Quran Insight

Quran Insight

Share

AI-powered Quran search & Tafsir
বাংলা বা ইংরেজিতে কুরআন সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন করুন।
রেফারেন্সসহ নির্ভুল উত্তর পান—সহজ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে 📖✨

18/05/2026

পর্ব — ৩১ | হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)
হূদ (আঃ)-এর দাওয়াত:
সূরা আ'রাফ ৬৫-৭২ আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ، قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ، قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ، أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ، أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِن بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ، قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ، قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ فَانتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُم مِّنَ الْمُنتَظِرِينَ، فَأَنجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَمَا كَانُوا مُؤْمِنِينَ– (الأعراف ৬৫–৭২)–
অনুবাদঃ আর 'আদ সম্প্রদায়ের নিকটে (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে। সে বলল, 'হে আমার সম্প্রদার! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। বস্তুতঃ তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না?' (আরাফ ৭/৬৫)। 'তার সম্প্রদায়ের কাফের নেতারা বলল, আমরা তোমাকে নিশ্চিতভাবে নির্বোধ মনে করি এবং তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি' (৬৬)। 'হূদ বলল, হে আমার সম্প্রদার! আমার মধ্যে কোন নির্বুদ্ধিতা নেই। বরং আমি বিশ্বপালকের প্রেরিত একজন রাসূল। আমার সম্প্রদায়ের প্রতি আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তাসমূহ পৌঁছে দেই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী ও বিশ্বস্ত' (৬৮)। 'তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের মধ্য থেকে একজনের নিকট অহী (স্মরণ) এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করতে পারে? তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ কওমে নূহের পরে তাদের স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং তোমাদের আকৃতিতে শক্তিশালী ও বলিষ্ঠ করলেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামত সমূহ স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও' (৬৯)। 'তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে কেবল এসেছ যে, আমরা শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি, আর আমাদের বাপ-দাদারা যাদের পূজা করত, তাদেরকে পরিত্যাগ করি? তাহলে তুমি (আমাদের দেখাও), যদি তুমি সত্যবাদী হও)' (৭০)। 'হূদ বলল, তোমাদের উপর প্রভুর আযাব ও ক্রোধ অবধারিত হয়ে গেছে। তোমরা কি আমার সাথে ঐসব নাম সম্পর্কে বিতর্ক করছ, যেগুলোর নামকরণ তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা করেছ? এই সম্পর্কে আল্লাহ কোন প্রমাণ (অনুমতি) নাযিল করেননি। অতএব অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি' (৭১)। 'অবশেষে আমরা তাকে ও তার সাথীদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং যারা আমাদের আয়াত সমূহ মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছিল, তাদের মূলোৎপাটন করে দিলাম। বস্তুতঃ তারা বিশ্বাসী ছিল না' (৭২)।
অতঃপর সূরা হুদ ৫০-৬০ আয়াতে আল্লাহ উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন নিম্নরূপঃ
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ، يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي أَفَلَا تَعْقِلُونَ، وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَى قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ، قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ، إِن نَّقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ، مِن دُونِهِ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ، إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُمْ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ، فَإِن تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا إِنَّ رَبِّي عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ، وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَنَجَّيْنَاهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ، وَتِلْكَ عَادٌ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلَهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ، وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا إِنَّ عَادًا كَفَرُوا رَبَّهُمْ أَلَا بُعْدًا لِّعَادٍ قَوْمِ هُودٍ– (হূদ ৬০–৫০)–
অনুবাদঃ আর 'আদ জাতির প্রতি (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে (তাদের ভাই অর্থাৎ গোত্রীয় ভাই)। সে তাদের বলল, হে আমার সম্প্রদার! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মা'বুদ নেই। বস্তুতঃ তোমরা সবাই এ ব্যাপারে মিথ্যাচার করছ' (হুদ ১১/৫০)। 'হে আমার জাতি! (আমার এ দাওয়াতের জন্য) আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক তো কেবল সেই মহান সত্তার কাছে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবে কি তোমরা বুঝতে পারছ না?' (৫১)। 'হে আমার সম্প্রদার! তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর দিকে ফিরে যাও। তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বারিধারা বৃষ্টি প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন। তোমরা অপরাধীদের ন্যায় মুখ ফিরিয়ে নিও না' (৫২)। 'তারা বলল, হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আসনি, আমরা তোমার কথা মত আমাদের উপাস্য-দেবতা (তোমার উপাস্য) আল্লাহর জন্য পরিত্যাগ করব না (এমন হতে পারে না)। তুমি বলতে যা বলছ তার উপর আমরা ঈমান আনব না। বরং আমরা তো একথাই বলব যে, আমাদের কোন দেব-দেবী হয়তো তোমাকে আঘাত করেছে' (৫৩)। 'সে বলল, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি, আর তোমরাও সাক্ষী থাক যে, তাদের থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত, যাদেরকে তোমরা শরীক কর' (৫৪)। 'তাকে বাদ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে তোমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্র কর। অতঃপর আমাকে কোনরূপ অবকাশ দিও না' (৫৫)। 'আমি আল্লাহর উপরে ভরসা করেছি, যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা। ভূতলে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই, যার কপালে তাঁর কর্তৃত্ব নেই। আমার পালনকর্তা সরল পথের অনুসারী' (৫৫)। 'এরপরে যদি তোমরা পিছনে ফিরে যাও, তাহলে আমি তোমাদের নিকটে পৌঁছে দিয়েছি যা নিয়ে আমি তোমাদের নিকটে প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর আমার প্রভু অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তখন তোমরা তাঁর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা প্রতিটি বস্তুর হেফাযতকারী' (৫৭)। 'অতঃপর যখন আমাদের আদেশ (গযব) আসল, তখন আমরা হূদ এবং তার সাথে ঈমানদারদের অনুগ্রহে মুক্ত করলাম এবং তাদেরকে একটি কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করলাম' (৫৮)। 'তারাই ছিল 'আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াত সমূহে (নিদর্শন সমূহে) অবিশ্বাস করেছিল এবং তার উক্ত রাসূলগণের আদেশ পালন করেছিল, তারা প্রত্যেক উদ্ধত ও একরোখা বাধ্যজনের আদেশ পালন করেছিল।' 'এ দুনিয়ার জীবনেও তাদের উপরে অভিসম্পাৎ বর্তানো হয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও। জেনে রেখ 'আদ জাতি তাদের পালনকর্তার সাথে কুফরী করেছে। জেনে রেখ, হূদের কওম 'আদ জাতির জন্য 'অভিসম্পাৎ' (হুদ ১১/৫০-৬০)।
হূদ (আঃ) তাঁর জাতিকে তাদের বিলাসোপকরণ ও অন্যায় আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং এতদসত্ত্বেও তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যেমন সূরা শু'আরা ১২৮-১৩৯ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ، وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ، وَإِذَا بَطَشْتُمْ بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ، فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ، وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ، أَمَدَّكُم بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ، وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ، إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ، قَالُوا سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ الْوَاعِظِينَ، إِنْ هَذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ، وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ– (الشعراء ১৩৯–১২৮)–
অনুবাদঃ 'তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে অযথা নিদর্শন নির্মাণ করছ (২৬/১২৮)? (যেমন সুউচ্চ টাওয়ার, স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি)।' 'এবং তোমরা বিরাট বিরাট ইমারত বানাচ্ছ, মনে হয় যেন তোমরা চিরকাল বসবাস করবে' (১২৯)। 'যখন তুমি কাউকে আক্রমণ কর, তখন নির্দয়-নিষ্ঠুরের মত আঘাত করো' (১৩০)। 'অতএব তোমরা আল্লাহর ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর' (১৩১)। 'তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন তার বস্তু দ্বারা যা তোমরা জানো' (১৩২)। 'এবং উদ্যান ও ঝরণা সমূহ দ্বারা' (১৩৪)। (অতঃপর হূদ (আঃ) কঠিন আযাবের কথা দেখিয়ে বললেন), 'আমি তোমাদের জন্য মহাভয়ের শাস্তির আশঙ্কা করি' (১৩৫)। 'অবশেষে তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও বা না দাও সবই আমাদের জন্য সমান' (১৩৬)। 'তোমার এসব কথাবার্তা তো পূর্ববর্তী জাতির রীতি-আচার ছাড়া কিছু নয়' (১৩৭)। 'আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না' (১৩৮)। (আল্লাহ বলেন), 'অতঃপর তারা তাদের নবীকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করল। ফলে আমরাও তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। এর মধ্যে নিশ্চয়ই নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না' (শু'আরা ২৬/১২৮-১৩৯)।
সূরা হা-মীম সাজদাহ ১৩-১৬ আয়াতে 'আদ জাতির অলীক দাবী, অথবা দম্ভ ও তাদের উপরে আপতিত শাস্তির বর্ণনা সমূহ এসেছে এভাবে,
فَإِنْ أَعْرَضُوا فَقُلْ أَنذَرْتُكُم صَاعِقَةً مِّثْلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ، إِذْ جَاءَتْهُمُ الرُّسُلُ مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ قَالُوا لَوْ شَاءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً فَإِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ، فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ، فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي أَيَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِيقَهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَخْزَى وَهُمْ لَا يُنصَرُونَ– (হা-মীম সাজদাহ ১৬–১৩)–
'…তারা (আদ ও ছামূদ লোকেরা) বলল, 'আম ও ছামূদ তাদের অর্থ ও আমাদের নিকটে আসা বিষয়ের সংবাদ প্রতিষ্ঠা করলাম' (৪৩/৪৩)। 'অতঃপর 'আদ-এর লোকেরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করল, বলল, কে আছে আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী? বস্তুতঃ তারা আমাদের নিদর্শন সমূহ অস্বীকার করে যেত' (৪৪)। 'অতঃপর তাদের উপরে আমরা দুর্ভাগ্যের কয়েকটি দিনে ভয়ার্ত বায়ু পাঠালাম, যাতে তাদের পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করতে পারে। আর পরকালের আযাব হবে আরো অধিক লাঞ্ছনাকর এবং তাদের কোনরূপ সাহায্যও হবে না' (ফুচ্ছিলাত/হা-মীম সাজদাহ ৪১/১৩-১৬)।
সূরা আহকাফ ২১-২৬ আয়াতে উক্ত আয়াতের ধরন বর্ণিত হয়েছে এভাবে,
وَاذْكُرْ أَخَا عَادٍ إِذْ أَنذَرَ قَوْمَهُ بِالْأَحْقَافِ وَقَدْ خَلَتِ النُّذُرُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ، قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَأْفِكَنَا عَنْ آلِهَتِنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ، قَالَ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَأُبَلِّغُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ– (الأحقاف ২৬–২১)–
'আর তুমি 'আদের ভাই (হূদ)-এর কথা বর্ণন কর, যখন সে তার কওমকে বালুকাময় উঁচু ভূখণ্ডে সতর্ক করে বলেছিল, এতে তার পূর্বে ও পরে অনেক সতর্ককারী পাঠানো হয়েছিল। (সে বলেছিল,) 'তোমরা আল্লাহ ছাড়া কোন মহাদেবীর ইবাদত কর না। আমি তোমাদের জন্য এক মহাদেবীর শাস্তির আশঙ্কা করি' (আহকাফ ৪৬/২১)। 'তারা বলল, হে হূদ! তুমি কি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে এসেছ, তা নিয়ে আসনি! আমরা তোমার কথা মত আমাদের উপাসনার দেব-দেবী পরিত্যাগ করব না। আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসী নই' (২২)। 'সে বলল, আমি জানি তো কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে। আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি, তবে আমি দেখতে পাচ্ছি যে তোমরা মূর্খ জাতি' (২৩)। 'অতঃপর তারা যখন মেঘখণ্ড তাদের পর্বতমালা সমূহের অভিমুখী হতে দেখল, তখন বলল, এতো মেঘ, আমাদের বৃষ্টি দেবে। (হূদ বললেন) বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা ত্বরাতাড়ি চেয়েছিলে। এটা একটি বায়ু, যার মধ্যে মর্মন্তুদ শাস্তি আছে। এটা সবকিছু ধ্বংস করে দেবে' (২৪)। 'সে তার প্রভুর আদেশে সবকিছু ধ্বংস করে দিল। অতঃপর তারা এমন অবস্থায় পড়ল যে, তাদের ঘরগুলো ছাড়া দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না কিছুই। এমনিভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে শাস্তি দিয়ে থাকি' (২৫)। 'আর আমরা তাদেরকে এমন ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমরা তাদের দিয়েছিলাম কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়। কিন্তু সেসব কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে যেত এবং সেই শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত' (আহকাফ ৪৬/২১-২৬)।
উক্ত সূরা হা-কাক্কাহ ৭-৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন,
سُخِّرَتْ عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَى كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ، فَهَلْ تَرَى لَهُم مِّن بَاقِيَةٍ– (৭–৮ الحاقة)–
'তাদের উপরে প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু প্রবাহিত হয়েছিল সাত রাত্রি ও আট দিন ধরে অবিরামভাবে। (হে মুহাম্মাদ!) তুমি যদি দেখতে পেতে যে, তারা আসার আর্তচীৎকার করে মাটিতে উপুড় হয়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছে যেন শূন্যগর্ভ খেজুর বৃক্ষের গুঁড়ি' (হা-কাক্কাহ ৬৯/৭-৮)।
সূরা ফজর ৬-৮ আয়াতে 'আদ বংশের শৌর্য-বীর্য সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর শেষনবীকে স্মরণ করিয়ে বলেন,
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ، إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ، الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ
'আপনি কি জানেন না আপনার প্রভু কিরূপ আচরণ করেছেন 'আদে ইরাম (প্রথম 'আদ) গোত্রের সাথে? (ফজর ৬)। 'যারা ছিল উচু উচু স্তম্ভের মালিক' (৭)। 'এবং যাদের সমান কোন জনপদ সমূহে সৃষ্টি করা হয়নি' (ফজর ৮৯/৬-৮)।

✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।

#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম

17/05/2026

পর্ব — ৩০ | হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)
৪. হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)
হূদ (আঃ)-এর পরিচয়:
হযরত হূদ (আঃ) দুর্ধর্ষ ও শক্তিশালী 'আদ জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহর গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রধান ছয়টি জাতির মধ্যে কওমে নূহ-এর পরে কওমে 'আদ ছিল দ্বিতীয় জাতি। হূদ (আঃ) ছিলেন এদেরই বংশধর। 'আদ ও ছামূদ ছিল নূহ (আঃ)-এর পুত্র সামের বংশধর এবং নূহের পঞ্চম অথবা অষ্টম অধঃস্তন পুরুষ। ইরামপুত্র 'আদ-এর বংশধরগণ 'আদ উলা' বা প্রথম 'আদ এবং অপর পুত্রের সন্তান ছামূদ-এর বংশধরগণ 'আদ ছানী' বা দ্বিতীয় 'আদ বলে খ্যাত। 'আদ ও ছামূদ উভয় গোত্রই ইরাম-এর দুটি শাখা। সেকারণ 'ইরাম' কথাটি 'আদ ও ছামূদ উভয় গোত্রের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এজন্য কুরআনে কোথাও 'আদ উলা' (নাজম ৫০) এবং কোথাও 'ইরাম যাতিল ইমাদ' (ফজর ৭) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
'আদ সম্প্রদায়ের ১৩টি পরিবার বা গোত্র ছিল। আসমান হতে শুক করে তা'হারামাউত ও ইয়ামান পর্যন্ত তাদের বসতি ছিল। তাদের ক্ষেত-খামারগুলো ছিল অত্যন্ত জীবন ও শস্যশ্যামল। তাদের প্রায় সব ধরনের বাগ-বাগিচা ছিল। তারা ছিল সুঠামদেহী ও বিরাট বপু সম্পন্ন। আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি অসংখ্যবার রুহের ভুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু বক্রবুদ্ধির কারণে এবং নেমতই তাদের কাল হয়ে দাঁড়াল। তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছিল ও অন্যকে পথভ্রষ্ট করেছিল। তারা মনমতো বলে 'আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে' (ফুচ্ছিলাত/হামীম সাজদাহ ১৫) বলে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করতে শুরু করেছিল। তারা আল্লাহর ইবাদত পরিত্যাগ করে নূহ (আঃ)-এর আমলে ফেলে আসা মূতিপূজার শিরকে পুনরায় প্রচলন ঘটালো। মাত্র কয়েক পুরুষ ধরে যেন বাওয়া নূহের সর্বশেষী প্লাবনের কথা তারা বেমালুম ভুলে গেল। ফলে আল্লাহ পাক তাদের হেদায়েতের জন্য তাদেরই মধ্য হতে হূদ (আঃ)-কে নবী হিসাবে প্রেরণ করলেন। উল্লেখ্য যে, নূহের প্লাবনের পরে এরাই সর্বপ্রথম মূর্তিপূজার শুরু করে।
হযরত হূদ (আঃ) ও কওমে 'আদ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ১৭টি সূরার ৭৩টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।

#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম

16/05/2026

পর্ব — ২৯ | হযরত ইদরীস (আঃ)
৩. হযরত ইদরীস (আঃ)
আল্লাহ বলেন,
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا، وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
'তুমি এই কিতাবে ইদরীসের কথা আলোচনা কর। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী।' 'আমরা তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম' (মারিয়াম ১৯/৫৬-৫৭)।
ইদরীস (আঃ)-এর পরিচয়: তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত নবী। তাঁর নামের বহু উপকথা তাফসীরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যে কারণে জনসাধারণের কাছে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। হযরত ইদরীস (আঃ) হযরত নূহ (আঃ)-এর পূর্বের নবী ছিলেন, না পরের নবী ছিলেন এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ছাহাবীর মতে তিনি নূহ (আঃ)-এর পরের নবী ছিলেন।
সূরা মারিয়ামে হযরত ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, হারূন, মূসা, যাকারিয়া, ইসহাইয়া, ঈসা ইবনে মারিয়াম ও ইদরীস (আঃ)-এর আলোচনা শেষে আল্লাহ বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ مِن ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا
'এঁরাই হলেন সেই সকল নবী, যাদেরকে নবীগণের মধ্য হতে আল্লাহ বিশেষভাবে অনুগৃহীত করেছেন। এঁরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমরা নূহের সাথে নৌকায় তুলেছিলাম তাদের বংশধর এবং ইবরাহীম ও ইসরাঈল (ইয়াকূব)-এর বংশধর এবং যাদেরকে আমরা (ইসলামের) সুপথ প্রদর্শন করেছি ও (ঈমানের জন্য) মনোনীত করেছি তাদের বংশধর। তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াত সমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত ও কান্না করত' (মারিয়াম ১৯/৫৮)।
উল্লেখ্য যে, পিতার আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস, আলী আল-আহবার, সুধী প্রমুখের বরাতে হযরত ইদরীস (আঃ)-এর জান্নাতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফেরেশতার মাধ্যমে শরীরে অসমাপ্ত উথান ও ৪র্থ আসমানে মালাকুল মউত কর্তৃক জান কবজ করার পর জান্নাতে প্রবেশ করা ইত্যাদি বিষয়ে যেসব বর্ণনা তাফসীরীদের কিতাবে সমূহে দেখতে পাওয়া যায়, তার সবই ভিত্তিহীন ইসরাঈলী উপকথা।
উল্লেখ্য যে, পবিত্র কুরআনে হযরত ইদরীস (আঃ) সম্পর্কে সূরা মারিয়াম ৫৬, ৫৭ এবং সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
কুরতুবী বলেন, ইদরীস (আঃ)-এর নাম 'আখনুখ' ছিল এবং তিনি হযরত নূহ (আঃ)-এর পঞ্চমাধিক বংশের বিশেষপ্রসঙ্গণ যে কথা বলেছেন, তা ধারণা মাত্র। এনিভাবে অনাপ্তসূত্র নবীদের যে দীর্ঘ বংশধারা সাধারণতঃ বর্ণনা করা হয়ে থাকে, সে সব কোন সঠিক ভিত্তি নেই। অর্থাৎ একটি ইসলাম গ্রহণকারী সাবেক ইহুদী থেকে কুরতুবী বলেছেন যে, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে ইবনু হিব্বানে (৩৩১) যে বর্ণনা এসেছে, তার সনদ ঠিক আছে।
কুরতুবী বলেন, তিনি যে নূহের পূর্বের নবী ছিলেন না, তার বড় প্রমাণ হল এই যে, 'মি'রাজে' যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ১ম আসমানে আদম (আঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়, তখন তিনি রাসূলকে অভাগিনী জানাতে বলেন, مرحبا 'বালাস আস-সালিহ ওয়ালি আস-নাবিইস সালিহ' অর্থাৎ 'নেককার সন্তান ও নেককার নবীর জন্য সাদর স্বাগত সংবাদ'। অতঃপর ৪র্থ আসমানে হযরত ইদরীস (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি রাসূলকে বললেন مرحبا 'নেককার ভাই ও নেককার নবীর জন্য সাদর স্বাগত সংবাদ।' কারণ বিশুদ্ধ আরব বলে, যদি ইদরীস (আঃ) নূহ (আঃ)-এর পূর্বকর্তার নবী না হতেন, তাহলে তিনি শেষনবীকে 'সন্তান' না বলে 'নেককার ভাই-এর জন্য সাদর স্বাগত সংবাদ' বলতেন। যেমন আদম, নূহ ও ইবরাহীম বলেছিলেন। তিনি বলেন, নূহ ছিলেন সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত প্রথম রাসূল। যেমন শেষনবী ছিলেন সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত নবী। ওনাদের মধ্যবর্তী নবীগণ কেবল নিজ নিজ কওমের প্রতি প্রেরিত নবী। যেমন বলা হয়, ছালেহ প্রথম নবী। উল্লেখ্য যে, এখানে এবং ইবরাহীমের ক্ষেত্রে 'পিতা' হিসাবে বাছ করার কারণ হল যে, আদম হলেন মানবজাতির আদি পিতা। নূহ হলেন মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা এবং ইবরাহীম হলেন তাঁর পরবর্তী সকল নবীর পিতা 'আবুল আম্বিয়া'।
বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত ইদরীস (আঃ) হলেন 'আদি' মানব, যিনি, কলমে যুগে জোতির্বিজ্ঞান এবং অক্ষরজ্ঞান দান করা হয়েছিল। তিনি সর্বপ্রথম মানুষ, যিনি আল্লাহ ইলহাম থেকে কলমের মাধ্যমে সায়েন্স লিখন পদ্ধতি ও বর্ণ শিক্ষার সূচনা করেন। তাঁর পূর্বে মানবসমাজে তাঁর ভূমিকা হিসেবে তীরধনুক তামার ভার বহনের কাজ করত। তিনি সর্বপ্রথম মানুষ, যিনি সেলাই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং (লোহা বা তামা) অস্ত্র তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন ও তার বিস্তার ঘটান এবং কখনও ফেলে রাখেন। তিনি অর্থ নির্ধারণ করে কাবিলের বিরুদ্ধে জেহাদ করেন।

✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।

#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম

15/05/2026

পর্ব — ২৮ | হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)
নূহ (আঃ)-এর জীবনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ:
১. প্রথম রাসূল নূহ (আঃ)-এর সত্যতার বিরুদ্ধে যে পাঁচটি আপত্তি তোলা হয়েছিল, সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সত্যতার বিরুদ্ধেও ঐ অভিযোগগুলি তোলা হয়েছিল। শেষনবীর প্রকৃত দীনী উত্তরাধিকারী হিসাবে সমাজ সংস্কারক মুত্তাকী আলেমগণের উপরে নবুওয়তের বিষয়টি বাদে বাকি চারটি অভিযোগ যুগে যুগে উথাপিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
২. নূহ (আঃ) যেমন দীর্ঘকাল যাবত নিজ জাতির পক্ষ হতে অবণীত দীর্ঘদিনের পরেও আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন, তেমনি প্রকৃত সমাজ হিতৈষী আলেম ও নেতাগণেরও তেমনি নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
৩. নবী পরিবারের সদস্যা হওয়া সত্ত্বেও ঈমান না থাকার কারণে নূহের স্ত্রী ও পুত্র যেমন নাজাত লাভে বঞ্চিত হয়েছে, তেমনি এ যুগেও হওয়া সত্ত্বে। কাফির ও মুশরিক সন্তান বা কোন নিকটজনের মাগফেরাতের জন্য আল্লাহর নিকটে দোয়া করা নিষেধ আছে।
৪. ঈমানী সম্পদই বড় সম্পদ। আল্লাহর নিকটে ঈমানদারের মর্যাদা সর্বোপেক্ষা বেশি। যদিও সে দুনিয়ার জীবনে দীনহীন গরীব হয়।
৫. ঈমানহীন সমাজ তথা ও নবী ছাড়া ঈমানদার গরীবদের নিয়ে সিঁড়ি দেওয়া যায় না।
৬. মৃত মেকলার মানুষের অসীলার পরকালে মুক্তি পাওয়ার ধারণার ভিত্তি হল ইহুদী-খ্রিষ্টান মতের অনুসরণ। এটি শিরকের কারণেই নূহের কওম আল্লাহর গযবে পড়েছিল। তাই যাবতীয় প্রকারের শিরক থেকে আল্লাহর রক্ষা করার জন্য আলেমদের এবং সমাজ ও রাষ্ট্র নেতাদের এগিয়ে আসা দরকারী।
৭. সমাজ নেতাদের পথভ্রষ্টতার কারণেই দেশে আল্লাহর গযব নেমে আসে। অতএব তাদেরকে সবার আগে ঈশারা হওয়া কর্তব্য।
৮. বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করার সাথে সাথে সাধ্যমত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। যেমন নূহ (আঃ) প্রার্থনা করেছিলেন আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করেন। অতঃপর গযব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর হুকুমে নৌকা তৈরি করেন।
৯. আল্লাহ পাক তাঁর অহী দ্বারা বিভিন্ন নবীর মাধ্যমে যুগে যুগে বিভিন্ন শিল্পকলার সূচনা করেছেন। যেমন আদম (আঃ)-এর মাধ্যমে কৃষিকার্য ও চাকার শিল্পের সূচনা করেছেন এবং নূহ (আঃ)-এর মাধ্যমে জাহাজের শিল্পের সূচনা করেছেন।
১০. দুনিয়াবী জৌলুস সত্ত্বেও যাঁরা সর্বগুণেই নিকৃষ্ট ও ঘৃণার্হ, পক্ষান্তরে নির্ধারিত হওয়ার সত্ত্বেও ঈমানদারগণ সর্বগুণে নিকৃষ্ট ও প্রশংসিত।
১১. কিছু মানুষের প্রকৃত মঙ্গল নিহিত রয়েছে। মামুল নিজে তা নির্ণয় করতে আল্লাহর বেশি ভাল জানেন। তাই 'আল্লাহর অহি' তথা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীছের হেদায়াতই প্রকৃত হেদায়াত এবং এর ভুল তাতে মাগণি।
১২. প্রথমসহ নবীর দাওয়াতের মূল লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন এবং তা ছিল নিরেতার তাওহীদের প্রতি দাওয়াত। মানুষের সার্বিক জীবনে তাওহীদ প্রতিষ্ঠাই হল প্রকৃত অর্থে ইসলামের দীন।
১৩. আল্লাহ বীন নেকাকার বান্দাগণের পক্ষে তাদের শক্রদের থেকে প্রতিশোধ নিয়ে থাকেন এবং নেক বান্দাদের মুক্ত করেন। যেমন নূহের শক্রদের থেকে আল্লাহ বদলা নিয়েছিলেন এবং নূহ ও তাঁর ঈমানদার দলকে শক্রদের থেকে মুক্তিদান করেছিলেন।
১৪. ঈমানদারগণের নিকটে বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম তাওহাবিক ছিল এই যে, তারা হল সমাজের দীনহীন ও ফুচ্ছলিন্ধি লোক (الأرأى نادي الرأى)। হূদ (২৭)। এ যুগেও তার ব্যতিক্রম নয়।
১৫. নবী-রাসূল ও তাঁদের অনুসারী সমাজ সংস্কারকগণ সমাজের গালমন্দ থেকে সমাজ ছাড়া করেন না। কিন্তু তারা বদ দোয়া করলে আল্লাহর গযব নেমে আসে।

✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।

#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম

14/05/2026

পর্ব — ২৭ | হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)
নৌকার আরোহীগণ:
তুফানের আলামত প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে নূহ (আঃ)-কে হুকুম দেওয়া হল,
فَقُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِن كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ
'জোড়া বিশিষ্ট প্রত্যেক প্রাণীর এক এক জোড়া করে নৌকায় তুলে নাও' (হুদ ১১/৪০; যিলযাল ২৩/২৭)। এর দ্বারা কেবল এমন প্রাণী বুঝানো হয়েছে, যা নর ও মাদীর মিলনে জন্মলাভ করে এবং যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অতীব প্রয়োজনীয়। যেমন গরু-ছাগল, ঘোড়া-গাধা ও হাঁস-মুরগী ইত্যাদি পশু-পক্ষী।
এরপর নূহ (আঃ)-কে নির্দেশ দেওয়া হয় কেবল তাঁর পরিবারসহ ঈমানদার নর-নারীকে নৌকায় তুলে নিতে। যাদের সংখ্যা অতি নগণ্য ছিল (হুদ ৪০)। কিন্তু সঠিক সংখ্যা কুরআন বা হাদীছে উল্লেখিত হয়নি। তবে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল চল্লিশ জন পুরুষ ও নারী মোট আশি জন। প্লাবনের পর তারা আরারেৎ নদীর নগরীর যে স্থানিতে অবতরণ করে সেই 'ছামানিন' বা আশি নামে খ্যাত হয়ে যায়। প্লাবনে মুক্তিপাওয়ার 'সুমার' (سومر) জাতি বলা হত। 'জুদী' (جودي) পাহাড়ে গিয়ে নৌকা নোঙর করে (হুদ ১১/৪৪)। এ পাহাড়টি আজও এ নামেই পরিচিত। এটি নূহ (আঃ)-এর মূল আবাস ভূমি ইরাকের মুছেল নগরীর উত্তরে 'ইবনে ওমর' দ্বীপের কাছে আর্মেনিয়া সীমান্তে অবস্থিত। বস্তুতঃ এটি একটি পর্বতমালার অংশ বিশেষের নাম এর অপর এক অংশের নাম 'আরারাত' পর্বত। প্রাচীন ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে যে, ইরাকের বিভিন্ন স্থানে উক্ত কিশতীর গুড়া টুকরা সহ অনেকে কাছে সংরক্ষিত আছে। যা বরফে মোড়া হয়ে এবং বিভিন্ন রোগ-বাঁধেতে আরোগ্যের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য যে, নূহের পুত্র কাফেরদের দলভুক্ত হওয়ায় মহাপ্লাবনে ধ্বংস হয়েছিল। কিন্তু নূহের স্ত্রী সম্পর্কে এখানে কিছু বলা হয়নি। এতে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আগেই মারা গিয়েছিলেন (ইনআম কাফির, হুদ ১১/৪০)। তিনি গোপনে কুফরী পোষণ করতেন ও কাফেরদের সমর্থন করতেন। নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রী এ দুজনের নামুসতায়ার উপরে বিশ্বাস স্থাপনের ফেলে ঘেরানা কেহাতিন ছিলেন বলে তারা জাহান্নামবাসী হওয়ার ব্যাপারে কোন কিছু করার না থাকায় তারা জাহান্নামবাসী হয়েছেন (তাহরীম ৬৬/১০)। সর্বোপরি মহাপ্লাবনের সময় নূহের স্ত্রী জীবিত ছিলেন না। সেকারণ প্লাবনের ঘটনা বর্ণনার কেবল পুত্র ইয়ামের কথা এসেছে। কিন্তু তার মায়ের কথা আসেনি।

✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।

#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম

13/05/2026

পর্ব — ২৬ | হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)
আপত্তি সমূহের জওয়াব:
(১) নেতাদের উপরোক্ত আপত্তি ও অপবাদ সমূহের জবাবে নূহ (আঃ) বলেন,
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِّنْ عِندِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمْ لَهَا كَارِهُونَ– (হূদ ২৮)–
'হে আমার কওম! আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপরে থাকি, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করেন, আর সেসব থেকে যদি তোমাদের চক্ষু অন্ধ থাকে, তাহলে কি আমি তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমাদের উপরে চাপিয়ে দিতে পারি?' (হুদ ১১/২৮)। এতে যারা বুঝানো হয়েছে যে, নবুওয়াত ও রিসালাত চেয়ে পাওয়া যায় না। এটা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি মানুষের জন্য কোন ফেরেশতাকে নয়, বরং তাঁর মনোনীত কোন মানুষকেই নবী করে পাঠান স্পষ্ট দলীল-প্রমাণ সহকারে। নূহ (আঃ) তাঁর কওমকে আরও বললেন,
وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ، وَيَا قَوْمِ مَن يَّنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِن طَرَدتُّهُمْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ– (হূদ ২৯–৩০)–
'আমি কোন (গরীব) ঈমানদার ব্যক্তিকে তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার দীদার লাভ করবে। বরং আমি তোমাদেরকে মূর্খ দেখছি।' 'হে আমার কওম! আমি যদি ওদের তাড়িয়ে দিই, তাহলে কে আমাকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা করবে? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?' (হুদ ২৯/২৯-৩০; সোয়াদ ২৬/১১১-১১৫)।
(২) তাদের দ্বিতীয় আপত্তির জবাবে নূহ (আঃ) বলেন,
وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ، وَيَا قَوْمِ مَن يَّنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِن طَرَدتُّهُمْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ– (হূদ ২৯–৩০)–
'আমি কোন (গরীব) ঈমানদার ব্যক্তিকে তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার দীদার লাভ করবে। বরং আমি তোমাদেরকে মূর্খ দেখছি।' 'হে আমার কওম! আমি যদি ওদের তাড়িয়ে দিই, তাহলে কে আমাকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা করবে? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?' (হুদ ২২/২৯-৩০; সোয়াদ ২৬/১১১-১১৫)।
(৩) তৃতীয় আপত্তির জবাবে তিনি বলেন,
وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ– (৩১)–
'তোমাদের দৃষ্টিতে যারা দীনহীন-অবজ্ঞিত বাকি তাদেরকে আল্লাহ কোনদিন কল্যাণ দান করবেন না, এমন কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। বরং যদি আমি এমন কথা বলি আমি অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব' (হুদ ১১/৩১)।
অতএব দুনিয়াবী প্রাধান্য মুলতঃ কোন প্রাধান্য নয়। পরকালীন উচ্চ মর্যাদাই প্রকৃত মর্যাদা।
(৪) চতুর্থ আপত্তির জবাবে তিনি পরপর দুটো উত্তর দিয়ে বলেন,
قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ، أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ– (৬১–৬২ الأعراف)–
'হে আমার কওম! আমার মধ্যে পথভ্রষ্টতা নেই। বরং আমি বিশ্বপ্রভুর পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল।' 'আমি তোমাদের নিকটে আমার প্রভুর রিসালাত পৌঁছে দেই এবং আমি তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়ে থাকি। কেননা আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন বিষয় জানি, যা তোমরা জানো না' (আরাফ ৭/৬১-৬২)।
অতএব আল্লাহ প্রদত্ত রিসালাত তথা অহী-র বিধান পালন করা ও তা জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়াই আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। দুনিয়ার ক্ষমতার কোন মোহ নেই। আদম (আঃ) থেকে শুরু করে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত সবাইকে দেওয়া হয়েছিল। আর সেকারণেই সকল নবীদের স্ব স্ব জাতির নিকট থেকে চরম নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল।
(৫) অতঃপর নেতৃত্ব লাভের আশার নূহ (আঃ) লোকদের নিকটে দাওয়াতের বিনিময়ে দেখালে দিয়ে বলেন যে,
وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ– (الشعراء ১০৯)–
'এই দাওয়াতের বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন মাল-দৌলত বা কোন বিনিময় কামনা করি না। আমার পুরস্কার তো কেবল বিশ্বপালকের (আল্লাহর) নিকটেই রয়েছে' (শু'আরা ১০/১০৯; হুদ ১১/২৯; ইউনুস ১০/৭২)।
বস্তুতপক্ষে সকল নবীই একথা বলেছেন। শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর কাছে এসে তাঁর কওমের নেতারা যখন নেতৃত্বের মধ্যে অথবা মাল-দৌলতের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন তিনি তা অস্বীকার করে বলেছিলেন, 'যদি তোমরা আমার ডান হাতে সূর্য ও বাম হাতে চন্দ্র এনে দাও, তবুও আমি যে কাজে নিজের আগমন করেছি, তা পরিত্যাগ করব না' (আস-সীরাহ ৯/৪৭)।
বস্তুতঃ শিরকের মাধ্যমে দুনিয়া অর্জন সহজলভ্য হয় বিধায় যুগ যুগ ধরে দুনিয়াপূজারী এক শ্রেণীর বাণিজ্যিক লোক মূর্তি, কবর ও মাযার নিয়ে পড়ে আছে। লোকেরা তাদেরকে আল্লাহর অলী ভাবে। অথচ তারা মূলতঃ শয়তানের অলী। ইবরাহীম (আঃ) এদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,
رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ– (ইবরাহীম ৩৬)–
'হে প্রভু! এ মূর্তিগুলি বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছে। এখন যারা আমার অনুগামী হয়েছে, কেবল তারাই আমার দলভুক্ত। আর যারা আমার অবাধ্যতা করেছে (তাদের ব্যাপারে আপনিই সর্বাধিক যোগ্য), নিঃসন্দেহে আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান' (ইবরাহীম ১৪/৩৬)। নিঃসন্দেহে যারা শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অনুসরণের দাবী করবে, কেবল তারাই আখেরাতে মুক্তি পাবে। নেহাতু 'শিরকের বিরোধী কিন্তু জামাতে অলৌকিক লোকের দল অনুসরণ করেছে' (আরাফ ৭/৩)। সেহেতু শিরকের মাধ্যমে তারা অবশ্যই অলৌকিক লোকেরা এবং মুশরিক বিভিন্ন মুখে আল্লাহকে স্বীকার করলেও তারা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের অধিবাসী হবে। অতএব হে মানুষ! শিরক হতে সাবধান হও!!

✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।

#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম

12/05/2026

পর্ব — ২৫ | হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)
নূহ (আঃ)-এর বিরুদ্ধে পাঁচটি আপত্তি:
কওমের অবিশ্বাসী নেতারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য নূহ (আঃ)-এর বিরুদ্ধে পাঁচটি আপত্তি উপস্থাপন করেছিল। যথাঃ (১) আপনি তো আমাদের মতই একজন মানুষ। নবী হতে তো ফেরেশতা হতেন। (২) আপনার অনুসারী হল আমাদের মধ্যকার হীন ও কম বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা। (৩) কওমের উপরে আপনাদের কোন প্রাধান্য বিদ্যাৎ হয় না (হুদ ২৭)। (৪) আপনার দাওয়াতে আমাদের বাপ-দাদাদের রীতি বিরোধী। (৫) আপনি আমাদের নেতৃত্বের অতিলোভী (যিলযাল ২৩/২৪-২৫)। অতএব আপনাকে আমরা মিথ্যাবাদী মনে করি (হুদ ১১/২৭)।
জনগণকে কেপিয়ে তোলার জন্য নূহ-এর দাওয়াতকে ক্ষমতালোভী বিরোধিতা বলে আখ্যায়িত করে কাফের নেতারা বলল,
فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُرِيدُ أَن يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً مَّا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ– (২৩–২৪)–
'এ লোক তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। আসলে সে তোমাদের উপরে নেতৃত্ব করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তো একদল ফেরেশতা পাঠাতে পারতেন। তাছাড়া এ লোক যেসব কথা বলছে, এইতো আমাদের বাপ-দাদাদের কাছে কখনো শুনিনি'। 'আসলে লোকটার মধ্যে পাগলামী রয়েছে কিংবা তার সাথে কোন জিন রয়েছে। অতএব তোমরা এ ব্যক্তির দিকে কোন মনোযোগ দিও না। বরং কিছুদিন অপেক্ষা কর' (যিলযাল ৩৩/৩৪-৪৫)। (এভাবে) 'তার তাকে সরাসরি পাগল বলে এবং (প্রাণে মারার) ভর্ৎসনা দেয়' (কামার ৫৪/৯)।

✨ আগামী পর্বগুলোতে আমরা একে একে প্রতিটি নবীর জীবনী, তাদের শিক্ষা ও কুরআনের আলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরব — ইনশাআল্লাহ।
📲 কুরআন ইনসাইট — আপনার ইসলামিক জ্ঞানের বিশ্বস্ত সঙ্গী। কুরআন, হাদীস ও ইসলামিক জ্ঞানের আলো নিয়ে আমরা প্রতিদিন আপনার পাশে আছি।

#কুরআন_ইনসাইট ী #ইসলামিক_জ্ঞান #নবীদের_জীবনী #কুরআনের_আলো #ইসলাম

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Dhaka
1230