ওয়ালিদ বিন আনসার - রহঃ মাদ্রাসা

ওয়ালিদ বিন আনসার - রহঃ মাদ্রাসা

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ওয়ালিদ বিন আনসার - রহঃ মাদ্রাসা, School, আজমেরী রোড(ট্রান্সমিটার), ফায়দাবাদ, দক্ষিণখান, Dhaka.

আমাদের মাদ্রাসাটি মাওলানা আতহার আলী রহঃ এর বিশিষ্ট খলীফা হযরত মাওলানা ওয়ালিদ বিন আনসার রহঃ এর নাম করণে তারই সুযোজ্ঞ জামাতা হাফেজ মুনিরুজ্জামান দাঃ বাঃ প্রতিষ্ঠিত করেন। আমাদের মাদ্রাসাটি বেফাকভুক্ত মাদ্রাসা । ওয়ালিদ বিন আনসার (রহঃ) হাফেজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সম্মানিত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই মাদ্রাসার মূল লক্ষ্য পবিত্র কুরআনের হিফজ (মুখস্থ করা) ও কওমি ধারার ইসলামি শি

11/12/2025
09/12/2025

৪৮০৪। আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে শামাসাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ (রাযিঃ) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কিয়ামত কেবল তখনই কায়েম হবে যখন নিকৃষ্টতম লোকরা থাকবে, ওরা জাহেলিয়াত সম্প্রদায়ের লোকদের চাইতেও নিকৃষ্টতর হবে। তারা আল্লাহর কাছে যে বস্তুর জন্যই দু'আ করবে তিনি তা প্রত্যাখান করবেন। তারা যখন এ আলোচনায় ছিলেন এমন সময় উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) সেখানে এলেন। তখন মাসলামা (রাযিঃ) বললেন, হে উকবা, শুনুন, আব্দুল্লাহ কি বলেছেন? তখন উকবা (রাযিঃ) বললেন, তিনি তা অধিক জানেন।

তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়ে যাবে। তারা তাদের শক্রদের মোকাবিলায় অত্যন্ত প্রতাপশালী হবে। যারা বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। এভাবে চলতে চলতে তাদের নিকট কিয়ামত এসে যাবে আর তাঁরা এর উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ।

তারপর আল্লাহ একটি বায়ু প্রবাহ প্রেরণ করবেন, সে বায়ু প্রবাহটি হবে কস্তূরীর সুঘ্রাণের ন্যায়। এবং তার পরশ হবে রেশমের পরশের মত। সে বায়ু এমন একটি লোককেও অবশিষ্ট রাখবে না যার অন্তরে একটি দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে। তাদের সকলকে তা কবজ করে নেবে। তারপর কেবল নিকৃষ্টতম লোকগুলোই বাকী থাকবে এবং তাদের উপরই কিয়ামত কায়েম হবে।

—সহীহ মুসলিম,

হাদীসের বর্ননাকারী: উকবা ইবনে আমির (রাঃ) (মৃত্যু ৫৮ হিজরী)

08/12/2025

৬৯৪৯। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) এর সূত্রে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর বেষ্টিত বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর সওয়ার ছিলেন। এ সময় আমরা তাঁর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ সেটি (খচ্চর) লাফিয়ে উঠলো এবং তাঁকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুবাইরী অনুরূপ বর্ণনা করতেন।

অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি (চিনি)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ উম্মতকে তাদের কবরের মধ্যে বিপদগ্রস্ত করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দুআ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি আমাদের প্রতি তাঁর মুখমণ্ডল ফিরিয়ে নিয়ে বললেনঃ তোমরা সকলে জাহান্নামের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর।

তারা (সাহাবীগণ) বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা সকলে কবরের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। সাহবীগণ বললেন, কবরের আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর বললেনঃ তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সমুদয় ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সমুদয় ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। এরপর তিনি আবারো বললেনঃ তোমরা দাজ্জালের ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও। তারা (সাহাবীগণ) বললেন, দাজ্জালের ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।

—সহীহ মুসলিম

29/11/2025

১৯৫৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আজ রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি যে, দু’ব্যক্তি আমার নিকট এসে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানের লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায়, তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খণ্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি (রক্তের) নদীতে দেখেছেন, সে হল সুদখোর।

—সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৫ (আন্তর্জাতিক নং ২০৮৫

হাদীসের বর্ননাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) (মৃত্যু ৫৮ হিজরী)

06/11/2025

সহীহ বুখারী

৮। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ জু’ফী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন, ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশী। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

29/10/2025

আদম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইযারের (লুঙ্গি) যে পরিমাণ টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমাণ জাহান্নামে যাবে।

হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটিতে টাখনুর নিচে লুঙ্গি পরিধানের পরিণাম সম্পর্কে কঠিন সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। বলা হয়েছে, লুঙ্গির যতটুকু অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, ততটুকু জাহান্নামে যাবে। এর দু'টি অর্থ হতে পারে। এক অর্থ হল পায়ের সেই অংশ অর্থাৎ টাখনুর নিচের অংশ, যা পরিধানের কাপড় দ্বারা ঢাকা হয়েছে, জাহান্নামে যাবে। বলাবাহুল্য কোনও ব্যক্তির এক অংশ জাহান্নামে যাবে আর বাকি অংশ জান্নাতে, এরূপ হতে পারে না। এক অংশ যখন জাহান্নামে যাবে, তখন বাকি অংশও অবশ্যই জাহান্নামেই যাবে। তার মানে লুঙ্গি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা জাহান্নামে যাওয়ার একটি কারণ।

দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে এরকম যে, লুঙ্গি টাখনুর নিচে নামিয়ে পরার কাজটি জাহান্নামীদের কাজের মধ্যে গণ্য। অর্থাৎ এভাবে লুঙ্গি পরে তারাই, যারা জাহান্নামে যাবে। কাজেই কোনও মুমিন-মুসলিম ব্যক্তির এভাবে লুঙ্গি পরা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, এ সতর্কবাণী কেবল লুঙ্গির জন্যই নির্ধারিত নয়; বরং এটা জামা ও পায়জামার জন্যও প্রযোজ্য। অর্থাৎ পরিধেয় যে-কোনও বস্ত্র নিচের দিকে সর্বোচ্চ টাখনু পর্যন্ত নামানো যাবে, এর নিচে নয়। পুরুষের সতর যেহেতু হাঁটু পর্যন্ত, তাই হাঁটুর নিচে নামাতে হবে অবশ্যই। তার মানে পরিধেয় বস্ত্র হাঁটু ও টাখনুর মাঝামাঝি যে-কোনও স্থান পর্যন্ত নামানো যাবে।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

পরিধেয় কাপড় অর্থাৎ লুঙ্গি, পায়জামা, ফুলপ্যান্ট ও জুব্বা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা যাবে না।

রেফারেন্স: ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)

—সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৩৭১ (আন্তর্জাতিক নং ৫৭৮৭)

29/10/2025

আগামী কাল ৩০-১০-২০২৫ সকাল ৮ :০০ ঘটিকার সময় মাদ্রাসা ছুটি হবে ইনশাআল্লাহ।

25/10/2025

ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) এর সূত্রে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর বেষ্টিত বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর সওয়ার ছিলেন। এ সময় আমরা তাঁর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ সেটি (খচ্চর) লাফিয়ে উঠলো এবং তাঁকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুবাইরী অনুরূপ বর্ণনা করতেন।

অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি (চিনি)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ উম্মতকে তাদের কবরের মধ্যে বিপদগ্রস্ত করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দুআ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি আমাদের প্রতি তাঁর মুখমণ্ডল ফিরিয়ে নিয়ে বললেনঃ তোমরা সকলে জাহান্নামের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর।

তারা (সাহাবীগণ) বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা সকলে কবরের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। সাহবীগণ বললেন, কবরের আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর বললেনঃ তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সমুদয় ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সমুদয় ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। এরপর তিনি আবারো বললেনঃ তোমরা দাজ্জালের ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও। তারা (সাহাবীগণ) বললেন, দাজ্জালের ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।

—সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৪৯

24/10/2025

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে। কেননা, তা হল অধিক নির্মল ও পবিত্র আর এতেই তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের কাফন দিবে।

নোট:
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটিতে জীবিতদেরকে সাদা পোশাক পরতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং মৃতদেরকে সাদা কাপড় দিয়ে কাফন দিতে বলা হয়েছে। এর কারণ বলা হয়েছে যে, সাদা কাপড়ই উৎকৃষ্ট। সম্ভবত সাদা পোশাক মানুষের স্বভাব-প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই দেখা যায় সব কালেই মানুষ পোশাকের ক্ষেত্রে অন্যান্য রঙের উপর সাদা রংকে প্রাধান্য দিয়েছে। অনুষ্ঠানাদিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত সাদা পোশাককেই বেছে নেয়। ইসলাম স্বভাবধর্ম। তার প্রতিটি শিক্ষা স্বভাব-প্রকৃতির অনুকূল। সে কারণেই হয়তো পোশাকের বেলায় সাদা রংকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও সাদা রং পসন্দ করতেন। তিনি সাদা রঙের পোশাক পরেছেনও। ফিরিশতাদের বেলায়ও সাদা রঙের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। 'হাদীছু জিবরীল' নামক প্রসিদ্ধ হাদীছে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামের আগমন সম্পর্কে বলা হয়েছে-
إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ
'হঠাৎ আমাদের সামনে ধবধবে সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির অভ্যুদয় ঘটল।" ( সহীহ মুসলিম: ৮: সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৯৫; জামে' তিরমিযী: ২৬১০; সুনানে নাসাঈ: ৪৯৯০; সুনানে ইবন মাজাহ: ৬৩; মুসনাদে আহমাদ ৩৬৬; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা ৩৭৫৫৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা: ২৫০৪; সহীহ ইবনে হিব্বান: ১৬৮; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৮৬১০)

উহুদের যুদ্ধে ফিরিশতাদের উপস্থিতি সম্পর্কে হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি. বর্ণনা করেন-
«رأيت بشمال النبي صلى الله عليه وسلم ويمينه رجلين، عليهما ثياب بيض يوم أحد، ما رأيتهما قبل ولا بعد»
'আমি উহুদের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডান ও বামদিকে সাদা কাপড় পরিহিত দুই ব্যক্তিকে দেখলাম। তাদেরকে এর আগেও দেখিনি, পরেও নয়। অর্থাৎ তারা ছিলেন ফিরিশতা।
( সহীহ বুখারী: ৫৮২৬; সহীহ মুসলিম: ২৩০৬; মুসনাদে আহমাদ : ১৫৩০; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩২১৫৩; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৬৯৮৭; মুসনাদুল বাযযার: ১২৩৮ )

হাদীছে সাদা পোশাককে পবিত্রতম বলা হয়েছে। এর কারণ সাদা কাপড়ে অল্প ময়লা লাগলেও তা দেখা যায়। ফলে তা পরিষ্কার করা হয়। রঙিন কাপড়ে ময়লা সহজে দেখা যায় না। তাই তা পরিষ্কার করার প্রতি সাদা কাপড়ের মতো অতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ কারণেই সাদা কাপড় পরার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এর দ্বারা ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কত বেশি তা উপলব্ধি করা যায়।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ইসলামে সাদা পোশাক বেশি পসন্দনীয়। তাই বিশেষ সমস্যা না থাকলে অন্যান্য রঙের উপর সাদা রঙের পোশাককে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

18/10/2025

নিজের দোষ নিজে খুঁজি, নিজের খুঁত নিজে দেখি
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

আজকাল আমাদের মধ্যে যখন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু আমাদের সমালোচনা করে, আমরা সেটা একদম সহ্য করতে পারি না। শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত, আলেম হোক বা মুফতি—নিজের মত থেকে ভিন্ন মত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আর এ কারণেই আমাদের ইসলাহ বা সংশোধন অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়।
মনে রাখবেন, যাদের দোষ-ত্রুটি কেউ বলবে না, তাদের জন্য বিপদ অপেক্ষা করে থাকে। জানা নেই, শয়তান কীভাবে তাদের ধ্বংস করে ফেলতে পারে। আমাদের আকাবির-আসলাফ শত্রুদের এমন সমালোচনাকে মিষ্টান্নের মতো গ্রহণ করতেন এবং নিজের সংশোধনের সুযোগ হিসেবে তা ব্যবহার করতেন।
তাদের এ প্রাণবন্ত দৃষ্টিভঙ্গি আমাদেরকেও গ্রহণ করা উচিত। শত্রুর সমালোচনাকে হাসিমুখে গ্রহণ করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, এটা হল নিজেকে সংশোধন করার এবং আত্মিক উন্নতির অন্যতম পথ।

اَلْحَمْدُ لِلّهِ وَكَفَى وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِيْن َاصْطَفَى اَمَّا بَعْدُ! فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ. بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ. بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ
بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآنِ الْعَظِيْمِ، وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ اْلآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيْمِ. وجَعَلَنِيْ إِيَّاكُمْ مِنَ الصَّالِحِينَ. أَقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا أَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ وَلِسَائِرِ الْمُسْلِمِيْنَ. فَاسْتَغْفِرُوْهُ، إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ.اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّبَارِكْ وَسَلِّمْ.

হামদ ও সালাতের পর!
আল্লাহ তাআলা বলেছেন

بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ

বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান। [ সূরা কিয়ামাহ : ১৪]

মানুষ নিজের দোষ কখন দেখে?
আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন তিনি তাকে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেন, তার ত্রুটিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। ফলে সে নিজের সংশোধনের পথ খুঁজে পায়। কিন্তু যাকে তিনি অপছন্দ করেন, তাকে তার দোষত্রুটি সম্পর্কে বেখবর করে দেন। সে ভাবে, আমি তো ঠিক আছি!— নিজের মধ্যে কোনো ভুলই দেখতে পায় না।
ডাক্তাররা বলেন, সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ সেটাই, যা রোগী রোগ বলে মানে না। কারণ, যে বুঝেই না সে অসুস্থ, সে কখনো চিকিৎসার প্রয়োজনও অনুভব করে না। কিন্তু যখন উপলব্ধি আসে, তখন আর কিছু করার সময় থাকে না।
এভাবেই অনেক মানুষ নিজেদের ভুল বুঝতে পারে না। কখনো আল্লাহ বান্দার চোখে এমন পর্দা টেনে দেন যে, সে নিজের হাতেই নিজের সর্বনাশ করে, অথচ তা বুঝতে পারে না। সে দেখে, শুনে, জানে-তবু উপলব্ধি করে না। বরং নিজের মন্দ কাজকে ভালো মনে করে এবং ভাবে, সে তো সঠিক পথেই আছে!

নিজের স্ত্রীর সঙ্গে যিনাকারী
যেমন, কেয়ামতের আলামতের মধ্যে একটি হলো, যিনা-ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে। কীভাবে? মানুষ তালাক দেবে, কিন্তু তা নিয়ে কোনো চিন্তাই করবে না। আবার তালাক দেওয়ার পরও স্বামী-স্ত্রী আগের মতোই একসঙ্গে বসবাস করতে থাকবে, শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হবে, অথচ তারা হারাম সম্পর্কেই জড়িয়ে পড়ছে।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যখন তালাক সম্পূর্ণ হয়ে যায়, তখন স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়। কিন্তু অনেকেই না জেনে কিংবা জেনে-শুনেও এই ভুল করে।
কেউ হয়তো রাগের মাথায় তালাক দিয়ে ফেলে, পরে ভাবে, আমি তো রাগে বলেছিলাম, তালাক কি সত্যিই হয়ে গেছে? অথচ তালাক সবসময়ই রাগের সময় হয়, কারণ খুশিতে কেউ তালাক দেয় না!
আবার কেউ বলে, আমি তালাক বলেছি ঠিকই, কিন্তু ইচ্ছে ছিল না! ভাই, কথা মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলে সেটা রেকর্ড হয়ে গেছে। এখন তুমি কী চেয়েছিলে, সেটা নয়, বরং শরীয়তের বিধানই চূড়ান্ত।

আরেকটি ভয়ংকর সমস্যা
অনেকে না জেনে কিংবা অবহেলায় এমন কথা বলে ফেলে, যা তার ঈমান নষ্ট করে দেয়। অথচ সে তা বুঝতেও পারে না। তার বিয়ে বাতিল হয়ে যায়, কিন্তু সে স্ত্রীসহ আগের মতোই বসবাস করতে থাকে। এতে দুটি ভয়ংকর গুনাহ হয়—একটি হলো কুফর, আরেকটি হলো যিনা। অথচ সে ভাবে, সব ঠিক আছে!
একটি সাধারণ ভুল হলো, মানুষ মনে করে, কেবল নামায না পড়লেই গুনাহ হয়, কিন্তু কুফরি কথা বলা বা ইসলাম নিয়ে উপহাস করাও ঈমান নষ্ট করে দিতে পারে। অনেকেই বলে ফেলে এমন সব কথা, যা তার ইসলাম থেকে বের করে দেয়। যেমন—

আল্লাহ সম্পর্কে অবমাননাকর কথা
‘এত নামাজ-রোজা করে কী হবে? আল্লাহ কি এসে খাইয়ে দেবেন?’
‘আমার কপালে যা আছে, তাই হবে, নামাজ-রোজা করে কী লাভ?’
‘আল্লাহ যদি ন্যায়বান হতেন, তাহলে সবাইকে ধনী বানাতেন!’

ইসলামের বিধান নিয়ে বিদ্রূপ
‘এই সব হিজাব-নিকাব পুরনো যুগের নিয়ম, এখন এগুলো মানার দরকার নেই।’
‘জুমার নামাজ না পড়লে কী হবে? মুসলমানই তো আছি!’
‘এই শরীয়ত এত কঠিন কেন? সহজ হওয়া উচিত!’

কুরআন-হাদিসকে অবমাননা
‘কুরআন-কিতাবের কথা বাদ দাও, বাস্তবতা বোঝো!’
‘আল্লাহ যা বলেছে, সবকিছু কি এখনকার যুগে চলে?’

কুফরি শপথ ও বক্তব্য
‘আমি যদি মিথ্যা বলি, তবে মুসলমান না!’
‘আমার যা ইচ্ছা, তাই করব—আল্লাহ আমার কিছু করতে পারবে না!’
‘আমি যা বলছি, যদি ভুল হয়, তবে কেয়ামতে আমার কোনো হিসাব নেই!’

কুফর করলে বিয়ে ভেঙে যায়
এসব কথার মাধ্যমে মানুষ নিজের অজান্তেই ঈমান হারিয়ে ফেলে। কুফর করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং বিয়ে ভেঙে যায়। তাই যদি কেউ ভুলবশত এমন কিছু বলে ফেলে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তওবা করতে হবে, নতুন করে কালিমা পড়তে হবে এবং বিবাহ পুনরায় করতে হবে। অন্যথায়, সে নিজের অজান্তেই হারাম সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে যাবে, যা মহা অপরাধ।
আমাদের উচিত নিজের মুখের কথার ব্যাপারে সতর্ক থাকা, যেন ভুল করে হলেও ঈমানহানির পথে না যাই।

নিজের কথার ব্যাপারে উদাসীনতা
কিন্তু বর্তমানে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা এত প্রবল হয়ে গেছে যে, সে নিজের মুখ দিয়ে কী বলছে, তার হাত কী করছে— সেই বিষয়ে কোনো খেয়ালই রাখে না। এমনকি কখনো-কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, সে যা বলছে বা করছে, তার ভালো-মন্দ সম্পর্কে কোনো ধারণাই থাকে না।
কেন এমনটা হয়?

কারণ, আল্লাহ যার প্রতি অসন্তুষ্ট হন, তিনি তার দোষত্রুটিগুলো তার দৃষ্টির আড়াল করে দেন। ফলে সে নিজের ভুল দেখে না, কিন্তু অন্যের ভুল ধরতে সবসময় প্রস্তুত থাকে। সে নিজের ত্রুটিগুলো বুঝতে পারে না, অথচ অন্যের সামান্য ভুলও তার চোখে বড় হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, আল্লাহ যখন কোনো বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন তিনি তাকে তার ভুলগুলো চিনিয়ে দেন, যাতে সে নিজেকে সংশোধন করতে পারে। এভাবেই সে নিজের ভুল স্বীকার করে, তওবা করে এবং ধীরে ধীরে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়ে ওঠে।
ইমাম গাজালী রহ. বলেন

إِعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ خَيْرًا بَصَّرَهُ بِعُيُوبِ نَفْسِهِ

জেনে রাখো, যখন আল্লাহ কোনো বান্দার জন্য কল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে তার নিজের ভুল-ত্রুটি স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেন।

فَمَنْ كَانَتْ بَصِيرَتُهُ نَافِذَةً لَمْ تَخْفَ عَلَيْهِ عُيُوبُهُ فَإِذَا عَرَفَ الْعُيُوبَ أَمْكَنَهُ الْعِلَاجُ
যার দৃষ্টি প্রখর, সে নিজের খুঁত বুঝতে পারে, আর যখন ত্রুটি ধরা পড়ে, তখন তা সংশোধন করাও সহজ হয়।
وَلَكِنَّ أَكْثَرَ الْخَلْقِ جَاهِلُونَ بِعُيُوبِ أَنْفُسِهِمْ، يَرَى أَحَدُهُمُ الْقَذَى فِي عَيْنِ أَخِيهِ وَلَا يَرَى الْجِذْعَ فِي عَيْنِ نَفْسِهِ

কিন্তু দুঃখের বিষয়, অধিকাংশ মানুষ নিজেদের ভুল সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। তারা অন্যের চোখে সামান্য ধুলোকণাও দেখতে পায়, কিন্তু নিজের চোখে থাকা বিশাল গাছের গুঁড়িটিও দেখতে পারে না। [ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন : ৭/৩৪৮]

নিজের দোষ-ত্রুটি চেনার চার উপায়
গাছ যেমন নিজের ফলের ওজন টের পায় না, ঠিক তেমনই মানুষও নিজের দোষ ত্রুটি সহজে বুঝতে পারে না। তবে যখন কেউ আমাদের ভুল ধরিয়ে দেয়, তখনই আমরা তা সংশোধনের সুযোগ পাই।
ইমাম গাজালী রহ. বলেন, নিজের দোষ-ত্রুটি চেনার চারটি উপায় আছে।

১. শায়খের সান্নিধ্য
তার মধ্যে প্রথমটি হলো এমন এক শায়খের সান্নিধ্যে থাকা, যিনি নফসের ত্রুটি ও আত্মার গোপন রোগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান রাখেন।
শায়খ মূলত আয়নার মতো। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন

الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ

মুমিন অপর মুমিনের জন্য আয়নাস্বরূপ। [আবু দাউদ : ৪৯১৮]
যেভাবে আয়নায় নিজের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তেমনি একজন কামিল শায়খের সান্নিধ্যে গেলে, তার দিকনির্দেশনায় আমাদের আত্মার কালিমা প্রকাশ পেতে শুরু করে। তিনি ভুল ধরিয়ে দেন, বোঝান, কখনো শাসনও করেন, যেন আমরা নিজেকে সংশোধন করতে পারি। যারা শায়খের কাছে নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য সময় দেয়, তারা নিজেদের দোষ-ত্রুটি চিনতে পারে, নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং তা ঠিক করার সুযোগ পায়।
হিমসের গভর্নর সাঈদ ইবনু আমির আল-জুমাহী রাযি.
একজন কামিল শায়খ বা পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিক শিক্ষক কেমন হন, তা বোঝার জন্য হযরত উমর রাযি.-এর একটি ঘটনা খুবই শিক্ষণীয়। উমর রাযি. ছিলেন সমগ্র মুসলিম উম্মাহর আমীরুল মুমিনীন তথা মুমিনদের শায়খ। তিনি তাঁর অধীনস্থ গভর্নরদের কাজকর্মের রিপোর্ট নিতেন এবং জনগণের কাছ থেকে সরাসরি তাদের সম্পর্কে জানতে চাইতেন। তিনি বলতেন, ‘বলো তো, যাকে আমি গভর্নর নিযুক্ত করেছি, সে কেমন লোক?’
একবার হযরত উমর রাযি. হিমস শহরে গেলেন এবং সেখানকার গভর্নর সাঈদ ইবনে আমির আল-জুমাহী রাযি. সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন জনগণ তাঁর কাছে গভর্নর সম্পর্কে চারটি অভিযোগ করল।
১. তিনি সকালে দেরি করে বের হন।
২. তিনি রাতে কারো ডাকে সাড়া দেন না।
৩. মাসে একদিন তিনি আমাদের কাছে আসেন না।
৪. তিনি মাঝে মাঝে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন—মূর্ছা যান।
উমর রাযি. চিন্তিত হয়ে সাঈদ রাযি.-কে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করো না! বলো, এসব অভিযোগ সত্যি কি না?’
সাঈদ রাযি. মাথা নিচু করে বললেন, ‘আমার পরিবারের জন্য কোনো চাকর নেই। সকালে রুটি আমিই বানাই, তারপর ওজু করে বের হই। তাই একটু দেরি হয়ে যায়।’
উমর রাযি. বললেন, ‘তাহলে রাতের সময় নিয়ে কী বলবে?’
সাঈদ রাযি. বললেন, ‘আমি দিনটাকে মানুষের জন্য রেখেছি, আর রাতটাকে আল্লাহর জন্য। তাই রাতে কারও ডাকে সাড়া দিতে পারি না।’
উমর রাযি. এবার তৃতীয় অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলেন।
সাঈদ রাযি. বললেন, ‘আমার একটিই কাপড়। মাসে একদিন সেটা ধুতে হয়, আর শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অতিরিক্ত কাপড় না থাকায় ওই দিন বাইরে বের হতে পারি না।’
শেষ অভিযোগ সম্পর্কে উমর রাযি. জানতে চাইলে সাঈদ রাযি. চোখে অশ্রু নিয়ে বললেন, ‘আমি খুবাইব রাযি.-এর নির্মম শাহাদাতের সাক্ষী ছিলাম। কুরাইশরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। মৃত্যুর মুহূর্তেও তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল

أَتُحِبُّ أَنْ مُحَمَّدًا مَكَانَكَ؟

‘তুমি কি চাও, মুহাম্মদ ﷺ তোমার জায়গায় থাকুন?’
তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন

وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنِّي فِي أَهْلِي وَوَلَدِي وَأَنَّ مُحَمَّدًا ﷺ شِيكٌ بِشَوْكَةٍ

‘আল্লাহর কসম! আমি তো এটাও চাই না যে, আমি আমার পরিবার ও সন্তানদের মাঝে নিরাপদে থাকি, আর মুহাম্মাদ ﷺ কাঁটার আঘাতেও কষ্ট পান।’
আমি তখন কিছুই করতে পারিনি! এখন যখন সেই মুহূর্ত স্মরণ করি, ভাবি—আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন? এই চিন্তায় আমি মূর্ছা যাই।’
উমর রাযি. তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। গভীর আবেগে বললেন, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেননি!’
এরপর তিনি সাঈদ রাযি.-কে এক হাজার দিনার উপহার দিলেন এবং বললেন, ‘এটা নিয়ে তোমার প্রয়োজন মেটাও।’
সাঈদের স্ত্রী আনন্দে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! এখন তো আমাদের অভাব ঘুচবে!’
কিন্তু সাঈদ রাযি. বললেন, ‘আমরা কি এর চেয়েও ভালো কিছু করতে পারিনা?’
স্ত্রী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তাহলে তুমি কী করছ?’
সাঈদ রাযি. একজন বিশ্বস্ত লোককে ডাকলেন এবং বললেন, ‘এই টাকা বিধবা, ইয়াতিম, অসহায় ও অসুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দাও।’
সব টাকা বিলিয়ে দেওয়ার পর স্ত্রী বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘আমাদের জন্য অন্তত একজন চাকর কিনতে পারতে!’
সাঈদ রাযি. মৃদু হেসে বললেন, ‘যদি আমাদের জন্য তা জরুরি হতো, তাহলে আল্লাহই তা রেখে দিতেন!’ [হিলয়াতুল আউলিয়া: ১/২৪৫,২৪৬]

শায়খ ছাড়া আত্মশুদ্ধি অসম্ভব
যা হোক, বলতে চেয়েছিলাম—মানুষ কখনোই নিজের চিকিৎসা নিজে করতে পারে না। যেমন জটিল রোগ হলে ডাক্তার প্রয়োজন হয়, তেমনই আত্মার রোগ হলে একজন শায়খ বা মুরশিদের প্রয়োজন হয়।
প্রবাদের মতোই—

ہر آں کار کہ بے استاد باشد

یقین دانی کہ بے بنیاد باشد

‘যে-কোনো কাজ যদি ওস্তাদের দীক্ষা ছাড়া হয়, তবে তা নির্ঘাত ভিত্তিহীন ও দুর্বল হবে।’
যদি কেউ নিজের চিকিৎসা নিজে করতে চায়, তাহলে সে ধোঁকার শিকার হবে। শয়তান তাকে সহজেই পথভ্রষ্ট করবে।

একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত
বিষয়টিকে বুঝাতে গিয়ে আমাদের শায়খ ও মুরশিদ মাহবুবুল ওলামা হযরত পীর জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী দা. বা. দৃষ্টান্ত হিসেবে বলেন, একবার এক ব্যক্তির শিশুসন্তান অসুস্থ হয়ে গেল। তার পেট খারাপ হয়ে গেলো। স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, ‘তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডেকে আনুন!’
কিন্তু লোকটি একটু গোড়া টাইপের ছিল। বলল, ‘ডাক্তার ডেকে আনার দরকার কী? আমি নিজেই গিয়ে ওষুধ নিয়ে আসি।’
সে ভেবেছিল, পেট নরম হয়ে গেছে, তাহলে নিশ্চয়ই শক্ত করার ওষুধ দিলেই ঠিক হয়ে যাবে!
সে গেল ওষুধের দোকানে। বলল, ‘ভাই! পেট শক্ত করার ওষুধ দিন।’
দোকানদার কিছু না বুঝেই ওষুধ দিয়ে দিল। লোকটি সন্তুষ্ট মনে বাসায় ফিরে এসে বাচ্চাকে ওষুধ খাইয়ে দিল। কিন্তু তারপর যা ঘটল, তা ভয়াবহ! রোগ তো কমল না, বরং আরও বেড়ে গেল! দু'দিনের মধ্যে শিশুর অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেল যে, সে প্রায় মৃত্যুর মুখে পতিত হলো।
এবার বেচারী মা আর অপেক্ষা না করে নিজেই ছুটে গিয়ে ডাক্তার নিয়ে এলেন।
ডাক্তার এসে আগের ওষুধ বন্ধ করে নতুন ওষুধ দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, বাচ্চা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল!
ডাক্তার তখন মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই ভয়ংকর অবস্থায় বাচ্চাকে এমন ওষুধ কে খাওয়াতে বলল?’
মা জবাব দিলেন, ‘তার বাবা নিয়ে এসেছিল।’
ডাক্তার এবার বাবাকে জিজ্ঞাসা করলেন,‘আপনি কীভাবে এই ওষুধ দিলেন?’
বাবা মাথা নিচু করে বলল, ‘আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু পেট নরম হয়ে গেছে, তাই শক্ত করার ওষুধ দিলেই ঠিক হয়ে যাবে। তাই ওষুধের দোকানে গিয়ে পেট শক্ত করার ওষুধ চেয়েছি, যা দিয়েছে তাই খাইয়েছি।’
ডাক্তার রাগ নিয়ে বললেন, ‘আপনি কী করেছেন, জানেন? আমাদের ডাক্তারদের নির্দিষ্ট কিছু পরিভাষা আছে। যখন কেউ আমাদের বলে— পেট শক্ত করার ওষুধ দিন; আমরা বুঝি, তার হয়তো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে। তখন আমরা তাকে পেট পরিষ্কার করার ওষুধ দিই। কিন্তু আপনার বাচ্চার আসলেই ডায়রিয়া ছিল, অথচ তাকে আরও বেশি পায়খানা করার ওষুধ খাইয়েছেন! বলুন তো, এই শিশু বাঁচবে, না মরবে?
লোকটি তখন বুঝতে পারল, সে নিজের ভুল চিকিৎসা করতে গিয়ে কী মারাত্মক ক্ষতি করতে বসেছিল!
ঠিক এভাবেই, যে ব্যক্তি নিজেই নিজের আত্মিক চিকিৎসা করার চেষ্টা করবে, তারও পরিণতি এমনই হবে।
যদি আত্মার রোগ থেকে মুক্তি পেতে হয়, তবে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ রূহানী চিকিৎসকের দরকার। আর সেই চিকিৎসকের নামই ‘শায়খ’ বা ‘মুরশিদ’।

যৌবন-তারুণ্যের সৌভাগ্য
এ কারণে তাবিয়ী আইয়ূব সাখতিয়ানী রহ. বলতেন

إِنَّ مِنْ سَعَادَةِ الحَدَثِ أن يوفقَه اللَّهُ لِعالِمٍ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ

যৌবন বা তারুণ্যের সৌভাগ্য হলো, আল্লাহ তাআলা কোনো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমের সাহচর্য লাভের তাওফীক দেওয়া। [আততালবীস : ১৭]
অর্থাৎ, তরুণ বয়সে একজন সুন্নাহ অনুসরণকারী আলেমের সান্নিধ্য পাওয়া এবং তার জ্ঞান ও আদর্শ থেকে উপকৃত হওয়াটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এটি যুবকদের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়, কারণ ভালো আলেমের সঙ্গ মানুষকে সঠিক পথে রাখে, ঈমান দৃঢ় করে, এবং ভুল পথ থেকে বাঁচায়।

শায়খের সান্নিধ্যের বরকত
শাহ ইসমাইল শহীদ রহ. একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন, পরিপূর্ণ খুশু ও খুজুর সঙ্গে দুই রাকআত নামাজ পড়বেন। তিনি নামাজে দাঁড়ালেন, কিন্তু যতই চেষ্টা করেন, মন ঠিক রাখতে পারেন না। নানা ধরনের খেয়াল এসে একাগ্রতা নষ্ট করে দিচ্ছিল।
তিনি ভাবলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না মনোযোগ ধরে রাখতে পারছি, ততক্ষণ নামাজ পড়তে থাকব। এভাবে একের পর এক রাকআত পড়তে পড়তে তিনি ১০০ রাকআত নামাজ আদায় করলেন! কিন্তু তবু সেই কাঙ্ক্ষিত একাগ্রতা পেলেন না।
তিনি পেরেশান হয়ে সাইয়েদ আহমদ শহীদ রহ.-এর দরবারে গিয়ে তার পুরো অবস্থা খুলে বললেন, ‘আমি এত নামাজ পড়েও দুই রাকআত একাগ্রতার সঙ্গে আদায় করতে পারলাম না! আমি খুবই চিন্তিত। দয়া করে আমাকে কোনো সমাধান দিন।’
সাইয়েদ আহমদ শহীদ রহ. বললেন, ‘আজ রাতে তাহাজ্জুদের সময় তুমি আমার পাশে দাঁড়াবে।’
ইসমাইল শহীদ রহ. শায়খের নির্দেশ মতো তাহাজ্জুদের সময় তার পাশে দাঁড়ালেন।
প্রথম রাকআত শুরু হতেই তার ভেতর এক বিস্ময়কর পরিবর্তন অনুভূত হলো। তার হৃদয় কেঁপে উঠল, কান্নায় বুক ভেসে যেতে লাগল! নামাজ শেষে তিনি উপলব্ধি করলেন, এই তো সেই একাগ্রতা, যেটার জন্য তিনি এত পরিশ্রম করেছেন!
নিজে একশ’ রাকআত নামাজ পড়েও যে খুশু-খুজু অর্জন করতে পারেননি, শায়খের সোহবতে মাত্র দুই রাকআতেই তা পেয়ে গেলেন! এটাই শায়খের সংস্পর্শের বরকত, এটাই সোহবতের প্রভাব!

আল্লাহওয়ালাদের সোহবতের প্রভাব
মুফতী মুহাম্মাদ হাসান রহ. ছিলেন হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর অন্যতম খলিফা। তিনি বলেন, আমরা যখন হযরত থানভী রহ.-এর দরবারে বসতাম, তখন প্রত্যেকেই নিজেকে সবার চেয়ে ছোট মনে করত।
একবার আমার মনে এই অনুভূতি তীব্রভাবে জাগল, তাই আমি মাওলানা খায়ের মুহাম্মদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলাম। তিনিও থানভী রহ.-এর খলিফাদের একজন ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, ভাই, হযরতের দরবারে যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণ মনে হয়, আমি সবার চেয়ে নীচু, আমার জাহির ও বাতেন একরকম নয়। মনে হয়, অন্যরা সবাই আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন, আর আমি সবার থেকে পিছিয়ে আছি।
আমার কথা শুনে মাওলানা খায়ের মুহাম্মদ বললেন, আমারও তো একই অনুভূতি হয়! এই দরবারের অন্যদের দিকে তাকালে নিজেকে খুব তুচ্ছ ও গুনাহগার মনে হয়। তাহলে এক কাজ করি, দু’জনই হযরতের কাছে যাই এবং জিজ্ঞেস করি, এটা ভালো না মন্দ?
আমরা দু'জনই থানভী রহ.-এর কাছে গিয়ে সব খুলে বললাম। হযরত আমাদের কথা শুনে আশ্চর্যজনক এক উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, আসল কথা হলো, আমিও নিজেকে সবার চেয়ে ছোট মনে করি! মনে হয়, যেন আমি সবার চেয়ে বড় গুনাহগার!
সুবহানাল্লাহ! প্রকৃত আল্লাহওয়ালা তো এমনই হন—তারা যত বড় হন, ততই নিজেদের ছোট মনে করেন! আর এটাই আল্লাহওয়ালাদের সোহবতের প্রভাব। তাদের সান্নিধ্যে গেলে নিজের দোষ-ত্রুটি চোখে পড়ে, আত্মগরিমা দূর হয়। তখন নিজেকে সবার চেয়ে ছোট মনে হয়, আর অন্তরে সংশোধনের তীব্র আগ্রহ জাগে। ফলে সে ক্রমাগত আত্মসংশোধনের পথে এগিয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের আল্লাহওয়ালাদের সোহবত বেশি বেশি গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন—আমীন।

২. নেককার লোকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব
নিজের ভুল নিজে খুঁজে বের করা সহজ নয়। তাই নিজের ভুল খুঁজে বের করার দ্বিতীয় উপায় হলো— সৎ, বিচক্ষণ ও ধর্মপ্রাণ বন্ধু খুঁজে নেওয়া, যিনি আমাদের আচরণ ও অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ভুলগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবেন। কেননা, একজন সত্যিকারের নেককার বন্ধু কখনো তোষামোদ করবে না। বরং প্রয়োজন হলে বলবে, ‘ভাই, এটা এভাবে করবেন না, বরং এইভাবে করুন। এই অভ্যাস আপনার জন্য ভালো নয়, বরং এটা গ্রহণ করুন।’
এমন বন্ধুত্ব আমাদের জন্য নিরাপত্তার মতো। কারণ, তারা আমাদের খারাপ কাজ করতে দেবে না, ভুল পথে যেতে দেখলে সতর্ক করবে। এজন্যই নেককার লোকদের সঙ্গ গ্রহণ করা জরুরি, যেন আমরা সৎ পরিবেশে নিজেদের ঠিক রাখতে পারি।

ভালো বন্ধু খুঁজুন, যে জান্নাতে আপনাকে খুঁজবে!
ভালো বন্ধু কেমন হওয়া উচিত, তা দেখুন—তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এক ব্যক্তি জাহান্নামে চলে যাবে, অথচ দুনিয়ায় তার এক ভালো বন্ধু ছিল, যে জান্নাত লাভ করবে। সেই জান্নাতী বন্ধু জান্নাতে গিয়ে স্মৃতিচারণ করবে, পুরোনো দিনের কথা ভাববে, তখন হঠাৎ তার মনে পড়বে। সে ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবে

مَا فَعَلَ صَدِيقِي فُلانٌ؟

‘আমি তো জান্নাতে আছি, কিন্তু আমার বন্ধু কোথায়? আমি তো তাকে এখানে দেখতে পাচ্ছি না!’
ফেরেশতারা বলবে, ‘সে তো জাহান্নামে!’
এ কথা শুনে সেই জান্নাতী বন্ধু কষ্টে ভারাক্রান্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করবে—‘হে আমার রব! আমি জান্নাতে এসেছি ঠিকই, কিন্তু আমার আনন্দ অপূর্ণ রয়ে গেছে। আমার সেই বন্ধুকে ছাড়া জান্নাতের সুখ উপভোগ করতে পারছি না!’
এবার বলুন, জান্নাতে কারো কোনো চাওয়া অপূর্ণ থাকবে? কখনো না! কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন

وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ

সেখানে তোমাদের যা ইচ্ছে করবে, তাই পাবে; যা চাইবে, তা-ই দেওয়া হবে। [সূরা হা-মীম সাজদা: ৩১]
তাই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের আদেশ দেবেন, ‘তাড়াতাড়ি তার বন্ধুকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনো!’
দেখুন, এই ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেল না তার রাতভর ইবাদতের কারণে, না কুরআন তেলাওয়াতের কারণে, না সাদকা বা রোজার কারণে! বরং সে মুক্তি পেল একমাত্র তার জান্নাতী বন্ধুর ভালোবাসার উসিলায়!
এ ঘটনা দেখে জাহান্নামের অন্যান্য লোকেরা হতবাক হয়ে প্রশ্ন করতে থাকবে— ‘একে কী কারণে মুক্তি দেওয়া হলো? তার বাবা কি শহীদ ছিলেন? তার ভাই কি শহীদ ছিলেন? কোনো ফেরেশতা বা নবী কি তার জন্য সুপারিশ করেছেন?’
জাহান্নামীরা নানা প্রশ্ন করবে। কারণ, কোনো সুপারিশ ছাড়াই একজন জাহান্নামী মুক্তি পেয়ে গেল!
কিন্তু উত্তর আসবে— ‘না! বরং তার জান্নাতী বন্ধু তাকে স্মরণ করেছে, তাকে খুঁজেছে, আর আল্লাহ তার সেই জান্নাতী বান্দার আবদার কবুল করেছেন।’
এ কথা শুনে জাহান্নামীরা আফসোস করতে থাকবে

فَمَا لَنَا مِن شَافِعِينَ وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ

হায়! আমাদের তো কোনো সুপারিশকারী নেই! আমাদের জন্য তো কোনো ভালো বন্ধু নেই! [m~iv ï'Aviv: 100-101, তাফসীরে বগভি : ৩৭১]
ভালো বন্ধু কেন দরকার?
তাই বন্ধুত্ব কার সঙ্গে করছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ! যাকে তাকে বন্ধু বানাবেন না। ভালো মানুষের সঙ্গে থাকুন, ভালো মানুষকে ভালোবাসুন, যেন সে জান্নাতে গিয়েও আপনাকে খোঁজে! আপনি যদি বেশি আমল করতে নাও পারেন, তবুও নেককারদের ভালোবাসুন, তাদের সঙ্গ নিন। তাহলে হয়তো আল্লাহ তাআলা আপনাকেও তাদের সঙ্গে রাখবেন।

أُحِبُّ الصَّالِحِينَ وَلَسْتُ مِنْهُمْ

لَعَلِّي أَنْ أَنَالَ بِهِمْ شَفَاعَـــــة

لَعَلَّ اللهَ يَرْزُقُنِي صَلَاحًا

‘আমি নেককারদের ভালোবাসি, যদিও আমি তাদের মতো নই,
তবুও আশায় থাকি যেন তাদের সুপারিশ পেয়ে যাই।’
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন

المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ

মানুষ তার প্রিয়জনের সঙ্গেই হাশরের দিন থাকবে। [সহীহ বুখারী : ৬১৬৯]
সুতরাং, ভালো বন্ধুত্ব শুধু দুনিয়ার সম্পদ নয়, আখিরাতেরও পাথেয়। ভালো মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখুন, তাদের ভালোবাসুন। তাহলে তাদের উসিলায় আপনি আল্লাহর রহমত পাবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

সংশোধনের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত
যদি কোনো সৎ, বিচক্ষণ ও ধর্মপ্রাণ বন্ধু আমাদের ভুল ধরিয়ে দেয়, তাহলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং তাকে হিতাকাঙ্ক্ষী মনে করতে হবে। কেননা, যে আমাদের ভুলগুলো জানিয়ে দেয়, সে আসলে আমাদের উপকারই করে।
হযরত উমর রাযি. বলতেন

رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً أَهْدَى إِلَيَّ عُيُوبِي

আল্লাহ তাকে রহম করুন, যে ব্যক্তি আমাকে আমার দোষ জানিয়ে দেয়! [ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন : ৭/৩৪৮]

আমিও সেদিন থেকে আর মদ পান করি না
একদিন উমর রাযি. একটি বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির জানালা দিয়ে তাকালেন। তিনি এটি করতেন শুধুমাত্র মানুষকে খারাপ কাজ থেকে নিষেধ বা ভালো কাজের উপদেশ দানের জন্য।
তিনি দেখলেন যে, একজন মুসলিম মদ পান করছে। তিনি দ্রুত তার বাসায় প্রবেশ করলেন এবং তাকে বললেন যে, তুমি তো হারাম কাজ করছো। তখন ওই লোকটি উমর রাযি.-কে বললো

وأنت يا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَا تَعْجَلْ، فَإِنِّي إِنْ كُنْتُ عَصَيْتُ اللَّهَ فِي وَاحِدَةٍ فَإِنَّكَ قَدْ عَصَيْتَ اللَّهَ فِي ثَلَاثٍ

আমীরুল মুমিনীন! আমার বিষয়ে এত তাড়াহুড়ো করবেন না। কেননা আপনি কী কাজ করলেন! আমি একটি হারাম করছি আর আপনি তো তিনটি হারাম কাজ করলেন।

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (وَلَا تَجَسَّسُوا) وَقَدْ تَجَسَّسْتَ

এক. আপনি গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন। অথচ আল্লাহ বলেছেন, তোমরা গুপ্তচরবৃত্তি করো না।

وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (وَلَيْسَ الْبِرُّ أَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا) وَقَدْ تَسَوَّرْتَ عَلَيَّ.

দুই. আপনি দেয়াল বেয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করেছেন। অথচ আল্লাহ বলেছেন, তোমরা গৃহসমূহে তার দরজা দিয়ে প্রবেশ কর।

تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا). وَقَدْ دَخَلْتَ بَيْتِي بِغَيْرِ إِذْنٍ وَلَا سَلَامٍ

তিন. আপনি অনুমতি না নিয়ে এবং সালাম না দিয়ে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। অথচ আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না।
তখন উমর রাযি. বললেন যে, তুমি ঠিকই বলেছ। এ বলে উনি চলে গেলেন।
এর কিছুদিন পর উমর রাযি. মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন সেই সময়ে ওই লোক মসজিদে প্রবেশ করে পেছনে বসলো। খুতবা শেষ করে উমর রাযি. ওই লোকের কাছে গেলেন গিয়ে চারপাশে তাকিয়ে চুপচুপে বললেন যে, দেখ! সেদিনের পর আমি আর কারো বাড়ির জানালার দিকে তাকাই না। আর আমি তোমার ওই ঘটনাকে কারো কাছে বলি নি।
তখন ওই লোক বললো যে, আমিও সেদিন থেকে আর মদ পান করি না। [মাকারিমুল আখলাক : ৪১৯]

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

আজমেরী রোড(ট্রান্সমিটার), ফায়দাবাদ, দক্ষিণখান
Dhaka
১২৩০