ে যত্নবান হওয়া- অর্থাৎ, ফরয ও ওয়াজিবসমূহ সময়-মত সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। যেভাবে আদায় করেছেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সকল ইবাদতসমূহ তার সুন্নত, মোস্তাহাব ও আদব সহকারে আদায় করা। হাদিসে এসেছে—
عن أبي هريرة- رضى الله عنه- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله تعالى قال: «من عادى لي وليا فقد آذنته بالحرب، وما تقرب إلي عبدي بشيء أحب إلي مما افترضته عليه، وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها، وإن سألني لأعطينه، ولئن استعاذ بي لأعيذنه ، وما ترددت عن شيء أنا فاعله ترددي عن نفس المؤمن ، يكره الموت وأنا أكره مساءته». رواه البخاري
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো অলির সঙ্গে শত্রুতা রাখে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার বান্দা ফরয ইবাদতের চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোনো ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারাই সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নেই, আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। সে আমার কাছে কোনো কিছু চাইলে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায় আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় দেই। আমি যে কোনো কাজ করতে চাইলে তাতে কোনো রকম দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণ হরণে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকে অথচ আমি তার প্রতি কষ্টদায়ক বস্তু দিতে অপছন্দ করি।’[2]
أحمد، وقال أحمد شاكر:إسناده صحيح [
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এ দশ দিনে [নেক] আমল করার চেয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে অধিক প্রিয় ও মহান আর কোনো আমল নেই। তোমরা এ সময়ে তাহলীল [লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] তাকবীর [আল্লাহু আকবার] তাহমীদ [আল-হামদুলিল্লাহ] বেশি করে আদায় কর।[7] আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন:—
﴿ لِّيَشۡهَدُواْ مَنَٰفِعَ لَهُمۡ وَيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡلُومَٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلۡأَنۡعَٰمِۖ ٢٨ ﴾ [الحج : ٢٨]
‘যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’[8]
[3] আহমদ: ৬/২৮৭, আবু দাউদ: ২১০৬, নাসায়ী: ২২৩৬
[4] বুখারী, ২৮৪০; মুসলিম: ১১৫৩।
[5] বুখারি: ১৪৪৯, মুসলিম: ১৩৫০
[6] বুখারি: ১৬৮৩, মুসলিম: ১৩৪৯
[7] আহমদ, হাদিস: ১৩২
[8] সূরা আল-হজ, আয়াত: ২৮
[9] বুখারি, ঈদ অধ্যায়
[10] মুসলিম: ১১৬৩
[11] আবু দাউদ: ১৭৬৫
[12] সূরা কাউছার, আয়াত: ২
[13] সূরা আন‘আম, আয়াত: ১৬২, ১৬৩
[14] বুখারি: ৫৫৪৫, মুসলিম: ১৯১৬
[15] বুখারি: ৫৫৬৫, মুসলিম: ১৯৬৬
16/05/2026
আহারে…!
এই সমাজে কত সন্তান আছে, যারা দুনিয়ার মোহে পড়ে ভুলে যাচ্ছে—
পিতা-মাতার কষ্ট, ত্যাগ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর তাদের অধিকার।
যাদের হাত ধরে হাঁটতে শিখেছি,
যারা নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়েছেন—
আজ অনেকেই সেই পিতা-মাতার সাথেই কঠোর আচরণ করে, অবহেলা করে, এমনকি কষ্ট দিতেও দ্বিধা করে না।
অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কত কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন—
“তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো… তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না এবং ধমক দিও না; বরং সম্মানের সাথে কথা বলো।” — (সূরা আল-ইসরা: ২৩)
পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
আর তাদের কষ্টের মাঝে রয়েছে জীবনের অন্ধকার ও বরকতহীনতা।
হে আল্লাহ!
আমাদেরকে পিতা-মাতার অনুগত, বিনয়ী ও খেদমতগার সন্তান হিসেবে কবুল করুন।
তাদের জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও বরকত দান করুন।
যারা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন—তাদেরকে ক্ষমা করে দিন।
পিতা-মাতার জন্য দো‘আ:
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণঃ
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী সাগীরা
অর্থঃ
“হে আমার রব! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।”
(সূরা আল-ইসরা: ২৪)
আমীন।
15/05/2026
সন্তান কেন বিপথে যায়? বৃদ্ধ মা-বাবাকে কেন ছেড়ে দেয়?
— কারণগুলো জানলে অনেকেই অবাক হবেন:
আল্লাহ বলেছেন:
"তোমার পালনকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করো।"
(সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)
তবুও আজ কত পরিবারে সন্তান বিপথে, কত মা-বাবা বৃদ্ধাশ্রমে।
কেন এমন হচ্ছে?
*** সন্তান বিপথে যাওয়ার মূল কারণ:
১. মা-বাবার নিজের আমলের দুর্বলতা
ঘরে নামাজ নেই, কুরআন নেই — সন্তান কী দেখে বড় হবে?
রাসূল ﷺ বলেছেন: "প্রতিটি সন্তান ফিতরাতের উপর জন্মায় — তার মা-বাবাই তাকে গড়ে।"
(বুখারি)
২. ভালোবাসার নামে সীমাহীন আদর
"না" বলতে না পারা মা-বাবা আসলে সন্তানের শত্রু।
শাসনহীন আদর সন্তানকে দায়িত্বহীন করে তোলে।
৩. স্ক্রিন ও সঙ্গের বিষ
মোবাইল, ইউটিউব, ভুল বন্ধু —
ইসলামে বলা হয়েছে: "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে।" (আবু দাউদ)
সন্তানের বন্ধু কে — এটা না জানলে আপনি ব্যর্থ অভিভাবক।
৪. দুনিয়া দিয়েছেন, দ্বীন দেননি
ভালো স্কুল, কোচিং, ইংলিশ মিডিয়াম — সব দিয়েছেন।
কিন্তু কুরআন শেখাননি, আখিরাতের ভয় দেননি।
তাহলে সন্তান দুনিয়াকেই সব মনে করবে।
৫. মা-বাবার নিজেদের মধ্যে অশান্তি
ঝগড়া, অবিশ্বাস, ভাঙা সম্পর্ক —
এই পরিবেশে বড় হওয়া সন্তান মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
*** বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ:
১. ছোটবেলায় মা-বাবার সেবার দৃষ্টান্ত দেখেনি
আপনি কি আপনার মা-বাবার খেদমত করেছিলেন?
সন্তান যা দেখে — তাই শেখে।
২. স্ত্রী বা স্বামীর প্রভাব
অনেক সময় জীবনসঙ্গী মা-বাবাকে "বোঝা" মনে করে।
এখানে দায় আছে সঙ্গী নির্বাচনেও।
৩. আখিরাতের জবাবদিহির ভয় না থাকা
যে সন্তান জানে না — মা-বাবাকে কষ্ট দিলে জান্নাত বন্ধ —
সে সহজেই উপেক্ষা করতে পারে।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"সেই ব্যক্তি লাঞ্ছিত হোক, যে তার মা-বাবাকে বার্ধক্যে পেয়েও জান্নাত কামাই করতে পারল না।"
(মুসলিম)
৪. ভুলে যাওয়া — কে তাকে রাত জেগে লালন করেছিল
কৃতজ্ঞতাহীন মন আল্লাহকেও ভোলে, মানুষকেও ভোলে।
সন্তান বিপথে গেলে শুধু সন্তানকে দোষ দেবেন না।
আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন —
আমি কি সেই বাবা বা মা ছিলাম, যাকে দেখে সন্তান ঈমানদার হতো?
আল্লাহ আমাদের সবার সন্তানদের হেফাজত করুন।
আর আমাদের সবাইকে মা-বাবার সেবা করার তওফিক দিন।
05/05/2026
✪ ইসলামের দৃষ্টিতে পরিশ্রম ও দায়িত্ব:
ইসলাম অলসতাকে সমর্থন করে না।
নবী ﷺ আলস্য ও অক্ষমতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।
একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য:
✔ উপকারী হওয়া
✔ দায়িত্বশীল হওয়া
✔ সর্বোচ্চ চেষ্টা করা
অভিযোগ করে, দোষ দিয়ে বা হতাশ হয়ে বসে থাকলে—
পরিবর্তন কখনোই আসবে না।
✪ দুঃখ ও দুশ্চিন্তার সময় পড়ার দো‘আ
اَللّٰهُمَّ اِنِّيْٓ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।
আল্লা-হুম্মা ইন্নি আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালা‘ইদ দ্বাইনে ওয়া গালাবাতির রিজা-লি
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দো‘আটি বেশি বেশি করতেন।
বুখারী, ৭/১৫৮, নং ২৮৯৩;
আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় কোচ ও ব্রেভ ফ্যামিলি এবং সকলকে ইহকালীন-পরকালীন কল্যাণ দান করুন, আমীন।
জাযাকুমুল্লাহ খাইরান
Abu Talib
Digital Marketing Expert & Strategist
Discover the expertise, experience, and digital journey of Abu Talib:
☞ abrar.academy/abu-talib