07/09/2026
সুরা আল-বাকারার ফজিলত
১. শয়তান তাড়ানো
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ঘরে সুরা আল-বাকারা পাঠ করা হয়, শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায়।” [ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭৮০ ]
২. বাড়িতে বারাকাহ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সুরা আল-বাকারা পাঠ করো, কারণ এটি গ্রহণ করলে বারাকাহ, আর ত্যাগ করলে আফসোস। আর যাদুকররা এটি মোকাবেলা করতে পারে না।” [ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৮০৪ ]
৩. যাদু থেকে সুরক্ষা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সুরা আল-বাকারা পাঠ করো, কারণ এটি গ্রহণ করলে বারাকাহ, আর ত্যাগ করলে আফসোস। আর যাদুকররা এটি মোকাবেলা করতে পারে না।” [ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৮০৪ ]
৪. শেষ দুই আয়াত বান্দার জন্য যথেষ্ট
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।” [ সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৫০০৯ | সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৮০৮ ]
৫. কিয়ামতের দিনে সুপারিশ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সুরা আল-বাকারা ও সুরা আলি ইমরান পাঠ করো, কারণ তারা কিয়ামতের দিনে মেঘের মতো এসে তাদের পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে।” [ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৮০৪ ]
৬. সবচেয়ে মহান আয়াত
সুরা আল-বাকারায় রয়েছে আয়াতুল কুরসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে মহান আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি।” [ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৮১০ ]
৭. রাতে পাঠ করলে ফেরেশতাদের অবতরণ ও সাকিনা (প্রশান্তি) অবতীর্ণ হওয়া
উসাইদ ইবনু হুদাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাতে সুরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করছিলেন... তখন একটি মেঘের মতো ছায়াবিশিষ্ট বস্তু চাদরের মতো নেমে এলো, যার মধ্যে প্রদীপের মতো জ্যোতি জ্বলছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ওটা ছিল সাকীনা বা প্রশান্তি, যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল (এবং ফেরেশতাগণ তা শুনতে এসেছিলেন)।” [ সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৫০১৮ | সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭৯৬ ]
৮. জান্নাতের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণের মাধ্যম (কুরআন হিফজের ভিত্তিতে সম্মান)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার একদল সৈন্য পাঠাচ্ছিলেন। তিনি সবার কাছে কুরআন জিজ্ঞেস করে এক সর্বকনিষ্ঠ সাহাবির কাছে এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার সাথে কতটুকু কুরআন আছে?” তিনি বললেন, “আমার সাথে অমুক অমুক সুরা এবং সুরা আল-বাকারা আছে।” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তোমার সাথে সুরা আল-বাকারাও আছে?” সে বলল, “হ্যাঁ।” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তবে যাও, তুমিই আজ এই দলের নেতা (আমির)।” [ সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং : ২৮৭৬ (হাসান/সহিহ) ]
৯. কুরআনের কুঁজো বা সর্বোচ্চ চূড়া (সনামুল কুরআন)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “প্রত্যেক বস্তুরই একটি কুঁজো বা সর্বোচ্চ স্থান (চূড়া) থাকে, আর কুরআনের কুঁজো হলো সুরা আল-বাকারা।” [ সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং : ২৮৭৮ ]
১০. যে ঘরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা হয় সেখান থেকে শয়তান প্রস্থান করে
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে (যাকাত পাহারা দেওয়ার ঘটনায়) শয়তান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যায়নসহ তাকে বলেছিল, “যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদাই তোমার জন্য একজন হিফাজতকারী (ফেরেশতা) থাকবে এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত কোনো শয়তান তোমার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “সে মিথ্যাবাদী হলেও এ বিষয়টি সত্য বলেছে।” [ সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ২৩১১ ]