17/04/2026
কেনো SSC বা HSC তে সাইলেন্ট এক্সপেল মারাত্মক জুলুম-
আমাদের দেশে বিভিন্ন স্কুল বা কলেজের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে, এক প্রতিষ্ঠানে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীর সীট পড়লে পরীক্ষায় এমনিতেই কঠিন গার্ড দিয়ে বা হলে বেশি বকাঝকা করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা খারাপ করানোর চেষ্টা করে।
সেই জায়গায় এই সাইলেন্ট এক্সপেল নামক হাতিয়ার তুলে দেওয়া মানে অনেক শিক্ষক এটার অপব্যবহার করতেই পারে সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এটা দেখার কি কোনো ব্যবস্থা আছে?
আবার অনেক সময় দেখা যায় প্র্যাক্টিকালে টাকা পয়সা না দিলে প্র্যাক্টিকালের মার্কস কম দেয়, এমন অবস্থায় সাইলেন্ট এক্সপেল নিয়ে যে এমন হবে না তার কি গ্যারান্টি আছে কোনো?
খবরে বলা আছে যে পরীক্ষার হলে ঘাড় ঘুরালে বা দেখাদেখির চেষ্টা করলে সাইলেন্ট এক্সপেল করা যাবে। তো শুধু ঘাড় ঘুরানো বা ১/২ টা MCQ যদি কেউ শুনেও ফেলে এরজন্য খাতা ২/৩ মিনিট আটকে রাখলেই তো হয়, কিন্তু এই সামান্য অপরাধে যদি কাউকে এখন থেকে সাইলেন্ট এক্সপেল করে এটা কি কোনোভাবেই ন্যায় বিচার হলো?
আর সাইলেন্ট এক্সপেল একটা অদৃশ্য চাপ তৈরী করবে ছাত্রছাত্রীদের উপর, মনে হবে যে সবসময়ই তাদের উপর নজর রাখছে পরীক্ষার হলে + কোনো কারণে পরীক্ষার হলে কেউ পানি বা কলম চাইলেও তাকে সাইলেন্ট এক্সপেল করেছে কিনা এটা নিয়ে পরীক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায় থাকবে বিশেষ করে যাদের OCD আছে। কারণ বুঝার তো কোনো সুযোগ নেই।
সারাদিন আমরা বলি ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ কমাতে, সেই জায়গায় এই সাইলেন্ট এক্সপেল নামক জিনিস ধরিয়ে দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক অবস্থার যে ১৪টা বাজাচ্ছি তার কোনো হিসাব আছে? বোর্ড পরীক্ষায় যদি এতো চাপ সামলাতে না পেরে আল্লাহ না করুক কেউ যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলে নিজের সাথে তাহলে এই দায় কে নিবে?
তারপর অনলাইনে প্রতারণা তো আছেই, স্কুল বা কলেজের কেউ যদি বলে যে তোমাকে সাইলেন্ট এক্সপেল করা হয়েছে, টাকা দাও তাহলে এক্সপেল কেটে দিবো এমন কিছু হলে তো অনেকেই প্রতারণার শিকার হবে।
তাই একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে আমি শিক্ষাবোর্ডকে বলতে চাই আপনারা ছাত্রছাত্রীদের উপর আর চাপ বাড়িয়েন না, এমনিতেই বোর্ড পরীক্ষায় সবাই খুব চাপে থাকে।
কেউ যদি সত্যিই নকল করে বা পরীক্ষার হলে গুরুতর অপরাধ করে তাকে আপনারা প্রকাশ্যেই এক্সপেল করে দেন সমস্যা নেই কিন্তু সাইলেন্ট এক্সপেলের নামে এতো এতো চাপ বা উপরের এই কাজগুলোর সুযোগ করে দিয়েন না। এটা অন্যায় বাচ্চাগুলোর উপর।