24/09/2026
পরিবারতন্ত্রই কি সমাধান?
কিছু কিছু খবর পড়ে মনে হয়, এ যেন সিনেমার গল্প। কিন্তু না—এ বাস্তব, আর ঘটছে আমাদের চোখের সামনেই।
একটা পরিবারের কথা ভাবুন। বাবা একসময় ছিলেন পূর্ণ মন্ত্রী। মেয়ে আজ সংসদ সদস্য। জামাই মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা। আর ছেলে? আজ, ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন।
নাম বলি তবে—নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী। তার মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরী, আইনজীবী থেকে হয়ে ওঠা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। নিপুণের শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা। আর নিতাই রায় চৌধুরীর বড় ছেলে দেবাশীষ রায় চৌধুরী—আজ যিনি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর কাছে শপথ নিলেন হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে। ব্রিটেন থেকে আইনে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ২০০৫ সালে আইন পেশা শুরু করা দেবাশীষ ২০২৪ সালে অতিরিক্ত বিচারপতি হয়েছিলেন, বয়স ৪৫ পূর্ণ হওয়ায় এবার স্থায়ী হলেন।
এখন প্রশ্নটা আমি করব না। করবেন আপনি নিজেই, নিজের মনে মনে।
একটা পরিবারে যদি নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা আর বিচার বিভাগ—রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভই একসাথে প্রতিনিধিত্ব পায়, তাহলে সেটাকে আমরা কী বলব? কাকতাল? পরিশ্রমের প্রতিদান? নাকি এমন কিছু, যা নিয়ে অন্তত একবার থেমে ভাবা দরকার?
আমি কারও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মেনেই আজকের জায়গায় পৌঁছেছেন—এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে যখন বারবার একই পরিবারের নাম ফিরে আসে, তখন সাধারণ মানুষের মনে একটা প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক—সুযোগটা কি সবার জন্য সমান থাকে, নাকি কিছু নাম এমনিতেই এগিয়ে থাকে?
সামাজিক মাধ্যমে এখন এই নিয়েই চলছে নানা কথা। কেউ প্রশংসা করছেন এক পরিবারের এত অর্জন দেখে, কেউ আবার নীরবে হিসাব মেলাচ্ছেন। উত্তরটা হয়তো কারও কাছেই এক নয়। তবে প্রশ্নটা থেকেই যায়—
পরিবারতন্ত্রই কি তবে সমাধান?
#পরিবারতন্ত্র #জবাবদিহিতা #বাংলাদেশ #প্রশ্ন_থেকেই_যায়