31/12/2024
১) থার্টি ফার্স্ট নাইট কিভাবে আমাদের দেশে প্রচলিত হলো।
২) থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করা কেন হারাম।
৩) থার্টিফাস্ট নাইটে আমাদের করণীয় বর্জনীয়।
• বর্তমান অভিশপ্ত 'থার্টিফার্স্ট নাইট' যেভাবে দেশে প্রবেশ করে।
প্রায় ২০০ বছর আমাদের কে গোলামির শিকলে আবদ্ধ করে রেখেছিল জালিম খ্রিস্টান ইংরেজরা। পুরো হিন্দুস্তান দখল করে নিয়েছিল। হাজার হাজার আলেম- ওলামা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে অমানুষিক নির্ঘাতন করে হত্যা করেছে।
এই কুখ্যাত ইংরেজরা স্পেনের কানাডায় লাখ লাখ মুসলমান নারী পুরুষকে মসজিদ এবং জাহাজের ভিতরে অবরুদ্ধ করে পুড়িয়ে মেরেছিল। মধ্য আফ্রিকা থেকে মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করেছিল। এছাড়া সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের ধ্বংসের নীল নকশার মূল হোতা ছিল এই ইহুদী-খ্রিস্টানেরা।
ভারত বর্ষের দখলদার এই সমস্ত কুখ্যাত ব্রিটেনের ইংরেজরা যেহেতু খ্রিস্টান ছিল তাই তারা তাদের কালচার এবং নাপাক খ্রিস্টীয় মতবাদ মুসলিম সমাজের রন্ধে রন্ধে
ঢুকিয়ে দেয়। আর খ্রিষ্টানদের কৃষ্টি কালচার এবং খ্রিস্টীয় মতবাদের অন্যতম একটি হলো থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করা তারা তাদের শাসনামলে এই দেশে মুসলিম সমাজের খুব চতুরতার সাথে যুবকদের কে আমেদ ফুর্তিতে মাতিয়ে থার্টিফার্স্ট নাইট এর মত একটি অমুসলমানিক এবং বিজাতীয় সংস্কৃতির সাথে এদেশের মুসলমান যুবকদেরকে যুক্ত করে দেয়।
"থার্টি ফাস্ট নাইট" এর মূল উদ্দেশ্য হল স্রষ্টা কোন কিছুই করতে পারে না।
ভাগ্য পরিবর্তন করা ভাগ্য নির্ধারণ করা একমাত্র জানুস দেবতার কাজ। তাই বছরের শুরু দিনে যদি আনন্দ উল্লাস বিভিন্ন উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করা হয় তাহলে আগামী এক বছর আনন্দ ও শান্তিতে কাটানো যাবে। অথচ মুসলিমদের বিশ্বাস হলোঃ ভাগ্য নির্ধারক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আর ভালো মন্দ তাকদিরে উপর লিপিবদ্ধ। আল্লাহ যার কল্যাণ চাইবেন তাকে কল্যাণ দান করবেন। কোন দিবস দিন কিংবা সময়ের সাথে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ হয় না।
সুরা বাকারা ২৫৭
اَللّٰهُ وَلِیُّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۙ یُخۡرِجُهُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ۬ؕ وَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَوۡلِیٰٓـُٔهُمُ الطَّاغُوۡتُ ۙ یُخۡرِجُوۡنَهُمۡ مِّنَ النُّوۡرِ اِلَی الظُّلُمٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ هُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۲۵۷﴾
আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে। নিয়ে আসেন। আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের অভিভাবক শয়তান, যারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা সকলে অগ্নিবাসী। তারা সর্বদা তাতেই থাকবে।
*• কেন আমরা থার্টি ফাস্ট নাইট পালন করি না? কেন তা হারাম?
১। এটা বিধর্মীদের কালচার। আর তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করলে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত
মনে করা হবে।
সূরা মায়িদা ৫১
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَهُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُهُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّهُمۡ مِّنۡکُمۡ فَاِنَّهٗ مِنۡهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۵۱﴾
হে মুমিনগণ! ইয়াহদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা নিজেরাই একে অন্যের বন্ধু! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদেরকে হিদায়াত দান করেন না।
কোন বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যতা রাখা বৈধ নয়।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৯৮৯। আন্তর্জাতিক না ৪০৩১)
ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কওমের। সম্প্রদায়ের। অনুসরণ-অনুকরন করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।
বিধর্মীদের বিরোধিতা করা।
বিধর্মীদের উৎস পালন করলে আল্লাহ তাআলার গজব নামিল হয়।
আল-মাওদুআতুল হালিসিয়্যাহ ১৫/১৮
আনাস ইবনে মালেক। রাদিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লহ (সা:) ইরশাদ করেনঃ তোমরা খ্রিষ্টান ইহুদীদের উৎসবের ধারে কাছেও যেওনা। কেননা তাদের উৎসব স্থলে আল্লাহ তায়ালার গজব নাফিল হয়।
• থার্টিফার্স্ট নাইট দিবসে একজন মুমিনের দায়িত্ব কি?
১) ঈমানের সাথে কুফরিকে সংশ্রমিশ্রণ করবে না।
-আল আনআম-৮২
اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ لَمۡ یَلۡبِسُوۡۤا اِیۡمَانَهُمۡ بِظُلۡمٍ اُولٰٓئِكَ لَهُمُ الۡاَمۡنُ وَ هُمۡ مُّهۡتَدُوۡنَ ﴿۸۲﴾الذین امنوا و لم یلبسوا ایمانهم بظلم اولٓئك لهم الامن و هم مهتدون ﴿۸۲﴾
(প্রকৃতপক্ষে) যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, নিরাপত্তা ও স্বস্তি তো কেবল ভাদেরই অধিকার এবং তারাই সঠিক পথে পৌঁছে গেছে।
২) অন্যায় মুলক কাজ থেকে এড়িয়ে চলবে।
সুরা ফুরকান ৭২
الَّذِیۡنَ لَا یَشۡهَدُوۡنَ الزُّوۡرَ ۙ وَ اِذَا مَرُّوۡا بِاللَّغۡوِ مَرُّوۡا كِرَامًا ﴿۷۲﴾
ا এবং (রহমানের বান্দা তারা। যারা অন্যায় কাজে শামিল হয় না এবং যখন কোন বেহুলা কার্যকলাপের নিকট দিয়ে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন, ইমাম রবি ইবনে আনাস (রহঃ) বলেন অন্যায় কাজে অংশগ্রহণ না করার অর্থ হলো বিধর্মীদের উৎসবে উপস্থিত হয় না। ঘটনা ক্রমে বিধর্মীদের উৎসবের মুখোমুখি হয়ে পড়লেও তা এড়িয়ে চলে।
৩) ভবিষ্যতে ভালো কাজ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।
-জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৫৯
শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা:) বলেছেনঃ বুদ্ধিমান হল সেই ব্যক্তি যে ব্যক্তি স্বীয় নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরের জন্য আমল
করে। অক্ষম হল সে ব্যক্তি যে ব্যক্তি স্বীয় নফসের চাহিদার অনুসরণ করে চলে আর সে আল্লাহর কাছে অলীক আশা পোষণ করে।
৪) নিজের আমলনামার হিসাব নিকাশ করা।
উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ তোমরা নিজেদের হিসাব না'ও, হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে। (কিয়ামত দিবসের) মহা উপস্থাপনের জন্য নিজেদের সাজিয়ে নাও। যে ব্যাক্তি দুনিয়াতেই নিজের হিসাব নিবে কিয়ামতের দিন সেই ব্যাক্তির হিসাব হালকা হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ঈমান ধ্বংসকারী নব্য ফেতনা থেকে হেফাজত করুক
। বিধর্মীদের সংস্কৃতি কালচার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক সান করুক
মো:রাকিবুল ইসলাম
দারুল হাদিস
মাদ্রাতুর রাহমান আল আরাবিয়া