08/10/2025
যতদিন যাচ্ছে আমাদের বাইরে পড়তে যাবার রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হয়ে আসছে। একটার পর একটা দেশ তাদের ইমিগ্রেশন পলিসি পরিবর্তন করেই চলেছে।
আমাদের মধ্যে যাদের মোটামুটি ভাল একটা সিজিপিএ ছিল, কিন্তু ফিন্যান্সিয়ালি হাই ইনভেস্টমেন্ট করার সামর্থ্য ছিল না, অস্ট্রিয়া আমাদের জন্য ছিলো সবচেয়ে পছন্দের ডেস্টিনেশন। বিভিন্নভাবে জোড়াতালি দিয়ে ৬০-৭০ হাজার টাকা + ৬-৮ মাস অর্থাৎ মূল্যবান সময়+অনিশ্চয়তা থাকার পরও এতগুলো টাকা ইনভেস্ট করে লিগালাইজেশন করিয়ে এখন আর সামনে এগুতে পারছে না। কারণ মাস্টার্স এডমিশনের জন্য রিকোয়েরমেন্ট করে দিয়েছে সিজিপিএ ৩.৫+ আর ইংরেজি টেস্ট স্কোর প্রতি ব্যান্ডে ৭।
যাদের গড়পড়তা ভাল এমাউন্ট ছিল, ব্যাংক সল্ভেন্সি ছাড়াই ডেনমার্কে যাওয়াটা অনেক সহজ অপশন ছিলো। শেষ আপডেটে ডেনমার্কের কথা কারো এখন আর অজানা নয়। এটা যারা সামনের বছরে যাবার প্ল্যান করেছিলো, তাদের জন্য যেমন আশা ভংগের ব্যাপার, তারচেয়েও ভয়াবহ অবস্থায় পড়ার সম্ভাবনাতে আছেন আমাদের যে ভাই-বোনগুলো ওখানে এখন আছেন।
আমেরিকা, কানাডার কথা আর নাই বা বললাম।
দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার রাস্তাগুলো কি আদৌ খোলা আছে?
যেখানে অনেক দেশেই যাওয়ার রাস্তা বন্ধপ্রায়, সেখানে কিন্তু কিছু দেশ আবার সামনে এগিয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশীদের এসেসমেন্ট/এভিডেন্স লেভেল কে ২ থেকে লেভেল ১ এ নিয়ে আসছে। যার মানে কম ডকুমেন্টেশন আর অল্প সময়ে ভিসা চলে আসবে। নিউজিল্যান্ড আগস্ট ২০২৬ থেকে মাস্টার্স করে জব অফার পেলেই পি-আর এলিজিবল করে দিচ্ছে।
সময় এসেছে, কথায় কথায় এজেন্সিতে দৌড় দেয়ার আগে, আমাদের ঠান্ডা মাথায় নিজের অবস্থান বিবেচনা করা। কোন কোন দেশ আমার জন্য, আমার অবস্থান থেকে যাওয়া সুবিধাজনক হবে, সেটা বুঝে মাঠে নামা। এর জন্য শুধু ২ টা প্রশ্ন নিজেকে করলেই আসলে দেশ নির্বাচন সহজ হয়ে যায়।
প্রথমত, ডকুমেন্টস। অনেকেই ভাবেন এপ্লাই করতে সময় আছে ৬ মাস। এপ্লাই করার আগে আগে সব ম্যানেজ করে ফেলবো। কিন্তু আমরা যেটা অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ডকুমেন্টস তো ম্যানেজ হয়ই না, বরং গিয়ে হয় পরের ইন্টেকের প্ল্যান করে অথবা বিকল্প পথে ডকুমেন্টস ম্যানেজের চিন্তা করে।
তাই ডকুমেন্টস নিয়ে কাজ শুরু করুন আজকেই। কি কি লাগবে-ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট, ইংরেজি স্কোর, LOR, SOP.
দ্বিতীয়ত, টাকা পয়সা। যে যত বড় বড় লেকচারই দিক, আমাদের মূল সমস্যাটা হয় বাজেট নিয়ে। আমরা অনেকেই আমাদের বাজেট যে আসলে কত টাকা, সেটাই জানি না। প্রথমেই আপনি শিউর হন যে আপনার কাছে জেনুইনলি কত টাকার জোগান আছে বা সময়ের আগে ম্যানেজ করা পসিবল। এক্ষেত্রে ৩ টা ক্যাটাগরির মধ্যে নিজের বাজেট ম্য্যচ করাতে পারেন।
১) ৪ থেকে ৮ লাখের ভিতর
২) ৮ লাখের ১১ লাখের ভিতর
৩) ১২/১৫ লাখের বেশী
৩) ২১ থেকে ২৫ লাখের ভিতর
৪) ২৬ লাখের উপরে
ধরা যাক, আপনার ডকুমেন্টস রেডি আছে।
এখন বাজেট অনুযায়ী প্ল্যান সেট করার একটা খসড়া সাদামাটা বেসিক ধারণা দেয়া যাক।
১) বাজেট ৪/৫ লাখ, কিন্তু আপনার হাতে যদি লম্বা প্রসেসিং (৬-৮মাস) এর সময় থাকে- পোল্যান্ড (লম্বা সময়ের কারণঃ নতুন নিয়মে ট্রান্সক্রিপ্ট ইভাল্যুয়েশন + ইন্ডিয়া), মাল্টা
২) আপনার বাজেট ৮ লাখের কিছু বেশী- হাঙ্গেরী, লিথুনিয়া, গ্রিস, ইস্তনিয়া
৩) ১২/১৫ লাখের বেশী হলে ফিনল্যান্ড, ইউকে (বাকী টাকা প্রোডিজি লোন নিয়ে)
৪) ২১-২৫ লাখ টাকা হলে নিউজিল্যান্ডের ১৪ টা ইন্সটিটিউটের মধ্যে, অস্ট্রেলিয়ার কিছু ইউনি, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম (ব্লকমানিসহ)
৫) ২৬ লাখ টাকার উপরে হলে আসলে বলার কিছু নাই, দুনিয়া আপনার। খালি ডকুমেন্টস গোছান।
(এর মধ্যে ইংরেজি স্কোর + LOR রেডি না থাকলে -- PTE SkillUp)
দোয়া করি, নেক্সট ইন্টেকে যেন আপনার রিজিকের মাটিতে পা রাখতে পারেন।
# #খুব দ্রুত আমরা আবারো আপনাদের জন্য SkillUp এর পক্ষ থেকে ফ্রি সেমিনার আয়োজন করতে যাচ্ছি যেন আপনার বাজেটের ভিতরে কিছু দেশ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা দিতে পারি।