12/03/2026
মেডিকেলে প্রাক্টিসিং মুসলিমদের মধ্যে ফিকহের একটা মাসয়ালা খুব পপুলার, সেটা হচ্ছে এমন - "আপনি বোনস ক্রয় বিক্রয় করতেছেন এই ভেবে যে- এটা আপনার জরুরত, এটা ছাড়া পাশ করা সম্ভব না এবং জরুরত এর ক্ষেত্রে ইসলাম ছাড় দিয়েছে।"
ওয়েল, কিন্তু আপনি কতটুকু বুঝার চেষ্টা করেছেন যে, এই বোনস সেটটির সোর্স কি?
সচারাচর এই প্রশ্নের কমন আন্সার হয়-
মরোনোত্তর দান কিংবা বেওয়ারিশ লাশ থেকে।
কিন্তু আপনি পুরো মেডিকেল লাইফে এমন কেস খুবই সীমিত পাবেন যে - কোনো ব্যক্তি মেডিকেলে এসে বলে গেছে মৃত্যুর পর তার বোনস যেন শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কিংবা এমন লাশও খুব কম পাবেন যার মরদেহ নেয়ার জন্য হসপিটালে কেউ আসেনি।
তাহলে নিজেকে সেই প্রশ্নটা আবারও একবার করুন তো- যে এত এত বোনস মেডিকেলে কোত্থেকে আসে?
উত্তর নিজেই পেয়ে যাবেন, না পেলে মাঝে মাঝে নিউজে চোখ বুলাবেন, উত্তর নিজেই আপনার কাছে ধরা দিবে। বিভিন্ন কবরস্থান থেকে লাশ চুরি করা / কবর খুড়ে তুলে আনা বোনস ই হচ্ছে প্রধান সোর্স। এরপর সেগুলোকে কোনো একটা মেডিকেলের হোস্টেলে বিক্রি করা হয় চড়া দামে (৩০-৪০ হাজার) এবং একটা সাইকেল ক্রিয়েট হয় সিনিয়র টু জুনিয়র।
আপনি বিশ্বাস না করলেও এটা সত্য যে- এধরনের প্রতিটি চোর চক্রে ডিরেক্ট বা ইন্ডাইরেক্টলি মেডিকেল স্টুডেন্টদের একটা চক্র জড়িত থাকে। বিগত প্রতিটি নিউজ তাই বলে।
তাহলে এখন বলুন তো ইসলামের কোন স্কুল অব থট আপনাকে অনুমতি দিবে অন্যের লাশ চুরি করে শিক্ষার জরুরত মিটাবার?
এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় বোনস ব্যাংক। আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে যাতে কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহকে এতটুকু বলতে পারি যে - আমরা অন্তত চেষ্টা টুকু করেছিলাম এই সিন্ডিকেট থেকে বের হতে।
(ডিসক্লেইমার - এই পোষ্টটি কেবল মাত্র প্রাক্টিসিং মুসলিমদের জন্য। যাদের কাছে নিজ সেক্টরের ফিকহের মাসয়ালা খুব ছোটখাটো বিষয়, তাদের সাথে তর্ক করার সময় নেই)
©Mehedi Hasan Nayem