27/05/2026
ঈদ মোবারক!
A research center working on the history, tradition, social and political positions that represent the Sufi community.
27/05/2026
ঈদ মোবারক!
23/05/2026
https://maqambd.org/the-inscription-of-the-mosque-at-the-dargah-of-hazrat-shah-ali-baghdadi/
The Inscription of the Mosque at the Dargah of Hazrat Shah Ali Baghdadi - Maqam Preface At the Dargah (shrine) of Hazrat Shah Ali Baghdadi, a mosque was commissioned by Sultan Shamsuddin Yusuf Shah in 885 AH / 1480 CE. Contextualizing this construction, the renowned scholar Dr. Enamul Haque observes that “almost all the mosques adjoining to the ‘Dargahs’ in Bengal, were b...
20/05/2026
“In 1904, Sayid Aulad Hasan held several prominent administrative and civic positions in Dhaka, serving as the Special Sub-Registrar, a member of the District Board, a Municipal Commissioner, and a Governor of the Dhaka Hospital. Concurrently, he emerged as a pioneering contributor to the initial phase of the Journal of the Moslem Institute. This publication served as the official organ of the Moslem Institute, a pivotal institution based in Calcutta that catalyzed the intellectual and literary activities of the young Muslim intelligentsia.
That same year, Mr. Hasan published his seminal work, Notes on the Antiquities of Dacca. This volume is widely recognized as arguably the first monograph on Dhaka written in English by a Bengali Muslim. Within this study, Hasan dedicated a specific chapter to Hazrat Shah Ali Baghdadi and his shrines. Notably, this account constitutes the earliest extant English textual record documented on Shah Ali Baghdadi. Consequently, from a historiographical perspective, Hasan’s work stands as a foundational and highly significant historical text for the study of this venerable Sufi saint.”
15/05/2026
|| ঐতিহাসিক সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে হামলা: জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মাজার, দরগাহ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সরকারের প্রতি ৫ দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়েছে মাকাম ||
গত ১৪ মে, ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত ১১:৩০ মিনিটে (আনুমানিক) ঢাকার মিরপুরে ঐতিহাসিক হযরত শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে সহিংস কায়দায় হামলা চালিয়েছে একদল উচ্ছৃঙ্খল ও উন্মত্ত যুবক। হামলার মাধ্যমে মাজারে থাকা ফকিরদের মারধর, নারীদের আক্রমণ ও মাজার সংলগ্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। উক্ত হামলার গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হামলায় অংশগ্রহণকারী ও নেপথ্যে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায় সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাকাম।
হযরত শাহ আলী বাগদাদীর মাজার এলাকার সংসদীয় আসন ঢাকা-১৪’র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম হামলার নিন্দা বা প্রতিবাদ জানানোর পরিবর্তে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ বলে হামলার ন্যায্যতা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একজন আইনপ্রণেতা ও প্রধান সারির দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়েও এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলার পক্ষে বৈধতা উৎপাদনে একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য মাজার, দরগাহ, খানকায় ধারাবাহিক হামলাকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছে মাকাম।
হামলা বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ও বক্তব্যও অসংলগ্ন। পুলিশের মিরপুর বিভাগের বিভাগের উপ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, “মাজার এলাকায় পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে সেখানে কিছু উৎসুক মানুষ নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে।” একইসাথে কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করে দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল বলেন, “মাজারে তো আমরা অভিযান চালাইনি। রাতে যেটা দেখলাম যে জামায়াত-শিবিরের পোলাপান মনে হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপি থেকে মিরাজ যেমন নিজ উদ্যেগে অভিযান চালিয়েছিল কালকে মনে হয় জামায়াত শিবির নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। এখানে পুলিশের কোনো ইনভল্ভমেন্ট নেই।” বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, এক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সমন্বয় নেই, যা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত জরুরী। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অসংলগ্ন, সমন্বয়হীনতাও হামলাকারীদের প্রকারান্তরে উৎসাহিত করবে বলে মনে করে মাকাম।
হযরত শাহ আলী বাগদাদী একজন ঐতিহাসিক সুফি ব্যক্তিত্ব। ১৫ শতাব্দীতে তিনি বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় আগমন করেন এবং বাংলার বহু স্থান অতিক্রম করে ঢাকার মিরপুরে এসে বসতি স্থাপন করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি বৃহত্তর ঢাকার অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ সুফি সাধক। তাঁর দরগাহে স্থাপিত মসজিদটিও ঐতিহাসিক। সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ ৮৮৫ হিজরী মোতাবেক ১৪৮০ সালে উক্ত মসজিদ নির্মাণ করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে এর ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য। ঢাকার অন্যতম বৃহৎ মিরপুর নগর আবাদ হয়েছে হযরত শাহ আলীর মাজারকে কেন্দ্র করেই। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই ঐতিহাসিক সুফি সাধকের মাজারেই এমন ন্যক্কারজনক হামলা সংঘটিত হয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে যে বাংলায় ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বিষয়কে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ৯৭টি মাজারে হামলার প্রমাণ পেয়েছে মাকাম। ৯৭টি হামলার ঘটনায় ৩জন নিহত ও ৪৬৮জন আহত হয়েছেন। যে ঘটনাগুলোতে মামলা দায়ের হয়েছে সেগুলোরও কার্যকরী অগ্রগতি নেই। জনস্বার্থ বিবেচনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত দলীয় ইশতেহারে যেন হামলার শিকার মাজার, খানকাহ, দরগাগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উল্লেখ করা হয়— এই অনুরোধ জানিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মাকাম’র পক্ষ থেকে ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠানো হয়। রাজনৈতিক দলগুলো চিঠি গ্রহণ করলেও তাদের ইশতেহারে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। মাজারে হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকারেরও সদিচ্ছা ও কার্যকরী সমাধানের দৃশ্যমান গাফিলতির ফলেই হযরত শাহ আলী বাগদাদীর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের মাজারে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করে মাকাম।
মাজার কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন হিসেবে হাজার বছর ধরে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ধারাবাহিক ও সঙ্ঘবদ্ধভাবে মাজারে হামলার ফলে বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় হামলার শিকার মাজার, খানকাহ, দরগাগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। মাজারে হামলার ঘটনা রোধকল্পে ও সংশ্লিষ্ট সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অবিলম্বে সুফি-সমাজের মতামতের ভিত্তিতে ‘মাজার, দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চায় মাকাম। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এজন্য জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং মাজারে হামলার ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন উভয়ই অত্যন্ত জরুরী। আশা করছি, জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকার অবিলম্বে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশের মাজার, দরগাহ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সরকারের নিকট মাকামের ৫ দাবি:
১. মাজার, দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা।
২. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সুফি সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে “জাতীয় মাজার, দরগাহ সুরক্ষা কমিটি” গঠন করা।
৩. উক্ত কমিটির আওতায় অতীতে হামলার শিকার সকল মাজার, দরগাহ, খানকার সরকারি তালিকা প্রকাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ, খানকার যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
৪. মাজারে হামলার ঘটনায় অদ্যাবধি যত মামলা হয়েছে সকল মামলা দ্রুত ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
৫. বাংলাদেশের সকল দরবার, দরগাহ, মাজার, খানকাহকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সকল প্রকার নিরাপত্তা এবং জাতীয়, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মাকাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি ধারাবাহিক ও সঙ্ঘবদ্ধভাবে মাজারে হামলার মাধ্যমে বিনষ্ট হওয়া ধর্মীয় সহাবস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করে একটি সামাজিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ পুনর্গঠনে উত্থাপিত ৫টি দাবি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। মাকাম আশা প্রকাশ করছে, বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা ও শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এই ৫টি দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বিবৃতি
ঢাকা, ১৫ মে, ২০২৬
14/05/2026
“The First Arabic Inscription Found at Shah Makhdum’s Dargah in Birbhum after Bakhtiyar Khalji’s Conquest: A Historical Artifact”
Preface
The earliest extant inscription established following the consolidation of Bakhtiyar Khalji’s rule in parts of Bengal was discovered at the Dargah of Hazrat Shah Makhdum in Birbhum. This significant artifact was unearthed by Babu Siddheshwar Mukhopadhyay, a local school teacher and history enthusiast. Dated 618 AH (1221 CE), this stands as the first complete and chronological epigraphic record installed after the conquest of Bakhtiyar Khalji.
This inscription serves as a primary historical testament to the pivotal role played by Sufis in the propagation of Islam, the formation of Muslim society, and the institutionalization of Muslim rule in Bengal. A scholarly analysis of this historic inscription was conducted by the renowned historian Dr. Abdul Karim. In his study, Dr. Karim focused extensively on the titles (Laqab) and designations of the Khalji rulers as mentioned in the text. While he consciously refrained from discussing the broader social and cultural history surrounding the inscription, it remains a paramount document for tracing the historical leadership of Sufis in establishing political rights and social structures for Muslims in Bengal.
Recognizing its profound historical significance, we are sharing Dr. Karim’s analysis with our readers. This discourse has been sourced from Dr. Abdul Karim’s seminal work, Corpus of the Arabic and Persian Inscriptions of Bengal, published by the Asiatic Society in 1992.
For the convenience of the reader, the Arabic and Persian honorary titles mentioned in the inscription have been presented in italics. The text has been reproduced here verbatim, without any editorial modifications. We reserve the right to provide our own scholarly analysis or remarks on this subject in the future, should it be deemed necessary.
10/05/2026
“হযরত নূর কুতুবুল আলম এবং কুতুবুল আউলিয়ার মুলাম্মায়াত কাব্য: বাংলা ভাষার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ঘটনা”
মোহাম্মদ আবু সাঈদ
ভূমিকা: বাঙালি জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি বাংলা ভাষা। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে মধ্যযুগ পার হয়ে আধুনিক যুগের অদ্যাবধি বাংলা ভাষার বহুমাত্রিক বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন অনেকেই। বর্তমান সময়ে বাংলা ভাষার যে সর্বব্যাপি চর্চা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তা সবসময় ছিল না। বাংলা ভাষার প্রাচীনকাল থেকে প্রাক-ঔপনিবেশিক শাসনের আগ পর্যন্ত বাংলা ভাষা বহু বন্ধুর, কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করেছে। সে সময়ে যারা বাংলা ভাষার স্বাভাবিক বিকাশ ও অগ্রগতি অক্ষুণ্ন রাখতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে সুফি সমাজ অন্যতম প্রধান। আলাওল, দৌলত উজির, হাজী মুহম্মদ, শেখ চান্দ, আলী রজা, আবদুল হাকিম, হেয়াত মামুদের মতো সমৃদ্ধ রচনাবলীর জনপ্রিয় সুফি কবিরা তো আছেই; পাশাপাশি এমন অনেক সুফি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন যার যথাযোগ্য আলোচনা ও স্বীকৃতি অদ্যাবধি মেলেনি। সাক্ষ্য হিসেবে চতুর্দশ শতকের প্রভাবশালী সুফি নূর কুতুবুল আলম এবং ষোলো শতকের সুফি সাধক কুতুবুল আউলিয়ার দুটি কাব্য বর্তমান নিবন্ধের আলোচ্য বিষয়।
কমেন্টে দেয়া লিঙ্ক থেকে ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়তে পারেন পুরো প্রবন্ধটি।
28/04/2026
Program Update
The Google Meet link has been sent to all individuals who completed the Google Form. We look forward to your timely attendance.
Unfortunately, we were unable to contact five participants as their email addresses were not provided. We regret the inconvenience caused by this omission.
24/04/2026
অংশগ্রহণে আগ্রহীগণ কমেন্টে দেয়া গুগল ফর্ম পূরণ করতে পারেন।
14/04/2026
বাংলার কৃষক ও সুফি সমাজ: বাংলা সনের চর্চায় ঐতিহ্যের সুলুকসন্ধান
“বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী দরবার মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রধান ৩টি উরস— সৈয়দ আহমদউল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর বার্ষিক উরস ৮, ৯, ১০ মাঘ, সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারীর বার্ষিক উরস ২২ চৈত্র ও সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর বার্ষিক উরস ২৬ আশ্বিন। ঢাকার অন্যতম প্রাচীন দরবার মশুরিখোলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত কেবলা শাহ্ আহসানউল্লাহ’র বার্ষিক উরস ৩ ফাল্গুন। বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দরবার ফুরফুরা দরবার শরীফের বার্ষিক উরস ২১, ২২ ও ২৩ ফাল্গুন (দরবার থেকে ‘ইসালে সওয়াব’ হিসেবে চিহ্নিত)। চট্টগ্রামের বিখ্যাত আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফের বার্ষিক উরস ১ মাঘ। চাইলে এভাবে একটি লম্বা তালিকা তৈরি করা যাবে। প্রশ্ন হলো, কেন আরবি ও ঈসায়ী সনে উরস সুনির্দিষ্ট না করে বাংলা সনে সুনির্দিষ্ট করা হয়? কারণগুলো কী কী? আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা করলে, দরবার হিসেবে ধর্মীয় দিক থেকে আরবি সন গণনাই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, জনপ্রিয়তার দিক থেকে ঈসায়ী সনও অগ্রাধিকার পেতে পারে, তবুও কেন বাংলা সনের অগ্রাধিকার দরবার, দরগাহে?”
কমেন্টে দেয়া লিঙ্ক থেকে পড়তে পারেন পুরো লেখাটি।
11/04/2026
“কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলার ঘটনায় পীর সাহেব নিহত; জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি মাজার, দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চায় মাকাম”
আজ ১১ এপ্রিল ২০২৬, রোজ শনিবার, কুষ্টিয়ার ফিলিফনগরে শাহ্ সুফি শামীম আল-জাহাঙ্গীর’র দরবারে একদল উন্মত্ত জনতা হামলা চালায়। হামলাকারীদের তীব্র আক্রমণের ফলে দরবারের পীর শাহ্ সুফি শামীম আল-জাহাঙ্গীর নিহত হন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন। নিহত পীর সাহেব শাহ্ সুফি শামীম আল-জাহাঙ্গীর’র ভক্ত মুরিদের মধ্যে কিছু লোক হামলাকারীদের আক্রমণের ফলে আহত হয়েছেন। এই নৃশংস, ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ৯৭টি মাজারে হামলার প্রমাণ পেয়েছে মাকাম। ৯৭টি হামলার ঘটনায় ৩জন নিহত ও ৪৬৮জন আহত হয়েছেন। ১১টি ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও কোনোটিরই কার্যকরী অগ্রগতি নেই। জনস্বার্থ বিবেচনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত দলীয় ইশতেহারে যেন হামলার শিকার মাজার, খানকাহ, দরগাগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উল্লেখ করা হয়— এই অনুরোধ জানিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মাকাম’র পক্ষ থেকে ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠানো হয়। রাজনৈতিক দলগুলো চিঠি গ্রহণ করলেও তাদের ইশতেহারে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। মাজারে হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকারেরও সদিচ্ছা ও কার্যকরী সমাধানের দৃশ্যমান গাফিলতির ফলেই কুষ্টিয়ায় এমন নৃশংস, ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করে মাকাম।
মাজার কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন হিসেবে হাজার বছর ধরে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ধারাবাহিক ও সঙ্ঘবদ্ধভাবে মাজারে হামলার ফলে বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় হামলার শিকার মাজার, খানকাহ, দরগাগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। মাজারে হামলার ঘটনা রোধকল্পে ও সংশ্লিষ্ট সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অবিলম্বে সুফি-সমাজের মতামতের ভিত্তিতে ‘মাজার, দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চায় মাকাম। কুষ্টিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এজন্য জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং মাজারে হামলার ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন উভয়ই অত্যন্ত জরুরী। আশা করছি, জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকার অবিলম্বে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিবৃতি
১১ এপ্রিল, ২০২৬