আমার কাছে সুন্দরী বধু হওয়ার চেয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন নারী হওয়া উচিত। বধু তো শুধু স্বামীর বড়জোর শ্বশুরবাড়ির হওয়া যায়।যাদের দিনের পরিক্রমা হয়ে যায় সকালের দুপুরের রাতের রান্না।আর বিনোদন প্রিয় হলে বন্ধের দিনে বাইরে ঘুরতে যাওয়া।
যোগ্যতা সম্পন্ন নারী,,,সন্তানের মা। ( মা তো,মা,,ই হন। সবসময়ই সন্তানের পদপ্রদর্শক। তবে সবার দৃষ্টি স্বচ্ছ নয়।তাই কখনো দেখা যায় দূরদর্শী মার সন্তানদের জীবনের চিত্রটা ভিন্ন ।)অতএব বলাই যায় যোগ্যতা সম্পন্ন নারী সন্তানের মা, বাবার বাড়ির মেয়ে এবং সমগ্র জাতির একটা অংশ।এমন অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতি গঠনে এবং জাতির বিপদে অপর অংশ অর্থাৎ পুরুষের পেছনে পালাবে না। হবে সহযোগী।
আত্ম পরিচয় - atmo porichoy
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আত্ম পরিচয় - atmo porichoy, School, Kamrangir chor, Dhaka.
অফিস থেকে ফিরেই পৃথা হোয়াটসঅ্যাপ অন করল। স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে ইন্দ্রাণী একটা গ্রুপ বানিয়েছে সেখানে পৃথাকেও অ্যাড করেছে।
পৃথা 'হাই' লিখতেই রিমি বলল, "কিরে কেমন আছিস। ফেসবুকে তো দেখলাম তোর বর আর মেয়ের ছবি।
পৃথা লিখল, "ভালো আছি রে। তোরা সবাই ভালো তো!"
এক এক করে সকলেই গ্রুপে জমায়েত হয়ে পুরোনো দিনের গল্প শুরু করল।
গ্রুপ অ্যাডমিন ইন্দ্রাণী বলল, "তোদের সবাইকে একটা দারুণ খবর দেওয়ার আছে। তোদের রক্তিমাকে মনে আছে!"
পৃথা বলল," নারে, ঠিক মনে করতে পারছিনা।"
ইন্দ্রাণী ঝাঁঝিয়ে বলল, "জানতাম পারবিনা। ফার্স্ট গার্ল কি আর সবাইকে মনে রাখে! তাহলে পড়াশোনা টা করবে কে!"
বাকিরা সবাই পৃথাকে মনে করানোর চেষ্টা করে বলল, "আরে, ঐ মেয়েটা যে একটু পেছনের দিকে বসত। দেখতে সুন্দরী হলেও পড়াশোনায় একেবারেই মাথা ছিলনা।"
এবার পৃথার ঝাপসা কিছু স্মৃতি মনে পড়ল। সত্যিই তো একটি মেয়ে দুই বিনুনি ঝুলিয়ে পেছনের বেঞ্চে চুপটি করে বসে থাকত। পড়াশোনায় মাথা ছিলনা বলে কেউ খুব একটা কথা বলত না। তবে দেখতে ভারি মিষ্টি ছিল।
পৃথা বলল, "হ্যাঁ রে, এবার মনে পড়েছে। সেভাবে কোনোদিনো কথা বলিনি ওর সাথে। এই ও যেন কার সাথে প্রেম করত একটা! রোজ ছুটির সময় স্কুলের গেটের বাইরে ছেলেটা এসে দাঁড়িয়ে থাকত।"
ইন্দ্রাণী বলল, "হুমম... সুজিত। ওকেই তো বিয়ে করেছে। এবার আসল ঘটনা শোন।"
এতক্ষণ ধরে ইন্দ্রাণীর টাইপিং সকলের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল। "ধুর কি এত লিখছিস!" "ঘরের কত কাজ পড়ে আছে,তাড়াতাড়ি বল।"
অবশেষে বড়সড় একটা লেখা পোস্ট হল যার মর্মার্থ হল রক্তিমা বাড়ির অমতে ছেলেবেলার প্রেমিক সুজিতকে বিয়ে করেছিল। সুজিত নাকি কারখানায় ছোটখাটো একটা কাজ করত। কোনমতে সংসার চলত দুজনের। কিছুদিন পর হঠাৎই সুজিতের পায়ে মেশিন পড়ে গিয়ে দুটো পা কাটা গেল। এবার অভাবের সংসার চলবে কি করে! কিন্তু অবাক কান্ড যে এই ঘটনার কয়েকমাস পরেই রক্তিমা একটা বড় কর্পোরেট অফিসে চাকরি পেয়ে গেল। কোম্পানির গাড়ি এসে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে আবার নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। এলাহি ব্যাপার আর কি!
রক্তিমার এই ভোলবদল শুনে সবাই তিতিবিরক্ত হয়ে বলল, "ঐ গবেট মাথায় কি করে এতবড় চাকরি পেল! আমরা তো নাইন্টি পার্সেন্ট পেয়ে রান্নাঘরেই জীবনটা কাটিয়ে দিলাম!"
ইন্দ্রাণী একটা মুচকি হাসির ইমোজি দিয়ে বলল, "তাহলে তোরাই ভাব ওর কাজ টা কি! আমাদের পাশের পাড়ায় থাকে। রাতবিরেতে নাকি কাজ শেষ হয় ওর। সবাই তো যাতা বলে। কি আর বলব নিজের বন্ধু বলেও পরিচয় দিতেও লজ্জা হয়। ফেসবুকে আমাকে আবার রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল, আমি তো অ্যাকসেপ্টই করিনি।"
বাকিরা বলল," ভাগ্যিস বললি। আমাদেরকেও পাঠিয়েছে। এতসব না জানলে তো অ্যাকসেপ্টই করে নিতাম।"
পৃথা বলল, "এত তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে চাইলে তো এ ছাড়া আর কোন পথও খোলা নেই। ছিঃ কি করে পারে কে জানে! ভদ্রভাবেও তো সংসার চালানো যায় নাকি! ওর বরটার অবস্থা ভাব। সবকিছু জেনেও বলার উপায় নেই।"
বিদিতা বলল, "ছাড় তো! এদের কথা বলা মানে নিজের মেজাজ নষ্ট। আবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে! সাহস টা ভাব শুধু! একদম ওকে পাত্তা দিবিনা আর রাস্তায় দেখা হলেও কথা বলবিনা।"
পৃথা রাতে স্বামী তৃষাণকে রক্তিমার কথা বলায় তৃষাণ বলল, "ঐ মেয়েটি আবার তোমাদের গ্রুপে আছে নাকি!"
পৃথা হেসে বলল, "তুমি কি পাগল হলে নাকি! ওর সাথে আমরা কথা বলব!"
তৃষাণ বলল, "হুমম রাস্তায় দেখা হলেও কোথাও যেওনা কিন্তু ওর সাথে। মাথায় রেখো এরা ভালো মেয়ে নয়। কখন কি ঘটিয়ে ফেলবে ঠিক আছে নাকি!"
"আরে না না! আমার কি বুদ্ধিসুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে নাকি!"
পরের দিন পার্ক হোটেলে তৃষাণের একটা সেমিনার রয়েছে তাই আজ পৃথাকে আর অফিস ছুটির পর নিতে আসতে পারবেনা।
সেমিনারের জন্য রেডি হতে হতে তৃষাণ পৃথাকে বলল, "একটা ট্যাক্সি ধরে চলে এসো আজ। একটা দিনের ব্যাপার তো!"
এইকথা বলে বেরোতে যেতেই তৃষাণকে পিছু ডাকল পৃথা। "আরে তোমার ইনহেলারটা নিয়ে যাবে তো নাকি!"
তৃষাণ ঠোঁট কামড়ে বলল একদম ভুলে গিয়েছিলাম।
পৃথা বলল এটাও আবার হারিয়ে আসবে তোমাকে তো বিশ্বাস নেই! আজকাল তুমি এতো ভুলে যাও!"
তৃষাণ হেসে বলল, "আরে না না, আজ আর ভুল হবেনা।
আজ পৃথাকে একাই ফিরতে হবে। অফিসে কাজ করতে করতে লেটও হয়ে গেছে অনেকটা। আকাশের অবস্থাও ভালো নয়। ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করছিল পৃথা। হঠাৎই একটা ট্যাক্সি এসে ওর সামনে দাঁড়াল।
ট্যাক্সি থেকে একটি মেয়ে জানলার কাঁচ নামিয়ে ওকে বলল, "আয় উঠে আয়!"
পৃথা ভাবল কে রে বাবা!
মেয়েটি চেঁচিয়ে বলে উঠল, "আমি রক্তিমা! এবারে চিনতে পেরেছিস তো!"
রক্তিমা নামটা শুনে ওর দিকে এগিয়ে গেল পৃথা।
তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, "নারে আমি অন্যদিকে যাব তুই চলে যা।"
রক্তিমা হেসে বলল, "আমি তোকে নামিয়ে দিচ্ছি কোন অসুবিধে হবেনা। রাতও অনেক হয়েছে আর আকাশের অবস্থাও ভালো নয়। একা দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবেনা তোর। উঠে আয়!"
অগত্যা পৃথা অনিচ্ছাসত্বেও ট্যাক্সিতে উঠল।
পৃথা গাড়িতে বসতেই রক্তিমা বলল, "কতদিন পর তোদের সাথে দেখা বল তো! কি যে ভালো লাগছে। ফেসবুকে তোদের সবাইকে খুঁজে পেয়ে রিকোয়েস্টও পাঠিয়েছি।"
পৃথা রক্তিমার থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখেই বসেছিল।
স্কুলের গ্রুপটায় চুপিচুপি মেসেজ করল পৃথা- "আমি রক্তিমার সাথে এক গাড়িতে যাচ্ছি।"
সাথে সাথে উত্তর এল, "দুজনে একটা সেল্ফি তুলে পোস্ট কর। দেখি তো কেমন দেখতে হয়েছে মামনিকে!"
পৃথা বলল, "ধুর এভাবে বলা যায় নাকি!"
সবাই রেগে গিয়ে বলল, "খুব যায়! তুই বলেই দেখ না!"
পৃথা বাধ্য হয়ে আমতা আমতা করে বলল, "একটা সেলফি তুলি আয়, সবাইকে দেখাব।"
রক্তিমা হেসে বলল, "হ্যাঁ নিশ্চয়ই ! এই বলে পৃথার গা ঘেঁষে বসে ছবির জন্য পোজ দিল।"
ফটো তোলা হয়ে গেলে আবার যে যার জায়গায় ফিরে গেল।
রক্তিমা বলল, "আমাকে সবার খুব দেখার ইচ্ছে তাই না! আসলে খারাপ মেয়েদের দেখার কৌতূহল সামলানো খুব মুশকিল যে! ইন্দ্রাণী আমার পাশের পাড়ায় থাকে। আমাকে দেখলে ঘেন্নায় মুখ ঘুরিয়ে নেয়।"
পৃথা বলল, "না না, তুই এভাবে ভাবছিস কেন!"
"কিভাবে ভাবব বল! আমি তো সত্যিই খারাপ। শরীর বিক্রি করে খাই। তোদের মত তো পড়াশোনায় ভালো ছিলাম না। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করলাম। খুব টানাটানির সংসার হলেও ভালোবাসায় কোনো খামতি ছিলনা আমাদের। কিন্তু সেটাও সহ্য হলনা জানিস! হঠাৎ করেই অ্যাক্সিডেন্টে সুজিতের পা দুটো কাটা পড়ল। তারপর পরপর দুটো স্ট্রোক। কি করে এত চিকিৎসার খরচ চালাব! বাড়িতে গিয়ে বাবা মাকে সব বললাম। বাবা মা বলল সুজিতকে ছেড়ে চলে আসতে কিন্তু পারলামনা জানিস। ওর তো কেউ নেই আমি ছাড়া! একটা কাজ পাবার জন্য কতজনের কাছে যে গেছি তার ঠিক নেই। ইন্দ্রাণীর বরও তো কতবড় অফিসার। ইন্দ্রাণীর কাছে গিয়ে বললাম যে একটা কাজের খুব দরকার আমার, বড় বিপদে পড়েছি। কিন্তু তাও দিলনা। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিল। একটা পঙ্গু মানুষকে নিয়ে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়লাম। চিকিৎসা বন্ধ করে দিলে যে ওকে আর বাঁচাতে পারবনা। তারপর বাধ্য হয়ে এই পেশায় নামতে হল। এখন আমাকে রোজি নামেই সবাই চেনে। রক্তিমা হারিয়ে গেছে সেই কবেই।
পৃথা বলল, "সুজিত সব জানে!"
"হ্যাঁ রে সবটাই জানে। কিন্তু এটাও জানে রক্তিমা শুধুমাত্র ওকেই ভালোবাসে। নিজের শরীর বিক্রি করলেও মন বিক্রি করিনি কারোর কাছে।আমি যতক্ষণ বাড়িতে না ফিরি, ও না ঘুমিয়ে বসে থাকে। আমার জন্যে ওর ভালোবাসাটা না থাকলে হয়ত কবেই মরে যেতাম। এই জীবন কি কেউ সাধ করে বেছে নেয় বল! জানিনা ওকে কতদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারব! তবে মাঝে মাঝে তোদের সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করে যদিও বা জানি তোরা সবাই আমাকে এড়িয়ে চলিস। আমি কারোর খারাপ চাইনা রে। তোরা সবাই খুব ভালো থাক। কিন্তু একটা কথা কি জানিস যেসব ভদ্রলোকেরা আমাদের সাথে সময় কাটায় তারাই আবার বাড়িতে গিয়ে বউকে জড়িয়ে ধরে ভালো স্বামী হওয়ার অভিনয় করে।"
পৃথা ভাবছিল কখন গাড়ি থেকে নামবে। ছবিটা গ্রুপে পোস্ট করার পর কে কি কমেন্ট করল সেগুলোও তো দেখতে পাচ্ছেনা রক্তিমার চোখ এড়িয়ে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই নামবে ঠিক করল পৃথা। তৃষাণ যদি দেখে ফেলে তাহলে তো হয়ে গেল! হঠাৎ করেই গলাটা শুকিয়ে এল পৃথার। জলের বোতলটাও সাথে নেই। শুকনো কাশি শুরু হল পৃথার।
রক্তিমা ব্যস্ত হয়ে বলল, "কিরে শরীর খারাপ লাগছে নাকি তোর! জল খাবি একটু!"
নিজের ব্যাগ খুলে জলের বোতল বের করে রক্তিমা পৃথার হাতে দিল। জলটা খেয়ে যেন বাঁচল পৃথা। বোতলটা রক্তিমার হাতে ফেরত দিতে গিয়ে পৃথার চোখ গিয়ে পড়ল রক্তিমার ব্যাগে। তৃষাণের মত অবিকল একটা ইনহেলার রক্তিমার ব্যাগের মধ্যে দেখতে পেল পৃথা। বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল পৃথার। গলার কাছটা কেমন যেন শুকিয়ে আসছিল।
পৃথা চাপা গলায় বলল, "তুই ব্যাগে ইনহেলার রাখিস নাকি!"
রক্তিমা হেসে বলল, "ধুর,আমার নয় ওটা। আমার এক ক্লায়েন্টের। পার্ক হোটেলে গিয়েছিলাম। উনি এটা ফেলেই চলে গেলেন। আমি তাড়াতাড়ি ব্যাগে ভরে নীচে নামতে নামতে দেখি উনি বেরিয়ে গেছেন। আমি জানি এটা শরীর খারাপ হলে প্রয়োজন তাই ব্যাগে নিয়েই ঘুরছি যদি দেখা হয় ওনার সাথে।"
পৃথার মুখ থেকে আর কথা সরছিল না। হাত পা কেমন যেন আড়ষ্ট হয়ে আসছিল। এটা কি তাহলে তৃষাণের! কান্নাগুলো দলা পাকিয়ে গলার কাছে উঠে আসছিল। রক্তিমা কি তাহলে সবটা জেনেই ওকে এরকম বলছে! লজ্জায় ঘেন্নায় মাটিতে মিশে গেল পৃথা।
রক্তিমা পৃথার হাতদুটো ধরে বলল,"কি হয়েছে রে তোর! হঠাৎ করে চুপ করে গেলি যে! শরীর খারাপ লাগছে নাকি!"
পৃথা কোনোমতে নিজেকে সংযত করে বলল, "ইনহেলার টা আমায় দিয়ে দে। বলা যায়না ঐ লোকটার সাথে হয়ত আমার দেখা হলেও হতে পারে।"
রক্তিমা অবাক হয়ে বলল, "তুই কি করে চিনবি ওনাকে! কি বলতে চাইছিস আমি কিছু বুঝতে পারছিনা।"
পৃথা রক্তিমার হাত থেকে ইনহেলার টা নিয়ে গাড়ি থেকে নামার আগে রক্তিমার গালদুটো ধরে বলল, "ভালো থাকিস। তোর সাথে আজ দেখা না হলে হয়ত জীবনের অনেককিছুই অজানা থেকে যেত। চলি রে।"
তৃষাণ একবার ভুল করে অন্য কারোর ইনহেলার নিয়ে চলে আসায় খুব রেগে গিয়েছিল পৃথা। বলেছিল, "তুমি কি গো! অন্য কারোর জিনিষ ব্যবহার করতে আছে! কত জীবাণু থাকতে পারে তোমার কোনো আইডিয়া আছে! এই বলে পারমানেন্ট মার্কার দিয়ে ইনহেলারের গায়ে ছোট্ট করে ইংরেজি "টি" অক্ষর লিখে দিয়েছিল, যা আজ পৃথার চোখ এড়ায়নি।
পৃথা গাড়ি থেকে নেমে দেখল, অঝোরে বৃষ্টি নেমেছে। পৃথার দুচোখ আর প্রকৃতি যেন ধুয়ে মুছে দিচ্ছিল সবকিছু। বাড়ির কাছাকাছি এসে দেখল তৃষাণ ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে।
পৃথাকে দেখে বলল, "ছাতাটাও তো নিয়ে যাওনি আজ। তোমার জন্যই দাঁড়িয়ে ছিলাম।"
পৃথা এগিয়ে এসে তৃষাণকে বলল, "তোমার ইনহেলারটা আজ এনেছো তো মনে করে! রোজই তো ভুলে যাও!"
তৃষাণ মুচকি হেসে বলল, "সরি সোনা, একদম ভুলে গেছি। কোথায় যে ফেলে এলাম মনেই পড়ছেনা।"
পৃথা নিজের ব্যাগ থেকে ইনহেলার টা বের করে তৃষাণের হাতে দিয়ে বলল, "এই নাও। তুমি যার কাছে ভুলে ফেলে এসেছিলে সেই আমাকে দিয়ে গেল।"
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ির দিকে ধীরে ধীরে পা বাড়াল পৃথা। তৃষাণ বাকরুদ্ধ।
🖋দেবযানী গুহা
#সংগৃহিত
02/06/2026
প্রতিটা ঘর ভাঙ্গার পেছনে বেশিরভাগ মুরুব্বিদের ভূমিকা বেশি। হতে পারে সেটা মেয়ের পক্ষ থেকে হতে পারে সেটা ছেলে পক্ষ থেকে।
একটা মেয়ে যখন বউ হয়ে একটা নতুন জায়গায় যায় তখন তার খাপ খাওয়াতে বেশ সময় লাগে। 5/7 বছর লেগে যায় নতুন পরিবেশকে আপন করে নিতে বা নিজেকে সেট করতে।
এই ব্যাপারটাই কোনভাবেই ছেলের পক্ষ মানতে রাজি হন না।
তারা মনে করেন এই মেয়েটা সুপারম্যান যেমনটা আলাদিনের চেরাগ যা ঘষলে ম্যাজিকাল কিছু বের হয়। ঠিক তেমনি তাদের আশা যে এই মেয়েটাকে সারাক্ষণ আলাদিনের প্রদীপের মতো চারিদিক থেকে ঘষামাজা করলে ম্যাজিকাল কিছু বের হবে।
20 /21 বছরের একটা মেয়ে কতটুকু বুঝে? আবার অনেক মেয়ে এমন ফ্যামিলি থেকে আসে যারা মোটামুটি সামাজিক না।
যারা মোটামুটি বোঝে না যে কিভাবে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে হয়? একা একা বড় হয়েছে বা যৌথ ফ্যামিলি তে থেকে বিভিন্ন রকম ট্রলের শিকার হয়েছে।
তার কাছে শ্বশুরবাড়ি মানে প্রচন্ড রকম একটা নেগেটিভ পরিবেশ এমনটা মনের মধ্যে গেঁথে থাকে।
আর শ্বশুর বাড়িতে বিয়ের পরদিন থেকেই তার ওপর যে দায়িত্ব বর্তানো হয়ে থাকে তা থেকে তার আরও মনে দৃঢ় ভাবে দাগ কেটে যায় যে আসলেই শ্বশুর বাড়ির পরিবেশ বড্ড বিরূপ।
কিছু মেয়ের মা আছে যে মেয়ের একটু দুঃখ কষ্টের কথা শুনলে মেয়েকে আরো তাল দিতে থাকে, আমরা তো এরকম পরিবেশ পাই নাই আমাদের শাশুড়ি তো অনেক ভালো ছিল বা আমার আদরের মেয়েটাকে তো শ্বশুর বাড়িতে না জানি না কি করে ফেলতেছে?
শাশুড়ি খারাপ শশুর খারাপ সবার সাথে খুব নেগেটিভ ভাবে অ্যাটিচুড করার জন্য মোটামুটি তাকে ব্রেইন ওয়াশ করে দেয়।
এটা অনেক বড় একটা ভুল। ঘর ভাঙ্গা পিছনে এই ধরনের অ্যাটিটিউড একশতভাগ দায়ি।
আবার অনেক মেয়ের মা ই সারাক্ষণ শুধু সহ্য করো সহ্য করে ধৈর্য ধরো ঠিক হয়ে যাবে এরকম তাল দিতে থাকেন।
এটাও অনেক বড় ভুল।
ঘর ভাঙ্গার পেছনে এই চুপ করে ধৈর্য সর্য ধরা টাও অনেক বড় একটা বিড়ম্বনা।
আর ছেলের মা বোন ভাইয়ের বউদের এক্সপেক্টেশন বেশি হওয়ায় মেয়েটা তাল দিয়ে উঠতে পারে না।
যার ফলে মেয়েটা ছেলেটার শয্যাসঙ্গী হলেও জীবনসঙ্গী হয়ে উঠতে পারে না।
অনেক মা আবার ছেলেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রুমের মধ্যে নিয়ে বসে থাকেন আড্ডাবাজি করেন যাতে বউয়ের কাছে যেতে না পারে।
ননদ ননাস রা অনেক বেশি জল্লাদ এর মত আচরন করতে থাকেন যেটা মোটেও শুভ নয়।
কথায় কথায় পরিবারের মিটিং বসে মেয়েটার যে ক্লাস নেওয়া হয় এতে মেয়েটার সম্মানবোধ আস্তে আস্তে কমে যায় সবার প্রতি।
ডাইনিং এর চেয়ার যদি ঠিকভাবে ঢুকিয়ে না রাখে, টেবিলটা যদি খাওয়ার পরে মুছে না রাখে, সকালবেলা উঠে চা না বানায়, মাথা থেকে কাপড় যদি একটু পড়ে যায়, সবকিছুর জন্যই মাস্টার ক্লাস নেওয়া হয়।
এর মধ্যে বাচ্চা হওয়ার পরে যে পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন শুরু হয় ওটা নিয়ে কেউ ভাবতেই রাজি না।
সবার খালি এক কথা তারা যে পরিমাণ কষ্ট করেছেন তার দ্বিগুণ চতুর্গুণ মেয়েটাকে কষ্ট করতে হবে কোন ভাবে যদি তার হাজবেন্ড তাকে সাহায্য করে তাহলে তো সর্বনাশ।
তাদের ছেলে ভেড়া হয়ে গেছে।
এত মা-বোনদের ভাইয়ের বউদের এত যন্ত্রণার মধ্যে কোন কোন মেয়ে টিকে যায়।
কিন্তু কিছু কিছু মেয়ে নারকীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বের হয়ে আসে।
তখন এই সমাজ আবার মেয়েটাকে ই দোষ দেয় যে মেয়েটা সংসার করতে পারেনি।
প্রতিটা মেয়েই সুন্দর প্রতিটা মেয়েই সাবলীল। এসব জায়গায় মুরুব্বিরা যদি একটু মুন্সিয়ানা ফুটিয়ে তোলে তাহলে সংসার গুলো এরকম নারকীয় হয় না।
বেশিরভাগ শাশুড়ির মনে করেন যে বৌমা এসেছে মানেই তার সংসার হাতে নিয়ে নিবেন।
তাই সংসারের সবকিছু হাতের মুঠোয় রেখে বৌমাকে চাকরের মতো খাটানো একটা ভাব দেখা যায়।
এটা করে মেয়েটা কাজ সব করে দেয় কিন্তু দায়িত্ব পালন করা বা ভালবেসে কোন কিছু করা তার মধ্যে হয়ে ওঠে না।
তাই সে যে কোনভাবেই ঐ সংসার থেকে নিজের একটা আলাদা সংসার পেতে চায় নিজের মতো করে সাজাতে চায়।
কিন্তু শ্বাশুড়ি মা আর শ্বশুর বাড়ি যদি তাঁর অনুকূলে থাকে তার সাথে, বন্ধুত্ব সুলভ আচরন করে সবসময়, তার ভুল না ধরে তার অসুস্থতায় পাশে থাকে
তাহলে কিন্তু এটা কখনোই আলাদা থাকার বা আলাদা হওয়ার কথা চিন্তা করবে না।
তাই অধিকাংশ ঘর ভাঙ্গার পেছনে মুরুব্বীদের মুন্সিয়ানার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
আর বৌমা থেকে বলছি দয়া করে ধৈর্য ধরুন চেষ্টা করুন আপনার স্বামীর সাথে আপনার সম্পর্কটা অটুট রাখতে। তারপরও যদি একান্ত না হয় তাহলে বেরিয়ে আসুন। তবে মনে রাখবেন বেরিয়ে আসার পরের যার্নি অনেক কঠিন হবে।
তখনো আপনার জীবনের সমস্যা আসবে কিন্তু অন্য রূপে।
তাই মায়ের কথা শুনে সংসার ছেড়ে আসবেন না।
আর শাশুরির কথা শুনে সংসারে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দিবেন না।
টেকনিক্যাল হওয়া শিখুন। মাঝে মাঝে না বলা শিখুন। আপনার স্বামীর সাথে আপনার সময় গুলোকে সবচেয়ে সুন্দর করে উপভোগ করুন।
রুমের ভিতর ঝগড়া হলেও কাউকে বলার দরকার নেই রুমের ভিতর রোমান্স হলেও কাউকে প্রকাশ করার দরকার নেই।
আজকে থেকেই প্রবলেম থেকে হয়ে পালিয়ে যাওয়ার থেকে প্রবলেম কেন হচ্ছে সেটা বের করার চেষ্টা করুন।
©বেবি টাইমস
#সংগৃহিত 🔹
১৯৯৬ সাল।
বিয়ের মাত্র দু’বছর পেরিয়েছে।
একদিন আমার আর আমার স্ত্রী লিজার মধ্যে লেগে গেলো তুমুল ঝগড়া। ঝগড়া শেষে সে ব্যাগ ঘুচিয়ে বিদায় নিলো। শহরেই তাঁদের বাড়ি।বলে গেল জীবনেও ফিরবে না।আমিও বললাম। সমস্যা নাই, নো প্রবলেম।
সমস্যা হলো, বাবা বাড়ি ফেরার পর। তিনি বাড়ি ফিরলে দরজা খুলে লিজা। তিনি পুত্রবধূ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পেলে অতি আনন্দিত হয়ে তার হাতে চকলেট, পেয়ারা, আমড়া এসব হাবিজাবি গুঁজে দেন। পুত্রবধূ আরেক কাঠি বাড়া, তিনি আগে থেকেই বেলের শরবত, লেবুর শরবত সব অখাদ্য বানিয়ে রাখেন। মাঝে মাঝে দেখি পুত্রবধূর পার্স বেশ ভারি। বাবা পেনশনের টাকা পেয়েছেন, আর তা কাউকে না বলে গুঁজে দিয়েছেন তার হাতে।
তো, সেদিন লিজা না, দরজা খুললেন মা।
বাবা অবাক! তাঁর নুপুর পায়ে ঝমঝম করা কন্যা গেলো কই?
মা-ই দরোজায় দাঁড়িয়ে সব বললেন। তাঁর কথা শুনে মনে হচ্ছে বাংলা সিনেমার কুখ্যাত এক ভিলেনের জন্ম দিয়ে তিনি অতি দুঃখিত। এ কুপুত্রের মুখ তিনি আর দেখতে চান না।
বাবা একটি কথাও বললেন না, বাড়িতেও ঢুকলেন না। সারা শরীরে ঘাম নিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন।
ঘন্টা দুয়েক পর দেখি পিতা-কন্যা অতি আনন্দে গলাগলি করে ফিরে এসেছে।
তাঁদের পৌষ মাস, আমার সর্বনাশ! কারণ জানি আজ বাবা ছাড়বেন না। অতি কোমল এ মানুষটির মত ‘কঠিন’ মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।
তিনি আমাকে ডাকলেন, কিন্তু একটুও রাগারাগি করলেন না। ঠান্ডা গলায় যা বললেন তা হচ্ছে,
১। তোমার স্ত্রী তোমার সন্তান গর্ভে ধারণ করবেন। একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু যখন মায়ের গর্ভে থাকে তার ওজন হয় প্রায় একটি পাটার ওজনের সমান, যাতে মরিচ বাটা হয়। এখন তোমাকে যদি একটি পাটা পেটে বেঁধে দেয়া হয়, তুমি কতক্ষণ তা বহন করতে পারবে? পনের মিনিটও না। আর তোমার স্ত্রী তা বইবেন দশ মাস দশ দিন। কেবল মেয়েরাই এই কষ্ট সহ্য করেন, পুরুষরা নন। এ ব্যাপারটা মাথায় রাখলে কোনোদিন কোনো মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে ইচ্ছে হবে না।
২। তুমি তোমার স্ত্রীকে সম্মান না করলে তোমার সন্তানও কোনদিন কোনো মহিলাকে সম্মান করবে না। তোমার ব্যবহারের কারণেই সে বুঝতে পারবে না, মাতৃজাতির সম্মান কত উচ্চ।
৩। মনে রাখবে, মেয়েরা যত ক্ষমতাবানই হন না কেন, বাবার কাছে, স্বামীর কাছে তাঁরা ‘পক্ষীশাবকের’ আদর চান, মায়া চান। এমনকি রানি এলিজাবেথও এর ব্যতিক্রম নন। এ পক্ষীশাবকের সমস্ত স্বাচ্ছন্দ্য তোমাকেই নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো কপালে যতই ইবাদতের কালো দাগ পড়ুক, মহান আল্লাহতালা তোমাকে রহম করবেন না।
৪। আজ আমি তোমার হয়ে তোমার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি। কারণ আসলেই তুমি অন্যায় করেছ। তবে এ ক্ষমা চাওয়ায় আমি লজ্জিত নই। পিতা কন্যার কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। এটা হচ্ছে মমতা থেকে চাওয়া ক্ষমা, কিন্তু ব্যাপারটা তোমার জন্য খুবই লজ্জার বিষয়, কারণ তোমার জন্য তোমার বাবাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে।পুত্রের আচরণের জন্য পিতার ক্ষমা চাওয়ার চাইতে বড়ো লজ্জা আর কিছু হতে পারেনা।
তারপর বাবা আমার মাথায় হাত রেখে বললেন, শুধু নিজের স্ত্রী নয়, দুনিয়ার সব মেয়ের ক্ষেত্রে যা বললাম সে ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখবে, দেখবে পরমকরুণাময় তোমার জীবন ফুলে ফুলে ভরে দেবেন।
আমার মনে হচ্ছে, আমরা সব বাবারা যদি আমাদের সবার পুত্রদের এভাবে বুঝাতাম তাহলে কত মেয়ে বেঁচে যেতো!
কলমে - বাদল সায়েদ ✍️
#সংগৃহিত
31/05/2026
31/05/2026
ইতিহাস না জেনেই ভারত বিরোধীতা করবেন না.. আমাদের কে কিভাবে বাঁশ দিসে
১. যুদ্ধ শেষে প্রায় দুইশো ওয়াগন রেলগাড়ী ভর্তি করে ২৭০০ কোটি টাকার অস্ত্রসস্ত্র লুটের অভিযোগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার।
(সূত্রঃ দৈনিক অমৃতবাজার, ১২ মে,১৯৭৪)
২. শস্য লুটঃ
★ধান-চাল-গম (৭০-৮০ লাখ টন, গড়ে ১০০ টাকা ধরে): ২১৬০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।
★পাট(৫০ লাখ বেলের উপরে): ৪০০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
★ত্রাণ-সামগ্রী পাচার: ১৫০০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।
★যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ: ১০০০ কোটি টাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।
সর্বমোট: ৫০০০ কোটি টাকা যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার।
(সূত্র: জনতার মুখপাত্র, ১ নভেম্বর ১৯৭৫)
৩.বাংলাদেশের শিল্প কারখানা থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করে আগরতলায় পাঁচটি নতুন পাটকল স্থাপন! (সূত্রঃ আখতারুল আলম, দু:শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃষ্ঠা: ১১৫-১১৬)
৪.যুদ্ধের পর সীমান্তের ১০ মাইল এলাকা ট্রেডের জন্য উম্মুক্ত ঘোষনা। এর ফলে চোরাচালানের মুক্ত এলাকা গড়ে উঠে। পাচার হয়ে যায় দেশের সম্পদ।
( সূত্রঃ আবুল মনসুর আহমদ: আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, পৃষ্ঠা: ৪৯৮)
৫.ভারতে বাংলাদেশী জাল টাকা ছেপে এদেশে ছেড়ে দেয়া হত। অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ সে সময় বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে’।
(সূত্রঃ আব্দুর রহিম আজাদ: ৭১ এর গণহত্যার নায়ক কে: পৃষ্ঠা: ৫২)
৬.আমাদের চোখের সামনে চাল-পাট পাচার হয়ে গেছে সীমান্তের ওপারে, আর বাংলার অসহায় মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে। (মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম: :দুঃশাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃষ্ঠা: ১১৯-১২৬)
৭.১৯৭১ এর অবাঙ্গালীদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তির হরিলুট (সূত্রঃ এম এ মোহায়মেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ, পৃষ্ঠা ১৪, ৪৪)
৮. ফারাক্কা বাধের নামে মরুভূমি করার চক্রান্ত, টাকা বিনিময়ের নামে জাল টাকা ছড়ানো, বর্ডার বানিজ্যের নামে ভারতের বস্তাপঁচা মালের বাজার সৃষ্টি।
(সূত্রঃ আখতারুল আলম, দু:শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃষ্ঠা: ১১৫-১১৬)
৯.জয়দেবপুর অর্ডিনেন্স ফ্যাক্টরী থেকে অস্ত্র নির্মানের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভারতে স্থানান্তরিত হয়। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ‘৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)
১০.❝ ঢাকায় এতসব বিদেশী জিনিস পাওয়া যায়! এসব তো আগে দেখেনি ভারতীয়রা। রেফ্রিজারেটর, টিভি, টু-ইন-ওয়ান, কার্পেট, টিনের খাবার-এইসব ভর্তি হতে লাগলো ভারতীয় সৈন্যদের ট্রাকে। ❞ — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পূর্ব-পশ্চিম, পৃ: ৯২৩
এই তথ্যগুলো মোটামুটিভাবে সবার জানা আছে।
ভবিষ্যতে কেউ ভারতের এই অবদান, ওই অবদান বললে এই তথ্যগুলা দেখিয়ে দেবেন রেফারেন্স সহ।
তারপরও আবার উল্লেখ করার কারন খুব চিন্তা হয়.... ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে ভারত দ্বারা লুট করে নিয়ে যাওয়া এই সম্পদ রক্ষা করতে যেয়েই, অস্ত্র জমা না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ বিদ্রোহ করেছিল, তার ফলাফল কথিত আছে , ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিহত বা গুম হয়েছিল।
এখন স্বাধীনতা তথা পুরো দেশটাই লুট করতে চাচ্ছে, কত রক্ত ঝরবে ???
একবার হিটলার একটি মুরগি নিয়ে সংসদে ঢুকলেন। ঢুকে সবার সামনে এক এক করে তার পালকগুলি উপড়াতে শুরু করলেন। মুরগটি যন্ত্রনায় ছটপট করতে থাকে, তবুও হিটলার তার সমস্ত পালক একের পর এক উপড়ে হলের মেঝেতে ছেড়ে দেন।
তারপরে হিটলার পকেট থেকে কয়েকটি গমের দানা বের করে মুরগির দিকে ছুড়ে দিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন। মুরগিটিও হিটলারের পিছনে পিছনে চলতে শুরু করলো। হিটলার সমানে গম নিক্ষেপ করছে এবং মুরগিটি তা খুটে খেতে তার পিছনে চলছে। শেষ পর্যন্ত মুরগিটি হিটলারের পায়ের কাছে এসে দাঁড়িয়ে গেল।
এরপর হিটলার স্পিকারের দিকে তাকিয়ে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন- "গণতান্ত্রিক দেশের মানুষ এই মুরগির মতো। তাদের শাসক ও সরকার প্রথমে জনগণকে লুট করে, প্রতিবন্ধী বানিয়ে দেয় তারপর সামান্য কিছু ফেরত দিয়ে তাদের মসীহা হয়ে যায়"।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka