অসম্ভবকে সম্ভব করার একটা আমল বলি। আপনার কোনো কিছুর খুব প্রয়োজন হয়েছে। ওটা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না। ধরেন, টাকা বা অন্যকিছুর জরুরত হয়েছে খুব। কোনো উপায় নেই, কী করবেন বুঝতে পারছেন না।
উঠুন। সুন্দর করে ওযু করুন। উত্তম রূপে দরুদ ও ইসতেগফার পাঠ করুন। অতঃপর, সেই জরুরতটা মাথায় রেখে দুই রাকাত সালাতুল হাজত আদায় করুন। সালাত শেষে আবার দরুদ ও ইসতেগফার পাঠ করে রবের কাছে আকুতি মিনতি করে দোয়া করুন।
যদি সেটা আপনার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে নিশ্চিত আপনার সেই জরুরতটা পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। এটা পরীক্ষিত আমল।
—মাহমুদ বিন নুর
Rahe Hidayah Online Quran Academy
অফিসে কিংবা বাসায় বসে সহিহ ভাবে, তাজবীদ সহ কুরআন শিক্ষা করুন আমাদের কাছে
হাসান বসরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
ছয় ভাবে অন্তর কলুষিত হয় :
১. একসময় তাওবা করে নেব, এই আশায় গুনাহ করা।
২. জ্ঞান অর্জন করেও তা প্রয়োগ না করা।
৩. নিষ্ঠাবিহীন আমল।
৪. আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে তাঁর দেওয়া রিযিক ভোগ।
৫. আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত ফয়সালায় (অর্থাৎ তাকদীরের ওপর) সন্তুষ্ট না হওয়া।
৬. মৃতকে কবর দিয়েও কোনো শিক্ষা না নেওয়া।
[সূত্র : আল- মুনাব্বিহাত, ৭৩]
দুর্বল ঈমানের পাঁচটি আলামত—
(১) আল্লাহ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে সন্তুষ্ট করা।
(২) আল্লাহ পাকের দেয়া রিযিক ভোগ করে আল্লাহর নাফরমানী করা ও অসৎ লোকদের গুণগান করা।
(৩) আল্লাহ তায়ালা যে জিনিস দেননি, এর ব্যাপারে মানুষকে দোষারোপ করা।
(৪) দোয়া কবুল হবে এই বিশ্বাস কম হওয়া।
(৫) মানুষের সামনে আমল করা কিন্তু একাকী থাকা অবস্থায় আল্লাহকে ভুলে যাওয়া!
— সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.)
[সূত্র : হায়াতুস সাহাবা, ৪র্থ খন্ড]
দিল সাফ রাখা ও ফেরেশতাদের দুআ পাওয়ার অন্যতম সহজ উপায় হলো-নিজের পাশাপাশি অন্যের কল্যাণের জন্যও দুআ করা!
অন্যের জন্য দুআ করতে না লাগে শরীরের শক্তি, না লাগে টাকার জোর! যত বেশি অন্যের জন্য দুআ করবেন, তত বেশি নিজের দুআ কবুল হতে শুরু করবে। অপরের জন্য দুআকারী ব্যক্তির অন্তরে সহজে হিংসা (হাসাদ) ঠাঁই পায় না। তাই তার অন্তর থাকে পরিষ্কার। পরিষ্কার ও পরিশুদ্ধ অন্তরে করা দুআ খুব দ্রুত কবুল হয়।
আর আল্লাহর নিষ্পাপ সৃষ্টি ফেরেশতাদের দুআ পাওয়াটাও বিশেষ মর্যাদার বিষয় বটে! অন্যের জন্য কল্যাণ চাইলে একই কল্যাণ চেয়ে ফেরেশতারা আপনার জন্য দুআ করবে। আমাদের রব তো দেওয়ার ক্ষেত্রে অতি প্রশস্ত। তিনি যাকে ইচ্ছা বাড়িয়ে দেন। হতে পারে, আপনি অপরের জন্য কল্যাণ চাইলে রব আপনাকে বহুগুণ কল্যাণ দান করবেন।
শুধুমাত্র তিনটি জিনিসের জন্য রবের কাছে বান্দার হিসাব দিতে হবে না।
(১) লজ্জাস্থান হেফাজতের জন্য এক টুকরা কাপড়
(২) বেঁচে থাকার জন্য যৎসামান্য খাবার
(৩) মাথা গোজার মত একটি ঘর। এছাড়া সবকিছুর হিসাবই কেয়ামতে বান্দাকে দিতে হবে।
হযরত হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ।
[কিতাবুয যুহদ : ২২১]
নামাজ অবহেলা করা কত ভয়ংকর একবার ভেবে দেখুন⁉️
রাসূল (সাঃ) মিরাজের রাতে দেখলেন,এক ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বার বার চূর্ণ করা হচ্ছে।
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন উনি কে,? জিবরাঈল (আঃ) বললেন।
এই সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিখে তা পরিত্যাগ করেছে , এবং ফরজ সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকতো..!
(সহিহ বুখারী:-৭০৪৭)
তাওয়াক্কুল হলো এমন এক বিশ্বাস—
যেখানে পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, হৃদয় তবুও বলে:
“আমার আল্লাহ অবশ্যই আমার জন্য উত্তম কিছুই নির্ধারণ করবেন।”
সবকিছু ভেঙে পড়লেও, দরজাগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও, একজন মুমিন আশা হারায় না।
কারণ সে জানে, তার রবের পরিকল্পনা তার নিজের চাওয়ার চেয়েও সুন্দর।
আল্লাহর কাছে সবসময় উত্তম কিছুর আশা রাখো।
কারণ তিনি তোমার ধারণার চেয়েও বেশি দয়ালু, বেশি রহমতশীল।
তুমি হয়তো শুধু আজকের কষ্ট দেখছো, কিন্তু আল্লাহ দেখছেন তোমার পুরো ভবিষ্যৎ।
তাই ভয় নয়, ভরসা রাখো।
দেরি হলেও আল্লাহ কখনো বান্দাকে ভুলে যান না।
আর যে হৃদয় আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে সামলে নেন—যা সে কল্পনাও করতে পারে না।
সংগৃহীত
দোয়া কবুলের গল্প⁉️
ছয় মাস যাবৎ রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করেছি। কিন্তু কোনভাবেই দোয়া কবুল হচ্ছিল না। মাঝে মাঝে শয়তানের ধোঁকায় অনেক হতাশ হয়ে যেতাম। আবার ধৈর্য ধরে দোয়া করতাম। কখনো কখনো এমনও হতো, আসার আলো দেখতাম, কিন্তু পরে আবার হতাশ হয়ে যেতাম। তবে এত ঝামেলার পরেও আমার স্বামী কখনোই ধৈর্য হারায়নি। বরং আমাকে বোঝাতো, আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে বলতো আর ধৈর্য ধরতে বলতো।
তারপর হঠাৎ একদিন নিচের আমলটি আমার চোখে পড়ে। এশার নামাজের পর দরুদ শরীফের আমল করতাম ১০০বার এবং “লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” ৪৯৯ বার, লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিউল আজীম ১ বার — এ আমলটি করতাম, এবং সবসময় ইস্তেগফারের আমল করতাম। এরপর থেকে, আলহামদুলিল্লাহ, আমার রিজিকের পথ খুলতে শুরু করে। আলহামদুলিল্লাহ, মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন আমল করার পরেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার সকল দোয়া কবুল করেন। যদিও এই আমল টানা ৪০ দিনের কথা বলা হয়।
-Tayyebah-তাইয়্যেবাহ
26/05/2026
|| তাকবিরে তাশরিক ও এর গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ||
তাকবিরে তাশরিক পাঠের সময়সীমা:
৯ই জিলহজ ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ই জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
পড়ার নিয়মাবলি:
পুরুষদের জন্য: উচ্চৈঃস্বরে একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব।
নারীদের জন্য: নিচু স্বরে পড়া ওয়াজিব, অর্থাৎ এতটুকু শব্দ করে পড়বে যাতে কেবল নিজেই শুনতে পায়।
(ফতোয়ায়ে শামী: ২/১৭৮, ফতোয়ায়ে আলমগীরী: ১/৩৭০)
যাদের ওপর ওয়াজিব:
নিম্নোক্ত সকল অবস্থায় ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব—
নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়া হোক বা একাকী।
নির্ধারিত ওয়াক্তে পড়া হোক বা কাজা হিসেবে।
নামাজি ব্যক্তি মুকিম (স্থানীয়) হোক বা মুসাফির।
শহরের বাসিন্দা হোক বা গ্রামের।
(দুররে মুখতার: ২/১৮০)
ভুলে গেলে করণীয়:
ফরজ নামাজের পর তাকবির বলতে ভুলে গেলে, যখনই স্মরণ হবে সাথে সাথে তাকবির পড়ে নিতে হবে।
সতর্কতা: তবে নামাজের বিপরীত কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে (যেমন— কথা বলা বা নামাজের স্থান থেকে উঠে পড়া ইত্যাদি) তখন আর তাকবির বলা যাবে না। বরং ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার বা তওবা করতে হবে।
(শামি: ৬/১৭৯)
26/05/2026
📌📌📌
*পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটির ঘোষণা*
Click here to claim your Sponsored Listing.