24/08/2026
রোদে পোড়া আর বৃষ্টিতে ভেজা এক ক্লান্ত বাবার গল্প এটি। সারাদিন রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে ইরার বাবা হাফিজ উদ্দিন আয় করেন মাত্র ৩৫০ টাকা। এই সামান্য ক'টি টাকার ওপরই ঝুলে থাকে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এর ওপর ইরার বড় বোন জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, যার জন্য অভাবের এই সংসারে প্রতিনিয়ত করতে হয় বাড়তি খরচ।
এমন একটি পরিবার, যেখানে দু'বেলা দু'মুঠো খাবার জোগাড় করাই এক বিশাল যুদ্ধ, সেখানে সন্তানের লেখাপড়ার কথা ভাবাটা যেন রীতিমতো এক বিলাসিতা! দারিদ্র্যের এই নিষ্ঠুর আঁধারে ছোট্ট ইরার ভবিষ্যৎটাও হয়তো একসময় থমকে যেত।
কিন্তু সব হতাশার মেঘ কাটিয়ে হাফিজ উদ্দিনের পরিবারে আশার আলো হয়ে আসে ‘শিশুকানন প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এই স্কুলে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পেয়ে ইরার বাবার কপালের চিন্তার ভাঁজগুলো যেন কিছুটা হলেও মলিন হয়ে যায়। অভাবের শেকল ভেঙে ছোট্ট পা ফেলে প্রতিদিন এক কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যায় ইরা। তার এই হাঁটায় কোনো ক্লান্তি নেই, আছে শুধু আকাশছোঁয়া এক স্বপ্ন পূরণের জেদ।
যে শিশুটি নিজে প্রতিদিন অভাবকে খুব কাছ থেকে দেখছে, সে আজ স্বপ্ন দেখে মানুষের সেবা করার। ছোট্ট ইরা দৃঢ় কণ্ঠে বলে ওঠে— "ডাক্তার হয়ে আমি আমার গ্রামে একটা হাসপাতাল বানাবো, যাতে গরিব মানুষেরা সহজে সেবা পায়।"
৩৫০ টাকার অভাবের কাছে হার না মানা এক অদম্য মেয়ের নাম ইরা। তার এই পথচলা শুধু একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার গল্প নয়; এটি একটি পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, অন্ধকার থেকে আলোতে ফেরার এক অনুপ্রেরণাদায়ক সফলতার গল্প। সঠিক সুযোগ পেলে দারিদ্র্য যে কোনোভাবেই মানুষের স্বপ্নকে বেঁধে রাখতে পারে না, ছোট্ট ইরা আজ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!
একটি স্পন্সরশিপ বা সহায়তার হাত ইরার মতো হাজারো শিশুর শিক্ষাযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং স্বপ্নপূরণের পথে আরও এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে।
সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন 01730-024033 অথবা ভিজিট করুন: https://mssbd.org/donation/
*(বিশেষ দ্রষ্টব্য: চাইল্ড সেফগার্ডিং পলিসির আওতায় শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে নাম ও ব্যক্তিগত পরিচয় পরিবর্তন করা হয়েছে।)*