15/05/2026
সব স্টুডেন্টের গল্প একরকম হয় না… কিছু গল্প থাকে একদম হৃদয়ের কাছাকাছি। আজ বলবো তেমনই একটি গল্প — আমার PTE টিচিং জার্নির একদম শুরুর গল্প।
আমি যখন নিজে PTE পরীক্ষা দিয়েছিলাম এবং রেজাল্ট হাতে পাই, তখনই একজন মানুষ আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তিনি হলেন মৌসুমী সাহা আপু।
রেজাল্ট দেখার পর আপু আমাকে বলেছিলেন —
“আমি আপনার কাছে পড়তে চাই, আপনি আমাকে পড়াবেন।” ❤️
সত্যি বলতে, তখন আমি নিজেও দ্বিধায় ছিলাম। যদিও আমি একজন স্কুল শিক্ষিকা, কখনো ভাবিনি আমি PTE টিচিং প্রফেশনে আসবো। বিষয়টা নিয়ে আমার হাজবেন্ডের সাথে কথা বললাম। উনি আমাকে সাহস দিলেন, সুন্দর কিছু গাইডলাইন দিলেন। আর সেই সাহস নিয়েই শুরু হয় আমার নতুন পথচলা… আর মৌসুমী আপুই ছিলেন আমার জীবনের প্রথম PTE স্টুডেন্ট।
আজ আপু তার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং আলহামদুলিল্লাহ নিজের টার্গেট স্কোর অর্জন করেছে। 🥹❤️
এই অর্জনের পেছনে শুধু পড়াশোনা নয়, ছিল অনেক ধৈর্য, কষ্ট আর মানসিক যুদ্ধও।
মাঝখানে আপুর পরিবারে কঠিন সময় গেছে। শ্বশুর অসুস্থ ছিলেন, পরে তিনি ইন্তেকাল করেন। স্বাভাবিকভাবেই আপু অনেক ভেঙে পড়েছিলেন, পড়াশোনায় গ্যাপ হয়েছে, মানসিক চাপ ছিল প্রচুর। কিন্তু তারপরও আপু হার মানেননি। ধীরে ধীরে আবার নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়েছেন। আর আজকের এই সফলতা সত্যিই অনেক বেশি স্পেশাল।
একজন টিচার হিসেবে এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন। নিজের প্রথম স্টুডেন্টের সফলতা মানে শুধু একটা স্কোর না, এটা আমার আত্মবিশ্বাস, আমার স্বপ্ন আর আমার পথচলার সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তিগুলোর একটি। ❤️
আপু, আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া ও ভালোবাসা রইলো। আপনি জীবনে আরও অনেক ভালো করবেন ইনশাআল্লাহ।
আর যারা এখনো ভাবছেন —
“আমি পারবো তো?”
তাদের জন্য শুধু একটা কথাই বলবো…
সঠিক গাইডলাইন, ধৈর্য আর নিজের ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব বলেও কিছু থাকে না।
আপনাদের স্বপ্ন পূরণের যাত্রায় পাশে থাকতে পারলে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। 🤍