21/07/2026
✈️ ক্যাব (CAAB) সার্কুলার ২০২৬: প্রস্তুতি গাইডলাইন ও আপনাদের সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসার উত্তর
শুরুতেই বলে রাখি- নিচের তথ্যগুলো বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক/CAAB)-এ বর্তমানে কর্মরত একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নেওয়া। কোথাও কোনো ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, শুধরে দেওয়ার অনুরোধ রইলো।
আর প্রিলির প্রশ্নব্যাংক কমেন্টে দিয়ে দিচ্ছি, দেখে নিতে পারেন।
বেবিচক নিয়ে একটু সাধারণ ধারণা
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাই CAAB। এদের কাজ- আকাশপথে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ (এয়ার ট্রাফিকিংসহ), পাইলট/এয়ারক্রাফট/এয়ারলাইন/উঁচু দালান সংক্রান্ত লাইসেন্স-অনুমোদন দেওয়া, দেশের সব বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ, আর বিমানবন্দরে কর্মরত অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা। CAAB জাতিসংঘের ICAO-এর সদস্য, তাদের সব আন্তর্জাতিক নীতি মেনে চলে।
মোট আটটা বিমানবন্দরে বেবিচকের লোকজন পোস্টিং পান- ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আর রাজশাহী, বরিশাল, যশোর, সৈয়দপুর, কক্সবাজারের অভ্যন্তরীণ পাঁচটা।
বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী। সাথে পাবেন-
• পেনশন সুবিধা
• ওভারটাইম (কর্মচারীদের জন্য)
• আবাসন সুবিধা
• ট্রান্সপোর্ট সুবিধা (ঢাকার জন্য)
• সরকারি চাকরির প্রায় সব সুযোগ-সুবিধাই এখানে আছে
নন-অপারেশনাল ডিপার্টমেন্টে (অ্যাডমিন, ফিন্যান্স) ৯টা-৫টা অফিস, কিন্তু অপারেশনাল ডিপার্টমেন্টে (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, সিকিউরিটি) পালাক্রমে রাত-দিন ডিউটি করতে হয়। ট্রেনিং সিভিল এভিয়েশন ট্রেনিং একাডেমিতে হয়, মাঝে মাঝে দেশের বাইরেও যেতে হতে পারে।
পদভিত্তিক কাজ, যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধা (৯ম/১০ম গ্রেড)
১. এরোড্রোম কর্মকর্তা (৯ম গ্রেড) / এরোড্রোম সহকারী (১০ম গ্রেড)- এয়ারপোর্ট টার্মিনাল, রানওয়ে, লাইটিং সিস্টেম, এয়ার কার্গো, প্যাসেঞ্জার পাসিং নিয়ে কাজ। মূলত এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট- এক জায়গা থেকে ফোনে বিমানের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা। যোগ্যতা: পদার্থবিজ্ঞান/গণিত বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর।
• অতিরিক্ত ভাতা আছে, সাধারণত ৫,০০০-২০,০০০ টাকার মধ্যে (অভিজ্ঞতাভেদে), গড়ে প্রায় ১০,০০০ টাকা ধরে রাখতে পারেন।
• মজার দিক- এই পদ থেকে বিভিন্ন এয়ারপোর্টের হেড হওয়ার সুযোগ আছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের হেডকে ডিরেক্টর, ডোমেস্টিকেরটাকে ম্যানেজার বলা হয়। যেসব এয়ারপোর্ট বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলোর প্রধান সাধারণত এরোড্রোম কর্মকর্তা থেকেই হয়।
২. প্রোকিউরমেন্ট অফিসার- বিভিন্ন কেনাকাটা-সংক্রান্ত কাজ, তেল কেনা থেকে ছোটখাটো মেরামত পর্যন্ত। মেজর প্রোকিউরমেন্টগুলো হয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে। এখানে বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
৩. সিনিয়র অফিসার- মূলত অ্যাডমিন-এইচআর সংক্রান্ত পদ। যেকোনো প্রতিষ্ঠানে অ্যাডমিন-এইচআরের আলাদা প্রভাব থাকে, এখানেও তাই।
৫. সিএনএস প্রকৌশলী- এয়ারপোর্টের কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ও সার্ভিসিং ইকুইপমেন্ট নিয়ে কাজ, মূলত সিকিউরিটি ইকুইপমেন্ট মেরামত।
৬. সহকারী/উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল/ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল/সিএনএস)- রানওয়ে মেইনটেন্যান্স, লাইটিং ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স, বোর্ডিং ব্রিজ, ট্রান্সপোর্ট মেইনটেন্যান্স, সিভিল ওয়ার্কস- নিজস্ব জনবল দিয়ে করানো বা তদারকি করাই মূল কাজ।
৭. নিরাপত্তা কর্মকর্তা- পদ সংখ্যা কম হলেও কাজ করে মজা পাবেন, উচ্চপদস্থ থেকে নিম্নপদস্থ সব ধরনের মানুষের সাথে ওঠাবসা হবে, এটা একটা আলাদা আকর্ষণ। কাজ মূলত এভিয়েশন-এয়ারক্রাফটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত (যেমন ক্ষতিকর জিনিস বহন থেকে যাত্রীদের বিরত রাখা)। এই পদে প্রিলি-লিখিত-ভাইভা ছাড়াও শারীরিক ও মেডিক্যাল টেস্টে পাস করতে হয়, নিয়োগের পর বেসিক ট্রেনিংয়ের সাথে সিকিউরিটি ট্রেনিংও করতে হয়।
৮. হিসাব সহকারী (১৪তম গ্রেড) / নিরাপত্তা অপারেটর (১৪তম গ্রেড) / সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী (১৭তম গ্রেড) / অফিস সহায়ক (২০তম গ্রেড)- হিসাব সহকারী ও অফিস সহায়ক প্রশাসনিক কর্মচারী, নিরাপত্তা অপারেটর স্ক্যানিং মেশিন-মেটাল ডিটেক্টরের মতো ইকুইপমেন্ট অপারেট করেন, সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী নিরাপত্তা শাখার কর্মচারী। নিরাপত্তা শাখার কর্মচারীদের বেসিক ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি সিকিউরিটি ট্রেনিংও করতে হয়।
বেতন কেমন? ৯ম গ্রেডে বর্তমান স্কেলে মোটামুটি ৪০,০০০ টাকার মতো, ১০ম গ্রেডে ২৮,০০০-৩০,০০০ টাকার মতো- এর বাইরে খুব বেশি না। পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফ- সবই বর্তমান আছে।
প্রমোশন কেমন? সব পদেই প্রমোশন তুলনামূলক স্লো। সাত বছর পর পরের গ্রেডে (ষষ্ঠ গ্রেড, মানে এডি) যাওয়া যায়, তার পরের পাঁচ বছরে পঞ্চম গ্রেডে (ডিডি)। চতুর্থ গ্রেড/ডিরেক্টর পর্যন্তও যাওয়া যায়, কিন্তু এসব পদের সংখ্যা খুবই সীমিত। উপরের পদে বিমান বাহিনী আর অ্যাডমিন ক্যাডারের কিছুটা আধিপত্য থাকায় অন্যান্য কর্মকর্তারা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেন না।
একটা তথ্য যোগ করি- কিছুদিন আগে একটা রিপোর্টে এসেছিল, ২০২১ সালে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই এখনো স্থায়ীকরণ হননি, বেতন-ভাতা-ইনক্রিমেন্ট নিয়েও কিছু সমস্যা আছে। ২০২২ সালের দিকে সম্ভবত নতুন অর্গানোগ্রাম হয়েছে এছাড়া, নতুন টার্মিনাল/এয়ারপোর্ট চালু হলে প্রমোশন স্মুদ হবে বলে আশা করা যায়। তবে অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় একটু বেশি সময় লাগে।
লাঞ্চ ভাতা আগে ছিল, ২০১৯ সালে অডিট আপত্তির পর সম্ভবত এখনো বন্ধ আছে। চালু হওয়ার সম্ভাবনা এখন কম হলেও চেষ্টা চলমান।
পরীক্ষার প্যাটার্ন
বেশিরভাগ পদের প্রিলি একই রকম- নন-টেকনিক্যাল প্রশ্ন থেকে আসে:
• বাংলা- ২০
• ইংরেজি- ২০
• গণিত- ২০
• সাধারণ জ্ঞান- ২০
মোট ৮০টা প্রশ্ন কিন্তু নম্বর ১০০, মানে প্রতিটা প্রশ্নের মান ১.২৫। যেহেতু CAAB-এর পরীক্ষা, বাংলাদেশ ও দেশি-বিদেশি বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রশ্নও আসে। এক্সাম সাধারণত CAAB নিজেই নেয়।
এরোড্রোম কর্মকর্তা/সহকারী পদে প্রিলি (১০০) হয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান থেকে (পিএসসির নন-ক্যাডার প্রশ্নের ধাঁচে)। লিখিততে (১০০) বাংলা-ইংরেজি-সাধারণ জ্ঞানের এককথায় উত্তরের প্রশ্ন থাকে মোট নম্বরের ২৫%, বাকি ৭৫% গণিত/পদার্থবিজ্ঞানের অঙ্ক বা সংক্ষিপ্ত থিওরি থেকে।
সিনিয়র অফিসার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদে প্রিলি (১০০) বাংলা-ইংরেজি-গণিত-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সাধারণ জ্ঞান থেকে, লিখিত (১০০) বাংলা-ইংরেজি-গণিত-সাধারণ জ্ঞান থেকে (পিএসসি নন-ক্যাডার প্যাটার্নে)।
ইঞ্জিনিয়ারিং পদগুলোতে (সিভিল/ইএম/সিএনএস) লিখিততে আলাদা টেকনিক্যাল প্রশ্ন হয়, এমসিকিউতে সাধারণত টেকনিক্যাল কিছু থাকে না। প্রিলিতে পাস করলে লিখিততে ৮০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে- সাবজেক্টিভ হলে গণিত/পদার্থবিজ্ঞান থেকে নিজের সাবজেক্ট অনুযায়ী প্রায় ৩০ নম্বর, সাধারণ গণিত ২০, বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫।
হিসাব সহকারী/নিরাপত্তা অপারেটর/সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী/অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারী বেশি হলে প্রিলিও হতে পারে (১০০ নম্বর, একই বিষয় থেকে), লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বরের এককথায় উত্তরের।
সব পদেই লিখিততে টিকলে ১০-১৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হয়। যেহেতু বেশিরভাগ প্রশ্ন জব সলিউশন বেসড, কাটমার্কস অনেক বেশি হয়- কিছু ক্ষেত্রে ৮০% বা তার বেশি নম্বরও পেতে হয়।
পরীক্ষার জন্য কী কী পড়বেন?
১. প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি (নন-টেকনিক্যাল অংশ):
• বাংলা: ব্যাকরণ অংশের জন্য ৯ম-১০ম শ্রেণির বোর্ড বই এবং যেকোনো মানসম্মত বিসিএস প্রিলি বাংলা ব্যাকরণ বই। সাহিত্য অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম।
• ইংরেজি: Grammar Parts (Vocabulary, Idioms & Phrases, Prepositions, Correction, Synonym/Antonym, Translation etc.)। বিগত বছরের বিসিএস ও নন-ক্যাডার প্রশ্ন সলভ করলে বেশ কমন পাওয়া যায়।
• গণিত: ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বই (বীজগণিত, পাটিগণিত ও জ্যামিতির বেসিক সূত্রাবলি) এবং বিসিএস প্রিলির বিগত বছরের প্রশ্ন।
• সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক): বিসিএস প্রিলির সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান বই/মান্থলি কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স।
• স্পেশাল পার্ট (এভিয়েশন ও ক্যাব): বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল (ICAO), বেবিচকের ইতিহাস, দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরসমূহ, এয়ারলাইন্স কোড এবং সাম্প্রতিক এভিয়েশন নিউজ।
• জব সলিউশন: যেহেতু প্রিলির প্রশ্ন জব সলিউশন ভিত্তিক বেশি হয়, তাই যেকোনো আপডেট জব সলিউশন থেকে বিসিএস এবং পিএসসির নন-ক্যাডার বিগত ৩-৪ বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে শেষ করতে হবে।
২. লিখিত প্রস্তুতি (সাবজেক্টিভ ও টেকনিক্যাল পদের জন্য):
• এরোড্রাম কর্মকর্তা / নিরাপত্তা কর্মকর্তা: পদার্থবিজ্ঞান বা গণিত ভিত্তিক পদের জন্য HSC/অনার্স ১ম ও ২য় বর্ষের মূল টেকনিক্যাল কনসেপ্ট/অংকগুলো রিভিশন দেওয়া জরুরি। নন-টেকনিক্যালের জন্য বিসিএস লিখিত/নন-ক্যাডার লিখিত প্রস্তুতির বই বা প্রশ্ন সলভ করতে পারেন।
• সহকারী/উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল/ইএম/সিএনএস): নিজ নিজ ডিপার্টমেন্টের কোর সাবজেক্টের টেকনিক্যাল বিষয় ও অঙ্ক (যেমন: SAE/AE নিয়োগ পরীক্ষার গাইড বা বিসিএস লিখিত ইঞ্জিনিয়ারিং পার্ট)।
কমন প্রশ্নোত্তর
১. একাধিক পদে আবেদন করা যাবে? হ্যাঁ যাবে, তবে অধিকাংশ পদের পরীক্ষা একসাথে হওয়ার কারণে একাধিক পদে আবেদন করলে খুব একটা বেশি লাভ হবে না।
২. পুরো প্রক্রিয়া কতদিনে শেষ হয়? পরীক্ষা কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও প্রিলি-লিখিত-ভাইভার মধ্যে সময় খুবই কম, মোটামুটি এক মাসের মধ্যেই সব ধাপ শেষ হয়ে যায়। সাধারণত প্রিলির দিনই রেজাল্ট দিয়ে দেয়, এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে রেজাল্ট আর ভাইভার ডেটও দিয়ে দেয়। এক মাসের বেশি লাগে না সাধারণত।
৩. নিয়োগ ফেয়ার হয়? হ্যাঁ, নিয়োগ ফেয়ার হয়, এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ভালো পরীক্ষা দিলে সুযোগ পাবেন।
৪. ক্যাব নাকি ব্যাংক? প্রমোশন আর আর্থিক সুবিধার হিসেবে ব্যাংক অবশ্যই এগিয়ে। কিন্তু ব্যালেন্সড লাইফ, নেটওয়ার্কিং আর কম কাজের প্রেশারের হিসেবে CAAB সেরা পছন্দ হতে পারে।
একটা এক্সট্রা আপডেট - BA AD প্রিলির রেজাল্ট রেডি!
আবেদন শুরুর তারিখ: ২৭ জুলাই ২০২৬ (সকাল ১০:০০ টা)
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ (বিকেল ০৫:০০ টা)
সম্পূর্ণ সার্কুলার ও প্রিলির প্রশ্নব্যাংক কমেন্টে দিয়ে দিচ্ছি, দেখে নিতে পারেন। 👇