HAJJ & UMRAH Academy

HAJJ & UMRAH Academy

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from HAJJ & UMRAH Academy, Educational consultant, Dhaka.

কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক "হজ্জ ও উমরাহ" পালনের সঠিক নিয়ম-কানুন, প্রস্তুতি, দোয়া ও বাস্তবিক নির্দেশনা প্রদান করা হয় অনলাইন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে।
🕋আল্লাহর ঘরের মেহমান হিসেবে যারা হজ্জ বা উমরাহ করতে যাচ্ছেন—তারা সহজবোধ্য ও ধারাবাহিক গাইডলাইন পেতে যোগাযোগ করুন

17/05/2026

কাল পরশু থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আমলের বসন্তকাল। যারা রোজা রাখবেন, বিশেষত বয়স্ক মানুষ, তাদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখুন।

নিজের জাগুন, অন্যকে জাগিয়ে তুলুন, সেহেরি খাবার বেরেস্তা করুন।

15/05/2026

হজ ২০২৬-এ প্রায় ৮ লাখ কুরবানির প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন।
মক্কার এই বিশাল ব্যবস্থাপনা দেখলে সত্যিই অবাক হতে হয়।

হজ ২০২৬ সামনে রেখে
মক্কায় প্রস্তুত করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় automated কুরবানির প্রকল্প।

“আদাহি প্রজেক্ট (Adahi Project)” নামে পরিচিত এই বিশাল ব্যবস্থাপনায়
এ বছর প্রায় ৮ লাখ কুরবানির বুকিং ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

পুরো প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে
১০টি আলাদা সাইটজুড়ে।
এতে কাজ করছেন প্রায় ২৫ হাজার কর্মী
যাদের মধ্যে ১৭ হাজারই অভিজ্ঞ কসাই।

প্রতিটি পশু কুরবানির আগে
শরিয়াহ অনুযায়ী বয়স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
৬ মাসের কম বয়সী পশু গ্রহণ করা হয় না।
এছাড়া কুরবানির পর
যেসব পশুর মাংস ৯ কেজির কম হয়,
সেগুলোও বাদ দেওয়া হয়।

কুরবানির পর
সম্পূর্ণ automated cleaning system-এর মাধ্যমে
মাংস প্রসেস করা হয়
এবং ২.৫ কেজির কার্টনে প্যাক করা হয়।

এই প্রকল্পে রয়েছে বিশাল cold storage ব্যবস্থা
মোট ২০টি বড় freezer,
যেগুলো রাখা হয় -২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।

এখানে প্রায় ৭ লাখ পশুর মাংস সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।
পরে সেই মাংস
সমুদ্রপথে পাঠানো হয়
২৭টি দেশে। 🤍

হাজিরা (Nusuk app),
অনুমোদিত ব্যাংক,
(Ehsan)
অথবা (Jahez platform)-এর মাধ্যমে
৭২০ সৌদি রিয়াল দিয়ে কুরবানির বুকিং করতে পারেন।

কুরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর
হাজির কাছে সঙ্গে সঙ্গেই notification পৌঁছে যায়
ইমেইল বা হজ গ্রুপ coordinator-এর মাধ্যমে।

সম্প্রতি (Adahi Project)-এর Deputy Supervisor
সিরাজ মোহাম্মদ
১০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিককে
এই পুরো ব্যবস্থাপনা ঘুরিয়ে দেখান
যেখানে পশু পরীক্ষা,
processing
এবং meat distribution-এর ধাপগুলো তুলে ধরা হয়।

এবারের হজে
শুধু ভেড়ার কুরবানি করা হচ্ছে।
গরু ও উটের কুরবানি এখনো স্থগিত রয়েছে।

গত বছর
প্রায় ৬০% হাজি
এই (Adahi Project)-এর মাধ্যমে কুরবানি সম্পন্ন করেছিলেন
যাদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ছিলেন individual হাজি।

হজের লাখো মানুষের জন্য
কুরবানির এই বিশাল আয়োজন
আধুনিক ব্যবস্থাপনা আর শরিয়াহর সমন্বয়ের এক অনন্য উদাহরণ।
©️

15/05/2026

রোগব্যাধি ও অভাব-অনটন দূর করার আমল -
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেনঃ একদিন আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে বাইরে গেলাম। তখন আমার হাত তাঁর হাতে আবদ্ধ ছিল। তিনি জনৈক দুর্দশাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন ব্যক্তির কাছ দিয়ে গমন করার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার এই দুর্দশা কেন? লোকটি আরয করলঃ রোগব্যাধি ও দারিদ্র্যের কারণে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ আমি তোমাকে কয়েকটি বাক্য বলে দিই। এগুলো পাঠ করলে তোমার রোগব্যাধি ও অভাব-অনটন দূর হয়ে যাবে।

বাক্যগুলো এইঃ تَوَكَّلْتُ عَلَى الحَيِّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ وَالحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا

বাংলা উচ্চারণ - তাওয়াক্কালতু আলাল হাইয়্যিল্লাযী লা ইয়ামুত, ওয়ালহামদু লিল্লাযিল্লাযী লাম ইয়াত্তাকিয ওয়ালাদান ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু শারীকুন ফিল মুলকি ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু ওয়ালিয়্যুম মিনায যুল্লি ওয়া কাব্বিরহু তাকবীরা।

অর্থ: "আমি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করছি যার মৃত্যু নেই। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, যাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না যে কারণে তাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং আপনি তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন।" (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ১১১)
©️©️©️

29/01/2026

⭕ আল্লাহ তা'আলা যাকে অপছন্দ করেন তাকেও অঢেল ধন সম্পদ দান করেন। আর যাকে পছন্দ করেন তাকে দান করেন হিকমাহ।

যাকে হিকমাহ দান করা হয় তার ভিতরে থাকে সাকিনা। আরবি সাকিনা শব্দের অর্থ শান্ত, প্রশান্ত, ধীর, স্থির।

টেবিল ভর্তি খাবার অথচ প্রত্যেকটা খাবারে আপনি দোষ খুঁজে পাচ্ছেন, পেট ভরে খেতে পারছেন না। কেননা আপনাকে সম্পদ দান করা হয়েছে, হিকমাহ দেয়া হয়নি যে কারণে আপনার ভিতর সাকিনা নেই।

আপনাকে হিকমাহ দেয়া হয়েছে যে জন্যে আলু ভর্তা আর ডাল দিয়েও পরম প্রশান্তি নিয়ে পেট ভরে খেয়ে উঠে বলে উঠবেন আলহামদুলিল্লাহ।

উচ্চশিক্ষিতা সুন্দরী স্ত্রী পেয়েও আপনি তাকে নিয়ে সুখী নন, কারণ আপনাকে হিকমা দেয়া হয়নি।

টয়োটা এলিয়নে চড়েও আপনি সুখী নন, আপনার কেন পাজেরো নাই? এর কারণ আপনার মাঝে হিকমাহ নাই, সাকিনা উঠে গেছে। আপনি আপনার অবস্থানে সুখী নন।

আরবি হিকমা শব্দের অর্থ প্রজ্ঞা। যাকে আল্লাহ তা'আলা হিকমা দান করেন সে সর্ব অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকে, শান্তিতে থাকে। এর অর্থ নিজেকে মানিয়ে চলা এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকা।

রিজিক শব্দের অর্থ অনেক ব্যাপক।

■▪রিযিকেরর সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছেঃ টাকা, পয়সা, অর্থ এবং সম্পদ।

■▪রিযিক এর সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছেঃ শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা।

■▪রিযিকের সর্বোত্তম স্তর হচ্ছেঃ পুণ্যবান স্ত্রী এবং পরিশুদ্ধ নেক সন্তান এবং

■▪রিযিক এর পরিপূর্ণ স্তর হচ্ছেঃ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।

■■ রিযিক খুব গভীর একটি বিষয়, যদি আমরা তা বুঝতে পারি।

■■ আমি পুরো জীবনে কত টাকা আয় করবো সেটা লিখিত, কে আমার জীবনসঙ্গী হবে সেটা লিখিত, কবে কোথায় মারা যাবো সেটাও লিখিত এবং কতটা খাবার ও পানীয় গ্রহণ করবো তাও লিখিত বা নির্দিষ্ট।

■■ আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, আমি কতগুলো দানা বা ভাত দুনিয়াতে খেয়ে তারপর মারা যাবো সেটা লিখিত। একটি দানাও কম না এবং একটিও বেশি না।

■■ ধরুন এটা লিখিত যে আমি সারাজীবনে এক কোটি টাকা আয় করবো, এই সিদ্ধান্ত আল্লাহ্‌ তা'আলা নিয়েছেন।

■■ কিন্তু, আমি হালাল উপায়ে আয় করবো না হারাম উপায়ে আয় করবো সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার।

■■ যদি ধৈর্য ধারণ করি, আল্লাহ্‌ তা'আলার কাছে চাই, তাহলে হালাল উপায়ে ওই এক কোটি টাকা আয় করেই আমি মারা যাবো। আর হারাম উপায়ে হলেও ওই এক কোটিই... নাথিং মোর, নাথিং লেস!

■■ আমি যেই ফলটি আজকে টেকনাফ বসে খাচ্ছি, সেটা হয়ত ইতালি কিংবা থাইল্যান্ড থেকে ইমপোর্ট করা। ওই গাছে যখন মুকুল ধরেছে তখনই নির্ধারিত হয়েছে যে, সেটি আমার কাছে পৌঁছাবে। এর মধ্যে কত পাখি ওই ফলের উপর বসেছে, কত মানুষ এই ফলটি পাড়তে গেছে, দোকানে অনেকে এই ফলটি নেড়েচেড়ে রেখে গেছে, পছন্দ হয় নি বা কিনেনি। এই সব ঘটনার কারণ একটাই, ফলটি আমার রিযিকে লিখিত। যতক্ষণ না আমি কিনতে যাচ্ছি, ততক্ষণ সেটা ওখানেই থাকবে।

এর মধ্যে আমি মারা যেতে পারতাম, অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম, কিন্তু না! রিযিকে যেহেতু লিখিত আমি এই ফলটি না খেয়ে মারা যাবো না।

■■ রিযিক জিনিসটা এতোটাই শক্তিশালী!

■■ কিংবা যেই আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধব আমার বাসায় আসছে, সে আসলে আমার খাবার খাচ্ছে না। এটা তারই রিযিক, শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তা'ইলা আমার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। হতে পারে এর মধ্যে আমাদের জন্য মঙ্গল রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ!

■■ কেউ কারওটা খাচ্ছে না, যে যার রিযিকের ভাগই খাচ্ছেন।

■■ আমরা হালাল না হারাম উপায়ে খাচ্ছি, সেটা নির্ভর করছে আমি আল্লাহ্‌ তা'আলার উপর কতটুকু তাওয়াক্কাল আছি, কতটুকু ভরসা করে আছি। কেননা,

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

-------"দুনিয়ায় বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সব কিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে।"

-----(সুরা হুদ : আয়াত ৬)

■■ আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেনঃ

-------"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। আর তাকে (এমন উৎস থেকে) রিযিক দেবেন, যা সে ধারণাও করতে পারবে না।"

-----(সুরা ত্বালাক : আয়াত ২-৩)

■▪মহান আল্লাহ্‌ তা'আলা আমাদের সঠিক পথ এবং হালাল ও প্রশস্ত কামাই রোজগার ও রিযিক এর ব্যবস্থা করে দিন এবং সকল প্রকার হারাম কামাই রোজগার ও রিযিক থেকে হিফাযত করুন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, এবং হিফাযত করুন।

#আমীন

22/01/2026

🕌☀️ ইশরাকের সালাত ও হজ-ওমরার সওয়াব

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল, এরপর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করল এবং (সূর্য ওঠার পর) দুই রাকাত সালাত আদায় করল—সে একটি পূর্ণ হজ ও একটি পূর্ণ ওমরার সওয়াব পাবে।" -তিরমিজি ৫৮৬

✅ ফজরের পর জায়নামাজে বসে জিকির বা তিলাওয়াত করা এবং সূর্য ওঠার ১৫-২০ মিনিট পর দুই রাকাত সালাত আদায় করা।
✅ এটি দিনের শুরুতেই বিশাল সওয়াব নিশ্চিত করে।

Photos from HAJJ & UMRAH Academy's post 21/01/2026

তাওয়াফ, ধোঁকা ও তাকওয়া
|| প্রশ্ন:
বেশ কিছুদিন ধরে সৌদি কর্তৃপক্ষ কাবা শরিফের চারপাশের গ্রাউন্ড ফ্লোর কেবল উমরাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যারা উমরা করছেন, তারা গ্রাউন্ড ফ্লোরে তাওয়াফ করতে পারেন; আর যারা উমরাকারী নন, তাদের উপরের তলায় গিয়ে তাওয়াফ করতে হয়।

এ বিষয়ে কিছু আলেম এমন ফতোয়া দেন এবং নিজেরাও তা অনুসরণ করেন যে, উমরার নিয়ত না থাকলেও শুধু ইহরামের পোশাক পরে নেওয়া যাবে, যাতে হারামের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মুহরিম মনে করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে তাওয়াফের অনুমতি দিয়ে দেয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এভাবে করা কি শরিয়তসম্মত? আর যদি কেউ ওই আলেমদের ফতোয়ার ওপর আমল করে, তাহলে কি শরিয়তের দৃষ্টিতে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে?

|| উত্তর:
এই প্রশ্নে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সূক্ষ্ম ও বহুস্তরবিশিষ্ট বিষয় আলোচনায় এসেছে, যার সম্পর্ক রয়েছে শরিয়ত, ইবাদতের আদব, নৈতিকতা এবং সামষ্টিক শৃঙ্খলার সঙ্গে। এ কারণে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রথমেই নীতিগতভাবে একটি কথা পরিষ্কার হওয়া দরকার, ইসলাম মুমিনদেরকে ওয়ালিল আমর ও প্রশাসনের আনুগত্য করতে বাধ্য করেছে, যতক্ষণ না তাদের নির্দেশ সরাসরি কোনো গোনাহের আদেশ হয়। পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের আনুগত্য করো।”
আর রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, মুসলিমের ওপর কর্তব্য হলো শোনা ও মান্য করা, তা তার পছন্দ হোক বা অপছন্দ, যতক্ষণ না তাকে গোনাহের আদেশ দেওয়া হয়।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, জনস্বার্থে প্রণীত প্রশাসনিক বিধান ও শৃঙ্খলা মেনে চলাও একটি দ্বীনি দায়িত্ব, বিশেষত যখন এর উদ্দেশ্য মানুষের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাবা শরিফের চারপাশের মাতাফ অর্থাৎ গ্রাউন্ড ফ্লোরকে কেবল উমরাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করা নিছক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই নয়; বরং এটি ইবাদতকারীদের অধিকার ও সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া এক বাস্তবসম্মত ও কল্যাণভিত্তিক পদক্ষেপ। এর উদ্দেশ্য হলো ভয়াবহ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা, প্রকৃত উমরাকারীদের জন্য সহজতা সৃষ্টি করা, নারী, বৃদ্ধ ও দুর্বলদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষা করা। এতে কারও প্রতি জুলুম নেই, কাউকে ইবাদত থেকেও বিরত রাখা হয়নি; কারণ তাওয়াফের জন্য উপরের তলাগুলো সর্বাবস্থায় উন্মুক্ত রয়েছে।

অতএব যারা উমরার নিয়তে মুহরিম হয়েছেন, তাদের জন্য গ্রাউন্ড ফ্লোরে তাওয়াফ করা সম্পূর্ণ বৈধ ও শরিয়তসম্মত, এবং সেটাই তাদের অধিকার। আর যারা উমরা আদায় করছেন না, তাদের জন্য উপরের তলায় তাওয়াফ করাই সঠিক ও শোভন।

এমন পরিস্থিতিতে কেবল গ্রাউন্ড ফ্লোরে প্রবেশ ও সেখানে তাওয়াফের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে, উমরার কোনো নিয়ত ছাড়াই ইহরামের পোশাক পরে নেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম এবং নৈতিকতার বিচারে চরমভাবে নিন্দনীয় কাজ। এটি সরাসরি ধোঁকা, প্রতারণা ও ছলচাতুরির অন্তর্ভুক্ত। ইসলামি শরিয়তে ধোঁকার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” সাধারণ লেনদেনেই যদি এ কাজ অবৈধ হয়, তবে ইবাদতের মতো পবিত্র ও মহান বিষয়ে এর গর্হিততা বহু গুণ বেড়ে যায়।

এ কথাও গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, ইহরাম কেবল একটি পোশাক নয়; বরং এটি একটি বিশেষ ইবাদতি অবস্থা ও নিয়তের নাম। একে নিছক পরিচয়পত্র বা প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা ইসলামের নিদর্শনসমূহের অবমাননা এবং তাদের পবিত্রতার লঙ্ঘন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।”

এই ধরনের আচরণের মধ্যে বহু গুরুতর শরিয়তগত ও বাস্তব ক্ষতি নিহিত রয়েছে:

এক. প্রকৃত উমরাকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। এ ধরনের লোকদের কারণে উমরাকারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়, তাদের হক অন্যায়ভাবে দখল হয়, যার ফলে ভিড়, কষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

দুই. রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশের বিরোধিতা করা হয়। এটি সরকার ও প্রশাসনের প্রণীত বৈধ নিয়মের প্রকাশ্য লঙ্ঘন, যা শরিয়তসম্মত নয়।

তিন. মিথ্যা পরিচয় প্রকাশ। ব্যক্তি নিজেকে মুহরিম হিসেবে উপস্থাপন করে, অথচ বাস্তবে সে মুহরিম নয়; ফলে নানা শরিয়তগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চার. ফিকহি জটিলতা ও সংশয়। যদি কেউ এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে বাহ্যিক লক্ষণে তাকে মুহরিম মনে করে মুহরিমের বিধান তার ওপর প্রয়োগ করা হতে পারে, অথচ সে প্রকৃতপক্ষে মুহরিম ছিল না। এভাবে সে প্রতারণার অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

অতএব একজন ঈমানদার মানুষের জন্য সঠিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পথ একটাই, তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের যথাযথ সম্মান রক্ষা করবেন, মিথ্যা ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকবেন এবং প্রশাসনের প্রণীত শৃঙ্খলা ও নিয়মকানুন মেনে চলবেন। যদি গ্রাউন্ড ফ্লোরে তাওয়াফ করা সম্ভব না হয়, তবে উপরের তলাগুলোতে তাওয়াফ করা কেবল জায়েযই নয়, বরং সেটিই উত্তম।

যে ইবাদতের ভেতর ধোঁকা ও অবাধ্যতা মিশে থাকে, তা কখনোই সওয়াবের কারণ হয় না; বরং তা গোনাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় তাওয়াফ ছেড়ে দেওয়া অনেক বেশি শ্রেয়, কেননা ইবাদতের আবরণে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দীনের সঠিক উপলব্ধি দান করুন, অন্তরে ইখলাস ও সত্যনিষ্ঠা দান করুন, ইসলামের নিদর্শনসমূহের প্রকৃত সম্মান রক্ষা করার তাওফিক দিন এবং ইবাদতে খাঁটি নিয়ত ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমল করার সামর্থ্য দান করুন। তিনি যেন আমাদের সব ইবাদতকে নিজের সন্তুষ্টির আলোকে কবুল করে নেন। আমিন।

©

07/01/2026

আমি এবছর হজে যাব না—

কারণ একটা বাড়ি কিনতে চাই।
কারণ একটা গাড়ির দরকার।
কারণ ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে চাই।
কারণ টাকা-পয়সার এখন টানাটানি।

শুনতে খুব বাস্তব লাগে, তাই না?

আমাদের অনেকের মাথার ভেতর হিসাবটা এমনই চলে—
আগে বাড়ি,
আগে গাড়ি,
আগে আর্থিক স্থিরতা।

তারপর একদিন হজ।

কিন্তু “একদিন” করতে করতে—
ডাকটা বারবার আসে,
আর আমরা উত্তর দিই না।

অথচ রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“তোমরা হজ ও উমরাহ একটার পর একটা আদায় করবে।
কেননা তা অভাব ও গোনাহ দূর করে দেয়—
যেভাবে হাপর লোহা, সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে।”
(সহিহ হাদিস)

সমস্যা হজে যাওয়ার আগে রিজিক ঠিক না হওয়া নয়।
সমস্যা হলো—
আমরা রিজিক ঠিক হওয়ার শর্ত বানিয়ে ফেলেছি হজকে।

ভাবনাটা একটু উল্টে দেখুন—

আমি এ বছর হজে যাব,
কারণ একটা গাড়ি কিনতে চাই।

আমি এ বছর হজে যাব,
কারণ আমার একটা বাড়ির দরকার।

আমি এ বছর হজে যাব,
কারণ আমার রিজিকের প্রশস্ততা চাই।

হজ রিজিকের বাধা না—
হজই রিজিকের দরজা।

বই: এভাবেই হজ আমাকে শিক্ষা দিয়েছে



Collected

02/01/2026

🕋 হাতিম বা হিজরে ইসমাইল: কাবার বাইরে দেখা গেলেও এটি কাবারই অংশ 🕋

পবিত্র কাবা শরীফ জিয়ারতের সময় কাবার উত্তর পাশে একটি অর্ধবৃত্তাকার নিচু দেয়াল ঘেরা স্থান দেখা যায়। এটিই ঐতিহাসিক ও বরকতময় হাতিম (Hateem), যা হিজরে ইসমাইল (Hijr Ismail) নামেও পরিচিত।

অনেকে একে কাবার বাইরের সাধারণ অংশ মনে করেন। বাস্তবতা ভিন্ন। এটি কাবার মূল কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

📜 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) যখন কাবা ঘর নির্মাণ করেন, তখন এই অংশটি মূল ঘরের ভেতরেই ছিল।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির কিছু আগে কুরাইশরা কাবা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, শুধুমাত্র হালাল উপার্জনের অর্থই ব্যবহার করবে। কিন্তু পর্যাপ্ত হালাল অর্থ না থাকায় তারা পুরো ইব্রাহিমি ভিত্তির ওপর ছাদ নির্মাণ করতে পারেনি।
ফলে উত্তর পাশের এই অংশটি মূল ভবনের বাইরে রেখে একটি নিচু অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়—যাতে বোঝা যায়, এটি কাবারই অংশ।

📌হাতিম নামের অর্থঃ
হিজরে ইসমাইল ‘হিজর’ অর্থ আশ্রয় বা কোল। মা হাজেরা (আঃ) ও শিশু ইসমাইল (আঃ) এই স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে এই নামকরণ।
হাতিম ‘হাতিম’ অর্থ বিচ্ছিন্ন বা ভাঙা অংশ। মূল কাবা থেকে আলাদা অবস্থায় থাকার কারণেই এই নাম।

✅ ফজিলত ও গুরুত্বঃ

হাতিমের ফজিলত অসীম। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত যে, সাধারণ মুসলমানরা কাবার ভেতরে প্রবেশ করতে না পারলেও হাতিমে প্রবেশ করে সেই সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন।

আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) কাবার ভেতরে নামাজ পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে হাতিমে নিয়ে গিয়ে বলেন—
“তুমি যদি বাইতুল্লাহর ভেতরে নামাজ পড়তে চাও, তবে এই অংশে নামাজ পড়ো। কারণ এটি কাবারই অংশ।” (সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযি)
অর্থাৎ, হাতিমে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা মানে কাবার ভেতরেই ইবাদত করা।

📣 জরুরি সতর্কতাঃ
যেহেতু হাতিম কাবার অংশ, তাই হজ বা ওমরাহর তাওয়াফ অবশ্যই হাতিমের বাইরে দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।কেউ যদি ভুলবশত হাতিমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফের চক্কর দেন, তাহলে সেই চক্কর সহিহ হবে না
,কারণ পূর্ণ কাবা প্রদক্ষিণ সম্পন্ন হয়নি।

দোয়া
হে আল্লাহ, আমাদের সবাইকে আপনার পবিত্র ঘর জিয়ারত করার এবং বরকতময় হাতিমে সিজদাবনত হয়ে আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার তৌফিক দান করুন। আমিন।
এই পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ এই জ্ঞান পৌঁছে দিন।

#হাতিম #হিজরে_ইসমাইল #কাবাশরীফ #মক্কা #ইসলামিক_জ্ঞান

23/09/2025

❤️🕋!


Day and night view of the Royal Clock Tower🌙🌙🥰🥰

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Dhaka