13/07/2025
'মিলাদ-কিয়াম করা কুরআন ও সহীহ হাদিসে নেই,তাই বিদাত'এই কথা বলাতে তাই বলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করবে?এই মূর্খতার শেষ কোথায়?
এক সুন্নি নামধারী শিন্নি একজন ইমামের উপর হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ—তিনি নাকি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। অথচ ইমাম সাহেব যা বলেছিলেন তা মূলত আকীদাগত একটি বক্তব্য: মিলাদ নববী বিদআত, এবং দোআ-কবর-তাওয়াসসুল ইত্যাদি বিষয়ে—নবীজিকে নয়, বরং সরাসরি আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। তিনি নবী ﷺ-কে ‘আল্লাহর বার্তাবাহক বা পিওন’ বলেছিলেন, যা হয়তো শব্দ নির্বাচনে অধিক যত্নবান হওয়া উচিত ছিলো, কিন্তু এর মাঝে কোনো হেয় করার ইন্টেনশন ছিলো না।
★★পিয়ন শব্দের উৎস: ফরাসি → ইংরেজি → বাংলা।বাংলা অর্থ: অফিস সহায়ক বা বার্তাবাহক।
এই কথাগুলোর জন্য তাঁকে “নবী (সা.)-এর শানে কটূক্তি”র অভিযোগে কোপানো হয়েছে! ভাবতে কষ্ট হয়—এটাই কি আমাদের সমাজ? যেখানে যুক্তি ও দলিলের চেয়ে আবেগ ও অন্ধ আনুগত্যের আধিপত্য! যেখানে সহীহ জ্ঞানের চেয়ে লোকজ সংস্কারকে দ্বীন মনে করা হয়!
অথচ এ হামলাকারী ব্যক্তি নিজেকে তথাকথিত "সুন্নি" বলে দাবি করে। যখন সত্যিকারের শাতিমরা—যেমন থাবা বাবা, রাখাল রাহা কিংবা গালিবরা—নবীজির নামে কটুক্তি করে, তখন এই শ্রেণির লোকদের আর দেখা মেলে না। তারা তখন নিরবে মুখে কুলুপ এঁটে থাকে। কিন্তু যখন কেউ আহলে হাদীস বা সালাফি মতবাদের আকীদা তুলে ধরে—তাদের ‘তলোয়ার’ তখনই কেবল গর্জে ওঠে। তাদের দ্বীনদারির দাবি তখন খণ্ডিত হয় দ্বিমতের মুখে।
এদের দাড়ি-টুপি দেখে মানুষ ভাবে তারা দ্বীনদার। কিন্তু দাড়ি রাখলেই কেউ দ্বীনদার হয়ে যায় না, টুপি পরলেই কেউ দ্বীন বোঝে—এমন ভাবা চরম ভুল। প্রকৃত দ্বীনদার হতে হলে প্রয়োজন সহীহ জ্ঞান, দলিলভিত্তিক আকীদা এবং আবেগ নয়—হিকমাহ ও মর্মবোধের উপর ভিত্তি করা চিন্তা। দ্বীন মানে কেবল ভালোবাসা নয়, সঠিক পথে ভালোবাসার প্রকাশ।
যারা রাসূল ﷺ-এর শানে শান-শওকত দেখিয়ে নিজের বানানো শরীয়ত কায়েম করতে চায়, অথচ যখন প্রকৃত কটুক্তি হয় তখন চুপ থাকে—তাদের মুখোশ খুলে ফেলা সময়ের দাবি। এরা উম্মতের জন্য রহমত নয়, বরং এক মারাত্মক ফিতনা।