24/05/2025
শিশুর ইংরেজী ভীতি কাটছে না? এখন ভেদরগঞ্জেই পাচ্ছেন "কিডস স্পিকিং কোর্স"
ফোনেটিকস উচ্চারণ ও বেসিক গ্রামারের সাথে এই কোর্সটি শিশুর ইংরেজি ভীতি ও জড়তা কাটিয়ে দক্ষ করতে সাহায্য করবে।
# চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য
# প্রতি সপ্তাহে ৪ দিন ক্লাস
# ক্লাস শুরু ১৫ জুন, ২০২৫
# ভর্তি ফিঃ ১০০০ টাকা
# মাসিক ফিঃ ১০০০ টাকা
# আসন সংখ্যা সীমিত
# ৫ জুনের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ইন্সট্রাক্টরঃ
ইমরান আহমেদ
বি.এড( অনার্স), এম.এড
আই.ই.আর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
যোগাযোগঃ 01850379277
21/05/2025
সুরা আত তাহরিমের ৬ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "হে ঈমানদারগন! তোমরা নিজেদের এবং পরিবার পরিজনদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাচাও"....
এই আয়াত থেকে পরিবারের কর্তা হিসেবে বাবা -মায়ের দায়িত্ব হচ্ছে নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
ফলে মুসলিম প্যারেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে শিশুদের ইসলামী বিধি-বিধান ও কুরআনিক নৈতিকতা শিখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যারেন্টিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য হবে শিশুকে ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ নির্দেশিত মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা।
হাদিসে এসেছে তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, তোমাদের প্রত্যেককে দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সন্তানকে আখিরাতের প্রস্তুতি ও ইসলামী নৈতিকতার চর্চার জন্য বাবা- মা তার দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছে সেই প্রশ্নের জবাবদিহিতাও করতে হবে। যেদিন ভাই তার ভাইকে দেখে পালাবে, সন্তান তার মা'কে দেখে পালাবে, সেদিনের জবাবদিহিতা সহজ করার জন্য প্যারেন্টিংয়ে ইসলামী নৈতিকতা ও জীবনাচার শিক্ষা দিতে হবে।
17/05/2025
আমরা মাঝে মাঝে শিশুদের অনাকাঙ্খিত বা অস্বাভাবিক আচরণের সম্মুখিন হই। কোন কোন শিশুরা প্রায়ই রাগান্বিত হয়ে অস্বাভাবিক বা উগ্র আচরণ শুরু করে, খেলনা বা প্রয়োজনীয় জিনিস ভাংচুর করে। শিশুরা কেন রাগান্বিত হয় এবং সহিংস আচরণ করে, এর পেছনে বিভিন্ন মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক কারণ থাকতে পারে। নিচে বিস্তারিতভাবে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো:
🧠 ১. অভ্যন্তরীণ (মানসিক) কারণ
✅ অনুভূতির প্রকাশের অক্ষমতা:
অনেক ছোট শিশু তাদের অনুভূতি সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। তারা যখন কষ্ট, হতাশা বা ভয় পায়, তখন সেটা রাগ বা সহিংস আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
✅ হতাশা ও নিয়ন্ত্রণহীনতা:
যখন শিশুরা কোনো কিছুতে ব্যর্থ হয় বা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু হয় না, তখন তারা অসহায় বোধ করে। সেই অনুভূতিকে চাপা দিয়ে তারা রাগ বা সহিংস আচরণে প্রকাশ করে।
✅ অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মানসিক চাপ:
বিদ্যালয়, বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক বা পারিবারিক সমস্যা শিশুর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
🏠 ২. পরিবার ও সামাজিক পরিবেশ
✅ সহিংস পরিবেশ:
যদি পরিবারে মারধর, ঝগড়া-বিবাদ বা উচ্চস্বরে কথা বলার পরিবেশ থাকে, তাহলে শিশুরা সেটা শিখে ফেলে এবং নিজেরাও রাগান্বিত ও সহিংস আচরণ করে।
✅ পর্যাপ্ত ভালোবাসা ও মনোযোগের অভাব:
যেসব শিশু পর্যাপ্ত যত্ন বা মনোযোগ পায় না, তারা রাগের মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করতে পারে যেন কেউ তাদের দিকেও নজর দেয়।
✅ শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন:
যদি কোনো শিশু নিয়মিত শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে তার মধ্যে একটি আত্মরক্ষামূলক রাগ বা সহিংসতা গড়ে উঠতে পারে।
📱 ৩. প্রযুক্তি ও মিডিয়ার প্রভাব
✅ সহিংস গেম বা টিভি প্রোগ্রাম:
অনেক সময় শিশুরা ভিডিও গেম, ইউটিউব বা কার্টুনে সহিংসতা দেখে সেটাকে বাস্তব জীবনে অনুকরণ করতে শুরু করে।
🏫 ৪. বিদ্যালয় ও বন্ধুদের প্রভাব
✅ বুলিং বা অবহেলা:
বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের দ্বারা উপহাস, বুলিং বা অবহেলার শিকার হলে শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং সেটার প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাগ দেখাতে পারে।
✅ প্রতিযোগিতা ও চাপে থাকা:
ভালো ফলাফলের জন্য অতিরিক্ত চাপও শিশুকে মানসিকভাবে রাগান্বিত ও অস্থির করে তুলতে পারে।
🧩 ৫. বিশেষ মানসিক বা নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যা
✅ ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder), Autism, Oppositional Defiant Disorder (ODD) ইত্যাদি সমস্যার কারণে শিশুরা নিয়মিত রেগে যায় বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সহিংস আচরণ করে।
সমাধানের উপায়ঃ
শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন – শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
ভালো উদাহরণ দিন – ঘরের বড়দের ব্যবহার শান্তিপূর্ণ হলে শিশুরাও শিখবে।
ইমোশনাল লার্নিং শেখান – রাগ, দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করতে হয়, সেটা শেখান।
পেশাদার সাহায্য নিন – যদি রাগ বা সহিংসতা নিয়মিত ও ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।
#প্যারেন্টিং #মুসলিম_প্যারেন্টিং
16/05/2025
মুসলিম শিশুদের প্রথম শিক্ষা হওয়া উচিত তাওহিদ তথা একত্ববাদের শিক্ষা।
শিশুর মানসিক, সামাজিক, আবেগীয় ও শারীরিক বিকাশের উপর ভিত্তি করে তাওহিদের শিক্ষা দিলে তা শিশুদের মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়।
১. তাওহিদের মৌলিক ধারণা কীভাবে বোঝাবেন
তাওহিদ মানে হলো আল্লাহর একত্ব –
আল্লাহ একমাত্র উপাস্য,
একমাত্র সৃষ্টিকর্তা,
একমাত্র শাসক।
এই বিষয়গুলো শিশুদের খুব সহজ, সংক্ষিপ্ত ও উপযোগী ভাষায় বোঝাতে হবে।
২. ECD অনুযায়ী বয়সভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি
👶 বয়স: ৩-৫ বছর (প্রারম্ভিক শিশু)
পদ্ধতি: খেলার মাধ্যমে শেখানো (Play-based Learning)
ছবি ও কার্টুন ব্যবহার করে: আল্লাহ কীভাবে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন তা নিয়ে ছবি দেখানো বা গল্প বলা (যেমন: আকাশ, গাছ, নদী আল্লাহ বানিয়েছেন)।
ছোট ছোট ইসলামিক ছড়া/গান: উদাহরণ:
"আল্লাহ আমাদের এক,
বানিয়েছেন এই সব কিছু ঠিক!"
প্রশ্ন-উত্তর খেলা:
আপনি প্রশ্ন করবেন – “কে সূর্য বানিয়েছে?”
শিশু উত্তর দেবে – “আল্লাহ!”
এটা তাদের মনে আল্লাহর একত্ব গেঁথে দেবে।
👧 বয়স: ৬-৮ বছর (প্রাথমিক স্তর)
পদ্ধতি: গল্প ও নৈতিক শিক্ষা (Storytelling & Value Education)
নবীদের কাহিনি: যেমন – ইব্রাহিম (আ.) কিভাবে মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন।
কাজের মাধ্যমে শিক্ষা (Activity-based learning):
একটি সুন্দর গাছ আঁকাতে বলা হোক – এরপর বলা হবে, “এই গাছ কে বানিয়েছে?”
এভাবে প্রকৃতির মধ্যে আল্লাহর সৃষ্টি দেখিয়ে তাওহিদ শেখানো।
👦 বয়স: ৯-১২ বছর (উন্নত প্রাথমিক)
পদ্ধতি: যুক্তি ও আলোচনা (Reasoning & Logical Discussion)
চিত্র ও ডায়াগ্রাম ব্যবহার: তাওহিদের বিভিন্ন অংশ বোঝাতে পেইন্টিং বা চার্ট।
৩. ECD উপযোগী কিছু কার্যকর কৌশল
কৌশল ব্যাখ্যা
🧸 খেলনা ব্যবহার ইসলামিক থিমযুক্ত খেলনা (যেমন কা'বা, মসজিদ), আল্লাহর সৃষ্টি শেখাতে
🎨 চিত্রাঙ্কন “আল্লাহ কী কী সৃষ্টি করেছেন” এই বিষয়ভিত্তিক আঁকা
📖 ছোট বই ও গল্প ইসলামিক গল্পপুস্তক যেখানে একত্ববাদ ফুটে ওঠে
🎵 ছড়া ও নাশিদ শিশুর বয়স অনুযায়ী আকর্ষণীয় তাওহিদভিত্তিক ছড়া
💬 স্মরণ করানো দিনে কয়েকবার বলা “আল্লাহ সব দেখেন”, “আল্লাহ সব জানেন”
৪. পিতা-মাতার করণীয়
শিশুর সামনে আল্লাহর নাম নিয়ে কথা বলা
প্রতিদিন ছোট্ট দোয়া শিখানো
শিশুকে দেখে দেখে নামাজ পড়ানো
আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভয় দুটোই শেখানো
15/05/2025
শিশুর যে সকল বিকাশগুলো আমাদের বিবেচনায় রেখে লালন পালন করতে হয়, তার মধ্যে একটি হলো শিশুর সামাজিক বিকাশ।
সামাজিক বিকাশ হলো শিশুর সেই ক্ষমতা, যার মাধ্যমে সে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে, যোগাযোগ করতে এবং সামাজিক নিয়ম-কানুন বুঝে চলতে শেখে। এটি শিশুর জীবন গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক, কারণ সমাজে টিকে থাকতে ও সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে এই দক্ষতা প্রয়োজন।
সামাজিক বিকাশের ধাপসমূহ (বয়সভিত্তিক)
# ০-১ বছর:
মা-বাবার মুখ চেনা এবং হাসি দিয়ে সাড়া দেয়
অপরিচিতদের প্রতি ভয় বা অস্বস্তি দেখা যায় (stranger anxiety)
কান্না করে নিজের চাহিদা জানায়
# ১-২ বছর:
অন্যদের অনুকরণ করে (যেমন: মা-বাবার কাজ করা)
একা খেলে কিন্তু অন্য বাচ্চার কাছে থাকতে চায়
“না” বলা শুরু করে – আত্মপরিচয়ের সূচনা
# ২-৩ বছর:
সহজ নিয়ম মেনে চলতে শেখে (যেমন: খেলনার পর ফিরিয়ে রাখা)
সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার চেষ্টা করে
ভাগাভাগি করা শিখতে শুরু করে, যদিও পুরোপুরি পারে না
# ৩-৫ বছর:
বন্ধুত্ব তৈরি করে ও মিলে-মিশে খেলার আনন্দ পায়
নিয়ম ও ভুমিকা ভিত্তিক খেলায় অংশগ্রহণ করে (যেমন: মা-বাবার খেলা)
অনুভূতি প্রকাশ করে ও অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখে
08/05/2025
বাবা-মায়ের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন এই ভাষায় যে, তারা ছোটবেলায় যেভাবে "লালন পালন" করেছেন, সেভাবেই তুমিও তাদের উপর রহম করো। এথেকে বুঝা যায় মহান রবের নিকট বাবা-মায়ের মুক্তির সাথে ব্যক্তির সন্তান লালন পালনের তাৎপর্য গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইসলামে প্যারেন্টিং এর গুরুত্ব বুঝতে এই দুয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে পরকালীন মুক্তির বিষয়টি শুধু ব্যাক্তির একক বিষয় নয়, পরিবারের সামগ্রিক বিষয়। সুরা আততাহরিমের ৬ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে ইমানদারগন! তোমরা নিজেদের এবং পরিবার পরিজনদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। পরিবারের অভিভাবক বাবা হোক বা মা হোক তার দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানকে দুনিয়াবি ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি জাহান্নাম থেকে যেন মুক্তি পেতে পারে সেরকম জ্ঞান, চরিত্র ও লাইফস্টাইল গড়তে অভ্যস্ত করা।
হাদিসের আলোকে দেখা যায় শিশু জন্মগ্রহন করে ফিতরাতের উপর। তার কোন বিশ্বাস, চরিত্র থাকে না। তার মধ্যে কোন পাপ, কলুষতা থাকে না। তারপর বাবা-মা তাকে ইহুদি-নাসারা বানায়। অর্থাৎ, বাবা-মা যে পরিবেশে লালন পালন করে গড়ে তুলে, নিজেরা যেমন আদর্শ ধারণ করে শিশুকে অনুস্বরণীয় করে তোলে, শিশুরাও সেভাবেই স্বভাব চরিত্র নিয়ে বড় হয়।
সুতরাং প্যারেন্টিংকে একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।
02/05/2025
শিশুর শারীরিক বিকাশ বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধাপে ঘটে থাকে। নিচে বয়সভিত্তিকভাবে শিশুর শারীরিক বিকাশের ধাপগুলো বাংলায় বর্ণনা করা হলো:
________________________________________
জন্ম থেকে ১ মাস পর্যন্ত
• ঘাড় ঠিকভাবে সোজা রাখতে পারে না।
• চোখে আলো পড়লে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
• শব্দ শুনে চমকে ওঠে বা কান্না করে।
• ছোটখাটো নড়াচড়া করে (হাত-পা ছোড়া)।
________________________________________
১ থেকে ৬ মাস
• মাথা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।
• মুখে হাত বা আঙুল নেওয়ার চেষ্টা করে।
• পেটের উপর ভর দিয়ে মাথা ও বুক তুলতে পারে।
• হাত দিয়ে খেলনা ধরার চেষ্টা করে।
• মুখের সামনে কিছু রাখলে তাকিয়ে থাকে।
________________________________________
৬ থেকে ১২ মাস
• বসতে শেখে (সাহায্য নিয়ে বা একা)।
• হামাগুড়ি দিতে শুরু করে।
• দাঁড়ানোর চেষ্টা করে (বিছানার পাশে ধরে)।
• হাত থেকে জিনিস ফেলে দেওয়া শিখে।
• দুটি আঙুল ব্যবহার করে ছোট জিনিস তুলতে পারে।
________________________________________
১ থেকে ২ বছর
• একা একা হাঁটতে পারে।
• সিঁড়ি ওঠার চেষ্টা করে।
• বল গড়িয়ে দিলে ধরতে পারে বা লাথি দিতে চায়।
• খেলার জিনিস বা বাসন-কোসনে আগ্রহ দেখায়।
• ব্লক বা কিউব একটার উপর আরেকটা রাখতে পারে।
________________________________________
২ থেকে ৩ বছর
• ভালোভাবে দৌড়াতে পারে।
• হালকা জিনিসপত্র টানতে বা ঠেলতে পারে।
• আঁকিবুকি করতে পারে (ক্রেয়ন দিয়ে)।
• একা একা খাবার খেতে চায়।
• খেলার মাঠে আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
________________________________________
৩ থেকে ৫ বছর (প্রাক-প্রাথমিক বয়স)
• সাইকেল চালানোর চেষ্টা করে (ট্রেনিং হুইল সহ)।
• জাম্পিং ও দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায়।
• জামা-কাপড় পরতে ও খুলতে শেখে।
• হাতে দক্ষতা বাড়ে—কাঁচি ব্যবহার করে কাটা শিখে।
• ছোট-বড় জিনিস আলাদা করতে পারে।
________________________________________
৫ থেকে ৭ বছর (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শুরু)
• দেহের ভারসাম্য ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
• এক পায়ে লাফ দিতে পারে।
• লেখার কৌশল রপ্ত করতে শুরু করে (অক্ষর লেখা)।
• নিজ দায়িত্বে গোসল বা পরিধান সম্পন্ন করতে পারে।
• খেলাধুলা বা শরীরচর্চায় আগ্রহ বাড়ে।
________________________________________
প্রতিটি শিশুর বিকাশের গতি আলাদা হতে পারে, তবে উপরের তালিকাটি একটি সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যদি বিকাশে কোনো দেরি বা ব্যতিক্রম লক্ষ্য করেন, তবে শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
01/05/2025
বাবা-মা যখন বাচ্চার সামনে অনবরত ডিভাইসে ডুবে থাকে, তখন সন্তান ও বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ডিভাইস ব্যবহারের সময় আলাপ চলতে থাকলেও আই কন্টাকের অভাবে যোগাযোগ ও আন্তরিক আলাপচারিতা বজায় থাকে না। শিশুরা বাবা-মায়ের মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে না।
শিশু ক্রমাগত উপেক্ষিত হতে থাকলে আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়, সে মনোযোগ পাওয়ার আশায় দুষ্টুমি ও খারাপ আচরণ শুরু করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে শিশু উপেক্ষিত হতে থাকলে তার মধ্যে রাগ, উৎকন্ঠা ও উদ্বিগ্নতা বেড়ে যায়।
শিশুর সামাজীকিকরণের প্রধান ভিত্তি যেহেতু পরিবার, ফলে মা-বাবার সাথে যোগাযোগ ঘাটতি দেখা দিলে তা সামাজিক দক্ষতার উপর ঘাটতি দেখা দেয়। ভাষা শিখার গতি কমে যায়, অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
শিশু যদি বারবার দেখে যে বাবা-মা তাকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে, তাহলে নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে শুরু করে, নিজে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, একসময় আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে।
সুতরাং, শিশুর সামনে মোবাইল ব্যবহারে সচেতন হোন, নির্দিষ্ট একটা সময় মোবাইল দুরে রেখে পুরো মনোযোগ শিশুকে দিন। পারিবারিক সময় দেয়া, গল্প করা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুর সাথে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করুন।
#মুসলিম_প্যারেন্টিং #প্যারেন্টিং
30/04/2025
আজ শিশু সম্পর্কিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস রয়েছে, আপনি কি জানেন সেটি কী? জানলে কমেন্ট বক্সে উত্তর লিখুন রাত ৮ টার মধ্যে। সঠিক উত্তর দাতাদের মধ্যে দৈবচয়নের মাধ্যমে বাছাই করে ২ জনকে দেয়া হবে বিশেষ পুরস্কার।
29/04/2025
শিশুর বিকাশের কতগুলো ক্ষেত্র রয়েছে, যেগুলোর উপর ভিত্তি করে একটি শিশু পূর্নাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে গড়ে উঠে।
শিশুর বিকাশের প্রধান ৫টি ধরণ (Types of Child Development )
1. শারীরিক বিকাশ (Physical Development)
# দেহের বৃদ্ধি, পেশি ও মোটর স্কিলের উন্নয়ন
*যেমন: হাঁটা, দৌড়ানো, বসা, খেলা করা ইত্যাদি
2. জ্ঞানীয় বিকাশ (Cognitive Development)
# চিন্তা করা, শেখা, মনে রাখা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা
*যেমন: রঙ চিনতে পারা, সংখ্যা গোনা, প্রশ্ন করা
3. ভাষাগত বিকাশ (Language Development)
# কথা বলা, শোনা, শব্দ শেখা ও বোঝার ক্ষমতা
* যেমন: শব্দ উচ্চারণ, বাক্য গঠন, গল্প বলা বা শোনা
4. সামাজিক বিকাশ (Social Development)
# অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা ও সামাজিক আচরণ শেখা
* যেমন: বন্ধু তৈরি করা, ভাগাভাগি করা, সহানুভূতি দেখানো
5. আবেগীয় বিকাশ (Emotional Development)
# অনুভূতি বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা
* যেমন: রাগ, দুঃখ, আনন্দ, ভয় – এগুলো প্রকাশ ও সামলানো
এই পাঁচটি প্রধান বিকাশ শিশুর একটি পরিপূর্ণ মানসিক ও সামাজিক জীবন গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
27/04/2025
মুসলিম শিশুদের নৈতিক চরিত্রের ভিত্তি ছোটবেলা থেকেই গড়তে হয়। হাদিসে এসেছে প্রতিটা শিশুই ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহন করে, এরপর বাবা-মা এবং অন্যান্য প্রভাবে বিভিন্ন ধর্মে বিভক্ত হয়।
মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে কেবল ধর্ম পরিচয়টাই মূখ্য নয়, কারন তার আদর্শ যদি ইসলাম বিরুধী হয়, তাকে মুসলমান বলার মধ্যে স্বার্থকতা নেই, অন্যান্য ধর্মের সাথে ইসলামের এটা মৌলিক পার্থক্য। বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবে নীতিবান হয়ে গড়ে উঠা কঠিন, যদি না বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
ফলে মুসলিম শিশুকে ছোটবেলা থেকে আদব শিক্ষা দিতে হবে। বাবা-মা, বড়দের সাথে আচার আচরণ কেমন হবে, ছোটদের সাথে কীভাবে সদাচরন বজায় রাখতে হবে এসব শিশুকে প্রথম থেকেই শিখাতে হবে। সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি, ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতার চর্চা করতে হবে।
আমরা শিশুদের প্রথমদিকে এসবের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে বড় হওয়ার পর হতাশ হয়ে যাই, তাদের উপর দোষ চাপাই। তখন অভিভাবক চাইলেও অনেক কিছু করতে পারেন না। কারন তখন আল্লাহ প্রদত্ত ফিতরাতের কার্যকারিতা থাকে না।
শিশুদের উত্তম আচরণ শিক্ষা দেয়ার কার্যকর উপায় হচ্চে বাবা-মা'কে তাদের সামনে মডেলরুপে উপস্থিত হওয়া।ধৈর্যের সাথে তাদের আচরনের সংশোধন করা। নবী সাঃ এর জীবনীতে আদব শিখার মতো যথেষ্ঠ ঘটনা বা সত্য গল্প রয়েছে, সেগুলোকে শিশুদের সামনে গল্পাকারে বলা। ভালো আচরণগুলোর জন্য তাকে উৎসাহ দেওয়া, মাঝে মাঝে পুরস্কৃত করা।
#মুসলিম_প্যারেন্টিং
23/04/2025
আদর করে হোক, আবদার বা জিদ মিটাতে হোক, আমরা বিভিন্ন সময় শিশুদের হাতে তুলে দেই মুখরোচক- রঙ্গিন খাবার, যা শিশুদের দীর্ঘ মেয়াদে চরম হুমকির মুখে ফেলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ৩০০ জন শিশুকে নিয়ে একটি গবেষণা হয়। সবার বয়স ৩-৯ বছরের মধ্যে। দেখা যায়, নিয়মিত ফুড কালারযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে শিশুর এডিএইচডির মতো মানসিক রোগ দেখা দেয়। যার লক্ষণ চঞ্চল আর অস্থির হয়ে ওঠা। মনযোগ ধরে রাখতে না পারা। বই-খাতা হারিয়ে ফেলা। শিখে যাওয়া জিনিস লিখতে ভুল করা।
এই খাবারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, রঙিন কোল্ড-ড্রিংকস, জ্যাম-জেলি, আইসক্রিম, ক্যান্ডি, জিলেটিন ইত্যাদি।
প্রতিটি ফুড কালারের জন্য নির্দিষ্ট কোড থাকে। এক্ষেত্রে E110, E122, E102, E124 এবং E211—ইত্যাদি ফুড কালারকে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয় ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে। তথ্য: বিজ্ঞানপ্রিয়।