23/09/2025
পড়া মনে থাকে না কেন?
শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রার্থীদের থেকে আমি সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগটা শুনি, সেটা হলো পড়া মনে থাকে না। অনেক পরীক্ষার্থীকেই দেখি প্রচুর পড়াশুনা করতে কিন্তু তাদের আউটকাম একেবারে হতাশ করার মত।
এ বিষয়গুলো আমাকে কষ্ট দেয়।
আসলে আমরা অনেকেই যেভাবে পড়াশুনা করি তাতে পড়া মনে না থাকাটাই স্বাভাবিক। আমরা আমাদের ব্রেইনের স্টোরেজ সিস্টেমটাই বুঝি না আসলে। আমাদের ব্রেইন অনেকটা আলমারির মত। এখানে এলোমেলো ভাবে তথ্য স্টোর করলে কিন্তু যথাসময়ে যথার্থ তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। ঠিক যেভাবে আলমারিতে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভরে স্তূপ করে রাখলে প্রয়োজন মাফিক জিনিসটি খুজে পাওয়া যায় না, সেরকম। সুতরাং এই আলমারির মতই আমাদের ব্রেনেও তথ্যগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হয়।
প্রশ্ন হতে পারে, সেটা কিভাবে সম্ভব?
উত্তরটা হলো, আমাদের কোনোকিছু পড়া শুরু করার আগে একটা পরিকল্পনা করে নেয়া প্রয়োজন যে আমি ঠিক কি কি বিষয় পড়বো? কোথা থেকে পড়বো? কতটুকু পড়বো? এবং এটা পড়ে আমি আসলে ঠিক কোন বিষয়গুলো শিখতে যাচ্ছি- তা পড়া শুরুর আগেই একটুখানি মাথায় ক্যালকুলেট করে নিতে হবে। ব্রেইনকে আপনার পরিকল্পনাটা বুঝাতে হবে।
এইতো গেলো পরিকল্পনার কথা। তারপর যে ব্যাপারটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো শুরুতেই কোনো টপিক আগা থেকে গোড়া পড়া যাবে না। এই জায়গাটাতে আমরা অধিকাংশই ভুল করে থাকি। আসলে আমাদের বুঝতে হবে, এভাবে পড়লে আমাদের ব্রেইন পুরো বিষয়টা এবজর্ব করার বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে যাবে। আমরা যখন কোনো বিষয়ে অধিক মনযোগী হই তখন আমাদের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যয় হয়ে একটা সময় অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। আর মস্তিষ্কের অক্সিজেন স্বল্পতাই আমাদের হাই তোলা বা ঘুমের প্রধান কারণ।
একটু খেয়াল করলে দেখবেন, কোনো উপন্যাস বা মজার গল্প পড়ার সময় কিন্তু আমাদের ঘুম আসে না।
কিন্তু কেন? এর উত্তরটা হল, গল্প বা উপন্যাসে যে শব্দ, চরিত্র বা কাহিনীর উল্লেখ থাকে সেগুলোর সাথে আমাদের মস্তিষ্ক আগে থেকেই পরিচিত থাকে। যার ফলে সেগুলো পড়ার সময় আমাদের ব্রেইন বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই নেয়। অতিরিক্ত মনযোগী হয়ে অধিক অক্সিজেন খরচ করে না। ফলে আমাদের ঘুমও আসে না।
এইবার আসি মূল কথায়, তাহলে কোনো টপিক পড়ার সময় আমাদের করণীয় কী?
উত্তরটা হলো, কোনো টপিক পড়ার সময় সেখান থেকে কিছু কীওয়ার্ড নির্বাচন করে সেগুলো ভালো করে বুঝতে হবে বা মুখস্থ করার বিষয় হলে মুখস্থ করে নিতে হবে।
তারপর সেই কীওয়ার্ডের উপর বেইস করে যদি আমরা পুরো টপিকটা পড়ি বা বুঝি তাহলে যেটা হবে আমাদের মস্তিষ্ক পুরো পড়াটাই মনে রাখতে পারবে। কারণ, মস্তিষ্ক রিলেশন বিল্ড করে তথ্য জমা করতে পছন্দ করে। অর্থাৎ, প্রথমে যে কীওয়ার্ডগুলো আপনি মুখস্থ করেছেন সেগুলোর সাথে সে অতিরিক্ত তথ্যগুলো রিলেট করে সহজেই যেকোনো বিষয় দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে।
এবার আসি, শেষ ধাপে। এই ধাপটা হলো ফিনশিং স্টেইজ। কোনো পড়া যখন শেষ হয়ে যায় বা এমন মনে হয়ে যায় যে এটা রপ্ত হয়েছে তখন আমরা আরো যে ভুলটা করি সেটা হলো সেখানেই চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দেই এবং অন্য টপিকে চলে যাই। এটা মারাত্মক ভুল একটি সিদ্বান্ত। আসলে তখনো ব্রেইনে পুরো বিষয়টার একটা ক্লিয়ার কাট পাথ তৈরি হয় নাই। সেটা করার জন্য আমাদের পুরো টপিকটা মনে মনে কয়েকবার রিক্যাপ করতে হবে। অর্থাৎ, নিজের কাছে নিজে বিষয়টা ব্যাখ্যা করতে হবে। যদি এটা সাকসেসফুলি করা যায় তবে বুঝতে হবে ওই টপিকটা আপনার আয়ত্বে এসে গেছে। এবার আপনার ব্রেইন নতুন টপিক শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
এভাবে যদি আমরা পড়াশুনা করতে পারি তবে ইনশাআল্লাহ সহজেই আমরা অনেক বেশি পড়া অনেক কম সময়ে আয়ত্ব করতে পারবো। আল্লাহ আমাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিক। আমিন।
সবার জন্য শুভকামনা।