04/03/2025
দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব
সপ্তপর্ণ গিরির অরণ্যে যখন অশুভ শক্তির আধিপত্য ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল, দেবতারা তখন মহাশক্তির আবাহন করলেন। তাঁদের আহ্বানে আদ্যাশক্তি মহামায়া নিজেই প্রকাশ পেলেন দেবী কৌশিকীর রূপে। তাঁর রূপ অপরূপ, জ্যোতির্ময়, এবং তিনি শ্বেতবসনা পরিহিতা। তাঁর আগমনেই চারিদিকে শুভশক্তির প্রবাহ সৃষ্টি হলো।
দৈত্যরাজ শুম্ভ ও নিশুম্ভ তখন স্বর্গলোকে অত্যাচার চালাচ্ছিল। দেবতাদের শক্তিহীন করে, তারা স্বর্গের অধিপতি হয়েছে। বিষ্ণু, ব্রহ্মা এবং মহেশ্বর দেবগণ দেবী কৌশিকীর শরণ নিলেন। দেবী তখন বললেন, "যখন সময় আসবে, আমি নিজেই তাঁদের বিনাশ করব।"
শুম্ভ ও নিশুম্ভ দেবী কৌশিকীর অপার সৌন্দর্যের কথা শুনে তাঁকে বশে আনার অভিপ্রায় করল। তারা চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই রাক্ষসকে প্রেরণ করল দেবীর কাছে। কিন্তু দেবী ক্রোধে তাঁদের ভস্ম করে দিলেন। এরপর অসুরদের প্রধান সেনাপতি ধূম্রলোচন দেবীর সঙ্গে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো। দেবী একমাত্র ধ্বনির মাধ্যমে তাকে ভস্ম করে দিলেন।
অবশেষে শুম্ভ ও নিশুম্ভ স্বয়ং যুদ্ধের ময়দানে এল। এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হল। দেবী তাঁর দশ হাতে শূল, চক্র, ত্রিশূল, গদা, ধনুর্বাণ ধারণ করলেন। তাঁর তেজে আকাশ বিদীর্ণ হলো। একে একে দেবী প্রথমে নিশুম্ভ এবং পরবর্তীতে শুম্ভকে পরাজিত করলেন।
যুদ্ধশেষে দেবতারা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন এবং বললেন, "হে দেবী, তুমি আমাদের রক্ষা করেছ, তোমার কৃপাই আমাদের শক্তি।" দেবী কৌশিকী হাস্যকর হোন এবং বললেন, "অসুরদের বিনাশ তখনই হয়, যখন ধর্মের উপর বিশ্বাস অটুট থাকে।" এরপর তিনি মহাশক্তির রূপ ধারণ করে মহাকাশে লীন হলেন।
এভাবেই দেবী কৌশিকী জগতে ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করলেন, আর দেবতারা পুনরায় স্বর্গের অধিপতি হলেন।