Home
>
Bangladesh >
Dhaka >
Voice of Complete Deen Islam-পুর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের আলো
Voice of Complete Deen Islam-পুর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের আলো
Share
পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম হলো 'আকাঈদ তাছাওউফ ফিকাহ এই তিন ভাগ মাসালার সমষ্টির নাম। নবীওয়ালা কাজ ঐ তিনটি।
��সকলকে জান্নাতী এক দল তথা পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামে দাখিল হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
''হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন :
وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً»، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي»
অর্থঃ আমার উম্মত তিহাত্তর দলে বিভক্ত হবে । শুধুমাত্র একদল ব্যতীত তাদের বাকী সকল দলই জাহান্নামী হবে। সাহা
বায়ে কেরামগণ জিজ্ঞাসা করেছেন,হে আল্লাহর রাসুল!সেই একদল কারা? তদুত্তরে হযরত সাঃ বলেছেন আমি এবং আমার সাহাবাগণ যার উপর আছি।"(তিরমিজী:২৬৪১, ইবনে মাজাহ:৩৯৯২)
�হযরত ইসমাইল হাক্কী রহঃ এর জগৎ বিখ্যাত তাফসীরে রুহুল বয়ানে এই হাদীসের বরাত দিয়ে লেখা আছে-মূলঅর্থঃ যারা দুনিয়াতেই জান্নাতী লোক দেখতে চায় তারা যেন পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম (আকাইদ- তাছাওউফ-ফিকাহ) শিক্ষার্থীদের কে দেখে নেয়।"" সুবহান আল্লাহ।।
�উপরে বর্ণিত হাদীসে পরিস্কার বুঝা যায়,কারা জান্নাতী দল আর কারা দোজখী দল,উহা যাচাই-বাছাই করার জন্য বিশ্বনবী সাঃ মাপকাঠি দিয়েছেন, বিশ্ব নবী এবং তার সাহাবাগণ যার উপর আছে অর্থাৎ যারা বিশ্ব নবী সাঃ ও সাহাবীদের শিক্ষার উপর আছে তারা জান্নাতী দল। আর বাকী সকল দলই জাহান্নামী দল।
��নবী সাঃ বলেছেন,আল্লাহ যার মংগল চান তাকে পরিপূর্ণ দ্বীনের সন্ধান দান করেন(বুখারী ও মুসলিম শরীফ)। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় তিরমিজী শরীফের হাসিয়ায় লেখা আছে মূল কথাঃ আহকামে শরীয়ত (ফিকাহ), আহকামে তরীকত (তাছাওউফ) ও আহকামে হাকীকত (আকাইদ) এই তিন প্রকার মাছয়ালার সমষ্টির নাম দ্বীন বা শরীয়ত।
�জান্নাতী দল তথা আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের মুসলমানের মূল আকীদা হলোঃ আকাঈদ,ফিকাহ,তাছাওউফ এই ০৩(তিন)টি । যারা শেষেরটি স্বীকার করেন না তারা ফাসেক এবং আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের অন্তর্ভূক্ত নয়।
��লক্ষ লক্ষ হাদীসের মা হাদীসে জিবরাইলকে উম্মূস সূন্নাহ বা উম্মূল আহাদীস বলা হয়।
�হাদীসে জিব্রাইলের ব্যাখ্যায় মুসলিম শরীফের ১ম খন্ডের পুরাতন ছাপার ৪৭ং পৃষ্ঠায় আরবি হাশিয়াতে লেখা আছে- হাদীসে জিব্রাইলের মূলকথা হইল-
ان الدين مركب من ثلاثة أجزاء ـ
মূলঅর্থঃ- আকাইদ,ফিকাহ ও ইলমে তাছাওফ এই তিন অংশের দ্বারা দ্বীন গঠিত হইয়াছে।
�বুখারী শরীফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রথম খন্ডে হাদীসে লেখা আছে,ঈমান (আকাইদ)-ইসলাম(ফিকাহ)-ইহসান
(তাছাওউফ) এই তিনের সমষ্টির নাম দ্বীন।
�হযরত শাহ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ এর আসিয়াতুল লুময়াত শরহে মিশকাত এ হাদীসে জিব্রাইলের ব্যাখ্যায় লিখা আছে-মূলঅর্থঃ জানা চাই যে, দ্বীন ইসলাম এর ভিত্তি ও পূর্ণতা তিন বিষয়ের উপরে আকাইদ, ফিকাহ ও তাছাওউফ।
�মিশকাত শরীফের উর্দু শরাহ্ হযরত কুতুবউদ্দিন মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ এর "মাজহেরে হক" কিতাবের প্রথম খন্ডের ২৪নং পৃষ্ঠায় হাদীসে জিব্রাইলের ব্যাখ্যায় লিখা আছে-
মূলঅর্থঃ জানা চাই যে,দ্বীন ইসলাম এর ভিত্তি ও পূর্ণতা তিন বিষয়ের উপরে আকাইদ,ফিকাহ ও তাছাওউফ। এই তিনভাগেই ইসলাম পূর্ণ হয়,এই তিনের বাইরে যারা তারা গোমরাহ বা পথভ্রস্ট। অত্র হাদীসে এই তিনও বিষয়ের আলোচনা করা হইয়াছে।
�হাদীস গ্রন্থ মিশকাত শরীফে এই হাদীসের ব্যাখ্যা বা শরাহ হযরত মাওলানা মোল্লা আলী কারী হানাফী রহঃ এর মিরকাত শরীফে লিখা আছে:- দ্বীন ইসলামের মূল ও পূর্ণতা আকাইদ, তাছাওউফ ও ফিক্বাহ্ এই তিন বিষয়ের উপরেই।
�হাদীস গ্রন্থ "মুসনাদে ইমাম আজম আবু হানিফা" কিতাবের ৪৪ পৃষ্টায় (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) হাদীসে জিবরাইলের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,এই হাদীসটি ইসলামের ভিত্তি ও সারমর্ম। তিনটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তিঃ (১)ফিকাহ, যা বাহ্যিক আমলসমূহকে বলা হয়,(২)কালাম,যা গোপন বিষয় ও বিশ্বাসকে বলা হয় অর্থাৎ আকাইদ,(৩)তাছাওউফ,যা ইখলাস ও ইহসানের নামে আখ্যায়িত করা হয়।
��পবিত্র কোরআন সহ সমগ্র আসমানী কিতাবের শিক্ষা তিনটিঃ আকাইদ, তাছাওউফ ও ফিক্বাহ।(তাফসীরে কাবীর,মিশকাত শরীফ)।
��সূরা ফাতিহাকে উম্মূল কোরআন বলা হয়। উম্মুল কোরআন সূরা ফাতিহার মূল শিক্ষাও তিনটি যথাঃ আকাইদ-তাছাওউফ-ফিকাহ।
��রাসুল তথা হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে প্রেরণের উদ্দেশ্য,কাজ,শিক্ষা ও আমল তিনটি : আকাইদ-ফিক্বাহ- তাছাওউফ এবং এই তিনভাগ সম্পর্কে শিক্ষা দিবেন(সুরা বাকারা:১২৯,১৫১, সূরা আলে ইমরান:১৬৪,সূরা জুমআ: ০২)।
��পবিত্র কুরআন মজীদের সূরা তাওবার ১২২ আয়াতের “লিইয়াতাফাহু-ফিদ্দীন” এর ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআনুল করীমের (মারেফুল কোরানের সংক্ষিপ্ত) ৫৯৬-৫৯৭ পৃষ্টায় লেখা আছে,পরিপূর্ণ ইসলাম হলো ঈমানের পর ফ্বিকাহ ও তাসাওউফ।
��জগৎ বিখ্যাত আরবী আইন কিতাব The Law of Islam "মুছাল্লামাত ছবূত" এর পূরানো ছাপা ৭ম পৃষ্ঠায় লেখা আছে,মূলকথা: হাকীকাত বা আকাইদ,তরীকত বা তাছাওউফ,শরীয়াতে জাহেরা বা ফ্বিকাহ এই তিন প্রকার মাসয়ালার সমষ্টির নাম দ্বীন।
�তাফসীরে রুহুল বয়ানে লেখা আছে মূলকথাঃ অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রকারের এলমোচ্ছের বা ইলমে বাতেন। উক্ত তাফসীরে রুহুল বয়ানের ৩য় খন্ডের ৫৩৭ পৃষ্ঠায় লিখা আছে:-যে ইলেম শিক্ষা করা ফরজ তা তিন ভাগে বিভক্ত। (১)আকাঈদ (২)ইলমে তাছাওউফ(৩)ফিক্বাহ।
�সূরা বাকারার ১৭৭ ”লাইসাল বিরর” আয়াতের ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীরে বায়জাবীতে লিখা আছেে, আল্লাহর আদেশ নিষেধ অগণিত- অসংখ্য কিন্তু আল্লাহর আদেশ নিষেধের গোড়া তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ যথাঃ আকায়েদ,ফিকাহ,ইলমে তাছাওউফ।
�পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,ময়দানে হাশরে তাছাওউফ হাসিল বা অন্তর শুদ্ধ ব্যতীত ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনই কাজে আসবেনা। (সূরা শো'য়ারা ৮৮ -৮৯),
আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
চোখ থাকিলেও ইহজগতে অন্ধ আছো,পরজগতে অন্ধ থাকবে, গাফেল পথভ্রস্ট হবে (সুরা বনি ইসরাইল- ৭২),
আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
বস্তুতঃ চোখ তো অন্ধ হয় না,বরং অন্ধ হয় বক্ষ স্থিত হৃদয় বা আত্মা।(সুরা হজ্ব- ৪৬)।
��রাসুল সাঃ বলেছেন, সাবধান!মানব শরীরে এক টুকরা গোস্ত আছে, যখন তা ভাল হয় তখন পুরো শরীরটাই ভালো হয়ে যায়,আর যখন তা নষ্ট হয় তখন পুরো শরীরটাই নষ্ট হয়ে যায়, সাবধান! তা হলো ক্বলব-দেল-আত্মা।[বুখারী]
��বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর মারেফুল কোরানের সংক্ষিপ্ত সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআনুল করীমের ৫৯৬-৫৯৭ পৃষ্টায় সূরা তাওবার ১২২ আয়াতের “লিইয়াতাফাহু -ফিদ্দীন” এর ব্যাখ্যায় " ইলমে তাছাউওফ শিক্ষা করাও ফরজে আইনের অন্তর্ভূক্ত " লেখা আছে।
�হযরত কাজী ছানাউল্লাহ পানি পথী রহঃ এর "তাফসীরে মাঝহারী"তে ৬ষ্ঠ খন্ড ৯৯ পৃষ্টায় (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ইবাদত-মোয়ামালাত এবং ১০১ পৃষ্টায় তাছাওউফ/ইলমে লাদুনী শিক্ষা করাও ফরজে আইন এবং উভয়টি পরিপূর্ণ ইসলাম বলেছেন। চতুর্থ খন্ডের (ই.ফা.) ৪৫৩ পৃষ্টায় লেখা আছে,পীর-মাশাইখ ও বুযুর্গদের সান্নিধ্যে অবস্থান করে তাছাওউফ অর্জন করা ফরজ ও আবশ্যক।
�আসুন জেনে নিই,শরিয়াতের ভাষায় আলেম কারাঃ
�ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলেছেন,যে ব্যক্তি দ্বীনের সমস্ত কিতাব পাঠ করে নিল, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ দ্বীন কে পুরোপুরি বুঝতে পারল না,সে কোরআন ও হাদীসের পরিভাষায় আদৌ আলেম নয়।[(সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআনুল করীমের (তফসীর মারেফুল কোরান) ৫৯৭ পৃষ্ঠা]।
�ইমাম মালেক রহঃ বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফিকাহ শিক্ষা করলো কিন্তু তাছাওউফ শিক্ষা করলো না সে ফাসেক,যে ব্যক্তি তাছাওউফ শিখলো কিন্তু ফিকাহ অস্বীকার করলো সে যিন্দিক(বেঈমান) আর যে ব্যক্তি ফিকাহ ও তাসাওউফ উভয়টি শিক্ষা করে আমল করলো সে মোহাক্কেক কামেল আলেম' [মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ,মুয়াত্তা মালেক,শামী কিতাব,যাদুততাকওয়া,মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অষ্টম-নবম-দশম শ্রেণীর আকাঈদ ও ফিকাহ কিতাব]।
�হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহঃ তার 'সিররুর আশরার' কিতাবে লিখেছেন,কোন আলেম যদি সহস্রাধিক কিতাব পাঠ করেও ইলমে তাছাওউফ বা ইলমে বাতেন অর্জন করতে সক্ষম না হয় তবে সে আলেম নামে অভিহিত হবে না।
�হযরত মুজাদ্দিদে আল ফেছানী রহঃ তার মকতুবাত শরীফে লিখেছেন,যিনি ফিকাহ এবং তাছাওউফ এই দুই ইলমের অধিকারী হয়েছেন তাকে শরিয়াতে আলেম বলে এবং তিনি হবেন নায়েবে রাসুল। [মকতুব শরীফ]।
�হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ তার "তাফহীমাতে ইলাহিয়া" কিতাবে লিখেছেনঃ রাসুল সাঃ এর খলিফা নায়েবে রাসুল কেবল সেই ব্যক্তি হবে,যে দ্বীনের উল্লেখিত তিনটি বিভাগ (আকাইদ-তাছাওউফ- ফিকাহ)কে অর্জন করে।(দালায়েলুস সুলুক - ইসলামী তাছাওউফের স্বরূপ - আল্লামা আল্লাহ ইয়ার রহঃ)।
�হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ বলেছেন,অজ্ঞ আলিমগণ ও অজ্ঞ সূফীগণ, যারা তাছাওউফ কে অস্বীকার করে,তারাতো বলতে গেলে চোর ও ডাকাত। তাদের খপ্পর থেকে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরী বিষয়।[তাছাওউফের আসল রূপ. ই,ফা.পৃষ্টা ১৫]।
�আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের কেন্দ্র বিন্দু শরীয়াত (ফিকাহ) ও তরীকত (তাছাওউফ)। অর্থাৎ যারা তাছাওউফ কে অস্বীকার করে তারা আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের অন্তর্ভূক্ত নয়।[(তুহফা ইছনা আশারিয়া,আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ),
�হাকীমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানভী রহঃ বলেছেন, তাছাওউফের বিশুদ্ধ মূলনীতি কুরআন-হাদীসে বিদ্যমান আছে। তথাকথিত নামধারী আলেমদেরও ধারণা যে,কুরআন-হাদীস সম্পূর্ণ তাসাওউফ মুক্ত। এসব ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এই সকল আলেমরা সকলেই ভ্রান্তিতে নিপতিত। (আত তাকাশশুফ)।
�আত্মা অন্ধ হয় বা অপবিত্র হয়ে যায় যার মধ্যে অহংকার- হিংসা-রাগ-মিথ্যা কথা-রিয়া-বখিলী-লোভ লালসা-অন্তরে অন্তরে শত্রুতা -গুরুর/মোগলতা প্রভৃতি অসৎ স্বভাব অন্তরে আছে। অন্তর থেকে কু-রিপু দূর করা ফরজে আইন /ফরজ।
আর অন্তর থেকে অসৎ স্বভার দূর করে সৎ স্বভাব অর্জন করতে হলে সকল মুসলমানকে শিখতে হবে প্রতিটি কু-রিপুর
১/তারীফ (সংজ্ঞা)
২/আছবাব(উৎপত্তির কারনসমূহ)
৩/আলামত (চিহ্ন)
৪/এলাজ (চিকিৎসা) এই ০৪ (চার) ধারার ফরজ মাছায়ালা।
��হানাফী মাযহাবের মহামান্য ফতুয়া কিতাব রদ্দুল মুহতার (ফতোয়ায়ে শামী) কিতাবের পুরাতন ছাপার প্রথম খন্ডের ৪০ পৃষ্ঠায় লেখা আছে -
"অন্তরের রাজায়েল বা অসৎ স্বভাব বা কু-রিপু দূর করা ফরজে আইন ৷ কিন্তু উহা দূর করা কোনদিন সম্ভব না, যতক্ষন পর্যন্ত প্রত্যেকটি কু-রিপুর তা'রীফ,ছবব,আলামত,এলাজের মাসওয়ালা সম্পর্কে অবগত না হইবে।"
�ইমাম গাজ্জালী রহঃ এহহিয়া উলুমুদ্দিন কিতাবের প্রথম খন্ডে লিখেছেন,অহংকার-হিংসা-রাগ-মিথ্যা কথা-রিয়া-বখিলী-লোভ লালসা-অন্তরে অন্তরে শত্রুতা-গুরুর বা মোগলতা প্রভৃতি আত্মার ব্যাধি গুলোর প্রত্যেকটির সংজ্ঞা কারণ, আলামত, চিকিৎসা করা ফরজে আইন।[এহইয়াউ উলুমিদ্দীন এর প্রথম খন্ড]।
��ইলমে তাছাওউফ কাকে বলেঃ যে ইলেমের সাহায্যে মানুষের সৎ গুণাবলীর (মুনজিয়াত) প্রকারভেদ জানা যায় ও উহা উপার্জনের উপায় জানা যায় ও অসৎ গুণাবলীর (মুহলিকাত) শ্রেণী বিভাগ জানা যায় এবং উহা হইতে পরিত্রাণ পাইবার উপায় অবগত হওয়া যায় তাহাকে ইলমে ক্বলব বা ইলমে তাসাওউফ বলে।(শামী কিতাব)।
ইলমে ক্বলব বা ইলমে তাসাওউফ শরীয়াতের অর্ধেক। যে ইলেম শিক্ষা করে আমল করা ফরজে আইন।
দ্বীনি ইলেম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ। এই ফরজ ত্যাগ করিলে দোজখ ভোগ করিতে হইবে।
হানাফী মাযহাবের ফতুয়া শামী কিতাবের ১ম খন্ডে আছে,দ্বীনি ইলেম প্রত্যেক মুসলমানের উপর আবশ্যক পরিমাণ শিক্ষা করা ফরজে আইন, আবশ্যকের বেশী অপরের ফায়দার জন্য শিক্ষা করা ফরজে কেফায়া,বিদ্যার সাগর হওয়া মুস্তাহাব।
��কামেল মুমিন-সিফাতী মুসলমান-মুত্তাকী হলে জান্নাতের ঘোষণা দিয়েছেন মহান আল্লাহ। সেই কামেল মুমিন-সিফাতী মুসলমান- মুত্তাকী হতে হলে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামে দাখিল হয়ে তিন ধারার বন্দেগী করতে হয়।
�বন্দেগীর রূপরেখা হলো:
১.দেহের দ্বারা জেসমানী বন্দেগী (ইবাদত১০-মোয়ামালত১০) ,
২,আত্মার দ্বারা রূহানী বন্দেগী (মুহলিকাত ১০-মুনজিয়াত১০),
৩, মালের দ্বারা মালী বন্দেগী:তিন ধারায় মাল ব্যয় করতে হবে যথাঃ ১,সংসার রক্ষা,২,ধর্ম রক্ষা,৩,গরীব রক্ষা)।।
��হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইরশাদ করেন,"ইন্না-মা- বুইশতু লিউতাম্মীহা মাকা- রিমাল আখলাক"। অর্থঃ আমাকে মানুষের আখলাক (তাছাওউফ) কে পরিশুদ্ধ করা এবং সেগুলোকে পরিপূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।(কানজুল উম্মাহ, খন্ড ০৩ পৃষ্ঠা ৩৪,হাদীস নং ৫২১৭),(সুনানে বায়হাকী খন্ড ০২,পৃষ্ঠা ৪৭২,হাদীস নং ২১৩০১)
��নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন -
لاتزال طائفة من امتى قوامة على أمر الله لايضرها من خالفها (ابن ماجة)
লা-তাযালু ত্বইফাতুম্মিম উম্মাতী ক্বওয়ামাতান আলা আমরিল্লাহি লা-ইয়াদুরুরহা মান খ্বলাফাহা । (ইবনে মাজাহ)। মূলকথা,আমার উম্মত বৃন্দ হইতে (ছোট হইলেও) একটি দল নিশ্চয়ই হকের উপর কায়েম থাকিবে;বিরোধী গণের বিরোধিতা (ধোঁকাবাজদের ধোঁকাবাজিতে,দুষ্টদের টিটকারীতে বা সাহায্য বন্ধকারীদের সাহায্য বন্ধ করাতেও) তাহাদের টলাইতে বা বিগড়াইতে পারিবে না।
�হায় আফসোস! গোটা জাতিকে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের আলো থেকে অন্ধকারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে উদাসীনতার কারণে। যেন আপনারা মৃত্যুকে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন মনে করছেন। অথচ আগামীকালের মরহুম যে আজকের মরহুমের খাঁটিয়া বয়ে নিয়ে চলেছেন।
��তালিবে ইলেম মুহাম্মদ হায়দার আলী হিটলু,ইসলামিক গবেষক ও চিন্তাবিদ।পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও তাছাওউফ শিক্ষার্থী এবং হযরাতুল আল্লামা শাহ মোঃ আবদুশ শাকুর (দাঃবাঃ), তাছাওউফ শিক্ষা প্রাপ্ত আলেম ও চার গ্রুপে টাইটেল- মোফাচ্ছির,মুহাদ্দিস, ফকিহ,আদিব এর ছাত্র। মির্জাপুর তাছাওউফ মাদ্রাসা ও নায়েবে রসুলের দরবার শরীফ,নিকলী,কিশোরগঞ্জ।
21/08/2026
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাঃ পালনে ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের মতে, মিলাদুন্নাবীতে নবীজির আলোচনা করা ইবাদত এবং এর মাধ্যমে সওয়াব অর্জিত হয়।
↗️তার মিলাদ বিরোধী পথভ্রস্ট ছাত্রদের খুঁজছি।
ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব তার জিজ্ঞাসা ও জবাব বইয়ের ২য় খণ্ডের ২২৮ পৃষ্ঠাতে একটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
প্রশ্ন: পবিত্র মীলাদুন্নাবী উপলক্ষে কি কোন অনুষ্ঠান করা যাবে?
↗️তিনি এর জবাবটা বেশ লম্বা ভাবে দিয়েছেন। ছবিতে বিস্তারিত রয়েছে। মোট কথায় বলা যায়,
তার ভাষ্যমতে মীলাদুন্নাবী উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা যাবে,লোক সমাগম করা যাবে,নবীজির জন্ম বৃত্তান্ত সহ নবীজির জীবনী আলোচনা করা যাবে।
তার মতে এটা এমন সুন্নাত পদ্ধতিতে করা ইবাদত এবং এতে সওয়াব অর্জিত হয়। এর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা বাড়ে, মহব্বত বাড়ে, অনুসরণ বাড়ে।
আলহামদুলিল্লাহ।
একথাটিই আমরা বলতে চাচ্ছি সর্বদা। ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবও একই কথা বললেন। পথভ্রষ্ট ভন্ডদের ভন্ডামি,যারা ঢোল তবলা নিয়ে গান গায়, নাচানাচি করে তাদের ওই কর্মকে কোনভাবেই ইসলাম সাপোর্ট করে না। সেটা মীলাদুন্নাবী উপলক্ষে হোক বা অন্য কোন উপলক্ষে হোক। আমরা আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের অন্তর্ভূক্ত কেউ সমর্থন করেনা।
↗️ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহ. ও একই কথা বলেছেন তার লিখিত বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব “আল হাবী লিল ফাতওয়া” এর মধ্যে। যুগ শ্রেষ্ঠ ইমামগণও একই কথাই বলে গেছেন, মিলাদুন্নাবী সুন্নাহ পদ্ধতিতে, হালাল পদ্ধতিতে উদযাপন করা জায়েজ এবং ইবাদত এবং এতে সওয়াব হয়।
সুন্নাহ পদ্ধতিতে এটা সম্পূর্ণ জায়েজ ও সাওয়াবের কাজ। যেটা আমরা করে থাকি।
বাংলাদেশে আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের অনুসারী সকল হক্ব সিলসিলা গুলো নবীজির মিলাদুন্নাবী এর মাসে সুন্নাহ পদ্ধতিতেই মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে থাকে।
↗️কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের মুরীদরা স্যারের নাম শুনলে শ্রদ্ধায় ফেটে পড়ে কিন্তু তার কথা মানতে নারাজ। তারা মিলাদুন্নাবী নাম শুনলেই চুলকানো শুরু করে দেয়। আফসোস তাদের জন্য,তাদের যারা স্যারকে ঠিক ভাবে মানে না।তার ঐ সকল মুরীদদের কী হবে এখন??? লাগাও বিদাতের ফতোয়া।
আফসোস এর বিষয় ওরা বিদাতের শরয়ী ব্যাখ্যা ই জানেনা।
এখন আবার একদল কমেন্ট করবে যে, আমরা স্যারের ভুল গুলো গ্রহণ করিনা।
বিদআত বিদআত বলে চিল্লালে পথভ্রষ্টরা নিজেরাই ঐ ঘরে যাবে।।
↗️জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম কিতাবে ইবনে রজব হাম্বলী রহঃ এর বিদআত এর ব্যাখ্যাঃ
এ সংজ্ঞাটিতে তিনটি বিষয় লক্ষণীয়,
(১).নতুনভাবে প্রচলন অর্থাৎ রাসুল সাঃ,সাহাবাগণের যুগে এর কোনো প্রচলন ছিলোনা এবং এর কোনো নমুনাও ছিলোনা।
(২).নব এ প্রচলিত বিষয়টিকে দ্বীনের মধ্যে সংযোজন করা ও ধারণা করা যে, এটি দ্বীনের অংশ।
(৩).নব প্রচলিত এ বিষয়টিকে শরিয়াতের কোনো আম বা খাস দলীল ছাড়াই চালু ও উদ্ভাবন করা। অর্থাৎ আম বা খাস দলীল থাকলে সেটা চালু ও উদ্ভাবন করা বিদআত হবেনা।
(জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম)।
অর্থাৎ শরিয়াতের আম বা খাস দলিল থাকলে সেটা নব প্রচলিত বিষয় বিদ'আত হবেনা।
➡️কাওয়ায়েদ মা'রিফাতিল বিদ'আত পৃষ্ঠা:২৪,জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম কিতাবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,শরিয়াতের আম বা খাস দলিল থাকলে নব প্রচলিত বিষয় বিদ'আত হবেনা।
➡️পথভ্রস্ট আলেমগণ বিদ'আত এর সংজ্ঞার উপরোক্ত প্রথম দুটিকে হাতিয়ার করে চিল্লাচ্ছে,ফালাচ্ছে, অপব্যাখ্যা করছে অথচ শেষের "নব প্রচলিত এ বিষয়টিকে শরিয়াতের কোনো আম বা খাস দলীল ছাড়াই চালু ও উদ্ভাবন করা।" অংশটুকু এড়িয়ে যাচ্ছে বা গোপন করছে। দ্বীনের ইলেম গোপন করা শরিয়াতে নিষেধ সেই বিষয়টিও তারা ভুলে গেছে।
পরিষ্কার লেখা আছে,শরিয়াতের আম বা খাস দলিল থাকলে সেটা বিদ'আত হবেনা।
↗️যে বিষয়ে রাসুল সাঃ এর হাদীস থেকে নিষেধ নাই,শরিয়াতের আম বা খাস দলিল রয়েছে। তাই এইটা কখনোই বিদ'আত হবেনা। যারা বিদ'আত বলবে মূলতঃ তারা গোমরাহীর মধ্যেই আছেন।
-☪মুহাম্মদ হায়দার আলী হিটলু, ইসলামিক গবেষক ও চিন্তাবিদ এবং তালিবে ইলেম।
শায়খ: নায়েবে রাসুল হযরাতুল আল্লামা শাহ মোঃ আবদুশ শাকুর (দাঃবাঃ), তাছাওউফ শিক্ষা প্রাপ্ত আলেম ও চার গ্রুপে টাইটেল- মোফাচ্ছির,মুহাদ্দিশ,ফকিহ, আদিব এর ছাত্র। মির্জাপুর তাছাওউফ মাদ্রাসা ও নায়েবে রসুলের দরবার শরীফ, নিকলী,কিশোরগঞ্জ।
21/08/2026
18/08/2026
প্রশ্নঃ- কিবর কাহাকে বলে ?
উত্তরঃ- আলাহ তা’য়ালার সামনে ছার (মাথা) নত না রাখা ; অর্থাৎ আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ- নিষেধ বিনা প্রতিবাদে মানিয়া না লওয়া এবং মানুষকে হেকারতের (ঘৃণার) চক্ষে দর্শন করাকে কিবর বলে।
❑ কুরআন মাজীদের ১৫ পারা সূরা বনী ইসরাইলের ৩৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তা’য়ালা ফরমাইয়াছেন-
وَلَا تَمْشِ فِى الْاَرْضِ مَرْحًا
অর্থঃ- এবং তুমি জমিনের উপর দিয়া গর্ব (অহংকার) সহকারে চলিও না।
❑ কুরআন মাজীদের ১ম পারা সূরায়ে বাক্বারার ৩৪ নম্বর আয়াতে আছে-
اَبَى وَاسْتَكْبَرَ
অর্থঃ- ইবলীস সিজদা করিতে ইনকার করিল এবং নিজকে বড় ধারণা করিল। (কুরআনের অন্যত্র আছে) অতঃপর আল্লাহ্ বলিলেন- হে ইবলীস! তুমি কেন সিজদা করিলে না? ইবলীস বলিল- “আমি আদম হইতে উত্তম। যেহেতু আমাকে তুমি অগ্নি দ্বারা তৈয়ার করিয়াছ আর আদমকে মাটি দ্বারা তৈয়ার করিয়াছ।” বর্ণিত আয়াত আহকামে বাতেনী বা তাছাওউফ সম্পর্কীয়।
প্রশ্নঃ- কিবর কি রকম গুনাহ?
উত্তরঃ- কিবর কবিরা গুনাহ। এই গুনাহের জন্য হিসাব অন্তে দোযখ ভোগ করিতে হইবে।
❑ যথা-হাদীস শরীফে আছে-
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِىْ قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ مِّنْ كِبَرٍ ـ
অর্থাৎ- যাহার অন্তরে অতি সামান্য (বালু) পরিমাণও কিবর থাকিবে সে ব্যক্তি হিসাব অন্তে বেহেশ্তে প্রবেশ করিতে পারিবে না।
❑ হাদীস শরীফে আছে-
اَلْكِبْرِيَاءُ رِدَايِ وَالْعَظْمَةُ اِزَارِىْ فَمَنْ نَازَ عَنِّىْ وَاحِدًا مِنْهُمَا اَدْخَلْتُهُ النَّارَـ
অর্থাৎ- আল্লাহ্ তা’য়ালা বলিয়াছেন- কিবর আমার চাদর আর আজমত (বড়ত্ব) আমার পায়জামা (অর্থাৎ আমার খাস সিফাত)। যে ব্যক্তি উক্ত সিফাতের কোন একটি সিফাত ছিনাইয়া নিয়া যাইবে (অর্থাৎ- অন্যায়ভাবে গ্রহণ করিবে) আমি তাহাকে দোযখে নিক্ষেপ করিব।
কিবরের শ্রেণি বিভাগ
প্রশ্নঃ- কিবর কত প্রকার এবং কিবরের তা’রীফ কি?
উত্তরঃ- কিবর দুই প্রকার, কিবরে জাহের এবং কিবরে বাতেন।
জাহেরী অজুদ দ্বারা (অর্থাৎ বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও কার্যের মাধ্যমে) যে কিবর প্রকাশ হয় তাহাকে “কিবরে জাহের” বলে।
আর নিজকে অপরের চেয়ে মরতবায় বড় ধারণা করাতে অন্তরে যে এক সন্তুষ্টির হালত আসে উক্ত হালতকে “কিবরে বাতেন” বলে।
কিবরে জাহের ছোটদের সামনে জায়েয। বড়দের সামনে নাজায়েয।
কিবর ও ওজবের মধ্যে পার্থক্য
প্রশ্নঃ- কিবর ও ওজবের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ- কিবরের জন্য তিন চিজের দরকার হয়।
প্রথম- যে ব্যক্তি কিবর করে,
দ্বিতীয়- যাহার সহিত করে,
তৃতীয়- যে সমস্ত চিজের (বস্তু বা বিষয়ের) দ্বারা করে।
` এইজন্য মাত্র একজন লোকের দ্বারা কিবর ছাবেত (প্রমাণিত) হয় না। কিন্তু ওজব ছাবেত হয়। যেহেতু ওজব অর্থ নিজকে বুজূর্গ মনে করা। অপরের সঙ্গে তুলনার দরকার হয় না।
১. কিবরের মত ওজব রিপুও মারাত্মক ধ্বংস সাধনকারী অসৎ স্বভাব। এখানে উহার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লিখা হইল।
❑ওজবের সংজ্ঞা- নিজকে নিজের অন্তরে বড় ও বুজূর্গ মনে করা এবং নিজের গুণ দেখা, আর ইহা চিন্তা না করা যে, এই গুণতো আমার নিজের ক্ষমতায় অর্জিত নয়, আল্লাহর দান। তিনি ইচ্ছা করিলে এখনই ছিনাইয়া নিতে পারেন। বরং বিপরীত ভাবে নিজের ক্ষমতা ও গুণাগুণের কৃতিত্বকে নিজের ক্ষমতায় অর্জিত মনে করা। ইহাই ওজব রিপু।
❑ ওজবের সবব- তাছাওউফের ইলমে মূর্খ থাকা। এমনকি তাছাওউফের ইলম প্রয়োজন অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে অর্জন না করিলেও অন্তরে ওজব সৃষ্টি হয়। ❑ ওজবের আলামত-
১। নিজের ইবাদাত ও সৎকাজের বড়াই করা।
২। নিজের বড়ত্ব প্রকাশ পায় এইরূপ ধারায় নিজের সৎকাজ, দক্ষতা-যোগ্যতা ও গুণাগুণ কিতাব ভিত্তিক অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়া লোকদের সম্মুখে আলোচনা করা।
❑ ওজবের এলাজ বা চিকিৎসা-
১। নিজের গুণসমূহ এবং দক্ষতা-যোগ্যতা ও নিজস্ব সৎ কার্যসমূহ করিবার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর দান মনে করিবে।
২। ভয় ও ব্যস্ত থাকিবে যে, আল্লাহ্ যখন ইচ্ছা করেন তখনই ছিনাইয়া নিতে পারেন।
৩। নিজেকে নির্দোষ মনে না করিয়া বরং নিজের উপর নিজের বদগুমান করিবে।
৪। কামেল মোর্শ্বেদের মাধ্যমে তাছাওউফের ইলম ভাল রকম শিক্ষা করিবে এবং ওজবের পরিণাম ফল সম্পর্কে বিশেষভাবে চিন্তা ও গবেষণা করিবে।
প্রশ্নঃ- কিবরের দরজা কয়টি? উত্তরঃ- কিবরের দরজা (স্তর) তিনটি।
প্রথম- আল্লাহর সাথে। যেমন-নমরূদ, ফেরাউন ও ইবলীসের তাকাব্বুরী।
দ্বিতীয়-রসূল (স:)-এর সাথে। যেমন- কুফফারে কুরাইশগণ বলিয়াছিল তাহারা ইয়াতীম মুহাম্মাদ (স:)-এর কাছে মাথা নত করিতে পারিবে না। তাহাদের সরদারদিগকে কেন রসূল করা হইল না?
তৃতীয়-রসূল (স:) ব্যতীত অপর লোকদের সাথে।
প্রথম সবব ইলমের বর্ণনা
প্রথম সবব-ইলম। ইলমের দ্বারা তাকাব্বুর হয়, তাহার দুইটি কারণ।
প্রথম- ইলমে দ্বীন শিক্ষা করে না, শুধু দুনিয়াবি ইলম শিক্ষা করে। দ্বিতীয়- ইলমে দ্বীন শিক্ষা করিতে গিয়া শুধু ফিক্বাহ্ শাস্ত্র শিক্ষা করে, তাছাওউফ শাস্ত্র শিক্ষা করে না।
ইলমে তীব, (চিকিৎসা শাস্ত্র) ইলমে লোগাত, (ভাষা জ্ঞান) ইলমে মানতেক, (তর্কশাস্ত্র) ইলমে হিছাব (অংক শাস্ত্র) শিক্ষা করিলেও কিবর বৃদ্ধি হয়। বক্তৃতার ইলম শিক্ষা করিলেও তাকাব্বুরী বৃদ্ধি হয়।
কতক বক্তারা মনে করে, তাহারা যখন বক্তৃতার দ্বারা শ্রোতাদেরকে হাসাইতে বা কাঁদাইতে পারে ও জযবা উঠাইতে পারে তখন তাহাদের দরজা জমিনে নাই, বোধ হয় আরশে মুআল্লাহ্ পর্যন্ত পৌঁছিয়া গিয়াছে। তাহাদের মিথ্যা প্রবঞ্চনা, আজগবী কাহিনীর সববে যে তাহাদের দরজা সপ্ত জমিনের নীচে চলিয়া গিয়াছে তাহার খবর-ই তাহাদের নাই।
কিবরের দ্বিতীয় ছবব বা কারণ আমলের বর্ণনা
দ্বিতীয় সববঃ আমল অর্থাৎ যুহদ ও ইবাদাত। আমলের দ্বারা তাকাব্বুর পয়দা হওয়ার কারণ ইলমে দ্বীনের অজ্ঞতা। যেরূপভাবে জাহেরী বন্দেগী সুচারুরূপে সমাধা করিবার জন্য ফিক্বাহ শাস্ত্র শিক্ষা করিতে হয়, তদ্রুপ বাতেনী ইবাদাত সমাধা করিবার জন্য ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করিতে হয়। এই ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা না করিয়া জিকির-শুগলে রত হইলে তাকাব্বুর পয়দা হয়।
জাহেল সুফীরা লতীফার হরকত (নড়াচড়া ও কম্পন) মা’লূম (অনুভব) করিতে পারিলেই নিজকে কামেল বলিয়া ধারণা করিতে থাকে। এদের আসল মাকসুদ হইল লতীফার হরকত অনুভব করা, নূর দর্শন করা, সভা সমিতিতে গিয়া জযবা তোলা, হাই পাই করা। ইসলাহে ক্বল্ব কি জিনিস তাহার খবর-ই তাহাদের নাই। এই শ্রেণির দরবেশরা কিতাব মানিতে রাজি না। তাহারা বলে আমরা পীর ধরিয়াছি, পীর-ই আমাদের কিতাব।
কিবরের তৃতীয় ছবব বা কারণ নছবের বর্ণনা
তৃতীয় ছববঃ নছব (বংশ) নছবের দ্বারা তাকাব্বুর পয়দা হওয়ার কারণ দ্বীনি ইলমের অজ্ঞতা। যে সমস্ত উচ্চ বংশের ছেলেরা দ্বীনি ইলমে মূর্খ তাহারাই দিবারাত্র বংশের গৌরবে মত্ত থাকে।
কিবরের ৪র্থ ছবব বা কারণ হুছ্ন জামালের বর্ণনা
চতুর্থ ছববঃ হুছ্ন জামাল বা সৌন্দর্য দ্বারা গৌরব প্রকাশ করা একমাত্র মূর্খতা। শিক্ষার যুগে হুছ্ন (জামাল)-এর কদর একমাত্র মূর্খ মুরীদদের কাছেই কিছু শুনা যায়। মূর্খ মুরীদেরা পীরের নূরানী চেহারার গৌরব দিবারাত্র বর্ণনা করিয়া থাকে। গুণহীন নূরানী চেহারার গৌরব বর্ণনা করিতে গিয়া যে তাহারা শিক্ষিত সমাজের কাছে হাসির পাত্র সাজিতেছে, তাহা তাহারা বুঝেই না।
কিবরের পঞ্চম ছবব বা কারণ মালের বর্ণনা
পঞ্চম ছববঃ মাল। মালদার ব্যক্তিরা অহংকারে মত্ত হয় না, এইরূপ লোক খুব কমই পাওয়া যায়। আল্লাহ্ তা’য়ালা মাল কি উদ্দেশ্যে দান করিয়াছেন এবং মালের আয় ও ব্যয়ের হিসাব হাশর প্রান্তরে আল্লাহ্ তা’য়ালাকে বুঝাইয়া দিতে হইবে। এইসব কল্পনা যে মালদারদের নাই তাহাদের মুখে মালের গৌরবই দিবারাত্র শুনা যায়।
কিবরের ষষ্ঠ ছবব বা কারণ কুয়্যাতের বর্ণনা
ষষ্ঠ ছববঃ কুয়্যাত বা শক্তি। আল্লাহ্ তা’য়ালা মানুষকে কুয়্যাত কেন দান করিয়াছেন? ইসলামের খেদমত করিবার জন্য? না ইসলামকে ধ্বংস করিবার জন্য? নেক অর্জন করিবার জন্য? না পাপের বোঝা ভারী করিবার জন্য? এই কল্পনা যতক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে পয়দা না হইবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কুয়্যাতের দ্বারা কিবরই জাহের হইতে থাকিবে।
কিবরের সপ্তম ছবব বা কারণ কাছ্রাতুল আন্সারের বর্ণনা
সপ্তম সববঃ সাহায্যকারী বা তাবেদারদের সংখ্যা বৃদ্ধি। যে অবস্থাশালী লোকের জনতার সংখ্যা বেশী তাহার দ্বারা দিবারাত্র কিবর প্রকাশ হয়।
(কিতাবী শর্তবিহীন নাকেছ) পীর সাহেবদের বহু মুরীদ থাকিলে উঠা-বসা, চলা-ফিরা, কথাবার্তা ইত্যাদি প্রত্যেকটাতেই কিবর প্রকাশ পাইতে থাকে।
একজন পীর সাহেব হাফ্তম ক্লাসও (৭ম শ্রেণি) পাশ করেন নাই, অথচ অসংখ্য মুরীদ আছে। এক্ষণে তাহার দরবারে টাইটেল পাশ মাওলানা সাহেব গেলেও তাঁহার পাশে স্থান দিতে রাজি না। পীর সাহেবের যদি অসংখ্য মুরীদ না থাকিত তবে পীর সাহেব মাওলানা সাহেবদের পার্শ্বে বসিতে সাহস পাইতেন না। জনতার বল থাকা সত্ত্বেও যে অহংকার নাই এইরূপ লোক খুবই কম পাওয়া যায়।
কিবরের আলামত বা লক্ষণসমূহের বর্ণনা
প্রশ্নঃ- কিবরের আলামত কয়টি?
উত্তরঃ- কিবরের বহু আলামত আছে, এখানে মোটামুটি কয়েকটি লিখা গেল-
❑ আল্লাহর হুকুম বিনা প্রতিবাদে মানিতে দিলে না চাওয়া।
❑ ধর্ম বিরোধী কাজ করিতে দিলে ভয় না হওয়া।
❑ নায়েবে রসূলের অনুসরণ করিতে দিলে না চাওয়া।
❑ রসূলের সুন্নাত বা তরীকা মত চলিতে দিলে না চাওয়া।
❑ হক ফতোয়া মানিতে দিলে না চাওয়া।
❑ মুসলমানদের দেওয়া হাদিয়া কবূল না করাও অহংকারের আলামত।
❑ নিজকে ছোট ধারণায় না আনাও অহংকারের আলামত।
❑ ক্ষুদ্র কাজ করিতে লজ্জাবোধ করাও অহংকারের আলামত।
বর্তমান জামানায় সামান্য কিছু লিখাপড়া করিলেই সাংসারিক কাজ নিজের হাতে করাটাকে লজ্জা মনে করে। ইহা একমাত্র অহঙ্কারের আলামত। কতক পীর (অর্থাৎ ইলমে তাছাওউফ ও কিতাবী শর্তবিহীন নাকেছ পীর) এবং কতক আলেম সাহেবদের মধ্যে এই প্রকার অহঙ্কারের আলামত খুব বেশী দেখা যায়।
হযরত (স:) নিজে-
❑ উট ও ছাগলকে খাদ্য ও পানি খাওয়াইয়াছেন।
❑ দুধ দোহন করিয়াছেন।
❑ বাজার হইতে সদায় ক্রয় করিয়া নিয়া আসিতেন।
❑ ঘরে ঝাড়– দিতেন।
❑ বিবিদের সাথে কাজে শরীক হইতেন।
❑ মেহমানকে নিজ হাতে খাদিম দিয়া খাওয়াইতেন।
❑ নিজের হাতে কাপড় ধৌত করিতেন।
❑ বর্তমান জামানার কতক আলেম ও কতক পীর সাহেবেরা উপরোল্লিখিত কাজগুলি করিতে পারিবেন কি? কখনও না। তাঁহারা এইসব কাজ করিলে লজ্জায় আধামরা হইয়া যাইবেন। এই লজ্জাবোধ করাই অহঙ্কারের আলামত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
কিবরের আলামত হিসাবে ইসলাহে নফস কিতাবের ১২ পৃষ্ঠায় লিখা আছে- ❑ গরীব লোকদেরকে নিকটে বসিতে না দেওয়া।
❑ কাহাকেও সালাম না করা। (প্রকাশ থাকে যে, সালাম না করা যদিও তাকাব্বুরীর লক্ষণ কিন্তু ধর্ম বিরোধী ও কাফেরদের বেলায় উহা বাধ্যতামূলক অর্থাৎ বিনা ওজরে তাহাদিগকে সালাম দেওয়া হারাম।)
❑ কেহ উপদেশ দিলে ভ্রু-কুঞ্চিত করিয়া অবহেলা করা।
❑ অপরের সহিত দেখা সাক্ষাত করিতে না যাওয়া। (প্রকাশ থাকে যে, দেখা-সাক্ষাত করিতে না যাওয়া যদিও তাকাব্বুরের লক্ষণ কিন্তু জাহেল ও গোমরাহ্ পীর-আলেমের বেলায় উহা বাধ্যতামূলক অর্থাৎ- তাহাদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব।)
❑ সাধারণ লোকদিগকে ইতর জীবের মত মনে করা।
❑ অন্যকে অবজ্ঞার চক্ষে দেখা।
কিবরের এলাজ বা চিকিৎসার বর্ণনা
৮। প্রশ্নঃ- কিবরের এলাজ কি? উত্তরঃ- (ইলমী এলাজ বা জ্ঞানমূলক চিকিৎসার বিবরণ) যে ব্যক্তির মধ্যে কিবর আসে, তাহার চিন্তা করিয়া দেখা উচিৎ কিবর কোন ছববে আসিয়াছে?
যদি ইলমের ছববে আসিয়া থাকে, তবে তাহার ইলমের হাকীকত সম্বন্ধে গবেষণা করিতে হইবে।
❑ জাহেরী ইলম শিক্ষা করা হয় জাহেরী অজুদের (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের) পবিত্রতা হাছিলের জন্য। আর বাতেনী ইলম শিক্ষা করা হয় বাতেনী অজুদের পবিত্রতা হাছিলের জন্য। এক্ষণে আলেম সাহেবের চিন্তা করিয়া দেখিতে হইবে যে, তাহার জাহেরী এবং বাতেনী ইলম যাহা শিক্ষা করা ফরজ ছিল তাহা আদায় করিয়াছে কিনা? যদি আদায় হইয়া থাকে, তবে দেখিতে হইবে তাহার উভয় ইলমের উপর আমল করা হইতেছে কিনা? যদি না হইয়া থাকে তবে তাহার মনে করিতে হইবে তাহার ইলম হাছিল হওয়ার পরও দোযখে যাইতে হইবে। যেহেতু যে আলেম ইলম অনুযায়ী আমল করিতেছে না, আল্লাহ্ তা’য়ালার কাছে তাহাদের কোন পদমর্যাদা নাই। কাজেই এইরূপ ইলমের গৌরব করিয়া লাভ কি?
বিশেষ দ্রষ্টব্য
❑ অহংকারের এলাজ হিসাবে ইসলাহে নফছ কিতাবের ২৩ পৃষ্ঠায় লিখা আছে- অহংকার দূর করিতে হইলে নিজকে এবং প্রভুকে চিনিতে হইবে। মানুষ এক ফোঁটা তুচ্ছ পানি দ্বারা পয়দা হইয়াছে। যখন মৃত্যু হইবে তখন আবার দুর্গন্ধযুক্ত পচা মুর্দারে পরিণত হইয়া পোকা-মাকড়ের খাদ্য হইবে। এই দুই অবস্থার মধ্যখানের সময়ে পেটে নাপাক ও পায়খানার বোঝা বহনকারী। অতএব, এই মানুষের পক্ষে কিবর করা সাজে না।
আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনের ২৯ নম্বর পারার সূরা দাহরে ফরমাইয়াছেন-
هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا ـ إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيهِ ـ
অর্থাৎ- মানুষের উপরে এমন একটি সময় কি আসে নাই? যখন সে উল্লেখযোগ্য কোন জিনিসই ছিল না। নিশ্চয় আমি মানুষকে পরীক্ষা করিবার উদ্দেশ্যে সংমিশ্রিত ধাতুর দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছি। অহংকার দূর করিবার জন্য বর্ণিত কথাগুলি চিন্তা করিলে বিশেষ ফায়দা হইবে।
ইবাদাতের কারণে কিবরের ইলমী এলাজ (চিকিৎসা)
আর যদি যুহদ ও ইবাদাতের দ্বারা কিবর পয়দা হইয়া থাকে, তবে তাহার ধারণা করিতে হইবে- আমার উপর যে ইলম ফরজ ছিল, আমি সেই ফরজ আদায় করি নাই, এখন আমি বিনা ইলমে যে সমস্ত ইবাদাত করিয়াছি তাহা আল্লাহর দরবারে গায়রে মাকবুল। এক্ষণে গায়রে মাকবুল ইবাদাত দ্বারা গৌরব করিয়া লাভ কি?
নসবের কারণে কিবরের ইলমী এলাজ
আর যদি নসবের দ্বারা কিবর পয়দা হইয়া থাকে, তবে তাহার ধারণা করিতে হইবে নসবের (বংশের) হাকীকত কি? নসবের হাকীকত হইল সমস্ত মানুষ আদম সন্তান। সমস্ত মানুষ আব, আতশ, খাক, বাদ (অর্থাৎ- পানি, আগুন, মাটি ও বাতাস) এই চার চীজ দ্বারা তৈরি হইয়াছে। কুরআন মাজীদে আছে- মানুষ সামান্য তুচ্ছ পানি দ্বারা তৈয়ার হইয়াছে। মানুষ আমলের দ্বারা দরজাশীল হয়। যাহার আমল খারাপ সে পয়গম্বরজাদা হইলেও লাভ নাই। যেমন- কাবীল, কেনয়ান পয়গম্বরজাদা হইয়াও বেহেস্ত ভবনে স্থান পাইবে না; বরং দোযখের ভিতরে কঠিন শাস্তি ভোগ করিবে।
সৌন্দর্যের কারণে কিবরের ইলমী এলাজ
আর যদি হুছন জামালের (সৌন্দর্যের) দ্বারা কিবর পয়দা হইয়া থাকে, তবে গবেষণা করিয়া দেখিতে হইবে যে, হুছন জামালের হাকীকত কি? হুছন জামালের হাকীকত হইল ইহা আল্লাহ্ প্রদত্ত জিনিস; নিজের অর্জিত জিনিস নহে। আল্লাহ্ তা’য়ালা হুছ্ন (জামাল) দিয়াছেন শুকরিয়া আদায় করিবার জন্য। অহংকার করিবার জন্য দেন নাই। কাজেই অহংকার করা উচিত নহে।
মালের ছববে কিবরের ইলমী এলাজ
আর যদি মালের ছববে কিবর আসিয়া থাকে, তবে চিন্তা করিয়া দেখিতে হইবে, আল্লাহ্ তা’য়ালা মাল দান করিয়াছেন কি জন্য? মাল দান করিয়াছেন মানুষের ইহকাল এবং পরকালে শান্তি ও কল্যাণ হাছিল করিবার জন্য। এক্ষণে মালদার ব্যক্তির গবেষণা করিয়া দেখিতে হইবে, তাহার মাল দ্বারা তাহার ইহকাল এবং পরকালের শান্তি যোগাড় হইয়াছে কি না? যদি না হইয়া থাকে তবে তাহার মালের ছববে কোন পদমর্যাদা বা উদ্দেশ্য হাছিল হয় নাই। বরং মালের ছববে তাহার দোযখের যোগাড় হইয়াছে। কাজেই এইরূপ জিনিস দ্বারা অহঙ্কার করা উচিত নহে।
কুয়্যাতের ছববে কিবরের ইলমী এলাজ
আর যদি কুয়্যাতের (শক্তি) দ্বারা কিবর পয়দা হইয়া থাকে, তবে গবেষণা করিয়া দেখিতে হইবে তাহার শক্তি পরিমাণ ইবাদাত করা হইয়াছে কি না? যদি না হইয়া থাকে, তবে তাহার এই কুয়্যাতের নাশুক্রী করিবার জন্য দোযখে পতিত হইতে হইবে। এক্ষণে যে জিনিসের ছববে দোযখে পতিত হইতে হইবে, সেই জিনিসের দ্বারা অহংকার করিয়া লাভ কি?
ধন-সম্পদের ছববে কিবরের ইলমী এলাজ
মালের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ পালন করিতে হইলে-
১। ধর্ম বিস্তার ও ধর্ম রক্ষা
২। সংসার রক্ষা এবং
৩। গরীব রক্ষার জন্য মাল খরচ করিতে হইবে।
আল্লাহর দ্বীন-শিক্ষা এবং উহা প্রচার-কায়েমের জন্য-
১। ধর্মীয় শিক্ষক-পীর-উস্তাদকে শিক্ষা প্রদানের জন্য সাহায্য বা শিক্ষা খরচ
২। কুরআন প্রচারক হাদীকে তাবলীগে হুকমী হিসাবে আর্থিক সাহায্য প্রদান এবং
৩। ধর্মের উপর আক্রমণ প্রতিরোধ কল্পে নায়েবে রসূলকে-কিতাব, বিজ্ঞাপন ছাপানো এবং ধর্মীয় বাহাছ ইত্যাদির জন্য মাল-প্রদান করিতে হইবে।
ধর্মের তিনটি বিভাগ
১। প্রচার বিভাগ
২। তাছাওউফ বিভাগ ও
৩। ফিক্বাহ বিভাগ।
এই তিনও বিভাগ যাহাতে দুনিয়ার বুকে চালু হইতে পারে, সেই জন্য তিনও বিভাগে মাল দান করিতে হইবে। ধর্মীয় প্রচার অভিযান গং ব্যাপারে ৫টি ফান্ড এবং গরীবদের জন্য তিনটি ফান্ড ইত্যাদি ব্যাপারে আমল বা দায়িত্ব পালন করা হইতেছে কিনা? ইত্যাদি ব্যাপারে সঠিক ভাবে চিন্তা করিলে মালের ব্যাপারে অহংকার থাকিবে না।
জনবলের কারণে অহঙ্কার পয়দা হইলে উহার ইলমী এলাজ
আর যদি জনতার ছববে কিবর পয়দা হইয়া থাকে, তাহা হইলে গবেষণা করিয়া দেখিতে হইবে যে, জনতার হাকীকত কি? পীর সাহেবের ধারণা করিতে হইবে, আমি লাখী পীর। অর্থাৎ- আমার কাছে লাখ লাখ লোক মুরীদ হইয়াছে ক্বলবের ইসলাহের জন্য। এক্ষণে লাখ লাখ লোকের কলবের ইসলাহ (সংশোধন) হইয়াছে কিনা? যদি না হইয়া থাকে, তবে কাহার দোষে হয় নাই? মুরীদানগণের নিজস্ব দোষের কারণে? না কি আমার দোষের কারণে?
যদি আমার দোষের কারণে ইসলাহ (সংশোধন) না হইয়া থাকে। অর্থাৎ- তাছাওউফ সম্পর্কে অজ্ঞ বা বে-আলেম পীরদের চিন্তা করিতে হইবে যে, আমি তো নিজেই সঠিক ইলমে ক্বলব বা ইলমে তাছাওউফ মুহলিকাত ও মুনজিয়াতের তা’রীফ, আসবাব, আলামাত ও এলাজ ইত্যাদি কিছুই শিক্ষা করি নাই। বরং চরম অজ্ঞতা ও ভুল ধারণার ভিতরে থাকিয়া মুরীদদেরকে ইলমে তাছাওউফের নামে শুধু নফল জিকির, অজিফা, নফল দোয়া-দুরূদ, নফল মুরাকাবা ইত্যাদি শিক্ষা দিয়া আসল ও ফরজ ইলমে তাছাওউফ থেকে নিজেও বঞ্চিত রহিয়াছি এবং লাখ লাখ মুরীদদেরকেও বঞ্চিত করিয়াছি।
কাজেই মুরীদানদের ক্বলবের ইসলাহ যে হয় নাই তাহাতো সম্পূর্ণ রূপে আমারই চরম ভুল ও আমারই দোষে হয় নাই।এমনকি উপরোক্ত চরম ভুল, অজ্ঞতা অথবা গাফলতি ও অলসতার কারণে যদি একজন মুরীদেরও ক্বলবের ইসলাহ না হইয়া থাকে, তবে একজন মুরীদের জন্যও হিসাব অন্তে দোযখে প্রবেশ করিতে হইবে। এক্ষণে মুরীদের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় আমার দরজা উচ্চ হয় নাই বরং নীচের দিকে চলিয়া গিয়াছে। এক্ষণে যাহাদের ছববে দোযখের দিকে গমন করিতে হইবে, তাহাদের সংখ্যা বৃদ্ধি দেখিয়া অহংকার করা উচিৎ নহে।
আর যদি রাজা-বাদশাহ অথবা যে কোন নেতা পর্যায়ের লোকের অন্তরে জনতার বলের কারণে অহংকার ভাব আসে, তবে চিন্তা করিতে হইবে যে, আমার অধীনস্তদের প্রতি আমার যে বিশাল দায়িত্ব-কর্তব্য ছিল, তাহা প্রতিপালন করা হইয়াছে কিনা? যদি কাহারো ক্ষেত্রে প্রতিপালন না হইয়া বরং ত্রুটি হইয়া থাকে, তবে তাহাতে মহা অপরাধী সাব্যস্ত হইতে হইবে।
এক্ষণে অধীনস্ত জনতার কারণে দায়িত্ব বাড়িয়াছে, কাজেই ইহাতে অহংকারের কিছুই নাই। বরং আল্লাহর নিকট কি জবাব দিব? সেই চিন্তা অন্তরে আনয়ন করিতে হইবে।
মোতাকাব্বের (অহংকারী) লোকেরা উপরোল্লিখিতভাবে গবেষণা করিতে থাকিলে অহংকারের মাত্রা কমিতে থাকিবে। উপরোল্লিখিত যে এলাজের বর্ণনা করা গেল তাহা ইলমী এলাজ।
দ্বিতীয়-আমলী এলাজ।
আমলী এলাজ বহু প্রকার। এখানে মাত্র কয়েক প্রকার লেখা হইল।
❑ যে বিষয়ে কিবর আসে সেই বিষয়ের বড় শ্রেণির লোকদের সাথে সাক্ষাত করা। যেমন- হযরত মূসা (আঃ) হযরত খিজির (আঃ) -এর সাথে সাক্ষাত করিয়াছিলেন।
❑ বক্তৃতা সম্বন্ধে কিবর আসিলে তাহা অপেক্ষা বড় বক্তার সাথে সাক্ষাত করা। ❑ পীরত্ব সম্বন্ধে কিবর আসিলে নিজের চাইতে বড় পীরের সঙ্গে সাক্ষাত করা।
❑ ইলম সম্বন্ধে কিবর আসিলে তাহা অপেক্ষা বড় আলেমের সঙ্গে সাক্ষাত করা।
❑ যে সমস্ত জায়েয কাজ করিতে লজ্জা বোধ হয়, সেই সমস্ত কাজ নিজ হাতে করা। যাহাদের প্রতি অহংকার ভাব আসে তাহাদের সাথে নম্রতা অবলম্বন করা।
❑ কামেল পীর- মোর্শ্বেদের সঙ্গ লাভ করা এবং
❑ রিয়াজত মোজাহাদা করা।
কিবর সম্পর্কীয় এক জটিল প্রশ্ন ও উহার সমাধান
প্রশ্নঃ- নিজের মরতবা অপরের চেয়ে বড় ধারণা করাই যদি কিবর হয়, তবে কাফের, ফাসেক লোকদিগকে কি প্রকারে নিজের চেয়ে মরতবায় বড় স্থির করা হইবে?
উত্তরঃ- কাফেরের সঙ্গে সাক্ষাত করিলে মনে করিতে হইবে যে, এই ব্যক্তির দরজা আমার চেয়ে মরতবায় বড় হইতে পারে। যেহেতু এই ব্যক্তি মুসলমান হওয়ার পর কোন পাপে লিপ্ত না হইয়া মরিয়া যাইতে পারে। আর আমি মুসলমান হওয়ার পরও পাপ কাজে লিপ্ত আছি। আবার আমি এখন মুসলমান আছি কিন্তু মরিবার সময় কি হালতে মরিব তাহার খবর নাই। সুতরাং এই ব্যক্তির চেয়ে আমার মরতবা যে বেশী, তাহার কোন নিশ্চয়তা নাই।
❑ আর আলেম ব্যক্তির মূর্খ লোকের সঙ্গে সাক্ষাত হইলে ধারণা করিতে হইবে যে, আমি আলেম, আর এই ব্যক্তি মূর্খ। দুই জনেই গুনাহের কাজে লিপ্ত আছি। তবে এই ব্যক্তি গুনাহের কাজ করে জাহেল অবস্থায় আর আমি গুনাহের কাজ করি আলেম হইয়া। এই হিসাবে আমার দরজা এই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম নয়।
❑ আর জাহেল ব্যক্তির ধারণা করিতে হইবে, এই ব্যক্তি আলেম আর আমি জাহেল মানুষ। এই ব্যক্তি ইবাদাত করিতেছে মাসয়ালা জানিয়া। আর আমি ইবাদাত করিতেছি মাসয়ালা না জানিয়া। কাজেই আমার দরজা আলেম অপেক্ষা অতি নীচে।
আর যদি বেশী বয়সী লোকে অল্প বয়সী লোকের সঙ্গে দেখা করে তবে ধারণা করিতে হইবে আমার বয়স বেশী, আর এই ব্যক্তির বয়স কম। আমি গুনাহ্ যতদিন ধরিয়া করিতেছি, এই ব্যক্তি ততদিন ধরিয়া গুনাহ্ করে না। কাজেই এই হিসাবে আমার দরজা এই ব্যক্তি অপেক্ষা অনেক কম। আর অল্প বয়সী লোকে বেশি বয়সী লোকের সহিত সাক্ষাত করিলে ধারণা করিতে হইবে, এই ব্যক্তির বয়স বেশী। এই ব্যক্তি ইবাদাত যতদিন ধরিয়া করিতেছে, আমি ততদিন ধরিয়া ইবাদাত করিতেছি না। কাজেই আমার দরজা এই ব্যক্তির চেয়ে কম।
উপরোল্লিখিত ধারণা ছাড়া শুধু জিহ্বায় বলিতে থাকা যে, আমি নগণ্য জঘন্য, গুনাহ্গার, অধম ইত্যাদি ইহা একমাত্র মোনাফেকী। যেমন- একজন নাকেছ পীর সাহেব বা আলেম সাহেব ওয়াজ করিতে দাঁড়াইয়া বলিয়া ফেলিল, আমি জাহেল মানুষ, গুনাহ্গার মানুষ। এক্ষণে একজন শ্রোতায় যদি বলে, হুজুর আপনি যখন জাহেল মানুষ তবে আপনি বসিয়া পড়েন। একজন আলেম দাঁড়া করাইয়া দেন। আমরা জাহেল মানুষের ওয়াজ শুনিতে রাজী না। তবে দেখা যাইবে পীর সাহেবের বা আলেম সাহেবের চক্ষে রক্ত আসে কিনা? বর্ণিত নাকেছ পীর সাহেবের ও আলেম সাহেবের উল্লেখিত কথাগুলির মধ্যে রহিয়াছে বড় রকমের মুনাফেকী।
14/08/2026
ময়দানে হাশরে পীরদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ময়দানে হাশরে পীরদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাদের মুরিদের এসলাহ না হবার কারনে-- গুনীয়াতুত ত্বলেবীন,আল ইলমু ওয়ালা ওলামাও--
ডঃ মুফতি হাফেজ মুহাদ্দিস মুফাস্সির খলিলুর রহমান আল আজহারী আল মাদানী আল হানাফী দাঃবাঃ
Muhammad khalilur Rahman
Khalilur Rahman
13/08/2026
সারা পৃথিবীর সকল মুসলমানদের এই একটি স্থানেই আসতে হবে সেটা ঈমান (আকাঈদ),ইসলাম(ফিকাহ), ইহসান (তাছাওউফ) এই তিনভাগ মাসয়ালার সমষ্টির নাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের মধ্যে।
রাসুল সাঃকে প্রেরণের উদ্দেশ্য,শিক্ষা, আমল হলো ঈমান (আকাঈদ),ইসলাম (ফিকাহ),ইহসান (তাছাওউফ) মৌলিকভাবে এই ভাগের মধ্যেই।
আমল বন্দেগী করতে হবে নববী পথ পদ্ধতির সুন্নাহ অনুসারে। এর বিচ্যুত ঘটলে সেই মুসলমান পদস্খলিত হয়ে জাহান্নামে চলে যাবে।
সেই নববী পথপদ্ধতি ও সিরাতুল মুস্তাকিম এর পথ ঈমান (আকাঈদ), ইসলাম (ফিকাহ), ইহসান (তাছাওউফ)।
এর সাথে আপোষ করবেন কেমনে যদি মুসলমান হয়ে থাকেন।
রাসুল সাঃ কুরআন ও তার সূন্নাহর আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন সেই কুরআনের মূল শিক্ষা ও আমল আকাঈদ ফিকাহ তাছাওউফ এই তিন ভাগ।
রাসুল সাঃ এর পথ পদ্ধতির নববী সূন্নাহ হলো আকাঈদ ইবাদত মোয়ামালত মুহলিকাত ও মুনজিয়াত।
উক্ত ইলেম শিক্ষা ও আমলের বিনিময়েই মহান আল্লাহ জান্নাত দান করবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর মুহসীনিন বান্দা,মুকাররবিন বান্দা, আল্লাহর অধিক নৈকট্যশীল বান্দা হতে হলে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের ইলেম অর্জন করতঃ সকল প্রকার হারাম ও নাজায়েজ এবং সন্দেহজনক বিষয় থেকে দুরে থাকতে হবে;ফরজ-ওয়াজিব-সুন্নাতে মুয়াক্কাদা-সুন্নতে জায়েদা -নফল-তাহাজ্জুদ-মুস্তাহাব আমল ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে হবে যা সুরা বাকারার ২০৮,সুরা যারিয়াত ১৬-১৮ আয়াত,হাদীসে কুদসীতে এসেছে; রাসুল সাঃ, সাহাবাগন, তাবেঈগন, তাবে তাবেঈগন,
মূজতাহিদ ইমামগন,কামেল পীরদের আমল বন্দেগীও তাই ছিল।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi. islamic peacher, motivation speaker and Talebe ilm of complete deen Islam.
13/08/2026
যে তার শায়খকে সম্মান করে না, সে দ্বীনের ইলেমের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়।” (ইমাম শাফেয়ী রহঃ)।
দ্বীনের ইলম আল্লাহর নেয়ামত,আর ওস্তাদ তার মাধ্যম।
তালিবুল ইলেমদের সফলতা শুরু হয় ওস্তাদের সম্মান ও খেদমত থেকে।
শায়খের প্রতি বিনয়,আল্লাহর কাছে মর্যাদা বাড়ায়।
দুনিয়া বদলাতে চাইলে, প্রথমে বদলাও ছাত্র আর ওস্তাদের সম্পর্ক। এই জন্য পীর-উস্তাদ ও মুরীদের-ছাত্রের হক এর ইলেম অর্জন করতে হবে।
শায়খ হতে হবে ফিকাহ ও তাছাওউফ তত্ত্ববিদ মুহাক্কিক আলেম,ফরজ ওয়াজিব সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, সুন্নতে জায়েদা নফল তাহাজ্জুদ মুস্তাহাব আমলের এবং নববী সূন্নাহর অধিকারী।
==Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi
#ওস্তাদ #ছাত্র
12/08/2026
আজ আখেরী চাহার শোম্বা;
🟪⏩আখেরী চাহার শোম্বা কি? নাকিশ আলেমদের গাফিলতির কারণে,যাদের নবীপ্রেম কম তাদের কারনে শুধু ফরজ ওয়াজিব এর দোহায় দিয়ে অনেক মুসলমান জানেইনা,জানতে দেওয়া হয়না।
⏩কতজন মুসলমান জানে? বুধবার আখেরী চাহার শোম্বা। সফর মাসের শেষ বুধবার শেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িক সুস্থ হয়ে ওঠার দিনকে স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে ইবাদত ও উৎসব প্রচলিত তাই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’।
★আখেরী চাহার শোম্বা হলো- মুসলমানদের পালিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি স্মারক দিবস।আখেরী চাহার শোম্বা একটি আরবি ও ফার্সি শব্দ- যুগল।এর আরবী অংশ আখেরী,যার অর্থ “শেষ”এবং ফার্সি অংশ চাহার শোম্বা,যার অর্থ “বুধবার”। সফর মাসের শেষ বুধবার।
🟪⏩মূল ঘটনাঃ
১০ম হিজরীর শুরুতে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে,নামাজের ইমামতি পর্যন্ত করতে পারছিলেন না।সফর মাসের শেষ বুধবার প্রিয় নবীজি (দঃ) সুস্থ হয়ে ওঠেন। দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার।এদিন নবী করীম (ﷺ)-এর অসুখ হঠাৎ কমে গেল। তিনি সকাল বেলা উঠেই হযরত আয়শা (রাঃ)-কে ডেকে বললেন,আমার জ্বর কমে গেছে। তুমি আমাকে গোসল করিয়ে দাও।সে সময় তাকে গোসল করানো হল। তিনি সুস্থ্য বোধ করলেন।এটাই ছিল দুনিয়ার শেষ গোসল।
ইমাম হাসান,ইমাম হোসাইন ও বিবি ফাতিমা (রাঃ) কে ডেকে আনা হলো। নাতিদ্বয়কে নিয়ে তিনি সকালের নাস্তা করেন।
শেষবারের মত মসজিদে নববীতে সাহাবাদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করেন। রাসুল সাঃ সবসময়ই নামাজের ইমামতি করতেন এর আগে শুধু একবার যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অবস্থায় ওজু করে আসতে দেরী করায়, নামাজের ওয়াক্ত চলে যাবে এমন সময় সাহাবাগন আশারায়ে মোবাশ্বারা হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাঃ কে এক ওয়াক্ত নামাজে দাঁড় করান এবং রাসুল সাঃ এক রাকাত নামায এসে পান। অসূস্থতার কারনে ২১ ওয়াক্ত নামাজ রাসুল সাঃ এর নির্দেশে পরবর্তী খেলাফত লাভের ইশারা স্বরুপ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ কে দায়িত্ব প্রদান করেন।
পরবর্তীতে যারা খলিফা ও যমানার ইমাম হয়েছেন তারা নামাজের ইমামতি করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত নামাজের ইমামতি করবেন ইনশাআল্লাহ।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষ ইমামতিতে বা লোকজনকে নিয়ে সর্বশেষ যে নামাজে ইমামতি করেছিলেন, তা ছিল মাগরিবের নামাজ। সেই নামাজে তিনি সুরা আল-মুরসালাত (سورة المرسلات) পবিত্র কুরআনের ৭৭ নম্বর সূরা সম্পূর্ণ পাঠ করেন।
উম্মুল ফজল (রাঃ) বলেন, "তুমি এই সূরাটি পড়ে আমাকে সেই নামাজের কথা মনে করিয়ে দিলে। এটিই আল্লাহর রাসুল (সাঃ)-এর কাছ থেকে আমার শোনা শেষ তিলাওয়াত, যা তিনি মাগরিবের নামাজে পড়েছিলেন"।
হাদিস অনুযায়ী, রাসুল সাঃ এর চাচী উম্মুল ফজল বিনতে হারিস (রাঃ) তাঁর ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ কে নামাজে সূরা আল-মুরসালাত তিলাওয়াত করতে শোনেন. সন্তানের মুখে এই সূরা শুনে তাঁর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবনের শেষ দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়. তিনি অশ্রু বিসর্জন করতঃ আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ওফাতের আগে সর্বশেষ মাগরিবের নামাজে এই সূরাটিই তিলাওয়াত করেছিলেন এবং এটিই তাঁর কাছ থেকে শোনা শেষ তিলাওয়াত।
নামাজের ওয়াক্ত: সহীহ বুখারী ও মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে আছে উম্মুল ফাদল বিনতে হারিস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থতার সময় মাথা ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় হুজরা থেকে বের হয়ে এসে মাগরিবের নামাজে ইমামতি করেন। এটিই ছিল রাসুল (সা.)-এর জীবনের শেষ নামাজ যা তিনি সাহাবিদের নিয়ে জামাতে বা ইমাম হিসেবে আদায় করেছিলেন। এরপর ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি আর কাউকে নিয়ে জামাতের ইমামতি করেননি।
প্রিয় রাসূল সাঃ সূস্থ হয়েছেন এমন খবর হযরত বেলাল রাঃ সুফফাবাসীগণ বিদ্যুতের ন্যায় এ সংবাদ মদীনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিলেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে আনন্দের ঢেউ খেলে গেল। তারা বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মত দলে দলে আসতে লাগলেন এবং হুযুর (ﷺ)-কে এক নজর দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে রইলেন।
★মদীনাবাসী এই খবরে আনন্দ-খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন এবং দলে দলে এসে প্রিয় নবীজি (দঃ) কে এক নজর দেখে গেলেন। সকলে তাদের সাধ্যমতো দান-সাদকা করলেন,শুকরিয়া নামাজ আদায় ও দোয়া করলেন।
বুখারীর হাদীছে আছে,
আয়েশা রাঃ. বলেন, রাসূল (সা.) যখন আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেলে তিনি বললেন, তোমরা আমার ওপর ৭ মশক পানি ঢালো, যেন আমি আরাম বোধ করি এবং লোকদের মাঝে গিয়ে উপদেশ দিতে পারি। তখন আমরা এভাবে তাঁর দেহে পানি ঢাললাম। এর পর তিনি মানুষের কাছে বেরিয়ে যেয়ে তাদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন এবং তাদেরকে উপদেশ প্রদান করলেন।
(সহীহ বুখারী-৪/১৬১৪, ৫/২১৬১)।
🟪⏩বুজর্গানে দ্বীনের কিছু নির্দিষ্ট বিধি-বিধানের আলোকে 'আখেরী চাহার শোম্বা' পালন করা হয়।শুকরিয়া দিবস হিসাবে পালিত হয়। যাতে সাধারণত গোসল করে দু’রাকাত শোকরানা-নফল নামাজ আদায় শেষে রোগ থেকে মুক্তির দোয়া ও দান-খয়রাত করা হয়। বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, দরবার,খানকায় ওয়াজ- নসিহত,জিকির-আজকার,মিলাদ মাহফিল,দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এই দিনটি পালন উপলক্ষে।
এদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি অফিস-আদালতে ঐচ্ছিকভাবে ছুটির দিন হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
🟪⏩সাহাবায়ে কেরামগণের আমলঃ
হুজুরের রোগ মুক্তির সংবাদে সাহাবায়ে কেরাম কত খুশি ও আনন্দিত হয়েছিলেন। তার কিছুটা আন্দাজ করা যায় কিছু ঘটনার মাধ্যমে। হযরত আবু বকর (রাঃ) পাঁচ হাজার দিরহাম ফকির মিসকীনদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন।হযরত ওমর (রাঃ) দান করলেন সাত হাজার দিরহাম। হযরত ওসমান (রাঃ) দান করলেন ১০ হাজার দিরহাম। হযরত আলী (রাঃ) দান করলেন ০৩ হাজার দিরহাম। সবচেয়ে বেশী দান করলেন,ধনী ব্যবসায়ী হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ)- তিনি একশত উট আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিলেন।(সুবহানআল্লাহ)।
নবী করীম (ﷺ)-এর একটু শান্তি ও আরামের সংবাদে সাহাবীগণ কীভাবে জান-মাল উৎসর্গ করে দিতেন এটা তারই আংশিক প্রমাণ।
“হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রতি বৎসর ঈদে মীলাদুন্নবীর (ﷺ) দিনে একটি মূল্যবান লাল উট জবাই করে যেয়াফত দিতেন"।[বা সাআদাতে আবাদিয়া,তুরস্ক দ্রষ্টব্য]।
🟪⏩নবী করীম (ﷺ)-এর সাময়িক রোগ মুক্তির দিবসকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য পারস্যসহ মধ্য এশিয়া পাক ভারত উপমহাদেশে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই দিবসটি পালন করা হয়। বুজুর্গানে দিনের ত্বরিকা অনুযায়ী এ দিনে নবীজীর স্মরণে এবং রোগ বালাই থেকে মুক্তির নিয়তে আখেরী চাহার শোম্বা দিবসে গোসল করে দুই রাকাত শুকরিয়া নামায আদায় করা হয়। এছাড়াও বৈধ সমস্ত নেক আমল করা হয়।
🟪⏩আখেরী চাহার শোম্বা বা সফরের শেষ বুধবার দিবসটি পালন করে মুসলমানরা ইসলামের একটি স্মরণীয় দিনকে এখনো প্রেরণার উৎস করে রেখেছে। মূলতঃ এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই ইসলামী জোশ বারবার চাঙ্গা হয়ে উঠে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, নবী করীম (ﷺ)-এর স্মৃতি বিজরিত এই দিবসটি পালন করতে এক শ্রেনীর ওলামা নিষেধ করেন এবং এটাকে বিদ’আত বলে মানুষকে ভয় দেখান। তাদের উদ্দেশ্য একটি- সেটি হলো, ইসলামের স্মরণীয় ঘটনাসমূহ মুসলমানদের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা। নবী সাঃ দের স্মৃতি বিজড়িত চিহ্ন সংরক্ষণ করা ও দিবস পালনের মধ্যে অজস্র কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এজন্যই কোরআন মাজিদে পূর্ববর্তী নবীগণের বিভিন্ন স্মরণীয় দিনের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। যাতে মানুষ ঐগুলো থেকে হেদায়াতের আলো লাভ করতে পারে। ঐসব স্মরণীয় দিনগুলোকে আল্লাহপাক কোরআন মজিদে “ইয়াওমিল্লাহ" বা “আল্লাহর স্মরণীয় দিবস" বলেছেন। আখেরী চাহার শোম্বাহর গোসলটি ছিলো নবী করীম (ﷺ)-এর জীবনের শেষ গোসল। এরপর ছিলো জানাযার গোসল।
★আখেরী চাহার শোম্বার দিন বিকাল থেকেই পূনরায় জ্বর দেখা দেয়। এই জ্বরেই নবী করীম (ﷺ) ১২ দিন পর ইন্তেকাল (দুনিয়া থেকে পর্দা) করেন। সুতরাং সফরের শেষ বুধবার একদিকে খুশির দিন অপর দিকে শোকেরও দিন। সকালে আনন্দ বিকালে বিষাদ কিন্তু দুটি একসাথে হলে প্রথমটি পালন করতে হয়। যেমন-১২'ই রবিউল আউয়াল।
🟪⏩দিবস পালনের গুরুত্বঃ
স্বরণীয় দিনগুলোর উল্লেখ করে
আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,
“হে বনী ইসরাঈল! তোমরা ঐ দিনের ঘটনা স্বরণ কর। যেদিন আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে ফেরআউনের অত্যাচার থেকে নাজাত দিয়ে ছিলেন এবং ফেরাউনকে সদলবলে ডুবিয়ে মেরেছিলেন।"[সুরা বাকারা]"
তাই তারা আশুরার দিনে রোজা রাখতো। আমরাও হুযুরের বেলাদত দিবস পালন করি।যেমন-আল্লাহ্ পাক বলেন,“হে প্রিয় হাবীব! ঐ দিনকে স্বরণ করুন- যে দিন আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীকে একত্রিত করে আপনার সম্পর্কে এই মর্মে অঙ্গিকার নিয়েছিলেন যে, যখন তোমাদেরকে নবুয়ত, কিতাব ও হিকমত দিয়ে সম্মানিত করা হবে আর সবার পরে তোমাদের নবুয়তের সত্যায়নকারী মহান রসূলকে প্রেরণ করা হবে- তখন তোমরা তার উপর অবশ্য অবশ্যই ঈমান আনবে এবং অবশ্য অবশ্যই তাকে সর্বোতভাবে সাহায্য সহযোগীতা করবে।"[সুরা আলে ইমরান ৮১ আয়াত]
★মহান আল্লাহ তায়ালা যেন সকলকে আমল করার তৌফিক দান করেন।"(আমিন)"
★মসজিদের খতিবগণ যদি বারো চাঁদের খুতবা অনুসরণ করতো তাহলে অধিকাংশ মসজিদের মুসল্লীগণ জানতে পারতো কিন্ত তারাতো মনগড়া ওয়াজ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে,কুরআন অপব্যাখ্যা করে,নিজে নিজে বক্তা সাব আমীর সাব সাজে।
🟪⏩ Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi. ইসলামিক গবেষক ও চিন্তাবিদ।পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও তাছাওউফ শিক্ষার্থী,মির্জাপুর তাছাওউফ মাদ্রাসা ও নায়েবে রসুলের দরবার শরীফ,নিকলী,কিশোরগঞ্জ।
Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?