একটি সংসারের আনন্দ সুখ একটি নারীর হাতে। তাই বিয়ের আগে প্রত্যেক পুরুষের উচিত যাচাই বাচাই করেবিয়ে করা।
SP Sobur Creation
ফলো করে রেখে দিন নতুন কিছু শেখার জন্য �
শুভ সন্ধ্যা
02/06/2026
এ কেমন মানুষ!।দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বেশ কয়েক দিন। মিরপুর এগারো নম্বরের সেই ঘর থেকে কোনো শব্দ আসছিল না, কোনো আলো জ্বলছিল না, কেউ ভেতরে যাচ্ছিল না, কেউ বেরও হচ্ছিল না। প্রথমে কেউ গা করেনি। শহরের মানুষ পাশের ঘরে কে বাঁচল আর কে মরল, সে খবর রাখার সময় কোথায়। কিন্তু একটা সময় বাতাস বদলে গেল। সিঁড়ি বেয়ে, দেয়ালের ফাঁক গলে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এক ভয়ংকর গন্ধ, যে গন্ধ মানুষকে থমকে দাঁড় করিয়ে দেয়, বুকের ভেতরটা হিম করে দেয়। প্রতিবেশীরা বুঝে গেল, ওই বন্ধ দরজার ওপাশে কিছু একটা ভীষণ অঘটন ঘটে গেছে।
তারপর কেউ একজন কাঁপা হাতে ফোন তুলল, ৯৯৯-এ ডায়াল করল। পুলিশ এল, দরজা খুলল। আর দরজার ওপাশে যা ছিল, তা দেখে শক্ত পুলিশের চোখও থমকে গেল। মেঝেতে পড়ে আছে এক বৃদ্ধার নিথর দেহ। পঁচাত্তর বছরের নুরজাহান বেগম। শরীরে পচন ধরে গেছে, পোকা জমেছে। কত দিন ধরে এভাবে পড়ে ছিলেন, তা আজও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। তাঁর মৃত্যুর খবর এই পৃথিবীর কাছে এসে পৌঁছেছে লাশের গন্ধ হয়ে, কোনো সন্তানের কান্না হয়ে নয়।
এখন আসুন গল্পের আসল মোচড়টা শুনি, যে মোচড় যেকোনো থ্রিলারের চেয়েও বেশি গা শিউরে দেয়। এই অসহায় মায়ের সন্তানেরা কেউ পথের অভাবী মানুষ নন। এক ছেলে রাষ্ট্রের যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ বুয়েটের শিক্ষক, মেয়ের জামাইও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অর্থ আছে, ক্ষমতা আছে, সমাজে মাথা উঁচু সম্মান আছে, ডিগ্রির পর ডিগ্রি আছে। শুধু যে জিনিসটা ছিল না, সেটা হলো একটুখানি সময়, একটুখানি হৃদয়, আর মায়ের দরজায় গিয়ে একবার দাঁড়ানোর মতো সামান্য মমতা।
অথচ এই সন্তানদের গড়ে তুলতে যে মা একদিন নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলেন, তিনি তো এমন বিদায়ের যোগ্য ছিলেন না। যে আঙুল ধরে এই সন্তানেরা হাঁটতে শিখেছিল, যে কোল ছিল তাদের প্রথম পৃথিবী, যে মা রাত জেগে জ্বরের কপালে হাত রেখেছিলেন, নিজে অভুক্ত থেকে যাদের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছিলেন, জীবনের শেষ প্রহরে সেই মা একটি নোংরা ঘরে একা পড়ে রইলেন। তাঁর চোখ দুটি বন্ধ করে দেওয়ার মতো একটি হাতও পাশে ছিল না। মৃত্যুর সময় মা হয়তো শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। সেই নীরব আকুতি ঘরের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে গেছে, কেউ শোনেনি।
আমরা এই সমাজকে কত উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছি ভাবি। অট্টালিকা উঁচু হচ্ছে, ডিগ্রি বাড়ছে, পদ বড় হচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনাটি আমাদের মুখের ওপর একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে গেল। যে শিক্ষা একজন মানুষকে যুগ্ম সচিব বানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানায়, অথচ নিজের জন্মদাত্রী মাকে একা ঘরে পচে মরা থেকে বাঁচাতে পারে না, সেই শিক্ষার দাম তাহলে কী? ডিগ্রি যদি হৃদয়কে পাথর বানিয়ে দেয়, তবে সেই বিদ্যা আসলে অশিক্ষার চেয়েও ভয়ংকর। তাই বুক চিরে একটা কথাই বেরিয়ে আসে, এ কেমন মানুষ, এ কেমন সন্তান, এ কেমন সমাজ আমরা গড়লাম।
আমাদের রব পবিত্র কুরআনে সেই কবেই বলে দিয়েছেন, পিতামাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো, তাঁদের সামনে বিরক্তি প্রকাশ করে ‘উফ’ শব্দটুকুও উচ্চারণ করো না। আর প্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দিয়েছেন, মায়ের পায়ের নিচেই সন্তানের জান্নাত। যে সন্তান জীবিত মাকে দু মুঠো ভালোবাসা দিতে পারে না, সে ফুল দিয়ে কবর সাজিয়ে কী প্রমাণ করবে। যে চোখ মায়ের জীবিত মুখ দেখার অবসর পায়নি, সেই চোখের পানি লাশের সামনে এসে আর কোনো মূল্য রাখে না।
এই লেখা যাঁরা পড়ছেন, আপনাদের প্রত্যেকের কাছে আমার একটাই অনুরোধ। আপনার মা যদি আজও বেঁচে থাকেন, তবে এই মুহূর্তে উঠে গিয়ে তাঁর কাছে দাঁড়ান। তাঁর হাতটা ধরুন, কপালে একটা চুমু দিন, একবার বলুন আমি আছি। কারণ মা থাকতে আমরা টের পাই না মা কী জিনিস, আর মা চলে গেলে গোটা পৃথিবী খুঁজেও আর কোথাও মা পাওয়া যায় না। নুরজাহান বেগমের জন্য আমাদের কিছু করার আর সুযোগ নেই, শুধু দুহাত তুলে এটুকু বলতে পারি, হে রব, যে সম্মান এই মা শেষ জীবনে পাননি, কবরে আপনি তাঁকে সেই সম্মানে ভূষিত করুন, তাঁকে জান্নাতের শান্তি দিন।
আর আমাদের প্রত্যেকের অন্তরকে জাগিয়ে দিন, যেন কোনো মা কোনো দিন আর একা ঘরে এভাবে নিঃশব্দে মরে না যান।
নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ
#একেমনমানুষ #মা #মায়েরভালোবাসা #বৃদ্ধমাবাবা #মাবাবারহক #সন্তানেরদায়িত্ব #নিঃসঙ্গমৃত্যু #বৃদ্ধাশ্রম #পরিবার #মানবতা #মানবিকতা #সমাজ #বাংলাদেশ #মিরপুর
ঈদ মোবারক সকলকে পবিত্র ঈদ উল আযহার অভিনন্দন
আলহামদুলিল্লাহ আজ পবিত্র জিলহজ মাসের পঞ্চম দিন
আলহামদুলিল্লাহ সকলকে শুভেচ্ছা
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
1217
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 17:00 |
| Tuesday | 09:00 - 17:00 |
| Wednesday | 09:00 - 17:00 |
| Thursday | 09:00 - 17:00 |
| Friday | 09:00 - 17:00 |