বাংলা গল্পের বই

বাংলা গল্পের বই

Share

বাংলা গল্পের বই—ভালো-খারাপ,হাসি-কান্না, রূপকথা-বাস্তব সব গল্পের এক ভাণ্ডার,যা মন ছুঁয়ে যাবে প্রতিদিন।

12/01/2026

#গল্পের_নাম বিকেলের চা আর অদ্ভুত মেয়েটি
✦ পর্ব–৪
সারারাত ঘুম আসেনি।
ডায়েরির পাতাগুলো বারবার চোখের সামনে ভাসছিল।
সকালে উঠে দেখি, মোবাইলে একটা মেসেজ—
রিমা: “বিকেল ৪টা। পুরনো নদীর পাড়। দেরি কোরো না।”
বিকেল ঠিক চারটায় আমি—আসিফ—নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে।
রিমা আগে থেকেই ছিল। পাশে একজন মহিলা—মাঝবয়সী, চোখে অদ্ভুত এক পরিচিত মায়া।
রিমা বলল,
— “এই আমার মা।”
মহিলাটি আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসলেন।
— “তুমি অনেক বড় হয়ে গেছ, আসিফ।”
আমার মাথা ঘুরে গেল।
— “আপনি… আমাকে চিনেন?”
তিনি নদীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
— “তোমার হারিয়ে যাওয়ার দিনটা আমি ভুলিনি।”
ঠিক তখন পাশ থেকে আরিফ এসে চেঁচিয়ে বলল,
— “এইখানে কি সিনেমার শুটিং?”
রিমা ফিসফিস করে বলল,
— “দেখছ? রহস্যের মাঝেও বিরক্তি ফ্রি।”
আমি হাসলাম, কিন্তু বুকের ভেতর কাঁপুনি থামল না।
কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম—
আমার অতীতটা আমার চেয়েও বেশি মানুষ জানে।

06/01/2026

“নীরব বিকেলের চিঠি”
বিকেলটা ছিল অদ্ভুতভাবে শান্ত। আকাশে নরম মেঘ, রোদ যেন আলতো হাতে ছুঁয়ে দিচ্ছিল চারপাশ। নীলা জানালার পাশে বসে পুরোনো চিঠির বাক্সটা খুলল। বাক্সটা সে বহুদিন খোলেনি। আজ কেন যেন মন চাইছিল।
ভেতর থেকে বের হলো হলুদ হয়ে যাওয়া একটি চিঠি। হাতের লেখাটা খুব চেনা। ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করল—
“নীলা, যদি কখনো এই চিঠি পড়ো, জেনো—আমি তখনও তোমাকে ঠিক আজকের মতোই অনুভব করতাম।”
নীলার চোখে জল এসে গেল। কত বিকেল, কত কথা, কত না বলা অনুভূতি! কলেজের সেই দিনগুলোতে তারা প্রতিদিন বিকেলে একই গাছের নিচে বসত। বড় বড় স্বপ্ন নয়, ছোট ছোট হাসিই ছিল তাদের সম্বল।
চিঠিতে লেখা ছিল,
“ভালোবাসা সব সময় একসাথে থাকার নাম নয়। কখনো কখনো দূরে থেকেও কাউকে নিজের করে রাখা যায়।”
নীলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। রাস্তার ধারে সেই পুরোনো কৃষ্ণচূড় গাছটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, কিন্তু অনুভূতির রঙ বদলায়নি।
সে চিঠিটা আবার ভাঁজ করে রাখল। বুকের ভেতর হালকা একটা প্রশান্তি নামল। কিছু স্মৃতি কষ্ট দেয় না, বরং মানুষকে নরম করে।
বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হচ্ছিল। নীলা মনে মনে হাসল। সব গল্পের শেষ হয় না—কিছু গল্প শুধু হৃদয়ের ভেতর শান্ত হয়ে বসবাস করে।

পরবর্তী গল্প পেতে সঙ্গে থাকুন 🥰
Please follow the page

03/01/2026

#গল্পের_নাম: “ভুলে শুরু, ভালোবাসায় শেষ”
বিকেলের আকাশে তখন লাজুক রোদ। রাফি চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিল আর মোবাইলে আনমনে স্ক্রল করছিল। হঠাৎ একটা অচেনা নম্বরে ভুল করে মেসেজ চলে গেল—
“আজ মনটা খুব অকারণে তোমাকে চাইছে।”
মেসেজ পাঠিয়ে রাফির মাথায় হাত!
“আরে! ভুল নম্বর!” 😳
ঠিক তখনই রিপ্লাই এল—
“ভুল হলে এমন মিষ্টি কথা পাঠালে কেন?”
রাফি লজ্জায় পড়ে লিখল,
“সরি… মেসেজটা আমার হৃদয় লিখে ফেলেছে।”
ওপাশ থেকে হেসে আসা রিপ্লাই—
“তাহলে হৃদয়টার নাম কী?”
সেখান থেকেই শুরু। মেয়েটির নাম মায়া। রাফি আর মায়ার কথাবার্তা চলতে লাগল। কেউ কারও ছবি দেখেনি, কিন্তু প্রতিদিন হাসি আদান–প্রদান হয়। কখনো রাফি মজা করে বলে,
“তুমি হাসলে মনে হয় নেটওয়ার্ক আরও ভালো হয়ে যায়!”
মায়া বলে,
“তুমি কথা বললে আমার চার্জ ফুল থাকে।” 😄
একদিন হঠাৎ মায়া চুপ। রাফির মন ভারী হয়ে যায়। রাতে মেসেজ পাঠায়—
“আজ তোমার হাসিটা পাইনি। দিনটা অসম্পূর্ণ।”
অনেকক্ষণ পর রিপ্লাই আসে—
“ভয় পাচ্ছিলে?”
রাফি লিখল,
“হ্যাঁ। কারণ তুমি এখন আমার অভ্যাস।”
কয়েকদিন পর দেখা করার সিদ্ধান্ত। ক্যাফেতে রাফি টেবিলে বসে আছে। ঘামছে হাত। হঠাৎ এক মেয়ে এসে বলে—
“এই যে, ভুল নম্বর?”
রাফি তাকিয়ে হেসে বলে,
“হ্যাঁ… কিন্তু ঠিক মানুষের কাছে এসেছে।”
মায়া হেসে বলে,
“তাহলে ভুলটা আর শুধরাবো না।”
রাফি মজা করে বলে,
“এই ভুলটা আমি আজীবন রিচার্জে রাখতে চাই।”
দু’জনেই হাসে।
রোদ, চা, আর দু’টা হৃদয়—সব মিলে এক সুন্দর গল্পের শুরু।

সবাই পেজটিকে ফলো করুন এবং শেয়ার করুন। পরবর্তী গল্প পেতে সঙ্গে থাকুন🥰

bKash 29/10/2025

হ্যালো! বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করতে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি! অ্যাপ ডাউনলোড ও সাইন আপ করতে ট্যাপ করুন:

bKash Transactions, now that simple!

24/08/2025

#গল্পের_নাম: “অপ্রত্যাশিত সাহস”

#লেখক: এ আর রহমান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বিকেলের আড্ডা জমে উঠেছে ক্যান্টিনে। ভিড়ের মধ্যে আরিফ চুপচাপ বসে আছে। তার চোখ বারবার ঘুরে যাচ্ছে দরজার দিকে। ঠিক তখনই নীলা ভেতরে ঢুকল—হাতে বই, মুখে ক্লান্তি, তবুও শান্ত হাসি যেন চারপাশ উজ্জ্বল করে তুলল।

প্রথম আলাপ হয়েছিল এক অদ্ভুত ঘটনায়। সেদিন লাইব্রেরির সিঁড়িতে নীলার বই পড়ে গিয়েছিল। আরিফ তাড়াহুড়ো করে তুলে দিয়ে বলেছিল—
— “আপনার বইগুলো মনে হচ্ছে আপনাকে ছেড়ে পালাতে চায়।”

নীলা মুচকি হেসে উত্তর দিয়েছিল—
— “না, আসলে এগুলো অনেক ভারী।”

সেই ছোট্ট ঘটনাই ছিল নতুন এক যাত্রার শুরু।

দিন যেতে লাগল। ক্লাসে নোট শেয়ার, লাইব্রেরিতে পড়া, ক্যান্টিনে একসাথে চা খাওয়া—সবকিছুতেই তারা ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসতে লাগল। নীলা প্রাণবন্ত, সহজ-সরল। আরিফ অনেকটা চুপচাপ, তবে নীলার সামনে তার কথা যেন ফুরাত না।

এক বিকেলে অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে আরিফ হঠাৎ বলল,
— “নীলা, জানো, এই ভিড়ের মাঝে আমার চোখ শুধু তোমাকেই খুঁজে।”

নীলা চমকে তাকাল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— “হয়তো এটা শুধু ভালো লাগা।”
আরিফ হেসে বলল,
— “হয়তো… কিন্তু এই ভালো লাগাটাই প্রতিদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করায়।”

নীলার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল।

কিন্তু জীবন সবসময় সহজ হয় না। নীলা একদিন বলল,
— “আমার পরিবার প্রেম-ভালোবাসা মেনে নেবে না। তারা চায় আমি শুধু পড়াশোনায় মন দিই। হয়তো আমাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেবে।”

আরিফ থমকে গেল। সেদিন রাতে সে ঘুমাতে পারল না।

পরের দিন সাহস করে নীলাদের বাড়িতে গেল। নীলার বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
— “আমি আরিফ। নীলাকে সম্মান করি, ভালোবাসি। পড়াশোনা শেষ হলে তাকে বিয়ে করতে চাই।”

প্রথমে নীলার বাবা রেগে গেলেন। কিন্তু আরিফের ভদ্রতা ও দৃঢ়তায় ধীরে ধীরে তার রাগ কমে গেল। তিনি বললেন,
— “আগে পড়াশোনা শেষ করো। সময় যদি প্রমাণ করে তোমরা সত্যিই একে অপরের জন্য, তখন আমি আপত্তি করব না।”

সেদিন বিকেলে ক্যাম্পাসের বেঞ্চে বসে নীলা চোখে জল নিয়ে বলল,
— “তুমি যদি আজ সাহস না করতে, আমি হয়তো চিরদিন আফসোস নিয়ে বাঁচতাম।”

আরিফ তার হাত ধরে ফিসফিস করে বলল,
— “ভয় পেও না। আমি আছি, শুধু তোমার জন্য।”

সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছিল। লাল আভায় ভরে উঠেছিল চারপাশ। আর তাদের দু’জনের মন ভরে উঠেছিল নতুন সাহস আর ভালোবাসায়।

12/08/2025

#গল্পের_নাম: ট্রেনের জানালায় অপরিচিত

#লেখক: এ আর রহমান

#পর্ব ১: প্রথম যাত্রা

রাজশাহীর শীতের সকাল। সূর্য তখনও কুয়াশার চাদরে মোড়ানো, হাওয়ায় একধরনের ঠান্ডা কাঁপুনি। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে কেয়া—তার জীবনের প্রথম একা দীর্ঘ যাত্রা আজ। ধূমকেতু এক্সপ্রেসে চেপে যাবে ঢাকায়। হাতে মাঝারি সাইজের ট্রাভেল ব্যাগ, গলায় নীল উলের মাফলার, আর চোখে একটু নার্ভাসনেস—যেটা জীবনের নতুন অভিজ্ঞতার শুরুতে হয়েই থাকে।

স্টেশনে মানুষের ভিড় প্রচুর, কেউ সুটকেস টেনে নিয়ে যাচ্ছে, কেউ আবার বড় বড় বস্তা মাথায় তুলছে। কেয়া ভিড়ের ভেতর দাঁড়িয়ে বারবার ঘড়ি দেখছে। তার মনের ভেতরে কেমন একটা মিশ্র অনুভূতি—উত্তেজনা আছে, আবার ভয়ও আছে। সে মনে মনে ভাবছে, "আশা করি ট্রেনে কোনো বিপদ হবে না।"

হঠাৎ মাইকে ঘোষণার আওয়াজ—

> “ঢাকা অভিমুখী ধূমকেতু এক্সপ্রেস কয়েক মিনিটের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম নাম্বার তিনে প্রবেশ করবে।”

ঘোষণা শুনেই চারপাশে নড়াচড়া শুরু হলো। লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়লো, অনেকের মুখে ঘুম জড়ানো ভাব। কেয়া ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, তার চোখ ঘুরে ঘুরে চারপাশে তাকাচ্ছে—কারো মুখে হাসি, কারো মুখে অস্থিরতা।

ট্রেন এলো গর্জন করতে করতে। কামরাগুলো কুয়াশার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল যেন সিনেমার দৃশ্য। কেয়া তার নির্দিষ্ট সিট খুঁজে নিল—জানালার পাশে, ডানদিকের সারিতে। জানালার বাইরে কুয়াশায় ঢাকা ল্যাম্পপোস্টের আলো ঝাপসা দেখাচ্ছে।

ট্রেন ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে, তার বিপরীতে এসে বসলেন একজন ভদ্রলোক। বয়স আনুমানিক চল্লিশের মতো, পরনে ধূসর জ্যাকেট, মুখে হালকা হাসি। বসেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন—
– “প্রথমবার একা যাচ্ছেন নাকি?”
কেয়া একটু অবাক হয়ে বললো—
– “জি… কীভাবে বুঝলেন?”
– “চোখের চাহনিতেই বোঝা যায়,” ভদ্রলোক হেসে বললেন।

ট্রেন ধীরে ধীরে গতি নিতে শুরু করলো। কেয়া জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখছে—স্টেশনের দোকানপাট, কুয়াশায় ঢাকা গাছ, আর দূরে এক-আধটা সাইকেলচালক। এই সময় ভদ্রলোক হঠাৎ বললেন—
– “আপনি কি জানেন, এই ট্রেনে ভূতের গল্প আছে?”

কেয়া চমকে উঠে তাকালো—
– “ভূতের গল্প?!”
– “হ্যাঁ। বলে, রাত হলে এই জানালার পাশ দিয়ে লাল শাড়ি পরা এক মেয়েকে দৌড়াতে দেখা যায়। অথচ ট্রেন তখন চলতে থাকে পূর্ণ গতিতে।”

কেয়া একটু নার্ভাস হয়ে হেসে বললো—
– “আপনি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন?”
– “না না,” ভদ্রলোক মাথা নাড়লেন, “আমি শুধু গল্প বলছি। আপনি চাইলে না-ও বিশ্বাস করতে পারেন।”

গল্পটা শোনার পর কেয়া জানালা থেকে বাইরে তাকালো—কুয়াশা আরও ঘন হয়েছে। দূরের কিছুই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না। তার মনের মধ্যে অদ্ভুত এক কৌতূহল তৈরি হলো—এটা কি কেবলই গল্প, নাকি সত্যিই কিছু আছে এই ট্রেনে?

এদিকে কামরার ভেতরে জীবনের ছোট ছোট দৃশ্য চলতে থাকলো। পাশের সিটে এক মা তার ছেলেকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছে, কেউ মোবাইলে সিনেমা দেখছে, কেউ আবার চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়েছে। হঠাৎ চা-ওয়ালার ডাক ভেসে এলো—
– “চা-গরম চা… লাল চা…”

কেয়া এক কাপ লাল চা নিল। ভদ্রলোকও নিলেন, আর বললেন—
– “লাল চা কিন্তু রাতে ঠান্ডা লাগা থেকে বাঁচায়।”
তারপর মুচকি হেসে যোগ করলেন—
– “আর ভূত দেখলেও গলাটা শুকিয়ে যাবে না।”

কেয়া হেসে ফেললো। তার মনে হলো, ভদ্রলোক হয়তো বেশ মজার মানুষ, কিন্তু কথার ভেতরে কেমন রহস্য লুকিয়ে আছে।

ট্রেন গতি বাড়াচ্ছে, আর কেয়া জানে না—এই যাত্রা তার জন্য কী নিয়ে আসছে। সে জানে না, সামনের ঘণ্টাগুলোতে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে যা সে কোনোদিন ভুলতে পারবে না।

পরবর্তী পর্ব পেতে পেইজে সঙ্গে থাকুন।



10/08/2025

আজ থেকে আবারো গল্পের জগতে ফিরে যাব আমরা 🥰

09/07/2025

গল্পের নাম: “এক কাপ চা ও একটি চিঠি”

লেখক: এ আর রহমান

ঢাকার বুকে আজ টিপটিপ বৃষ্টি। গাছের পাতা ভিজে চকচক করছে, রাস্তায় জমে থাকা পানিতে গাড়ির চাকা ছিটিয়ে দিচ্ছে ঝাপটা।
নীড়া বসে আছে পুরোনো কাঠের টেবিলের পাশে, তার প্রিয় কফি শপ “বুক ন' ব্রীথ”-এ। কাঁচের বাইরে তাকিয়ে সে বৃষ্টির ধারার মধ্যে কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে — হয়ত হারানো কোনো মুহূর্ত।

সে এখানে প্রতি বছর ৮ জুলাই আসে। কেন? কারণ এই দিনে ঠিক পাঁচ বছর আগে সে প্রথমবারের মতো আয়ানকে এখানে দেখেছিল।
আয়ান — যে ছিল শান্ত স্বভাবের, বই ভালোবাসত, চা খেতে খেতেই চোখে চোখ পড়েছিল তার সঙ্গে।
দুইজনের মাঝখানে কথা হয়নি বেশি, কিন্তু সেইদিনই একটুকরো চিঠি রেখে গিয়েছিল আয়ান।

চিঠিতে লেখা ছিল:
“যদি কখনো আবার দেখা হয়, তাহলে তোমাকে জানাব — আমি তোমার অপেক্ষায় আছি। যদি দেখা না হয়, তাহলে এই বৃষ্টির দিনে বিশ্বাস রেখো, ভালোবাসা কখনো হারায় না।”

নীড়া সেই চিঠিটা এখনও নিজের ডায়েরির মধ্যে রেখে দিয়েছে।
তারপর থেকে প্রতি বছর, ঠিক ৮ জুলাই, সে এখানে বসে থাকে। একই চা, একই কোণার টেবিল। কিন্তু আয়ান আর আসেনি।

আজও সে বসে আছে। একটু বিষণ্ণ, একটু আশাবাদী।
চা ঠান্ডা হয়ে এসেছে, সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। হয়তো এবার সে উঠে পড়বে।

ঠিক তখনই দরজার ঘণ্টা বাজল। একটা ভেজা জ্যাকেট গায়ে, চোখে চশমা, ছাতা ভাঁজ করে ঢুকল একজন।
সোজা হাঁটছে তার দিকেই।

নীড়ার বুক কেঁপে উঠল।
— “তুমি এখনো আসো?”
নীড়া চমকে তাকাল,
— “তুমি! আয়ান?”
— “আমি প্রতিবারই এসেছি, ঠিক তোমার চলে যাওয়ার পরে। হয়ত সময় আমাদের সাথে একটু খেলা করেছে।”
— “আজ তাহলে সময় হেরে গেছে আমাদের কাছে?”
— “আজ না… সময় জিতে গেছে, কারণ আমরা আবার একসাথে।”

চা ঠান্ডা ছিল, কিন্তু এখন তাতে নতুন উষ্ণতা।
বৃষ্টি পড়ছে বাইরে — কিন্তু ভিতরে, হৃদয়ের মধ্যে, সেই পুরনো চিঠির শব্দগুলো আবার বাঁচছে।

( সমাপ্ত)




Photos from বাংলা গল্পের বই 's post 08/07/2025

আলহামদুলিল্লাহ,,,
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা এই আমলগুলো করা আমাদের জন্য সহজ করুন 🤲🤲

08/07/2025

গল্প: বৃষ্টির ছায়ায় তুমি

লেখক: এ আর রহমান

জুলাইয়ের এক সকাল। চারদিক মেঘলা, আকাশ যেন কান্না চেপে বসে আছে। রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। হাতে ছাতা, চোখে কাঁচের ফ্রেমের পেছনে ক্লান্তির ছাপ। তার আজ থিসিস জমা দেওয়ার শেষ দিন। অথচ মনটা আজ অস্থির।

তাকে আজ মনে পড়ছে নীলার কথা। নীলা— যে একসময় তার প্রতিটি সকালে রঙ এনে দিত। যে প্রথম বলেছিল, “বৃষ্টির দিনে রুদ্র তোমার চোখে যেন অদ্ভুত এক ঝড় বয়ে যায়।”

নীলা আর নেই। এক বছর হলো ট্রেন দুর্ঘটনায় চলে গেছে না ফেরার দেশে। কিন্তু রুদ্র এখনো অপেক্ষা করে, কোনো এক বৃষ্টির দিনে, যদি নীলা ফিরে আসে...

ঠিক তখনই এক অদ্ভুত কিছু ঘটে গেল। সামনের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে একটা মেয়ে— নীল শাড়ি, খোলা চুল, হালকা করে চোখে কাজল। একদম নীলা’র মতো।
না, এটা কীভাবে সম্ভব?

রুদ্র চোখ চেয়ে থাকে। মেয়েটা হেসে তাকায় তার দিকে।

— “তুমি কি রুদ্র?”
— “হ্যাঁ… আপনি?”
— “আমি নীলাঞ্জনা। তোমার থিসিস সুপারভাইজার আমাকে পাঠিয়েছেন কিছু পেপার দিতে।”

রুদ্র যেন কিছুক্ষণের জন্য পাথর হয়ে যায়। নীলাঞ্জনার হাসি আর চোখের ভাষা এতটাই মিলে গেছে নীলার সঙ্গে, যে বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে গেলেও তার বুকের ভেতর ঝড় চলতেই থাকল।

একসাথে তারা হাঁটতে শুরু করে। রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে গিয়ে বসে।
আকাশ থেকে হালকা করে বৃষ্টি পড়ছে। আর রুদ্র ভাবছে, কখনও কখনও জীবন পুরোনো কোনো গল্পকে নতুন নামে লিখে দেয়।

(সমাপ্ত)

06/07/2025
Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Dhaka