27/08/2026
নব্বই দশকের জনপ্রিয় সিনেমা ‘আনন্দ অশ্রু’। ভালোবাসা, ত্যাগ ও কষ্টের এক সুন্দর মিশ্রণ দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়।
সিনেমায় সালমান শাহ অভিনয় করেন খসরু চরিত্রে। খসরু একজন শিল্পী, যে গান লেখে। চাচার নির্বাচনের গান লেখার জন্য সে গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানেই তার পরিচয় হয় গ্রামের সহজ-সরল, চঞ্চল মেয়ে দোলার সঙ্গে।
দোলা ছিল খুবই সরল ও প্রাণবন্ত একটি মেয়ে। সে পাখি ভালোবাসে। তার এই সরলতা ও জীবন্ত স্বভাব খসরুর মন জয় করে নেয়। একদিন গাছে পাখি ধরতে গিয়ে সাপে কামড় দিলে খসরু নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দোলাকে বাঁচায়। এই ঘটনার পর তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়।
কিন্তু তাদের ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় খসরুর চাচা। তিনি গ্রামের প্রভাবশালী সদ্য চেয়ারম্যান। খসরু ভবিষ্যতে সম্পত্তির ভাগ চাইবে, এই ভয়ে তিনি খসরুকে পাগল বানিয়ে দেন। এখান থেকেই গল্পে আসে বড় পরিবর্তন। একটি সুন্দর প্রেমের গল্প ধীরে ধীরে পরিণত হয় কষ্টের গল্পে।
খসরু পাগল হয়ে যাওয়ার পর দোলা চরিত্রেও আসে বড় পরিবর্তন। নার্সের চরিত্রে শাবনূর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। একজন কষ্ট পাওয়া প্রেমিকার আবেগ তিনি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। দোলার কষ্ট, ভালোবাসার অনুভূতি হৃদয়ে দাগ কাটার মত।
অন্যদিকে ভাবনা চরিত্রে কাঞ্চি ছিলেন বেশ আকর্ষণীয়। সেও খসরুকে ভালোবাসে, কিন্তু খসরু তা জানে না। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আগেই খসরুকে পাগল বানিয়ে দেওয়া হয়। কাঞ্চির সৌন্দর্য ও স্ক্রিন প্রেজেন্স ভালো ছিল।
আর সালমান শাহের সুদর্শন চেহারা, রোমান্টিক উপস্থিতি ও অভিনয় ভালো ছিল। তবে মেন্টাল চরিত্রে সালমানের অভিনয় নিয়ে আমার কিছুটা আপত্তি আছে। তার কিছু এক্সপ্রেশন ও অভিনয়ের ধরন পার্সোনালি আমার কাছে কিছুটা মেয়েলি লেগেছে।
সিনেমাটির সাপোর্টিং ক্যারেক্টারেও ছিলেন শক্তিশালী অভিনেতারা। দিলদার, হুমায়ূন ফরীদি, নানা শাহ ও সাদেক বাচ্চুর অভিনয় গল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সবাই নিজেদের জায়গা থেকে ভালো করেছেন।