বিজ্ঞানের রাজ্য

বিজ্ঞানের রাজ্য

Share

বিজ্ঞানের রাজ্যে সবাইকে স্বাগতম 👀

30/10/2025

অনেকেই হয়ত খেয়াল করবেন যে প্রখর রোদের মধ্যে বিশেষ করে পিচঢালা রাস্তায় দূর থেকে মনে হয় সামনে রাস্তা ভেজা বা পানির উপস্থিতি রয়েছে।কিন্তু কাছে আসলে দেখা যায় কিছুই নেই।এটা আসলে মরিচীকা।

মরিচীকা হলো এক ধরনের দৃষ্টিবিভ্রম (optical illusion) যা সাধারণত গরমের দিনে রোদে পিচঢালা রাস্তা, মরুভূমি বা মাঠে দেখা যায়। এতে দূরে পানি বা ভেজা রাস্তার মতো কিছু দেখা যায়, কিন্তু আসলে সেখানে পানি থাকে না।অনেক সময় এমন ঘটনা দুপুরের দিকে বেশি লক্ষ করা যায়।

মরিচীকা সৃষ্টি হয় আলো প্রতিসরণের (refraction) কারণে।
গ্রীষ্মকালে বা অন্যসময়েও প্রখর রোদের কারনে মাটির কাছাকাছি বাতাস অনেক উষ্ণ ও হালকা থাকে এবং তার ওপরের স্তরের বাতাস তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা ও ঘন হয়। এরফলে আলো ঠান্ডা স্তর থেকে উষ্ণ স্তরে প্রবেশ করলে বাঁক খায়।

এই কারণে দূরের কোনো বস্তুর প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে এমনভাবে আসে যে মনে হয় সেটা মাটিতে বা পানিতে প্রতিবিম্বিত হচ্ছে।
আমরা দূরে পানি বা ভেজা রাস্তা দেখি, কিন্তু কাছে গেলে কিছুই পাই না এটাই মরিচীকা।
ইংরেজিতে একে বলে Mirage।

30/10/2025

ভাবুন তো, যদি কেউ বলত— “রোগীকে ছোঁয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন”—আর সেই সাধারণ কথাটিই যদি তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

এমনটাই ঘটেছিল ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ নামের এক হাঙ্গেরীয় চিকিৎসকের জীবনে, যিনি আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত আধুনিক চিকিৎসা ইতিহাসের প্রথম “পরিচ্ছন্নতার নায়ক” হিসেবে। ১৮৪০-এর দশকে ভিয়েনার এক হাসপাতালে প্রতিদিন বহু প্রসূতি নারী মারা যেতেন অদ্ভুত এক জ্বরে। কেউ কারণ বুঝতে পারছিল না।স্যামেলওয়াইজ খেয়াল করলেন—ডাক্তাররা মর্গে মৃতদেহ পরীক্ষা করে সরাসরি রোগী দেখতে যাচ্ছেন, অথচ হাত ধোয়ার বালাই নেই!তিনি এক নতুন নিয়ম চালু করলেন—রোগীর কাছে যাওয়ার আগে ক্লোরিনে হাত ধুতে হবে।ফল? মৃত্যুহার কমে গেল প্রায় ৯৯%।কিন্তু তখনকার চিকিৎসক সমাজ বিশ্বাস করতো না “জীবাণু” বলে কিছু আছে; তারা ভাবত রোগ আসে “অশুভ আত্মা” থেকে।তাই স্যামেলওয়াইজকে পাগল বলা হলো, অপমান করা হলো, চাকরি গেল, শেষ পর্যন্ত তাঁকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হলো—আর সেখানেই নির্যাতনে মৃত্যু হয় তাঁর। বছর কয়েক পর লুই পাস্তুর ও জোসেফ লিস্টার তাঁর তত্ত্ব প্রমাণ করলেন—
রোগের আসল কারণ জীবাণু, আর পরিষ্কার হাতই পারে তা ঠেকাতে।আজ আমরা যেভাবে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার বা অস্ত্রোপচারে স্টেরিলাইজারকে অপরিহার্য মনে করি—তার শুরু সেই স্যামেলওয়াইজের একক চিন্তা থেকেই।তিনি হয়তো আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর শেখানো পাঠটাই পৃথিবীর লাখো প্রাণ বাঁচাচ্ছে—“একটি ধোয়া হাত, এক পৃথিবীর জীবন।”

20/10/2025

প্লুটোর পৃষ্ঠে এমন কিছু জিনিস দেখা গেছে, যা আমাদের সৌরজগতের অন্য কোথাও দেখা যায়নি।

- এগুলো আসলে বরফের পাহাড়! শুনতে অদ্ভুত লাগছে, তাই না? কিন্তু এগুলো কোনো পাথর বা মাটির পাহাড় নয়, বরং পুরোপুরি বরফের তৈরি! তবে, এটা আমাদের পান করার মতো সাধারণ বরফ নয়। প্লুটোর চরম ঠান্ডায় -232°C বরফ এতটাই শক্ত হয়ে যায় যে, পাথরের মতোই আচরণ করে। তাই এই বরফের পাহাড়গুলো আমাদের পৃথিবীর গ্রানাইট বা বেসাল্টের মতোই মজবুত।

- প্লুটোর সবচেয়ে উঁচু বরফের পাহাড়ের নাম হল টেনজিং মন্টেস (Tenzing Montes)। এর সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা প্রায় ৬.২ কিলোমিটার, যা আমাদের পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টের (৮.৮ কিলোমিটার) চেয়ে সামান্য কম হলেও, প্লুটোর আকারের তুলনায় এটি অনেক বিশাল। ভাবো, প্লুটোর ব্যাস মাত্র ২,৩৭৬ কিলোমিটার, সেখানে ৬.২ কিলোমিটার উঁচু পাহাড় থাকাটা সত্যিই অবাক করা!

- প্লুটোর পাহাড়ের চূড়ায় সাদা আস্তরণ দেখা যায়, যা দেখতে আমাদের পৃথিবীর বরফাবৃত চূড়ার মতোই। কিন্তু এখানেও রয়েছে একটি বড় পার্থক্য। পৃথিবীর পাহাড়ের চূড়ায় বরফ জমে কারণ উপরের বায়ুমণ্ডল ঠান্ডা থাকে। কিন্তু প্লুটোর ক্ষেত্রে উল্টোটা ঘটে। প্লুটোর বায়ুমণ্ডল উপরের দিকে উষ্ণ থাকে এবং সেখানে মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব বেশি। যখন এই মিথেন গ্যাস পর্বতের চূড়ায় পৌঁছায়, তখন এটি ঠান্ডা হয়ে সাদা বরফের মতো জমে যায়।

- প্লুটোর কিছু পাহাড়ের চূড়ায় বড় বড় জ্বালামুখ বা গর্ত দেখা গেছে, যা থেকে বিজ্ঞানীরা মনে করেন এগুলো ক্রায়ো-ভলকানোস (Cryovolcanoes) বা বরফের আগ্নেয়গিরি। এই আগ্নেয়গিরিগুলো থেকে লাভা বা গলিত শিলা বের হয় না, বরং তরল বাষ্পযুক্ত পানি, অ্যামোনিয়া এবং মিথেন এর মিশ্রণ উদগীরণ হয়। এটি পৃথিবীর আগ্নেয়গিরির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কিন্তু একই ধরনের পর্বত তৈরি করতে পারে!

- প্লুটোর এই পাহাড়গুলো তৈরি হয়েছে তুলনামূলকভাবে নতুন সময়ে অনুমান করা হয় এই পাহাড়গুলো প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়েছে, যা সৌরজগতের ৪.৫ বিলিয়ন বছরের ইতিহাসে খুব সাম্প্রতিক ঘটনা। এর মানে, প্লুটোর ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ আজও চলছে।

- পাহাড়গুলো একা থাকে না, একটা সীমানার মতো আছে! প্লুটোর বিখ্যাত স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়া (Sputnik Planitia) নামে একটি বরফের সমভূমি আছে, যা প্লুটোর হৃদয়ের আকৃতি তৈরি করে। এই সমভূমির চারপাশে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমে, টেনজিং মন্টেস এবং হিলারি মন্টেস নামে দুটি বিশাল বরফের পর্বতমালা আছে।

- প্লুটোর তাপমাত্রা এতই কম হলেও, কিছু কিছু জায়গায় নাইট্রোজেন বরফের হিমবাহ (glacier) দেখা যায়। এই হিমবাহগুলো ধীরে ধীরে প্রবাহিত হয়ে স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়ার সমভূমিতে মিশে যাচ্ছে। এটা অনেকটা আমাদের পৃথিবীর হিমবাহের মতো, যা পাহাড় থেকে নেমে আসে।

- প্লুটোর পৃষ্ঠে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর মাত্র ৬%। এর অর্থ হল, প্লুটোর পাহাড়ে আরোহণ করা পৃথিবীর তুলনায় অনেক সহজ হবে। আপনি যদি প্লুটোতে একটি পাহাড়ে লাফিয়ে উঠতে চান, তাহলে আপনি হয়তো পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি উপরে লাফ দিতে পারবেন!

- প্লুটোর কিছু পর্বতের গায়ে অদ্ভুত কিছু খাঁজ বা ফাটল দেখা যায়। এই খাঁজগুলোকে বিজ্ঞানীরা পেনিটেন্টস (Penitentes) নামে চেনেন। এগুলো আসলে বরফের তৈরি তীক্ষ্ণ স্তম্ভের মতো কাঠামো। প্লুটোতে এগুলো অনেক বড়, প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে!

- এতদিন প্লুটোকে একটি হিমশীতল, নিষ্ক্রিয় জগৎ মনে করা হত। কিন্তু এই বরফের পাহাড়, আগ্নেয়গিরি এবং হিমবাহের আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে প্লুটোর অভ্যন্তরে তাপ উৎপন্ন হয় এবং সেখানে ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ চলে।

06/10/2025

ওরিয়নের চোখে সভ্যতার ছায়া -

কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলী (Orion constellation) পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান একটি উজ্জ্বল গঠন, যার কেন্দ্রে Orion Belt-এর তিনটি নক্ষত্র—Alnitak, Alnilam ও Mintaka সরলরেখায় অবস্থান করে।
এর নিচে Orion Nebula অবস্থিত, যা একটি নাক্ষত্রিক নার্সারি এবং প্রাণের মৌলিক উপাদানসমূহ ধারণ করে।

এছাড়াও, গিজার তিনটি পিরামিড—খুফু, খাফরে, মেনকাউরে—এই তিন নক্ষত্রের বিন্যাসের সাথে মিলে যায়, যা Orion Correlation Theory নামে পরিচিত। Mintaka ও মেনকাউরে পিরামিডের সামান্য সরে থাকা অবস্থান এই মিলকে আরও দৃঢ় করে। Nile নদী ও মিল্কি ওয়ের প্রতীকী সম্পর্কও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে Orion নক্ষত্রমণ্ডলীকে Osiris দেবতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়- যিনি মৃত্যুর পর পুনর্জন্মের দেবতা। পিরামিড টেক্সটে আত্মার Orion-এর দিকে যাত্রার কথা উল্লেখ রয়েছে।

Orion Nebula-তে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।
SETI,UFO ও অন্যান্য সংস্থা সেখানে বুদ্ধিমান প্রাণের সন্ধানে রেডিও সিগন্যাল অনুসন্ধান করছে, যদিও এখনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই থিওরি দেখায় কিভাবে আকাশের নক্ষত্র, মাটির পাথর, এবং মানুষের কল্পনা একত্রে একটি মহাজাগতিক সংলাপ তৈরি করে—যেখানে Orion শুধু একটি নক্ষত্রমণ্ডলী নয়, বরং সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।

-

04/10/2025

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া পৃথিবীর উচ্চতম স্থান।এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,৮৫০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। কিন্তু এর শুষ্ক চূড়ায় লুকিয়ে আছে এক প্রাচীন পদার্থ, 'মেরিন লাইমস্টোন' অর্থাৎ সামুদ্রিক চুনাপাথর।
এর মানে হলো বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতটি প্রাচীনকালে কোনো একটি সমুদ্রের নীচে ডুবে ছিল। লক্ষ লক্ষ বছর আগে, প্যালিওজোয়িক এবং মেসোজোয়িক যুগে, সমুদ্রের তলদেশে জমা হওয়া পলি - খোলস, প্রবালের টুকরো এবং অন্যান্য সামুদ্রিক ধ্বংসাবশেষ ধীরে ধীরে শক্ত চুনাপাথরে পরিণত হয়েছে। পরে, এগুলো যখন ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন উচ্চ চাপে সমুদ্রের তলদেশকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়, যার ফলে বিশাল হিমালয়ের জন্ম হয়।

এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছানো পর্বতারোহীরা এমন পাথর দেখে অভিভূত হয়েছেন, যা সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম ধ্বংসাবশেষে পরিপূর্ণ।এগুলো একসময় পানির নীচে জীবনের আবাসস্থল ছিল এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে পৃথিবী স্থির নয়, বরং প্লেট টেকটোনিক্সের মাধ্যমে ক্রমাগত নিজেকে পুনর্গঠন করছে। এভারেস্টের চূড়া উচ্চতা এবং মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হলেও এর চুড়ায় পৌছে এটা ভাবতে ভুল করবেন না যে আপনি যে উচ্চতম জাগয়ায় দাঁড়িয়ে আছেন তা একসময় সাগরের অতল গর্ভে ছিল!

03/10/2025

অসাধারণ এক অগ্রগতিতে, বিজ্ঞানীরা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে এমনভাবে তৈরি করেছেন, যা শরীরের ভেতরেই নিরাপদে কিডনির পাথর গলিয়ে ফেলতে সক্ষম। এর ফলে একটি ব্যথাদায়ক ও সাধারণ রোগের জন্য তৈরি হতে পারে অ-সার্জিকাল সমাধান। কিডনির পাথর বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোগায়, যা প্রায়ই তীব্র যন্ত্রণা, প্রস্রাবের জটিলতা এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই নতুন উদ্ভাবন সরাসরি পাথরের উৎসকে টার্গেট করে চিকিৎসার পদ্ধতিকে পাল্টে দিতে পারে।

গবেষকরা প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছেন যাতে তারা বিশেষ এনজাইম উৎপন্ন করে, যা কিডনির পাথর তৈরি করা খনিজগুলোকে গলিয়ে দেয়। হজম প্রক্রিয়ার মধ্যে এ ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করালে তারা শরীরের সাথে নিরাপদে কাজ করে, বিদ্যমান পাথর ভেঙে ফেলে এবং নতুন পাথর তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করে। প্রাথমিক ল্যাবরেটরি গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে, যেখানে এর কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা দুটোই প্রমাণিত হয়েছে।

এই উন্নয়ন মাইক্রোবায়োম-ভিত্তিক চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যেখানে শরীরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকেই কাজে লাগিয়ে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা হচ্ছে। সার্জারি বা শক্তিশালী ওষুধের বিপরীতে, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে কিডনির পাথর ভাঙা একটি ন্যূনতম হস্তক্ষেপমূলক পদ্ধতি, যা দ্রুত সুস্থ হওয়ার সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দুটোই কমিয়ে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, এই অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী রোগীদের জন্য সহজলভ্য, নিরাপদ ও অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসার পথ তৈরি করবে, যা কিডনি-স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধের ধারণাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিতে পারে।

02/10/2025

২৩ বছর বয়সী অ্যালিসা কারসন প্রস্তুতি নিচ্ছেন মঙ্গল গ্রহের প্রথম মানব হতে। তিনি অংশ নিচ্ছেন এক বিস্ময়কর মহাকাশ অভিযানে, যা হবে একমুখী — অর্থাৎ তিনি কখনও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন না।
২৩ বছর বয়সী অ্যালিসা কারসন প্রস্তুতি নিচ্ছেন মঙ্গল গ্রহের প্রথম মানব হতে। তিনি অংশ নিচ্ছেন এক বিস্ময়কর মহাকাশ অভিযানে, যা হবে একমুখী — অর্থাৎ তিনি কখনও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন না।।

অ্যালিসার লক্ষ্য শুধুমাত্র মঙ্গল গ্রহে পৌঁছানো নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলা। এই অভিযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে মানুষ ধীরে ধীরে মঙ্গলে বসতি স্থাপন করতে পারবে।

অ্যালিসার এই সাহসী পদক্ষেপ মানবজাতির জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, যেখানে মহাকাশ অন্বেষণ আর কল্পনার মধ্যে ফারাক কমে যাচ্ছে। এটি মানব ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

29/09/2025

মেঘভাঙ্গা বৃষ্টি কতটা ভয়ানক!!!

Cloudburst (ক্লাউডবার্স্ট) হলো হঠাৎ করে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের ঘটনা, যা খুব স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি নামায়। সাধারণত পাহাড়ি বা উঁচু এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

🔹 বৈশিষ্ট্য:

১ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টি নামতে পারে।

বৃষ্টি খুব দ্রুত ও অল্প সময়ে হয়, ফলে পানি জমে আকস্মিক বন্যা বা ভূমিধস ঘটায়।

স্থানীয়ভাবে সীমিত এলাকায় ঘটে।

🔹 কারণ:

1. গরম আর্দ্র বায়ু দ্রুত উর্ধ্বমুখী হলে মেঘে প্রচুর জলীয়বাষ্প জমা হয়।

2. পাহাড়ি বাধার কারণে মেঘ উপরে উঠতে না পেরে এক জায়গায় জমে যায়।

3. হঠাৎ করে সেই মেঘ ফেটে গেলে স্বল্প সময়ে ভারী বৃষ্টি নেমে আসে – এটিই ক্লাউডবার্স্ট।

🔹 প্রভাব:

পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা হয়।

নদী-নালা উপচে পড়ে, গ্রাম-শহরে ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

ভূমিধস, সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

👉 সহজভাবে বলা যায়, ক্লাউডবার্স্ট মানে হলো আকাশের মেঘ হঠাৎ ফেটে প্রচণ্ড বৃষ্টি ঝরানো, যা স্বাভাবিক বর্ষণের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর

28/09/2025

মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব। এটি তার সর্বোচ্চ গতিতে ঘণ্টায় প্রায় ৬,৯২,০০০ কিলোমিটার বেগে চলে। সূর্যের খুব কাছে এলে এই গতি অর্জন করে।

আলো এক বছরে (৩৬৫.২৫ দিন) যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে এক আলোকবর্ষ বলা হয়। এটি প্রায় ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার (৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল) এর সমান। এই গতিতে পার্কার সোলার প্রোবের এক আলোকবর্ষ যেতে প্রায় ১,৬৯৮ বছর লাগবে।

# Image for visualization, not real image.

27/09/2025

চন্দ্রকম্পন (Moonquake) 🤔

আমরা তো শুধু পৃথিবীর ভূমিকম্পের সাথেই পরিচিত। কিন্তু চাঁদেও যে এমনটা হয়।

আমাদের পৃথিবীতে শুধু এক ধরনের ভূমিকম্প হয়, কিন্তু চাঁদে অন্তত চার ধরনের কম্পন ঘটে। সেগুলো হলো:
- গভীর চন্দ্রকম্পন (Deep Moonquakes): এগুলো চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার (৪৩০ মাইল) গভীরে হয়। এগুলো খুব দুর্বল কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে।
- উল্কাপিণ্ডের আঘাতে সৃষ্ট কম্পন (Meteorite Impact Moonquakes): যখন উল্কাপিণ্ড চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করে, তখন এই ধরনের কম্পন হয়। উল্কা যত বড়, কম্পন তত শক্তিশালী।
- তাপীয় চন্দ্রকম্পন (Thermal Moonquakes): যখন চাঁদের পৃষ্ঠে সূর্যের আলো পড়ে, তখন তা প্রসারিত হয় এবং আবার ঠান্ডা হয়ে সংকুচিত হয়, যা পৃষ্ঠে হালকা কম্পনের সৃষ্টি করে।
- পৃষ্ঠীয় চন্দ্রকম্পন (Shallow Moonquakes): এগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী এবং পৃষ্ঠের ২০-৩০ কিলোমিটার (১২-১৮ মাইল) গভীরে হয়। এগুলো পৃথিবীর ভূমিকম্পের মতো প্রায় ৫.৫ মাত্রার মতো শক্তিশালী হতে পারে।

আমাদের পৃথিবীতে ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য স্থায়ী হয়। কিন্তু চাঁদের পৃষ্ঠে কম্পন প্রায় ১০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলতে পারে। এর কারণ হলো, চাঁদের অভ্যন্তরভাগ খুব শুকনো এবং এতে কোনো তরল পদার্থ নেই। তাই কম্পনের তরঙ্গগুলো খুব সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না, বরং চাঁদের ভেতর বারবার প্রতিফলিত হতে থাকে। এটা অনেকটা ঘণ্টাধ্বনির মতো, যা আঘাত করার পর অনেকক্ষণ ধরে বাজে।

চাঁদে চন্দ্রকম্পন হয়, এটা আমরা প্রথম জানতে পারি ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে, যখন অ্যাপোলো ১১, ১২, ১৪, ১৫ এবং ১৬ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠে সিসমোমিটার (Seismometer) স্থাপন করেন। এই যন্ত্রগুলো চন্দ্রকম্পনের কম্পন রেকর্ড করত এবং সেই ডেটা পৃথিবীতে পাঠাত। এই যন্ত্রগুলো আট বছর ধরে কাজ করে চন্দ্রকম্পনের তথ্য সংগ্রহ করেছে।

চাঁদের কক্ষপথের আকৃতির কারণে এটি যখন পৃথিবীর কাছে আসে, তখন আমাদের পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টান চাঁদের পৃষ্ঠে চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের কারণে দুর্বল চন্দ্রকম্পন সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, আমাদের পৃথিবীই চাঁদের কম্পনের জন্য দায়ী!

- চাঁদের অভ্যন্তরভাগ আংশিক তরল নয়, কঠিন! 🧊
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ গলিত শিলা এবং তরল পদার্থ দিয়ে গঠিত। কিন্তু চন্দ্রকম্পনের ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে চাঁদের কেন্দ্র (core) অন্ততপক্ষে আংশিকভাবে কঠিন। এটি পৃথিবীর কেন্দ্রের মতো পুরোপুরি গলিত নয়। এই কঠিন এবং ঠাণ্ডা গঠনই কম্পনের তরঙ্গগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদের অভ্যন্তরে আটকা থাকতে সাহায্য করে।

- সূর্যের তাপেও চাঁদে কম্পন হয়! চাঁদের পৃষ্ঠে যখন সূর্য ওঠে, তখন সেখানকার তাপমাত্রা প্রায় ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যায়। আবার রাত হলে তাপমাত্রা -১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-২৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত নেমে যায়। এই চরম তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে পৃষ্ঠের শিলাগুলো প্রসারিত ও সংকুচিত হয়, যা ছোট ছোট কম্পনের জন্ম দেয়। এটা অনেকটা গরমের দিনে সিমেন্টের দেয়ালে ফাটল ধরার মতো।

অ্যাপোলো মিশনের সিসমোমিটারগুলো থেকে পাওয়া চন্দ্রকম্পনের ডেটা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা চাঁদের অভ্যন্তরে বরফের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এই কম্পনের তরঙ্গগুলো বরফের মধ্য দিয়ে ভিন্নভাবে চলাচল করে, যা বিজ্ঞানীদের বরফের অবস্থানের বিষয়ে ধারণা দিয়েছে।

পৃথিবীর ভূমিকম্প হয় প্রধানত টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে। কিন্তু চাঁদে কোনো টেকটোনিক প্লেট নেই। তাই সেখানে যে কম্পনগুলো হয়, তার কারণগুলো ভিন্ন। যেমন, উল্কাপিণ্ডের আঘাত বা পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টানের প্রভাব।

চাঁদের ভূতত্ত্ব মঙ্গলের ভূতত্ত্বের সাথে অনেকটা মেলে। চন্দ্রকম্পনের উপর গবেষণা করে আমরা মঙ্গলের অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি। কারণ বর্তমানে মঙ্গলেও ভূমিকম্প (Marsquakes) গবেষণা চলছে।

26/09/2025

#স্ট্রোক সাধারণত বাথরুমেই বেশি হয়ে থাকে কেন?

স্ট্রোক সাধারণত বাথরুমেই বেশি হয়ে থাকে কারন,বাথরুমে ঢুকে গোসল করার সময় আমরা প্রথমেই মাথা এবং চুল ভেজাই যা একদম উচিৎ নয়। এটি একটি ভুল পদ্ধতি।

এইভাবে প্রথমেই মাথায় পানি দিলে রক্ত দ্রুত মাথায় উঠে যায় এবং কৈশিক ও ধমনী একসাথে ছিঁড়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ ঘটে স্ট্রোক অতঃপর মাটিতে পড়ে যাওয়া।

কানাডার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ট্রোক বা মিনি স্ট্রোকের কারণে যে ধরনের ঝুঁকির কথা আগে ধারণা করা হতো, প্রকৃতপক্ষে এই ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও ভয়াবহ।

বিশ্বের একাধিক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, গোসলের সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, গোসল করার সময় কিছু নিয়ম মেনে গোসল করা উচিত।

সঠিক নিয়ম মেনে গোসল না করলে হতে পারে মৃত্যুও। গোসল করার সময় প্রথমেই মাথা এবং চুল ভেজানো একদম উচিৎ নয়। কারণ, মানুষের শরীরে রক্ত সঞ্চালন একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হয়ে থাকে। শরীরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় প্রথমেই পানি দিলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত সঞ্চালনের গতি বহু গুণ বেড়ে যায়। সেসময় বেড়ে যেতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

তা ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত রক্তচাপের ফলে মস্তিষ্কের ধমনী ছিঁড়ে যেতে পারে।
#গোসলের সঠিক নিয়মঃ-

প্রথমে পায়ের পাতা ভেজাতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে উপর দিকে কাঁধ পর্যন্ত ভেজাতে হবে। তারপর মুখে পানি দিতে হবে। সবার শেষে মাথায় পানি দেওয়া উচিত।

এই পদ্ধতি যাদের উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং মাইগ্রেন আছে তাদের অবশ্যই পালন করা উচিৎ।

এই তথ্যগুলো বয়স্ক মা-বাবা এবং আত্মীয় পরিজনদের অবশ্যই জানিয়ে রাখুন।

26/09/2025

আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ – কিলিমাঞ্জারো...😲😲

🔸 আফ্রিকার তানজানিয়ায় অবস্থিত কিলিমাঞ্জারো পর্বত মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যার উচ্চতা প্রায় ৫,৮৯৫ মিটার (১৯,৩৪১ ফুট)। এটি একটি নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যার গঠন হয়েছে তিনটি প্রধান শঙ্কু দ্বারা—

1. কিবো (Kibo) – সবচেয়ে উঁচু ও বরফে ঢাকা অংশ
2. মাওয়েনজি (Mawenzi)
3. শিরা (Shira)

🔸 কিলিমাঞ্জারোকে প্রায়ই "আফ্রিকার ছাদ" বলা হয়। বিশেষত্ব হলো, এটি বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম স্বতন্ত্র পর্বতশৃঙ্গ (standalone mountain), অর্থাৎ এটি কোনো পর্বতমালার অংশ নয়। এর বরফঢাকা চূড়া, বিশাল তৃণভূমি ও ঘন বনভূমি একে প্রকৃতির এক অপূর্ব বিস্ময়ে পরিণত করেছে।

🔸 পর্বতের পাদদেশে রয়েছে উষ্ণমণ্ডলীয় বৃষ্টি-অরণ্য, তার উপরে রয়েছে সাভানা তৃণভূমি, আর সবচেয়ে ওপরে রয়েছে বরফ ও হিমবাহ। কিলিমাঞ্জারোর হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে, এবং বিজ্ঞানীরা মনে করছেন আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এগুলো সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যেতে পারে।

🔸 এটি UNESCO World Heritage Site এবং প্রতি বছর হাজার হাজার অভিযাত্রী এখানে চূড়া জয়ের উদ্দেশ্যে আসেন। কিলিমাঞ্জারো শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় থাকে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

মিরপুর, ঢাকা উত্তর।
Dhaka