04/01/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় বোনেরা,
আল্লাহর কালামের সাথে হৃদয়ের বন্ধন গড়ার এক অনন্য সুযোগ এসেছে আপনার দোরগোড়ায়। সূরা ওয়াকিয়াহ - রাসূলুল্লাহ ﷺ যে সূরা নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন, যে সূরা দারিদ্র্য দূর করে এবং জীবনে বরকত বৃদ্ধি করে।
খাদিজাতুল কোবরা নাফিয়াতুল উম্মাহ উইমেন্স মাদ্রাসা আয়োজন করছে সূরা ওয়াকিয়াহ হিফয কোর্স-০১। সম্পূর্ণ ফ্রি এই বিশেষ কোর্সে মাত্র ৩০ দিনে আপনি মুখস্থ করতে পারবেন এই মহামূল্যবান সূরা।
কোর্স ডিটেইলস: ৩০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ, শনিবার, সোমবার ও বুধবার, সন্ধ্যা ৫:৪৫ থেকে ৬:৪৫।
আসন সীমিত। কুরআনের নূরে নিজেকে আলোকিত করার এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। আজই ভর্তি হয়ে শুরু করুন জ্ঞানার্জনের এক পবিত্র যাত্রা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন শেখার ও আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
04/01/2026
মাশা-আল্লাহ কোরআন শিক্ষা র্কোস:-২ ময়নাদের উপস্থিতি🌷🌸
04/01/2026
📖 কুরআনের_আয়াত_সিরিজ
▫️ পর্ব:০২
এখানে তিনটি কুরআনের আয়াত দিচ্ছি যেগুলো বিশেষভাবে দুঃখ–কষ্ট, বিপদ–আপদ ও কঠিন পরীক্ষার সময়ে ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর দিকে মন ফেরাতে সাহায্য করবে—
১.
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও—তারা, যাদের উপর যখন কোনো বিপদ আসে তখন তারা বলে, “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।” এরাই তারা, যাদের ওপর আছে তাদের রবের পক্ষ থেকে দোয়া ও রহমত, এবং এরাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।
📖 সূরা আল-বাকারা (২:১৫৫–১৫৭)
---
২.
মানুষ কি মনে করে যে তারা বললেই ‘আমরা ঈমান এনেছি’, তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি। অতএব আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করবেন কারা সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী।
📖 সূরা আল-আনকাবুত (২৯:২–৩)
---
৩.
কোনো বিপদ-আপদ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আসে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে—আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
📖 সূরা আত-তাগাবুন (৬৪:১১)
---
প্রথম আয়াত আমাদের শেখায়—পরীক্ষা আসবেই। ধৈর্য ধরলে আল্লাহর রহমত ও বিশেষ দয়া নেমে আসে। দ্বিতীয় আয়াত মনে করিয়ে দেয়—পরীক্ষা আসলেই প্রমাণ হয় আমাদের ঈমান আসলেই সত্য নাকি কেবল মুখের কথা। তৃতীয় আয়াত শেখায়—যে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে, আল্লাহ তার অন্তরকে প্রশান্তি দেন। শুধু শান্তি দেন না তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন যেটা অনেক বেশি জরুরী।
#রাইটিং_থেরাপি
©️ শারিন
03/01/2026
بسم الله الرحمن الرحيم
اَلسَّلاَمْ عَلَيْــــــــــــــــــــكُمْ وَ رَحْمَةُ اللَّهِ وَ بَرَكَاتُه
আকাশে-বাতাসে কীসের যেন মিষ্টি খুশবু ভেসে আসছে! অনুভব করতে পারছেন? এ তো রমাদানের সুগন্ধ! আমাদের প্রিয় রমাদানের!
'রমাদান' - নামটা নিলেই বুকের ভেতর কেমন যেন এক অনুভূতি জাগে। এই সেই মোবারক মাস, যার জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করতেন আমাদের হাবীবুল্লাহ, নাবীউল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ! রজব মাস শুরু হলেই তাঁর পবিত্র জবানে উচ্চারিত হতো সেই মধুর দুআ:
"আল্লাহুম্মা বা-রিকলানা ফি- রজাবা ওয়া শা'বান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।"
তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণে যুগে যুগে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন এবং সকল সালেহীন বান্দা অপেক্ষায় থেকেছেন এই মাসের জন্য।
আচ্ছা আমরাও কি অপেক্ষায় নেই জীবনে আরও একটা রমাদান পাওয়ার? তবে শুধু পাওয়াই নয়, পেতে চাই একটা শ্রেষ্ঠ রমাদান! যে রমাদান হবে আমাদের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট!
আলহামদুলিল্লাহ, খাদিজাতুল কোবরা নাফিয়াতুল উম্মাহ উইমেন্স মাদ্রাসা আয়োজন করছে "রমাদান প্রস্তুতি কোর্স-০১" - যা আপনার রমাদানকে করে তুলবে অর্থবহ ও বরকতময়, ইংশাআল্লাহ।
✨ কোর্সে যা শিখবেন:
- রমাদানের ফযীলত ও তাৎপর্য
- সিয়াম পালনের সঠিক পদ্ধতি
- তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের আদব
- কুরআন তিলাওয়াতের নিয়ম
- দুআ ও যিকিরের আমল
- লাইলাতুল কদরের প্রস্তুতি
- রমাদানে পরিবার ব্যবস্থাপনা
আরও অনেক কিছু ইংশাআল্লাহ
কোর্স বিবরণ:
কোর্সের নাম: রমাদান প্রস্তুতি কোর্স-০১
সময়কাল: ২৫ দিন
ক্লাসের দিন: শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার
সময়: রাত ৮:০০ থেকে ৮:৩০
কোর্স সমাপনী পরীক্ষা
সম্পূর্ণ ফ্রি (আলহামদুলিল্লাহ)
প্রিয় বোনেরা,
রমাদান শুধুমাত্র রোজা রাখার মাস নয়। এটি আত্মশুদ্ধির মাস, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস, ক্ষমা ও মাগফিরাতের মাস। প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব যখন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। জান্নাতের দরজা খুলে যায় আর জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো - আমরা কি প্রস্তুত? আমরা কি জানি কীভাবে এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হয়? কীভাবে ইবাদতে একাগ্র থাকতে হয়?
এই কোর্সটি আপনাকে সেই প্রস্তুতিই দেবে, ইংশাআল্লাহ। আপনি যদি:
- রমাদানে নিয়মিত তিলাওয়াত করতে চান
- তাহাজ্জুদে দাঁড়াতে চান
- প্রতিটি আমলকে সুন্নাহ মোতাবেক আদায় করতে চান
- পরিবারকে নিয়ে রমাদান কাটাতে চান
- লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করতে চান
তাহলে এই কোর্স আপনার জন্যই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রমাদানের রোজা রাখবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" (বুখারী ও মুসলিম)
তাই দেরি না করে আজই ভর্তি হয়ে যান। নিজেকে প্রস্তুত করুন আল্লাহর রহমত ও বরকতের মাসকে স্বাগত জানাতে।
"যে প্রস্তুতি নেয়, সে-ই পায় রমাদানের পূর্ণ বরকত।"
বিস্তারিত জানতে ও ভর্তি হতে যোগাযোগ করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমাদানের যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এই মোবারক মাসে তাঁর কাছে কবুল বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
03/01/2026
📖 কুরআনের_আয়াত_সিরিজ (১)
৪ টি অনুপ্রেরণাদায়ক কুরআনের আয়াত:
১. সূরা আল-বাকারা
(২:২৮৬)
আয়াত:
اللَّهُ لَا يُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
অনুবাদ:
আল্লাহ কোনো প্রাণকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। তার জন্য যা সে উপার্জন করেছে তাই থাকবে এবং তার ওপর যা সে অর্জন করেছে তাই বর্তাবে। হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুল করি বা ভুলে যাই, আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপরে সেই বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যা আপনি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপাবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক, অতএব কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।
---
২. সূরা আশ-শারহ
(৯৪:৫–৬)
আয়াত:
فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٥﴾ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٦﴾
অনুবাদ:
অতএব নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।
---
৩. সূরা আলে ইমরান
(৩:১৩৯)
আয়াত:
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
বাংলা অনুবাদ:
তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না। আর যদি তোমরা ঈমানদার হও তবে তোমরাই হবে বিজয়ী।
---
৪. সূরা আত-তাওবা
(৯:৫১)
আয়াত:
قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
বাংলা অনুবাদ:
বলুন, ‘আমাদের কখনোই কোনো বিপদ-আপদ আসবে না তা ব্যতীত যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন তাই আসবে। তিনি আমাদের অভিভাবক, আর আল্লাহর ওপরই ঈমানদাররা ভরসা করবে।’
এই আয়াতগুলো মানুষের হৃদয়কে শক্তি দেয়, কষ্টের মাঝে আশা জাগায়, আল্লাহর উপর ভরসা করার শিক্ষা দেয়, এবং তাঁর নেয়ামতের কথা স্মরণ করতে শেখায়।
02/01/2026
আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা‼️
রমজানের ফরজ রোজা ছাড়াও সারা বছর অনেকগুলো নফল রোজা রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা হচ্ছে আইয়ামে বীজের রোজা। প্রতি মাসে ৩ দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে তাতে পুরো মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। রাসূল ﷺ সারা বছর এই রোজা রাখতেন। এর থেকে আইয়ামে বীজের ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
প্রতি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ কে আইয়ামে বীজ বলা হয়। কেননা এই তিনদিনের রাতের চাঁদ সবচেয়ে বেশি আলোকজ্জল বা শ্বেত-শুভ্র থাকে। আইয়ামে বীজ বলতে বুঝানো হয় চন্দ্র মাসের সবচেয়ে শুভ্র বা আলোকজ্জল তিনটি রাতের সাথে সংশ্লিষ্ট দিনকে।
➤ আইয়ামে বীজের রোজার বিধান
আইয়ামে বীজের রোজা ফরজ নয়। এটি নফল রোজা। অর্থাৎ আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে সওয়াব আছে, কিন্তু না রাখলে গুনাহ নাই। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের উচিত নফল ইবাদতেও মনযোগ দেয়া। কারণ ফরজ পালন করতে গিয়ে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি হলে বা কোনো ফরজ অনিচ্ছাকৃত ভাবে ছুটে গেলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের নফল আমলগুলোর মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করে দিতে পারেন। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে যে সকল নফল রোজা রয়েছে সেগুলো আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত।
➤ আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত
প্রতি মাসে ৩ দিন বা আইয়ামে বীজের রোজা রাখলে তাতে সারা মাস রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। নিয়মিত ভাবে আইয়ামে বীজের ৩ দিন রোজা রাখা হচ্ছে সারা জীবন রোজা রাখার সমতূল্য। কেননা যে কোনো নেক আমল আল্লাহ তায়ালা ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকেন।
❝ইবনে মিলহান আল-ক্বায়সী (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ আইয়ামে বীয অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সাওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (রাসূল ﷺ) বলেছেন, এগুলো সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।❞ - (আবু দাউদ : ২৪৪৯)
❝আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন করে সাওম পালন করা এবং দুই রাকাত সালাতুদ দুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।❞ - (সহীহ বুখারী : ১৯৮১)
❝আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ প্রতি মাসের প্রথম দিকে তিনদিন সাওম পালন করতেন।❞ - (আবু দাউদ : ২৪৫০)
➤ রমজানের রোজার মত আইয়ামে বীজের রোজার ক্ষেত্রেও সাহরি খাওয়া সুন্নাহ। কিন্তু সাহরি খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অনেকে ধারণা করে থাকেন সাহরি খাওয়া ছাড়া রোজা হয় না। সে ধারণাটি ভুল। সাহরির জন্য পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়। এক ঢোক পানি পান করলেও তাতে সাহরির সুন্নাহ আদায় হয়ে যাবে।
➤ জিলহজ্জ মাসের ১০ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত (ঈদ উল আযহা ও তার পর ৩ দিন) রোজা রাখা হারাম। তাই জিলহজ্জ মাসের ১৩ তারিখ আইয়ামে বীজের রোজা রাখা যাবে না। জিলহজ্জের ১০ থেকে ১৩ তারিখ ব্যতীত অন্য যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখলেও সারা মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে।
➤ আইয়ামে বীজের ৩ দিনের মধ্যে শুক্রবার পড়লে অনেকে দ্বিধান্বিত থাকেন যে শুক্রবার রোজা রাখা যাবে কিনা। হাদীস শরীফে শুধুমাত্র শুক্রবারকে উদ্দেশ্য করে রোজা রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে (হারাম করা হয় নি, এটা মাকরুহে তানযিহী)। আর যদি শুক্রবারের সাথে আগে-পরে একদিন রোজা রাখা হয় তাহলে শুক্রবার রোজা রাখাতে কোনো অসুবিধা নাই। এক্ষেত্রে আগের নিরুৎসাহ দেয়ার হুকুম আরোপিত হবে না। একই ভাবে শুক্রবার যদি অন্য কোনো বিশেষ নফল রোজার দিন হয়, যেমনঃ আরাফার দিন বা আশুরার দিন। সেক্ষেত্রেও শুক্রবার রোজা রাখাতে কোনো অসুবিধা নাই।
➤ আইয়ামে বীজের তারিখগুলোতে নারীদের হায়েজ চললে তখন ঐ দিনগুলোতে রোজা রাখা যাবে না। নারী-পুরুষ যে কারোরই যে কোনো সমস্যার জন্য আইয়ামে বীজের ৩ দিন রোজা না রাখতে পারলে মাসের অন্য যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখলেও সারা মাস রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে। কেননা মাসের যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখলে সারা মাসের সওয়াব পাওয়া যাবে এটাও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
➤ আমরা জানি হিজরি মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই প্রতি মাসের আইয়ামে বীজের রোজার তারিখ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারিত হয়ে থাকে। আমাদের উচিত হিজরি মাসের চাঁদ ওঠার খবরের সাথে নিয়মিত আপডেট থাকা।
সুতারাং আমাদের উচিত, আইয়ামে বীজের রোজা পালন করা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। আল্লাহ্ আমাদের সকলকে প্রতি হিজরি মাসের মাঝের তিন দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখা : মাহমুদুল হাছান
02/01/2026
হযরত আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
❝যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে।❞ .... ❪সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮০৯❫
01/01/2026
এখনও যারা ভর্তি হোননি দ্রুত ভর্তি হয়ে যান ৩ তারিখ থেকে ইং শা আল্লাহ ক্লাস শুরু হবে।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আল্লাহ তাআলার অসীম রহমতে আমরা যারা এখনো কুরআনের সঠিক শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছি, তারা প্রকৃত অর্থেই সৌভাগ্যবান। কুরআনই আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক, অন্তরের প্রশান্তি, গুনাহ মাফের মাধ্যম এবং জান্নাতের দিকনির্দেশনা।
প্রিয় বোনেরা, আপনারা কি কখনো ভেবেছেন— যে কিতাব আল্লাহ আমাদের জন্য নাযিল করেছেন, তা সঠিকভাবে না পড়লে আমরা কীভাবে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করব? যে কালামে কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে, সেই কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ক কতটা দৃঢ়?
এই ভাবনা থেকেই Khadizatul Ku'bra Nafiyatul Umma'h Women's Madrasha শুরু করেছে কোরআন নাজেরা কোর্স-০১। ছয় মাসের এই সফরে ধাপে ধাপে আপনাকে শেখানো হবে সঠিকভাবে কুরআন তিলাওয়াত। ক্লাস হবে শনিবার থেকে বুধবার, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। কোর্স শেষে পরীক্ষা নেয়া হবে, যাতে আপনার অর্জন সুস্পষ্ট হয়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— এই কোর্স সম্পূর্ণ ফ্রি আলহামদুলিল্লাহ। এখানে কোনো আর্থিক উদ্দেশ্য নেই, বরং উদ্দেশ্য শুধু একটাই— আল্লাহর কালামকে আপনার অন্তরে পৌঁছে দেওয়া।
আজ হয়তো এ দাওয়াহ আপনার হৃদয়ে দোলা দিচ্ছে। কে জানে, হয়তো এ সুযোগই আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আসুন, দেরি না করে কুরআনের সাথে নিজেদের জড়িয়ে নিই। কারণ কুরআনই হবে আমাদের কবরের সাথী, হিসাবের দিন সুপারিশকারী, আর জান্নাতের পথে আলোকবর্তিকা।
01/01/2026
সবাই বলে যাবেন কিন্তু প্রিয় উখতিরা।