Foreign Study Advise/FSA

Foreign Study Advise/FSA

Share

01626757535, 01739914801

26/10/2017

বিদেশে উচ্চশিক্ষার আশা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই দেশের বাইরে পড়াশোনার সুযোগ খোঁজেন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করা বেশ জনপ্রিয়। তবে শুধু বাংলাদেশে নয়, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় জনপ্রিয়তম দেশ। বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। তুলনামূলক অন্যান্য সমমানের দেশের তুলনায় কম খরচে এমন শান্তিপূর্ণ একটি দেশে মানসম্মত শিক্ষার কারণে উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে দেশটি প্রতিবছর হাতছানি দেয় হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খেয়ালে রাখতে হবে।

প্রতীকী ছবি
প্রস্তুতি নিতে হবে পরিকল্পনা করে

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসাতে আবেদন করার আগে আবেদনকারীকে কয়েকটি দিক থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়াতে আসতে হলে উদ্দেশ্য অবশ্যি শিক্ষাই হতে হবে। এর ব্যতিক্রম ভাবনা নিয়ে এ ভিসায় আবেদন না করাই শ্রেয়। আর সে ক্ষেত্রে সত্যিকার মেধাবী হওয়াটাই প্রাধান্য পায় সবার আগে। এর পরপরই অর্থনৈতিক ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজের খরচ বহনের আর্থিক সচ্ছলতা আবেদনকারীর পরিবারের রয়েছে কিনা তা ভালো করে বিবেচনা করতে হবে। যদিও পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের বেশ কতক সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, তবে সে উপার্জনে অনেক সময় খরচ চালাতে হিমশিম খান অনেকে। তাই এ বিষয়টাকে অনেকটা বোনাস হিসেবে ধরে রাখাই ভালো।

ইংরেজির দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে হবে

ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের মাপকাঠি না হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে গেলে ইংরেজি ভাষার দক্ষতাই প্রধান সোপান হয়ে দাঁড়ায় বিদেশে পড়াশোনা করতে। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর চেয়েও অস্ট্রেলিয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। ইংরেজির দক্ষতা প্রমাণ ছাড়া শিক্ষার্থী হিসেবে এ দেশে ভিসা পাওয়া অসম্ভব। তাই ইংরেজি ভাষা জ্ঞানে বেশ পাকাপোক্ত হওয়াটা খুবই জরুরি। বর্তমানে ইংরেজি ভাষা জ্ঞান প্রমাণ করার অনেক পরীক্ষা থাকলেও ‘আইইএলটিএস’ বেশি পরিচিত। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদনকারী স্নাতক বা তার নিচে পড়তে চাইলে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা প্রমাণের পরীক্ষায় অর্থাৎ আইইএলটিএস-এ ন্যূনতম সাড়ে ৫ পেতে হবে। কোর্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেদে তা বেশি স্কোরেরও প্রয়োজন হতে পারে। আর আবেদনকারী স্নাতকোত্তর পড়তে চাইলে আইইএলটিএস-এ ন্যূনতম ৬ স্কোর থাকতে হবে। তবে আবেদনকারী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না। তবে আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্তে বেশি স্কোর করারও প্রয়োজন পড়ে যা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটই দেওয়া থাকে।

বিষয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ

বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক এমন অনেকেই কোন বিষয়ে পড়তে যাবে সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। তারা কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তা নির্ধারণ করতে পারেন না। নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন, এমনটাই স্বাভাবিক হওয়া উচিত। তবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরই উদ্দেশ্য থাকে স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া বা স্থায়ীভাবে বসবাস করা। সেটা দোষের কিছু নয়। তবে সঠিক বিষয় নির্ধারণ করা অতি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোতে তাদের দেশের বাজারে কোন পেশার কতটুকু চাহিদা সেটার একটা ‘ডিমান্ড লিস্ট’ থাকে, যেখানে সেসব বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। তো, চাহিদা বেশি, সে পেশাগুলোর বিষয়ে পড়াশোনা করলে চাকরি পেতে সহজ হয়। ডিমান্ড লিস্টে নেই এমন বিষয় নিয়ে পড়তে গেলে এ দিয়ে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের জন্যও আবেদন করার সুযোগ থাকে না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। এ ছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ডিমান্ড লিস্টে নেই এমন বিষয়ের টিউশন ফি বেশি দেখা যায়। আবার বিষয় ছাড়াও শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নামধামের কারণেই সেমিস্টার ফি অনেক পার্থক্য হয়। সেগুলো আগেভাগে দেখে নেওয়া ভালো। কারণ অনেকেই এখানে এসে খরচ বেশি বলে বিষয় পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু তখন বিষয় পরিবর্তন করা অনেক জটিল হয়ে ওঠে। এমনও হয় এই বিষয় পরিবর্তন করা নিয়ে অনেকের ভিসাও বাতিল হয়ে যায়। তাই বিষয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় আর অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ডিমান্ড লিস্টও ওয়েবসাইটে দেখে আসা যায় নিচের লিংকে:

এ ছাড়া, আজকাল এসব বিষয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনেক বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে, সেগুলো ঘেঁটেঘুঁটে দেখতে হবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ তারিখ ও সর্বশেষ খবর জানতে হবে

যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে, আবেদন করতে গিয়ে দেখা গেল ভর্তির শেষ সময়টাই পার হয়ে গেছে অথবা ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হলেও দেখা গেল কিছুদিন আগেই নির্বাচিত বিষয়টি ডিমান্ড লিস্ট থেকে বাতিল হয়ে গেছে। তাই যত দূর সম্ভব ভর্তি, ভিসা ও কাগজপত্র জমা দেওয়া সংক্রান্ত সকল নির্ধারিত তারিখ ও সর্বশেষ খবর সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। ডিমান্ড লিস্টের হালনাগাদ সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। এ জাতীয় সকল কাজের শেষ খবরাখবরের আপডেট রাখতে হবে নিপুণভাবে।

স্পনসর বা গ্যারান্টর নিশ্চিত করুন

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে হলে ব্যাংকে টাকা দেখাতে হয়। বিষয়টা অনেকটা এ রকমই। অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা আবেদন করতে গেলে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, এ দেশে এসে যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। এ জন্য আবেদনকারীর অভিভাবক বা আত্মীয়ের ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা আছে সে প্রমাণ দেখাতে হবে। একে সাধারণত ‘স্পনসরশিপ বা গ্যারান্টর’ বলে। তবে অভিভাবকের সেই সামর্থ্য না থাকলে এমন একজন স্পনসরের প্রয়োজন হবে যিনি তার ব্যাংকে আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখবেন যা নিশ্চিত করবে যে, আবেদনকারীর পড়াশোনার খরচ তিনি চালাবেন। তবে এ জন্য কোনো নগদ অর্থ ব্যয় করতে হয় না। সাধারণত ব্যাংকে টাকা জমা রাখার প্রমাণপত্রই যথেষ্ট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দূতাবাস তদন্ত করে দেখে এই টাকা সত্যি সত্যি আছে কি না অথবা বৈধ বা কর পরিশোধিত কিনা। আগে নিজেই নিজের স্পনসর হতে পারা যেত তবে এমন ঘটনা খুব কম। বর্তমান নিয়মে আত্মীয়-স্বজন অথবা অন্য কেউ স্পনসর বা গ্যারান্টর হতে পারে কিন্তু যতটুকু জানা যায় বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদন করলে মা-বাবার আর্থিক সামর্থ্যতাকেই অর্থাৎ মা-বাবাকেই স্পনসর বা গ্যারান্টর হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জীবনযাপন খরচ

১ জুলাই ২০১৬ থেকে ১২ মাসের জন্য খরচ একজন ছাত্রের জন্য ১৯ হাজার ৮৩০ ডলার দেখাতে হবে এবং যদি কোর্স ফি তিন বছরের জন্য ৫০ হাজার ডলার হয় তবে এক বছরের পরিমাণ ১৬ হাজার ৬৬০ ডলার আর সঙ্গে অন্যান্য খরচ করে স্পনসরের ব্যাংকে দেখাতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার অভিপ্রায় হতে হবে অস্থায়ী

সমস্ত ছাত্র ভিসা আবেদনকারীদের এটা প্রমাণ করতে হবে যে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার অভিপ্রায় হচ্ছে অস্থায়ী। অর্থাৎ পড়াশোনা করে নিজ দেশের চলে আসার ব্যাপারটা নিশ্চিত হলেই ভিসা কর্মকর্তা ভিসা মঞ্জুর করেন।
ওপরের উল্লেখিত স্টুডেন্ট ভিসার সাধারণ ধারণার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন করতে হলে পরে ধাপে ধাপে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করতে হবে।

স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করতে হলে

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করতে হলে প্রথমেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মনোনীত এজেন্টদের কাছে আবেদন করতে হবে। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের মনোনীত এজেন্টদের এ কাজের জন্য কমিশন দিয়ে থাকে। পূর্ণকালীন মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি ভর্তি মঞ্জুর করে তবেই স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করা যাবে দেশটিতে।

যেখানে আবেদন করতে হবে

বাংলাদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীরা এখন সরাসরি অনলাইনে ইমি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারেন। ওয়েবসাইটের এই লিংকে অনলাইন আবেদন করা হয়।

ভিসা সংশ্লিষ্ট যেসব কাগজপত্র সাধারণত প্রদান করতে হয়

ভিসা সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র স্ক্যান করে ভিসা আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হয়। কোনো কাগজ ইংরেজিতে না হলে সেটা অনুমোদিত অনুবাদকের কাছ থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে যুক্ত করতে হবে।

প্রতীকী ছবি
আবেদনপত্রে যুক্ত করণীয় কাগজপত্র

*সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির অনুমতি সংক্রান্ত চিঠি (কর্নফারমেশন অব এনরোলমেন্ট)
*স্বাস্থ্য বিমার প্রমাণপত্র—সাধারণত ভর্তির অনুমতি সংক্রান্ত চিঠির সঙ্গেই থাকে।
*জাতীয় পরিচয়পত্র।
*জন্ম সনদ।
*বর্তমান ও আগের পাসপোর্টের ব্যবহৃত পাতা।
*শিক্ষাগত যোগ্যতা (সকল বোর্ড পরীক্ষার সার্টিফিকেট) ও কর্ম-অভিজ্ঞতা সনদ।
*অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে দেওয়া বিবৃতি যা ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ হিসেবে পরিচিত। যেখানে সংশ্লিষ্ট কোর্সের মাধ্যমে আবেদনকারী কীভাবে উপকৃত হবেন তার ব্যাখ্যা থাকবে।
*পূরণকৃত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের (স্পনসর বা গ্যারান্টর) ফরম।
*স্পনসরের সঙ্গে আবেদনকারীর সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে জন্ম-সনদ, পাসপোর্ট কিংবা স্কুলের কাগজপত্র।
*স্পনসরের আয়ের উৎসের বিস্তারিত কাগজপত্র।
*সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার ইতিহাস থাকলে সেখানে কাজের রেকর্ড ও ছাড়পত্র।
*কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (১২ মাসের বেশি পুরোনো নয়)।
*বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী, সন্তানদের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে জন্ম সনদ ও বিবাহ সনদ।
*স্বামী-স্ত্রী কেউ মারা গিয়ে থাকলে বা বিচ্ছেদ হয়ে থাকলে মৃত্যুসনদ বা বিচ্ছেদসংক্রান্ত কাগজপত্র।
*স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রমাণপত্র।

ভিসার আবেদন ফি ও জমাদান পদ্ধতি

ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করা শেষ হলে আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই ভিসা ফি দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন করতে ৫৬০ অস্ট্রেলিয় ডলার বা তার সমমূল্য টাকা ভিসা ফি হিসেবে অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডেও পরিশোধ করা যায়।

ভিসা আবেদন করা হয়ে গেলে

ইমি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করা হয়ে গেলে ভিসাটি যাচাই করে কিছুদিনের মধ্যেই যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অতিরিক্ত তথ্য চেয়ে ভিসা বিভাগ ইমেইল করতে পারে। এ ছাড়া ইমি অ্যাকাউন্টেই ভিসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যাবে। ভিসা মঞ্জুর হয়ে গেলে ভিসা নম্বর ও শর্তাবলি জানিয়ে দিয়ে আবার ভিসা বিভাগ ইমেইল করে। আর ভিসা মঞ্জুর না হলে এর কারণগুলোও জানিয়ে দেওয়া হয়।

ভিসা হয়ে গেলে

ভিসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল আবশ্যিক শর্ত এবং এক সেমিস্টারের টিউশন ফি জমা দিলে সাধারণত স্টুডেন্ট ভিসা মঞ্জুর হয়। তারপর উড়োজাহাজে চেপে স্বপ্নের পাখা মেলে ধরতে আর কোনো বাধা থাকে না। তবে একটা ধাক্কা অস্ট্রেলিয়া এসে অনেকই খান। সেমিস্টার ফি, বিমানের টিকিট, মাসখানিক চলার মতো নগদ অর্থ সব মিলিয়ে প্রায় লাখ দশেক টাকা খরচ করার পর কিছুদিনের মধ্যেই আবার যখন সেমিস্টার ফিসহ অন্যান্য খরচের জন্য বিশাল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন পড়ে, তখন ধাক্কাটা অনেক বড় লাগে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর নিজের খরচটা নিজেকেই জোগাড় করতে হয়। এ দেশে আসা প্রায় সব শিক্ষার্থীরা এমনটাই করেন। কিন্তু বাংলাদেশে থাকতে সাধারণত যেহেতু কেউ কাজ করেন না, কিন্তু এখানে এসে খরচ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই একাধিক রাতদিন কাজ করে হাঁপিয়ে ওঠেন। সে জন্য দেশে থাকতেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে কঠোর পরিশ্রম করার, যদি না পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয়। এখানে কাজের ফাঁকে লেখাপড়া নয়, লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকেই কাজ করতে হয়। পড়াশোনা অবিশ্যি পুরোপুরি ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে হয়। কোর্স নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হয়। ক্লাসে উপস্থিতির হার ও পরীক্ষায় পাশের গরমিল হলে ভিসা যেকোনো মুহূর্তেই বাতিল হয়ে যেতে পারে। আর এটা কথার কথা ভাবলে বিপদ নিশ্চিত।

Photos from Foreign Study Advise/FSA's post 24/09/2016

রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষা: বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য :

বিদেশীদের জন্য রাশিয়ার উচ্চশিক্ষা লাভ করার একসারি সুবিধা রয়েছে। সবার আগে – সুবিধাজনক শর্তে ভর্তি হওয়া। বিদেশী শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হয় না। তাদের শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশের সার্টিফিকেট দিলেই চলে।

রাশিয়ায় বহুসংখ্যক উচ্চমানের ও সম্মানজনক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। যাতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ভালোমন্দ যাচাই করতে পারে, সেজন্য আমরা বিখ্যাত কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সংক্ষেপে জানাচ্ছি।

রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় (মস্কো):

এই শিক্ষাকেন্দ্রে ১০টি ফ্যাকাল্টি। এ্যাগ্রোনমি, হিউম্যানিটিরিয়ান এ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স, ইঞ্জিনীয়ারিং, মেডিক্যাল, পিওর সায়েন্স, ইকনমিক্স, ইকোলজিক্যাল সায়েন্স, ফিলোলজিক্যাল সায়েন্স, রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ এ্যান্ড লিটারেচার, ল।
ইউনিভার্সিটিতে ১৫০টি গবেষনাগার, ৩৩টি বৈজ্ঞানিক শিক্ষাকেন্দ্র, ৭টি ইনস্টিটিউট। বিশ্বের উচ্চশিক্ষার জগতে শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রগুলির মতোই ফ্যাকাল্টির বৈচিত্র্য ও বিপুলতা সুযোগ দেয় এখান থেকে আধুনিক অভিজাত শিক্ষালাভ করার ও কর্মসংস্থানের বাজারে উঁচু দাম পাওয়ার। রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় – দুই পর্যায়ে শিক্ষা দেয় – ব্যাচেলর-মাস্টার্স।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রস্তুতিমুলক কোর্স, যেখানে বিদেশী শিক্ষার্থীরা রুশ ভাষা অধ্যয়ন করে ও বেছে নেওয়া বিষয়গুলির উপর প্রাথমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে। রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা আছে সোচিতে, ইসেনতুক্কিতে, স্তাভরাপোলে, বেলগোরদে, পের্মে ও ইয়াকুতস্কে।
ফ্যাকালটি নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার মূল্য। গড়ে ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার ডলার বছরপ্রতি। তবে এই অঙ্কের কমবেশি হতে পারে।
লোমোনোসভের নামাঙ্কিত মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়:

রাশিয়ার অন্যতম সবচেয়ে বৃহত ও প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ১৫টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউট, ৪০টি ফ্যাকাল্টি, তিনশোরও বেশি ডিপার্টমেন্ট ও প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলিতে ৬টি শাখা রয়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতিমুলক বিভিন্ন কোর্স আছে, যেখানে ভর্তি হতে ইচ্ছুকদের তালিম দেওয়া হয়। শিক্ষা যেমন অবৈতনিক আছে, তেমনই বৈতনিকও। কোর্সের মেয়াদ ফ্যাকাল্টির উপর নির্ভর করে। কোর্স শেষ করার পরে ভর্তি হতে ইচ্ছুকরা পরীক্ষা দেয়, যেটা পাশ করলে, তা নির্বাচিত ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হওয়ার সমার্থক।
মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ফি প্রতিবছরে বদল হয়।

রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় – হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্স

এই শিক্ষায়তনটির অভিমুখ – সোশিও-ইকনমিক, হিউম্যানিটিরিয়ান সায়েন্সেস এবং ম্যাথেমেটিক্স ও কম্পিউটার সায়েন্স। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০টিরও বেশি ফ্যাকাল্টি ও ডিপার্টমেন্ট. বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে মস্কোয়, সেন্ট-পিটার্সবার্গে, নিঝনি নোভগোরদে ও পের্মে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা রুশী ডিগ্রীর পাশাপাশি ইউরোপের সেরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীও পেতে পারেন। হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের ১৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক শরিক আছে, যাদের মধ্যে আছে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়সমুহ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইনস্টিটিউট, গবেষণা কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-সংগঠন।
কয়েকটি ফ্যাকাল্টিতে পড়াশোনা করানো হয় ইংরাজী ভাষায়।

মস্কো ফিজিক্স-টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট(রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়)

রুশী টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৯টি জাতীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রস্তুত করে ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানীদের এ্যাপ্লায়েড ম্যাথামেটিক্স, এ্যাপ্লায়েড ও থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সের সব সর্বাধুনিক ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের মধ্যে আছেন নোবেল পুরস্কার প্রাপকরা, রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির উপাধ্যক্ষ ও শতাধিক এ্যাকাডেমিক, মহাকাশচারীরা, রুশ ফেডারেশনের একাধিক মন্ত্রী।
মস্কো ফিজিক্স-টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের ওয়েব সাইটের ঠিকানাঃ http\phystech.edu

মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রাষ্ট্রীয় ইনস্টিটিউট
রাশিয়ার অন্যতম সেরা উচ্চ শিক্ষায়তন, যেখানে ১২টি শিক্ষা প্রোগ্রাম অনুসারে বিশেষজ্ঞদের তৈরী করা হয়। এখানে পড়ানো হয় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক বিশ্লেষন, আন্তর্জাতিক আইন, পলিটিক্যাল সায়েন্স, রাষ্ট্রীয় পরিচালনা, জার্নালিজম, পাবলিক রিলেশনশিপ। আইনজীবিদের তৈরী করার ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউটটি দেশের সেরা তিনটি শিক্ষায়তনের অন্যতম. শিক্ষায়তনটির অন্তর্ভুক্ত ৬টি ইনস্টিটিউট, ৮টি ফ্যাকাল্টি।

বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ : জাকির হোসেন , শিক্ষা বিভাগীয় পরামর্শক , Foreign Study Advise, House no- 64/1,New Circular Road, Moghbazar Moor, Dhaka-1000.
Mobile No: 01626757535 ,01739914801

Photos from Foreign Study Advise/FSA's post 24/09/2016

Dear Students ,
If you like to study in Russia with Scholarship please visit our office ASAP. Admission going on for 2015-16 session.
Foreign Study Advise (FSA)
Address: House No: 64/1 New Circular Road, Moghbazar Moor
Dhaka-1000
Mobile No: 01626757535 ,01739914801

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে 05/09/2016

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক বৃত্তি, ফেলোশিপ কিংবা ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য প্রবাসে পা রাখেন। ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ার পাশাপাশি পিএইচডি করার জন্যও শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন। যাঁরা...

Photos from Foreign Study Advise/FSA's post 29/08/2016

ভালো ও খারাপ বিশ্ববিদ্যালয়
মো. সিরাজুল ইসলাম | আপডেট: ০৩:০০, আগস্ট ২৮, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
২Like ৩
১৮ আগস্ট প্রথম আলোর মতামত পাতায় আসিফ নজরুলের লেখাটি পড়লাম। তাঁকে ধন্যবাদ। যদিও ইত্তেফাক-এ ১৪ আগস্ট একই প্রসঙ্গে আমার একটি লেখার ধারণার সঙ্গে এর যথেষ্ট মিল আছে। আমার ধারণা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইদানীং একধরনের ‘হেট ক্রাইম’-এর শিকার হচ্ছে। অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিত্বও খামখেয়ালির বশবর্তী হয়ে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা তাঁদের কাছ থেকে কাম্য নয়। ‘থ্যাংকলেস জব বলে’ ইংরেজিতে একটা কথা আছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে আজকাল তা শতভাগ প্রযোজ্য।
১৯৮৯ সালে যখন প্রথম বুয়েটে ভর্তি হলাম, শিক্ষকেরা প্রায়ই বকাঝকা করতেন এই বলে যে আমাদের প্রত্যেকের পেছনে নাকি সরকারের লাখ টাকা খরচ হচ্ছে প্রতিবছর। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেন এই সাবসিডি? এই আশায় যে এই গ্র্যাজুয়েটরা একদিন তাঁদের কর্মদক্ষতার বলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে সেই টাকা বহুগুণে ফিরিয়ে দেবেন। আসলে একটি দক্ষ জনশক্তিই রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি আর শিক্ষাই এর মূলমন্ত্র। আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ সেবাটিই করে যাচ্ছে একেবারে বিনা মূল্যে, রাষ্ট্রের কাছ থেকে এক পয়সাও না নিয়ে; বরং বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রকে তারা ট্যাক্স দিচ্ছে।
অথচ কৃতজ্ঞতা দূরে থাক, নিন্দুকের কশাঘাতে বরং তারা বারবার জর্জরিত হচ্ছে। খোলা জায়গা নেই, বড় মাঠ নেই, গবেষণা হয় না—ভাবখানা এমন যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছা করেই তা করছে না! তাদের ধারণা থাকা উচিত যে ঢাকা শহরের মাঝখানে এমনকি ছোট মাপের এক একরের একটি মাঠের ক্রয়মূল্য কত হতে পারে—কম করে হলেও এক শ কোটি টাকা। এক কলমের খোঁচায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তা দখল করে নিতে পারে, কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তা গড়ে তুলতে হয় তিলে তিলে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যায়, অর্থাৎ কম মূল্যে জমি কেনার ক্ষেত্রে। তারা আরও অনেকভাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সাহায্য করে থাকে। আর আমাদের ক্ষেত্রে তার উল্টো—এটা যেন টাকার খনি! বাজেট ঘাটতি মেটাতে হবে, ব্যস! প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আর ইংলিশ স্কুলে ভ্যাট বসাও!!
জাতি হিসেবে আমরা অনেকটা অধৈর্যও বটে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কমপক্ষে ১৫টিই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস প্রায় কয়েক শ বছরের পুরোনো। যেমন: হার্ভার্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৬৩৬ সালে, ইয়েল ১৭০১ সালে, প্রিন্সটন ১৭৪৬ সালে কিংবা কলাম্বিয়া ১৭৫৪ সালে ইত্যাদি। আমাদের সেই ইতিহাস মাত্র ২৪ বছরের, আর এরই মধ্যে সবাই উঠেপড়ে লেগেছে এদের মান নিয়ে। আবার অন্যদিকে চলছে প্রতিদিন একটা করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেওয়ার হিড়িক!
শতবর্ষীয় কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনো বাচ্চা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন তুলনা চলে না, আবার একইভাবে এটাও ভেবে দেখা প্রয়োজন যে জনগণের ট্যাক্সের টাকার সর্বোত্তম ব্যবহার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করছে কি না। আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে পত্রিকায় অধ্যাপক জাফর ইকবালের একটি লেখা পড়েছিলাম, যার শিরোনাম ছিল এ রকম—দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরবর্তী আদমজী জুট মিল হচ্ছে কি না! অধ্যাপক জাফর ইকবাল যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। সেই প্রবন্ধে তিনি আফসোস করেছিলেন এই বলে যে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি শেষে তাঁর পূর্বতন স্থানে ফিরে না গিয়ে ঢাকার একটি নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। তিনি জানেন কি না জানি না, এই মুহূর্তে সেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একইভাবে আরও অন্তত চারজন আছেন, যাঁরা তাঁর সাবেক সহকর্মী! উচ্চশিক্ষা শেষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরা ফিরে যাননি।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভিন্ন, তবে বাংলাদেশের সরকারি অফিসগুলো নিয়ে কিন্তু বরাবর বিস্তর অভিযোগ। সরকারি টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের কথাই ধরা যাক। কথিত আছে, একটি টেলিফোন লাইনের জন্য একজন গ্রাহককে নাকি ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আর এখন ৩৫ মিনিটেই আপনি পেতে পারেন একটি বেসরকারি মোবাইল ফোনের কানেকশন। মজার কথা হচ্ছে, দেশে প্রাইভেট সেক্টরে যখন মোবাইল ফোন চালুর প্রস্তাব আসে, সরকারি টিঅ্যান্ডটিওয়ালারা এর বিরোধিতা করেছিল এই বলে, এগুলো ব্যবসায়িক স্বার্থে বিদেশি চক্রান্ত। সরকারি ব্যাংক কিংবা মিল–ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা প্রযোজ্য। শিক্ষার ক্ষেত্রেও কি ঠিক এমনটিই হচ্ছে না? ঢাকা কলেজের এইচএসসির ছাত্র ছিলাম ১৯৮৬-৮৮ সালে। বাঘা বাঘা ছাত্র সেখানে আসত গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে। সেই ঢাকা কলেজ আর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি আজ কোথায়?
পর্যাপ্ত পরিমাণে ইতিহাস-সংস্কৃতিচর্চা করা হচ্ছে না বলে যে অভিযোগ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে, তা–ই বা কতটা যুক্তিযুক্ত? আমাদের সময়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদার্থ, রসায়ন কিংবা ব্যাংকিং বিষয়ের কোনো ছাত্রকে শুনিনি যে বাংলা বা বাংলাদেশ স্টাডিজ পড়েছেন। বড়জোর সাবসিডিয়ারিতে নিজ বিষয়ের বাইরে দুটি অন্য বিষয়ের কোর্স নিলেই যথেষ্ট ছিল। আর তাই বলে তাদের সবাই যে সন্ত্রাসী হয়ে গিয়েছিল তা তো দেখিনি। মজার কথা হচ্ছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কারিকুলামগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আদলে, প্রায় ৫০ শতাংশ সাধারণ ও মানবিক শিক্ষার প্রস্তাবসহ যখন ইউজিসিতে পাঠানো হয়, তখন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই বলে মন্তব্য প্রদান করেন, এ রকম কারিকুলাম দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞ তৈরি সম্ভব নয় এবং এটা বাংলাদেশের অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়! এমন বক্তব্যও এসেছিল যে তাঁরা সহজে ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিজ্ঞান ডিগ্রি পেতে বাংলা আর ইতিহাস পড়াতে চাইছেন।
এ ধরনের অজস্র ভুল ধারণা আছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে। অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর লেখাতেও কিছু ভুল ধারণার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সবশেষে এটাই বলব যে সরকারি-বেসরকারি বিভেদের চেয়ে আমার মনে হয় ভালো আর খারাপ মানের বিশ্ববিদ্যালয় এই ভাগটিই এই মুহূর্তে অধিক যুক্তিসংগত। সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই ভালো ও খারাপ মানের বিশ্ববিদ্যালয় আছে এবং এগুলো দেখার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাও আছে। আশা করি, অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল করে এই মান নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটি তারা যৌক্তিকভাবে তত্ত্বাবধান করবে। বিজ্ঞ বুদ্ধিজীবী কিংবা সাংবাদিক ভাইদের প্রতিও অনুরোধ, উচ্চশিক্ষা নিয়ে এই নতুন মাত্রাটিকেই যেন তাঁরা অধিক যুক্তিযুক্ত হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনায় ব্যাপৃত হন।
মো. সিরাজুল ইসলাম: একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের teacher

কমনওয়েলথ বৃত্তি 22/07/2016

কমনওয়েলথ বৃত্তি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ পরিকল্পনার (সিএসএফপি) আওতায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা অন্য সদস্য দেশে পড়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। ২০০৯ সাল থেকে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা তার সদস্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সিএসএফপি নামে নতুন এক বৃত্তি সুবিধা চালু করেছে। বৃত্তির আওতায় একজন...

Photos from WestEd Tutorial's post 15/07/2016

আপনি কি IELTS এর Score করাকে এর চেয়েও দুরুহ মনে করেন??? অবশ্যই না !! তবে এখানে সেখানে 7+ এর ছড়াছড়ি তে নিজেকে আরলে...Confusion এ রাখবেন... কারন যতই 7+ আর গ্যারান্টি দিন না কেন আসলে...
IELTS- এ technique ছাড়া ভালো score করা প্রায় অসম্ভব।তাই, প্রত্যেক Student- এর মেধা ও সময়ের কথা বিবেচনা করে আমরা তৈরি করেছি IELTS Express, IELTS Master, & IELTS Master Plus .
সম্পূর্ণ প্রাইভেট পদ্ধতিতে IELTS শিখুন। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম টেকনিক্যাল ও প্র্যাক্টিক্যাল পদ্ধতিতে IELTS শিখিয়ে থাকি। IELTS এ ভালো score করার সহজ উপায় জানতে আমাদের একটি FREE Demo Class-এ অংশ নিন আর দেখুন IELTS-এ ভালো score করার উপায়।
বিস্তারিত জানতে আমাদের Customer care এ কল করুন ; 01626757535

Photos from WestEd Tutorial's post 15/07/2016
Photos 14/07/2016
31/05/2016
Photos from Foreign Study Advise/FSA's post 31/05/2016

ফিনল্যান্ড: উচ্চশিক্ষার স্বর্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের সুযোগ-সুবিধাঃ

শিক্ষাব্যবস্থাঃ

আমি ব্যক্তিগত আগ্রহের কারণেই ফিনল্যান্ডের শিক্ষাকে এলেখার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে নিয়েছি। ২০০০ সালে প্রথম আমি ফিনল্যান্ডের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠি, যখন জানতে পারলাম যে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য টিউশন ফি দিতে হয় না। সে যাই হোক, তখন বিনা ফিতে পড়তে যাওয়ার জন্য হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক নীতিমালা বিভাগে আবেদন করেছিলাম। সামাজিক নীতিমালা বিভাগ আমাকে শর্তযুক্ত অনুমোদনপত্র পাঠিয়ে ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমার আর ফিনল্যান্ড যাওয়া হয়নি। আমি চলে এলাম ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে। সে কথা বলার অবকাশ এখানে নেই। সে যাই হোক, তৃতীয়বারের মতো আমার হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে। বিভিন্ন সময়ে এদেশ ভ্রমণের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে ও আমার অধীত জ্ঞানের সমন্বয়ে আমি এই লেখা তৈরি করার চেষ্টা করছি। এবার ফিনন্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সেখানে পড়াশুনার নানা সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
শিক্ষা একটি জন্মগত অধিকার ও রাষ্ট্রকর্তৃক প্রদত্ত সেবা হিসেবে বিবেচিত হয় ফিনল্যান্ডে। এখানে ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে শিক্ষা লাভ করে। প্রাথমিক স্কুলে ৬ বছর এবং মাধ্যমিক স্কুলে ৩ বছর লেখাপড়া করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। গবেষণায় ফিনল্যান্ডের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিশ্বের শিক্ষাছকের শীর্ষে অবস্থান করছে। গবেষণার ফলাফল ভাষা, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়াবলীর ভিত্তিতে হয়েছে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত কোন অভিজ্ঞতা এখনও হয়নি সেখানকার স্থানীয় প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের। তবে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে কিছুটা দেখার সুযোগ হয়েছিল।
উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, অসংখ্য কলেজ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুল রয়েছে। ইউরোপের যে দেশেগুলোতে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় তাদের একটি ফিনল্যান্ড। তাই এদেশে প্রতি বছর এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। তবে তাদের বেশিরভাগই স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়। এদেশে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। এখানে অভিবাসীদের ছেলেমেয়েদের জন্য তাদের নিজেদের ভাষা শিক্ষার সুযোগও রয়েছে, যেটা যুক্তরাজ্যের মতো বহু বর্ণ ও সংস্কৃতির দেশেও অনুপস্থিতি।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ করে স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য কেন্দ্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান আছে (https://www.admissions.fi/) যার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন ফলিত বিজ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হয়। এ ওয়েবসাইটে এদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা তথ্য পাওয়া যাবে। তাছাড়া সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য আরেকটি ওয়েব পোর্টাল আছে (http://universityadmissions.fi/) যার মাধ্যমে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করা যায়। কিন্তু স্নাতকোত্তর বিষয়াবলীর জন্য এককভাবে সম্পৃক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য আবেদন করার সুযোগ আছে। কোন রকম সমস্যা দেখা দিলে এওয়েবসাইট দু’টো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সংগ্রহ করে গুগল সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে (www.google.com) অনুসন্ধান করলে সহজে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেজ কিংবা অন্য কোন সাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া এ নিবন্ধের শেষের দিকে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম ও তাদের ওয়েব এড্রেসগুলো দেয়া আছে। তা থেকে সরাসরি যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়বেসাইটে যেতে পারেন।

শিক্ষার মাধ্যমঃ

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রভাষা দুটো- ফিনিশ আর সুইডিশ। তবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনিশ ভাষায় পড়াশোনা করতে হয়। সে জন্য বিশেষ করে স্নাতক স্তরের পড়াশুনার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফিনিশ বা সুইডিশ ভাষার ওপর ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। তবে একজন বিদেশিকে অবশ্যই প্রাথমিক ভাষা দক্ষতা হিসেবে ইংরেজি জানতে হবে, নচেত সমস্যায় পড়তে হবে।
উচ্চশিক্ষার কাঠামো ও স্তর বিন্যাস
উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে ২৭ টি ফলিত বিজ্ঞানের (Applied Sciences) এবং ১৬টি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ফলিত বিজ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এদেশে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বড়। ১৬৪০ সালে স্থাপিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৮২৮ সালে দেশের রাজধানী হেলসিংকিতে স্থানান্তরিত হয়। ২৭ টি ফলিত বিজ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪ টিতে একাডেমিক লেখাপড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তন্মধ্যে ৫টি ফলিত বিজ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী হেলসিংকি এলাকায় অবস্থিত। সেগুলো হল আরকাডা (Arcada), হাগা-হেলিয়া (Haaga-Helia), হেলসিংকি মেট্রোপোলিয়া (Helsinki Metropolia), ডায়াকনিয়া (Diaconia) এবং লাউরিয়া (Laurea)।
ফিনল্যান্ডের উচ্চশিক্ষার কাঠামো দু’ভাগে বিভক্ত। স্নাতক স্তর (Undergraduate Level) ও স্নাতকোত্তর স্তর (Postgraduate Level)। স্নাতকোত্তর আবার দু’স্তরে বিন্যাস্ত- মাস্টার্স ও ডক্টোরাল। উচ্চশিক্ষার এ দু’স্তরে যেসব ডিগ্রি অর্জন করা যেতে পারে, সেগুলো হলো- ক) ব্যাচেলর ডিগ্রি, খ) মাস্টার্স ডিগ্রি ও গ) ডক্টরেট বা পিএইচডি ডিগ্রি।
মাস্টার্স করতে দেড় থেকে দুই বছর লাগে আর ১২০ ক্রেডিট সম্পপন্ন করা লাগে। কিন্তু যে কেউ চাইলে বেশি সময়ও নিতে পারে। তবে চার বছরের মধ্যেই মাস্টার্স কোর্স শেষ করতে হবে। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দুই বছরের মধ্যে মাস্টার্স কোর্স শেষ করার জন্য উৎসাহ দিয়ে থাকে। আর ডক্টরাল কোর্সের ক্ষেত্রে সাধারণ সময় লাগে তিন থেকে ছয় বছর।

ফিনল্যান্ডে ডক্টরেট করতে হলেও ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা অবশ্যই থাকতে হবে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই ডক্টরাল কোর্সে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই আইইএলটিএস (IELTS) স্কোর অথবা আর সমমানের ইংরেজী ভাষা কোর্সের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির জন্য সাধারণ সর্বনিম্ন আইইএলটিএস স্কোর ৬.৫ দরকার। এদেশে ডক্টরাল কোর্সে ভর্তির জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে পছন্দের বিষয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তারাও ভর্তি সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।
এদেশেও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মতোই দুই সেমিস্টারে পড়াশুনা পরিচালিত হয়। প্রথম সেমিস্টার হলো শরৎকালীন (Autum) সেমিস্টার- আগস্ট থেকে ডিসেম্বর। আর দ্বিতীয় সেমিস্টার হলো বসন্তকালীন (Spring) সেমিস্টার- জানুয়ারি থেকে জুলাই। একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার যে, ফিনল্যান্ডে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার বয়স কোন বাধা নয়। যে কোন বয়সেই ভর্তির জন্য আবেদন করা যায়।
যেসব বিষয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রয়েছেঃ

সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক পর্যায়ের দু’একটি প্রোগ্রাম ইংরেজী মাধ্যমে হলেও বেশীর ভাগ কোর্সই ফিনিস কিংবা সুইডিশ ভাষায় হওয়ায় এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় বলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ কিছুটা সীমিত। তবে কেউ যদি ফিনিস কিংবা সুইডিস ভাষায় পারদর্শী হয় তবে তার জন্য স্নাতক পর্যায়ে রয়েছে শিক্ষার অবারিত সুযোগ।
অন্যদিকে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বিশেষ করে ফলিত বিজ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিনিস ভাষার পাশাপাশি ইংরেজী ভাষায়ও বেশ কয়েকটি ব্যাচেলর প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। তবে কোন কোন ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী মাধ্যমের কোর্সগুলোতে বিদেশিদের টিউশন ফি দিতে হয়। তাই আবেদন করার সময় ভালোভাবে জেনে বুঝে আবেদন করা উচিত।

স্নাতক স্তর :
এদেশের অধিকাংশ স্নাতক কোর্সই কর্মদক্ষতা তথা পলিটেকনিক ভিত্তিক। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখানে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তি পরিক্ষা দিতে হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্র পূরণের সময় পছন্দের ক্রমানুসারে ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নির্বাচন করা যায়। স্নাতক কোর্সে ভর্তির জন্য টোফেল (TOEFL)-এ ৫৫০ স্কোর কিংবা আইইএলটিএস (IELTS)-এ কমপক্ষে ৬.০ স্কোরসহ এইচএসসি বা এর সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতার যেকোন ব্যক্তি আবেদন করতে পারবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়:

আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চারটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বিষয় পছন্দ করতে পারবে। তবে যেহেতু দ’টার বেশি বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়, সে জন্য এক ও দুই নম্বর পছন্দের তালিকায় একটি বিষয় ও দু’টি ভিন্ন ভিন্ন ইউনিভার্সিটি এবং তিন ও চার নম্বর পছন্দের তালিকায় আরেকটি বিষয় ও দুটি ভিন্ন ভিন্ন ইউনিভার্সিটি পছন্দ করলে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

অনলাইনে আবেদন করার পর এসএসসি, এইসএসসি-এর মার্কশিট, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসহ যে বিশ্ববিদ্যালয়টি পছন্দের তালিকায় প্রথম থাকবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি অফিসের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে। তারপর ওই বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে ভর্তি পরিক্ষার তারিখ ও সময় জানিয়ে ইমেইল করবে কিংবা চিঠি পাঠাবে।

ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত সাধারণ গণিত, আইকিউ (IQ), বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (Analytic Questions) এবং বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকে। ভর্তি পরিক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে পছন্দের ক্রমানুসারে যেকোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে হয়ে থাকে। আর অনলাইন আবেদন করার শেষ সময় সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থাকে।
যে সব বিষয়ে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে

স্নাতক ডিগ্রির উল্লেখযোগ্য কয়েকট কোর্স হচ্ছে মানুষের বয়:বৃদ্ধি ও বৃদ্ধত্বকালীন সেবা (Human Ageing and Elderly Service), আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (International Business), প্লাস্টিক প্রযুক্তি (Plastic Technology), তথ্য প্রযুক্তি (Information Technology), পরিবেশ প্রকৌশল (Environmental Engineering), নার্সিং (Nursing), সামাজিক সেবা (Social Services), ভ্রমণ ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা (Tourism and Hospitality Management), বাণিজ্য তথ্য প্রযুক্তি (Business Information Technology) এবং ইলেকট্রোনিক্স (Electronics)।

স্নাতকোত্তর স্তর:

স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির জন্য সাধারণত কোন ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় না। অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে। এরপর ভর্তির জন্য বিবেচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি কিংবা মেইল দিয়ে জানাবে। এমনকি অফার লেটার পেলে প্রয়োজনে ১ বছরের জন্য ভর্তি ডেফার/পোস্টপন্ড করা যায়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

স্নাতকোত্তর স্তরে আবেদন করতে সাধারণত আবেদনপত্রের সঙ্গে- একটি আগ্রহপত্র (Motivation Letter) কিংবা অধ্যয়নের উদ্দেশ্যের বিবৃতি(Statement of Purpose); দু’টো প্রত্যায়নপত্র (Reference Letters)- সাধারণত শিক্ষকদের কাছ থেকে; টোফেল/আইইএলটিএস স্কোর এবং বিষয় ভেদে কখনো কখনো জিআরই ফলাফল। এছাড়া প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে আবেদনের নির্ধারিত যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া থাকে। তাই আবেদনপত্র পাঠানোর সময় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে।

স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হলেও স্নাতকোত্তর কোর্সে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফলাফল প্রকাশ হওয়ার আগেই যদি আবেদনের তারিখ শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে কাগজপত্র পাঠানোর সময় নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা চিঠি নেয়া যেতে পারে যে, ফলাফল খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশিত হবে। আর যেহেতু ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়ার সুযোগ নাই, সেহেতু যতটুকু পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর কপি সাথে পাঠালেই চলবে।

যে সব বিষয়ে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে:

শিল্পকলার ইতিহাস (Art History), সৃজনশীল লেখা (Creative Writing), সামাজিক গবেষণা পদ্ধতি (Social Science Research Methods), বয়স্ক শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শেখা (Adult Education and Life-long learning), অর্থনীতি (Economics), অর্থনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজ (Economics, State and Society), গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক পরিবর্তন (Democracy and Global Transformation), উন্নয়ন অধ্যয়ন (Development Studies), গণমাধ্যম ও বিশ্ব যোগাযোগ (Media and Global Communication),সংবাদ মাধ্যম অধ্যয়ন (Media Studies), উত্তর আমেরিকা অধ্যয়ন (North American Studies), ইউরোপ অধ্যয়ন (Europe Studies), ধর্ম, দ্বন্দ্ব ও সংলাপ (Religion, Conflict and Dialogue), আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আইন (International Business Law), আন্তর্জাতিক গণ আইন (International Public Law), মেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড কেমিস্ট্রি, জনস্বাস্থ্য (Public Health), প্যাথলজি, মহাকাশ গবেষণা (Space Research), বায়োকেমিস্ট্রি (Biochemistry), খাদ্য বিজ্ঞান (Food Science), খাদ্য রসায়ন (Food Chemistry), জীব-প্রযুক্তি (Biotechnology), জৈব তথ্য-প্রযুক্তি (Bioinformatics), বাস্তুবিদ্যা (Ecology), পরিবেশ বিজ্ঞান (Environmental Sciences), জীববৈচিত্র্য (Biodiversity), জৈব রসায়ন ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ (Organic Chemistry and Chemical Analysis), জৈব রসায়ন ও রাসায়নিক জীববিজ্ঞান (Organic Chemistry and Chemical Biology), তড়িত তথ্য প্রযুক্তি (Electronic Information Technology), ফলিত গণিত (Applied Mathematics), পরিসংখ্যান (Statistics) ইত্যাদি।

আবেদনপত্র জমা ও ভর্তি প্রক্রিয়া:

ফিনল্যান্ডের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে হবে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে হয়। তাছাড়া কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক যোগে মুদ্রিত আবেদন ফরমও সংগ্রহ করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ যথাসময়ে আবেদন করার পর অপেক্ষায় থাকতে হবে অফার লেটারের জন্য। তারা না জানানো পর্যন্ত অপেক্ষার পালা। তবে আবেদন করার পর থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত প্রায় বছর খানেক সময় লেগে যেতে পারে। আবেদন করার আগে ভালভাবে দেখে বুঝে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। কারণ কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার জন্য ফি পরিশোধ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আবেদনপত্র কিংবা অনলাইন আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব রকমের সনদপত্র, মার্কশিট, আইইএলটি স্কোরের প্রত্যায়নপত্র, পাসপোর্টের ফটোকপি, আর্থিক দায়দায়িত্বের চিঠি (Letter of Sponsorship) ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি। যে ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের ফি থাকবে, সে ক্ষেত্রে তা পরিশোধের রসিদ আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে। এখানে উল্লেখ্য করা দরকার যে, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র অবশ্যই ইংরেজী অথবা ফিনিস কিংবা সুইডিস ভাষায় হতে হবে।
আবেদন করার সময় আগ্রহপত্র কিংবা অধ্যয়নের উদ্দেশ্যের বিবৃতিটা ভাল করে লিখতে হবে। আর প্রত্যয়নপত্রের ক্ষেত্রে বিভাগীয় অধ্যাপকের হলে ভাল হয়। কারণ ভর্তির জন্য বিবেচনার ক্ষেত্রে এ দু’টো ডোকুমেন্ট বেশ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
আবেদনপত্র আহবান ও জমা দানের সময়
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির জন্য আবেদনপত্র আহবান করে ডিসেম্বর এবং তা জমাদান করতে হয় ফেব্রুয়ারির মধ্য। তবে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তা মার্চ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

উচ্চশিক্ষার ব্যয় ও অর্থায়ন:

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টিউশন ফি দেয়া লাগে না। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কিছু কোর্সে এখন ফি আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যেই আলতো বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকেই অনেক কোর্সে ফি প্রবর্তন করেছে। কোর্স বিশেষে টিউশন ফি ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি

সাধারণত মাস্টার্স কোর্সে পড়াশুনার জন্য বৃত্তি পাওয়া যায় না একমাত্র ইউরোপীয় ইরাসমাস বৃত্তি ছাড়া। সরাসরি ডক্টরাল কোর্সে পড়াশুনা করার জন্যও বৃত্তি পাওয়া বেশ কঠিন এবং তীব্র প্রতিযোগিতামূলক। কিন্তু এইখানে মাস্টার্স করার পর ডক্টরাল কোর্সের জন্য আবেদন করলে বৃত্তি পাওয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
খাওয়া-দাওয়া, আবাসন ও আনুসঙ্গিক খরচ

বৃত্তি না পাওয়া গেলে শুধু থাকা খাওয়ার খরচ নিজে ব্যবস্থা করতে পারলেই পড়াশুনা চালিয়ে নেয়া সম্ভব এখানে। প্রতি মাসে থাকা খাওয়ার জন্য গড়ে ৩৫০-৩৭০ ইউরো খরচ পড়ে। তবে শেয়ারে থাকলে খরচ অনেক কম পড়বে। সেক্ষেত্রে আবাসিক ভাড়া: ২২০-২৪০ ইউরো, খাওয়া খরচ: ৮০-৯০ ইউরো এবং আনুসঙ্গিক খরচ: ২০-৪০ ইউরোর মধ্যে রাখা যাবে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাৎসরিক ২৫ থেকে ৭৫ ইউরো ব্যয় হতে পারে। এখরচের হিসেবটা আনুমানিক একজনের একা থাকার ক্ষেত্রে বিবেচ্য। তাছাড়া শহর ভেদে এ খরচ কম-বেশি হতে পারে।

এদেশে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য স্টুডেন্ট এপার্টমেন্ট আছে। সাধারণত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই এধরণের আবাসনে বসবাস করে। আর স্টুডেন্ট এপার্টমেন্টগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে পাশে হওয়াতে যাতায়াত খরচ অনেকটা কমে যায়। তবে এদেশে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক যাতায়াত কার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো অনেকটাই সাশ্রয়ী ও সবধরনের যানবাহনের জন্য ব্যবহার করা যায়।
খণ্ডকালীন চাকুরি ও আয়-রোজগারের সুযোগ-সুবিধা

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফিনল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম একটা সবল দেশ। সম্প্রতি বিশ্ব মন্দা কবলিত হলেও ফিনল্যান্ডে সার্বিক দিক দিয়ে এর প্রভাব অতটা ভয়াবহ নয়। আর এখন এদেশের অর্থনীতি কেবলই উন্নতির দিকে চলছে। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কাজ করার প্রচুর সুযোগ যা ইউরোপের যে কোন দেশের তুলনায় নিঃসন্দেহে অনেক ভাল। এখন পর্যন্ত কাজ কর্ম নিয়ে কেউ বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে বলে শোনা যায় নি। বরং সবাই আসার কয়েক মাসের মধ্যেই মোটামুটি একটা কাজ যোগাড় করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের সুবিধামত সময়ে খণ্ডকালীন কাজ করারও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। সাধারণ সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের আইনি বৈধতা রয়েছে। তবে চেনা পরিচিত লোকজন না থাকলে নতুন অবস্থায় এসে কাজ পেতে সমস্যা হয়। নূন্যতম ৬ মাসের খরচের অর্থ সঙ্গে নিয়ে এলে অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে যায়। কারণ তত দিনে একটা কাজ জুটে যায়।

খণ্ডকালীন কাজ সাধারনত ক্লিনিং কোম্পানিগুলোতেই হয়ে থাকে। তাছাড়া হোটেল কিংবা বাংলাদেশিদের ফাস্ট ফুডের দোকানে কাজ পাওয়া যায়। কারণ অন্যান্য কাজ পেতে হলে ফিনিস কিংবা সুইডিস ভাষা জানা অপরিহার্য। তাছাড়া কমপিউটার বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। ডেমলা (http://www.demola.fi) নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে, যেটি বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানি থেকে প্রজেক্ট নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে দিয়ে করিয়ে থাকে। অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ করার মত। আর এরকম কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে পরে তথ্য-প্রযুক্তির চুক্তিভিত্তিক, এমনকি স্থায়ী চাকরিও হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা বুদ্ধিমান তারা এ ধরনের কাজকে তাদের কোন একাডেমিক প্রজেক্ট হিসেবে নিয়েও ক্রেডিট নিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

কমপিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষার্থীদের জন্য ফিনল্যান্ডে চাকরির বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল। নকিয়া ছাড়াও অন্যান্য সফটওয়ার ফার্মে কাজ পাওয়ার ভাল সুযোগ আছে। প্রথম বছর হয়তো একটু কষ্ট হয়। কিন্তু কোর্সের নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রেডিট সম্পন্ন করার পর কাজ পেলে কিংবা বৃত্তি পাওয়া গেলে তখন কোন চিন্তা থাকে না। আবার ৫০ থেকে ৬০ ক্রেডিট সম্পন্ন করার পর শিক্ষা সহযোগীর (Teaching Assistantship- TA) পদে খণ্ডকালীন কাজ করার জন্য আবেদন করা যায়। আর শিক্ষা সহযোগী হতে পারলে মাস্টার্স থিসিস লেখার ও পরে ডক্টরেট করা জন্য বৃত্তির পথ অনেকটাই সুগম হয়ে যায়।

ভিসা প্রক্রিয়া ও ব্যাংক ব্যালেন্স:

বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের কোন দূতাবাস না থাকায় স্নাতক স্তরে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিংবা স্নাতকোত্তর স্তরে অফার লেটার পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিস্থ ফিনিস দূতাবাসে ভিসার আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। ভিসা আবেদনপত্র এই ওয়েব সাইট http://www.migri.fi থেকে সংগ্রহ করা যায়। স্টুডেন্ট ভিসার জন্য নিরধারিত ফর্ম ডাউনলোড করে স্পস্ট অক্ষরে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পূরণ করে জমাদানের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও মার্কশিটগুলোর আসল কপি, বীমাপত্রের (Insurance Paper) আসল কপি, জন্মনিবন্ধন সনদপত্র, ইংরেজী ভাষা দক্ষতার সনদপত্র (টোফেল অথবা আইইএলটিএস-এর স্কোর), ব্যাংক সার্টিফিকেট ও তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্টের মূলকপি দেখাতে হবে। আবেদনপত্র এবং অন্যান্য কাগজপত্রের ২ সেট ফটোকপি ভিসার জন্য নির্ধারিত সাইজের ৪ কপি ছবিসহ জমা দিতে হবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিজ নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬,০০০ (ছয় হাজার) ইউরো সমমান টাকা এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত জমা রাখার প্রয়োজন হতে পারে। সব রকমের শিক্ষার্থীর জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া একই ধরনের।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম ও তাদের ওয়েব ঠিকানা:

এখানে ফিনল্যাণ্ডের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম ও তাদের ওয়েব ঠিকানাগুলো তুলে দেয়া হল যাতে বিস্তারিত জানার জন্য নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব ঠিকানায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
1. University of Helsinki (http://www.helsinki.fi/university/)
2. Aalto University (http://www.aalto.fi/en/)
3. Arcada University of Applied Sciences (http://arcada.fi/en)
4. Haaga-Helia University of Applied Sciences (http://www.haaga-helia.fi/en)
5. Helsinki Metropolia University of Applied Sciences (http://www.metropolia.fi/en/)
6. Diaconia University of Applied Sciences
(http://www.diak.fi/en/Pages/default.aspx)
7. Laurea University of Applied Sciences
(http://www.laurea.fi/en/Pages/default.aspx)
8. University of Turku (http://www.utu.fi/fi/Sivut/home.aspx)
9. Turku University of Applied Sciences
(http://www.tuas.fi/public/default.aspx?nodeid=7563)
10. University of Tampere (http://www.uta.fi/english/)
11. Tampere University of Technology (http://www.tut.fi/en/)
12. Tampere University of Applied Sciences (http://www.tamk.fi/en)
13. University of Jyvaskyla (https://www.jyu.fi/en/)
14. Jyvaskyla University of Applied Sciences (http://www.jamk.fi/english/)
15. University of Oulu (http://www.oulu.fi/english/)
16. Oulu University of Applied Sciences (http://www.oamk.fi/english/)
17. Abo Akademi University (http://www.abo.fi/?lang=en)
18. Lappeenranta University of Technology (http://www.lut.fi/web/en/)
19. University of Eastern Finland (http://www.uef.fi/en/home)
20. Satakunta University of Applied Sciences (http://www.samk.fi/english)
21. Centria University of Applied Sciences
(http://web.centria.fi/Default.aspx)
22. Hamk University of Applied Sciences
(http://portal.hamk.fi/portal/page/portal/HAMK/In_English)
23. Kajaani University of Applied Sciences (http://www.kamk.fi/en)
24. Karelia University of Applied Sciences (http://www.karelia.fi/en/)
25. Kemi-Tornio University of Applied Sciences
(http://www.tokem.fi/In-English/Home)
26. Kymenlaakson Unive

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কাজ করা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ‘AME Foreign Study Services’। এ জন্য টেলিফোন করতে পারেন 01626757535 নম্বরে। প্রকৃত আগ্রহী শিক্ষার্থী কিংবা তাঁদের অভিভাবকেরা বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address

254 Boro Moghbazar
Dhaka