04/04/2026
(৩) তামাতু' হজ্জ : এ হজ্জের রীতি হল, প্রথম মীকাত থেকে ওমরাহর এহরাম বাঁধতে হয়। তারপর মক্কায় এসে এহরাম বাঁধতে হয়। তারপর মক্কায় এসে এহরাম ভেঙ্গে হজ্জের পূর্ব পর্যন্ত এহরামে নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সে ভোগ করবার অধিকারী হয়ে যাবে। তারপর আবার সে হজ্জের জন্য এহরাম বাঁধবে। তামাতু' হজ্জের জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। যথাঃ (১) তামাত্তু'কারীর বাসস্থান এবং মসজিদে হারামের মধ্যে শরীয়ত সম্মত সফরের দূরত্ব না থাকা (২) হজ্জের পূর্বে ওমরাহ করা (৩) হজ্জের মাসসমূহের মধ্যেই ওমরাহ করা (৪) হজ্জের এহরাম বাঁধার জন্য মীকাত পরিমাণ দূরে ফিরে না যাওয়া (৫) একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ ও ওমরাহ হওয়া। তামাতু' হজ্জ আদায়কারীর পক্ষ থেকে একটি বকরী কুরবানী করা ওয়াজিব। এতে কোন কারণবশতঃ মাযুর হলে দশই যিলহজ্জের পূর্ব পর্যন্ত সে তিনটি রোযা রাখবে। হজ্জের সময়ে ঐ রোযাত্রয় না রাখলে দেশে ফিরে এসে লাগাতার ভাবে বা পৃথক পৃথকভাবে দশটি রোযা রাখবে। উল্লিখিত তিন প্রকার হজ্জের মধ্যে সর্বোত্তম এফরাদ।
তারপর তামাত্তু,' তারপর কেরান।
হজ্জ ও ওমরায় ছয়টি নিষিদ্ধ বিষয়ঃ (১) জামা, পায়জামা, মোজা ও পাগড়ী পরিধান করা। তবে সিলাই না করা লুঙ্গি, চাদর এবং কাষ্ঠের পাদুকা পরিধানে বাধা নেই। লুঙ্গির অভাবে পায়জামা পরা যায়। মাথা আবৃত করবে না। (টুপী ব্যবহার করাও এর মধ্যে শামিল) কেননা পুরুষের এহরাম মাথার অন্তর্ভুক্ত। স্ত্রীলোকেরা সিলাই করা কাপড় পরতে পারে কিন্তু মুখ খোলা রাখবে। কেননা স্ত্রীলোকের এহরাম তার মুখের অন্তর্গত।
(২) সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করা। সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করলে এবং কাল পোশাক পরলে একটি বকরী কুরবানী
করতে হবে।
(৩) চুল মুণ্ডন করা, কর্তন করা ও নখ কর্তন করা। এগুলো করলেও একটি বকরী কুরবানী করতে হবে। অবশ্য সুর্মা ব্যবহার করা, চুলে চিরুণী করা বা সিঙ্গা লওয়াতে কোন বাধা নেই।
(৪) স্বামী-স্ত্রী সহবাস করা। এটা মাথা মুণ্ডন এবং কুরবানীর আগে করলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে এবং উষ্ট্র, গরু অথবা সাতটি বকরী যবেহ করা অত্যাবশ্যক হবে। তবে কুরবানী ও মাথা মুণ্ডনের পরে করলে হজ্জ বাতিল হবে না কিন্তু কুরবানী ওয়াজিব হবে।
(৫) স্বামী-স্ত্রী চুম্বন, আলিঙ্গন এবং এমনি ভাবের স্পর্শন যে, মজি নির্গত হয়ে যায়, তা' নিষিদ্ধ। এতে একটি বকরী কুরবানী করা আবশ্যক হবে।
(৬) যে কোন স্থলচর হালাল জন্তু, যার গোশত খাওয়া যায়, তা' শিকার করা। এটা নিষিদ্ধ। তা' শিকার করলে অনুরূপ কোন চতুষ্পদ জন্তু কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। তবে জলচর কোন জন্তু শিকার করলে কুরবানী করা প্রয়োজন হবে না।
(চলবে)