Quran Hadith and Islam

Quran Hadith and Islam

Share

হাদীস তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়। আপনার সন্তানকে পবিত্র কুরআন শিখান! ☎️+8801610557184

26/05/2026

ইসলামের আলোকে ১২টি কাজ যা নিয়মিত করলে আপনার জীবনের গতি পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এই কাজগুলো কুরআন ও সুন্নাহের ভিত্তিতে নির্বাচিত। যদি আপনি এগুলো সত্যিকারের নিয়ত ও ধৈর্যের সাথে করেন, তাহলে আল্লাহ তা’আলা আপনার দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই বদলে দিবেন।

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করবেন

▪️(সূরা আল-মু’মিনূন: ৯)
নামাজ হলো ঈমানের মূল স্তম্ভ। সময়মতো নামাজ আদায় করলে আল্লাহ আপনার সব চিন্তা-ভাবনা ও কাজকে বরকতময় করে দেন।

২. প্রতিদিন কমপক্ষে ১ পারা কুরআন তিলাওয়াত করবেন

▪️(সূরা আল-বাকারা: ১৫১-১৫২)
কুরআন পড়লে হৃদয় শান্ত হয়, মনের অন্ধকার দূর হয় এবং জীবনের সব সমস্যার সমাধান আল্লাহ নিজেই দেখিয়ে দেন।

৩. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত জিকির করবেন

▪️(সূরা আল-আহযাব: ৪১)
“সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার” — এগুলো মুখে রাখুন। জিকির আল্লাহর সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে, ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করে।

৪. প্রতিদিন নিয়মিত সাদকা (দান) করবেন

▪️(সূরা আল-বাকারা: ২৬১)
যত ছোটই হোক (১০ টাকা, খাবার, হাসি, ভালো কথা) — দান করলে আল্লাহ আপনার রিজিক বাড়িয়ে দেন এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

৫. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করবেন

▪️(সূরা আল-হাশর: ৭)
খাবার খাওয়া, ঘুমানো, কথা বলা, চলাফেরা — সবকিছুতে সুন্নাহ মেনে চলুন। এটি জীবনকে সহজ ও বরকতময় করে।

৬. পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবেন ও তাদের জন্য দোয়া করবেন

▪️(সূরা বনী-ইসরাইল: ২৩-২৪)
জান্নাত পিতা-মাতার পায়ের নিচে। তাদের সন্তুষ্টিতে আল্লাহ আপনার সব দোয়া কবুল করেন।

৭. শুধু হালাল রুজি উপার্জন করবেন ও হারাম থেকে পুরোপুরি দূরে থাকবেন

▪️(হাদিস: “প্রত্যেক মাংস হারাম দিয়ে গড়া, তা জাহান্নামের উপযুক্ত”)
হালাল রুজি আপনার দোয়া, নামাজ ও সব আমলকে কবুলযোগ্য করে।

৮. প্রতিদিন অন্তত একবার নিজের গুনাহের তওবা করবেন

▪️(সূরা আত-তাওবা: ১১৮)
আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন। প্রতিদিন তওবা করলে পাপের বোঝা কমে এবং নতুন করে শুরু করার সুযোগ হয়।

৯. প্রতিদিন সকালে ও রাতে দোয়া করবেন

▪️(সূরা আল-গাফির: ৬০)
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা” — এই দোয়া পড়ুন। দোয়া জীবনের চালিকাশক্তি।

১০. প্রতিদিন আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবেন

▪️(সূরা ইবরাহীম: ৭)
“আলহামদুলিল্লাহ” বলে শুকর করুন। শুকরিয়া করলে নেয়ামত বাড়তে থাকে।

১১. প্রতিদিন ইলম (জ্ঞান) অর্জন করবেন

▪️(হাদিস: “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ”)
একটি হাদিস বা একটি আয়াত শিখুন। জ্ঞান আপনাকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যায়।

১২. সৎ ও নেককার মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করবেন

▪️(সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)
খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করুন। ভালো সঙ্গ আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো করে তুলবে।

ইনশাআল্লাহ!
যদি আপনি এই ১২টি কাজ আজ থেকেই শুরু করেন, তাহলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে আপনি নিজেকেই চিনতে পারবেন না। আপনার জীবন, মন, পরিবার, রিজিক ও আখিরাত — সবকিছু পুরোপুরি বদলে যাবে।

আল্লাহ আপনাকে এই কাজগুলো করার তাওফিক দান করুন এবং আপনার জীবনকে বর
কতময় করে দিন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

শুরু করুন আজ থেকেই। জীবন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরবে ইনশাআল্লাহ।

28/04/2026

বিষয়ভিত্তিক বয়ান
বিষয়: মুসলমানের ২৪ ঘণ্টার রুটিন।

ভূমিকাঃ-
হামদ্ ও সামলাতের পর.....
মুহতারাম হাযিরীন! মানুষের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। সবার আয়ু নির্ধারিত। দুনিয়ার ছোট্ট জীবন শেষে রয়েছে পরকালের সীমাহীন জীবন। এ দুনিয়ায় কেউ চিরকাল থাকবে না। সবাই মৃত্যুবরণ করবে। মানুষ এক একটি দিন অতিবাহিত করেই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই জীবনের মূল্যবান সময়কে শ্রেষ্ঠ সম্পদ মনে করতে হবে। তা হিসাব করে ব্যয় করতে হবে। তাই আজকের আলোচ্য বিষয় হলোঃ একজন মুসলমানের ২৪ ঘণ্টার রুটিন কেমন হওয়া উচিত? এসম্পর্কে সময়ের এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে যতটুকু সম্ভব আলোকপাত করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

মূল আলোচনাঃ-

মুহতারাম হাযিরীন! আলোচনা বুঝার সুবিধার্থে আমরা ১১ টি পয়েন্ট মনে রাখব ইনশ আল্লাহ। যথাঃ-

১. ফজরের আজান হলে করণীয়।
২. ফজরের পর করণীয়।
৩. সূর্যোদয়ের পর করণীয়।
৪. ইশরাকের পর করণীয়।
৫. জোহরের ওয়াক্ত হলে করণীয়।
৬. আসরের ওয়াক্ত হলে করণীয়।
৭. মাগরিবের ওয়াক্ত হলে করণীয়।
৮. এশারের ওয়াক্ত হলে করণীয়।
৯. এশার নামাজের পর করণীয়।
১০. বিশেষ সর্তকবার্তা।
১১. পুরুষরা কাজে না গেলে কী করবেন?

এক,
ফজরের আজান হলে করণীয় :

১. ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া: এরপর এ দোয়াটি পাঠ করা,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

অর্থ : সেই আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান।

عَنْ حُذَيْفَةَ ـ رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ ثُمَّ يَقُولُ ‏"‏ اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا ‏"‏‏.‏ وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ ‏"‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাত গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলতেনঃ "আল্লাহুম্মা
বিস্‌মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া" হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই। আর যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ "আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর" সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান। (সহীহ বুখারী: ৬৩১৪)

২. ইস্তিঞ্জা করা : পেশাব-পায়খানার পর পবিত্রতা অর্জনকে ‘ইস্তিঞ্জা’ বলা হয়। শরিয়তে ইস্তিঞ্জার ওপর বিশেষ তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। ইস্তিঞ্জায় অবহেলা করাকে বড় গুনাহ এবং কবরে আজাবের কারণ বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ، وَأَمَّا الآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً، فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ، فَغَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ ‏"‏ لَعَلَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কবরের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি বললেনঃ এদের আযাব দেওয়া হচ্ছে, কোন কঠিন পাপের জন্য তাদের আযাব হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর একখানি পুঁতে দিলেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ’ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরূপ কেন করলেন?’ তিনি বললেনঃ হয়তো তাদের থেকে (আযাব) কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন পর্যন্ত এ’টি না শুকাবে। (বুখারী: ২১৮)

*পেশাব-পায়খানার জন্য নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার আগে নিম্নের দু'য়াটি পড়া উত্তম :

بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبائِث

(আল্লাহ্‌র নামে) হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর জিন্ ও নারী জিন্ থেকে আশ্রয় চাই। (সহীহ বুখারী: ১/৪৫, নং ১৪২; মুসলিম: ১/২৮৩, নং ৩৭৫)

*পায়খানা বা ইস্তিঞ্জার পর ডান পা আগে দিয়ে বের হয়ে নিম্নের দুয়াটি পড়া উত্তম :

الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِيْ اَذْهَبَ عَنِّيْ الْاَذَى وَعَافَانِيْ

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং স্বস্তি দান করেছেন। (ইবনে মাজাহ: ২৯৭)

৩. মুখ পরিষ্কার করা : ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে, নামাজের আগে, কোনো মজলিসে যাওয়ার আগে এবং কোরআন-হাদিস পাঠ করার আগে মিসওয়াক/ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার করা মুস্তাহাব। (মারাকিল ফালাহ : ৫৩)

তবে ব্রাশ দিয়ে মিসওয়াকের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে না। কেননা মিসওয়াকের মাঝে দুটি সুন্নত রয়েছে—(ক) দাঁত পরিষ্কার করা। (খ) গাছের ডাল দিয়ে পরিষ্কার করা। তবে হ্যাঁ, ব্রাশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে শুধু দাঁত পরিষ্কারের সুন্নত আদায় হবে। গাছের ডাল দিয়ে পরিষ্কারের সুন্নত আদায় হবে না। (দুররুল মুখতার : ১/২৩৬)

৪. অজু করা : অজুকে নামাজের চাবি বলা হয়েছে।

عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ

আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা।
(আবু দাউদ: ৬১)

তাই অজুর ফরজ, সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদির প্রতি ভালোভাবে খেয়াল করে অজু সম্পন্ন করা চাই।

*অযু অবস্থায় থাকলে ফেরেশতারা অনবরত নেকী লিখতে থাকে :

রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, “হে আবু হুরায়রা! যদি তুমি ওযু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল হামদুলিল্লাহ্’ বল, তাহলে একজন পর্যবেক্ষক (ফেরেশতা) তোমার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত নেকী লিখতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার ওযু ভঙ্গ না হয়।” (মাজমাউয যাওয়ায়িদ ১ম খণ্ড, পৃ. ২২০)

*ওযুকারীর চেহারা থাকবে উজ্জ্বল, সৌন্দর্যমণ্ডিত থাকবে:

عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ، قَالَ رَقِيتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ عَلَى ظَهْرِ الْمَسْجِدِ، فَتَوَضَّأَ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ‏

নু‘আয়ম মুজমির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযি.)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। অতঃপর তিনি উযূ করে বললেনঃ ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহবান করা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।’
(বুখারী: ১৩৬, মুসলিম: ২৪৬)

*পূর্ববতী ও পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে:

عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ دَعَا بِوَضُوءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إِنَائِهِ، فَغَسَلَهُمَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْوَضُوءِ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ، وَاسْتَنْشَقَ، وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاَثًا، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ كُلَّ رِجْلٍ ثَلاَثًا، ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا وَقَالَ ‏ "‏ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

উসমান ইবনু ‘আফফান (রাযি.)-এর মুক্ত করা দাস হুমরান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উসমান (রাযি.)-কে উযূর পানি আনাতে দেখলেন। অতঃপর তিনি সে পাত্র হতে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, অতঃপর মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর উভয় পা তিনবার ধোয়ার পর বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করতে দেখেছি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করবে এবং তার মধ্যে অন্য কোন চিন্তা মনে আনবে না, আল্লাহ্ তা‘আলা তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’
(বুখারী: ১৬৪, আধুনিক: ১৬০)

*ওযূর পানির ফোটার সাথে গুনাহ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ - أَوِ الْمُؤْمِنُ - فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম কিংবা মু’মিন বান্দা (রাবীর সন্দেহ) ওযুর সময় যখন মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলে তখন তার চোখ দিয়ে অর্জিত গুনাহ পানির সাথে অথবা (তিনি বলেছেন) পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায় এবং যখন সে দু’টি হাত ধৌত করে তখন তার দু’হাতের স্পর্শের মাধ্যমে সব গুনাহ পানির অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়। অতঃপর যখন সে পা দুটি ধৌত করে, তখন তার দু’পা দিয়ে হাটার মাধ্যমে অর্জিত সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়, এমনকি সে যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।
(মুসলিম: ২৪৪)

*নখের নিচ থেকে গুনাহ বের হয়ে যায় :

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ ‏"‏ ‏

উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওযু করে এবং তা উত্তমরূপে করে, তার দেহ থেকে সমস্ত পাপ ঝরে যায়, এমনকি তার নখের ভিতর থেকেও (গুনাহ) বের হয়ে যায়। (মুসলিম: ২৪৫)

*গুনাহের কাফফারা :

আমূর ইবনু সাঈদ ইবনুল ’আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

كُنْتُ عِنْدَ عُثْمَانَ فَدَعَا بِطَهُورٍ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاَةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلاَّ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ

আমি উসমান (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিমের যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয় আর সে উত্তমরূপে সালাতের ওযু করে, সালাতের নিয়ম ও রুকূকে উত্তমরূপে আদায় করে তা হলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হবে তার এ সালাত তার পিছনের সকল গুনাহের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান।
(মুসলিম: ২২৮)

৫. ফজরের নামাজ পড়া : প্রথমে দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় করা। অতঃপর ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা। কোনো কারণে ফরজের আগে সুন্নত পড়তে না পারলে, সূর্য উদিত হওয়ার পর পড়ে নেবে। ফরজ নামাজ বা জামাতের পরপর এ সুন্নতের জন্য দাঁড়ানো যাবে না। (দুররুল মুখতার : ২/৫৭)

আর সূর্যোদয় অবস্থায় নামাজের জন্য দাঁড়ানো যাবে না। বরং সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর নামাজে দাঁড়াতে হবে। ফজর নামাজ পড়া অবস্থায় সূর্য উঠে গেলে সেই নামাজ সূর্যোদয়ের পর কাজা পড়ে নিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩২-৩৩)

দুই,
ফজরের পর করণীয় :

ফজরের পর পড়ার মতো ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল রয়েছে। যেগুলো পড়ে মুমিন বান্দা নানাবিধ উপকার লাভ করতে পারে। নিম্নে কতিপয় আমল উল্লেখ করা হলো—

১. আয়াতুল কুরসি ১ বার পাঠ করা : হযরত আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنّةِ إِلّا أَنْ يَمُوتَ

যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না। (শুআবুল ঈমান: ২৩৯৫)

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিন থেকে হেফাযতে থাকবে এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত জ্বিন থেকে হেফাযতে থাকবে। (তাবারানী, আল-মু’জামুল কাবীর: ১/২০১, মুসতাদরাক হাকিম: ১/৭৪৯, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/১১৭, সহীহুত তারগীব: ১/৩৪৫)

সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতটিই আয়াতুল কুরসি। তা হলো-

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوۡمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ ۚ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ

অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান।

এ আয়াতটি পড়তে বেশি হলে এক মিনিট সময় লাগতে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পাঁচ মিনিট। দৈনিক ২৪ ঘণ্টা সময় থেকে পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করলে এ মহাপুরস্কার লাভ করা সম্ভব।

২. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পাঠ করা : মু’আয ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَالمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِي وَتُصْبِحُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ

তুমি যদি সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার করে এই তিনটি সূরা পাঠ কর তবে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (তিরমিজি: ৩৫৭৫)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রাযি) হতে বর্ণিত আছে যে, আমাকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল! আমি চুপ রইলাম। পুনরায় বললেন, বল! আমি চুপ রইলাম। আবার বললেন, বল! আমি আরয করলাম, কি বলব ! ইরশাদ করলেন, সকাল বিকাল তিনবার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ো। এই সূরাগুলি প্রত্যেক কষ্টদায়ক জিনিস হতে তোমার হিফাযত করবে। (আবূ দাউদ: ৫০৮২)

৩. সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ১ বার পাঠ করা :

هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ ۚ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ‌ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِيۡمُ‏ ﴿۲۲﴾ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ اَلۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَيۡمِنُ الۡعَزِيۡزُ الۡجَـبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُ‌ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ‏ ﴿۲۳﴾ هُوَ اللّٰهُ الۡخَـالِـقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ‌ لَـهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى‌ؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ‌ۚ وَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُ

অর্থ: তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু। তিনিই আল্লাহ; যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে তা হতে পবিত্র ও মহান। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী, তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশারী, প্রজ্ঞাময়।

হযরত মা‘কাল ইবনে ইয়াসার (রাযি.) এর বর্ণিত রেওয়ায়েত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সকালে ৩ বার

اَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْـعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

(“আউযুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম”) পাঠ করার পর সূরা হাশরের সর্বশেষ তিন আয়াত পাঠ করবে। আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিবেন, তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঠকারীর জন্য রহমতের দু‘আ করবে। যেদিন এই আয়াত তিনটি পাঠ করবে সেদিন পাঠকারী মারা গেলে শহীদের মৃত্যু হাসিল করবে। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এভাবে পাঠ করবে সেও একই মর্তবা লাভ করবে। (তিরমিজি: ২৯২২)

আউযুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম। তিনবার পড়ে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত ১ বার পাঠ করবে।

৪. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করা : শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো বান্দার এ দু’আ পড়া-

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর। এমাত্র তুমিই গুনাহ মাফ করতে পারো।"।

যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।
(সহীহ্ বুখারি: ৬৩০৬)

৫. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া পাঠ করা : দোয়াটি হলো- (৭ বার পড়বে)

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো।

عَنِ الْحَارِثِ بْنِ مُسْلِمٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ مُسْلِمِ بْنِ الْحَارِثِ التَّمِيمِيِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ أَسَرَّ إِلَيْهِ فَقَالَ: إِذَا انْصَرَفْتَ مِنْ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ فَقُلْ: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّكَ إِذَا قُلْتَ ذَلِكَ ثُمَّ مِتَّ فِي لَيْلَتِكَ كُتِبَ لَكَ جِوَارٌ مِنْهَا، وَإِذَا صَلَّيْتَ الصُّبْحَ فَقُلْ كَذَلِكَ، فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ فِي يَوْمِكَ كُتِبَ لَكَ جِوَارٌ مِنْهَا أَخْبَرَنِي أَبُو سَعِيدٍ، عَنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ قَالَ: أَسَرَّهَا إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَحْنُ نَخُصُّ بِهَا إِخْوَانَنَا

আল-হারিস ইবনু মুসলিম আত্-তামীমী থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চুপে চুপে বলেন, যখন তুমি মাগরিবের সালাত থেকে অবসর হয়ে সাতবার বলবেঃ (اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ ) হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। তুমি তা বলার পর ঐ রাতে মারা গেলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে। আর যখন তুমি ফজরের সালাত শেষ করবে তখনও অনুরূপ বলবে, অতঃপর তুমি যদি ঐ দিন মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে। মুহাম্মাদ ইবনু শু’আইব (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ (রহঃ) আমাকে আল-হারিস (রাঃ) সূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তা চুপে চুপে বলেছেন, যাতে আমি আমার ভাইদের নিকট তা বিশেষভঅবে প্রচার করি (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৯)

৬. আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দু'য়া পাঠ করা :

দোয়াটি হলো- (৩ বার পড়ব)

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

অর্থ : আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (সা.) কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার উক্ত দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন।

عَنْ ثَوْبَانَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَالَ حِينَ يُمْسِي رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُرْضِيَهُ

সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সন্ধায় উপনীত হয়ে বলে, 'আল্লাহ তা'আলা আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার রাসূল হওয়ায় আমি সর্বান্তকরণে পরিতৃপ্ত আছি', তাকে পরিতৃপ্ত করা আল্লাহ তা'আলার করণীয় হয়ে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৯

৭. রোগব্যাধি থেকে হেফাজতের দোয়া পাঠ করা : রোগব্যাধি থেকে হেফাজতের জন্য নবীজি (সাঃ) যে দোয়াটি পড়তেন তা হলো-
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ ‏"‏ ‏.‏

ইয়া আল্লাহ! আমি শ্বেত (কুষ্ঠ) রোগ হতে, পাগ্‌লামী হতে, খুজ্‌লী-পাঁচড়া হতে এবং ঘৃণ্য রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫৪)

৮. চিন্তা, পেরেশানী, ঋণ, অলসতা ও কাপুরুষতা দূরীকরণের দু‘আ পাঠ করা:

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَ الْكَسَلِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَ الْبُخْلِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَ قَهْرِ الرِّجَالِ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই চিন্তা ও পেরেশানী থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অপারগতা ও অলসতা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের ক্ষোভ থেকে।

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাযি) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে আনসারী একজন লোককে দেখতে পেলেন, যার নাম আবূ উমামা। রাসূল তাকে বললেন, আবূ উমামা! ব্যাপার কী, নামাযের সময় ছাড়াও তোমাকে মসজিদে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে? আবূ উমামা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অনেক ঋণ এবং দুনিয়ার চিন্তা আমাকে গ্রাস করে রেখেছে। তখন রাসূল (সাঃ) তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালেমা শিখিয়ে দেব, যেগুলো বললে আল্লাহ তোমার চিন্তাকে দূর করে দেবেন এবং তোমার ঋণগুলো পরিশোধ করে দেবেন। তিনি বলেন, জি হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ! অবশ্যই বলুন, তখন রাসূল (সাঃ) তাকে উপরোক্ত দু‘আটি শিখিয়ে দেন এবং তা সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে বলেন। আবূ উমামা বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) এর এ দু‘আটি পড়তে লাগলাম। ফলে আল্লাহ আমার চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমার ঋণগুলোও আদায় করে দিলেন। (আবু দাউদ: ১৫৫৫)

৯. সূরা ইয়াসিন পড়া : হাদিসে সূরা ইয়াসিন পড়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। প্রতিদিন সকালে আমরা সুরা ইয়াসিন পড়তে পারি।

عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ قَلْبًا، وَقَلْبُ القُرْآنِ يس ، وَمَنْ قَرَأَ يس كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِقِرَاءَتِهَا قِرَاءَةَ القُرْآنِ عَشْرَ مَرَّاتٍ

অর্থাৎ, আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক বস্তুর হৃদয় থাকে, কোরআনের হৃদয় হল সূরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি একবার সূরা ইয়াসিন পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার সমগ্র কুরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন। (তিরমিজি: ২৮৮৭)

১০. দুশ্চিন্তা বা বিপদগ্রস্তের দু‘আ পাঠ করা :

দু'য়াটি হলো- (৩ বার পড়বে)

اَللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ ، فَلَا تَكِلْنِيْ إِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهٗ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا أَنْتَ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমতেরই আশা করি। তাই আপনি এক নিমেষের জন্যও আমাকে আমার নিজের কাছে সোপর্দ করবেন না। আপনি আমার সার্বিক বিষয়াদি সংশোধন করে দিন। আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নাই।

আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বকর বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বাজান! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দু‘আ বলতে শুনি। তিনি বললেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বাক্যগুলো দ্বারা দু‘আ করতে শুনেছি। সেজন্য আমিও তার নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি।
হযরত আব্বাস (রাযি)-এর বর্ণনায় রয়েছে তিনি বললেন, ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কুফরী ও দরিদ্রতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নাই।’’
তিনি এ দু‘আ সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতেন। তাই আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটি বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দু‘আ। (আবু দাউদ: ৫০৯০, মুসনাদে আহমদ: ১৯৫৩৯)

১১. শয়তান থেকে হিফাযতের দু‘আ পাঠ করা :
দুয়াটি হলো- (১০ বার পড়বে)

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

অর্থ: আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বময় রাজত্ব একমাত্র তাঁরই জন্য। তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

হযরত আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকালবেলা দশবার এই দু‘আ পড়বে তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেওয়া হবে, তার দশটি গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তার দশটি মর্তবা উন্নত করে দেওয়া হবে, চারজন গোলাম আজাদ করার সমান সওয়াব হবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান হতে তাকে হিফাযত করা হবে। আর যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর এই কালিমাগুলি পড়বে সে সকাল পর্যন্ত এইসমস্ত পুরস্কার লাভ করবে। (তিরমিজি: ৩৪৭৪)

১২. নফসের প্ররোচনা থেকে বাঁচার দু‘আ পাঠ করা :

দুয়াটি হলো-

يَاحَىُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثْ أَصْلِحْ لِىْ شَأْنِىْ كُلَّهٗ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلٰى نَفْسِىْ طَرْفَةَ عَيْنِ

অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে জমিন আসমান ও সমস্ত মাখলূকের রক্ষাকারী, আমি আপনার রহমতের উসীলায় ফরিয়াদ করছি যে, আমার সমস্ত কাজ দুরস্ত করে দিন এবং আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নফসের নিকট সোপর্দ করবেন না।

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে বললেন, আমার নসীহত মনোযোগ দিয়ে শোন, তুমি সকাল ও সন্ধ্যায় (এই দু‘আ) পড়বে।

১৩. দুশ্চিন্তা থেকে হিফাযতের দু‘আ পাঠ করা :

দুয়াটি হলো- (৭ বার পড়বে)

حَسْبِيَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

অর্থ: আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই, তাঁর উপরই আমি ভরসা করি, তিনি মহান আরশের অধিপতি।

হযরত আবূ দারদা (রাযি) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল ৭ বার এ দু‘আটি পাঠ করবে, আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে (দুনিয়া ও আখিরাতের) সমস্ত পেরেশানি থেকে হিফাযত করবেন। (আবূ দাউদ: ৫০৮১)

১৪. হাঠাৎ মুসীবত থেকে হিফাযতের দু‘আ পাঠ করা :

দুয়াটি হলো- (৩ বার পড়বে)

بِاسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ

অর্থ: আমি শুরু করছি সে আল্লাহর নাম নিয়ে, যার নাম নিলে যমীন ও আসমানের কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না এবং তিনি (সব কিছু) শুনেন ও জানেন।

হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কেউ এই দু‘আটি সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত এবং সকালে তিনবার পাঠ করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন মুসীবত তার উপর আসবে না। (আবূ দাউদ: ৫০৮৮, তিরমিজি: ৩৩৮৮)

১৫. নিয়মিত আমলের ক্ষতিপূরণের দুয়া পাঠ করা :

দুয়াটি হলো-
فَسُبْحَانَ اللهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَ وَحِيْنَ تُصْبِحُوْنَ. وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَّحِیۡنَ تُظۡہِرُوۡنَ. يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَیُحۡیِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَکَذٰلِکَ تُخْرَجُونَ.

অর্থ: আল্লাহর তাসবীহতে লিপ্ত থাক যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা ভোরের সম্মুখীন হও। এবং তারই প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে, এবং বিকাল বেলায় (তার তাসবীহতে লিপ্ত হও) এবং জুহরের সময়ও। তিনি প্রাণহীন থেকে প্রাণবানকে বের করে আনেন এবং প্রাণবান থেকে প্রাণহীনকে বের করে আনেন। আর তিনি ভূমিকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে (কবর থেকে) বের করা হবে। (সূরা রুম: ১৭-১৯)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকালে (একুশ পারায় সূরা রূমের) এই তিনটি আয়াত পাঠ করবে তার সেই দিনের (নিয়মিত আমল ইত্যাদি) যা ছুটে যাবে উহার সওয়াব সে পেয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এই তিনটি আয়াত পাঠ করবে তার সেই রাত্রের (নিয়মিত আমল) যা ছুটে যাবে উহার সওয়াবও সে পেয়ে যাবে। (আবূ দাউদ: ৫০৭৬)

১৬. ঘর বাড়ি হেফাজতের দু’আ পাঠ করা :

দুয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، عَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَأَنْتَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، ‌مَا ‌شَاءَ ‌اللهُ ‌كَانَ، ‌وَمَا ‌لَمْ ‌يَشَأْ ‌لَمْ ‌يَكُنْ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ، أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا، إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

অর্থঃ হে আল্লাহ্‌ ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ্‌ নাই, আপনার উপর ভরসা করলাম, আপনি সম্মানিত আরশের মালিক। আল্লাহ্‌ তাআ’লা যা ইচ্ছা করেন, তাই হয়; আর তিনি যা ইচ্ছা করেন না তা হয় না, আল্লাহ্‌ তা’আলার শক্তি ও সামর্থ্য ব্যতীত অন্য কোনো শক্তি বা সামর্থ নাই, জেনে রেখো যে আল্লাহ্‌ তাআ’লা সমস্ত জিনিসের উপর শক্তিশালী, ক্ষমতাবান এবং তার জ্ঞান সমস্ত জিনিসব্যাপ্ত। হে আল্লাহ্‌! আমার নফ্‌সের মন্দ হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই এবং প্রত্যেক প্রাণীর মন্দ হতে যার ঝুঁটি আপনি ধরে রেখেছেন; নিশ্চয়ই আমার প্রভু সরল পথে অধিষ্ঠিত আছেন।

একদিন এক ব্যক্তি এসে হযরত আবু দারদা (রাঃ) কে সংবাদ দিলেন যে, হে আবু দারদা (রাঃ)! আপনার ঘর পুঁড়ে গেছে। হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন, আমার ঘর পুঁড়ে নি। একটু পরে আরেক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আবু দারদা (রাঃ)! আগুণ ধরে ছিলো। কিন্তু আপনার ঘরের কাছে আসার সাথে সাথে আগুন নিভে গেছে। এ সংবাদ শুনে হযরত আবু দারদা (রাঃ) বললেন, আমি জানতাম যে আল্লাহ্ তায়ালা আমার সাথে এরূপ করবেন না। একথা শুনে সংবাদদাতা আশ্চর্যাম্বিত হয়ে বললেন, হে আবু দারদা! আপনি কি করে জানলেন যে, আপনার ঘর জ্বলে নি এবং আপনি কিভাবে বললেন যে, অবশ্যই আমি জানতাম যে, আল্লাহ তায়ালা আমার সাথে এরূপ করবেন না।

হযরত আবু দারদা (রাঃ) বললেন, এমন কিছু বাক্য আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো সকালে পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে কোন বিপদ আপদ গ্রেপ্তার করবে না। তদ্রুপ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় পড়বে, সকাল পর্যন্ত তাকে কোন বিপদ আপদ গ্রেপ্তার করবে না। আর এ দোয়া পড়ে আজ আমি ঘর থেকে বের হয়েছি। সুতরাং আমার ঘর পুঁড়তে পারে না। (তাবরানী শরীফ (মুজামে কাবীর),হাদিস নাম্বার: ৩৪৩)

১৭. শিশুদের হেফাযতের দু‘আ পাঠ করা :

দু'য়াটি হলো-
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

অর্থ: আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহর পরিপূর্ণ কথাসমূহের, সকল শয়তান থেকে, সকল ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও প্রাণী থেকে এবং সকল ক্ষতিকারক দৃষ্টি থেকে।

হযরত ইবনে ‘আব্বাস (রাযি) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি (সাঃ) হাসান এবং হুসাইন (রাযি.)-এর জন্য উক্ত দু‘আ পড়ে পানাহ চাইতেন আর বলতেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ) ইসমাঈল ও ইসহাক (আঃ)-এর জন্য এই দু‘আ পড়ে পানাহ চাইতেন। (বুখারী: ৩৩৭১, তিরমিজি: ২০৬০)

১৮. ছয় তাসবীহের আমল করা :

উক্ত ৬ তাসবীহের আমল গুলো হলো-

১. ১০০ বার (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করা : একাত্ববাদের মূল কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Dhaka Lalbagh
Dhaka
1211