22/09/2026
এটি একটি সত্য ঘটনা যা ২০১৮ সালে ঘটছে বাংলাদেশি এক মেয়ের সাথে। সামনে করুন কঠিন কাহিনী আছে।
যা আপনার কল্পার বাহিরে।
সমস্ত ঘটনা জানতে আমার এই পেজটাকে যারা ফলো দেন নাই তারা ফলো দিয়ে রাখবেন। তা না হলে পরবর্তী পর্ব খুঁজে পাবেন না।
পেজ
সত্য _ ঘটনা _অবলম্বনে _১
সংগৃহীত
সত্য_ ঘটনা_ অবলম্বনে_২
সেদিন রাতটা আমি কোনোভাবেই ভুলতে পারব না।
হ্যারি ভিডিও কলে হঠাৎ বলেছিল— “Show me something… I want to see you fully…”
ওর কণ্ঠে একটা অদ্ভুত আবেশ ছিল, চোখ দুটোতে কেমন যেন গভীর আকর্ষণ ঝলমল করছিল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম মজা করছে, কিন্তু তার পরের কথাগুলো শুনে আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠেছিল।
আমি বললাম,
— “What do you mean?”
ও হেসে বলল,
— “You know what I mean, sweetheart…”
আমার গাল লাল হয়ে উঠল। আমি ভিডিও অফ করে ফেললাম সঙ্গে সঙ্গে। হ্যারি একটু অবাক হয়ে গেল, তারপর মেসেঞ্জারে লিখল,
— “Sorry, I was just joking. Please don’t be angry.”
আমি কিছুক্ষণ পর উত্তর দিলাম, “It’s okay. But don’t say that again.”
তারপর ঘুমানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু ঘুম এল না। মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত টান কাজ করছিল। আমি ভাবছিলাম, বিদেশি ছেলে তো, ওদের দেশে এসব স্বাভাবিক। কিন্তু আমি তো বাংলাদেশি মেয়ে, আমাদের সমাজ, আমাদের সংস্কৃতি আলাদা। তবুও জানি না কেন, ওর সেই কথাগুলো আমার মাথা থেকে যাচ্ছিল না।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি হ্যারি আবার মেসেজ দিয়েছে,
— “Good morning my beautiful Lyna. I couldn’t sleep last night thinking about you.”
মেসেজটা দেখে বুকের ভেতরটা নরম হয়ে গেল। একটা অজানা সুখ লাগল মনে। আমার বান্ধবী তানিয়া বলেছিল,
— “লিনা, সাবধান! বিদেশি ছেলেরা খুব মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু সব মিষ্টি জিনিস খেলে ভালো লাগে না।”
আমি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম, “না রে তানিয়া, হ্যারি অন্যরকম। ও আমার প্রতি খুবই সিরিয়াস।”
এরপর থেকে হ্যারি প্রতিদিন সকালে আমাকে শুভ সকাল জানাতো, রাতে ঘুমানোর আগে বলতো “Good night my love.”
দিন গড়িয়ে সপ্তাহ, সপ্তাহ গড়িয়ে মাস চলে গেল। আমাদের সম্পর্ক গভীর হতে লাগল।
হ্যারি আমাকে প্রায়ই বলত,
— “I will come to Bangladesh one day, only to meet you.”
এই কথা শুনে আমার বুক ধক করে উঠত। কল্পনায় আমি ভাবতাম, হয়তো সত্যিই ও আসবে, আমরা দুজন একসাথে কোথাও ঘুরব।
একদিন হঠাৎ ওর ভিডিও কল এল দুপুরে। আমি তখন বাসায় একা, মা বাজারে গেছে। কল রিসিভ করতেই দেখি ও বিছানায় বসে আছে, শরীরে একটা সাদা টি-শার্ট, চুল এলোমেলো।
ও হেসে বলল,
— “You look so pretty today.”
আমি বললাম,
— “You always say that.”
ও উত্তর দিল,
— “Because it’s true.”
তারপর কিছুক্ষণ নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকল। আমি একটু অস্বস্তি বোধ করছিলাম।
ও হঠাৎ বলল,
— “Lyna, do you trust me?”
আমি একটু থেমে বললাম, “Yes, of course.”
ও বলল,
— “Then show me your heart… show me the real you.”
এই কথাটা শুনে আমি কেমন যেন অবাক হলাম। বললাম, “What do you mean by real me?”
ও শুধু হেসে বলল,
— “You know what I mean, my sweet girl.”
আমি কিছুক্ষণ চুপ রইলাম, তারপর বললাম, “No, I can’t.”
ওর মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
— “You don’t love me, that’s why.”
এই কথাটা আমার বুকের ভেতরে বাজলো যেন।
আমি ভীষণ কষ্ট পেলাম। ভাবলাম, ও এত কিছুর পরেও আমাকে সন্দেহ করছে? ওর জন্য তো আমি কত রাত জেগেছি, কত অনুভূতি শেয়ার করেছি!
আমি বললাম, “Don’t say that, Harry. I really love you.”
ও বলল, “Then prove it.”
আমি জানি না কী ভেবে তখন নিজের ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলাম— একটু খোলামেলা, কিন্তু পুরো নয়।
ওর রিয়্যাকশন ছিলো অবাক করা। সঙ্গে সঙ্গে লিখল,
— “You are the most beautiful woman I’ve ever seen.”
আমি কেমন যেন গলে গেলাম।
তারপর থেকে ও প্রায়ই এরকম চায়।
প্রথম প্রথম আমি অস্বস্তি পেতাম, কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাই।
একদিন তো ও বলল,
— “If you love me, let’s do something private on video…”
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। বললাম, “No, Harry! Please don’t ask me that.”
ও হেসে বলল, “Okay okay, calm down. I was just kidding.”
কিন্তু আমার ভিতরটা তখন কেমন যেন ভেঙে পড়েছিল।
রাতে অনেক ভেবে দেখলাম, ওর কথাগুলো এখন আর আগের মতো নির্দোষ লাগে না।
হয়তো ও সত্যিই আমাকে ভালোবাসে না, কেবল শরীরের জন্য আগ্রহী।
পরদিন সকালে ওর কল এল, আমি ধরিনি। ও বারবার মেসেজ দিচ্ছে,
— “What happened? Are you angry?”
আমি উত্তর দিলাম না।
সন্ধ্যায় ও লিখল,
— “I sent you something in your account.”
আমি অবাক হলাম। ব্যাংক অ্যাপে লগইন করে দেখি সত্যিই প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।
ও মেসেজ দিল,
— “Buy something for yourself, my love. Don’t be sad.”
আমি কেমন করে যেন শান্ত হলাম। মনে হলো— না, ও হয়তো খারাপ না। ভালোবাসলে কেউ তো এমন উপহার দেয়, তাই না?
কিন্তু আমার ভেতরে একটা ভয় জন্ম নিল।
লোভ আর ভালোবাসার মাঝের সীমারেখাটা বুঝতে পারছিলাম না।
দিন বাড়তে লাগল। আমার পড়াশোনা শেষের দিকে। একদিন হ্যারি বলল,
— “After your final exam, I will send you an invitation letter. You can come to Germany.”
আমার চোখে যেন নতুন স্বপ্ন জ্বলতে শুরু করল। ভাবলাম, হয়তো ও সত্যিই আমাকে বিয়ে করবে!
আমি মাকে বলেছিলাম, “মা, হ্যারি আমাকে জার্মানি নিতে চায়।”
মা হেসে বলল, “বাবা-মা সবসময় তো বিদেশে ছেলে দেখে মেয়েকে দিতে চায়, যদি ভাগ্য থাকে তো হয়েই যাবে।”
কিন্তু বাবা বলেছিলেন, “এইসব ভার্চুয়াল প্রেম কখনো বাস্তব হয় না। সাবধান থেকো।”
আমি বাবার কথা শুনিনি।
একদিন হঠাৎ হ্যারি বলল,
— “To process the visa, I need some personal documents of you. Your passport copy, your NID, your picture.”
আমি একটু ভয় পেলাম। তবুও ওকে বিশ্বাস করতাম, তাই পাঠিয়ে দিলাম।
তারপর কয়েকদিন হ্যারি নিখোঁজ।
মেসেজে রিপ্লাই দিচ্ছে না, কল ধরছে না।
আমার বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠল। দিন যায়, রাত যায়, তবুও কোনো খবর নেই।
হঠাৎ একদিন সকালে একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এল।
একজন ভাঙা বাংলায় বলছে, “আপনি লিনা?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ, কে আপনি?”
ও বলল, “আমি হ্যারির বন্ধু। হ্যারি এখন বিপদে আছে।”
আমি আঁতকে উঠলাম, “কি হয়েছে?”
ও বলল, “ওর কম্পিউটার পুলিশ নিয়েছে, কারণ ওর কাছে কিছু মেয়েদের প্রাইভেট ভিডিও ছিল। আপনার নামও এসেছে।”
আমি যেন বরফ হয়ে গেলাম।
“কি বলছেন আপনি? আমি তো কিছু করিনি!”
ও বলল, “We know. But your pictures are there.”
মাথা ঘুরে গেল আমার। মনে হচ্ছিল পুরো দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।
আমি ফোন রেখে কেঁদে ফেললাম।
মনে হচ্ছিল, কত বড় ভুল করে ফেলেছি।
যে বিশ্বাস করেছিলাম, সে হয়তো আমার ভালোবাসাকে খেলনার মতো ব্যবহার করেছে।
রাতভর ঘুমাতে পারিনি।
পরদিন তানিয়ার কাছে সব খুলে বললাম।
তানিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— “বলেছিলাম না, বিদেশি ছেলেরা সবাই এক না, কিন্তু বেশিরভাগই এমন করে। তুমি ওকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করেছো।”
আমি চুপ করে ছিলাম।
এরপর থেকে আমি ফেসবুক বন্ধ করে দিলাম, ছবি সব ডিলিট করলাম।
হ্যারির সব মেসেজ মুছে ফেললাম।
কিন্তু হৃদয়ের ভেতরের ক্ষতটা যেন মুছে গেল না।
প্রতিদিন আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে মনে হতো,
“আমি কি এত বোকা ছিলাম?”
প্রেমের নামের এই অচেনা যাত্রা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিল—
ভালোবাসা কেবল কথায় নয়, বিশ্বাসে টিকে থাকে।
যেখানে বিশ্বাস ভাঙে, সেখানে প্রেম নয়, কেবল প্রতারণা বাঁচে।
তবুও জানি না কেন, আজও রাতের নিরবতায় ফোনের দিকে তাকিয়ে ভাবি—
হয়তো একদিন হ্যারি আবার কল দেবে, বলবে—
“Sorry Lyna, I really loved you…”
কিন্তু জানি, সে কল আর কোনোদিন আসবে না।