18/07/2026
আচ্ছা নামাজের শুরুতেই যে 'সানা' নামের একটা ছোট্ট তাসবিহ পড়ছেন, এটার মানে কি আসলে? কোনোদিন ভেবে দেখেছেন? আজকে একটু ভাবুন প্লিজ। আপনাকেই দাওয়াত দিচ্ছি।
নামাজ শুরুর পর পর আপনি পড়ছেন,
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ، وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَىٰ جَدُّكَ، وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ।
“সুবহানাকাল্লাহুম্মা, ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।”
অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আপনি সব ত্রুটি থেকে পবিত্র। সব প্রশংসা আপনার জন্য। আপনার নাম বরকতপূর্ণ। আপনার মহিমা সর্বোচ্চ। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
নামাজের শুরুতেই এই সানা একজন বান্দাকে এই পৃথিবীতে তার আসল জায়গাটি মনে করিয়ে দেয়। সে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে স্বীকার করে, হে আল্লাহ, আপনি তো ত্রুটিহীন; আর এই আমি আমি ত্রুটিতে ভরা। আপনি প্রশংসার যোগ্য; আর আমি? আমি তো মানুষের প্রশংসার জন্য সৃষ্টি হইনি, আমি আপনার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি হয়েছি। জীবনে আমাদের অনেক কষ্ট আসে এই দুই জায়গা থেকে, যখন আমি নিজেকে নিখুঁত করতে না পারার জন্য হতাশ।এবং মানুষের কাছ থেকে যথেষ্ট মূল্যায়ন না পাওয়ার আমি পাচ্ছি কষ্ট। অথচ নামাজের শুরুতে এই সানা আমাদের শেখায়, পূর্ণতা আল্লাহর গুণ, আর সত্যিকারের প্রশংসাও আল্লাহর জন্য।আমার যেন হতাশ না হই।
এরপর আমরা বলি, “ওয়া তাবারকাসমুকা” —ও আল্লাহ! আপনার নাম বরকতপূর্ণ। আল্লাহ যার জীবনে বরকত দেন, তার অল্প সময়েও কল্যাণ আসে, অল্প আমলও ভারী হয়ে যায়। নামাজও এমনই এক বরকতময় ইবাদত। সময় লাগে অল্প, কিন্তু ঠিকভাবে আদায় করলে এই নামাজই মানুষের দিন, মন, চরিত্র আর জীবনে গভীর সুন্দর পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
তারপর আমরা বলি, “ওয়া তাআলা জাদ্দুকা” —আল্লাহআপনার মহিমা সর্বোচ্চ। আমাদের কত ইচ্ছা, কত পরিকল্পনা, কত না পাওয়ার কষ্ট! কিন্তু সানায় আমরা স্বীকার করি, আল্লাহ, আমার এত শত ইচ্ছার চেয়েও আপনার সিদ্ধান্ত বড়। আমার চাওয়ার চেয়ে আপনার জ্ঞান বড়। আমি আজ যা বুঝি না, আপনি তার শেষ পরিণামও জানেন। যে বান্দা এই কথাটা বুঝে পড়ে, না পাওয়ার কষ্ট তার অন্তরকে ভেঙে দিতে পারে না। সবশেষে আমরা বলি, “ওয়া লা ইলাহা গাইরুক” —আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অর্থাৎ, আল্লাহ, আমি আপনার সামনে মাথা নত করলাম; আমার নফসের সামনে আমি ঝুঁকছি না, সামাজিকতা রক্ষার নামে গুনাহ করার ফাঁদে আমি পা দিচ্ছি না,মানুষের কথায় আমি ভয় পেয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছি না, শয়তানের কুমন্ত্রণার সামনেও আমি নত স্বীকার করছি না। আমি আপনার হুকুমের চেয়ে বড় করে কোনো চাওয়া, ভয়, সম্পর্ক বা দুনিয়ার কাজকে রাখব না।
চিন্তা করে দেখুন, এগুলোই কিন্তু আপনি বলছেন নামাজে দাঁড়িয়ে, তাই না? বলছেন তো? নাকি আপনার ঠোঁট বলছে এক জিনিস, আর মন বলছে আরেক কথা?
নাকি নামাজে যা উচ্চারণ করছেন, সেদিকে মাথাই নেই? আপনি ভাবছেন অমুকের ঘরের খবর? নামাজে এই চমৎকার কথাগুলো বুঝে বুঝে বলার পরে নামাজ শেষ করেই কীভাবে এমন কাজে ফিরে যাই যা আল্লাহ পছন্দ করেন না?
এটা নামাজের দুর্বলতা না; এটা আমাদেরই দুর্বলতা। নামাজ তো আমাদের বদলাতেই আল্লাহ দিয়েছেন। আমরাই নামাজকে শুধু 'পড়ার' মধ্যে রেখে দিই, নামাজ প্রতিষ্ঠা করি না। আল্লাহ আমাদের এমনভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দিন, যে নামাজ আমাদের অন্তর, আচরণ, ইবাদত আর আখলাক বদলে দেয়। দুনিয়াতে আমাদের শক্তিশালী মুমিন করে এবং আখিরাতে জান্নাতি বান্দাদের বাগানে মিলিত করে! আমিন।
—শারিন সফি আদ্রিতা