02/10/2025
⬛️আসহাবে রসুল ﷺ
⚫️সাহাবিগণের ( رضي الله عنهم أجمعين ) ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আর আকিদা অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা তাদের কোনোরূপ সমালোচনা করিনা । তারা মা’সুম না বরং মাহফু’য , অর্থাৎ তারা নিষ্পাপ না কিন্তু রক্ষিত (জাহান্নাম থেকে) । তাদের রাজনৈতিক মতনৈক্য কিংবা ইজতিহাদি ইখতিলাফ কখনোই ইফতিরাক বা বিভক্তির পর্যায়ে পৌঁছায় নি।
⚫️আমরা তাদের বিষয়ে সেই ধারণাই রাখি যা স্বয়ং আসাদুল্লাহ ,আলি ইবন আবি তালিব رضي الله عنه , রেখেছিলেন। জামালের যুদ্ধে বিপরীত পক্ষে তালহা ইবন উবাইদিল্লাহ رضي الله عنه শহীদ হলে আলি তিলাওয়াত করেন : “আর আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা বিদ্বেষ বের করে ফেলব, তারা সেখানে ভাই ভাই হয়ে (জান্নাতে) আসনে মুখোমুখি বসবে।” - (হিজর:৪৭) এবং বলেন :
“আমি আশা করি, আমি, তালহা ও যুবায়ের সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত হব।”
⚫️সিদ্দিকে আকবার
আবু হুরায়রা رضي الله عنه হতে বর্ণিত :
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আবু বাক্রের ধন-সম্পদ আমার যতটুকু উপকারে এসেছে অন্য কারো ধন-সম্পদ আমার তত উপকারে আসেনি। এ কথায় আবু বাক্র رضي الله عنه কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, হে আল্লাহ্র রসুল! আমি ও আমার ধন-সম্পদ আপনারই।
-তিরমিযী ৩৬৬১ (সহিহ)
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’উদ رضي الله عنه থেকে বর্ণিত:
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আমি যদি বন্ধু (খলিল) বানাতাম তাহলে আবূ বক্রকেই বন্ধু হিসেবে অগ্রাধিকার দিতাম। তবে তিনি আমার ভাই এবং আমার সঙ্গী আর তোমাদের সঙ্গীকে আল্লাহ তা‘আলা বন্ধু বানিয়েছেন। -মুসলিম ৬০৬৬
আবু বাকর বললেন, কোন ব্যক্তিকে (জান্নাতের) সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে এমন তো অবশ্য জরুরী নয়, তবে কি এরূপ কাউকে ডাকা হবে? নবী ﷺ বললেন, হাঁ, হবে। আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে, হে আবু বাকর। - বুখারি ৩৬৬৬ (আংশিক)
⚫️আমিরুল মু’মিনিন
উকবাহ ইবনু আমির رضي الله হতে বর্ণিত , রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আমার পরবর্তীতে কেউ নবী হলে অবশ্যই উমার ইবনুল খাত্তাবই নবী হত। - তিরমিজি ৩৬৮৬ (হাসান)
আল্লাহর রসুল ﷺ বললেন, হ্যাঁ ঠিকই হে ইবনু খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার জান, তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোন রাস্তায় তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা ধরে। - বুখারি ৩৬৮৩ (আংশিক)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার رضي الله عنهما হতে বর্ণিত , রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : “আল্লাহ তা’আলা উমার এর মুখে ও হৃদয়ে সত্যকে স্থাপন করেছেন।” আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের সম্মুখে কখনো কোন প্রসঙ্গ আবির্ভূত হলে লোকজনও তা সম্পর্কে মন্তব্য ব্যক্ত করত এবং বাবাও অভিমত ব্যক্ত করতেন। দেখা যেত, বাবার অভিমত এর সমর্থনে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। (বাক্বারাহ:১২৫, আহযাব:৫৩, তাহরীম:৫) -তিরমিজি ৩৬৮২ (সহিহ)
⚫️যুন নুরইন
আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ্ رضي الله عنه থেকে বর্ণিত:
তিনি বলেন, ‘উসমান رضي الله عنه এক হাজার দীনারসহ রসুলুল্লাহ ﷺ এর নিকট হাযির হলেন। তিনি তার জামার হাতার মধ্যে করে সেগুলো নিয়ে আসেন যখন রসুলুল্লাহ ﷺ তাবূকের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মুদ্রাগুলো তিনি রসুলুল্লাহ ﷺ এর কোলে ঢেলে দেন। ‘আবদুর রহমান বলেন, রসুলুল্লাহ ﷺ কে আমি সেগুলো তাঁর কোলে ওলট-পালট করতে করতে বলতে শুনলাম : আজকের পর হতে ‘উসমান যে কার্যকলাপই করুক তা তার কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। তিনি কথাটি দু’বার বললেন। -তিরমিজি ৩৭০১ (হাসান)
উম্মুল মু’মিনিন আয়িশাহ্ رضي الله عنها বললেন, আবু বাকর আসলেন, আপনি তাকে কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না, ‘উমার আসলেন আপনি তাকেও কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না। উসমান প্রবেশ করতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন। রসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: আমি কি সে লোককে লজ্জা করবো না, ফেরেশ্তারা পর্যন্ত যাঁকে দেখলে লজ্জা পান। -মুসলিম ৬১০৩ (আংশিক)
⚫️আসাদুল্লাহিল গলিব
যাইদ ইবনু আরকাম رضي الله عنه হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আমি যার মাওলা (সাথী বা পৃষ্ঠপোষক), আলীও তার মাওলা (সাথী বা পৃষ্ঠপোষক)। -তিরমিজি ৩৭১৩ (সহিহ)
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস رضي الله عنه থেকে বর্ণিত:
তাবূকের যুদ্ধের সময় রসুলুল্লাহ ﷺ ‘আলী رضي الله عنه কে মাদীনায় তাঁর প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলেন। আলী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে মহিলা ও শিশুদের নিকট রেখে যাচ্ছেন? রসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন : তুমি কি এতে খুশী হবে না যে, তোমার মর্যাদা আমার কাছে মূসা عليه السلام এর কাছে হারূন عليه السلام এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। -মুসলিম ৬১১২
⚫️হাবিবাতু রসুলিল্লাহ ﷺ
উম্মুল মু’মিনীন আয়িশাহ্ رضي الله عنها হতে বর্ণিত:, রসুলুল্লাহ ﷺ এর উঠা-বসা, আচার-অভ্যাস ও চালচলনের সাথে তার কন্যা ফাতিমাহ رضي الله عنها এর অপেক্ষা বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। আয়িশাহ আরও বলেন, ফাতিমাহ্ যখনই নবী ﷺ এর নিকট আসতেন তিনি তখনই তার নিকট উঠে যেতেন, তাকে চুমু দিতেন এবং নিজের স্থানে বসাতেন। আর নবী ﷺ তার ঘরে গেলে তিনিও নিজের জায়গা হতে উঠে তাকে (পিতাকে) চুমু দিতেন এবং নিজের জায়গায় বসাতেন।-তিরমিজি ৩৮৭২ (সহিহ)
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামা رضي الله عنه থেকে বর্ণিত:
আল্লাহ্র রসুল ﷺ বলেন, ফাতিমা আমার অংশ। যে তাকে দুঃখ দিবে, সে যেন আমাকে দুঃখ দিল। -বুখারী ৩৭১৪
⚫️সায়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার رضي الله عنهما থেকে বর্ণিত: রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : হাসান ও হুসায়ন জান্নাতী যুবকদের নেতা এবং তাদের পিতা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে।-ইবন মাজাহ ১১৮ (সহিহ)
উম্মুল মু’মিনিন আয়িশাহ্ رضي الله عنها হতে বর্ণিত : রসুলুল্লাহ ﷺ সকালে বের হলেন। তার পরনে ছিল কালো নকশী দ্বারা আবৃত একটি পশমী চাদর। হাসান ইবনু আলী رضي الله عنه এলেন, তিনি ﷺ তাকে চাদরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। হুসায়ন ইবনু আলী رضي الله عنه এলেন, তিনিও চাদরের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লেন। ফাতিমাহ رضي الله عنها এলেন, তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে ফেললেন। তারপর ’আলী رضي الله عنه এলেন তাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। তারপরে বললেন : "হে আহলে বায়ত আল্লাহ তা’আলা তোমাদের হতে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করে তোমাদের পবিত্র করতে চান" -মুসলিম ২৪২৪
⚫️সিদ্দিকতু বিনতু আবিহা
আনাস ইবনু মালিক رضي الله عنه থেকে বর্ণিত: রসুলুল্লাহ ﷺ কে আমি বলতে শুনেছি, ‘আয়িশাহ رضي الله عنها এর মর্যাদা নারীদের উপর এমন যেমন সারীদের (মাংস-মিশ্রিত রুটি) মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের উপর। -বুখারি ৩৭৭০
আমর ইবনু ’আস رضي الله عنه হতে বর্ণিত: রসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে যাতুস্ সালাসিল যুদ্ধের সেনাপতি করে পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর ﷺ নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, ’আয়িশাহ্। আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর পিতা (আবূ বাকর)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, ’উমার ইবনু খাত্তাব। অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম করলেন। -বুখারি ৩৬৬২
উম্মুল মুমিনিন আয়িশাহ رضي الله عنها হতে বর্ণিত:
রসুলুল্লাহ ﷺ-এর স্ত্রীগণ একদা ফাতিমা رضي الله عنها-কে রসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পাঠালেন। তিনি এসে অনুমতি চাইলেন, সে সময় রসুলুল্লাহ ﷺ চাদর গায়ে আমার সাথে শোয়া ছিলেন। রসুলুল্লাহ ﷺ ফাতিমা رضي الله عنها-কে অনুমতি দিলেন। তখন ফাতিমা বললেন: হে আল্লাহর রসুলুল্লাহ ﷺ! আপনার স্ত্রীগণ আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। তারা আবু কুহাফার মেয়ের (আয়েশা) বিষয়ে তাদের সাথে ইনসাফ করার অনুরোধ করেছেন। আমি চুপ ছিলাম। রসুলুল্লাহ ﷺ ফাতিমা কে বললেন, যাকে আমি ভালোবাসি তাকে কি তুমি ভালোবাস না? ফাতিমা বললেন, কেন ভালোবাসব না?রসুলুল্লাহ ﷺ বললেন,তাহলে একে (আয়িশাহ) ভালোবাসো।
-নাসায়ি ৩৯৪৪ (সহিহ)
⚫️হাফিজাতুল কুরআন ওয়া সহিবাতুল মুসহাফ
আবু বকর رضي الله عنه এবং উমর رضي الله عنه এর মৃত্যুর পর, কুরআনের মূল পাণ্ডুলিপি রাখা হয়েছিল উম্মুল মু’মিনিন হাফসা বিনত উমার رضي الله عنها এর নিকট এবং উসমান رضي الله عنه এর সময় তার কাছ থেকেই মুসাহাফ সংগ্রহ করা হয়।
⚫️নিশ্চয়ই রাফেজি শিয়ারা নিকৃষ্ট । তারা রসুলুল্লাহ ﷺ ও তার পরিবারকে প্রশংসা করে অথচ তার সাহাবিদের অন্যায়ভাবে জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। আবু বাকর-উমার ও তাদের পূন্যবতী কন্যাদ্বয়কে অসম্মান করে ।
⚫️নিশ্চয়ই আহলে-বাইত বিদ্বেষীরা নিকৃষ্ট। ইমাম হুসাইন ও রসুলুল্লাহ ﷺ এর পরিবারের উপর জুলুমকারীরা অভিশপ্ত।
⚫️আল্লাহ আযযা ওয়াজাল আমাদের মনে রসুলুল্লাহ ﷺ ও তার সকল সাহাবিদের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে দিন এবং কিয়ামতের দিন তাদের সহবতে আমাদের রাখুন । আল্লাহুম্মা আমিন।
اللهم صلي على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه اجمعين
🖊️ রাগিব ইয়াসির
বুয়েটিয়ান ইসলামি সাহিত্যচর্চা পেজ থেকে
30/09/2025
29/09/2025
24/09/2025
17/09/2025
16/09/2025