24/01/2026
German Exam Lanka Bangla শুধু ÖSD কে উপস্থাপন করেনা বরং শ্রীলংকাকেও উপস্থাপন করে !
শ্রীলংকান মানুষ, তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নিয়ম শৃঙ্খলা আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে।
দক্ষিণ এশিয়ার বুকে অবস্থিত অপূর্ব সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং এর হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থান করার কারণে প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলংকা বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
শ্রীলংকার ইতিহাস শুরু হয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে। কিংবদন্তি অনুযায়ী, উত্তর ভারতের রাজপুত্র বিজয় সিংহ এই দ্বীপে এসে প্রথম সিংহলি জাতির ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে অনুরাধাপুর ও পোলোনারুয়া রাজ্য শ্রীলংকার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ে উন্নত সেচব্যবস্থা, বিশাল স্তূপ (Dagoba), বৌদ্ধ বিহার এবং স্থাপত্যশিল্প গড়ে ওঠে, যা আজও শ্রীলংকার গৌরবময় অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে।
বৌদ্ধ ধর্ম শ্রীলংকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে সম্রাট অশোকের পুত্র মহিন্দ্র থেরোর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্ম শ্রীলংকায় প্রচারিত হয়। আজও ক্যান্ডির শ্রী দালাদা মালিগাওয়া (Temple of the Tooth Relic) শ্রীলংকার সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর একটি, যেখানে বুদ্ধের দন্তধাতু সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এসালা পেরাহেরা উৎসব শ্রীলংকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।
শ্রীলংকার ঐতিহ্যে শুধু ধর্মই নয়, ভাষা, নৃত্য, সংগীত ও পোশাকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিংহলি ও তামিল—এই দুই প্রধান জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির মেলবন্ধন শ্রীলংকাকে করেছে বৈচিত্র্যময়। ক্যান্ডিয়ান নৃত্য, লোকসংগীত, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং হাতের তৈরি শিল্পকর্ম শ্রীলংকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ঔপনিবেশিক ইতিহাসও শ্রীলংকার অতীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পর্তুগিজ, ডাচ এবং পরে ব্রিটিশ শাসন শ্রীলংকার সমাজ, শিক্ষা ও অবকাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। চা-বাগান, রেললাইন এবং কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি বহন করে, যা আজও দেশটির অর্থনীতি ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শ্রীলংকা হলো ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা—শ্রীলংকা আজও তার অতীতকে বুকে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে চলেছে।