Home
>
Bangladesh >
Dhaka >
Voice of Complete Deen Islam-পুর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের আলো
Voice of Complete Deen Islam-পুর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের আলো
Share
পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম হলো 'আকাঈদ তাছাওউফ ফিকাহ এই তিন ভাগ মাসালার সমষ্টির নাম। নবীওয়ালা কাজ ঐ তিনটি।
��সকলকে জান্নাতী এক দল তথা পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামে দাখিল হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
''হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন :
وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً»، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي»
অর্থঃ আমার উম্মত তিহাত্তর দলে বিভক্ত হবে । শুধুমাত্র একদল ব্যতীত তাদের বাকী সকল দলই জাহান্নামী হবে। সাহা
বায়ে কেরামগণ জিজ্ঞাসা করেছেন,হে আল্লাহর রাসুল!সেই একদল কারা? তদুত্তরে হযরত সাঃ বলেছেন আমি এবং আমার সাহাবাগণ যার উপর আছি।"(তিরমিজী:২৬৪১, ইবনে মাজাহ:৩৯৯২)
�হযরত ইসমাইল হাক্কী রহঃ এর জগৎ বিখ্যাত তাফসীরে রুহুল বয়ানে এই হাদীসের বরাত দিয়ে লেখা আছে-মূলঅর্থঃ যারা দুনিয়াতেই জান্নাতী লোক দেখতে চায় তারা যেন পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম (আকাইদ- তাছাওউফ-ফিকাহ) শিক্ষার্থীদের কে দেখে নেয়।"" সুবহান আল্লাহ।।
�উপরে বর্ণিত হাদীসে পরিস্কার বুঝা যায়,কারা জান্নাতী দল আর কারা দোজখী দল,উহা যাচাই-বাছাই করার জন্য বিশ্বনবী সাঃ মাপকাঠি দিয়েছেন, বিশ্ব নবী এবং তার সাহাবাগণ যার উপর আছে অর্থাৎ যারা বিশ্ব নবী সাঃ ও সাহাবীদের শিক্ষার উপর আছে তারা জান্নাতী দল। আর বাকী সকল দলই জাহান্নামী দল।
��নবী সাঃ বলেছেন,আল্লাহ যার মংগল চান তাকে পরিপূর্ণ দ্বীনের সন্ধান দান করেন(বুখারী ও মুসলিম শরীফ)। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় তিরমিজী শরীফের হাসিয়ায় লেখা আছে মূল কথাঃ আহকামে শরীয়ত (ফিকাহ), আহকামে তরীকত (তাছাওউফ) ও আহকামে হাকীকত (আকাইদ) এই তিন প্রকার মাছয়ালার সমষ্টির নাম দ্বীন বা শরীয়ত।
�জান্নাতী দল তথা আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের মুসলমানের মূল আকীদা হলোঃ আকাঈদ,ফিকাহ,তাছাওউফ এই ০৩(তিন)টি । যারা শেষেরটি স্বীকার করেন না তারা ফাসেক এবং আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের অন্তর্ভূক্ত নয়।
��লক্ষ লক্ষ হাদীসের মা হাদীসে জিবরাইলকে উম্মূস সূন্নাহ বা উম্মূল আহাদীস বলা হয়।
�হাদীসে জিব্রাইলের ব্যাখ্যায় মুসলিম শরীফের ১ম খন্ডের পুরাতন ছাপার ৪৭ং পৃষ্ঠায় আরবি হাশিয়াতে লেখা আছে- হাদীসে জিব্রাইলের মূলকথা হইল-
ان الدين مركب من ثلاثة أجزاء ـ
মূলঅর্থঃ- আকাইদ,ফিকাহ ও ইলমে তাছাওফ এই তিন অংশের দ্বারা দ্বীন গঠিত হইয়াছে।
�বুখারী শরীফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রথম খন্ডে হাদীসে লেখা আছে,ঈমান (আকাইদ)-ইসলাম(ফিকাহ)-ইহসান
(তাছাওউফ) এই তিনের সমষ্টির নাম দ্বীন।
�হযরত শাহ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ এর আসিয়াতুল লুময়াত শরহে মিশকাত এ হাদীসে জিব্রাইলের ব্যাখ্যায় লিখা আছে-মূলঅর্থঃ জানা চাই যে, দ্বীন ইসলাম এর ভিত্তি ও পূর্ণতা তিন বিষয়ের উপরে আকাইদ, ফিকাহ ও তাছাওউফ।
�মিশকাত শরীফের উর্দু শরাহ্ হযরত কুতুবউদ্দিন মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ এর "মাজহেরে হক" কিতাবের প্রথম খন্ডের ২৪নং পৃষ্ঠায় হাদীসে জিব্রাইলের ব্যাখ্যায় লিখা আছে-
মূলঅর্থঃ জানা চাই যে,দ্বীন ইসলাম এর ভিত্তি ও পূর্ণতা তিন বিষয়ের উপরে আকাইদ,ফিকাহ ও তাছাওউফ। এই তিনভাগেই ইসলাম পূর্ণ হয়,এই তিনের বাইরে যারা তারা গোমরাহ বা পথভ্রস্ট। অত্র হাদীসে এই তিনও বিষয়ের আলোচনা করা হইয়াছে।
�হাদীস গ্রন্থ মিশকাত শরীফে এই হাদীসের ব্যাখ্যা বা শরাহ হযরত মাওলানা মোল্লা আলী কারী হানাফী রহঃ এর মিরকাত শরীফে লিখা আছে:- দ্বীন ইসলামের মূল ও পূর্ণতা আকাইদ, তাছাওউফ ও ফিক্বাহ্ এই তিন বিষয়ের উপরেই।
�হাদীস গ্রন্থ "মুসনাদে ইমাম আজম আবু হানিফা" কিতাবের ৪৪ পৃষ্টায় (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) হাদীসে জিবরাইলের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,এই হাদীসটি ইসলামের ভিত্তি ও সারমর্ম। তিনটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তিঃ (১)ফিকাহ, যা বাহ্যিক আমলসমূহকে বলা হয়,(২)কালাম,যা গোপন বিষয় ও বিশ্বাসকে বলা হয় অর্থাৎ আকাইদ,(৩)তাছাওউফ,যা ইখলাস ও ইহসানের নামে আখ্যায়িত করা হয়।
��পবিত্র কোরআন সহ সমগ্র আসমানী কিতাবের শিক্ষা তিনটিঃ আকাইদ, তাছাওউফ ও ফিক্বাহ।(তাফসীরে কাবীর,মিশকাত শরীফ)।
��সূরা ফাতিহাকে উম্মূল কোরআন বলা হয়। উম্মুল কোরআন সূরা ফাতিহার মূল শিক্ষাও তিনটি যথাঃ আকাইদ-তাছাওউফ-ফিকাহ।
��রাসুল তথা হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে প্রেরণের উদ্দেশ্য,কাজ,শিক্ষা ও আমল তিনটি : আকাইদ-ফিক্বাহ- তাছাওউফ এবং এই তিনভাগ সম্পর্কে শিক্ষা দিবেন(সুরা বাকারা:১২৯,১৫১, সূরা আলে ইমরান:১৬৪,সূরা জুমআ: ০২)।
��পবিত্র কুরআন মজীদের সূরা তাওবার ১২২ আয়াতের “লিইয়াতাফাহু-ফিদ্দীন” এর ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআনুল করীমের (মারেফুল কোরানের সংক্ষিপ্ত) ৫৯৬-৫৯৭ পৃষ্টায় লেখা আছে,পরিপূর্ণ ইসলাম হলো ঈমানের পর ফ্বিকাহ ও তাসাওউফ।
��জগৎ বিখ্যাত আরবী আইন কিতাব The Law of Islam "মুছাল্লামাত ছবূত" এর পূরানো ছাপা ৭ম পৃষ্ঠায় লেখা আছে,মূলকথা: হাকীকাত বা আকাইদ,তরীকত বা তাছাওউফ,শরীয়াতে জাহেরা বা ফ্বিকাহ এই তিন প্রকার মাসয়ালার সমষ্টির নাম দ্বীন।
�তাফসীরে রুহুল বয়ানে লেখা আছে মূলকথাঃ অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রকারের এলমোচ্ছের বা ইলমে বাতেন। উক্ত তাফসীরে রুহুল বয়ানের ৩য় খন্ডের ৫৩৭ পৃষ্ঠায় লিখা আছে:-যে ইলেম শিক্ষা করা ফরজ তা তিন ভাগে বিভক্ত। (১)আকাঈদ (২)ইলমে তাছাওউফ(৩)ফিক্বাহ।
�সূরা বাকারার ১৭৭ ”লাইসাল বিরর” আয়াতের ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীরে বায়জাবীতে লিখা আছেে, আল্লাহর আদেশ নিষেধ অগণিত- অসংখ্য কিন্তু আল্লাহর আদেশ নিষেধের গোড়া তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ যথাঃ আকায়েদ,ফিকাহ,ইলমে তাছাওউফ।
�পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,ময়দানে হাশরে তাছাওউফ হাসিল বা অন্তর শুদ্ধ ব্যতীত ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনই কাজে আসবেনা। (সূরা শো'য়ারা ৮৮ -৮৯),
আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
চোখ থাকিলেও ইহজগতে অন্ধ আছো,পরজগতে অন্ধ থাকবে, গাফেল পথভ্রস্ট হবে (সুরা বনি ইসরাইল- ৭২),
আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
বস্তুতঃ চোখ তো অন্ধ হয় না,বরং অন্ধ হয় বক্ষ স্থিত হৃদয় বা আত্মা।(সুরা হজ্ব- ৪৬)।
��রাসুল সাঃ বলেছেন, সাবধান!মানব শরীরে এক টুকরা গোস্ত আছে, যখন তা ভাল হয় তখন পুরো শরীরটাই ভালো হয়ে যায়,আর যখন তা নষ্ট হয় তখন পুরো শরীরটাই নষ্ট হয়ে যায়, সাবধান! তা হলো ক্বলব-দেল-আত্মা।[বুখারী]
��বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর মারেফুল কোরানের সংক্ষিপ্ত সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআনুল করীমের ৫৯৬-৫৯৭ পৃষ্টায় সূরা তাওবার ১২২ আয়াতের “লিইয়াতাফাহু -ফিদ্দীন” এর ব্যাখ্যায় " ইলমে তাছাউওফ শিক্ষা করাও ফরজে আইনের অন্তর্ভূক্ত " লেখা আছে।
�হযরত কাজী ছানাউল্লাহ পানি পথী রহঃ এর "তাফসীরে মাঝহারী"তে ৬ষ্ঠ খন্ড ৯৯ পৃষ্টায় (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ইবাদত-মোয়ামালাত এবং ১০১ পৃষ্টায় তাছাওউফ/ইলমে লাদুনী শিক্ষা করাও ফরজে আইন এবং উভয়টি পরিপূর্ণ ইসলাম বলেছেন। চতুর্থ খন্ডের (ই.ফা.) ৪৫৩ পৃষ্টায় লেখা আছে,পীর-মাশাইখ ও বুযুর্গদের সান্নিধ্যে অবস্থান করে তাছাওউফ অর্জন করা ফরজ ও আবশ্যক।
�আসুন জেনে নিই,শরিয়াতের ভাষায় আলেম কারাঃ
�ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলেছেন,যে ব্যক্তি দ্বীনের সমস্ত কিতাব পাঠ করে নিল, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ দ্বীন কে পুরোপুরি বুঝতে পারল না,সে কোরআন ও হাদীসের পরিভাষায় আদৌ আলেম নয়।[(সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআনুল করীমের (তফসীর মারেফুল কোরান) ৫৯৭ পৃষ্ঠা]।
�ইমাম মালেক রহঃ বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফিকাহ শিক্ষা করলো কিন্তু তাছাওউফ শিক্ষা করলো না সে ফাসেক,যে ব্যক্তি তাছাওউফ শিখলো কিন্তু ফিকাহ অস্বীকার করলো সে যিন্দিক(বেঈমান) আর যে ব্যক্তি ফিকাহ ও তাসাওউফ উভয়টি শিক্ষা করে আমল করলো সে মোহাক্কেক কামেল আলেম' [মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ,মুয়াত্তা মালেক,শামী কিতাব,যাদুততাকওয়া,মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অষ্টম-নবম-দশম শ্রেণীর আকাঈদ ও ফিকাহ কিতাব]।
�হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহঃ তার 'সিররুর আশরার' কিতাবে লিখেছেন,কোন আলেম যদি সহস্রাধিক কিতাব পাঠ করেও ইলমে তাছাওউফ বা ইলমে বাতেন অর্জন করতে সক্ষম না হয় তবে সে আলেম নামে অভিহিত হবে না।
�হযরত মুজাদ্দিদে আল ফেছানী রহঃ তার মকতুবাত শরীফে লিখেছেন,যিনি ফিকাহ এবং তাছাওউফ এই দুই ইলমের অধিকারী হয়েছেন তাকে শরিয়াতে আলেম বলে এবং তিনি হবেন নায়েবে রাসুল। [মকতুব শরীফ]।
�হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ তার "তাফহীমাতে ইলাহিয়া" কিতাবে লিখেছেনঃ রাসুল সাঃ এর খলিফা নায়েবে রাসুল কেবল সেই ব্যক্তি হবে,যে দ্বীনের উল্লেখিত তিনটি বিভাগ (আকাইদ-তাছাওউফ- ফিকাহ)কে অর্জন করে।(দালায়েলুস সুলুক - ইসলামী তাছাওউফের স্বরূপ - আল্লামা আল্লাহ ইয়ার রহঃ)।
�হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ বলেছেন,অজ্ঞ আলিমগণ ও অজ্ঞ সূফীগণ, যারা তাছাওউফ কে অস্বীকার করে,তারাতো বলতে গেলে চোর ও ডাকাত। তাদের খপ্পর থেকে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরী বিষয়।[তাছাওউফের আসল রূপ. ই,ফা.পৃষ্টা ১৫]।
�আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের কেন্দ্র বিন্দু শরীয়াত (ফিকাহ) ও তরীকত (তাছাওউফ)। অর্থাৎ যারা তাছাওউফ কে অস্বীকার করে তারা আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের অন্তর্ভূক্ত নয়।[(তুহফা ইছনা আশারিয়া,আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ),
�হাকীমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানভী রহঃ বলেছেন, তাছাওউফের বিশুদ্ধ মূলনীতি কুরআন-হাদীসে বিদ্যমান আছে। তথাকথিত নামধারী আলেমদেরও ধারণা যে,কুরআন-হাদীস সম্পূর্ণ তাসাওউফ মুক্ত। এসব ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এই সকল আলেমরা সকলেই ভ্রান্তিতে নিপতিত। (আত তাকাশশুফ)।
�আত্মা অন্ধ হয় বা অপবিত্র হয়ে যায় যার মধ্যে অহংকার- হিংসা-রাগ-মিথ্যা কথা-রিয়া-বখিলী-লোভ লালসা-অন্তরে অন্তরে শত্রুতা -গুরুর/মোগলতা প্রভৃতি অসৎ স্বভাব অন্তরে আছে। অন্তর থেকে কু-রিপু দূর করা ফরজে আইন /ফরজ।
আর অন্তর থেকে অসৎ স্বভার দূর করে সৎ স্বভাব অর্জন করতে হলে সকল মুসলমানকে শিখতে হবে প্রতিটি কু-রিপুর
১/তারীফ (সংজ্ঞা)
২/আছবাব(উৎপত্তির কারনসমূহ)
৩/আলামত (চিহ্ন)
৪/এলাজ (চিকিৎসা) এই ০৪ (চার) ধারার ফরজ মাছায়ালা।
��হানাফী মাযহাবের মহামান্য ফতুয়া কিতাব রদ্দুল মুহতার (ফতোয়ায়ে শামী) কিতাবের পুরাতন ছাপার প্রথম খন্ডের ৪০ পৃষ্ঠায় লেখা আছে -
"অন্তরের রাজায়েল বা অসৎ স্বভাব বা কু-রিপু দূর করা ফরজে আইন ৷ কিন্তু উহা দূর করা কোনদিন সম্ভব না, যতক্ষন পর্যন্ত প্রত্যেকটি কু-রিপুর তা'রীফ,ছবব,আলামত,এলাজের মাসওয়ালা সম্পর্কে অবগত না হইবে।"
�ইমাম গাজ্জালী রহঃ এহহিয়া উলুমুদ্দিন কিতাবের প্রথম খন্ডে লিখেছেন,অহংকার-হিংসা-রাগ-মিথ্যা কথা-রিয়া-বখিলী-লোভ লালসা-অন্তরে অন্তরে শত্রুতা-গুরুর বা মোগলতা প্রভৃতি আত্মার ব্যাধি গুলোর প্রত্যেকটির সংজ্ঞা কারণ, আলামত, চিকিৎসা করা ফরজে আইন।[এহইয়াউ উলুমিদ্দীন এর প্রথম খন্ড]।
��ইলমে তাছাওউফ কাকে বলেঃ যে ইলেমের সাহায্যে মানুষের সৎ গুণাবলীর (মুনজিয়াত) প্রকারভেদ জানা যায় ও উহা উপার্জনের উপায় জানা যায় ও অসৎ গুণাবলীর (মুহলিকাত) শ্রেণী বিভাগ জানা যায় এবং উহা হইতে পরিত্রাণ পাইবার উপায় অবগত হওয়া যায় তাহাকে ইলমে ক্বলব বা ইলমে তাসাওউফ বলে।(শামী কিতাব)।
ইলমে ক্বলব বা ইলমে তাসাওউফ শরীয়াতের অর্ধেক। যে ইলেম শিক্ষা করে আমল করা ফরজে আইন।
দ্বীনি ইলেম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ। এই ফরজ ত্যাগ করিলে দোজখ ভোগ করিতে হইবে।
হানাফী মাযহাবের ফতুয়া শামী কিতাবের ১ম খন্ডে আছে,দ্বীনি ইলেম প্রত্যেক মুসলমানের উপর আবশ্যক পরিমাণ শিক্ষা করা ফরজে আইন, আবশ্যকের বেশী অপরের ফায়দার জন্য শিক্ষা করা ফরজে কেফায়া,বিদ্যার সাগর হওয়া মুস্তাহাব।
��কামেল মুমিন-সিফাতী মুসলমান-মুত্তাকী হলে জান্নাতের ঘোষণা দিয়েছেন মহান আল্লাহ। সেই কামেল মুমিন-সিফাতী মুসলমান- মুত্তাকী হতে হলে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামে দাখিল হয়ে তিন ধারার বন্দেগী করতে হয়।
�বন্দেগীর রূপরেখা হলো:
১.দেহের দ্বারা জেসমানী বন্দেগী (ইবাদত১০-মোয়ামালত১০) ,
২,আত্মার দ্বারা রূহানী বন্দেগী (মুহলিকাত ১০-মুনজিয়াত১০),
৩, মালের দ্বারা মালী বন্দেগী:তিন ধারায় মাল ব্যয় করতে হবে যথাঃ ১,সংসার রক্ষা,২,ধর্ম রক্ষা,৩,গরীব রক্ষা)।।
��হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইরশাদ করেন,"ইন্না-মা- বুইশতু লিউতাম্মীহা মাকা- রিমাল আখলাক"। অর্থঃ আমাকে মানুষের আখলাক (তাছাওউফ) কে পরিশুদ্ধ করা এবং সেগুলোকে পরিপূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।(কানজুল উম্মাহ, খন্ড ০৩ পৃষ্ঠা ৩৪,হাদীস নং ৫২১৭),(সুনানে বায়হাকী খন্ড ০২,পৃষ্ঠা ৪৭২,হাদীস নং ২১৩০১)
��নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন -
لاتزال طائفة من امتى قوامة على أمر الله لايضرها من خالفها (ابن ماجة)
লা-তাযালু ত্বইফাতুম্মিম উম্মাতী ক্বওয়ামাতান আলা আমরিল্লাহি লা-ইয়াদুরুরহা মান খ্বলাফাহা । (ইবনে মাজাহ)। মূলকথা,আমার উম্মত বৃন্দ হইতে (ছোট হইলেও) একটি দল নিশ্চয়ই হকের উপর কায়েম থাকিবে;বিরোধী গণের বিরোধিতা (ধোঁকাবাজদের ধোঁকাবাজিতে,দুষ্টদের টিটকারীতে বা সাহায্য বন্ধকারীদের সাহায্য বন্ধ করাতেও) তাহাদের টলাইতে বা বিগড়াইতে পারিবে না।
�হায় আফসোস! গোটা জাতিকে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামের আলো থেকে অন্ধকারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে উদাসীনতার কারণে। যেন আপনারা মৃত্যুকে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন মনে করছেন। অথচ আগামীকালের মরহুম যে আজকের মরহুমের খাঁটিয়া বয়ে নিয়ে চলেছেন।
��তালিবে ইলেম মুহাম্মদ হায়দার আলী হিটলু,ইসলামিক গবেষক ও চিন্তাবিদ।পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও তাছাওউফ শিক্ষার্থী এবং হযরাতুল আল্লামা শাহ মোঃ আবদুশ শাকুর (দাঃবাঃ), তাছাওউফ শিক্ষা প্রাপ্ত আলেম ও চার গ্রুপে টাইটেল- মোফাচ্ছির,মুহাদ্দিস, ফকিহ,আদিব এর ছাত্র। মির্জাপুর তাছাওউফ মাদ্রাসা ও নায়েবে রসুলের দরবার শরীফ,নিকলী,কিশোরগঞ্জ।
30/05/2026
আপনি কেন মিনায় ১দিন বেশি থাকবেন? ৪৯টি নাকি ৭০টি কঙ্কর?
-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৩ই জিলহাজ পর্যন্ত মিনায় থেকেছেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন।
-প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের বিনিময়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য একটি বিশেষ নূর বা আলো দান করবেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখন তুমি কঙ্করগুলো নিক্ষেপ করবে,তখন কিয়ামতের দিন সেটি তোমার জন্য আলো (নূর) হয়ে থাকবে।"
[সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ১৫৫৭]।
- প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা বান্দার একটি বড় গুনাহ মাফ করবেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:"তুমি যে প্রতিটি পাথর নিক্ষেপ করবে, তার বিনিময়ে এমন একটি বড় গুনাহ (ধ্বংসকারী পাপ) ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যা তোমার ধ্বংসের কারণ হতে পারত।"
[মুসনাদে বাজ্জার, সহিহ: ৬১৭৭]
কংকর নিক্ষেপের পর নবিজি দু’আ অনেক লম্বা করতেনঃ
-দুয়া কবুলের স্থানে ১দিন বেশি দুয়া করতে পারবেন।জামারাত কমপ্লেক্সে ছোট (উলা), মধ্যম (উস্তা) এবং বড় (আকাবা)—এই তিনটি স্তম্ভে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় "আল্লাহু আকবার" বলতে হয়।প্রথম ও দ্বিতীয় জামারায় পাথর নিক্ষেপ শেষে একটু দূরে সরে কেবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে হাত তুলে দোয়া করা সুন্নাহ। এই স্থানগুলোতে দোয়া কবুল হয়।
নবিজি এখানে দু’আ অনেক লম্বা করতেন।
-সবচেয়ে বড় কথা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ অনুকরণ করে আপনি আল্লাহর জিকিরকে সমুন্নত রাখার জন্য আরো ১ দিন কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বাইতুল্লাহ্র তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মধ্যে সায়ি এবং জামারাতে পাথর নিক্ষেপের বিধান আল্লাহ তাআলার জিকির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। (তিরমিজি ৯০২)।
আল্লাহ সূরা বাকারার ২০৩ নম্বর আয়াতে বলেন "তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর কেউ যদি দুদিনের মধ্যে (হজ্বের কার্যাবলী সেরে) দ্রুত চলে যায়, তবে তাতে তার কোনো পাপ নেই। আর কেউ যদি বিলম্ব করে, তবে তাতেও কোনো পাপ নেই—এটা তার জন্য যে সংযম অবলম্বন করে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে তাঁরই দিকে সমবেত করা হবে।"
সামর্থ্যবান হাজি ভাই ও বোনেরা এই কঙ্কর নিক্ষেপের বিধান আরো ১দিন বেশি পালনের সুযোগ হারিয়েন না।
*শেষদিন ভিড় কম থাকে আর পুলিশ ও সেদিন দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে দুয়া করতে বাধা দেয় না।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi. Islamic peacher and Islamic motivation speaker.
27/05/2026
নিয়ত ভুলের জন্য ঈদুল আজহার কুরবানী বাতিল হয়ে শিরকের দিকে ধাবিত হয়।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi. Islamic peacher and Islamic motivation speaker.
27/05/2026
দশম হিজরীতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সাহাবির সামনে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ বিকালে আরাফাতের ময়দানে যে বক্তব্য পেশ করেন এবং পরদিন ১০ জিলহজ ঈদের দিন ও কোরবানির দিন প্রদান করেছিলেন। এই দুইদিনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে পরিচিত।
তাই তিনি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা)-কে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্ত করে প্রেরণকালে বলেছিলেন, ‘হে মুয়াজ, সম্ভবত এ বছরের পর আমার সঙ্গে তোমার আর সাক্ষাৎ হবে না। হয়তো তুমি আমার মসজিদ ও আমার কবরের পাশ দিয়ে গমন করবে।’
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ :
১. হে আমার উম্মাহ, আমার কথাগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমি জানি না, এবারের পর তোমাদের সঙ্গে এ জায়গায় আর একত্র হতে পারব কি না।
২. হে মানবমণ্ডলী, স্মরণ রাখো, তোমাদের আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তোমাদের আদি পিতা একজন, অনারবদের ওপর আরবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তদ্রূপ সাদার ওপর কালোর কোনো প্রাধান্য নেই। আল্লাহ ভীতিই শুধু শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার মানদণ্ড।
৩. তোমাদের পরস্পরের রক্ত ও ধন-সম্পদ আজকের দিন,এ মাস এবং এ শহরের মতো পবিত্র।
৪. শোনো, জা*//হেলিয়াতের সব কিছু আমার পদতলে পিষ্ট করা হয়েছে। জা/হেলিয়াতের র/ক্তের দাবিও রহিত করা হলো।
৫. জাহেলি যুগের সুদ রহিত করা হলো। আমাদের মধ্যকার প্রথম যে সুদ আমি রহিত করছি তা হলো, আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবের সুদ। এখন থেকে সব ধরনের সুদ হারাম করা হলো।
৬. স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা আল্লাহর আমানতস্বরূপ তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কলেমার মাধ্যমে হালাল করা হয়েছে। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে যে তারা তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে স্থান দেবে না, যাদের তোমরা পছন্দ করো না।
তারা এরূপ করলে প্রহার করতে পারো। তবে কঠোর প্রহার করবে না। তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো, তোমরা যথাযথ অন্ন-বস্ত্র প্রদান করবে।
৭. আমি তোমাদের কাছে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাহ।
৮. হে জনতা, মনে রেখো, আমার পরে কোনো নবী নেই। তোমাদের পরে কোনো উম্মত নেই। ফলে তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে, রমজানের রোজা রাখবে, স্বেচ্ছায় ধন-সম্পদের জাকাত দেবে, আল্লাহর ঘরে হজ করবে, শাসকের আনুগত্য করবে। যদি তোমরা এসব পালন করো, তাহলে তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে (ইবনে মাজাহ)।
৯. হে মানবমণ্ডলী, পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী হবে না এবং পুত্রের অপরাধে কোনো পিতাকে দায়ী করা হবে না।
১০. তোমাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হবে। তোমরা তখন কী বলবে? সাহাবায়ে কেরাম প্রত্যুত্তরে বলেন, আমরা সাক্ষ্য দেব যে আপনি দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন, আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
মহানবী (সাঃ) এ কথা শুনে শাহাদাত আঙুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে লোকদের দিকে ঝুঁকিয়ে তিনবার বলেন, হে রব, আপনি সাক্ষী থাকুন (সহিহ মুসলিম)।
১১. প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। তোমরা তোমাদের দাস-দাসী সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খেতে দেবে। তোমরা যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরতে দেবে। তাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবে। শাস্তি দেবে না।
১২. হে মানবজাতি, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কেননা অতীতের অনেক জাতি এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে আমার এ কথাগুলো অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)
মহানবী (সাঃ) ভাষণ শেষ করলেন। এবং তাঁর চেহারা মোবারক উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি করুণ স্বরে করুণভাবে আকাশ পানে তাকালেন এবং তিনি বললেন, ‘হে মহান প্রভু! হে পরওয়ার দিগার! আমি কি তোমার দীনের দাওয়াত পরিপূর্ণভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। তখন উপস্থিত জনতা সবাই সম্মিলিতভাবে বললেন, নিশ্চয়ই আপনি আপনার দীন পরিপূর্ণভাবে পৌঁছাতে পেরেছেন।‘ তখন তিনি আবার বললেন যে, ‘হে প্রভু! আপনি শুনুন, আপনি সাক্ষী থাকুন, এরা বলেছে আমি আপনার দীনকে লোকদের নিকট পৌঁছাতে পেরেছি। আমি আমার কর্তব্য পালন করতে পেরেছি।‘
ভাবের আতিশয্যে নবী নীরব হলেন। জান্নাতি নূরে তাঁর চেহারা আলোকদীপ্ত হয়ে উঠল। এই মুহূর্তে কুরআনের শেষ আয়াতটি নাজিল হয়। ‘আজকের এই দিনে তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করে দিলাম। ইসলামকেই তোমাদের ওপর দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’
হযরত রাসূল (সাঃ) কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। জনতাও নীরব। কিছুক্ষণ পর হযরত (সাঃ) জনতার দিকে তাকালেন এবং করুণ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন বিদায় বন্ধুগণ, বিদায়।
হজরত রাবিয়া ইবনে উমাইয়া ইবনে খালফ জনতার কাছে উচ্চকণ্ঠে বিদায় হজ্জের ভাষণ এর বাণী পৌঁছে দেন (ইবনে হিশাম)।
রেফারেন্স : (আল-কোরআন, পারা: ৬, সূরা-৫ মায়িদাহ, আয়াত: ৩)। (বিশ্বনবী, গোলাম মোস্তফা; সীরাতুন নবী (সা.), ইবনে হিশাম (র.), খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৭৩-২৭৭; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর (র.), খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯৮ ও ৩২০-৩৪২, ই. ফা. বা.)।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi.islamic peacher and Islamic motivation speaker.
#হজ্জ
24/05/2026
হজ্বের ৮-১৩ জিলহজের সময়ের ধারাবাহিক নিয়ম ও জরুরি মাসায়িল:
হজ্বের পদ্ধতি
হজ্বের ফরয তিনটি :
১। ইহরাম বাঁধা
২। উকূফে আরাফা। অর্থাৎ ৯ যিলহজ্ব সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে পরবর্তি রাতের সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পূর্বে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আরাফার ময়দানে অবস্থান করা।
৩। তাওয়াফে যিয়ারত। ১০ যিলহজ্ব থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগেই এ তাওয়াফ সম্পন্ন করা।
হজ্বের ওয়াজিবসমূহ এই-
১। উকূফে মুযদালিফা। ১০ যিলহজ্ব সোবহে সাদিকের পর হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের ভিতর স্বল্প সময় মুযদালিফায় অবস্থান করলে এ ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।
২। সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করা।
এ সায়ী তাওয়াফে যিয়ারতের পরও করা যায়। আবার ৮ যিলহজ্বের আগেও নফল তওয়াফের পর আদায় করা যায়। ইফরাদ হজ্ব আদায়কারীগণ মক্কা প্রবেশের পর যে ‘তাওয়াফে কুদুম’ করে থাকে এরপর হজ্বের ওয়াজিব সায়ী করে নিতে পারে।
৩। নির্দিষ্ট দিনগুলোতে জামরাতে রমী তথা কংকর নিক্ষেপ করা।
৪। তামাত্তু ও কিরান হজ্ব আদায়কারীর জন্য দমে শুকর তথা হজ্বের কুরবানী।
৫। মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছাটা।
৬। মীকাতের বাহির থেকে আগত লোকদের জন্য ‘তাওয়াফে বিদা’ করা।
৭ যিলহজ্ব থেকেই হজ্বের প্রস্তূতি শুরু হয়। এই দিন দিনেই
তামাত্তু ও ইফরাদ হাজীগন(বাংলাদেশের অধিকাংশ ই তামাত্তু হাজী) ইহরাম পরিধান করে দুপুর থেকেই মিনায় যাবার জন্য হোটেল বা বাসা থেকে বাইরে অবস্থান করে বাসের জন্য।
এই দিন ইহরাম পরিধান করে মিনায় যাওয়ার আগে হজ্বের অগ্রীম সাঈ এর বিধান।১০ জিলহজ তাওয়াফে জিয়ারতের পর সাঈ করা মূলত ওয়াজিব। তবে প্রচণ্ড ভিড় বা শারীরিক অক্ষমতা,অসূস্থতার কারণে অনেকে ৮ তারিখে এই অগ্রিম সাঈ করে থাকেন,যা হজকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
শরয়ী দলিল ও প্রমাণ:রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আমল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজের সফরে ৪ জিলহজ্ব মক্কায় পৌঁছে তাওয়াফে কুদুমের সাথে হজের সাঈ অগ্রিম করেছিলেন।
হাদীসের দলিল: সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বিদায় হজে যারা হজে ইফরাদ বা কিরান করেছিলেন, তারা মক্কায় পৌঁছেই সাঈ করে নিয়েছিলেন এবং ১০ জিলহজ্ব ফরয তাওয়াফ (তাওয়াফে ইফাযা) করার পর আর সাঈ করেননি।
নবী ﷺ-এর ফয়সালা: উসামা ইবনে শারীক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আমি সাঈ তাওয়াফের আগে করে ফেলেছি।" নবী ﷺ উত্তর দিলেন, "কোনো অসুবিধা নেই" (আবু দাউদ)।নিয়মাবলী ও মাসআলা: ইফরাদ ও কিরান হজ: মক্কায় আগমন করে তাওয়াফে কুদুমের (আগমনের তাওয়াফ) পর হজের সাঈ করে নেয়া উত্তম। এতে ১০ তারিখ ভিড় এড়ানো যায়।
তামাত্তু হজ: তামাত্তু হজকারী ব্যক্তিরা উমরার সাঈ শেষ করে হালাল হয়ে যাবেন। এরপর ৮ জিলহজ্ব বা ৭ জিলহজ্ব নতুন ইহরাম বেঁধে মিনায় যাওয়ার আগে নফল তাওয়াফ করে সাঈ করা। কিছু উলামার মতে জায়েয হলেও,যারা সামর্থবান হজের ফরয সাঈ ১০ তারিখে তাওয়াফে যিয়ারতের পরে করা উত্তম।
শর্ত: অগ্রিম সাঈ করার আগে অবশ্যই তাওয়াফ (তাওয়াফে কুদুম বা নফল) করতে হবে। তাওয়াফ ছাড়া শুধু সাঈ অগ্রিম করা সঠিক নয়।
নিম্নে ৮ যিলহজ্ব থেকে ১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত ৫ দিন হজ্বের আমলগুলোর কর্মপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট মাসায়িল আলোচনা করা হচ্ছে :
প্রথম দিন ৮ যিলহজ্ব
আজ সূর্যোদয়ের পর সকল হাজীকে ইহরাম অবস্থায় মিনা গমন করতে হবে। যোহর থেকে পরবর্তী দিনের ফজর পর্যন্ত মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামায মিনায় পড়া এবং ৮ তারিখ দিবাগত রাত্রি মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। -রদ্দুল মুহতার ২/৫০৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭
হজ্বের ইহরাম
ইফরাদ হজ্ব ও কিরান হজ্ব আদায়কারী হজ্বের ইহরাম পূর্ব থেকেই করে থাকে। তামাত্তু হজ্ব আদায়কারী আজ মিনায় যাওয়ার পূর্বে হজ্বের ইহরাম বাঁধবে।
হজ্বের ইহরাম বাঁধার স্থান
মাসআলা : হজ্বের ইহরাম বাঁধার জন্য পুরুষ-মহিলা কারো জন্যই মসজিদে হারামে যাওয়া জরুরি নয়। মহিলাগণ নিজ নিজ অবস্থান স্থল থেকেই ইহরাম বাঁধবে। পুরুষরাও হোটেল বা আবাস-স্থান থেকে ইহরাম বাঁধতে পারে। তবে পুরুষগণ সম্ভব হলে মসজিদে হারামে এসে নিয়ম অনুযায়ী ইহরাম বাঁধা ভালো।
মাসআলা : হজ্বের ইহরামের পর থেকে ১০ তারিখ জামরা আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পুর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকবে। কংকর নিক্ষেপের পর থেকে তালবিয়অ বন্ধ হয়ে যাবে। -মানাসিক ২২৫, গুনয়াতুননাসেক ১৭০
মাসআলা : মিনায় অবস্থান না করা
৮ তারিখ দিবাগত রাতে যদি কেউ মিনায় অবস্থান না করে কিংবা এ তারিখে মোটেই মিনায় না যায় তাহলেও তার হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। তবে মাকরূহ হবে। -মানাসিক ১৮৮-১৮৯, আহকামে হজ্ব ৬২
মাসআলা : তাবু মিনার বাইরে হলে:
মিনায় জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে মিনার এলাকার বাইরে বহু তাবু লাগানো হয়। যেহেতু এটি জায়গা সংকীর্ণতার ওজরে করা হয়ে থাকে তাই আশা করা যায়, এ সকল তাবুতে অবস্থানকারীগণও মিনায় অবস্থানের ফযীলত পেয়ে যাবে। তবে যারা তাবুর বাইরে মিনার এলাকায় গিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে পারে তাদের জন্য সেখানে অবস্থান করাই ভালো হবে।
মাসআলা : নির্ধারিত সময়ের আগেই মিনায় রওয়ানা
মিনায় রওয়ানা হওয়ার সময় হল ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর। কিন্তু আজকাল ৭ তারিখ দিবাগত রাতেই মুআল্লিমের গাড়ি রওয়ানা হয়ে যায় এবং রাতে রাতেই মিনায় পৌঁছে যায়। যদিও ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর রওয়ানা হওয়া নিয়ম এবং এটিই ভালো, কিন্তু অধিক ভিড়ের কারণে আগে আগে চলে যাওয়া দোষণীয় নয়। -মানাসিক ১৮৮, গুনয়াতুনন্নাসেক ১৪৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭
মাসআলা : ৯-১৩ যিলহজ্ব পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযান্তে তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। তাই প্রত্যেক হাজীকে এ বিষয়ে যত্নবান হতে হবে।
দ্বিতীয় দিন ৯ যিলহজ্ব
উকূফে আরাফা
আজ হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন আদায়ের দিন। ৯ যিলহজ্ব সূর্য ঢলার পর থেকে পরবর্তী রাতের সূবহে সাদিকের মধ্যে যেকোনো স্বল্প সময় আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকলেই এই ফরয আদায় হয়ে যায়। তবে এ দিন সূর্যাস্তের আগে আরাফায় পৌঁছলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা ওয়াজিব। -গুনয়াতুন্নাসেক ১৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৯; আহকামে হজ্ব ৬৩
আরাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা
৯ তারিখ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়া উত্তম। -রদ্দুল মুহতার ২/৫০৩; গুনয়াতুন্নাসেক ১৪৬-১৪৭
সূর্যোদয়ের পূর্বে আরাফায় যাওয়া
ভিড়ের কারণে বহু লোক ৮ তারিখ রাতেই আরাফায় চলে যায়। মুআল্লিমের গাড়িগুলোও রাত থেকেই হাজী সাহেবদেরকে আরাফার পৌঁছাতে শুরু করে। রাতে চলে গেলে একাধিক সুন্নাতের খেলাফ হয়। এক. রাতে মিনায় থাকা সুন্নত। এটি আদায় হয় না।
তিন. সূর্যোদয়ের পর আরাফার উদ্দেশে রওনা হওয়া মুস্তাহাব। সেটাও আদায় হয় না। তাই সাধ্য মতো চেষ্টা করা চাই যেন বাসগুলো অন্তত ফজরের পর ছাড়ে। যদি মানানো সম্ভব না হয় তাহলে বৃদ্ধ ও মহিলারা মাহরামসহ আগে চলে যাবেন। আর সুস্থ সবল হাজীগণ মিনায় ফজরের নামায পড়ে আরাফার পথে রওয়ানা হবেন। মিনায় ফজর পড়ে হেঁটে গেলেও সুন্দরভাবে দুপুরের আগেই আরাফায় পৌঁছা যায়। গাড়িতে গেলে জ্যামের কারণে একটু বিলম্ব হলেও আরাফায় পৌঁছা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে অনেক সময় একেবারে তাঁবুর নিকটে পৌঁছা যায় না। কিছুটা আগে নেমে যেতে হয়। তাই মাযূর হাজীগণ রাতেও যেতে পারবেন। আর যারা সুস্থ সবল আছেন, হাঁটতে তেমন সমস্যা হয় না তারা ফজরের পরই রওয়ানা হবেন। -রদ্দুল মুহতার -২/৫০৩
আরাফায় কসর করবে না পূর্ণ নামায পড়বে অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরামের মতে আরাফার ময়দানে মুকীম হাজীগণ যোহর-আসর পূর্ণ চার রাকাতই পড়বে। হানাফী মাযহাবের সিদ্ধান্তও এমনই। তাই নিজ নিজ তাবুতে পড়লে মুকীম হাজীগণ পূর্ণ নামায পড়বেন, কসর করবেন না। -রদ্দুল মুহতার ২/৫০৫ গুনয়াতুন্নাসেক ১৫১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া -১/২২৮, ২/৫০৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৯
যোহর ও আসর একত্রে পড়া
মসজিদে নামিরার জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারলে যোহর ও আসর একত্রে ইমামের পিছনে আদায় করে নিবে। কিন্তু মসজিদে নামিরার জামাতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব না হলে জোহরের সময় যোহর এবং আসরের সময় আসর পড়বে। একত্রে পড়লে সময়ের আগে পড়া নামায আদায় হবে না।
উকূফে আরাফার করণীয়
উত্তম হল, কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে একেবারে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুআ করা। এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে না পারলে অল্প সময় বসবে। এরপর আবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুআ মুনাজাতে লেগে যাবে। -আদ্দুররুল মুখতার আহকামে হজ্ব ৬৫
সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফা থেকে বেরিয়ে যাওয়া
অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মুযদালিফায় রওনা হয়ে যায়। এরূপ হয়ে গেলে কর্তব্য হল পুনরায় আরাফায় ফিরে যাওয়া। যদি ফিরে না যায় তবে দম দিতে হবে। -খ. মানাসিক ২১০ গুনয়াতুনন্নাসেক ১৬০; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫২
৯ তারিখ সূর্যাস্তের আগে আরাফায় পৌঁছতে না পারলে
কেউ যদি ৯ তারিখ সূর্যাস্তের আগে আরাফার ময়দানে কোনো কারণে পৌঁছতে না পারে তবে সে সুবহে সাদেক হওয়ার আগে কিছু সময়ের জন্য আরাফায় অবস্থান করলেও তার ফরয আদায় হবে যাবে। আর এ কারণে দম বা অন্য কিছু ওয়াজিব হবে না। তবে যথা সময় আরাফায় না পৌছার ত্রুটি থেকে যায়। -মানাসিক ২০৫-২০৬, গুনয়াতুন্নাসেক ১৫৯
আরাফায় জুমআ
আরাফার ময়দানে জুমআ পড়া জায়েয নয়। তাই এদিন শুক্রবার হলে হাজীগণ যোহর পড়বে, জুমআ নয়। - মানাসিক ১৯৬
মাসআলা : মসজিদে নামিরার পশ্চিমের কিছু অংশসহ ‘বাতনে উরানা’ নামক স্থান রয়েছে। এখানে উকূফ গ্রহণযোগ্য নয়। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৫০৪
মুযদালিফায় রওয়ানা
আরাফার ময়দান থেকে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামায না পড়েই মুযদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার উদ্দেশে রওনা হতে বিলম্ব না করাই শ্রেয়। -রদ্দুল মুহতার ২/৫০৮
৯ তারিখ দিবাগত রাত্রির মাগরিব ও ইশা
আজকের মাগরিব ও ইশা ইশার ওয়াক্তে মুযদালিফায় গিয়ে পড়তে হবে। যদি কেউ মুযদালিফায় পৌঁছার আগেই রাস্তায় মাগরিব ইশা পড়ে নেয় কিংবা মুযদালিফায় পৌঁছার আগে শুধু মাগরিব পড়ে তবে ইভয় ক্ষেত্রে মুযদালিফায় পৌঁছে আবার মাগরিব ইশা একত্রে পড়া জরুরি। -মানাসিক ২১৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩০, গুনয়াতুন্নাসেক ১৬৪
মাসআলা : মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা এক আযান ও এক ইকামতে পড়া উত্তম। পৃথক পৃথক ইকামতও জায়েয। --মানাসিক ২১৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩০; রদ্দুল মুহতার ২/৫০৮
মুযদালিফায় গিয়ে ইশার ওয়াক্ত না থাকলে বিলম্বের কারণে মুযদালিফায় পৌঁছার আগেই ইশার ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হলে পথিমধ্যে মাগরিব ইশা পড়ে নিবে। এক্ষেত্রে মুযদালিফায় পৌঁছার পর ইশার ওয়াক্ত বাকী না থাকলে মাগরিব ইশা দোহরাতে হবে না। কিন্তু যদি সেখানে গিয়ে মাগরিব-ইশা পড়ার সময় বাকী থাকে তবে এ দুই নামায পুনরায় পড়তে হবে। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৮, আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪২, আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪০৪, তাতারখানিয়া ২/৪৫৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩০; গুনয়াতুন্নাসেক ১৬৪
ইশার ওয়াক্তের পূর্বেই মুযদালিফা পৌঁছে গেলে
যদি কেউ ইশার ওয়াক্তের পূর্বে মুযদালিফায় পৌঁছে যায় তবে সে তখন মাগরিব পড়বে না; বরং ইশার ওয়াক্ত হওয়ার পর মাগরিব-ইশা আদায় করবে। -মানাসিক ২১৮
মাসআলা : মুযদালিফায় দুই নামায একত্রে পড়ার জন্য জামাত শর্ত নয়। একা পড়লেও দুই নামায একত্রে ইশার সময় পড়বে। তবে নিজেরা জামাত করে পড়া ভালো। -মানাসিক ২১৪, গুনয়াতুন্নাসেক ১৬৩-১৬৪
মাসআলা : কেউ যদি দুই নামাযের মাঝে নফল বা সুন্নাত নামায কিংবা অন্য কোন কাজে বিলম্ব করে। যেমন : খানা-খাওয়া ইত্যাদি তবে ইশার জন্য ভিন্ন ইকামত দেওয়া উচিত। -মানাসিক ২১৯
৩য় দিন ১০ যিলহজ্ব
উকূফে মুযদালিফা
উকূফে মুযদালিফার সময় ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত। সুবহে সাদিকের পর স্বল্প সময় অবস্থানের পর মুযদালিফা ত্যাগ করলেও ওয়াজিব আদায় হবে যাবে। তবে সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করা সুন্নত। আর মুযদালিফায় রাত্রি যাপন করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। -মানাসিক ২১৫, ২১৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩০, গুনয়াতুন্নাসেক ১৬৫
মাসআলা : উকূফে মুযদালিফা যেহেতু ওয়াজিব তাই বিশেষ ওযর ব্যতীত নির্ধারিত সময়ে উকূফ না করলে দম ওয়াজিব হবে। অবশ্য ভীড়ের কারণে যদি সূর্যোদয়ের আগে মুযদালিফায় পৌঁছতে না পারে তবে তার উপর দম ওয়াজিব হবে না। -মানাসিক ২১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫১১
উকূফের স্থান
মুযদালিফার ময়দানের যেকোনো অংশেই অবস্থান করা যাবে। মসজিদে মাশআরে হারামের নিকট উকূফ করা ভালো। অবশ্য মুযদালিফার বাইরে মিনার দিকে ‘ওয়াদিয়ে মুহাস্সির’ নামক স্থানে উকূফ করা যাবে না। কারণ এখানে উকূফ করা নিষিদ্ধ। এখানকার উকূফ ধর্তব্য নয়। -গুনয়াতুন্নাসেক ১৬৭
মাসআলা : অতিশয় বৃদ্ধ, দুর্বল কিংবা অধিক পীড়িত রোগীর জন্য মুযদালিফায় অবস্থান না করে আরাফা থেকে সোজা মিনায় চলে যাওয়ার অনুমতি আছে। এতে তাদের উপর দম বা কোনো কিছু ওয়াজিব হবে না। -মানাসিক ২১৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩১
১০ম যিলহজ্বের দ্বিতীয় ওয়াজিব জামরায়ে আকাবার রমী
রমীর পদ্ধতি
রমী অর্থ কংকর নিক্ষেপ করা। মসজিদে হারামের দিক থেকে সর্বশেষ কংকর নিক্ষেপের স্থানকে ‘জামরা আকাবা’ বলা হয়। এখানে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করতে হয়। কংকর নিক্ষেপের স্থানে যে চওড়া পিলার আছে তাতেই কংকর মারা জরুরি নয় বরং বেষ্টনীর ভিতরে পড়াই যথেষ্ট। পিলারে কংকর লেগে তা যদি বেষ্টনীর বাইরে গিয়ে পড়ে তবে তা ধর্তব্য হবে না, ঐ কংকর পুনরায় নিক্ষেপ করতে হবে। আর পিলারের গোড়ায় মারা ভাল পিলারের উপর অংশে মারা অনুত্তম। -গুনয়াতুন্নাসেক ১৭১ রদ্দুল মুহতার ২/৫১২
কংকর সংগ্রহ
প্রথম দিনের সাতটি কংকর মুযদালিফা থেকে সংগ্রহ করা মুস্তাহাব। অবশ্য অন্য জায়গা থেকে নিলেও কোনো ক্ষতি নেই। তবে জামরার নিকট থেকে নিবে না। কারণ, এই স্থানের পাথরগুলো হাদীসের ভাষ্যমতে আল্লাহ তাআলার দরবারে ধিকৃত। যাদের হজ্ব কবুল হয়নি তাদের কংকর এখানে পড়ে থাকে। পরবর্তী দিনের কংকর মুযদালিফা থেকে নেওয়া মুস্তাহাব নয়। জামরার নিকট ব্যতীত অন্য যেকোনো স্থান থেকে নিতে পারবে। -মানাসিক ২২২, গুনয়াতুন্নাসেক ১৬৮, আদ্দুররুল মুখতার ৫১৫
কংকরের ধরন
বুট বা ছোলার দানার মত ছোট কংকর মারা ভালো। বড়জোর খেজুরের বিচির মত হতে পারে। বড় পাথর মারা মাকরূহ। তদ্রƒপ নাপাক কংকর মারাও মাকরূহ। কংকর নাপাক হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা ধুয়ে নিক্ষেপের কাজে ব্যবহার করা যাবে। -মানাসিক ২২২
জামরা আকাবাতে রমীর সময়
১০ম যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত সম্ভব হলে রমী করা মুস্তাহাব। তবে ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে ১০ তারিখ দিবাগত রাতের সুবহে সাদিক পর্যন্ত রমী করা জায়েয। বিনা ওজরে মুস্তাহাব সময় রমী না করে অন্য সময় রমী করা মাকরূহ। কিন্তু আজকাল যেহেতু মুস্তাহাব সময়ে রমীর স্থানে প্রচণ্ড ভীড় হয় তাই মহিলা ও দুর্বলদের মতো অন্যদের জন্যও মুস্তাহাব সময়ের বাইরে রমী করার অবকাশ রয়েছে। ওজর থাকার কারণে তা মাকরূহ হবে না। -গুনয়াতুন্নাসেক ১৬৯-১৭০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২৩৩
সাত কংকর একত্রে মারা
কেউ যদি সাত কংকর একবারে নিক্ষেপ করে তবে এক কংকর মারা হয়েছে বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে আরো ছয়টি কংকর পৃথক পৃথক মারতে হবে। -আহকামে হজ্ব ৭৫
মাসআলা : জামরা আকাবার রমীর পর দুআর জন্য এখানে অবস্থান না করাই সুন্নত। তাই আজ কংকর মেরে দুআর জন্য সময়ক্ষেপন করবে না। বরং কংকর মেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করবে। -মানাসিক ২২৪
সময় মতো রমী না করলে
১০ তারিখ দিবাগত রাতের সুবহে সাদিকের আগে জামরা আকাবার রমী করতে না পারলে ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মতে দম ওয়াজিব হবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর মতে দম ওয়াজিব হবে না বেশি মাজুর ব্যক্তিগণ এ মতটি গ্রহণ করতে পারে। তবে ১৩ তারিখ সূর্যাস্তের আগে আগে মেরে নিতে হবে। অন্যথায় পরে কংকর মারার অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে কংকর না মারার কারণে সবার মতেই ভিন্ন দম ওয়াজিব হবে। -আহকামে হজ্ব ৭৬
অন্যকে দিয়ে রমী করানো
প্রত্যেক হাজী পুরুষ হোক বা মহিলা, নিজের রমী নিজেই করবে। ভীড়ের কারণে কিংবা অন্য কোনো শরয়ী ওযর ব্যতীত অন্যের দ্বারা রমী করানো জায়েয নয়। শরয়ী ওযর ব্যতীত অন্যকে দিয়ে রমী করালে তা আদায় হবে না। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে পুনরায় নিজের রমী করতে হবে। যদি না করে তবে দম ওয়াজিব হবে।
শরয়ী ওযর হল এমন অসুস্থতা বা দুর্বলতা যার কারণে বসে নামায পড়া জায়েয। অথবা অসুস্থতার কারণে জামরাত পর্যন্ত পেঁছা খুবই কষ্টকর হয় কিংবা রোগ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে তবে এরূপ ব্যক্তি অন্যকে দিয়ে রমী করাতে পারবে। -আহকামে হজ্ব ৭৬-৭৭
মাসআলা : মাজুর ব্যক্তির পক্ষ থেকে রমী করার জন্য তার অনুমতি লাগবে। বিনা অনুমতিতে কেউ তার পক্ষ থেকে রমী করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে অচেতন, পাগল এবং ছোট বাচ্চার অনুমতি ছাড়াই তাদের পক্ষ থেকে অভিভাবক রমী করে দিতে পারবে। -আহকামে হজ্ব ৭৭
মাসআলা : যে ব্যক্তি অন্যের পক্ষ থেকে রমী করবে, তার জন্য উত্তম হল প্রথমে নিজের রমী শেষ করবে তারপর বদলী করবে। একটি কংকর নিজের পক্ষ থেকে আর আরেকটি অন্যের পক্ষ থেকে এভাবে মারা মাকরূহ। তাই আগে নিজের সাত কংকর মারবে এরপর বদলী আদায় করবে। -আহকামে হজ্ব ৭৭
মাসআলা : ঋতুবর্তী মহিলাগণও রমী করতে পারবে।
১০ম যিলহজ্বের তৃতীয় ওয়াজিব
দমে শুকর বা হজ্বের কুরবানী
তামাত্তু ও কিরানকারি হাজীদের জন্য একটা কুরবানী করা ওয়াজিব। জামরায়ে আকাবার রমীর পর কুরবানী করবে, মাথা মুণ্ডাবে।
মাসআলা : ইফরাদ হজ্বকারীর উপর হজ্বের কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। তবে করলে ভালো।
মাসআলা : ইফরাদ হাজীদের যেহেতু কুরবানী নেই তাই তারা রমীর পরই চুল কাটতে পারবে। রমীর আগে চুল কাটলে দম ওয়াজিব হবে।
দমে শুকর বা হজ্বের কুরবানীর সময়
১০ যিলহজ্ব সুবহে সাদিকের পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের ভিতর কুরবানী করতে হবে। সুন্নত সময় শুরু হয় ১০ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর থেকে। ¬-রদ্দুল মুহতার ২/৫৩২
কুরবানীর স্থান
মাসআলা : হজ্বের কুরবানী হেরেমের সীমার ভিতরে করা জরুরি। হেরেমের বাইরে জবাই করলে তা দ্বারা হজ্বের কুরবানী আদায় হবে না। হেরেমের যেকোন স্থানে কুরবানী করতে পারে। মিনাতে করা জরুরি নয়। -রদ্দুল মুহতার ২/৫৩২
হাজীদের জন্য ঈদুল আযহার কুরবানী
মুসাফিরের উপর ঈদুল আজহার কুরবানী ওয়াজিব নয়। সুতরাং যারা ১০-১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত মুসাফির থাকবে তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না। কিন্তু যারা মিনায় রওয়া হওয়ার আগে মক্কাতেই ১৫ দিনের নিয়তে অবস্থান করেছে তারা মুকীম হবে। তাদের জন্য হজ্বের কুরবানী ছাড়াও ঈদুল আযহার ভিন্ন কুরবানী দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৫১৫
তামাত্তু ও কিরানকারী হাজীদের কারো নিকট হজ্বের কুরবানীর সামর্থ না থাকলে তাকে এর পরিবর্তে ১০টি রোযা রাখতে হবে। ৩টি রোযা আরাফার দিন পর্যন্ত শেষ হতে হবে। আর বাকী সাতটি পরবর্তীতে সুযোগমতো রাখলেই চলবে। আরাফার দিন সহ তিনটি রোযা রাখা না হলে তার জন্য কুরবানী দেওয়াই জরুরি হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কুরবানীর ব্যবস্থা করতে না পারলে চুল কেটে নিবে এবং পরবর্তীতে দুটি পশু যবেহ করবে। ১টি হজ্বের কুরবানী হিসাবে। আর অপরটি কুরবানী না করে চুল কাটার কারণে।
মাসআলা : হজ্বের কুরবানীতে ঈদুল আযহার কুরবানীর ন্যায় গরু, মহিষ, উটের সাত ভাগের একভাগ দিতে পারবে। এ ছাড়া ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দেওয়ার সুযোগ তো আছেই।
১০ যিলহজ্বের চতুর্থ ওয়াজিব
মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা
মাথা মুণ্ডানোর সময়
১০ যিলহজ্বের দিন কুরবানীর পর থকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত মাথা মুণ্ডানোর সুযোগ আছে। এর চেয়ে বিলম্ব করলে দম ওয়াজিব হবে। অবশ্য মাথা মুণ্ডানোর আগ পর্যন্ত ইহরাম অবস্থাতেই থাকতে হবে। এ সময় পাথর মারার কাজ করলে তাও ইহরাম অবস্থাতেই করতে হবে।-হিদায়া ১/২৭৬, গুজয়াতুল মানাসিক ১৭৫, রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩০, মাবসূতে সারাখসী ৪/৭০
চুল কাটার পরিমাণ
মাথার চুল না মুণ্ডিয়ে যদি খাটো করে তবে আঙুলের এক কর (প্রায় এক ইঞ্চি) পরিমাণ ছোট করা ওয়াজিব। মহিলাগণ অন্তত এতটুকু ছেটে নিবে। এ পরিমাণ চুল মাথার এক চতুর্থাংশ থেকে কাটা হলেই হালাল হয়ে যাবে। কিন্তু মাথার এক অংশ মুণ্ডিয়ে অন্য অংশে চুল রাখা বা ছোট বড় করে রাখা মাকরূহ তাহরীমী। তাই এমনটি করবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/৫১৫
মাসআলা : মাথা মুণ্ডানো বা চুল কাটার আগে নখ বা শরীরের অতিরিক্ত পশম ইত্যাদি কাটা যাবে না। যদি কাটে তবে জরিমানা দিতে হবে।
মাসআলা : জামরা আকাবার কংকর নিক্ষেপের পর হজ্ব আদায়কারী নিজের চুল কাটার আগে অন্যের চুল কাটতে পারবে। কিন্তু নিজের চুল কাটার সময় হওয়ার পূর্বে অন্যের চুল কেটে দিলে যে কাটছে তার উপর এক ফিতরা পরিমাণ সাদকা করা জরুরি হবে। -আহকামে হজ্ব ৯৯, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫১২
মাসআলা : কারো মাথা পূর্ব থেকে মুণ্ডানো থাকলে কিংবা পুরো মাথা টাক থাকলে হালাল হওয়ার জন্য মাথায় ক্ষুর ঘুরিয়ে নিলেই চলবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/২১২, রদ্দুল মুহতার ২/৫১৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩১
মাথা মুণ্ডানোর স্থান
হাজীদের ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য মিনাতে মাথা মুণ্ডানো বা চুল কাটা সুন্নাত। হেরেমের সীমার ভিতর অন্য কোথাও করে নিলেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। হেরেমের বাইরে মাথা কামালে দম ওয়াজিব হবে। -আহকামে হজ্ব ৭৯
হজ্বের তৃতীয় ফরয তাওয়াফে যিয়ারত
তাওয়াফে যিয়ারতের সময়
সুন্নত হল জামরা আকাবার রমী, কুরবানী এবং মাথা কামানোর পর তাওয়াফ করা। আরাফায় অবস্থানের আগে তাওয়াফে যিয়ারত করলে তা দ্বারা ফরয তাওয়াফ আদায় হবে না। আরাফায় অবস্থানের পর ১০ যিলহজ্ব সুবহে সাদিক থেকে ১২ যিলহজ্বের সূর্যাস্তের আগে এই তাওয়াফ করার অবকাশ রয়েছে। যদি ১২ তারিখ সূর্যাস্ত হয়ে যায় এবং তাওয়াফে যিয়ারত করা না হয় তবে দম দেওয়া জরুরি হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৫১৭, ৫৩৩, আহকামে হজ্ব ৮০
মাসআলা : তাওয়াফে যিয়ারত অসুস্থ হলেও নিজেকেই করতে হবে। প্রয়োজনে হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু অন্যকে দিয়ে করানো যাবে না। হাঁ, অচেতন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী তাওয়াফে যিয়ারত করা যাবে। আর সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য পায়ে হেঁটে তাওয়াফে যিয়ারত করা ওয়াজিব। পায়ে হেঁটে করার সামর্থ থাকাবস্থায় হুইল চেয়ারে করে বা অন্য কোনো বাহনে চড়ে তাওয়াফে যিয়ারত করা যাবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/৫১৭
তাওয়াফে যিয়ারত রমল ও সায়ী
যারা মিনায় যাওয়ার পূর্বে সায়ী করেছে অর্থাৎ ইফরাদ হজ্বকারী তাওয়াফে কুদুমের পর এবং তামাত্তু ও কিরানকারী নফল তাওয়াফের পর, তাদের যেহেতু তাওয়াফে যিয়ারতের পর সায়ী করতে হবে না তাই এই তাওয়াফে তাদেরকে রমলও করতে হবে না। অবশ্য যারা পূর্বে এভাবে সায়ী করেনি তাদের যেহেতু তাওয়াফের পর সায়ী করতে হবে তাই তাওয়াফে রমলও করতে হবে। -আহকামে হজ্ব ৮১
ইহরাম পরিধান করে মিনায় যাওয়ার আগে হজ্বের অগ্রীম সাঈ এর বিধান। ১০ জিলহজ তাওয়াফে জিয়ারতের পর সাঈ করা মূলত ওয়াজিব। তবে প্রচণ্ড ভিড় বা শারীরিক অক্ষমতা,অসূস্থতার কারণে অনেকে ৮ তারিখে এই অগ্রিম সাঈ করে থাকেন,যা (তামাত্তু, ইফরাদ, কিরান) হজকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ঋতুমতি মহিলার তাওয়াফ
স্রাব চলাকালীন তাওয়াফ নিষিদ্ধ। তাই পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে পবিত্র হয়ে গেলে অবশ্যই এর ভিতরেই তাওয়াফ সেরে নিতে হবে। কিন্তু যদি ১২ তারিখ সূর্যাস্তের ভিতর পবিত্র না হয় তাহলে পবিত্র হওয়ামাত্র আদায় করে নিবে। এক্ষেত্রে বিলম্বের কারণে কোনো জরিমানা আসবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/৫১৯
পবিত্র হওয়ার আগেই দেশে ফিরতে হলে
যদি কোনো মহিলা হায়েয বা নেফাস অবস্থায় থাকার কারণে তাওয়াফে যিয়ারত করতে না পারে, আর তার দেশে ফিরার তারিখ হয়ে যায়। কোনোভাবে তা বাতিল বা দেরি করা সম্ভব না হয় তবে এই অপারগতার কারণে অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করে নিবে। আর একটি উট বা গরু দম হিসাবে জবাই করতে হবে। সাথে আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফারও করবে। তাওয়াফে যিয়ারত না করে দেশে যাবে না। অন্যথায় তাকে আবার মক্কায় এসে তাওয়াফ করতে হবে। যতদিন তাওয়াফ না করবে ততদিন স্বামীর সাথে থাকতে পারবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/৫১৮-৫১৯
মাসআলা : কোনো মহিলার ওষুধ সেবনের কারণে যদি স্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যায় তবে সে গোসল করে তাওয়াফ করতে পারবে।
হজ্বের ৪র্থ দিন ১১ যিলহজ্ব
মাসআলা : ১১ ও ১২ যিলহজ্বের রাত্রিতে মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। কেউ যদি মিনায় না থাকে তবে সুন্নতের খেলাফ হবে বটে কিন্তু কোনো প্রকার জরিমানা দিতে হবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩৩
১১ যিলহজ্ব রমীর সময়
জোহরের সময় থেকে নিয়ে আগত রাত্রের সুবহে সাদিক পর্যন্ত রমীর সময়। তবে সম্ভব হলে সূর্যাস্তের আগে করে নেওয়া ভাল। সূর্যাস্তের পর মাকরূহ সময়। কিন্তু মহিলা, দুর্বল ও অধিক ভীড়ের কারণে সূর্যাস্তের পর রমী করতে কোনো অসুবিধা নেই।
মাসআলা : ১১ যিলহজ্ব তিন জামরাতেই রমী করতে হবে। প্রথম দুই জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করে কিবলামুখী হয়ে দুআ করা সুন্নাত। জামরায়ে আকাবার রমীর পর দুআ নেই। -সহীহ বুখারী ১/২৩৬, রদ্দুল মুহতার ২/৫২১
পঞ্চম দিন ১২ যিলহজ্ব
রমীর তৃতীয় দিন
১২ যিলহজ্ব যোহরের সময় থেকে রাতের সুবহে সাদিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অবশ্য সম্ভব হলে সূর্যাস্তের আগে রমী করা মুস্তাহাব। আজও তিন জামরাতেই কংকর নিক্ষেপ করতে হবে।
মাসআলা : ১১ ও ১২ তারিখ যোহরের পূর্বে রমীর সময় শুরুই হয় না। তাই এ সময় কেউ রমী করলে তা আদায় হবে না। প্রকাশ থাকে যে, ১১ ও ১২ তারিখে নির্ধারিত সময়ের ভিতর যদি কেউ রমী করতে না পারে তবে ১৩ তারিখ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত তা কাযা করার (অর্থাৎ রমী করার) সুযোগ আছে। কিন্তু ১৩ তারিখ সূর্যাস্তের আগে কাযা করতে না পারলে এরপরে আর রমী করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে দম দেওয়া জরুরি। -রদ্দুল মুহতার ২/৫২১
১৩ যিলহজ্ব, রমী করা:
মাসআলা : ১২ তারিখ দিবাগত রাতে মিনায় থাকা উত্তম এবং ১৩ তারিখ রমী করাও উত্তম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১৩ তারিখ রমী করেই মিনা ত্যাগ করেছ।
অবশ্য কেউ যদি ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে রমী করে মিনা ত্যাগ করতে না পারে তবে সূর্যাস্তের পর মিনা ত্যাগ করা মাকরূহ হবে। তবে এ কারণে দম বা কোনো কিছু ওয়াজিব হবে না। আর যদি মিনায় ১৩ তারিখ সুবহে সাদিক হয়ে যায় তবে ঐ দিন রমী করা ওয়াজিব। রমী না করে চলে যাওয়া না জায়েয এবং এতে দম ওয়াজিব হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৫২১, আহকামে হজ্ব ৮৫
মাসআলা : ১৩ তারিখ যোহরের পূর্বেও রমী করা জায়েয। তবে যোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় হচ্ছে রমী করার সুন্নত ওয়াক্ত। -রদ্দুল মুহতার ২/৫২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩৩
তাওয়াফে বিদা
মীকাতের বাইরে অবস্থানকারী হাজীদের জন্য মক্কা মুকাররামা ত্যাগ করার আগে একটি তাওয়াফ করা ওয়াজিব। একে তাওয়াফে বিদা বলা হয়। এই তাওয়াফটি মক্কা থেকে বিদায়ের সময় করা উত্তম। আর মক্কা ও মীকাতের ভিতর অবস্থানকারীদের জন্য তাওয়াফে বিদা ওয়াজিব নয়, মুস্তাহাব। -রদ্দুল মুহতার ২/৫২৩
তাওয়াফে যিয়ারতের পর হাজী কর্তৃক আদায়কৃত যে কোন তাওয়াফ ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফের ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।
লক্ষণীয় :
হজ্বের মৌলিক বিষয়গুলো উপরে উল্লেখ করা হল। এ ছাড়া হজ্ব করতে গিয়ে ভুল। এছাড়া হজ্ব ভুল-ভ্রান্তি বা অন্য কারণে হাজীগণ আরো অনেক মাসআলার সম্মুখীন হতে পারেন সে ক্ষেত্রে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে তা জেনে নেওয়া আবশ্যক।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi.
23/05/2026
বাংলা নববর্ষ উদযাপন ভাতা হারাম।
মুসলমানদের জন্য নওরোজ ও মিহিরজান অথবা কাফেরদের উৎসব পালন করা হারাম। কারণ, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের জাহিলী যুগের দু’টি দিন ‘নওরোজ’ বা নববর্ষ ও মিহিরজান বহাল না রেখে রহিত করে দিয়েছেন। অনুমতি দেননি বরং তা রদ করে বলেছেন—“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দু’টি বদল করে দিয়েছেন।” এর দাবী হচ্ছে–পূর্বের আমল ত্যাগ করা। কারণ, বদল করার পর উভয় বিষয়কে জমা করা যায় না। কেননা,বদল শব্দের অর্থ হলো, একটি ত্যাগ করে অপরটি গ্রহণ করা।”
[ফাইজুল কাদির, ৪র্থ খণ্ড, ৫১১ পৃষ্ঠা]
‘নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নওরোজ ও মিহিরজান যাবতীয় উৎসব,হাদিয়া,ভাতা রহিত করেছেন এবং তার মুকাবিলায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা দিনকে সাব্যস্ত করেছেন। ‘নওরোজ (নববর্ষ) ও মেহেরজান সহ কাফিরদের যাবতীয় উৎসবের জন্য অনুষ্ঠান,হাদীয়া,ভাতা খাওয়া যে নিষিদ্ধ উক্ত হাদীছে তার দলীল রয়েছে’।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi
23/05/2026
আগে ঋণ পরিশোধ নাকি কোরবানি করবেন?
ঋণ পরিশোধ করতে হবে।।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi.islamic peacher and Islamic motivation speaker.
21/05/2026
নববর্ষ উদযাপন উৎসবের নামে হারাম,নাজায়েজ, শিরক? বাংলা নববর্ষ উদযাপন ভাতা হারাম?বাংলা নববর্ষ উদযাপন,পহেলা বৈশাখ, নববর্ষ উদযাপন ভাতা নিয়ে যা প্রতিটি মুসলিমের জানা দরকার....
____________________
পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এটি বিশাল উৎসব হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু অনেক ইসলামী আলেম প্রমাণ করেছেন এই উৎসবের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ইসলামী শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক যা হারাম, নাজায়েজ, শিরক।
নিচে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো।
🟦১. পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক উৎস
পহেলা বৈশাখ মূলত দ্বীন বিচ্যুত কা/ফির দ্বীন ই ইলাহী নতুন ধর্ম প্রবর্তনকারী মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত বাংলা নববর্ষ থেকে উদ্ভূত। বর্তমানে যেভাবে পালিত হয়,তাতে অমুসলিমদের অগ্নি উপ্যাসক,হিন্দু ধর্মীয় রীতির অনুসরণ রয়েছে,যেমন মঙ্গল শোভাযাত্রা যা দেব-দেবীর প্রতিমূর্তি বহন করে, চারু পূজা ও লোকাচার বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় রীতির মিশ্রণ এবং হালখাতা যা মূলত লক্ষ্মীপূজার সাথে সংযুক্ত ছিল।
আর যে সমস্ত আচার অনুষ্ঠান করা হয় তা হারাম ও নাজায়েজ।
রাসুল সাঃ নববর্ষ ও মিহিরজান দুটি উৎসব বাতিল করে মুসলমানদের জন্য দুটি উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা প্রবর্তন করেন। রাসুল সাঃ যে নববর্ষ উদযাপন নিষিদ্ধ করেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে আর রাসুল সাঃ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা হারাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে।
🟦২. কোরআনের আলোকে অমুসলিম উৎসব অনুসরণ
◼️আয়াত ১ — অবিশ্বাসীদের অনুসরণ নিষেধ
"وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ"
"এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না।"
— সূরা মায়িদাহ: ৪৮
◼️আয়াত ২ — কাফেরদের রীতি অনুসরণ না করা
"وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ"
"তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে।"
"সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বিরত থাকো এবং মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকো।"
— সূরা হজ্জ: ৩০
🟦৩. হাদিসের আলোকে অমুসলিম উৎসব অনুকরণ
◼️হাদিস ১ — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল
"مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ"
"যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।"
— সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১, সহিহ সনদে বর্ণিত
এই হাদিসটি ইসলামী শরীয়তে "তাশাব্বুহ" (সাদৃশ্য গ্রহণ) নিষেধের মূল ভিত্তি। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম"-এ এই হাদিসের ব্যাপক ব্যাখ্যা করেছেন।
◼️হাদিস ২ — মুসলিমদের নিজস্ব উৎসব নির্ধারণ
রাসুলুল্লাহ ﷺ মদিনায় এসে দেখলেন লোকেরা দুটি দিন উৎসব নওরোজ ও মিহিরজান পালন করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিন কী? তারা বলল, জাহেলিয়াতের যুগে এই দুই দিন আমরা খেলাধুলা করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন:
"নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারক তীর শয়তানের কাজের অংশ।"
— সূরা মায়িদাহ: ৯০
এছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রায় অশুভ শক্তি দূর করার বিশ্বাস পোষণ করা হয়, যা শিরকের শামিল। কোরআন বলছে: "আর আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" — সূরা জিন: ১৮
🟦৫. হালখাতা ও ব্যবসায়িক রীতি
হালখাতার মূল রীতিটি হিন্দু ব্যবসায়ীদের লক্ষ্মীপূজার সাথে সম্পর্কিত ছিল। যদিও বর্তমানে এটি ধর্মনিরপেক্ষ হয়েছে বলে মনে করা হয়, তবুও এর উৎস এবং কিছু আচার-অনুষ্ঠান ইসলামী দৃষ্টিতে বিদাত।
🟦৬. উলামায়ে কেরামের মতামতঃ
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন: "কাফেরদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা হারাম। যে এতে অংশ নেয়, সে তাদের মতো হয়ে যায়।" — ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: "মুসলমানদের কাফেরদের উৎসব উপলক্ষে তাদের সাথে মিলিত হওয়া জায়েজ নেই।" — আহকামু আহলিয যিম্মাহ
শায়খ উসাইমীন (রহ.) বলেন: "অমুসলিমদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা হারাম, কারণ এটি তাদের ধর্মীয় প্রতীককে সম্মান দেওয়ার শামিল।"
🟦৭. পহেলা বৈশাখ কি মুসলিম সংস্কৃতি?
পহেলা বৈশাখের উৎস হিন্দু পঞ্জিকা ও মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থার মিশ্রণ। মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ হিন্দু লোকাচার থেকে উদ্ভূত। ইসলামে মুসলিমদের উৎসব শুধুমাত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতি হতে পারে, কিন্তু এটি ইসলামী সংস্কৃতি নয়।
ইসলামে জাতীয়তাবাদী বা সাংস্কৃতিক যুক্তিতে শিরক বা বিদআতকে জায়েজ করা যায় না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো হারাম: মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ মূর্তি বহন ও শিরকী বিশ্বাসের কারণে, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা সূরা নূর ৩০-৩১ অনুযায়ী, গান-বাদ্য ও নাচ সহিহ বুখারি ৫৫৯০ অনুযায়ী, অমুসলিম উৎসবের অনুকরণে আনন্দ প্রকাশ তাশাব্বুহের কারণে এবং "শুভ নববর্ষ" বলে অমুসলিম উৎসবকে সম্মান দেখানো ইসলামী স্কোলারদের মতে হারাম।
◼️ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ মুসলিম জাতির সংস্কৃতি নয়, এটি বাঙালি হিন্দু লোকাচার থেকে উদ্ভূত একটি উৎসব। মুসলিমদের একমাত্র ধর্মীয় উৎসব হলো দুই ঈদ, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ সর্বসম্মতিক্রমে হারাম, কারণ এতে মূর্তি ও শিরকী বিশ্বাস জড়িত। অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান "তাশাব্বুহ বিল কুফফার" অর্থাৎ কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যের কারণে নিষিদ্ধ।
একজন সচেতন মুসলিমের উচিত ইসলামী পরিচয়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া এবং এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ-এর নির্দেশনার বিরোধী।
"বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু — সবকিছু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।"
— সূরা আনআম: ১৬২
মুসলমানদের জন্য নওরোজ(নববর্ষ পালন) ও মিহিরজান হারাম। থানভী রহঃ লিখেছেন,রসুলের দেয়া শরিয়তের বিধানে কোনরূপ সংস্কার,সংযোজন, সংকোচন মুসলমান কিয়ামত পর্যন্ত করবেনা।[থানভী-ওয়াজ ও খুদবা:৪৯১ পৃষ্ঠা]।
এটাই প্রমাণিত যে হারাম নববর্ষ উপলক্ষে "বাংলা নববর্ষ ভাতা" হারাম।
হারামখোর কিছু মুফতিরা নওরোজ ও মিহিরজানের উৎসব পূর্ব ঘটনা বর্ণনা করে হারাম কে হালাল বানায়।
কিছু রাসুল সাঃ নওরোজ ও মিহিরজানের উৎসব নিষিদ্ধ করলো সেই বিষয়ে হারামখোর মুফতিদের খেয়াল নাই।
নওরোজ বা নববর্ষ পালন যে ইসলামে নিষিদ্ধ তার স্পষ্ট দলীল:
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ: ” مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ ” قَالُوا: كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا: يَوْمَ الْأَضْحَى، وَيَوْمَ الْفِطْرِ»
“হযরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দু’টি দিন ছিল ‘নওরোজ’ বা নববর্ষ ছিল, যেখানে তারা খেলা-ধুলা করত। তিনি বললেন: এ দু’টি দিন কি? তারা বলল: নওরোজ ও মিহিরজান,আমরা এতে জাহিলি যুগে খেলা-ধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেন: ঈদুল আদহা ও ঈদুল ফিতর।”
[আবু দাউদ: ১১৩৪, আহমদ: ১৩২১০,মুসতাদরেক হাকেম: ১১২৪]
ঐ দু’টি দিন ছিল ‘নওরোজ’ বা নববর্ষ। অর্থাৎ সৌরবর্ষের প্রথম দিন এবং ‘মেহেরজান’ বছরে এইদিন রাত্রি-দিন সমান হয়।
যেটা হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: مَنْ تَنَافَى أَرْضَ الأَعَاجِمِ فَصَنَعَ نَيْرُوزَهُمْ وَمَهْرِجَانِهِمْ حُشِرَ مَعَهُم
অর্থঃ'যে অনারব দেশে বিচরণ করে, অতঃপর তাদের নওরোজ ও মেহেরজান উদযাপন করে, তাদের সাথে তাকে উঠানো হবে।”
[সুনানে বায়হাকী ২য় খণ্ড, ৩২৫ পৃষ্ঠা] ইবনে তাইমিয়া এই হাদীস সহীহ বলেছে।
ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন:
“এ হাদীস প্রমাণ করে যে, মুসলমানদের জন্য নওরোজ ও মিহিরজান,কাফেরদের উৎসব পালন করা হারাম।
কারণ, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের জাহিলী যুগের দু’টি দিন ‘নওরোজ’ বা নববর্ষ ও মিহিরজান বহাল না রেখে রহিত করে দিয়েছেন। তাদের রীতি অনুযায়ী সেই দুইদিন তাদের আমোদ-উৎসবের অনুমতি দেননি।
বরং তা রদ করে বলেছেন—“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দু’টি বদল করে দিয়েছেন।” এর দাবী হচ্ছে–পূর্বের আমল ত্যাগ করা। কারণ, বদল করার পর উভয় বিষয়কে জমা করা যায় না। কেননা, বদল শব্দের অর্থ হলো, একটি ত্যাগ করে অপরটি গ্রহণ করা।”
[ফাইজুল কাদির, ৪র্থ খণ্ড, ৫১১ পৃষ্ঠা]
‘উক্ত হাদীছ দ্বারা নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত দুই দিন ব্যতীত অন্যান্য যাবতীয় উৎসব রহিত করেছেন এবং তার মুকাবিলায় উক্ত দু’টি দিনকে সাব্যস্ত করেছেন। ‘নওরোজ (নববর্ষ) ও মেহেরজান সহ কাফিরদের যাবতীয় উৎসবকে সম্মান প্রদর্শন করা যে নিষিদ্ধ উক্ত হাদীছে তার দলীল রয়েছে’।
মুজাহিদ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন, ‘মুশরিকদের উৎসব সমূহে খুশী করা কিংবা তাদের মত উৎসব করা উক্ত হাদীছ দ্বারা অপছন্দনীয় প্রমাণিত হয়েছে’।
শায়খ আবু হাফছ আল-কাবীর হানাফী বলেন, ‘এসব দিনের সম্মানার্থে মুশরিকদের যে একটি ডিমও উপঢৌকন দিল, সে আল্লাহর সাথে কুফরী করল’।
কাযী আবুল মাহাসেন হাসান মানছূর হানাফী বলেন, ‘এ দিনের সম্মানার্থে কেউ যদি ঐ সব মেলা থেকে কোন জিনিষ ক্রয় করে কিংবা কাউকে কোন উপঢৌকন দেয়, সে কুফরী করল। এমনকি সম্মানার্থে নয় বরং সাধারণভাবেও যদি এই মেলা থেকে কিছু ক্রয় করে কিংবা কাউকে এই দিনে কিছু উপঢৌকন দেয়, তবে সেটিও মাকরূহ’
[মির‘আত শরহ মিশকাত, ‘ছালাতুল ঈদায়েন’ অধ্যায় ৫/৪৪-৪৫ পৃঃ]।
সূতরাং দেখা গেলো, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পর মদীনা শরীফ গিয়ে ঐ এলাকাবাসীর দুটি উৎসব বন্ধ করেছিলেন। একটি হচ্ছে, বছরের প্রথম দিন উদযাপন বা নওরোজ; অন্যটির নাম ছিলো ‘মিহিরজান’। এ উৎসবের দুটির বিপরীতে চালু হয় মুসলমানদের দুই ঈদ। (তাফসিরসমূহ দেখতে পারেন) মূলত: নওরোজ বা বছরের প্রথম দিন পালন করার রীতি ইসলামে নেই, এটা পার্সী মজুসীদের (অগ্নিউপাসক) অনুকরণ।
সূতরাং উক্ত হাদিস ইজমা কিয়াসের আলোকে প্রমাণিত বাংলাদেশের হারাম নাজায়েজ শিরক কুফরের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী ভাতা খাওয়া,হাদিয়া দেওয়া নেওয়া সব হারাম।ঐ হারাম বৈশাখী ভাতা খাইলে অবশ্যই ধ্বংশ হয়ে যাবে। নওরোজ যেহেতু বিধর্মীদের কালচার সেহেতু কোনভাবেই নওরোজ পালন করা যাবে না। আরেকটা হাদিসে ইরশাদ হয়েছে,
“তোমরা অন্ধকার রাতের ঘনঘটার ন্যায় ফেতনার পূর্বে দ্রুত আমল কর [যখন] কোন ব্যক্তি ভোর করবে মুমিন অবস্থায়, অতঃপর সন্ধ্যা করবে কাফির অবস্থায়; অথবা সন্ধ্যা করবে মুমিন অবস্থায়, আর ভোর করবে কাফির অবস্থায়। মানুষ তার দ্বীনকে বিকিয়ে দিবে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে।”
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৩]
আল্লাহ সকলকে হিদায়াত দিন।
Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi. Islamic peacher, Islamic motivation speake r and Talebe ilm of complete deen Islam.