18/05/2026
পর্ব — ৩১ | হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)
হূদ (আঃ)-এর দাওয়াত:
সূরা আ'রাফ ৬৫-৭২ আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ، قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ، قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ، أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ، أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِن بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ، قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ، قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ فَانتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُم مِّنَ الْمُنتَظِرِينَ، فَأَنجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَمَا كَانُوا مُؤْمِنِينَ– (الأعراف ৬৫–৭২)–
অনুবাদঃ আর 'আদ সম্প্রদায়ের নিকটে (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে। সে বলল, 'হে আমার সম্প্রদার! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। বস্তুতঃ তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না?' (আরাফ ৭/৬৫)। 'তার সম্প্রদায়ের কাফের নেতারা বলল, আমরা তোমাকে নিশ্চিতভাবে নির্বোধ মনে করি এবং তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি' (৬৬)। 'হূদ বলল, হে আমার সম্প্রদার! আমার মধ্যে কোন নির্বুদ্ধিতা নেই। বরং আমি বিশ্বপালকের প্রেরিত একজন রাসূল। আমার সম্প্রদায়ের প্রতি আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তাসমূহ পৌঁছে দেই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী ও বিশ্বস্ত' (৬৮)। 'তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের মধ্য থেকে একজনের নিকট অহী (স্মরণ) এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করতে পারে? তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ কওমে নূহের পরে তাদের স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং তোমাদের আকৃতিতে শক্তিশালী ও বলিষ্ঠ করলেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামত সমূহ স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও' (৬৯)। 'তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে কেবল এসেছ যে, আমরা শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি, আর আমাদের বাপ-দাদারা যাদের পূজা করত, তাদেরকে পরিত্যাগ করি? তাহলে তুমি (আমাদের দেখাও), যদি তুমি সত্যবাদী হও)' (৭০)। 'হূদ বলল, তোমাদের উপর প্রভুর আযাব ও ক্রোধ অবধারিত হয়ে গেছে। তোমরা কি আমার সাথে ঐসব নাম সম্পর্কে বিতর্ক করছ, যেগুলোর নামকরণ তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা করেছ? এই সম্পর্কে আল্লাহ কোন প্রমাণ (অনুমতি) নাযিল করেননি। অতএব অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি' (৭১)। 'অবশেষে আমরা তাকে ও তার সাথীদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং যারা আমাদের আয়াত সমূহ মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছিল, তাদের মূলোৎপাটন করে দিলাম। বস্তুতঃ তারা বিশ্বাসী ছিল না' (৭২)।
অতঃপর সূরা হুদ ৫০-৬০ আয়াতে আল্লাহ উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন নিম্নরূপঃ
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ، يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي أَفَلَا تَعْقِلُونَ، وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَى قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ، قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ، إِن نَّقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ، مِن دُونِهِ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ، إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُمْ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ، فَإِن تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا إِنَّ رَبِّي عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ، وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَنَجَّيْنَاهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ، وَتِلْكَ عَادٌ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلَهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ، وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا إِنَّ عَادًا كَفَرُوا رَبَّهُمْ أَلَا بُعْدًا لِّعَادٍ قَوْمِ هُودٍ– (হূদ ৬০–৫০)–
অনুবাদঃ আর 'আদ জাতির প্রতি (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে (তাদের ভাই অর্থাৎ গোত্রীয় ভাই)। সে তাদের বলল, হে আমার সম্প্রদার! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মা'বুদ নেই। বস্তুতঃ তোমরা সবাই এ ব্যাপারে মিথ্যাচার করছ' (হুদ ১১/৫০)। 'হে আমার জাতি! (আমার এ দাওয়াতের জন্য) আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক তো কেবল সেই মহান সত্তার কাছে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবে কি তোমরা বুঝতে পারছ না?' (৫১)। 'হে আমার সম্প্রদার! তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর দিকে ফিরে যাও। তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বারিধারা বৃষ্টি প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন। তোমরা অপরাধীদের ন্যায় মুখ ফিরিয়ে নিও না' (৫২)। 'তারা বলল, হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আসনি, আমরা তোমার কথা মত আমাদের উপাস্য-দেবতা (তোমার উপাস্য) আল্লাহর জন্য পরিত্যাগ করব না (এমন হতে পারে না)। তুমি বলতে যা বলছ তার উপর আমরা ঈমান আনব না। বরং আমরা তো একথাই বলব যে, আমাদের কোন দেব-দেবী হয়তো তোমাকে আঘাত করেছে' (৫৩)। 'সে বলল, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি, আর তোমরাও সাক্ষী থাক যে, তাদের থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত, যাদেরকে তোমরা শরীক কর' (৫৪)। 'তাকে বাদ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে তোমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্র কর। অতঃপর আমাকে কোনরূপ অবকাশ দিও না' (৫৫)। 'আমি আল্লাহর উপরে ভরসা করেছি, যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা। ভূতলে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই, যার কপালে তাঁর কর্তৃত্ব নেই। আমার পালনকর্তা সরল পথের অনুসারী' (৫৫)। 'এরপরে যদি তোমরা পিছনে ফিরে যাও, তাহলে আমি তোমাদের নিকটে পৌঁছে দিয়েছি যা নিয়ে আমি তোমাদের নিকটে প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর আমার প্রভু অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তখন তোমরা তাঁর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা প্রতিটি বস্তুর হেফাযতকারী' (৫৭)। 'অতঃপর যখন আমাদের আদেশ (গযব) আসল, তখন আমরা হূদ এবং তার সাথে ঈমানদারদের অনুগ্রহে মুক্ত করলাম এবং তাদেরকে একটি কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করলাম' (৫৮)। 'তারাই ছিল 'আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াত সমূহে (নিদর্শন সমূহে) অবিশ্বাস করেছিল এবং তার উক্ত রাসূলগণের আদেশ পালন করেছিল, তারা প্রত্যেক উদ্ধত ও একরোখা বাধ্যজনের আদেশ পালন করেছিল।' 'এ দুনিয়ার জীবনেও তাদের উপরে অভিসম্পাৎ বর্তানো হয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও। জেনে রেখ 'আদ জাতি তাদের পালনকর্তার সাথে কুফরী করেছে। জেনে রেখ, হূদের কওম 'আদ জাতির জন্য 'অভিসম্পাৎ' (হুদ ১১/৫০-৬০)।
হূদ (আঃ) তাঁর জাতিকে তাদের বিলাসোপকরণ ও অন্যায় আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং এতদসত্ত্বেও তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যেমন সূরা শু'আরা ১২৮-১৩৯ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ، وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ، وَإِذَا بَطَشْتُمْ بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ، فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ، وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ، أَمَدَّكُم بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ، وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ، إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ، قَالُوا سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ الْوَاعِظِينَ، إِنْ هَذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ، وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ– (الشعراء ১৩৯–১২৮)–
অনুবাদঃ 'তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে অযথা নিদর্শন নির্মাণ করছ (২৬/১২৮)? (যেমন সুউচ্চ টাওয়ার, স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি)।' 'এবং তোমরা বিরাট বিরাট ইমারত বানাচ্ছ, মনে হয় যেন তোমরা চিরকাল বসবাস করবে' (১২৯)। 'যখন তুমি কাউকে আক্রমণ কর, তখন নির্দয়-নিষ্ঠুরের মত আঘাত করো' (১৩০)। 'অতএব তোমরা আল্লাহর ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর' (১৩১)। 'তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন তার বস্তু দ্বারা যা তোমরা জানো' (১৩২)। 'এবং উদ্যান ও ঝরণা সমূহ দ্বারা' (১৩৪)। (অতঃপর হূদ (আঃ) কঠিন আযাবের কথা দেখিয়ে বললেন), 'আমি তোমাদের জন্য মহাভয়ের শাস্তির আশঙ্কা করি' (১৩৫)। 'অবশেষে তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও বা না দাও সবই আমাদের জন্য সমান' (১৩৬)। 'তোমার এসব কথাবার্তা তো পূর্ববর্তী জাতির রীতি-আচার ছাড়া কিছু নয়' (১৩৭)। 'আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না' (১৩৮)। (আল্লাহ বলেন), 'অতঃপর তারা তাদের নবীকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করল। ফলে আমরাও তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। এর মধ্যে নিশ্চয়ই নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না' (শু'আরা ২৬/১২৮-১৩৯)।
সূরা হা-মীম সাজদাহ ১৩-১৬ আয়াতে 'আদ জাতির অলীক দাবী, অথবা দম্ভ ও তাদের উপরে আপতিত শাস্তির বর্ণনা সমূহ এসেছে এভাবে,
فَإِنْ أَعْرَضُوا فَقُلْ أَنذَرْتُكُم صَاعِقَةً مِّثْلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ، إِذْ جَاءَتْهُمُ الرُّسُلُ مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ قَالُوا لَوْ شَاءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً فَإِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ، فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ، فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي أَيَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِيقَهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَخْزَى وَهُمْ لَا يُنصَرُونَ– (হা-মীম সাজদাহ ১৬–১৩)–
'…তারা (আদ ও ছামূদ লোকেরা) বলল, 'আম ও ছামূদ তাদের অর্থ ও আমাদের নিকটে আসা বিষয়ের সংবাদ প্রতিষ্ঠা করলাম' (৪৩/৪৩)। 'অতঃপর 'আদ-এর লোকেরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করল, বলল, কে আছে আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী? বস্তুতঃ তারা আমাদের নিদর্শন সমূহ অস্বীকার করে যেত' (৪৪)। 'অতঃপর তাদের উপরে আমরা দুর্ভাগ্যের কয়েকটি দিনে ভয়ার্ত বায়ু পাঠালাম, যাতে তাদের পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করতে পারে। আর পরকালের আযাব হবে আরো অধিক লাঞ্ছনাকর এবং তাদের কোনরূপ সাহায্যও হবে না' (ফুচ্ছিলাত/হা-মীম সাজদাহ ৪১/১৩-১৬)।
সূরা আহকাফ ২১-২৬ আয়াতে উক্ত আয়াতের ধরন বর্ণিত হয়েছে এভাবে,
وَاذْكُرْ أَخَا عَادٍ إِذْ أَنذَرَ قَوْمَهُ بِالْأَحْقَافِ وَقَدْ خَلَتِ النُّذُرُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ، قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَأْفِكَنَا عَنْ آلِهَتِنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ، قَالَ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَأُبَلِّغُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ– (الأحقاف ২৬–২১)–
'আর তুমি 'আদের ভাই (হূদ)-এর কথা বর্ণন কর, যখন সে তার কওমকে বালুকাময় উঁচু ভূখণ্ডে সতর্ক করে বলেছিল, এতে তার পূর্বে ও পরে অনেক সতর্ককারী পাঠানো হয়েছিল। (সে বলেছিল,) 'তোমরা আল্লাহ ছাড়া কোন মহাদেবীর ইবাদত কর না। আমি তোমাদের জন্য এক মহাদেবীর শাস্তির আশঙ্কা করি' (আহকাফ ৪৬/২১)। 'তারা বলল, হে হূদ! তুমি কি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে এসেছ, তা নিয়ে আসনি! আমরা তোমার কথা মত আমাদের উপাসনার দেব-দেবী পরিত্যাগ করব না। আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসী নই' (২২)। 'সে বলল, আমি জানি তো কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে। আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি, তবে আমি দেখতে পাচ্ছি যে তোমরা মূর্খ জাতি' (২৩)। 'অতঃপর তারা যখন মেঘখণ্ড তাদের পর্বতমালা সমূহের অভিমুখী হতে দেখল, তখন বলল, এতো মেঘ, আমাদের বৃষ্টি দেবে। (হূদ বললেন) বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা ত্বরাতাড়ি চেয়েছিলে। এটা একটি বায়ু, যার মধ্যে মর্মন্তুদ শাস্তি আছে। এটা সবকিছু ধ্বংস করে দেবে' (২৪)। 'সে তার প্রভুর আদেশে সবকিছু ধ্বংস করে দিল। অতঃপর তারা এমন অবস্থায় পড়ল যে, তাদের ঘরগুলো ছাড়া দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না কিছুই। এমনিভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে শাস্তি দিয়ে থাকি' (২৫)। 'আর আমরা তাদেরকে এমন ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমরা তাদের দিয়েছিলাম কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়। কিন্তু সেসব কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে যেত এবং সেই শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত' (আহকাফ ৪৬/২১-২৬)।
উক্ত সূরা হা-কাক্কাহ ৭-৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন,
سُخِّرَتْ عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَى كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ، فَهَلْ تَرَى لَهُم مِّن بَاقِيَةٍ– (৭–৮ الحاقة)–
'তাদের উপরে প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু প্রবাহিত হয়েছিল সাত রাত্রি ও আট দিন ধরে অবিরামভাবে। (হে মুহাম্মাদ!) তুমি যদি দেখতে পেতে যে, তারা আসার আর্তচীৎকার করে মাটিতে উপুড় হয়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছে যেন শূন্যগর্ভ খেজুর বৃক্ষের গুঁড়ি' (হা-কাক্কাহ ৬৯/৭-৮)।
সূরা ফজর ৬-৮ আয়াতে 'আদ বংশের শৌর্য-বীর্য সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর শেষনবীকে স্মরণ করিয়ে বলেন,
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ، إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ، الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ
'আপনি কি জানেন না আপনার প্রভু কিরূপ আচরণ করেছেন 'আদে ইরাম (প্রথম 'আদ) গোত্রের সাথে? (ফজর ৬)। 'যারা ছিল উচু উচু স্তম্ভের মালিক' (৭)। 'এবং যাদের সমান কোন জনপদ সমূহে সৃষ্টি করা হয়নি' (ফজর ৮৯/৬-৮)।
✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।
#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম
17/05/2026
16/05/2026
15/05/2026
14/05/2026
13/05/2026
12/05/2026