16/03/2026
ঈদের শিক্ষনীয় গল্প
শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ। ঈদের দুইদিন আগে আকাশভরা চাঁদের আলোয়, খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামের সবাই যখন কেনাকাটা আর নতুন পোশাকে ব্যস্ত, তখন দশ বছরের আরিয়ান দেখল তার খেলার সাথী ফাহিম মনমরা হয়ে পুকুরপাড়ে বসে আছে।
ফাহিমের বাবা গত বছর মারা গেছেন, মা পরের বাড়ি কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। আরিয়ান বুঝতে পারলো, এবার হয়তো ফাহিমের জন্য নতুন কোনো জামা কেনা হয়নি। আরিয়ানের বাবা গত ঈদে আরিয়ানকে, খুব সুন্দর একটি সবুজ রঙের পাঞ্জাবি কিনে দিয়েছিলেন। এবারের ঈদে আরিয়ানের বাবা, আরিয়ানের জন্য গত বছরের ন্যায়, খুব সুন্দর নতুন একটি সবুজ রঙের পাঞ্জাবি কিনে বাড়িতে নিয়ে আসলেন।
পাঞ্জাবিটির দিকে তাকিয়ে আরিয়ানের মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে ভাবল, আমি একা নতুন পাঞ্জাবি পরে ঈদ করবো, আর আমার বন্ধু ফাহিম, পুরোনো ছেঁড়া জামা পরে ঈদের মাঠে যাবে, এটা হতে পারে না। রমজান মাসে না খেয়ে থাকার অর্থ হলো: গরিবের না খেয়ে থাকার কষ্ট বোঝা। আর ঈদের অর্থ হল: সবাই মিলে একসাথে আনন্দ করা। রাত্রে ঘুমানোর আগে আরিয়ান তার বাবাকে বলল, বাবা! আমার তো গত বছরের ঈদের পাঞ্জাবিটা এখনো একদম নতুনের মতো আছে। আমি কি আমার এবারের নতুন সবুজ পাঞ্জাবিটা ফাহিমকে দিয়ে দিতে পারি?
আরিয়ানের বাবা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে হাসলেন। তিনি বললেন, "বাবা, নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা অন্যের খুশির জন্য দিয়ে দেওয়াই হলো ঈদের আসল শিক্ষা। তুমি যদি দিতে চাও, আমি খুব খুশি হবো।
ঈদের আগের দিন সকালে আরিয়ান চুপি চুপি ফাহিমের বাড়িতে গিয়ে নতুন পাঞ্জাবিটা তাকে উপহার দিয়ে এলো। ফাহিমের চোখে তখন আনন্দ আর বিস্ময়ের জল। সে ভাবতেই পারেনি কেউ তাকে এত সুন্দর উপহার দিবে।
নামাজের পর গ্রামের মাঠে যখন সবাই কোলাকুলি করছিল, তখন ফাহিম দেখল আরিয়ানও সবুজ রঙের পাঞ্জাবি পরে হাসিমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফাহিম দৌড়ে এসে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলো। দুই বন্ধু ঈদের আনন্দে মেতে উঠলো। আরিয়ানের নিজের গায়ে গত বছরের পাঞ্জাবি থাকলেও তার মনে হচ্ছিল, এবারের ঈদটাই তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় ঈদ।
নিজের আনন্দের চেয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দ অনেক বড়। ত্যাগ এবং ভ্রাতৃত্বই ঈদের প্রকৃত শিক্ষা।