27/12/2025
যদিও শিক্ষকতা একটা পেশা কিন্তু বাস্তব জীবনে প্রায় সব মানুষেই কোনো না কোনো ভাবে শিক্ষকতার কাজ করে। বাবা মা দাদা দাদি সন্তানকে আচরণ, সুন্দর করে কথা বলা, নৈতিকতা শেখায়, এগুলো মূলত সমাজের informal education এর অংশ। দোকানে নতুন কর্মচারী নিলে পুরান কর্মচারীরা তাকে কাজ শেখায়, ক্যাম্পাসের সিনিয়ররা জুনিয়রদের হিউমার শিখায়, এসব শেখানো কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো ছাড়াই ঘটে, অর্থাৎ informal pedagogy।
কিন্তু এগুলোর কোনো রেজুলেশন থাকেনা। কতোটুক শেখানো দরকার বা কতোটা শেখানো হলো এসবের বিশেষ হিসেব না থাকলেও সমাজের স্ট্রিমে সাবকনশিয়াসলি মানুষ এই শিক্ষা প্রদান ও গ্রহন করে—একাডেমিক ভাষায় যাকে বলা যায় tacit learning.
সমাজকে আমাদের আন্ত একাডেমির মতোই একটা একাডেমি হিসেবে কল্পনা করলে সমাজের বিভিন্ন সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক এবং পুরো সমাজটাই তখন কাজ করে একটি informal education system হিসেবে।
কিন্তু বিপত্তিটা শুরু হলো যখন আমাদের একান্নবর্তী পরিবার গুলো ভেঙে নিউক্লিয়ার পরিবার গঠন শুরু হলো। আগে পরিবার থেকে একটা বাচ্চার যতো কিছু শেখার সুযোগ ছিলো সেটা কমে আসতে শুরু করলো, কারন পরিবারে সদস্যই কম। একান্নবর্তী পরিবার আসলে ছিল শিশুর primary socialization–এর প্রধান জায়গা। দাদা দাদির কাছে গল্প শুনতে শুনতে যেই Narrative-based Moral Education হতো, সেগুলোর একটা গ্যাপ তৈরি হলো।
তবে এর একটা ভালো দিক হলো যে পরিবার ছোটো তাই বাবা মা খুব নিবিড় ভাবে সন্তানের দিকে মনোযোগ দিতে পারছে। কিন্তু এই যে ট্রানজিকশন হলো, এক্ষেত্রে যেই শিক্ষাটা সন্তানরা অজান্তেই অর্জন করে ফেলতো, অর্থাৎ implicit learning সেটার জন্যে এখন বাবা মায়ের একটা সচেতন মনোযোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতো শতাংশ বাবা মা এই মনোযোগটা দিতে পারে? সেক্ষেত্রে সন্তানরা শিক্ষার একটা বেশ গ্যাপের মধ্যেই পরলো।
-আন্ত একাডেমি জার্নাল, গনশিক্ষকতা
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫।