13/06/2025
বাংলাদেশে শ্রম আইন - ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকের ছুটি:-
শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শ্রমিকের ছুটি মোট ১১ প্রকার।
যথা:
১. সাপ্তাহিক ছুটি। (ধারা ১০৩) একজন শ্রমিক সপ্তাহে ১ দিন সাপ্তাহিক ছুটি প্রাপ্য হোন।
২. নৈমিত্তিক ছুটি। (ধারা ১১৫) প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে একজন শ্রমিক পূর্ণ মজুরিতে ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি প্রাপ্য হবেন।
৩. পীড়া বা অসুস্থ্য জনিত ছুটি। (ধারা ১১৬) প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরিতে একজন শ্রমিক ১৪ দিনের ছুটি প্রাপ্য হবেন।
৪. বাৎসরিক বা অর্জিত ছুটি। (ধারা ১১৭) প্রতি ১৮ দিনে ১ দিন ছুটি তবে এ ছুটি অ্যাভেল করতে হলে উক্ত শ্রমিকের চাকুরীর মেয়াদ অবিচ্ছন্নভাবে ১ বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে এখানে উল্লেখ যে, একজন শ্রমিক তার প্রাপ্য ছুটি ভোগ না করলে তা জমা থাকবে এবং বছরে একবার জমাকৃত ছুটির বিপরীতে অর্ধেক নগদায়ণ করতে পারবে।
৫. উৎসব ছুটি। (ধারা ১১৮) বছরে একজন শ্রমিক ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রাপ্য হবেন, কোম্পানি চাইলে এ ছুটির দিনের সংখ্যা বাড়াতে পারবে কিন্তু ১১ দিনের কম ছুটি দিতে পারবে না।
৬. মাতৃত্বকালীন ছুটি। (ধারা ৪৬) ১১২ দিন ছুটি। সম্ভাব্য EDD তারিখের আগে ৫৬ দিন পরে ৫৬ দিন ছুটি তিনি প্রাপ্য হবেন।
৭. বিনা মজুরিতে ছুটি। (ধারা ৪৬(২)) দুটি সন্তান জীবিত থাকলে সুবিধা বা কোনো টাকা পাবেন না কিন্তু তার প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটি পাবেন। বাৎসরিক ও অসুস্থ্য জনিত ছুটির সাথে সমন্নয় করার পরও যদি প্রয়োজন পড়ে তবে তিনি উক্ত ছুটি প্রাপ্য হবেন এবং সেই ছুটি তিনি পাবেন বিনা মজুরিতে।
৮. গর্ভপাত জনিত ছুটি। বিধি ৩৮(ক).২০২২ সালে নতুন সংযোজিত। যদি কোনো গর্ভবতী শ্রমিকের গর্ভপাত ঘটে তাহলে তিনি ৪ সপ্তাহ ছুটি কাটাতে পারবেন্।এই ছুটি অন্য কোনো ছুটির সাথে সমন্বয় করা যাবে না এবং তিনি উক্ত ছুটির বিপরীতে মজুরি প্রাপ্য হবেন।
৯. ক্ষতিপূরণ মূলক ছুটি। ধারা ১০৩/১০৪বিধি ১১৮(৩) বিস্তারিত ভাবে আলোচিত হয়েছে।
১০. পেশাগত ব্যধির জন্য অস্থায়ী অক্ষমতা জনিত ছুটি। ধারা ১৫০ (৪) ৫ ম তফসিল এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিশেষ বিবেচনায় ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশক্রমে সর্বোচ্চ ২ বৎসর পর্যন্ত একজন শ্রমিক পেশাগত ব্যধির জন্য অস্থায়ী অক্ষমতা জনিত এ ছুটি প্রাপ্য হবেন।
১১. বদলী ছুটি। (বিধি ১০৯) একই পরিবারের অধিক সংখ্যক লোক কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত থাকলে একজনের প্রাপ্য ছুটি শেষ হলে অন্য জনের ছুটি ভোগ করার সুবিধা এ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।