23/05/2026
শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন [রহিমাহুল্লাহ]
> নাম ও বংশপরিচয়
তিনি ফযীলাতুশ শাইখ, আল-আলিমুল মুহাক্কিক, ফকীহ, মুফাসসির, আল্লাহভীরু ও দুনিয়াবিমুখ একজন ব্যক্তিত্ব—মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান। বনু তামীম গোত্রের উসাইমীন পরিবারে তাঁর জন্ম।
তিনি সৌদি আরবের আল-কাসীম অঞ্চলের উনাইযাহ শহরে ১৩৪৭ হিজরী সনের রমাযান মাসের সাতাশতম রাতে জন্মগ্রহণ করেন।
> শিক্ষাজীবন
বাল্যকালে কুরআনুল কারীম শেখার জন্য তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর নানা আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আদ-দামিগ-এর নিকট রেখে আসেন। এরপর তিনি উস্তায আব্দুল আযীয বিন সালিহ আদ-দামিগ-এর মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি লেখা, প্রাথমিক পর্যায়ের গণিত এবং আরবি সাহিত্য বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন।
এরপর তিনি আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-শাহীতান-এর মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি কুরআনুল কারীম হিফয করা শুরু করেন এবং তাঁর বয়স চৌদ্দ অতিক্রম করার পূর্বেই তা সম্পন্ন করেন।
কুরআনুল কারীম হিফযের পর পিতার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি শারঈ ইলম অর্জনের যাত্রা শুরু করেন। তাঁর ইলম অর্জনের এই মহিমান্বিত যাত্রায় তিনি প্রধানত উনাইযাহ শহরের ‘আল-জামেউল কাবীর’-এ শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট ইলম অর্জন করেন। এর পূর্বে তিনি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয আল-মুতাউয়ী-এর হালাকায় উপস্থিত হতেন; সেখানে তিনি তাওহীদ, ফিকহ এবং নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ে ইলম অর্জন করেন।
এর পর থেকে তিনি নিয়মিত শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ]-এর হালাকায় বসতেন। তাঁর নিকট তিনি তাফসীর, হাদীস, সীরাত, তাওহীদ, ফিকহ, উসূলে ফিকহ, ফারায়িয ও নাহু বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন এবং এই বিষয়গুলোর উপর রচিত বহু কিতাব মুখস্থ করেন।
শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ]-কে তাঁর প্রধান শিক্ষক হিসেবে গণ্য করা হয়; কারণ তিনি তাঁর নিকট থেকেই সর্বাধিক ইলম অর্জন করেছেন। তিনি তাঁর অধ্যাপনা, দলীল গবেষণা ও দ্বীনি বিভিন্ন বিষয়ে শাইখ সাদীর মানহাজ অনুসরণ করেছেন এবং সেই মানহাজকে আরও মযবুত করেছেন।
শাইখ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন আওদান উনাইযাহ শহরে বিচারক থাকাকালীন তাঁর নিকট তিনি ফারায়িয বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। একইভাবে শাইখ আব্দুর রাযযাক আফীফী যখন উনাইযাহ শহরে শিক্ষকতায় নিযুক্ত ছিলেন, তখন তাঁর নিকট থেকে তিনি নাহু ও বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ে দারস গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে রিয়াদ শহরে যখন আল-মাহাদ আল-ইলমী প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শাইখ আলী বিন হামাদ সালিহী তাঁকে সেখানে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। অতঃপর শাইখ এ বিষয়টি নিয়ে তাঁর উস্তায শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ]-এর সাথে পরামর্শ করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতি গ্রহণ করে সেখানে ভর্তি হন। সেখানে তিনি ১৩৭২-১৩৭৩ হিজরী দুই বছর অধ্যয়ন করেন।
এই দুই বছরে তিনি তাঁর ইলমের পরিধিকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হন। কারণ, সেখানে বড় বড় আলিমগণ নিয়মিত দারস প্রদান করতেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আল্লামা মুফাসসির শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতী [রহিমাহুল্লাহ], শাইখ ফকীহ আব্দুল আযীয বিন নাসির বিন রশীদ এবং শাইখ মুহাদ্দিস আব্দুর রহমান আফ্রিকী [রহিমাহুল্লাহ]।
রিয়াদে থাকাকালীন তিনি শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায [রহিমাহুল্লাহ]-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। মসজিদে বসে তাঁর নিকট সহীহুল বুখারী ও শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ [রহিমাহুল্লাহ]-এর বিভিন্ন গ্রন্থের উপর দারস গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তাঁর নিকট হতে তিনি বৈচিত্র্যপূর্ণ ফিকহী মাসআলায় সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং এ ধরনের মাসআলায় সমন্বয় সাধনের কৌশল অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে রপ্ত করেন। শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ]-এর পরে যাঁর মাধ্যমে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন, তিনি হলেন শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায [রহিমাহুল্লাহ]।
১৩৭৪ হিজরীতে শাইখ পুনরায় উনাইযাহ শহরে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তাঁর উস্তায শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ]-এর নিকট পড়াশোনা শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি কুল্লিয়াতুশ শারীইয়্যাহর সিলেবাস সামনে রেখে তাঁর অধ্যয়ন সমাপ্ত করেন। এর মধ্যেই সেই মাদরাসাটি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৩৭৭ হিজরীতে তিনি সেখান থেকে উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জন করেন।
> অধ্যাপনা
তাঁর উস্তায শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ] তাঁর মধ্যে এক বিশেষ ধরনের ইলমী প্রতিভা দেখতে পান, তাই তিনি তাঁকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হওয়ার উৎসাহ যোগাতেন। উস্তাযের ইচ্ছানুসারে তিনি ১৩৭০ হিজরী থেকে উনাইযাহর আল-জামেউল-কাবীর মসজিদে দারস প্রদান শুরু করেন, অথচ তখনও তিনি তাঁর শাইখের দারসে বসতেন।
বলা বাহুল্য যে, তিনি রিয়াদে অবস্থিত আল-মাহাদুল ইলমী থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর ১৩৭৪ হিজরীতে উনাইযাহ শহরে অবস্থিত আল-মাহাদুল ইলমীতে শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হন।
১৩৭৫ হিজরীতে তাঁর শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী [রহিমাহুল্লাহ] ইন্তিকাল করেন। ফলে আল-জামেউল-কাবীর মসজিদের অধ্যাপনার মূল দায়িত্বভার তাঁর কাঁধে অর্পিত হয় এবং সেখানে দুই ঈদের সলাত তাঁকেই পড়াতে হতো। ১৩৫৯ হিজরীতে তাঁর উস্তায শাইখ সাদী [রহিমাহুল্লাহ] আল-জামেউল-কাবীর মসজিদের অধীনে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। শাইখ উসাইমীন [রহিমাহুল্লাহ] তাঁর উস্তাযের ন্যায় সেই লাইব্রেরিতেও দারস প্রদান শুরু করেন।
ধীরে ধীরে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, একপর্যায়ে লাইব্রেরিতে তাদের সংকুলান অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই তিনি লাইব্রেরির দারসকে স্থানান্তরিত করে আল-জামেউল-কাবীর মসজিদে নিয়ে আসেন। এখানেও ছাত্রসংখ্যা বাড়তে থাকে; সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্ররা দল বেঁধে তাঁর দারসে যুক্ত হতো। তাঁর একেকটি দারসে শত শত ছাত্র উপস্থিত হতো। তারা সকলে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাঁর দারস শ্রবণ করত এবং উপকৃত হতো। তাঁর মৃত্যু অবধি তিনি আল-জামেউল-কাবীর মসজিদে ইমাম, খতীব এবং শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
শাইখ ১৩৭৪ হিজরী থেকে ১৩৯৮ হিজরী পর্যন্ত উনাইযাহ শহরের আল-মাহাদুল ইলমীতে শিক্ষক হিসেবে বহাল ছিলেন। অতঃপর তিনি আল-কাসীম অঞ্চলে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাখা) শিক্ষকতা পেশায় অবতীর্ণ হন এবং মৃত্যু অবধি সেখানেই ছিলেন। তাছাড়া তিনি ১৪০২ হিজরী থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি হাজ্জের মৌসুমে, রমাযান মাসে এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে দারস প্রদান করেছেন।
ছাত্রদের দারস দেওয়ার সময় তিনি অত্যন্ত চমৎকার সব পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। নিজেকে উজাড় করে দিতেন। এজন্যই তাঁর সফলতা এতটা ব্যাপক। ইলমী বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ছাত্রদের সাথে পর্যালোচনা করতেন, সেসব বিষয়ে তাদের থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলোর সদুত্তর প্রদান করতেন। প্রতিটি দারস সুচিন্তিতভাবে অত্যন্ত সাবলীল ও বলিষ্ঠ ভাষায় প্রদান করতেন। এ কারণে তাঁর ইলম এত ব্যাপক পরিসরে বিস্তার লাভ করেছে এবং মানুষ তাঁকে এতটা কাছে টেনে নিয়েছে।
> ইলমী অবদান
তিনি সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ইলমী ময়দানে খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। শিক্ষকতা, বক্তৃতা, দিকনির্দেশনা প্রদান, দ্বীনি সভায় বক্তব্য রাখাসহ বিভিন্নভাবে মানুষকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিয়েছেন। বিশেষ করে তিনি গ্রন্থ রচনা, জটিল ফাতওয়া প্রদান এবং জনমনে উদিত নানা প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। এসব বিষয়ে তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে; পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন আলোচনা, বক্তৃতা, ফাতওয়া, খুতবা এবং রেডিও প্রোগ্রাম। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য, খুতবা, সাক্ষাৎকার ও দারসগুলোর অডিও রেকর্ড বিদ্যমান যা সহস্র খণ্ড ছাড়িয়ে যাবে। তাতে রয়েছে কুরআনুল কারীমের তাফসীর, হাদীসের ব্যাখ্যা, আল্লাহর রসূলের সীরাত, বিভিন্ন মূলগ্রন্থ ও ছন্দোবদ্ধ কিতাবের ব্যাখ্যা এবং ইলমে নাহুর নীতিমালাসমূহ।
শাইখের যত গ্রন্থাবলী, রিসালাহ, দারস, বক্তৃতা ও সাক্ষাৎকার রয়েছে, সেগুলো প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। সেই নীতিমালাগুলো শাইখের পক্ষ থেকেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ‘মুয়াসসাসাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন আল-খাইরিয়্যাহ’ পূর্ণ দায়িত্বশীলতার সাথে সেই নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন করে তাঁর ইলমী খিদমতসমূহ প্রচার ও প্রসার করার এই মহান উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
তারই অংশ হিসেবে শাইখের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট প্রস্তুত করা হয়েছে। তাতে তাঁর রেখে যাওয়া সমস্ত খিদমত লিখিত ও অডিওর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে সকলেই অধিক হারে উপকৃত হতে পারে।
>অন্যান্য খিদমত
শিক্ষকতা, গ্রন্থ রচনা, ইমামতি, খুতবা ও ফাতওয়া প্রদানের পাশাপাশি তাঁর আরও বেশ কিছু খিদমত ছিল, তন্মধ্যে:
* তিনি ১৪Check হিজরী থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ-এর সদস্য ছিলেন।
* ১৩৯৮ থেকে ১৪০০ হিজরী পর্যন্ত তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
* ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কাসীম শাখায় তিনি শারীইয়্যাহ ও উসূলে দ্বীন অনুষদের সদস্য ছিলেন এবং আকীদা বিভাগের প্রধান ছিলেন।
* উনাইযাহ শহরে অবস্থিত আল-মাহাদুল ইলমীতে শিক্ষকতার শেষ দিকে তিনি সমস্ত ইলমী ইনস্টিটিউটের পরিকল্পনা ও কারিকুলাম বিশেষ বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন এবং কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন, যেগুলো সকল ইনস্টিটিউটের পাঠ্য সিলেবাস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
* তিনি ১৩৯২ হিজরী থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হাজ্জ মৌসুমে শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এই মৌসুমে তিনি মক্কা এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে দারস, বক্তৃতা এবং শারীঈ মাসায়েল বর্ণনা করতেন।
* উনাইযাহ শহরে ১৪০৫ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত জামঈয়াতু তাহফীযিল কুরআনিল কারীম আল-খাইরিয়্যাহ-এর সূচনালগ্ন থেকে তিনি এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং মৃত্যু অবধি এই পদে বহাল ছিলেন।
* তিনি সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত অসংখ্য আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশার মানুষের সম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছেন। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে টেলিফোনের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন।
* সৌদি আরবের যে সমস্ত প্রাজ্ঞ আলিমগণ আকীদা ও দ্বীনি বিধিবিধান সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর প্রদান করতেন, তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি সৌদি আরবের রেডিওতে প্রচারিত বিভিন্ন চ্যানেলে প্রশ্নোত্তর প্রদান করতেন, যার মধ্যে ‘নূরুন আলাদ দারব’ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।
* তিনি প্রশ্নকারীদের উত্তর প্রদানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন; সরাসরি, লিখিত আকারে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন।
* তাঁর নিকট তালিকাভুক্ত নির্ধারিত কিছু স্থান ছিল, যেখানে তিনি বিভিন্ন মেয়াদে ইলমী দারস প্রদান করতেন—কোথাও সাপ্তাহিক, কোথাও মাসিক আবার কোথাও বাৎসরিক।
* তিনি সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বেশ কিছু কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন।
* শাইখ দুটি কাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন: ক. শিক্ষা (সুশিক্ষার প্রসার করা); খ. মানুষকে সদুপদেশ প্রদান। তাই তিনি ছাত্রদের দিকনির্দেশনা দিতেন যেন তারা ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পন্থা অবলম্বন করে এবং কঠোর পরিশ্রম করে। ইলম অন্বেষণে তাদের আগ্রহ বৃদ্ধিতে কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে তাদের দারস প্রদান করতেন ও তাদের প্রশ্নের সদুত্তর দিতেন। এককথায় ছাত্রদের প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করার চেষ্টা করতেন।
* নানা ধরনের কল্যাণমূলক, পরোপকারী ও দুঃস্থদের প্রয়োজন মেটানোর কাজে শাইখের বিশেষ খিদমত ছিল। পারস্পরিক কলহ মিটিয়ে দিতেন এবং তাদের সত্যবাদী ও মুখলিস হওয়ার উপদেশ প্রদান করতেন।
>ইলমী দক্ষতা
আল্লাহ তাআলা যাঁদেরকে দলীল বোঝা, সে অনুযায়ী আমল করা, কিতাব ও সুন্নাহ গবেষণা করে মাসআলা-মাসায়েল ও আহকাম উদ্ঘাটন করা এবং আরবি ভাষার অন্তর্নিহিত অর্থ ও অলঙ্কার উন্মোচন করার মতো যোগ্যতা দান করেছেন, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
মানুষ যখন তাঁর মধ্যে এই প্রশংসনীয় গুণাবলীগুলো প্রত্যক্ষ করল এবং তাঁর ইলম অনুযায়ী আমল করার ব্যাকুলতা দেখতে পেল, তখন থেকেই তাঁকে অন্তরের গভীর থেকে ভালোবাসতে ও শ্রদ্ধা করতে শুরু করল। আল্লাহ তাআলা সর্বমহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে দিয়েছেন। তাই সকলেই ফিকহী মাসআলায় তাঁর সমাধান গ্রহণ করে তৃপ্তি পেত এবং তাঁর সকল দারস ও ইলমী খিদমত গ্রহণের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকত।
ইসলামের জন্য তাঁর অনবদ্য খিদমতের কারণে ১৪১৪ হিজরীতে তাঁকে আন্তর্জাতিক ‘কিং ফয়সাল পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়। কমিটি তাঁর মহান চরিত্র, রব্বানী আলিমের গুণাবলী, আল্লাহভীতি, উদারতা এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করে।
> সন্তান-সন্ততি
তাঁর পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলেরা হলেন: আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান, ইব্রাহীম, আব্দুল আযীয এবং আব্দুল রহীম।
> মৃত্যু
শাইখ ১৪২১ হিজরীর শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখ বুধবার মাগরিবের কিছুক্ষণ পূর্বে জেদ্দায় ইন্তিকাল করেন। পরের দিন বৃহস্পতিবার আসরের সলাতের পর মসজিদুল হারামে হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশে তাঁর জানাযা সম্পন্ন করা হয়, অতঃপর তাঁকে মক্কায় দাফন করা হয়।
পরের দিন জুমআর সলাতের পর সৌদি আরবের প্রতিটি শহরে তাঁর গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
আল্লাহ আমাদের শাইখকে নেককারদের প্রতি যে রহমত বর্ষিত হয়, তা দান করুন। তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তিনি যা পেশ করেছেন তার সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
---
শিক্ষা বিষয়ক কমিটি— শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন দাতা সংস্থা