24/04/2026
শাহজানপুরের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাকে আবেগাপ্লুত করে। সময়ের সাথে পেরে না ওঠা এবং নানান ব্যস্ততায় মাঝে মাঝে অনেক কিছুই ভুলে যাই, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষক হিসেবে আমার প্রাপ্তি অনেক।
২০২৪ সালের শেষের দিকের কথা শাহজানপুরে মতিঝিল আইডিয়াল ও বয়েজের একটি ব্যাচকে ৩-৪ মাস পড়িয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের অভাবে একসময় বাধ্য হয়েই পড়ানো বন্ধ করতে হয়। সেই বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের চোখে যে জল দেখেছি, তা আজও আমাকে ব্যথিত করে। যাই হোক, কিন্তু সম্পর্কটা যে কেবল শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা বুঝতে পারলাম ঠিক ক বছর পর। হঠাৎ করেই একদিন তারা কয়েকজন আমার জন্মদিনে কেক নিয়ে হাজির! আমাকে ঋণী করে তারা চলে গেল ঠিকই, কিন্তু রেখে গেল এক অমলিন স্মৃতি।
কিছুদিন আগে, এসএসসি পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে আমার ফোনে আসা একের পর এক কল আমাকে অবাক করে দেয়। ২১ তারিখ বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা, তাই তারা দোয়া চাইতে ফোন দিয়েছিল। সেই সাথে ২ পত্রে কি পড়বো সেটা জানতে চাইলো।তাদের আগ্রহ দেখে আমি মহান রবের ওপর ভরসা রেখে আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা থেকে সাজেশন দিলাম:
রচনা দিলাম ৪টি থেকে কমন পড়েছে ২টি।
ভাবসম্প্রসারণ দিলাম ৪ টি কমন পড়েছে ২টি।
অনুচ্ছেদ: ৪ টি থেকে কমন পড়েছে ২টির ২টিতেই।
আল্লাহর কি অশেষ রহমত! বাচ্চাগুলো অনেক খুশি, পরীক্ষা শেষে আমাকে পুনরায় ফোন, টেক্সট করে কৃতজ্ঞতা জানালো। আর তাদের সেই হাসিমাখা কণ্ঠ আমাকে আবেগতাড়িত করেছে। ঐ সময় মনের কোণে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব হলো—"শিক্ষকতা পেশা হিসেবে হয়ত কঠিন, কিন্তু ভালোবাসার বিচারে এটিই পৃথিবীর সেরা জায়গা"।