30/06/2025
🌸 আয়াতুল কুরসিঃ
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
(শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়,অতি দয়ালু।)
اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।
(আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই,
তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও সংরক্ষক।)
لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ
লা তা'খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম।
(তাঁকে ঘুম বা তন্দ্রা স্পর্শ করে না।)
لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ
লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব।
(আকাশমণ্ডলী ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর।)
مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ
মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহ।
(কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে?)
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ
ইয়া'লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম।
(তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও তাদের পেছনে।)
وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ
ওয়ালা ইউ-হিতুনা বিশাই'য়িম মিন'ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ।
(তাঁর জ্ঞানের কিছু অংশও তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন।)
وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ
ওয়াসি'আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব।
[তাঁর কুরসি (সিংহাসন) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে।]
وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا
ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা
(এই দু’টির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না।)
وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
ওয়া হুয়াল 'আলিয়্যূল আ'জিম।
(তিনি সর্বোচ্চ, মহান।)
🌸 আয়াতুল কুরসি পড়ার নিয়মঃ
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়া উত্তম। এছাড়াও ঘুমানোর আগে, সকালে ও সন্ধ্যায় এবং যেকোনো বিপদ বা ভয়ের সময় পাঠ করা যায়।
🌸 আয়াতুল কুরসির ফজিলতঃ
১) আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে?
রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসী। [নাসায়ী]
২) হজরত আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। [সুনানে বায়হাকী]
৩) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। [মুসতাদরাকে হাকিম]
৪) যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশির ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। [সুনানে বায়হাকী]
৫) শয়নকালে পাঠ করলে,
সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হ'তে না পারে। [বুখারী]
৬) আল্লাহর আশ্রয়ঃ
আয়াতুল কুরসি পাঠ করা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার একটি মাধ্যম, যা শয়তান ও জিনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
৭) মানসিক শান্তিঃ
নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং দুশ্চিন্তা ও ভয় দূর হয়।
৮) সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করলে,
সারাদিন আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকা যায় এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৯) ওজু করার পর পাঠ করলে,
আল্লাহর নিকট ৭০ গুন মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
১০) বাড়িতে ঢুকার সময় পাঠ করলে,
বাড়িতে দারিদ্রতা প্রবেশ করতে পারে না।
১১) বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পাঠ করলে,
৭০,০০০ ফেরেস্তা চর্তুদিক থেকে তাকে রক্ষা করে।
#আয়াতুল_কুরসি #তাওহীদের_ডাক