03/11/2025
🏴বাংলাদেশের ইতিহাসে ৩ নভেম্বর একটি শোকাবহ কালো অধ্যায়।
১৯৭৫ সালের এই দিনে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের চারজন শীর্ষ নেতাকে। তাঁরা হলেন
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- তাজউদ্দীন আহমদ
- ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই চার নেতা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। তাঁরা ছিলেন অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীপরিষদের মূল স্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব তাঁদের হাতেই গড়ে উঠেছিল। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজেও তাঁদের ভূমিকা ছিল অগ্রণী।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর, তাঁরা আটক অবস্থায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। ভোররাতে সেনাবাহিনীর একদল সদস্য কারাগারে প্রবেশ করে তাঁদের ওপর গুলি চালায় এবং বেয়নেট দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে হত্যা করে।
ইতিহাসে এই নির্মম ঘটনাই 'জেলহত্যা' নামে পরিচিত।
ঘটনাটি সংঘটিত হয় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, ভোর ৪টা থেকে ৪টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরাতন ভবনের নির্জন সেলে।
এটি ছিল এক পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
তবুও রয়ে গেছে অনেক প্রশ্ন, অনেক ক্ষত।
জাতীয় এই চার নেতা ছিলেন—
▪️ সৈয়দ নজরুল ইসলাম: বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
▪️ তাজউদ্দীন আহমদ: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারক।
▪️ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী: মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
▪️ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান: মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র, কৃষি ও ত্রাণমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সভাপতি।
📍 স্থান: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
📅 তারিখ: ৩ নভেম্বর ১৯৭৫
সময়: ভোর ৪:০০ – ৪:৩৫ টা।
নিহত: ৪ জন জাতীয় নেতা।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
তাঁদের ত্যাগ, সততা ও দেশপ্রেম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁদের অবদান অমর হয়ে আছে, সময়ের স্রোতেও মুছে যাবে না এই দিনটির কালো ছায়া।