ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশনে মানুষের হাত-পা বেকার হয়েছিল। এখন এআই যুগে মানুষের মস্তিষ্ক বেকার হতে যাচ্ছে।
নব্বইয়ের দশকে যখন কম্পিউটার আসল, তখন মানুষ ভেবেছিল - "ঠিক আছে, মেশিন ক্যালকুলেশন করুক। কিন্তু ক্রিয়েটিভিটি? আর্ট? রাইটিং? চিন্তা ভাবনা? এগুলো তো আমাদেরই থাকবে।"
কিন্তু দেখুন আজ কী হচ্ছে। এআই চিন্তা করতে পারছে। সিদ্ধান্ত দিতে পারছে কোম্পানি চালাতে। ছবি আঁকছে, গান লিখছে, কবিতা লিখছে। এমনকি প্রোগ্রামিং-ও করছে। মানুষ যে জিনিসগুলোকে নিজের 'ইউনিক স্কিল' ভাবত, সেগুলোও এখন মেশিন করতে পারে।
এটা শুধু চাকরি হারানোর ভয় নয়। এটা আরও গভীর সংকট। মানুষ সবসময় নিজেকে 'বুদ্ধিমান প্রাণী' হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। কিন্তু যখন সেই বুদ্ধিমত্তাই মেশিনে চলে যাবে, তখন মানুষের পরিচয় কী হবে?
ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশনের পর মানুষ নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেয়েছিল। শারীরিক শ্রম থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে সরে এসেছিল। কিন্তু এবার? এআই যুগে মানুষ কোথায় সরে যাবে?
হয়তো এখানেই নতুন চ্যালেঞ্জ। মানুষকে আবার নতুন করে নিজেকে খুঁজে নিতে হবে। বুদ্ধিমত্তার বাইরেও মানুষের অনেক কিছু আছে - সহানুভূতি, ভালোবাসা, সৃজনশীলতা। হয়তো সেখানেই মানুষের নতুন পরিচয় তৈরি হবে।
(কমেন্টে আরো লেখা)
রকিবের সাথে 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা'
মেশিন লার্নিং ব্যাপারটা চলে এসেছে প্রায় সব কিছুতে। ইন্টারনেটে কিছু করতে গেলেই চোখে পড়ে এর কাজ। মেশিন লার্নিং - শয়নে স্বপনে।
24/10/2024
হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি চালানো খুব কষ্টের। কারণ, মিড লেভেলের স্কিলড হিউমান রিসোর্স ধরে রাখা যায় না। সারাদিন তাদের অফার চলতে থাকে। আবার, ৩/৪ বছর একটা জায়গায় না থাকলে নিজেকে হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিতে বিল্ডও করা যায় না। ডোমেইন নলেজটাই আসল। এভাবেই তৈরি হচ্ছে গ্লোবাল হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি!
আবার ভাবুন তো, আপনার অফিসের সবচেয়ে সিনিয়র কলিগ রিটায়ার অথবা নতুন কোম্পানিতে চলে গেলেন। উনার মাথায় যে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার ছিল, সেটা কি নতুন অর্গানাইজেশনে চলে গেল? অথবা, উনি যাওয়ার আগে সেই নলেজটা ক্যাপচার করে রাখার উপায় কী?
এই যে আমরা প্রতিনিয়ত জ্ঞান তৈরি করছি, শেয়ার করছি, স্টোর করছি - এই পুরো ব্যাপারটাকে কীভাবে সিস্টেমেটিক করা যায়, সেটাই হল নলেজ ম্যানেজমেন্টের (KM) মূল কথা। Kimiz Dalkir-এর এই বইটি পড়লে মনে হবে আপনি একটা মজার সায়েন্স ফিকশন পড়ছেন, যেখানে নায়ক হল "জ্ঞান"!
বইয়ের হাইলাইটস:
১. থিওরি vs প্র্যাকটিস:
লেখক যেন রসগোল্লার দুই পাশের মতো থিওরি আর প্র্যাকটিসকে মিলিয়ে দিয়েছেন। শুধু তত্ত নয়, বাস্তব জীবনের কেস স্টাডি দিয়ে বুঝিয়েছেন কীভাবে বড় বড় কোম্পানি নলেজ ম্যানেজ করে। এটাই আমাকে টেনেছে বেশি।
২. নলেজ সাইকেল:
জ্ঞান কীভাবে তৈরি হয়, শেয়ার হয়, স্টোর হয় - এই চক্রটা এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে মনে হবে আপনি নলেজের জীবনচক্র দেখছেন! এবং এটা বাড়ছেই এখন।
৩. টেকনোলজির ভূমিকা:
আধুনিক টেকনোলজি কীভাবে নলেজ ম্যানেজমেন্টকে সহজ করে দিচ্ছে - সেটা পড়তে পড়তে মনে হবে আপনি ডিজিটাল যুগের জাদুর দুনিয়ায় আছেন। আসলেই তাই।
মজার ব্যাপার কী জানেন? বইটা পড়তে পড়তে নিজের অফিসের কথা মনে পড়বে। মনে হবে - "আরে, আমাদের টিমেও তো এই সমস্যা আছে!" অথবা "ওহ্, এই সলিউশনটা আমাদের এখানে অ্যাপ্লাই করা যায়!"
কিছু চ্যালেঞ্জিং পয়েন্ট:
১. কখনো কখনো অ্যাকাডেমিক ভাষা একটু ভারী লাগতে পারে
২. কিছু কনসেপ্ট বুঝতে দুই-একবার পড়তে হতে পারে
৩. প্রচুর মডেল আর থিওরি আছে, সব মনে রাখা চ্যালেঞ্জিং
তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো নেভিগেট করার জন্য লেখক প্রচুর ডায়াগ্রাম, চার্ট আর রিয়েল-লাইফ উদাহরণ দিয়েছেন। আমার যেটা ভালো লেগেছে, লেখক শুরুতেই একটা গল্প দিয়ে শুরু করেছেন। একটা কোম্পানি কীভাবে তাদের টপ ইঞ্জিনিয়ারের রিটায়ারমেন্টের পর বিপদে পড়ল - কারণ উনার মাথার সব জ্ঞান উনার সাথেই চলে গেল! এখান থেকেই বোঝা যায় কেন নলেজ ম্যানেজমেন্ট এত গুরুত্বপূর্ণ।
ফাইনাল ভার্ডিক্ট:
যদি আপনি নলেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবছেন, তাহলে এই বইটি আপনার বুকশেলফে থাকা দরকার। এটা সেই ধরনের বই যেটা পড়ার পর আপনি বলবেন - "আমার অর্গানাইজেশনে এখনই কিছু একটা করা দরকার!"
রেটিং: ৪.৫/৫
(০.৫ কেটে নিলাম কারণ কিছু কিছু জায়গায় একটু বেশি থিওরেটিক্যাল!)
মজার টিপস: পড়ার সময় একটা নোটবুক রাখুন পাশে। কারণ প্রতি চ্যাপ্টারে এমন কিছু না কিছু আইডিয়া পাবেন যেটা আপনার কাজে লাগবে। আর হ্যাঁ, একা পড়বেন না - টিমের সাথে ডিসকাস করুন। তাহলে থিওরি থেকে প্র্যাকটিসে যাওয়াটা আরও সহজ হবে!
[যারা এ পর্যন্ত পড়েছেন, তাদের জন্য এই বইটার দুটো "প্রায় হুবহু" কপি উপহার দিতে চাই। বইগুলোর ছবি দিলাম এখানে। কমেন্টে আপনাদের মতামত জানাতে পারেন। আপনার বন্ধুদেরও ট্যাগ করতে পারেন। কমেন্টের সবার নাম + ট্যাগকৃত নাম নিয়ে কথা বলবো চ্যাট-জিপিটির সাথে। সে যাদেরকে বলবে, তাদের দুজনকেই দেবো। বই নিতে এলে গুলশানে কফি খাওয়া হতে পারে।]
আজকের বেসবল খেলায় বিগ ডেটার যে কী দাপট! ২০০২ সালে ওকল্যান্ড অ্যাথলেটিকস প্রথম দেখালো যে কম্পিউটারে ডেটা ঢুকিয়ে কীভাবে কম টাকায় দারুণ খেলোয়াড় কেনা যায়। এই অসাধারণ গল্প নিয়ে "মানিবল" নামে একটা বই-ও লেখা হলো, যেটার মুভি দেখেছে সবাই। তারপর থেকে বেসবলের দুনিয়া একেবারে বদলে গেছে!
২০১৫ সালে এমএলবি একটা মজার সিস্টেম চালু করলো - স্ট্যাটকাস্ট। মাঠের চারপাশে বসানো হলো সুপার স্মার্ট ক্যামেরা আর রাডার। এগুলো খেলার প্রতিটা মুভমেন্ট ক্যাপচার করে - বল কত জোরে ছুড়লো, ব্যাটে কেমন শট মারলো, ফিল্ডার কত স্পিডে দৌড়ালো - সব! প্রতি ম্যাচে এত ডেটা জমা হয় যে একটা ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক ১০০ বার ভরে যাবে!
মজার ব্যাপার হলো, দুটো বলের মাঝে মাত্র ২৩ সেকেন্ড সময়। এই ২৩ সেকেন্ডে কোচরা তাদের সুপার কম্পিউটার চালিয়ে সিদ্ধান্ত নেন - বলার ক্লান্ত নাকি ফিট আছে, কোন খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো হবে, কাকে তুলে নেওয়া হবে। একদম স্পাই মুভির মতো!
মজার ঘটনা শুনুন, - ২০২০ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজে টাম্পা বে রেস এর কোচ কেভিন ক্যাশ তার সুপারস্টার বলার ব্লেক স্নেলকে মাঝপথে তুলে নিলেন। কম্পিউটার বলেছে তাই করতে হবে! অথচ স্নেল তখন রকেটের মতো বল করছিলেন। শেষমেশ টিম হেরে গেল। তবে, সেটা একটাই ঘটনা।
এখন প্রতিটা টিমের কাছে বিশাল ডেটা সেন্টার আছে। স্মার্ট প্রোগ্রাম দিয়ে লাইভ ডেটা এনালাইসিস করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে প্লেয়ারদের পারফরমেন্স চেক করছে, চোট-আঘাতের আগেই ওয়ার্নিং দিচ্ছে। আগে যেখানে কোচরা শুধু অভিজ্ঞতা দিয়ে টিম চালাতেন, এখন তারা হাতে স্মার্টফোন নিয়ে ডেটা দেখে দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বলতে পারেন, এখন কম্পিউটার আর কোচ মিলে টিম চালাচ্ছে! মজার ব্যাপার তাই না?
শিখছেন তো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স?
(কমেন্টে ফ্রি বই!)
"Hundreds of billions of dollars are spent every year to control the public mind." ~ Professor Noam Chomsky
"ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট" - একটা মজার কনসেপ্ট, তাই না? চমস্কি এবং এডওয়ার্ড হারমান মিলে এই বইটা লিখেছিলেন। বইটার নাম আরো মজার, "Manufacturing Consent: The Political Economy of the Mass Media"। আসুন, আমাদের ভাষায় বইটা নিয়ে কথা বলি।
মূল কথাটা হলো - মিডিয়া কিভাবে মানুষের মন তৈরি করে দেয়। এখন ভাবতে পারেন, মিডিয়া তো খবর দেয়, এতে আবার মন তৈরি করার কী আছে? কিন্তু চমস্কি দেখালেন, খবর দেওয়ার পুরো প্রসেসটাই নিয়ন্ত্রিত। আসলেই তাই!
একটা উদাহরণ দিই। ধরুন, একটা বড় কোম্পানি পরিবেশ দূষণ করছে। এখন নিউজ চ্যানেলগুলো কী করবে? ওই কোম্পানি যদি তাদের বড় বিজ্ঞাপনদাতা হয়, তাহলে হয়তো খবরটা চাপাই দিল। বা এমনভাবে প্রেজেন্ট করল যেন এটা তেমন বড় সমস্যা না।
চমস্কি বলছেন, মিডিয়া পাঁচটা ফিল্টার(!!) ব্যবহার করে:
১. মালিকানা: বড় বড় কর্পোরেট গ্রুপ মিডিয়ার মালিক
২. বিজ্ঞাপন: বিজ্ঞাপনদাতাদের খুশি রাখতে হয়
৩. সোর্স: খবরের উৎস হিসেবে সরকার-কর্পোরেট সূত্র
৪. ফ্ল্যাক: বিরোধী মতামতকে নাই করে দেয়া
৫. ভয়: জনগণকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা
এখন আরেকটা উদাহরণ দেখি। মনে করুন, দুটো দেশে একই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটল। একটা দেশ আমাদের বন্ধু, আরেকটা শত্রু। মিডিয়া কী করবে? বন্ধু দেশের ঘটনা হয়তো চাপা দিয়ে দিল। আর শত্রু দেশের ঘটনা নিয়ে সারাদিন হৈচৈ।
চমস্কি বলছেন, এভাবেই ধীরে ধীরে আমাদের মতামত তৈরি হয়। আমরা ভাবি এটা আমাদের নিজেদের চিন্তা। কিন্তু আসলে এটা তৈরি করে দেওয়া চিন্তা। কেউ বানিয়ে দিয়েছে আগেই। সেটাই দেখছি সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানেন? ২০০২ সালে বইটা লেখার পর থেকে মিডিয়ার অনেক কিছু বদলেছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণের প্যাটার্নটা একই আছে। শুধু আরও 'সফ্সটিকেটেড' এবং স্মার্ট হয়েছে।
তো, চমস্কি কি বলছেন? আমাদের সচেতন হতে হবে। বুঝতে হবে কীভাবে আমাদের মন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নিজেদের মতো করেই চিন্তা করতে শিখতে হবে। তাহলেই আমরা মুক্ত থাকতে পারব, নিজেদের মতো করে ভাবতে পারব। আর "সহমত" গ্রুপ থেকে দুরে থাকবো!
আপনি কী মনে করেন? আমি আবার কোন কনসেপ্টটা তৈরি করে দিলাম?
এটা ভাবা কি একদম ভুল হবে? আচ্ছা - একবার ভাবুন, আমাদের পার্লামেন্টে হঠাৎ করে সব এমপির জায়গায় রোবট বসে আছে! সভাপতি ডাক দিলেন, "মাননীয় রোবট সদস্যগণ..." আর সবাই একসাথে "বিপ-বিপ" শব্দ করে উঠল। হাসাহাসির একটা ব্যাপার হবে, তাই না?
এই রোবট এমপিরা কখনো ঘুমায় না, ক্লান্ত হয় না। ২৪/৭ কাজ করে যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের কি কখনো চা-বিস্কুটের লোভ দেখানো যাবে? অথবা পয়সা দিয়ে লবিং? উফফ, পলিটিক্সের মজাটাই তো চলে যাবে! সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, পার্সেন্টেজের গল্প তো একদম নাই হয়ে যাবে।
আচ্ছা, ধরেন একটা রোবট মন্ত্রী হলো। সে হয়তো বলবে, "আমার ক্যালকুলেশন অনুযায়ী, এই প্রজেক্টে ০.০০০০১% লস হবে।" সেই জায়গায় একজন মানুষ মন্ত্রী হয়তো বলবেন, "দেখেন ভাই, এই প্রজেক্টে একটু লস হলেও মানুষের উপকার হবে।" কোনটা বেশি হিউম্যান শোনাচ্ছে?
তবে এটা ঠিক যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেতাদের হেল্প করতে পারে। ধরুন, প্রধানমন্ত্রী/উপদেষ্টার দরকার হলো রাতারাতি সব জেলার বন্যা-খরার রিপোর্ট। এখন সব জেলার প্রশাসনিক সব মানুষ এটা করতে গেলে কয়েকদিন লেগে যাবে। কিন্তু, একটা এআই এটা সেকেন্ডে করে ফেলবে। তখন উপদেষ্টা বলবেন, "বাহ্, এই তো চাই!"
শেষমেশ, আমরা কি চাই যে কোনো রোবট এসে বলুক, "হ্যালো হিউম্যানস, আমি তোমাদের নতুন প্রেসিডেন্ট"? নাকি আমরা চাই এমন একজন নেতা যিনি আমাদের সাথে হেসে কথা বলবেন, আমাদের দুঃখে কাঁদবেন? যিনি আমাদেরকে গুলির আদেশ দেবেন না। যেমন, মানুষ-সেনাবাহিনী নিজের জনগণকে কখনোই গুলি করে না। সেনাবাহিনীকে নিজের মানুষকে গুলি করতে বলা একটা ‘লস’ প্রজেক্ট। কারণ, মানুষ-সেনাবাহিনী কখনোই ‘ডিজাইনড’ না, নিজের দেশের জনগণকে গুলি করবে। হয়তোবা, এআই সৈনিক একই কাজ করবে প্রোগ্রাম মোতাবেক।
তবে হ্যাঁ, যদি কোনো এআই আসে, যে টিভিতে এসে নেতাদের মতো মজার মজার কথা বলে, তাহলে সেটা দেখতে মজা হবে। কিন্তু তাকে ভোট দেব কিনা, সেটা ভেবে দেখতে হবে!
(কমেন্টে আরো লেখা)
বাংলাদেশ ২.০ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কোন জিনিসগুলো সবচেয়ে আগে আসে? একজন নাগরিক হিসেবে তার এক্সপেক্টেশনগুলো কী কী? আমার ধারণা, সবার আগে আসে "নিরাপত্তা"। একজন মানুষ রাষ্ট্রের কাছে নিজের নিরাপত্তা চায়। এর মানে শুধু 'ক্রাইম' থেকে প্রোটেকশন নয়, বরং রাষ্ট্র থেকেও সুরক্ষা চায়। হাজারো বই পড়ে যা বুঝলাম, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা থেকে মানুষের স্বাধীনতা অনেক বড়। এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এরপর আসে মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন। গত ৩০ বছর সরকারে থেকে আমার মনে হয়েছে, মানুষ প্রথমে চায় বাক স্বাধীনতা। এরপর আসে সবার জন্য সমান অধিকার। সুশাসন হল আরেকটা বড় প্রত্যাশা। মানুষ চায় এমন একটা সিস্টেম যেখানে দুর্নীতি কম থাকবে, সব কিছু স্বচ্ছ হবে, আর সরকার দক্ষতার সাথে কাজ করবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে দুর্নীতি কমলে এবং সরকারের দক্ষতা বাড়লে, আমার ট্যাক্স কমবে। কারণ, তখন আমাদেরকে সিস্টেম ওভারহেড কম নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা পাবেন ট্যাক্স ব্রেকের অনেক সুবিধা। সেটা কীভাবে সম্ভব? আসছি সামনে।
অর্থনৈতিক সুযোগও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ চায় ভালো জব, বিজনেস করার সুযোগ, আর ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি। এডুকেশন আর হেলথকেয়ার নিয়েও মানুষের হাই এক্সপেক্টেশন থাকে। তারা আশা করে অ্যাফোর্ডেবল, কোয়ালিটি এডুকেশন সিস্টেম আর মেডিকেল ফ্যাসিলিটি পাওয়া যাবে। সেটার জন্য সরকারের রাষ্ট্রযন্ত্র কি দক্ষ? মানুষ কি আশা করতে পারে, তারা ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে খেতে পারবে? অথচ, দেশে প্রতিটা দ্রব্য যখন ঢুকে, তার সব তথ্য সরকারে থাকে। রাষ্ট্র কি ডেটা নিয়ে কাজ করতে সক্ষম?
সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রোগ্রাম নিয়েও মানুষের চাহিদা থাকে। বয়স্ক, প্রতিবন্ধী বা গরিব মানুষদের জন্য ওয়েলফেয়ার স্কিম থাকা উচিত বলে তারা মনে করে। সামনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কারণে অনেকের জব লস হতে পারে। তখন ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম, অর্থাৎ একজন মানুষ চাকরি করুক অথবা না করুক, তার জন্য একটা মিনিমাম অ্যালাওয়েন্স থাকবে যা তাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
আমরা বাংলাদেশ ২.০ নিয়ে কথা বললেও রাষ্ট্রের বেসিক জিনিসগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে না বললেই চলে। সে কারণে ২০২১ সালে লিখেছিলাম "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র"। উপরে বলা সব কিছু নিয়েই আলাপ করা হয়েছে সেই বইটাতে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বইটা ফ্রিতে পড়া যায়।
আপনাদের মতামত আশা করছি।
(কমেন্টে বইয়ের লিংক)
"নানা, তোমার আইপ্যাডটা কোথায়?" সাইফা জিজ্ঞেস করল, তার চোখে কৌতুকের ঝিলিক।
কাশিফ সাহেব ভ্রू কুঁচকে বললেন, "কেন রে? আমার ডিজিটাল প্যাডটা দিয়ে তুই কী করবি?"
"তোমাকে ভবিষ্যতের সাথে হ্যান্ডশেক করাব," সাইফা রহস্যময় হাসি দিয়ে জবাব দিল।
কয়েক মুহূর্ত পর, কাশিফ সাহেব বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাকিয়ে রইলেন আইপ্যাডের স্ক্রিনে। "এই যে টেক্সট জেনারেট হচ্ছে... এটা কি কোনো রিয়েল-টাইম অপারেটর?" তিনি জানতে চাইলেন।
সাইফা মাথা নাড়ল। "না নানা, এটা চ্যাট-জিপিটি। একটা এআই মডেল। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, যদি সঠিক টার্মিনোলজি ব্যবহার করি।"
"লার্জ ল্যাং... কী?" কাশিফ সাহেব হকচকিয়ে গেলেন।
"সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটা একটা অত্যাধুনিক সফটওয়্যার সিস্টেম, যা মানুষের মতো ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারে," সাইফা ব্যাখ্যা করল। "তুমি এর সাথে যে কোনো টপিকে ডিসকাস করতে পারো।"
ম্যাথে মাস্টার্স করা কাশিফ সাহেব সন্দেহের চোখে তাকালেন। "যে কোনো টপিক? আচ্ছা, দেখি... এটাকে জিজ্ঞেস কর তো, পাই (π) এর মান কত?"
সাইফা প্রম্পটটা টাইপ করল। সেকেন্ডের মধ্যেই রেসপন্স এলো: "পাই (π) এর মান প্রায় 3.14159। এটি একটি আইরেশনাল সংখ্যা যার দশমিক অংশ অসীম এবং নন-রিপিটিং।"
কাশিফ সাহেবের চোখ বিস্ফারিত হলো। "আরে, এ তো অ্যাকুরেট! আচ্ছা, এবার জিজ্ঞেস কর, 1729 সংখ্যাটির বৈশিষ্ট্য কী?"
উত্তর আসতেই কাশিফ সাহেব চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠলেন। "রামানুজন নম্বর! হারডি-রামানুজন নম্বর! অসাধারণ! এ তো দেখছি অ্যাডভান্সড ম্যাথও জানে!"
সাইফা মুচকি হাসল। "শুধু জানা নয় নানা, এটা তোমাকে কমপ্লেক্স ক্যালকুলেশনেও অ্যাসিস্ট করতে পারে। ধর, তুমি যদি একটা ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন সলভ করতে চাও..."
সারাদিন ধরে সাইফা তার নানাকে চ্যাট-জিপিটির ডাইভার্স অ্যাপ্লিকেশন ডেমোনস্ট্রেট করল। তারা একসাথে বেশকিছু ম্যাথ প্রবলেম সলভ করল, স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস করল, এমনকি নানার পুরনো রিসার্চ পেপারগুলোও এআই দিয়ে রিভিউ করালো।
সন্ধ্যায়, কাশিফ সাহেব চিন্তিত স্বরে বললেন, "জানিস সাইফা, এই টেকনোলজি সত্যিই রেভোলুশনারি। কিন্তু মনে রাখবি, এর বাহাইন্ড দ্য সিনস যে অ্যালগরিদম আছে, তা আসলে মানুষেরই ক্রিয়েশন। আমাদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং স্কিল শার্পেন করতে ভুলবি না।"
সাইফা সিরিয়াস হয়ে মাথা নাড়ল। "অবশ্যই, নানা। চ্যাট-জিপিটি আমাদের টুল, কিন্তু আমাদের মানুষের ইনোভেটিভ থিংকিং এর চেয়ে অনেক বেশি পাওয়ারফুল।"
কাশিফ সাহেব গর্বের সাথে নাতনির দিকে তাকালেন। "তুই পারফেক্টলি অবজার্ভ করেছিস। এখন চল, তোর নানির জন্য এই এআই দিয়ে একটা কমপ্লেক্স ফ্র্যাকটাল প্যাটার্ন জেনারেট করি।" দুই জনই হাসলো।
এদিকে চ্যাট-জিপিটি ভাবছে, ভালোই তো! কাটিং-এজ টেকনোলজি ও ট্র্যাডিশনাল নলেজের মধ্যে একটি সিনার্জি তৈরি হলো, জেনারেশন গ্যাপ ব্রিজ হলো ইনোভেশন ও এক্সপেরিয়েন্সের ফিউশনে।
(ক্রমশঃ)
(কমেন্টে লিংক)
হারারি লোকটাকে নিয়ে আরেকটু বলি। একদম ফিলসফি-র বাদশা! “সাপিয়েন্স” লিখে তো পুরো মানব জাতির হিস্ট্রি গুছিয়ে দিল। এখন আবার কী করেছে শোনো -
মাঝে মাঝে এমন কথা বলে যে মনে হয় উনি বুঝি গুগল-এর চাচা! যেমন বলছে, “মানুষের লাইফ নাকি নিজেকে ইম্প্রুভ করা — আর যা আছি তা এক্সেপ্ট করার মধ্যে ব্যালেন্স”। এতই সিম্পল?
আর শোনো, প্রাচীন রোমানরা নাকি ডেমোক্রেসি কী জিনিস খুব ভালো বুঝত। হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক শুনেছো! দুই হাজার বছর পর হারারি সাহেব ওদের একটা গোল্ড স্টার দিয়ে দিলেন!
এই লোক আগে লিবারেলদের ঠাট্টা করত, এখন নিজেই লিবারেল হয়ে গেছে মনে হয়। বলছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নাকি সিভিলাইজেশন ডেস্ট্রয় করে দেবে! ওরে বাবা, ফুকুয়ামা ভাইয়ের “হিস্ট্রির এন্ড” থিওরি তো পানিতে গেল! আমি যে এতো এতো এআই নিয়ে কাজ করলাম, সেটা নাকি আমাদেরকে খেয়ে ফেলবে। আমার কথা একটাই। আমরা এআই ব্যবহার না করলে অন্যেরা তো বন্ধ করবে না, বরং পিছিয়ে পড়বো আমরা।
হারারি যেন মাথায় ঠেকা খেয়েছে — সবাই যা বলে, উনি তার অপোজিট বলবেন। প্রিন্টিং প্রেস নাকি সায়েন্সের জন্য ভালো কিছু করেনি! বরং উইচহান্ট বই ছাপার জন্য রেসপন্সিবল! বইপত্র না থাকলে সায়েন্টিস্টরা কার শোল্ডারে দাঁড়িয়ে রিসার্চ করত?
AI নিয়ে তো কথাই নেই। বলছে AI নাকি নিউ আইডিয়া ক্রিয়েট করতে পারে, আর্ট বানাতে পারে। আরে ভাই, সাইটেশন নিডেড! কোথায় দেখলে এসব?
শেষে অ্যাডভাইস দিয়েছে — AI রেগুলেট করো, ডেমোক্রেসি মেইনটেইন করো। তাই তো করছি আমরা! এত ভয় দেখিয়ে শেষে এই কথা?
যাই হোক, মাঝে মাঝে কিছু ইন্টারেস্টিং টপিক নিয়েও কথা বলেছে। কিন্তু ওর এই প্রেডিকশন মোড কি আর ছাড়বে? রিডাররা বোধহয় এটাই চায়!
(কমেন্টে আমার সব লেখা ...)
এই হারারি লোকটা কি জানো? জটিল জিনিসকে এমন সহজ করে বলে যে মনে হয় যেন চা-বিস্কুটের আড্ডায় বসে গল্প করছে।
এই "নেক্সাস" বইটায় কী করেছে জানো? অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব একসাথে মিশিয়ে একটা মজার খিচুড়ি বানিয়েছে! আসল টপিক হল তথ্য আর তার নেটওয়ার্ক। AI নিয়েও কথা বলেছে, তবে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে।
রাজনীতি নিয়েও কিছু কথা বলেছে, কিন্তু সোজাসুজি কারও নাম ধরে না। বলে কী, গণতন্ত্র আর একনায়কতন্ত্র নাকি দুইটা আলাদা ধরনের তথ্যের নেটওয়ার্ক! বাহ, কী দারুণ তুলনা!
AI নিয়ে একটা মজার কথা বলেছে - এটা নাকি প্রথম নেটওয়ার্ক যেটা মানুষের হেল্প ছাড়াই কাজ করতে পারে। একটু ভয়ের ব্যাপার, তাই না?
আর কী কী বলেছে শোনো:
- ক্ষমতা মানে বুদ্ধি না (হা হা, পলিটিশিয়ানদের কথা মনে পড়ছে!)
- ইতিহাস মানে শুধু পুরনো গল্প না, এটা আসলে পরিবর্তনের গল্প
- গণতন্ত্র মানে সবাই মিলে হৈ হৈ করা না, সবার জন্য ফ্রিডম আর সমান অধিকার
- ভোটাভুটি মানে সত্য খোঁজা না, এটা আসলে ঝগড়া মেটানোর একটা কায়দা
- তথ্য মানেই সত্য না (ফেসবুকের কথা মনে পড়ল?)
শেষে বলেছে, এই বইটা পড়ো, তবে সব মেনে নিতে হবে এমন না। নিজের মাথা খাটাও, ভাবো!
কী বলো, পড়বে নাকি? আমার তো মনে হয় একবার চোখ বুলিয়ে দেখা যেতে পারে!
পুরনো সিলিং ফ্যানের ঘড়ঘড় শব্দে ঘরের আবহ যেন পুরোটাই ‘ঢাকাইয়া’ হয়ে উঠেছে। তিনটা ল্যাপটপের নীল আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। সেই আলোয় ভেসে উঠছে কফির কাপ থেকে ওঠা হালকা ধোঁয়া। সঙ্গে আছে ইনডাকশন প্লেট। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে, আর সেই বৃষ্টির শব্দের সাথে মিশে যাচ্ছে দূরের রিকশার টুং টুং আওয়াজ।
ঘরের কোণে পড়ে থাকা পুরনো বইগুলো থেকে ভেসে আসছে সেই চিরপরিচিত সোঁদা গন্ধ। এই পরিবেশে ব্রায়ান এখন অভ্যস্ত৷ রাশাদ আর ভিয়া — এসেছে পরে। কয়েকটা রিপোর্ট হাতে নিয়ে। কেমন যেন এক অদ্ভুত উত্তেজনা আর উদ্বেগের মাঝে ডুবে আছে তারা। চোখ স্ক্রিনে আটকে, কিন্তু মন উড়ে বেড়াচ্ছে এক অজানা ঝামেলার দিকে।
ব্রায়ান ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “গাইজ, আমাদের ‘প্রজেক্ট”’ একটা লেভেলে নয়েজকে ফিল্টার করতে পারছে! ওয়ার্কেবল স্টেটে এসেছে মনে হচ্ছে।”
রাশাদ চারপাশে তাকিয়ে নিয়ে, নিচু গলায় বলল, “শshshh! আস্তে কথা বল। দেয়ালেরও কান আছে।”
ভিয়া একটু হেসে বলল, “রিল্যাক্স, রাশাদ। এই জায়গাটা আমি নিজে চেক করেছি। কোনো বাগ নেই আপাততঃ।”
রাশাদ একটু লজ্জিত হয়ে বলল, “সরি, হয়ত একটু ওভাররিঅ্যাক্ট করছি। কিন্তু তোমরা তো জানো, এই প্রজেক্টের ইম্পর্টেন্স কতো।”
ব্রায়ান মাথা নেড়ে সায় দিল, “হ্যাঁ, বুঝতে পারছি। আমরাও নার্ভাস। তবে, আমাদের ফোকাস করতে হবে কিছু জায়গায়। দেখো, আমাদের সিস্টেম সত্যিই কাজ করছে প্রোটোটাইপ হিসেবে।”
ভিয়া এগিয়ে এসে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। চোখ পাকিয়ে বললো “ওমাই গড! এটা কি সত্যি? আমাদের এক্সটেন্ডেড-এআই সিস্টেম কি সত্যিই দেশের অনেকগুলো ডাটা পয়েন্ট কানেক্ট করতে পেরেছে?”
সবাই হাসলো। কারণ ভিয়াই ‘এপিআই’ লেভেলে এই কানেকশন এক্সপার্ট!
ব্রায়ান উত্তেজিত হয়ে বলল, “হ্যাঁ! ফান করো না! শুধু তাই নয়, এটা নতুন একটা প্যাটার্ন ডিসকভার করেছে। দেখো, এখানে দেখাচ্ছে কীভাবে এই দেশের কৃষি উৎপাদন, আবহাওয়া, অর্থনীতি, রাজনীতি — সবকিছু একে অপরের সাথে ইন্টারকানেক্টেড। মনে আছে, আমরা কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এলসি ডেটা, কাস্টমস ডেটা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট, এমনকি স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে পাওয়া ভূমি ব্যবহারের তথ্য — সব একসাথে ফিড করেছিলাম?”
“হ্যাঁ, অনেকগুলো পাবলিক ডাটা।”
রাশাদ এগিয়ে এসে স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে পড়ল। “আমাকে একটু ডিটেইলে বুঝিয়ে বলো তো।”
ব্রায়ান মাথা নেড়ে বলল, “অবশ্যই। দেখো, এই গ্রাফটা। এটা দেখাচ্ছে গত ৩০ বছরের পেঁয়াজের দাম, উৎপাদন, এবং আমদানির তথ্য। কিন্তু এর সাথে আমাদের এআই মডেল যোগ করেছে আরও কিছু ভ্যারিয়েবল।”
ভিয়া যোগ করল, “হ্যাঁ, যেমন দেখো এই লাল লাইনটা। এটা দেখাচ্ছে মৌসুমি বন্যার তীব্রতা। লক্ষ্য করো, যখনই এই লাইন উপরে উঠেছে, তার কিছুদিন পর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।”
রাশাদ বিস্মিত হয়ে বলল, “এটা তো অদ্ভুত! কিন্তু এর মানে কি বন্যা পেঁয়াজের দাম বাড়ায়?”
ব্রায়ান মাথা নাড়ল, “সরাসরি না। কিন্তু বন্যায় যাতায়াত ব্যবস্থা ‘ডিজরাপ্টেড’ হয়, এতে সরবরাহ কমে যায়। আবার, বন্যার পর কৃষকরা অন্য ফসল চাষে মনোযোগী হয়, এতে পরবর্তী মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন কমে যায়।”
ভিয়া আরও যোগ করল, “আর এই নীল লাইনটা দেখো। এটা দেখাচ্ছে ভারত এবং মিয়ানমারের সাথে আমাদের রাজনৈতিক সম্পর্কের একটা সূচক। যখনই এই লাইন নিচে নেমেছে, তার কিছুদিন পর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।”
রাশাদ হাই তুলে বলল, “এখন বুঝতে পারছি! রাজনীতির সাথে পেঁয়াজের দামের সম্পর্ক অনেক দিনের।”
ব্রায়ান ব্যাখ্যা করল, “মনে রাখো, এই দেশ অনেক পেঁয়াজ আমদানি করে এই দুই দেশ থেকে। যখন রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়, তখন সীমান্তে ঝামেলা বাড়ে, আমদানি কমে যায়। ফলে দাম বাড়ে।”
ভিয়া আরও একটা গ্রাফ দেখাল, “আর এই সবুজ লাইনটা দেখো। এটা দেখাচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার। দেখো কীভাবে এটা ধীরে ধীরে পেঁয়াজের প্রোডাকশনকে প্রভাবিত করছে।”
(ক্রমশঃ)
খসড়া উপন্যাসের অংশবিশেষ: কল্যাণী ২.০
(ডিসক্লেইমারঃ এই গল্পে ব্যবহৃত সমস্ত স্থান, চরিত্র ও কাহিনী কাল্পনিক, মস্তিষ্ক প্রসূত। কারো চরিত্র কিংবা কোন ঘটনার সাথে মিলে গেলে তা কাকতালীয় ঘটনা মাত্র। এর জন্য লেখক দায়ী নন)
(পুরোটা কমেন্টে)
চ্যাপ্টার ১: প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং - নতুন যুগের প্রোগ্রামিং
আজকের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে, যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, সেখানে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং একটা গুরুত্বপূর্ণ স্কিল হিসেবে এসেছে। কিন্তু এই টার্মটা অনেকের কাছেই নতুন। চলুন, আমরা শুরু করি মূল কনসেপ্ট থেকে।
প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং কী?
প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং হলো এআই সিস্টেমকে এফিশিয়েন্টলি ও এফেক্টিভলি ইন্সট্রাকশন দেওয়ার আর্ট ও সায়েন্স। এটা এমন একটি প্রসেস যেখানে আমরা এআই-কে এমনভাবে গাইড করি যাতে সে আমাদের দরকার অনুযায়ী সঠিক ও রিলেভেন্ট আউটপুট দিতে পারে।
কেন প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শিখবেন?
১. বেটার কমিউনিকেশন: এআই-এর সাথে এফেক্টিভ কমিউনিকেশন করতে পারবেন।
২. টাইম সেভিং: সঠিক প্রম্পট দিয়ে দ্রুত ও এক্যুরেট রেজাল্ট পাবেন।
৩. ক্রিয়েটিভিটি বৃদ্ধি: নতুন নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে সাহায্য করবে।
৪. প্রবলেম সলভিং: জটিল সমস্যাগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সমাধান করতে পারবেন।
প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বেসিক প্রিন্সিপলস:
১. ক্লিয়ার ও স্পেসিফিক হওয়া: আপনার ইন্সট্রাকশন যত স্পষ্ট হবে, রেসপন্স তত ভালো হবে।
২. কনটেক্সট প্রোভাইড করা: এআই-কে সিচুয়েশন সম্পর্কে ক্লিয়ার আইডিয়া দিন।
৩. স্টেপ বাই স্টেপ গাইড করা: জটিল টাস্কগুলোকে ছোট ছোট স্টেপে ভাগ করুন।
৪. এক্সাম্পল দেওয়া: কাঙ্ক্ষিত আউটপুটের উদাহরণ দিলে এআই আরও ভালো বুঝতে পারবে।
প্র্যাকটিক্যাল এক্সারসাইজ:
চলুন একটা সিম্পল এক্সারসাইজ দিয়ে শুরু করি।:
ধরুন, আমি একটা আইটি কোম্পানির হয়ে একটা টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করছি। শুরুতেই চ্যাট-জিপিটিতে টেন্ডার ডকুমেন্টটা আপলোড করলাম। এরপর আমাদের কোম্পানির কিছু কাজের লিস্ট এবং কিভাবে কাজগুলো করা হয় সেটার কিছু ধারণার একটা ডকুমেন্ট আপলোড করলাম। এগুলো সাধারণতঃ আমাদের ওয়েবসাইটেই আছে। তারপর, তাকে কিছু প্রশ্ন করে দেখতে পারি যে, সে ডকুমেন্টের কনটেক্সট বুঝেছে কিনা। এটা কিছুটা ডকুমেন্টের সাথে ফ্যামিলিয়ারাইজেশনের জন্য সাহায্য করবে (অপশনাল)। এরপর, আমরা দেখব কীভাবে একটা সাধারণ প্রম্পট থেকে বিস্তারিত ও কার্যকরী প্রম্পটে যেতে পারি:
সাধারণ প্রম্পট:
"একটি টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করে দাও।"
এটা যদি মনের মতো না হয় তাহলে এটা দেখুন।
স্মার্ট প্রম্পট:
"তুমি …. কোম্পানির চীফ টেকনোলজি অফিসার। দয়া করে একটি আইটি সার্ভিসেস কোম্পানির জন্য একটি কমপ্লিট টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করুন। এই ডকুমেন্টটা একটি সরকারি অফিসের জন্য নতুন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ডেভেলপ করার প্রজেক্টের জন্য। নিচের পয়েন্টগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন দুটো ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে:
১. টেন্ডারের টাইটেল ও রেফারেন্স নম্বর
২. প্রজেক্টের ব্যাকগ্রাউন্ড ও অবজেক্টিভ (১৫০ শব্দের মধ্যে)
৩. স্কোপ অফ ওয়ার্ক (কমপক্ষে ৫টি কী পয়েন্ট)
৪. টেকনিক্যাল রিকোয়ারমেন্টস (হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার স্পেসিফিকেশন সহ)
৫. ডেলিভারেবলস ও টাইমলাইন (প্রজেক্টের প্রধান মাইলস্টোন সহ)
৬. বিডার কোয়ালিফিকেশন ক্রাইটেরিয়া (অভিজ্ঞতা, টিম সাইজ, ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ইত্যাদি)
৭. বিড সাবমিশন প্রসেস ও ডেডলাইন
৮. ইভ্যালুয়েশন ক্রাইটেরিয়া (টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল স্কোরিং সিস্টেম)
৯. পেমেন্ট টার্মস ও কন্ডিশনস
প্রতিটি সেকশনে প্রফেশনাল ও টেকনিক্যাল ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করুন। ডকুমেন্টটি এমনভাবে স্ট্রাকচার করুন যাতে এটি সহজে পড়া ও বোঝা যায়। সর্বমোট ওয়ার্ড কাউন্ট ১০০০ শব্দের মধ্যে রাখুন।"
এই ‘স্মার্ট’ প্রম্পটটা অনেক বেশি স্পেসিফিক ও স্ট্রাকচার্ড। এটা এআই-কে নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেয়:
১. টেন্ডারের ধরন ও কি কাজে ব্যবহার হবে
২. অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এমন নির্দিষ্ট বিষয়গুলো বলে দেয়া
৩. প্রতিটি সেকশনের জন্য স্পেসিফিক ইন্সট্রাকশন
৪. ভাষার ধরন ও স্টাইল
৫. ডকুমেন্টের দৈর্ঘ্য
এই ধরনের ডিটেইল্ড প্রম্পট ব্যবহার করে, আপনি হাই-কোয়ালিটি, প্রফেশনাল টেন্ডার ডকুমেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটা প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা চমৎকার উদাহরণ হতে পারে - যেখানে আমরা একটা জেনারেল রিকোয়েস্টকে একটি স্পেসিফিক, স্ট্রাকচার্ড ইন্সট্রাকশনে রূপান্তরিত করেছি। এই ধরনের প্রম্পট এআই-কে আরও ভালো গাইডেন্স দেয় ও বেটার রেজাল্ট প্রোডিউস করে।
আগামী চ্যাপ্টারগুলোতে আমরা আরও অ্যাডভান্সড টেকনিক ও রিয়েল-ওয়ার্ল্ড এক্সাম্পল নিয়ে আলোচনা করব। প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শেখার এই জার্নিতে আপনাকে স্বাগতম!
[বইটার লিংক পাবেন কমেন্টে]
সন্ধার অন্ধকারে ল্যাপটপের স্ক্রিনের আলোয় মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল রাফির। সে যেন কোনো নতুন জগতের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং - এই শব্দটা তার মনে ম্যাজিক ছড়িয়ে দিয়েছে গত কয়েকদিন ধরে। রাফি চিন্তা করছে, "কী অদ্ভুত এই ওয়ার্ল্ড! আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাথে কথা বলা, তাকে নিজের মতো করে ট্রেইন করা - এ যেন এক নতুন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার মতো।"
ফার্স্ট স্টেপে, রাফি এআই-এর সাথে পরিচয় করল। এখানে আজকের এআই সিস্টেম হচ্ছে চ্যাট-জিপিটি। এর পাশাপাশি অন্যান্য এআই সিস্টেমে একই ধরনের পদ্ধতি কাজ করবে। সে শুরু করল সিম্পল প্রশ্ন দিয়ে। "তোমার নাম কী?" "তুমি কী করতে পারো?" - এই বেসিক কথোপকথন থেকেই সে বুঝতে পারল, এআই-এর সাথে কথা বলা মানে একটা নতুন ফ্রেন্ডের সাথে চ্যাট করার মতো। আমাদের একে অপরের সাথে সহজ হয়ে উঠতে হবে শুরুতেই।
সেকেন্ড স্টেপে, রাফি ইন্সট্রাকশনের ইম্পরট্যান্স শিখল। ধীরে ধীরে সে বুঝল, এআই-কে যত ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন দেওয়া যায়, তত বেটার রেজাল্ট পাওয়া যায়। সে যেন একজন আর্টিস্টকে পেইন্টিং আঁকার ডিরেকশন দিচ্ছে - যত ডিটেইল্ড বলা যায়, ছবিটা তত পারফেক্ট হয়। একদম মানুষকে শেখানোর মতো।
থার্ড স্টেপে, রাফি নিজের ভাষার ম্যাজিক আবিষ্কার করল। সে সারপ্রাইজড হয়ে দেখল, ভাষার ছোট্ট চেঞ্জে কী অদ্ভুত ডিফারেন্স আসে রেসপন্সে। "দয়া করে বলুন" থেকে "অনুগ্রহ করে জানাবেন" - এই সিম্পল চেঞ্জে এআই-এর আন্সারের স্টাইল বদলে যায়। একদম মানুষের মতো তাই না?
ফোর্থ স্টেপে, রাফি স্টোরি টেলিংয়ের মাধ্যমে শেখার টেকনিক আয়ত্ত করল। একদিন সে চিন্তা করল, "যদি এআই-কে একটা স্টোরির ক্যারেক্টার হিসেবে ইমাজিন করি?" সে এআই-কে বলল, "তুমি একজন স্মার্ট টিচার। আমাকে বাংলাদেশের হিস্ট্রি শেখাও।" এআই-এর রেসপন্স দেখে রাফির চোখ কপালে উঠল - এত ইজি, এত ইন্টারেস্টিং! এরপরে বলল, মনে করো - তুমি ১৯৭১ সালে ঢাকায় বসে আছো। ডিসেম্বর মাসের ঘটনাটা বলো তো দেখি?
ফাইনাল স্টেপে, রাফি ভুল থেকে লার্নিং-এর ইম্পর্টেন্স বুঝতে পারলো। মাঝে মাঝে এআই ভুল করত। কিন্তু রাফি ‘ডিসাপয়েন্টেড’ হত না। সে বুঝল, এই মিসটেকগুলোও লার্নিংয়ের অপরচুনিটি। সে এআই-কে ঠিক করত, নতুন ইনফরমেশন দিত। এভাবেই তার স্কিল ডেভেলপ হতে লাগল।
এভাবে প্রায় ১৫ দিন কেটে গেল। রাফি যেন এক ‘ইনভিজিবল’ ব্রিজ তৈরি করছিল - মানুষ আর মেশিনের মধ্যে। তার চোখে স্বপ্ন, মনে এক্সাইটমেন্ট। সে বুঝতে পারলো, এই জার্নি শুরু হলো মাত্র। প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং তার কাছে শুধু একটা স্কিল নয়, নতুন পৃথিবী এক্সপ্লোর করার পথ।
(নতুন বই: প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
1206