15/09/2026
জাপানে প্রথমবার আসছেন?
বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে ঢোকা থেকে জাপান এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়া পর্যন্ত কী করবেন?
আগের পর্বে আমরা বলেছিলাম, জাপানে আসার সময় কী আনবেন এবং কী আনবেন না।
আজকের পর্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ প্রথমবার একা বিদেশে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে:
এয়ারপোর্টে কোথায় যাব?
ইমিগ্রেশনে কী বলব?
ট্রানজিটে কী করব?
জাপানে নেমে রেসিডেন্স কার্ড কোথায় পাব?
চলুন একদম শুরু থেকে দেখি।
━━━━━━━━━━━━━━━
১. বাসা থেকে বের হওয়ার আগে
হ্যান্ড ব্যাগে রাখুন:
• পাসপোর্ট
• জাপানের ভিসা
• COE-এর কপি
• অ্যাডমিশন লেটার
• বিমান টিকিট
• জাপানে থাকার সম্পূর্ণ ঠিকানা
• স্কুল বা ইউনিভার্সিটির যোগাযোগের তথ্য
• কিছু জাপানি ইয়েন
• ফোন ও চার্জার
সব কাগজের PDF কপি নিজের ইমেইল বা গুগল ড্রাইভেও রাখুন।
পাসপোর্ট, টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ কখনো চেকড ব্যাগেজে দেবেন না।
━━━━━━━━━━━━━━━
২. কত আগে ঢাকা এয়ারপোর্টে যাবেন?
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ফ্লাইটের প্রায় ৪ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো ভালো।
প্রথমবার হলে আরও নিশ্চিন্তে সময় নিয়ে যান।
এয়ারপোর্টে ঢোকার সময় পাসপোর্ট, টিকিট এবং প্রয়োজনীয় কাগজ হাতের কাছে রাখুন।
━━━━━━━━━━━━━━━
৩. প্রথম কাজ: চেক-ইন কাউন্টার
ভেতরে ঢুকে ডিসপ্লে বোর্ডে আপনার ফ্লাইট নম্বর দেখুন।
তারপর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের চেক-ইন কাউন্টারে যান।
সেখানে সাধারণত:
• পাসপোর্ট দেখাবেন
• ভিসা যাচাই হবে
• প্রয়োজন হলে COE বা অন্য কাগজ দেখাবেন
• বড় লাগেজ জমা দেবেন
• বোর্ডিং পাস পাবেন
ট্রানজিট ফ্লাইট হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করুন:
“আমার লাগেজ কি সরাসরি জাপান পর্যন্ত যাবে?”
লাগেজ ট্যাগে শেষ গন্তব্য NRT, HND, KIX ইত্যাদি আছে কি না দেখে নিন।
লাগেজের রসিদটিও ফেলে দেবেন না।
━━━━━━━━━━━━━━━
৪. এরপর বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন
বোর্ডিং পাস পাওয়ার পর বহির্গমন ইমিগ্রেশনে যাবেন।
সাধারণত হাতে রাখুন:
• পাসপোর্ট
• বোর্ডিং পাস
• প্রয়োজন হলে ভিসা ও অন্যান্য কাগজ
অফিসার কোথায় যাচ্ছেন বা কেন যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে সহজভাবে বলুন:
“জাপানে পড়াশোনার জন্য যাচ্ছি।”
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আলাদা বহির্গমন ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হয় না।
অযথা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রশ্ন করলে সংক্ষিপ্ত ও সত্য উত্তর দিন।
━━━━━━━━━━━━━━━
৫. নিরাপত্তা পরীক্ষা
ইমিগ্রেশন শেষ হলে নিরাপত্তা পরীক্ষায় যাবেন।
ল্যাপটপ, ফোন, পাওয়ার ব্যাংক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য জিনিস ট্রেতে দিতে হতে পারে।
মনে রাখবেন:
• পাওয়ার ব্যাংক হ্যান্ড ব্যাগে থাকবে
• বড় তরল বোতল হ্যান্ড ব্যাগে রাখবেন না
• ধারালো জিনিস হ্যান্ড ব্যাগে রাখবেন না
তারপর নিজের বোর্ডিং গেট খুঁজুন।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দোকানে ঘুরবেন না।
গেট পরিবর্তনও হতে পারে, তাই ডিসপ্লে বোর্ড দেখবেন।
━━━━━━━━━━━━━━━
৬. ট্রানজিট থাকলে কী করবেন?
ধরুন:
ঢাকা → ব্যাংকক → টোকিও
অথবা
ঢাকা → সিঙ্গাপুর → টোকিও
প্রথম বিমান থেকে নামার পর সাধারণত “ট্রান্সফার” বা “ট্রানজিট” নির্দেশনা অনুসরণ করবেন।
একই টিকিটে যাত্রা এবং লাগেজ জাপান পর্যন্ত বুক করা থাকলে সাধারণত ট্রানজিট দেশে গিয়ে লাগেজ তুলতে হয় না।
নতুন বোর্ডিং গেট খুঁজে পরের ফ্লাইটে উঠবেন।
কিন্তু এখানে বড় সতর্কতা আছে।
যদি দুইটি আলাদা টিকিট কিনে থাকেন, অর্থাৎ সেলফ-ট্রান্সফার হয়, তাহলে লাগেজ সংগ্রহ, আবার চেক-ইন এবং কখনো ট্রানজিট দেশের ইমিগ্রেশন পার হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
সেক্ষেত্রে ট্রানজিট ভিসাও লাগতে পারে।
তাই আলাদা টিকিট কিনলে আগেই নিয়ম যাচাই করুন।
━━━━━━━━━━━━━━━
৭. জাপানে বিমান নামার পর
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিমান থেকে নেমে “অ্যারাইভাল” এবং “ইমিগ্রেশন” নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
অন্য যাত্রীরা যেদিকে যাচ্ছে অন্ধভাবে শুধু তাদের অনুসরণ না করে সাইনবোর্ড দেখুন।
━━━━━━━━━━━━━━━
৮. জাপানের ইমিগ্রেশনে কী হবে?
ইমিগ্রেশন কাউন্টারে সাধারণত আপনার:
• পাসপোর্ট
• ভিসা
• প্রয়োজন হলে COE
• প্রয়োজনীয় প্রবেশসংক্রান্ত তথ্য
যাচাই করা হবে।
আপনার ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হতে পারে।
অফিসার স্কুলের নাম, থাকার ঠিকানা বা জাপানে আসার উদ্দেশ্য জানতে চাইতে পারেন।
সহজ উত্তর দিন:
“আমি স্টুডেন্ট। এই স্কুলে পড়তে এসেছি।”
ইমিগ্রেশন অনুমোদন হলে আপনি জাপানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
━━━━━━━━━━━━━━━
৯. রেসিডেন্স কার্ড এখানেই পাবেন?
বেশিরভাগ নতুন শিক্ষার্থীর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে নিচের বিমানবন্দরগুলোতে নতুন মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দাকে প্রবেশের সময় রেসিডেন্স কার্ড দেওয়া হয়:
• নারিতা
• হানেদা
• কানসাই
• চুবু
• নিউ চিতোসে
• সেনদাই
• কোবে
• হিরোশিমা
• ফুকুওকা
• নাহা
আপনি যদি এসব বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করেন এবং রেসিডেন্স কার্ড পাওয়ার যোগ্য হন, সাধারণত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময়ই কার্ড পাবেন।
কার্ড হাতে নিয়ে নামের বানান ও তথ্য দেখে নিন।
অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করলে পরে ঠিকানা নিবন্ধনের পর ডাকযোগে রেসিডেন্স কার্ড আসতে পারে।
━━━━━━━━━━━━━━━
১০. পার্ট-টাইম কাজ করতে চাইলে এই সুযোগটি মিস করবেন না
“স্টুডেন্ট” স্ট্যাটাসে থাকা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া নয়।
প্রথমবার জাপানে প্রবেশ করছেন এবং ৩ মাসের বেশি থাকার অনুমতি থাকলে, প্রবেশের সময়ই পার্ট-টাইম কাজের অনুমতির আবেদন করা যায়।
কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে ইমিগ্রেশনের সময় বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
অনুমতি ছাড়া পার্ট-টাইম কাজ শুরু করবেন না।
সাধারণ অনুমতি পেলে পড়াশোনার সময় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়।
━━━━━━━━━━━━━━━
১১. Visit Japan Web আগে করে রাখবেন?
হ্যাঁ, করে রাখা ভালো।
জাপানে আসার আগে সরকারি Visit Japan Web-এ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কিছু প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
QR কোড তৈরি হলে ফোনে রেখে দিন।
স্ক্রিনশটও রাখতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন:
Visit Japan Web-এর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট আছে।
সরকারি সেবা বিনামূল্যে। QR তৈরির জন্য কাউকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
━━━━━━━━━━━━━━━
১২. ইমিগ্রেশনের পর লাগেজ
ইমিগ্রেশন শেষ করে ব্যাগেজ ক্লেইমে যান।
স্ক্রিনে নিজের ফ্লাইট নম্বর দেখে কোন বেল্টে লাগেজ আসবে তা দেখুন।
নিজের লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্যাগ মিলিয়ে নিন।
লাগেজ না এলে এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ব্যাগেজ কাউন্টারে অভিযোগ করুন।
━━━━━━━━━━━━━━━
১৩. সবশেষে কাস্টমস
জাপানে প্রবেশকারী প্রত্যেক যাত্রীকে নিজের সঙ্গে আনা জিনিস সম্পর্কে কাস্টমস ঘোষণা করতে হয়।
Visit Japan Web ব্যবহার করলে QR দিয়ে ইলেকট্রনিকভাবে করা যায়।
না করলে কাগজের ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থাও আছে।
মাংস, ফল, গাছপালা বা নিষিদ্ধ কোনো জিনিস লুকানোর চেষ্টা করবেন না।
সন্দেহ হলে ঘোষণা করুন এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করুন।
━━━━━━━━━━━━━━━
১৪. এবার এয়ারপোর্ট থেকে বের হবেন
কাস্টমস শেষ হলেই আপনি অ্যারাইভাল লবিতে চলে আসবেন।
এখান থেকে:
• স্কুলের প্রতিনিধি নিতে আসতে পারেন
• ট্রেন বা বাস ধরতে পারেন
• সিম বা ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে পারেন
• আগে থেকে ঠিক করা বাসায় যেতে পারেন
প্রথম দিনেই অচেনা কারও কথায় গাড়িতে উঠবেন না।
স্কুল যদি পিকআপের ব্যবস্থা করে, আগে থেকেই ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের তথ্য রেখে দিন।
━━━━━━━━━━━━━━━
সবচেয়ে সহজভাবে পুরো পথ
ঢাকা এয়ারপোর্টে প্রবেশ
↓
এয়ারলাইন চেক-ইন
↓
লাগেজ জমা + বোর্ডিং পাস
↓
বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন
↓
নিরাপত্তা পরীক্ষা
↓
বোর্ডিং গেট
↓
ফ্লাইট বা ট্রানজিট
↓
জাপান ইমিগ্রেশন
↓
রেসিডেন্স কার্ড
↓
প্রয়োজনে পার্ট-টাইম কাজের অনুমতি
↓
লাগেজ সংগ্রহ
↓
কাস্টমস
↓
জাপানে আপনার নতুন জীবন শুরু 🇯🇵
প্রথমবার বলে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
কাগজপত্র ঠিক রাখুন, সময় হাতে রাখুন, সাইনবোর্ড অনুসরণ করুন এবং বুঝতে না পারলে এয়ারপোর্ট কর্মীদের জিজ্ঞেস করুন।
পরবর্তী পর্ব:
জাপানে পৌঁছানোর পর প্রথম দিন ও প্রথম সপ্তাহে যে কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে।
রেসিডেন্ট রেজিস্ট্রেশন, মাই নাম্বার, স্বাস্থ্যবিমা, ব্যাংক, ফোন, স্কুল এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে থাকবে ৩য় পর্ব।
সূত্র: Hazrat Shahjalal International Airport, Immigration Services Agency of Japan, Japan Customs, Study in Japan
Copy from JUAAB Student Help for Japan